||৪||
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম
সন্ধ্যায় শাশুড়ি পিঠা বানানোর জন্য প্রোয়জনি জিনিসপএ গুছিয়ে নিচ্ছে আমিও হাতে হাতে করে এগিয়ে দিলাম, মিনু আপা ঘরে শুয়ে আছে তার শরীর আগের থেকে একটু ভাল হয়েছে ঔষধ খাওয়ার পর। ইমন দোকানে, এর ভিতরে সকালে যে দাদি এসেছিলে সে আবারো আসলো তার নাম আমিনা বেগম, তিনি প্রচুর পান খান মুখের ভিতর সব সময় যেনো পান পুরে রাখে। শাশুড়ি ইশারায় বলতেই বুঝে গেলাম এখন তার জন্য পান বানিয়ে আনতে হবে।আমি উঠে রুমের ভিতর চলে গেলাম।
আমিনা:-কি গো ইমনের মা বউ কেমন।
‘ভালোই তো দেখছি কাকি, কাজ কাম না পারলেও সাথে সাথে এগিয়ে দেই গুছিয়ে দেই, মন্দ না।
আমিনা:-তা শুনলাম মেয়ের আগে পিছে নাকি কেউ নেই, এই মেয়ে কি দেখে আনলো ইমন। এত সুন্দর ছেলেটা এমন মেয়ে আনলো রুপে পাগল করলো দেখো।
রাহেলা বানু এসব কথা পাত্তা দিলো না একমনে পিঠা বানাতে লাগলো তার বউ যেমন হোক সে দেখবে কারো কথা কানে নেওয়ার প্রোয়জন মনে করলো না।মহুয়া ভিতর থেকে পান এনে রেখে পাশে বসে পড়লো শীতের সময় চুলার পাশে বসে আগুনের তাপ নেওয়ার মজাই আলাদা।আমিনা ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কথায় শুনে নিলো, মহুয়া বুঝে শুনে তার কথার উওর দিয়ে দিলো। বলা তো যায় না কোন কথা কিভাবে নিবে।
আমিনা:-তা তোমার মা বাবা শুনছি মারা গেছে দাদির কাছে মানুষ হয়েছো না দেখে শুনে ইমনের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলো বুঝি। ইমন কিন্তু খাটি সোনা ভাগ্যে করে পেয়ে গেলে। রুপের জাদু ভালোই করছো।
ঠিক বলছো দাদি, রুপে জাদু আছে। তবে তোমার রুপে কি জাদু ছিলো যে দাদার এক বউ থাকতেও তোমাকে বিয়ে করে আনলো?
আমিনা বেশ অবাক হলো পিছনে ঘুরতেই দেখলো ইমন দাড়িয়ে কথাটা বলছে তার আর মুখ থাকলো না কথা বলার।মহুয়া মনের ভিতর একটু সস্তি পেলো সে ভীষণ অসস্তিতে ছিলো। রাহেলা বানু শেষ পিঠা নামিয়ে…
কাকি মুখ ধুয়ে নেও, মহুমা কয়টা পিঠা প্লেটে দিয়ে দেও, আর ইমন তুই এইসময় বাড়িতে কেনো তোর তো এসময় বাড়ি আসার কথা না।
ইমন:-মা দোকানে সব হিসাব দেখে আসছি, সজিব আছে ও দোকান বন্ধ করে চলে যাবে। (সজিব ইমনের বন্ধু একা সামলাতে পারেনা তাই সজিবকে রাখছে দুই বন্ধু মিলে দেখাশোনা করে)
আমিনা:-আমি খাবোনা ইমনের মা, তোমার ছেলের তো মুখে বুলি ফুটছে কাকে কি বলতে হয় জানেনা।
রাহেলা:-ওর কথায় কিছু মনে করো না ছোট মানুষ, নেও খেয়ে নেও। মহুয়া প্লেট দিয়ে পানি দিয়ে দিলো। ইমন ডাকতেই মহুয়া উঠে গেলো তার সাথে।
আমিনা:-দেখো দেখো, বউ পাগল হয়ে গেছে তোমার ছেলে। এখন থেকে সাবধান থেকো ইমনের মা।
তুমি এত চিন্তা করোনা কাকি, আমার ছেলে আমি দেখবো আমাদের সংসারে কথা ভাবতে হবেনা।
আমিনা বেশ বিরক্ত হলো তবুও কিছু না বলে খেয়ে উঠে চলে গেলো, রাহেলা কিছু সময় তাকিয়ে নিজের কাজে মন দিলো।
ইমন হাতে করে কিছু খাবার কিনে এনেছে সবার জন্য মহুয়ার পছন্দ মতো, চানাচুর, সিঙ্গারা, বোন আর মায়ের জন্য আপেল, বেদানা, মাল্টা, কলা।সবকিছু মহুয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো মায়ের কাছে দিতে আর নিজের টা খেয়ে ফেলতে। মহুয়া কিছুতেই একা খাবেনা সব একসাথে নিয়ে রান্না ঘরে চলে আসলো।
আম্মা এগুলা নেন, আপনার ছেলে এনেছে।রাহেলা হাতে নিয়ে দেখলো মনে মনে খুশি হলো সেটা প্রকাশ করলো না।
ইমন:-মা, বড় আপা কোথায় দেখছি না তো।আপার শরীর এখন কেমন আছে?
