#_ডাকঘর_
#_মারিয়া_রশিদ_
#_পর্ব_৫_
সময় কেটেছে। জীবন এগিয়েছে নিজের গতিতে, আর সেই গতির মাঝেই শুভ্র আর পুষ্পিতার মাঝে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে এক ধরনের অভ্যস্ততা। কথা বলার অভ্যস্ততা, দিনের শুরু আর শেষের খোঁজ নেওয়ার অভ্যস্ততা, ক্লান্তি ভাগ করে নেওয়ার অভ্যস্ততা। এই সম্পর্কের এখনও কোনো নাম নেই। কেউ কাউকে কিছু বলেনি, তবু দুই জনেই জানে, এই কথোপকথন আর পাঁচটা সাধারণ কথার মতো নয়।
দেখা হয়েছে কয়েকবার। সারা রাত ফোনে কথা হয়, মাঝেমধ্যে রাত ফুরিয়ে সকাল এসে পড়ে অজান্তেই। দিনে চ্যাটিং চলে, ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে, কাজের ব্যস্ততার মাঝেও। কখনো কখনো শুভ্র নিজে এসে পুষ্পিতাকে ভার্সিটিতে এগিয়ে দিয়ে যায়। খুব স্বাভাবিকভাবে, যেন এটা তাদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ।
আজ পুষ্পিতা শাড়ি পরেছে। কারণটা খুব সাধারণ, শুভ্র বলেছে। এই প্রথম শুভ্র তাকে কোনো আবদার করেছিলো। কথাটা বলার সময় শুভ্রর কণ্ঠে কোনো জোর ছিল না, ছিল না কোনো দাবি। তবু পুষ্পিতা না বলতে পারেনি। আশ্চর্যজনকভাবে, মন থেকেই ইচ্ছে করেছিলো তার। শাড়ি পরা শেষ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছে পুষ্পিতা। টাইম ফুল কালারের শাড়ি, হালকা সাজ, হাতে কাঁচের চুড়ি, কানে ছোট ঝুমকা। অতিরিক্ত কিছু নয়, অথচ সব মিলিয়ে নিজেকে আজ অন্যরকম লাগছে তার। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের মুখে এক ধরনের কোমলতা ফুটে উঠেছে। নিজের চোখের দিকেই কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে। লাজুক একটা হাসি ঠোঁটের কোণে এসে থামে। ভালোই লাগছে।
শুভ্র যে জায়গাটার কথা বলেছিলো, সেটা একটা পার্ক। কিন্তু শহরের পরিচিত পার্কগুলোর মতো কোলাহলপূর্ণ নয়। বেশ নিরিবিলি। গাছের ফাঁক দিয়ে আলো-ছায়ার খেলা, দূরে দু-এক জোড়া কপোত-কপোতী বসে কথা বলছে নিজেদের মতো করে। এই পার্কে সময় যেন একটু ধীরে হাঁটে। হঠাৎ পেছন থেকে কাঁধে কারো টোকা লাগতেই পুষ্পিতা চমকে ওঠে। বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে যায়। দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় সে। সামনে শুভ্র। হালকা হাসি মুখে, চোখে পরিচিত সেই শান্ত দৃষ্টি।
–” ভয় পেয়েছো?”
শুভ্রর কণ্ঠটা নরম।
–” একটু।”
শুভ্র এক মুহূর্ত পুষ্পিতার দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখ থেকে পা পর্যন্ত নয়, বরং মুখের দিকেই তার দৃষ্টি আটকে থাকে।
–” শাড়িতে খুব সুন্দর লাগছে।”
পুষ্পিতা একটু লজ্জা পায়। চোখ নামিয়ে নেয়।
–” ধন্যবাদ!”
