পর্ব : ১০ (শেষ পর্ব)
গল্প: #তুমি_এলে_হঠাৎ_বৃষ্টি_হয়ে…
লেখিকা: #মৈথালী_নিথু (#কল্পকথা)
বাসায় এসে মেহুল চুপচাপ ছিল। নাবিলও আর ওকে কিছু জিজ্ঞাসা করে নি। মেহুল সারাদিন নিজের সাথেই লড়াই করেছে নাবিল তাকে নিয়ে কি ভেবেছে এসব ভেবে। নাবিল বিকালে রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল এখন রাত বাজে দশটার উপরে এখনও সে আসে নি। মেহুল ভাবছে সকালের ঘটনার কারণে হয়তো নাবিল ওর উপর রাগ তাই জন্যই এতো দেরি করছে আজ বাসায় আসতে।
রাফিনকে আজ মেহুল নিজের কাছে রেখেছে। ছেলেটা ঘুমিয়ে গিয়েছে। সাবিহাও শুয়ে পড়েছেন মেহুলই বলেছে নাবিল আসলে সেই খাবার বেড়ে দিতে পারবে ওনি যেন ঘুমিয়ে যান৷
দশটা বিশ বাজে এমন সময় কলিং বেলের শব্দ হলো মেহুল দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললো।
নাবিল কোন কথা না বলে সোজা ঘরে চলে গেলো। মেহুলও দরজা বন্ধ করে ঘরে আসলো এসে দেখলো নাবিল বাথরুমে ঢুকে গিয়েছে। নাবিল একবারে গোসল করে বের হলো। মেহুল নাবিলের পিছন পিছন হাঁটাচলা করতে লাগলো। নাবিল সেটা খেয়াল করে বললো-
“মেহুল কিছু বলবে?”
” আপনি কি আমার উপর রাগ করে আছেন?”
মেহুল মুখটাকে এতো অসহায় করে বললো যে তার এমন চাহনি আয়নায় দেখে নাবিল পিছে ফিরলো।
” আমি রাগ কেন করবো! তুমি কি রাগ করার মতো কিছু করেছো?”
” সকালের ঘটনার জন্য তো রাগ করা উচিত আপনার৷ আপনি জিজ্ঞাসা ও করেন নি ছেলেটা কে ছিল আর আজ এতো রাত করে বাসায় এসেছেন।”
” মেহুল তুমি এতো টেনশন করছো কেন! আমি জানি ছেলেটা কে ছিল তাই আর তোমার কাছে কিছু জানতে চাই নি আর আজ কাজ একটু বেশি ছিল বলে আসতে দেরি হয়ে গেছে। ”
” আপনি জানেন! কিভাবে চিনেন ওকে।
” তোমার বিয়ে যার জন্য ভেঙ্গেছে তাকে দেখেও চিনবো না কেন বলো?”
এবার মেহুলের মাথায় আসলো আসলেই তো নাবিল তো সেখানেই ছিল তার তো দেখে চিনারই কথা। আর সে বলদ এটা নিয়ে সারা দিন চিন্তা করে করে শেষ হয়েছে।
” আচ্ছা আপনি না হয় রাফিকে সেটা জানেন কিন্তু আমার অতীত সম্পর্কে জানার কোন ইচ্ছে নেই আপনার? ”
” ইচ্ছে আছে মেহুল যদি তুমি আমাকে বলতে চাও আমি অবশ্যই শুনবো কিন্তু আমি কখনো তোমার অতীত নিয়ে তোমাকে জোর করবো না। তুমি নিজের ইচ্ছাতে আমাকে জানাতে চাইলে তখনই শুনবো এর জন্যই তোমাকে এ ব্যাপারে আমি কিছু জিজ্ঞেসা করি নি। ”
” রাফি’র জন্য আজ আপনাকে অনেক অপমানিত হতে হয়েছে তার জন্য আমি অনেক লজ্জিত নাবিল।”