দেখ রুমে আছে, সেই সন্ধ্যা থেকে বের হচ্ছে না।ঔষধ খাওয়ার পর একটু ভালো। মেয়েটার যে কি হচ্ছে দিন দিন। ইমন মিনুর রুমে ঢুকে দেখে বই পড়ছে সম্ভবত গল্পের,তার আপার গল্প খুব পছন্দ সে ছোট থেকেই দেখে আসছে মাঝে মধ্যে ফেসবুকেও সে গল্প পড়ে। মিনু বুঝতে পারলো রুমে কেউ আসছে বই রেখে তাকাতেই দেখলো ইমন, ইমন ফিক করে হেসে দিয়ে মিনুর পাশে যেয়ে বসলো।
আপা শরীর এখন কেমন লাগছে? বেশি খারাপ লাগছে নাকি? বলেই কপালে হাত দিয়ে দেখলো।
মিনু:-থাম, আর দেখতে হবেনা। এখন তো আমাকে ভুলেই গেছিস। মুখ ঘুরিয়ে নিলো ইমন তার আপার কলের ভিতর শুয়ে পড়লো।
এমন করে বলোনা আপা, ছোট থেকে তুমি আমাকে আগলিয়ে রাখছো,কষ্ট বুঝতে দেওনি। আমি জানি আমি ভুল করছি তোমাদের না জানিয়ে বিয়ে করছি তাই বলে এভাবে বলোনা আপা। মহুয়া খুব ভালো মেয়ে ওর বাবা মা কেউ নেই।তুমি আমাকে শাস্তি দেও আমি মাথা পেতে নিবো কিন্তু ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করোনা আপা। বলে ইমন থামলো মিনু মন দিয়ে ভাইয়ের কথা গুলা শুনলো তার ভাই যে মেয়েটাকে প্রচন্ড ভালোবাসে সেটা সে ভালোই বুঝে গেছে। তার ভিতরে চাপা কষ্ট এখন সে ডিভোর্সি যদি তার দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেই,কোথায় যাবে সে থাকবে কোথায়? তার মন বিষিয়ে উঠলো।
‘উঠ ইমন আমি কিছু করছি না। আমি একটু একা থাকতে চাই।
ইমন বলার মতো আর কিছু পেলোনা তার আপার আচরণে সেও অবাক এই আপা তার আপা নয়। এমন তো ছিল না। রুম থেকে বের হয়ে গেলো। মিনু ইমনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভারি নিশ্বাস ফেললো মনে পড়ে গেলো আবারো সেই অতীতের কথা মিনু বিয়ের দিন যখন বিদায় দেওয়ার সময় এসেছিল ইমন তাকে ঝাপটে ধরে কান্না করছিল মিনুকে কিছুতেই যেতে দিবে না। রাহেলা অনেক বুঝিয়েও যখন পারলো না তখন আমিরুল ইসলাম(ইমনের বাবা)যেয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনে। ওদিনই মিনুর জীবনে নতুন সূচনা শুরু হয়েছিল। মা বাবা ভাই দের ছেড়ে সে নতুন জীবনে পা দিয়েছিল মনের ভিতর ছিল হাজারো রঙিন স্বপ্ন যেটা সব মেয়েদের থাকে। বিয়ের দিনটা ভালো ভাবে গেলেও পরের দিন থেকে মিনুর জীবন পুরপুরি পাল্টে গেছিল মনের ভিতরে যে রঙিন স্বপ্ন সেটা ধীরে ধীরে শেষ হতে থাকলো। একদিন মিনুর জন্য মাহফুজ এক জোড়া বালা কিনে এনেছিল সেটা তার ননদ দেখেই নিয়ে নিছিল বিনিময়ে ছুঁড়ে দিয়েছিল কথার বিষ। সেদিন মাহফুজ চুপ ছিলো একটা কথা বলার প্রয়জন মনে করেনি।