#প্রেমাতাল
#পর্ব-১১/১২ [দুটো পর্ব একসাথে]
#Fatema_Aktar_mim
কিডনাপের ঘটনার কয়েক মাস কেটে গেছে। রুদ্রের সাথে আনমলের যে শত্রুতার সম্পর্ক ছিলো,তা এখন বন্ধুত্বের সম্পর্কে রুপ নিয়েছে।রুদ্রের সাথে তার এখন শুধু গলায় গলায় পিরির।তানহা হালুয়া বানালে আনমল তার ছোট ছোট হাতে রুদ্রের জন্য হালুয়া তুলে রাখে।তার টেডিবিয়ার নিয়ে বসে থেকে রুদ্রের জন্য অপেক্ষা করে।সে এখন আর রুদ্রকে পঁচা আংকেল বলে ডাকে না।লুকিয়ে লুকিয়ে পাপা ডাকে,যাতে তার মা দেখে না ফেলে।তানহার এই ডাকটা একদম পছন্দ না,যার কারণে সে রুদ্রের উপর প্রচন্ড বিরক্ত।সময় খাতিরে রুদ্রকে কথা শুনিয়ে দেয় সে।কিন্তু আনমল তো আর কম চালাক না,সে তার মায়ের ভয়ে চুপিচুপি রুদ্রকে পাপা ডাকে।আগে যেমন লুকিয়ে লুকিয়ে রুদ্র আব্বু ডাক শেখাতো,ঠিক তেমন আনমল এখন লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে পাপা ডাকে।হিসাব বরাবর?!
রুদ্র এবার অনার্স চতুর্থ ইয়ারে উঠেছে।পড়াশোনার পাশাপাশি সে তার বাবার সাথে বিজনেস সামলাচ্ছে।ছেলে কোম্পানিতে জয়েন হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই কোম্পানি বেশ লাভবান হয়।আশা করা যায় অল্প দিনের মধ্যে এটা টপ কোম্পানির শির্ষে নাম লেখাবে। ছেলের এমন আকস্মিক পরিবর্তন দেখে রায়হান তালুকদার অবাকের চুরান্ত পর্যায়ে পৌছে যায়।এটা ছেলে নাকি আগুন?সে তা ভেবে পায়না।সে এতোদিন শুনে এসেছে “ছোট মরিচের ঝাল বেশি”,,আজ যেন তা নিজ চোখে দেখছে। এমন ঘুর্নিঝড় সে পয়দা করেছে ভাবা যায়?যে ছেলে মাত্র সতেরো বছরে বিয়ের কথা বলতে পারে,সেই ছেলের পক্ষে এখন সবই সম্ভব।এই যে এখন ছেলে ভালো একটা কাজ করছে,এটা নিয়েও রায়হান তালুকদার ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে।মানে এতোকিছু তার হজম হচ্ছে না।চিন্তায় চিন্তায় হার্টে এখন ফুটো হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
~সন্ধ্যায় রুদ্র অফিস থেকে ফিরতেই দেখে বসার ঘরে রায়হান তালুকদার বসে আছেন।কপালে আঙ্গুল চেপে মুখ গম্ভীর করে কিছু একটা ভাবছে।পাশে টি টেবিলে গরম কফি ঠান্ডা হয়ে গেছে,সে খেয়াল পর্যন্ত তার নেই।রুদ্র বাবার এমন অবস্থা দেখে কপাল কুচকালো,,
–বুড়ো বয়সে কিসের এতো টেনশন তোমার?এত টেনশন করলে টাক মাথার পিছনে যেটুকু চুল আছে সব তো উঠে যাবে আব্বাজান।তখন আমার ছেলে কার মাথার পাকা চুল তুলে দুই টাকা নিবে, শুনি?
রুদ্র রায়হান তালুকদারকে বুড়ো বলায় তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো।রুদ্রের দিকে তাকিয়ে রাগে ফায়ার হয়ে বলল,
–চুপ বেয়াদব ছেলে..তুই বুড়ো, তোর বাপ বুড়ো,তোর চৌদ্দ গুষ্টি বুড়ো।
রুদ্র হাতে থাকা ফাইলের ব্যাগটা টেবিলে রেখে টাই খুলতে খুলতে বলল,,
–সেটাই তো বললাম,আমার বাপ বুড়োই,আপনাকে আর কষ্ট করে বলতে হবে না।
নিজের কথার জালে নিজেই ফেসে গিয়ে রায়হান তালুকদার কেঁশে উঠলেন।একবার আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে নাকি।না কেউ দেখে নাই।সেই সুযোগে সে নিজেকে সামলে কফির মগটা হাতে নিয়ে চুমুক দিতেই যাবে,,,,
–অটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। মালাকে বলো গরম করে দিতে।আর এতো চিন্তা করতে যেন তোমায় না দেখি,অসুস্থ হয়ে যাবে।
বলেই রুদ্র গটগট পায়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালে রায়হান তালুকদার গম্ভীর গলায় বলে উঠে,,,
–তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে রুদ্র।
রুদ্র থেমে গেল।পিছনে ঘুরে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল।
–কি বলবা?,জলদি বলো আব্বাজান।প্রচন্ড মাথাব্যথা করতাছে,একটু রেস্ট নিতে হবে।
রাহয়ান তালুকদার মুখ প্রসারিত করে বলল,
–তুই তো বড়ো হয়ে গেছিস তাইনা?