” রিলাক্স মেহুল ওর এসবে আমার কিছু হয় নি কিন্তু হ্যা ও ওর নিজের ক্ষতি ঠিকই করেছে। ও তোমার সাথে যা করেছে এটার শাস্তি তো ওকে পেতেই হবে। এখন চলো খেতে যাই অনেক ক্ষুধা লেগেছে।”
—-
ওই দিনের পর আরো এক সপ্তাহ কেটে গেছে ভালোই যাচ্ছে মেহুলের দিন৷ মেহুল এখন ভার্সিটিতে যাচ্ছে নিয়মিত। সকালে সে নাবিল আর রাফিন এক সাথেই বের হয় বাসা থেকে। মেহুল আর নাবিল রাফিনকে স্কুলে দিয়ে নাবিল যায় মেহুলকে ভার্সিটিতে দিয়ে আসতে। মেহুলের ক্লাস কম থাকলে আবার বাসায় ফিরার সময়ও তিনজনে একসাথেই আসে। এমনই একদিন মেহুল ভার্সিটি তে গিয়ে শুনে রাফি’কে কে বা কারা যেন রাস্তায় অনেক পিটিয়েছে সে হসপিটালে ভর্তি। এটা শুনে মেহুলের কোন হেলদোল ছিল না।
মেহুল আস্তে আস্তে নাবিলকে পছন্দ করে ফেলছে। সে এখন সারাক্ষণ নাবিলকেই ভাবে। আগে থেকেই হয়তো নাবিলের জন্য তার কিছু অনুভূতি ছিল যা এখন অনেক গাঢ় হয়েছে।
—
রাতে সবাই এক সাথে খাওয়া-দাওয়া করার পর সাবিহা রাফিনকে আজ জোড় করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন৷ তাই নাবিল আর মেহুল ও ঘরে চলে এলো।
মেহুল শুয়ার জন্য বিছানা ঠিক করছে তখন নাবিল বললো-
” মেহুল প্রতিদিন তো ঘুমিয়েই যাই আজ চলো দু’জন বারান্দায় বসে কিছুক্ষণ গল্প করি। আজ আকাশে সুন্দর চাঁদ ও উঠেছে। ”
মেহুলেরও প্রস্তাব টা ভালো লাগলো।
” ঠিক আছে আপনি যান আমি দুইকাপ চা নিয়ে আসছি। ”
” চা হলে তো আরো ভালো হবে৷ ”
মেহুল আর নাবিল বারান্দায় পাশাপাশি বসে আছে। তারা একসাথে বসে গল্প করলো কিছুক্ষণ এর মধ্যে তাদের চা খাওয়া ও শেষ। কথার এক পর্যায়ে নাবিল বললো –
” মেহুল তোমাকে আমি কিছু কথা বলতে চাই৷ ”
মেহুল নাবিলের দিকে তাকালো। নাবিলের চেহারা দেখে বুঝার উপায় নেই তার ভিতরে কি চলছে। সে হয়তো কোন কিছু নিয়ে দোটানায় ভুগছে।
” হ্যা বলুন নাবিল”
” এই কথা আমি আজ অব্দি কাউকে বলি নি মেহুল। শুধু তোমাকেই বলবো তুমিও আশা করি কথাগুলো আমাদের মধ্যেই রাখবে।”
” অবশ্যই নাবিল আমি কাউকে বলবো না। কি এমন কথা যা বলতে আপনার এতো কিচকিচানি হচ্ছে? ”
“…..!”
” নাবিল……!”
” আসলে কথাগুলো আমার আর রাফিনের আম্মুকে নিয়ে। ”
এবার মেহুলের কপালে ভাজ পরলো। মেহুল বিয়ের আগে যখন রাফিনকে পড়াতে আসতো এ বাসায় তখন সে একদিন নাবিলের কাছে জানতে চেয়েছিলো রাফিনের আম্মুর কোন ছবি নেই কেন কোথাও কিন্তু সে কথার কোন উত্তর নাবিল দেয় নি। তাই মেহুলও আর এসব নিয়ে কোন প্রশ্ন কখনো করে নি। আজ হঠাৎ তাকে নিয়ে কথা বলতে চায় নাবিল।
” বলুন ”
” আসলে মেহুল রাফিন আমার নিজের ছেলে নাহ্। ”
মেহুল চমকে গেলো কথাটা শুনে।
” মানে?