এভাবে দিনের পর দিন তাকে অত্যাচার করা হতো মাহফুজ সেটা জানতো না, জানলে ওকি কিছু বলতো?সেতো নামে ছিলো স্বামি দায়িত্ব নিতে পারলেই কি স্বামি হওয়া যায়? কখনোই নয়। ইমনের ভিতরে সেটা পেলো না মিনু তার ভাই সেরা স্বামি, তার জন্য দোয়া করলো। নিজের করা ব্যবহারের জন্যও মনে মনে অনুতপ্ত হলো।
রাতে খাওয়ার শেষ করে যে যার রুমে চলে গেলো, মহুয়া এর ভিতর মিনুকে দেখে আসছে কি অবস্থা সেটাও শুনে আসলো রাহেলা তখন পান বানাচ্ছিল। মহুয়া যাওয়ার পর বলে উঠলো।
দেখছিস মিনু তুই যায় বলিস মেয়েটা একবারে খারাপ না। সকাল থেকে একটু পর পর শুনছে তোর কি অবস্থা, জ্বর কমলো কিনা। আমার হাতে হাতেও কাজ এগিয়ে দেই,কাজ না পারলেও করার চেষ্টা করে।তুই রেগে থাকিস না মেয়েটার উপরে, মেয়েটার মা বাবা কেউ নেই।মিনু চুপ হয়ে আছে তার মা ঠিকই বলছে কিন্তু এত দ্রুত সে মানতে পারছে না। সময় হোক ভেবে দেখা যাবে।
মহুয়া নিজেদের রুমে ঢুকে তাকিয়ে দেখে বিছানা গুছানো
একি আপনি করতে গেলেন কেনো? আমি এসে তো করতাম বলেই বসে পড়লো, ইমন মহুয়ার পাশে দাড়িয়ে বললো
বউয়ের একটু সাহায্য করলাম, তাতে কি হয়েছে?
তবুও আমি করতাম আপনি না করলেও পারতেন।
হয়েছে, আর বলতে হবেনা। বউয়ের কাজে সাহায্য করা সুন্নত বুঝলে? আমি মাকেও করে দিতাম এসব অভ্যাস আছে এখন এসে শুয়ে পড়ো কাল এক জায়গায় যেতে হবে।
কোথায় যাবেন?
সেটা কাল দেখতে পাবেন মেডাম এখন আসেন, মহুয়া লাইট বন্দ করে যেয়ে শুয়ে পড়লো। মনে মনে ভাবতে লাগলো কোথায় যাবে সরাসরি বললেই পারতো এখন না শুনা পর্যন্ত ঘুম হয় নাকি?মন যেনো মানছেই না এখনি শুনার জন্য উতলা হয়ে উঠলো।
‘বলেন না, কোথায় যাবেন? দেখুন মন শুনতে চাচ্ছে আমি না।
ইমন হেসে দিলো মহুয়ার কথা শুনে এই মেয়েকে কিভাবে বুঝাবে সে তাকে সারপ্রাইস দিতে চাই। এখন বললে তো সেটা হবেনা।
মনকে বলো শান্ত হতে, কাল সকাল হলেই তো দেখতে পাবে তাইনা। মহুয়ার মন খারাপ হলো বললে কি এমন ক্ষতি হবে?ঢং।
মনে মনে আমাকে কিছু না বলে ঘুমান মেডাম। আমিও ঘুমাই । মহুয়া তবুও কাল কোথায় যাবে সব নিজ মনে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলো।
#চলবে?