–” চলো।”
দুই জন পাশাপাশি হাঁটতে থাকে। মাঝেমধ্যে হালকা বাতাস এসে শাড়ির আঁচলটা নড়িয়ে দেয়। হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে হাত দুটো খুব কাছাকাছি আসে, কিন্তু ছোঁয়া লাগে না।
বিকাল গড়িয়ে এলেও আকাশের রং বদলায়নি। বৃষ্টির সময় বলে চারপাশে একটা ধূসর মেঘলা ভাব। হালকা শীতল বাতাস বইছে। পাতারা নড়ছে মৃদু শব্দে। পরিবেশটা মন ভালো করে দেওয়ার মতো।পুষ্পিতা হাঁটতে হাঁটতে আড়চোখে শুভ্রর দিকে তাকায়। গাঢ় নীল রঙের পাঞ্জাবি পরে আছে সে। হলুদ ফর্সা শরীরে নীল রঙটা আশ্চর্যরকম মানিয়েছে।
হঠাৎ শুভ্র থেমে যায়। পুষ্পিতাও থামে। চারদিকে তাকিয়ে দেখে, জায়গাটা একটু আলাদা। কয়েকটা ফুলের গাছ একসাথে দাঁড়িয়ে আছে, কিছুতে ছোট ছোট রঙিন ফুল, কিছুতে কেবল কুঁড়ি। শুভ্র ধীরে ধীরে পুষ্পিতার দিকে এক পা এগিয়ে আসে। এই অপ্রত্যাশিত কাছাকাছি আসায় পুষ্পিতা সামান্য চমকে ওঠে। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে শুভ্রর দিকে। কিছু বলার আগেই শুভ্র তার দুটো হাত নিজের হাতের মধ্যে টেনে নেয়। পুষ্পিতা অবাক। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে না, আবার শক্ত করেও ধরে না। শুভ্র গভীর স্বরে বলে ওঠে,
–” পুষ্প! এরপরও হয়তো তোমাকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তবু প্রেম বিনা কথায় ব্যর্থ। তাই বলছি, আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
শব্দগুলো বাতাসে মিশে যায়, কিন্তু পুষ্পিতার বুকের ভেতর ঝড় তুলে দেয়। এক মুহূর্তে তার নিঃশ্বাস আটকে আসে। বুক কেঁপে ওঠে। চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলায় সে। কতোবার যে এই কথাটা কল্পনায় শুনেছে, আজ সত্যি সত্যি শোনা গেল। হালকা একটা হাসি ফুটে ওঠে ঠোঁটের কোণে। চোখ মেলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন যুবকের দিকে তাকায় সে। শুভ্র আবার বলে,
–” আশা করি, তুমি আমাকে ফিরিয়ে দেবে না।”
পুষ্পিতা এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে। তারপর খুব নরম গলায় বলে,
–” সেই শক্তি কোথায় আমার?”
শুভ্র হালকা হাসে। কোনো কথা না বলে হঠাৎ টান দিয়ে পুষ্পিতাকে জড়িয়ে ধরে সে। পুষ্পিতার পুরো শরীর কেঁপে ওঠে। এমন আলিঙ্গনের জন্য সে প্রস্তুত ছিল না, তবু এক মুহূর্ত দেরি না করে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে। বুকের ভেতর হৃদস্পন্দনগুলো যেন একে অন্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজতে থাকে। শুভ্রর ঠোঁটে ফুটে ওঠে একটুখানি বক্ররেখা, একটা ক্ষীণ, গভীর হাসি। যেটা পুষ্পিতার চোখে পড়ে না। সে তো তখন শুভ্রর আলিঙ্গনের ভেতরেই ব্যস্ত, নতুন এক অনুভূতিকে আপন করে নিতে।