” হ্যা ও আমার নিজের ছেলে না। ”
” তাহলে? আপনি কি বলছেন নাবিল আমাকে প্লিজ প্রথম থেকে খুলে বলুন।”
নাবিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করলো তার জীবনের কাউকে না বলা সেই অধ্যায় –
” রিয়ার সাথে আমার বিয়ে টা মা ঠিক করেছিলেন। রিয়ার আগে আমার কারো সাথেই কোনো রিলেশন ছিল না তাই যখন রিয়া কে দেখলাম তখন ওকে নিয়েই সংসারের সপ্ন সাজানো শুরু করেছিলাম। আমি খুশি ছিলাম অনেক। ওকে দেখতে যাওয়ার পর যখন আমাদের বাসা থেকে জানানো হলো ওকে আমাদের পছন্দ হয়েছে তারপর থেকেই ওর বাসা থেকে তারাতারি বিয়ের জন্য তারা চাপ দিতে লাগলো৷ আমরাও সরল মনে কোনকিছু না ভেবেই সাপ্তাহক্ষানিকের মধ্যে ওকে বিয়ে করিয়ে নিয়ে আসি। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঝটকা টা আমি বাসর রাতে পাই।”
“…………”.
” বাসর রাতে রিয়া আমাকে জানায় ও তিন মাসের প্রেগন্যান্ট। আমার মনের অবস্থা তখন কেমন ছিল এটা আমি দুনিয়ার কাউকেই কখনো বুঝতে পারবো না।
এতবড় ধোঁকা হয়েছে আমার সাথে এটা শুনে আমি রেগে গিয়েছিলাম কিন্তু রিয়া আমাকে আটকিয়েছিলো কিছু করতে। আমি যদি এসব বাইরের কাউকে বলি তাহলে ওর নাকি আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না আর মা’কে ও এসব বলার সাহস আমার হচ্ছিলো না তাই আমিও ওই দিন সব কষ্ট নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে দিয়েছিলাম। রিয়া আমাকে জানায় এটা ওর ভালোবাসার মানুষের বাচ্চা। ওর সেই ভালোবাসার মানুষ টা কে সেটা ও কখনো বলে নি আমাকে৷ আমিও জানতে চাই নি কারণ বাসর রাত থেকেই ওর প্রতি আমার একটা ঘৃণা কাজ করছিলো।
ওর পরিবার অব্দি ওর বাচ্চার কথা জানতো। এভোয়েশন করার সময় শেষ বলে সেটা তারা করতে পারে নি তাই আমাকে হাতের নাগালে পেয়ে আমাকেই মেয়ে গছিয়ে তারা মুক্ত হয়েছে৷ পুরো পরিবার মিলে ধোঁকা দিয়েছে আমাকে আর আমার মা’কে।
ও আমাকে শর্ত দিয়েছিলো বাচ্চা হওয়ার পর ও আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে। আমি যেন এসব আমার মা কে না জানাই, ওর আর ওর বাচ্চার জান ভিক্ষা চেয়েছিলো ও আমার কাছে। আমিও এই অব্দি ওকে দেওয়া কথা রেখেছি। মা কেন বরং দুনিয়ায় কাউকেই ওর এই রহস্য জানতে দেই নি আজ অব্দি।
তুমি জানো মেহুল বিয়ের কয়েকমাস পার হয়ে গেলে আমি ভেবেছিলাম ওকে মাফ করে দিবো। আমার ভাগ্যে হয়তো এটাই ছিলো এসব ভেবে আমি মনস্থির করেছিলাম ওর সাথে নতুন করে আবার সব শুরু করবো কিন্তু ওর ব্যবহার এমন ছিল যেন এক ঘরে থাকলেও ও আমাকে চিনেই না। সে তার মতো থাকতো আর আমি আমার মতো৷
জানো মেহুল এমন কতো রাত গিয়েছে আমি বারান্দায় বসে আমার ভাগ্যর কথা চিন্তা করে কান্না অব্দি করেছি কিন্তু সে তখন একটুর জন্যও আমার পাশে এসে আমাকে শান্তনা দেয় নি। ও আমার সাথে অন্যায় করে আমাকে এমন ভাবে ইগনোর করতো যে সব দোষ বুঝি আমারই। এভাবেই দিন গুলো কেটেছিলো আমার।
তারপর একদিন ওর লেবার পেইন উঠে হাসপাতালে যাই ওকে নিয়ে। কিন্তু রাফিনকে জন্ম দিয়েই ও মারা যায়। এমন অবস্থায় আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না কিন্তু রাফিনকে যখন আমি প্রথম কোলে নেই তখন এই নিস্পাপ মুখটা দেখে আমার সব দুশ্চিন্তা শেষ হয়ে যায়। ও আমারই ছেলে এটা দুনিয়ার কাছে যেমন সত্যি তেমন আমার কাছেও এটাই সত্যি হয়ে যায়। আমি ওকে মন থেকে আপন করে নেই। এতো সবের তো এই নিস্পাপ বাচ্চার কোন দোষ নেই। ”
