#দ্বিতীয়_বউ
#পর্ব_৬
#আলভিয়া_সামরিন_রায়া
আশেপাশের কয়েকজন মানুষ এসে রায়হান আর সাহেরা বেগম কে হাসপাতাল এ নিয়ে গেলো। ওদের অবশ্য আয়েশা নিজেই ডেকে এনেছে।
এই বলে যে,
খাবার হওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি একা এখন উনাদের কোথায় নিয়ে যাবো। আপনারা একটু সহযোগিতা করুন।
আয়েশার কথায় উনারা এসে ওদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। আয়েশাকে যেতে বললে বলে,
রোহিনী বাড়িতে একা ওকে একা রেখে কী করে যাবো।
আপনারা এখন নিয়ে যান আমি উনাদের আত্মীয় কাউকে খবর দিচ্ছি।
রোহিনী কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেছে। আয়েশার চোখে শুকনো আর না আছে কোনো অনুতাপ। চুপচাপ এক হাত পেটের উপর রেখে অন্য হাত দিয়ে রোহিনীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
আয়েশার চোখ সবে মাএ লেগে এসেছে তখনই বাইরে থেকে দরজা ধাক্কার আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলো। আয়েশা রোহীনির গায়ে চাদর ঠিক করে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।
আয়েশা দরজা খুলে দেখে কয়েকজন পুলিশ এসেছে। সাথে আছে সাহেরা বেগম এর বোন মারিয়াম বেগম।
মারিয়াম বেগম আয়েশার দিকে তেড়ে এসে বললো,
এই কী মিশিয়েছিস খাবারে?
আয়েশা স্বাভাবিক ভাবে উওর দিলো,
আমি কী মেশাবো?
মারিয়াম বেগম পুলিশদের বললেন,
ওকে জিজ্ঞেস করুন।ওর জন্য আমার বোন আর বোনের ছেলে ওর জন্য এখন হাসপাতালে। ওকে ধরে নিয়ে যান।
একজন পুলিশ এগিয়ে এসে বললো,
কী ম্যাডাম। জামাই আর শাশুড়ী কে মার্ডার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনার ভাগ্য তো আপনার সহায় হয় নি। ওনারা কোনোমতে বেঁচে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরে আসবে।
আয়েশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
আরেকজন পুলিশ এগিয়ে এসে বললো,
চলুন আমাদের সাথে থানায়। ও-ই খানে গিয়ে আপনাকে জিজ্ঞাসা-বাদ করা হবে।
আয়েশা শান্ত ভাবে বললো,
আপনাদের কাছে কী কোনো প্রমান আছে যে আমি আমার হাসবেন্ড আর শাশুড়ী কে মেরে ফেলতে চেয়েছি? প্রমান দিন এরপর না-হয় আপনাদের সামনে যাবে।
আমরা রান্নাঘর চেক করবো।
অহনা হাত দিয়ে দেখিয়ে বললো ওদিকে যান।
আপনি ও আসুন।
আয়েশা এগিয়ে গেলো সাথে মুনতাহা বেগম ও এলো।
পুলিশ একজন পাতিল উল্টে পাল্টে দেখছে। ভাত,ডাল
অনেকটা রয়ে গেছে।
আপনার শাশুড়ী বলেছে খাবার খাওয়ার পর উনারা অসুস্থ হয়ে গেছে। এই খাবার গুলোই তো রান্না করেছিলেন।
আয়েশা বললো,
জী। এগুলোই রান্না করেছি। আপনারা খাবেন?
পুলিশ গুলো অবাক হয়ে একে ওপরের দিকে তাকালো।
আমরা কেনো খাবো? আপনি খাবেন।
আমি?