…
সকালবেলা।
আকাশটা আজ একেবারে ধূসর। একটু আগেই বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার ওপর জমে থাকা পানি এখনও শুকায়নি। বাতাসে হালকা ঠান্ডা, ভেজা মাটির গন্ধ মিশে আছে।
ড্রাইভিং সিটে বসে আছে রোহান। দুই হাত স্টিয়ারিংয়ে। পাশের সিটে জেরিন বসে আছে। জানালার পাশে মাথা ঠেস দিয়ে ফোন স্ক্রল করছে। তার আঙুলগুলো যান্ত্রিকভাবে স্ক্রিনের ওপর নড়ছে।গাড়ি এগোচ্ছে না। ট্রাফিক জ্যামে আটকে আছে।
রোহান বারবার চোখ সরিয়ে জেরিনের দিকে তাকাচ্ছে।
ঠিক তখনই জেরিন ফোন থেকে চোখ তুলে সামনের দিকে তাকায়। আর সেই মুহূর্তেই যেন সময় থমকে যায়। গাড়ির কাচ ভেদ করে তার দৃষ্টি আটকে পড়ে ভেজা ফুটপাতে। সকালে বৃষ্টিতে চকচক করছে রাস্তা। সেই রাস্তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে শুভ্র। তার পাশে একটি মেয়ে। অচেনা। মেয়েটি শুভ্রর হাত জড়িয়ে ধরে আছে। দুই জনের মুখেই হাসি। খুব স্বাভাবিক, খুব কাছের হাসি। এমন হাসি, যা কেবল বিশ্বাস আর আপনত্ব থেকেই আসে। শুভ্রকে ভীষণ হাসিখুশি লাগছে।
জেরিনের বুকের ভেতর হঠাৎ করে যেন কেউ মুঠো করে কিছু চেপে ধরলো। নিঃশ্বাস আটকে আসে। চোখ দুটো স্থির হয়ে যায়। সে পলক ফেলতেও ভুলে যায়। রোহান জেরিনের দৃষ্টির দিক অনুসরণ করে সামনে তাকায়। সেও দেখে। শুভ্র। আর তার পাশে সেই অচেনা মেয়েটি। রোহান মেয়েটাকে চেনে না। কিন্তু শুভ্রর শরীরী ভাষা দেখেই বুঝে যায়, এটা কোনো সাধারণ সম্পর্ক নয়। এতোটা কাছাকাছি, এতোটা স্বাভাবিক হওয়া কেবল বন্ধুত্বে হয় না। দৃশ্যটা নিজের মতো করেই কথা বলে দেয়। তাহলে কি এই মেয়েটাই শুভ্রর প্রেমিকা?
রোহানের বুকের ভেতরেও হালকা একটা চাপ পড়ে। কিন্তু সে সঙ্গে সঙ্গে তাকায় জেরিনের দিকে। জেরিনের চোখ ছলছল করছে। আর ঠিক তখনই ট্রাফিক লাইন ছেড়ে দেয়। রোহান কিছু বলার জন্য ঠোঁট খুলে,
–” জেরিন!”
নামটা উচ্চারণ করার আগেই জেরিন তার দিকে এক পলক তাকায়। চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। জেরিন তাড়াতাড়ি মুখ ঘুরিয়ে জানালার বাইরে তাকায়, যেন কেউ তার ভেঙে পড়া দেখতে না পায়।
হালকা কাঁপা গলায় সে বলে,
–” গাড়ি স্টার্ট দে।”
রোহান আর কিছু বলে না। নীরবে গাড়ি স্টার্ট দেয়।গাড়ি চলতে শুরু করে। রোহানের বুকের ভেতরেও আগুন জ্বলছে। জেরিনের চোখের পানি তাকে ভেঙে দিচ্ছে। সে জানে, ভালোবাসা মানে কখনো কখনো ছাড়তে শেখা। সে চায় জেরিন সুখী হোক। সত্যিই চায়। তাই তো শুভ্রর দিকে জেরিনকে এগিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু, এইটা কি হলো? এই চোখের পানি, এই ভাঙা চুপচাপ মুখ, সে দেখতে চায় না।
…
রাত ৯টা!!