নাবিল থামলো সে হাঁপাচ্ছে রীতিমতো এতো কথা একসাথে বলে। মেহুল নাবিলের পিঠে হাত বুলিয়ে শান্তনা দিতে লাগলো। সে জানতো না এই মানুষটার ভিতরে এতোকিছু এতোগুলো বছর লুকিয়ে ছিল। সাবিহার কথায় একবার মেহুলের সন্দেহ হয়েছিলো যা আজ সবকিছু তার কাছে পরিস্কার।
” নাবিল আপনি এতোকিছু এতো বছর গোপন রেখেছেন! একা একা কষ্ট সহ্য করেছেন৷ আপনি অনেক সাহসী নাবিল৷ ভালো করেছেন আজ আমাকে সব বলে৷
নিজের ভিতরের সবকিছু বলাতে আপনার এখন নিজেকে একটু হলেও হালকা লাগবে।”
” মেহুল আমাকে কেউ কখনো কেন ভালোবাসে নি? কেন মেহুল! আমি কি এতোই খারাপ? রাফিনের জন্য কোন মেয়েও আমাকে বিয়ে করতে চাইতো না৷ এসব আমি পাত্তা না দিলেও রাতের আঁধারে আমাকে ঠিকই কষ্ট দিতো। কিন্তু কাউকে বলতাম না ”
নাবিলের চোখ ছলছল করছে। মেহুল আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না৷ সে নাবিলের মাথাটা নিজের বুকে জরিয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।
” সবাই ভালোবাসে নাবিল আপনাকে। আপনি অনেক চমৎকার একজন মানুষ ”
মেহুলের আদর পেয়ে নাবিল যেন হঠাৎ ছোট বাচ্চা হয়ে গেলো।
” না মেহুল কেউ ভালোবাসে না আমাকে। তুমিও তো বাসো না। ”
” কে বলেছে আপনাকে আমি বাসি তো। অনেক ভালোনাসি আপনাকে নাবিল। ”
কথাটা বলে মেহুলের হুস এলো সে এটা কি বলে ফেলেছে। মনের কথা মুখে এনে ফেলেছে।
নাবিল চমকে মেহুলের দিকে তাকালো।
” কি বললে মেহুল! তুমি ভালোবাসো আমাকে?
মেহুল মাথা নিচু করে ফেললো শুধু উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো অর্থাৎ সে ভালোবাসে নাবিল কে। নাবিল খুশিতে মেহুলকে জরিয়ে ধরলো জরিয়ে ধরেই বললো-
” আই লাভ ইউ মেহুল….. আই লাভ ইউ।
আমিও ভালোবাসি তোমাকে। ”
মেহুলের চোখ ছলছল করছিল… নাবিল সেটা দেখে ওর কপালে ভালোবাসাময় চুমু খেলো।
” কবে থেকে ভালোবাসো আমাকে মেহুল?”
” বিয়ের পর থেকেই আস্তে আস্তে আপনার জন্য অনুভূতি জমছিল যা কখন ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে আমি জানি না কিন্তু ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে। ”
” ভালোবেসে ফেলেছো আমাকে আর বলোও নি এতোদিন।”
” আপনি কখনো শুনেছেন মেয়েরা আগে এসব বলে! আপনার অপেক্ষা ছিলাম আমি। আপনি আমাকে ভালোবাসেন কখন বুঝতে পেরেছেন? ”
” তোমাকে আমি অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতাম। তোমার বিয়ে ঠিক হওয়ার আগে থেকেই কিন্তু কখনো বলার সাহস পাই নি। রাফিনের জন্য সবকিছুতে বাধা পেতাম। তোমার বিয়ের কথা শুনে আমার মনে হয়েছিল জীবনের অনেক বড় কিছু হারিয়ে ফেলছি তবুও আমার হাতে কিচ্ছু করার ছিল না। তাই আবারও কষ্ট বুকে নিয়ে তোমার বিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম কিন্তু এবার যে আল্লাহ এতো চমৎকার করে তোমাকে আমার বানিয়ে দিবে সেটা আমি কখনো ভাবি নি । ”
নাবিল লম্বা একটা শ্বাস ছাড়লো।
” আপনিই কেন বারবার নিজের কষ্ট লুকিয়ে রাখেন নাবিল? আমাকে একবার যদি বলতেন আপনি আমাকে পছন্দ করেন আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে বাবা-মার সাথে কথা বলতাম৷ ”
” বিবাহিত ছেলেকে বিয়ে করতে? তোমার বাবা-মা দিতো?”
