||৫||
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম
শীতের সময় কষ্ট হলেও মহুয়া উঠে পড়লো অযু করে নামাজ আদায় করে নিলো, বাহিরে কুয়াশা কাছের জিনিস ছাড়া দেখার উপায় নেই।রান্না ঘরে এসে দেখলো ভাত নেই রান্না করতে হবে, কতটা চাল নিবে ভেবে নিজ মতো অল্প নিলো সকালের জন্য দুপুরে আবারো রান্না করলে হবে। ভাত বসিয়ে বাহিরে চলে আসলো কাজ করলে শরীর গরম হয়ে যায় তখন আর শীত লাগেনা। রাহেলা তখন উঠে অযু করতে যাবে চোখ গেলো রান্না ঘরে আগুন জ্বলছে যেয়ে দেখলো মহুয়া ভাত বসিয়ে বাহিরে কাজ করছে।
“এত ভরে উঠতে গেলে কেনো শীতে আরেকটু শুয়ে থাকতে।”
নামাজ পড়তে উঠছিলাম আম্মা, আর ইচ্ছা করেনি ভাবলাম কাজ গুলা করে রাখি, কথার ভিতর তার শাশুড়ি কে বলে নিলো সে কতটুকু চাল নিয়ে ছিলো হবে কিনা রাহেলা উওর দিয়ে চলে গেলো তার নামাজের সময় আবার শেষ হবে।মহুয়া কাজ শেষে রুমে এসে ইমনকে ডাকলো ইমন এখন কিছুতেই উঠবেনা শীতে।
“আপনি না আজকে কোথায় যাবেন? উঠুন দ্রুত।”
ইমন তবুও উঠলো না বিরক্ত ভাবে বলে উঠলো “আরেকটু ঘুমাতে দেও তো, এখনো দেরি আছে”
মহুয়া আর ডাকলো সোজা রান্না ঘরে চলে আসলো সেখানে তার শাশুড়ি বসে সকালের রান্নার জন্য তরকারি কাটছিল
“আম্মা আমার কাছে দিন আমি কাটছি”
থাক এটুকু আমি করছি তুমি এক কাজ করো তোমার আপাকে ডেকে আনো বলো আমি ডাকছি।
মহুয়া ভেবে চিন্তে পা বাড়ালো মনের ভিতর একটু ভয় আবার কোনো কথা শুনিয়ে না দেয়।
________________
বহু বছর পর গ্ৰামের বাড়ি আসছে আকরাম আর ইকরাম এক সাথে দুই ভাই সাথে তাদের বউ বাচ্চা। আকরামের বউ মালিহা, তার একটা ছেলে আরিয়ান বিদেশ থেকে অনার্স শেষ করে বর্তমান বেকার ইকরামের বউ তানিয়া, তার দুই মেয়ে বড় তাসকিয়া সে এখন শশুর বাড়িতে ছোট মেয়ে তাবাস্সুম ইন্টার শেষ করছে। সাথে তার ছোট ছেলে এবার নাইনে।তারা মূলত এসেছে বাচ্চাদের জুড়াজুড়িতে তার দাদির কাছে শীতের সময় গ্ৰামের মজা নিতে আরো আরিয়ানের জেদের কাছে পেরে উঠেনি আকরাম, তার ছেলে হয়েছে একদম তার ছোট ভাই মোবারকের মতো সে ছিল মা ভক্ত এখন তার ছেলে হলো দাদি ভক্ত। আরিয়ান এতদিন পড়াশোনার জন্য বাহিরে ছিল সে খোঁজ নিলেও কখনো জানতো না তার দাদির কোনো খরচ বা খোঁজ তার বাপ চাচারা রাখেনা। দেশে এসেই সবটা বুঝে দেরি না করে চলে আসলো সাথে সবাইকে নিয়ে।আরিয়ানের বাবা সবার বড়, মেজো ইকরাম, আর ছোট মহুয়ার বাবা মোবারক। আরিয়ান ছোট থেকে দাদির আদর পেলেও তার বাবা শহরে চলে আসে শহরে ব্যবসা শুরু করে একটু ভালো হলেই নিয়ে আসে তার মেজো চাচাকে গ্ৰামে পড়ে থাকে মহুয়ার বাবা। মহুয়া হওয়ার সময় তার মা মারা গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেনি, জমির কিছু দিয়ে তারা চলতো এভাবে বছর খানেক পর তার চাচাও মারা যায় তখন আরিয়ান সবে বিদেশ গেছিল এই জন্য সে কিছু করতে পারেনি সেই সুযোগে মা আর ভাইয়ের মেয়ের কোনো দায়িত্ব নেইনি তার বাপ চাচা।
আর কত সময় লাগবে আব্বু? (ইকরামের ছেলে নাঈম বলে উঠলো)
“বেশি সময় নেই, চুপ করে বসে থাক আর একটা কথা বলবি না” শান্ত ভাবে বলে উঠলো আরিয়ান।
গাড়ির ভিতর আবারো নিরবতা মিলে গেলো,মালিহা একটু পর পর বিরক্ত নিয়ে তাকাচ্ছে তার ছেলের দিকে এই ছেলে তার পেটে কিভাবে হলো? বিদেশ থেকে পড়াশোনা করানোর পরও গ্ৰামের প্রতি এত টান।
তোমার ছেলে কিন্তু বেশি করছে সব সিমা পেরিয়ে যাচ্ছে, কি দরকার ছিলো এখানে আসার।
তুমি একটা চুপ থাকবে তোমার ছেলে শুনতে পারলে বুঝবে।
সে শুনবে শুনুক ভয় পায় নাকি, তোমার দোষ তোমার আশকারা পেয়ে মাথায় উঠে গেছে আমার ছেলেটা।