রুদ্র সন্দিহান দৃষ্টিতে তার বাবার দিকে তাকালো।তারপর ভ্রুকুটি করে বলল,
–হঠাৎ এই প্রশ্ন?
রায়হান তালুকদার এক ঢোক গিলে বলল,
–এমনি!তুই ঠিকমতো পড়াশোনা করছিস,,বাপের সাথে পাল্লা দিয়ে বিজনেস সামলাচ্ছিস।ইদানীং তোকে তোর অই হাদারাম বন্ধুদের সাথে টয়টয় করে ঘুরতেও দেখি না।আবার দেখি মুখে দাড়িও রাখছিস,বাহ! বেশ ভালো।
রুদ্রের মেজাজ চোটে গেলো।এমনিতে অফিসে সারাদিন প্রচন্ড কাজ ছিলো।নতুন একটা প্রজেক্ট নিয়ে মিটিং ছিলো।যার কারণে তার মাথাটা প্রচন্ড রকমের ধরেছে,যেন ছিরে যাবে এখন।তার উপর বাপের মুখে এমন লজিকহীন কথা শুনে রুদ্র তেতে উঠলো,
–ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা না বলে,সরাসরি বলো কি বলতে চাও?
রায়হান তালুকদার সরাসরি বলে দিল—
–“আমি তোর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছি। মেয়ে জুই। তোর বন্ধু শুভর আত্মীয় হয় মেয়েটা। ভালো পরিবার, শিক্ষিত, শান্ত মেয়ে।আর মেয়েটা তোকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে। মেয়ের বাবার সাথে আমার কথা হয়েছে।উনারা বেশ ভালো। আর মেয়ে তো পরির মতো সুন্দরী, তোর সাথে দারুন মানাবে।আশা করি তুই বাবার কথায় অমত করবি না।
রুদ্র গর্জে উঠলো।যেন রাগে তার সমস্ত শরীর টগবগ করে ফুটছে।সে তেতে উঠে বলল,,
–বাবা, আমি….
–কোনো কিন্তু না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।তোকে জুই কেই বিয়ে করতে হবে।আমি চেয়েছিলাম পড়াশোনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর,আমার ছেলেকে বিয়ে দেব।কিন্তু আমার ছেলেটা তো বিয়ে পাগল।তাই বিয়ে দেওয়া ফরজ হয়ে গেছে।
–পাগল হয়ে গেছো তোমারা?তোমার মনে হয় অই হনেতা পাগলিকে আমি বিয়ে করবো?হাউ ফানি!
–চুপ বেয়াদব, তুই পাগল,,মেয়েটা যতেষ্ট বুদ্ধিমতী। তোকে যে বিয়ে করতে চাইছে এটাই অনেক।আমি শুধু ভাবছি,,এই বাদর মুখো ছেলেকে এত সুন্দর মেয়ে কেন পছন্দ করলো।
রুদ্র কোমড়ে হাত দিয়ে কপাল কুচকে তার বাবার দিকে তাকিয়ে আছে।এখন তার সন্দেহ হচ্ছে।
-“এই হনেতা পাগলির কথা আব্বা জানলো কেমনে?কে বলে দিছে জুইয়ের কথা?শুভ কি বলবে?না না শুভ বলবে না,কারণ শুভ তো জানে আমি তানহাকে ভালোবাসি।তাহলে কোন কু*বাচ্চা বলছে রে।তাকে হাতের কাছে পেলে একদম মেরে পেট ফাটিয়ে দেব।রুদ্র রাগ কন্ট্রোল করে গম্ভীর গলায় বলল,
–এই হনেতা পাগলীর কথা তোমাকে কে বলছে?