” বাবা মা হয়তো দিতে চাইতেন না প্রথমে কিন্তু আমি মানিয়ে নিতাম। জানেন নাবিল রাফির সাথে আমার তিন বছরের সম্পর্ক ছিল৷ সম্পর্কের সময় টা এতো মধুর ছিল। সেই ছেলে হঠাৎ সম্পর্ক থাকা অবস্থায় আমাকে এতোবড় ধোঁকা দিলো। অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্ক, রুমডেট করলো চরিত্রহীনের মতো। সেখানে আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ ছিলেন। একজন কে এতো বছর ধরে চিনেও চিনতে পারি নি কিন্তু আপনাকে কিভাবে যেন অল্প চিনাতেই আপন মনে হতো।”
” আমিও তো আগে বিবাহিত ছিলাম মেহুল। রাফি’র ওইসব করা না মানতে পারলে আমার টা কিভাবে মানতে পারতে!’
” নাবিল আপনি ওর সাথে নিজের তুলনা করবেন না প্লিজ। ও বিয়ে ছাড়া সব কিছু করেছে আর বিয়ের পরও হয়তো করবে। ওর মন একদম কলুষিত হয়ে গিয়েছে তাই ও এমন রাস্তায় বেছে নিয়েছে। যারা একবার এই রাস্তায় চলে যায় তারা আর ঠিক হয় না৷ আর আপনি তো কোন অন্যায় করেন নি আপনি বিয়ে করেছিলেন। তাই আপনার সাথে ওর অনেক পার্থক্য। ”
” খ্ম এখম্….. এই যে মিসেস আমি কিন্তু এখনও পিউর ভার্জিন আছি আগে বিয়ে হলেও রিয়া কে কখনো ছুঁয়ে ও দেখি নি। ”
নাবিল এমন ভঙ্গিতে বললো যে মেহুল শব্দ করে হেসে দিলো নাবিলও হাসতে লাগলো মেহুলের সাথে । অনেক দিন পর দু’জন এমন প্রাণ খুলে হাসতে লাগলো। মেহুলের এতো সুন্দর হাসি দেখে নাবিলের মনের অনেকদিনের একটা নিষিদ্ধ ইচ্ছা জেগে উঠলো৷ সে মেহুলকে বললো-
” মেহুল তোমাকে একটা চুমু খেতে পারি?”
মেহুল নিজের হাসি থামিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। উত্তর পেয়ে আর এক মিনিটও দেরি করলো না নাবিল সে মেহুলের ঠোঁট আকরে ধরলো। অনেক দিনের জমানো সুধা যেন একসাথে পান করতে লাগলো সে। মেহুল প্রথমে চমকে গেলো, সে ভেবেছিলো হয়তো গালে বা কপালে চুমু খাবে কিন্তু এ ছেলে তো দশ কদম আগে। মেহুলও এবার নিজেকে সামলিয়ে নাবিলের সাথে তাল মেলাতে লাগলো।
অনেকক্ষণ পর মেহুলের ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে মেহুলকে কোলে তুলে নিলো নাবিল তারপর ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
এখান থেকেই হয়তো তাদের জীবনের নতুন কাহিনি শুরু হবে। কাল সকাল শুরু হবে ভালোবাসাময় সংসারের প্রথম দিন হিসেবে।
ঘরে তাদের ভালোবাসার জোয়ার বইছে ঠিক তখনই ফ্যানের বাতাসে ঘরের টেবিলের উপর থেকে একটা পৃষ্ঠা উড়ে এলো বারান্দায়। উপরে তারিখ লেখা ছিল আজকের। সেখানে আরো লেখা ছিল-
” নাবিল,
আপনি আমার জীবনে এসেছিলেন হঠাৎ আসা বৃষ্টির মতো। আপনাকে নিয়ে বলা শুরু করলে বলা শেষ হবে না তাই আজ শুধু এতোটুকু শুনুন….” আমি আপনাকে ভালোবাসি নাবিল”
আমি কখন আপনাকে এতোটা ভালোবেসে ফেলেছি সেটা আমি নিজেও জানি না । আপনিও আমাকে ভালোবাসেন শুধু আপনার থেকে এটাই শুনার অপেক্ষায় আছি। আমার অপেক্ষা দীর্ঘ হবে না তোহ্-?
…..মেহুল…….
সমাপ্ত