আকরামের বেশ রাগ হলো বিরক্ত মুখে ‘আমি আবার কি করলাম, তুমিতো সেই বিয়ের পর থেকে আমার মায়ের থেকে দূরে রাখছো এতবার বলার পরও কোনো দিন খোজ নিতে দেওনি।
গ্ৰামে আসতে না আসতেই রুপ পাল্টে গেলো, আল্লাহ এ আমি কাকে দেখছি। কপাল আমার পুড়লো বলে।
তোমরা চুপ করবে নাকি গাড়ি থেকে বের করতে হবে মা। আরিয়ানের কথা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেলো। আরিয়ান আবারো ছিটে মাথা লাগিয়ে ভাবতে লাগলো ছোট বেলার কিছু স্মৃতি।
ছোট চাচি অসুস্থ হওয়ার দুদিন পর হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিছুতেই কোনো কিছু হচ্ছিল না উপায় না পেয়ে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় ডক্টর চেকাপ করে জানিনা দেয় আজ রাতে অপরেশন করতে হবে নয়ত বাচ্চাকে বাঁচানো যাবেনা। রাতে সবাই চলে গেলেও আরিয়ান যায়নি তার দাদির সাথে থেকে গেছিল তখন তার বয়স বেশি না ৮/৯ বছর। রাত দুইটার সময় বাচ্চা হয় মহুয়া দুনিয়ায় আসে নার্স নিয়ে আসতেই সুফিয়া (মহুয়ার দাদি)কলে নেয়।উজ্জল গায়ের রং মুখ লাল হয়ে আছে হাত পা ছোট ছোট, নখ ছোট, নড়াচড়া করছে একটু পর পর। আরিয়ান সেটা দেখলো।
“দাদি আমার কলে দেবে? অনেক সুন্দর দেখতে একদম তোমার মতো, দেখো গাল লাল ঠোঁট লাল।”
তোর পছন্দ হয়েছে বুঝি, ধর নে সাবধানে নিস ব্যাথা পেলে কিন্তু কান্না করবে।
আরিয়ান খুব সাবধানে নিলো যেনো ব্যাথা না পায়, খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকলো কি মনে কলে যেনো হাত নিজের হাতের মুঠোয় পুড়ে নিলো ছোট করে আদর দিলো তার ছোট হাতে।
সুফিয়া মন দিয়ে দেখলো নাতির কান্ড, এবার দিয়ে দে তোকে না হয় সারাজীবনের জন্য দিয়ে দিবো। আরিয়ান তখন বুঝতে পারিনি কথাটার মানে কিন্তু এখন বুঝে সারাজীবন বলতে তার সাথে জুড়ে দিতে চেয়েছিলো ভেবেই মুচকি হাসলো।
আচ্ছা এখন মহুয়া কত বড় হয়েছে? তাকে কি চিনতে পারবে? চিনবে কিভাবে ছোট থাকতেই তো আরিয়ানকে নিয়ে চলে গেছিলো শহরে। মহুয়া কি সেই আগের মতো সুন্দর আছে? দাদি তাকে কিভাবে রাখছে? নানান প্রশ্ন মাথায় আসতেই নিজেকে শান্ত করলো মনকে শান্ত দিলো কিছু সময় পর তো দেখতে পাবো।
__________
ইমন উঠেতে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গিয়েছে বাহিরে এসে দেখলো মহুয়া বসে আছে তার মা মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে।চোখ যেনো জুড়িয়ে গেলো।
মা ভাত দেও, একটু পর বের হবো মহুয়া তুমিও গুছিয়ে নেও।
কোথায় যাবি তোরা, হঠাৎ করে বলে উঠলো মিনু
আপা মহুয়াদের বাসায় ওর দাদির কাছে অনতে যাবো। একা একা আছে হয়তো।মহুয়া কথাটা শুনে ভীষণ খুশি হলো সে ভাবতেও পারেনি ইমন যে তার দাদির কাছে নিয়ে যাবে, আনতে চাইবে। তার মন খারাপ ছিল শুধু বলতে পারিনি।তেল শেষে মাথা আচড়ায় উঠে পড়লো মহুয়া রাহেলাও রান্না ঘরে এসে সবাইকে খেতে দিলো।
আপা তোমার শরীর এখন কেমন লাগছে? ঔষধ খাচ্ছ তো।
ভালো, খাচ্ছি তো।
ফল আনছি খেও, কিছু লাগলে আমাকে বলবে।
ঠিক আছে।
আর কোনো কথা হলোনা, খাওয়া শেষ হলে রাহেলা ইমনকে ডেকে নিয়ে গেলো তার রুমে।
“প্রথম যাচ্ছিস কিছু বাজার করে নিয়ে যাস, যতই হোক তুই জামাই,এখন একা কিছু আছে কিনা।”
“আচ্ছা মা, নিয়ে যাবো”,ইমন কথা শেষ করে রুমে এসে দেখলো মহুয়ার গুছানো শেষ।
এত দ্রুত শেষ হয়ে গেলো মেডাম, এই জন্য বলে “বাপের বাড়ির কথা বললে মেয়েদের হুস থাকেনা।”
তেমন কিছুই না, বরকা হিজাব করতে কত সময় লাগে হুহ।
আমিতো জানিনা,ইমন ও রেডি হয়ে নিলো বের হওয়ার আগে মহুয়া শাশুড়ি ননদকে বলে বের হলো রাহেলাও বিদায় দিয়ে নিজের কাজে গেলো।
#চলবে