রায়হান তালুকদার বসা থেকে উঠে বুক টান করে রুদ্রের দিকে তাকালো।তারপর মুখ প্রসারিত করে বলল,
–তানহা মামণী খোজটা দিলো।মেয়েটা কতো ভদ্র বল।তুই তাকে কতো জালাস,তবুও কিছু বলে না।অথচ যুক্তি দিয়ে সবকিছু বুঝিয়ে দেয়।আর তুই সালা আমার বেটা হয়ে একটা মেয়েকে উত্ত্যক্ত করিস।
তানহার নাম শুনতেই রুদ্র হাত মুষ্টিবদ্ধ করল।রাগে শরীরটা তার ভীষণ কাঁপছে।যেন এই মুহুর্তে ইচ্ছে করছে সবকিছু তচনচ করে দিতে।তার বাবার দিকে না তাকিয়ে ঘার ব্যাঁকা করে হনহন করে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
___________________
আজ আকাশে কোনো মেঘ নেই।রুপচাঁদা মাছের ন্যায় চাঁদটা চকচক করছে। জ্যোৎস্নার আলোয় চারদিকে একদম মো মো করছে।হালকা বাতাসও ছেরেছে।
আজ অনেকদিন পর রুদ্র তার প্রিয় গিটার হাতে ছাদে এসেছে।
পড়নে তার ব্লাক টিশার্ট আর তাউজার।কাঁধ অব্দি সিল্কি চুল কপালে লেপ্টে আছে।মুখে সদ্য গজানো চাপ দাড়িতে সৌন্দর্য্য যেন হাজার গুনে বৃদ্ধি পেয়েছে।ফরসা শরীরে ব্লাক টিশার্ট যেন চাঁদের মতোই ঝিলিক দিচ্ছে।
রুদ্র ছাদের মাঝখানে একটা দোলনায় বসে চাঁদের দিকে তাকিয়ে গিটারের সুর তুলল,
–“দুঃখের সাথে বসত আমার,
সুখের নদী বায়…..!
স্রোতে স্রোতে ভাইসা বেড়ায়
ঠিকঠিকানা নাই,
কেমনে যে দিন যায়,
আমার কেমনে যে রাইত যায়,
একা একা রাত্রি কাটায়,
তুমি পাশে নাই…!
তানহা আনমলকে নিয়ে ছাদে এসেছিল।হঠাৎ রুদ্রের গান শুনে চমকে উঠল।কিছুক্ষণ অবাক হয়ে দুই মা ছেলে মিলে গান শুনলো।কেউ একটা কথাও মুখ দিয়ে বলল না।আনমল তানহার গালে হাত দিয়ে বলে উঠে,
–আম্মু লুদ্র আংকেল কতো সুন্দল গান গায়।
–কই বাবা?একদম বিশ্রী গান গায়,,এটা কোনো গান হলো?মনে হচ্ছে ছ্যাঁকা খাইয়া খাইয়া ব্যাঁকা হয়ে গেছে।
তানহা চিৎকার করে বলে উঠল,,
–দয়া করে তোমার এই ষাড়ের মতো গলা ফাটানো গান কি বন্ধ করবে?আনমল ভয় পাচ্ছে…!
আনমল অবাক হয়ে তার মায়ের দিকে গোল গোল চোখে তাকায়।সে এটা ভাবছে,আমি কখন ভয় পেলাম?আজব।
রুদ্র তানহার কথায় থামে না আরও জোরে জোরে গান গাইতে থাকে।এতক্ষণ ভালোই ছিলো,,এখন রুদ্র হলিউডের র্যাব গান শুরু করে দিয়েছে।যার কারণে তীব্র শব্দে এবার আনমলও ভয় পেল।তার মায়ের গলা জরিয়ে ধরলো দু’হাতে। তানহা প্রচন্ড রেগে গেলো।সে আনমলকে নিয়ে ছাদে এসেছে মুলত চাঁদ দেখতে।আর এখন তীব্র আওয়াজে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম।বিরক্ত হয়ে তানহা রুদ্রের ছাদের দিকে তেরে আসে,,গলা ফাটিয়ে বলে উঠে,,
–সমস্যা কি তোমার? পাগল হয়েছো?মাথার তার কেটে গেছে সব?এভাবে রাতের বেলায় শব্দ দূষণ করছো কোন আক্কেলে?মাথায় কি ঘিলু নেই……!
মুহুর্তেই বিকট ভাঙা শব্দে আনমলসহ তানহাও চমকে উঠল।আনমল ভয়ে তার মাকে ঝাপটে ধরে আছে।
রুদ্র হাতের গিটারটা কয়েক আচার মেরে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলল।তারপর পা দিয়ে কয়েক লাথি দিলো।রাগে ফুসতে ফুসতে তানহার দিকে তেরে এলো।একদম তানহার সামনাসামনি এসে দাড়ালো।ক্ষিপ্ত চোখে তানহার দিকে তাকাতেই দু’জনের চোখাচোখি হলো।রুদ্র দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
–আপনার সমস্যা কি?আপনি কি ঠিক করেছেন শান্তিতে থাকতে দিবেন না আমায়?