হ্যা। তুই খাবি। এই খাবারে তুই বিষ মিশিয়েছিস না।এবার তুই খেয়ে দেখা।
মারিয়াম বেগম গর্জে উঠে বললো।
আয়েশা একটা প্লেট ধুয়ে নিলো। অনেকটা ভাত নিলো সাথে ডাল আর ডিম নিলো।
মারিয়াম বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। আয়েশা বললো,
আমার অবশ্য খাওয়া হয় নি। আপনারা না এলে খালি পেটে ঘুমিয়ে পড়তাম। আপনাদেরকে ধন্যবাদ আসার জন্য।
আয়েশার এরূপ ব্যবহারে পুলিশ গুলোর সাথে মারিয়াম বেগম ও ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
টেবিলে গিয়ে বসে খাবো। আসুন আমার সাথে।
আয়েশা টেবিলে গিয়ে বসলো। আয়েশা অল্প করে ভাতের সাথে ডাল আর ডিম মাখিয়ে নিচ্ছে। যেই না আয়েশা প্রথম লোকমা মুখে তুলতে যাবে উপস্থিত সবার মধ্যে চাপা উত্তেজনা শুরু হলো।
আয়েশা খাচ্ছে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু ওর কিছু হচ্ছে না।
মারিয়াম বেগম ক্ষেপে উঠে বললো,
ও কী মরবে না-কি। ও তো ডাইনি।আমার এত ভালো বোন…
পুলিশ গুলো কথা থামিয়ে দিয়ে বললো,
আমরা চলে যাচ্ছি আপাতত। উনার বিরুদ্ধে কোনো প্রমান পাওয়া যায় নি। তাই উনাকে এরেস্ট করতে পারবো না।
কিন্তু..
মারিয়াম বেগম এর কথা না শুনে উনারা চলে গেলেন।
আয়েশা উঠে মারিয়াম বেগম এর দিকে এক লোকমা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
“খালা।খাবেন?”
বেয়াদব, বেহায়া।
মারিয়াম বেগম আয়েশাকে বকতে বকতে সাহেরা বেগম এর রুমের দিকে এগিয়ে গেলো।
–
কয়েকদিন কেটে গেছে।রায়হান আর সাহেরা বেগম এখন অনেকটা সুস্থ হয়েছে। আয়েশা একবারের জন্য ও হাসপাতালে দেখতে যায় নি। রোহিনী যেতে চাইলে ও ভুলিয়ে রেখেছে।
মারিয়াম বেগম এই কয়েকদিন নিজে রান্না করে নিয়ে গেছে। আয়েশা রান্না করে দিলে ও নিয়ে যায় নি। যদি আবার কিছু মিশিয়ে দেয়।
আজকে ওরা বাসায় আসবে। বাসায় এসে কী করতে পারে আয়েশা ধারণা করতে পারছে। তবে বিন্দু মাএ ভয় পাচ্ছে না।মনের মধ্যে এটা গেঁথে নিয়েছে,যা হবে তা দেখা যাবে।
বিকালের দিকে রায়হান আর সাহেরা বেগম হাসপাতাল থেকে এসেছে। সাথে আছে মারিয়াম বেগম। আয়েশা সামনেই ছিলো রায়হান আয়েশার দিকে তাকালো তবে কিছু না বলে রুমে চলে গেলো।
রুমে আসার সাথে সাথে রোহিনী রায়হানের গলা জড়িয়ে ধরল।
বাবা। তুমি এখন ভালো হয়ে গেছো? মাকে অনেক বার বলেছি তোমার কাছে নিয়ে যেতে মা নিয়ে যায় নি।
হসপিটালে ছোট মানুষ যায় না তো। তাই নিয়ে যায় নি।
এখন যাও তোমার মাকে বলো গিয়ে বাবা ডাকছে।
বলবে তাড়াতাড়ি আসতে।
আচ্ছা বাবা।
রোহিনী গিয়ে আয়েশা কে বললো,
মা তোমাকে বাবা ডাকছে।
আয়েশা হাসলো।এই ডাক টার অপেক্ষা করছিলো এতক্ষণ ধরে……
চলবে……?
ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