তানহা এই প্রথম রুদ্রের এমন রুপ দেখছে।তাই কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো।তাতলিয়ে বলল,
–মা-মানে?
–নাটক করছেন আবার?
–হেয়ালি না করে বলো,কি বলতে চাও?
–জুইয়ের কথা আব্বার কাছে কেন বলছেন?
তানহা আনমলকে ধরে বলল,,
–কেন বলে ভালো করিনি?আমার জানা মতে,সে তো তোমার ক্রাশ!আর মেয়েটাও তোমায় খুব ভালোবাসে।দুইজন সুখী হবা।সেইজন্য চাচাকে বলে সমন্ব পাকা করলাম।তোমার কাজ এগিয়ে দিলাম।কি ভালো একটা কাজ করছি বলো…?
–যাস্ট শাট আপ তানহা,,আমায় রাগাবেন না।নিজের আসল সত্তায় আসতে বাধ্য করেন না।মানুষকে জ্বালানোর একটা সীমা থাকে।সেই সীমা দিন দিন অতিক্রম করে ফেলছেন আপনি। কোন সাহসে আপনি এসব আব্বাকে বলছেন।হু আর ইউ তানহা?
তানহা বেশ অবাক হলো।নিজের কথা যখন রুদ্র নিজেকেই ফিরিয়ে দিলো তখন অবাকের সাথে রাগও হলো,তানহা বেশ চটে গিয়ে বলল,
–বলেছি বেশ করেছি।এবার দেখ অন্যকে জ্বালাতন করলে ঠিক কেমন লাগে।এটা তো শুরু পিকচার এখনো বাকি আছে।
রুদ্রের ইচ্ছে করছে তানহাকে মাটির সাথে পিষে ফেলতে।কিন্তু আনমল থাকায় কিছু বলতেও পারছে না,আবার মেজাজ কন্ট্রোল করতেও পারছে না।দাঁত পিষে বলল,
–আপনাকে কি আমি আর জ্বালায়?
তানহা চমকে উঠল এমন কথায়।অবাক চোখে রুদ্রের দিকে তাকালো।সত্যি তো রুদ্র তাকে আর কিছু বলে না,আনমলের কিডনাপের পর থেকে রুদ্র শুধু আনমলকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে।ভুলেও তানহার আশেপাশে ভিরে না।সন্ধ্যায় আনমলের হাতের হালুয়া খাবে,টেডিবিয়ার নিয়ে খেলবে,আনমলকে কাঁধে নিয়ে ঘুরবে,,কখনো কখনো কোলে বসিয়ে গিটার বাজাবে।কই তানহার দিকে তো ফিরেও তাকায় না।তাহলে এর কি জবাব দিবে তানহা।ইতস্তবোধ করে বলল,
–নাহ!
–তাহলে কেন আমার পিছনে লাগছেন?
রুদ্র ধমক দিয়েই কথাটা বলল।তানহা চমকে উঠে বলল,
–চিৎকার করছো কেন?বললাম তো তোমার ভালোর জন্যই বলেছি।
–আপনি কি আমার গার্জিয়ান?নাকি রক্তের কেউ?
–কেউ না!
–তাহলে আমাকে নিয়ে আপনার এতো চিন্তা কিসের?আমি যা খুশি করি আপনার কি?আপনি কেন নাক গলান?
তানহা কিছু বলল না।ক্ষিপ্ত চোখে চুপচাপ শুধু শুনে যাচ্ছে রুদ্রের কথা।রুদ্র আরও বলল,
–আমি তো আপনাকে আর বিরক্ত করি না।সারাদিন নিজের কাজে ব্যস্ত থাকি।সময় পেলে আনমলের সাথে একটু সময় কাটায়।জানি না,ইদানীং আনমলের প্রতি আমার অদ্ভুত ফিলিংস কাজ করে।মনে হয় এটা মায়া।আপনি সেটা বুঝবেন না।কখনো তো কারো মায়ায় পরেন নি,যদি পড়তেন তাহলে বুঝতেন।সামান্য আনমলের সাথে মিশি জন্য এটাও আপনার সহ্য হচ্ছে না।আপনি আমার প্রিয় মানুষের সাথে সাথে আনমলকেও আমার থেকে দুরে করতে চাইছেন?
আর কতো নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিবেন আপনি? ক্লান্ত হোন না মিস তানহা……………
#চলবে…..
[ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন]