আলিশান ড্রইংরুমের মাঝখানে রাখা প্রশস্ত সোফায় চোখ বন্ধ করে বসে আছে শুভ্র। পিঠ হেলান দিয়ে বসে থাকলেও শরীরের ভঙ্গিতে কোনো আরাম নেই।ড্রইংরুমের ভেতরে পা রাখতেই মিলি ইয়াসমিন থেমে যায়। ছেলেকে এইভাবে চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে দেখে বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে ওঠে। নিঃশব্দে এগিয়ে গিয়ে শুভ্রর মাথার ওপর হাত রাখে। পরিচিত সেই স্পর্শ পেতেই শুভ্র চোখ খুলে তাকায়। মাকে দেখে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে ওঠে। হাত বাড়িয়ে মায়ের হাতটা ধরে টেনে পাশে বসিয়ে দেয়। মিলি ইয়াসমিন নরম গলায় বলে ওঠে,
–” এভাবে বসে আছিস কেন?”
–” এমনি, মা!”
মিলি ইয়াসমিন চারপাশে একবার তাকায়। এতো বড় ঘর, এতো দামি আসবাব, তবুও যেন কোথাও একটা শূন্যতা ঝুলে আছে।
–” ঘরটা অনেক অনেক ফাঁকা ফাঁকা লাগে তাই না?”
শুভ্রর ঠোঁটে আবার সেই হালকা হাসি।
–” বিয়ে করতে বলছো?”
মিলি ইয়াসমিন একটু থেমে যায়। তারপর শান্ত স্বরে বলে,
–” বয়স, সময়, দুটোই তো হয়ে গেছে।”
শুভ্র হঠাৎ মায়ের দিকে তাকায়। চোখে এক ধরনের গভীরতা।
–” মা! তুমি বাবাকে মনে করে এখনও কান্না করো, তাই না?”
প্রশ্নটা খুব সরাসরি। মিলি ইয়াসমিন অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে জানালার দিকে তাকায়।
–” বাদ দে।”
শুভ্র মায়ের কণ্ঠের ভাঙনটা বুঝতে পারে। গলা নামিয়ে বলে,
–” অতীতটা অনেক কষ্টদায়ক, জানি। কিন্তু সব কিছু বাদ দেওয়া যায় না, মা!”
মিলি ইয়াসমিন ধীরে ধীরে মাথা নাড়ায়।
–” মনে করলে কষ্ট হয়। সেই জন্যই মনে করি না।”
শুভ্র একটু এগিয়ে আসে। মায়ের হাতটা শক্ত করে ধরে।
–” সময় এসেছে, মা! সব কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার।”
কথাটা শুনে মিলি ইয়াসমিন ভ্রু কুচকে তাকায় ছেলের দিকে। মিলি ইয়াসমিন কিছুক্ষণ চুপ করে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ছেলের কথাটা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না তিনি। তবু বুকের ভেতরে হালকা একটা শঙ্কা জেগে ওঠে। নরম কিন্তু প্রশ্নভরা গলায় তিনি বলেন,
–” কি ফিরিয়ে দিবি? কাকে?”
শুভ্র মায়ের দিকে তাকায়। চোখ সরিয়ে নেয় না।
–” যার জন্য এতো অপেক্ষা, মা! তাকে সব ফিরিয়ে দিবো।”
মিলি ইয়াসমিন ভ্রু কুঁচকে তাকান।
–” তোর কথা বুঝতে পারছি না আমি।”
শুভ্র হালকা করে শ্বাস নেয়।
–” পরে বুঝে যাবে।”
মিলি ইয়াসমিন কিছু সময় চুপ করে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এই মুখটা তিনি কতবার দেখেছেন, আয়নার সামনে, পুরনো ছবিতে, স্মৃতির ভাঁজে ভাঁজে। শুভ্র যেন একেবারে তার বাবার প্রতিচ্ছবি। হলুদ ফর্সা গায়ের রং, চোখের গড়ন, কপালের রেখা, সব কিছুতেই মিল। একসময় যাকে ভালোবেসে তার ঘরে এনেছিলেন, আজ তারই ছায়া বসে আছে সামনে।ধীরে ধীরে মিলি ইয়াসমিন বলেন,
–” শুভ্র!”
–” হুম, বলো।”
–” তুই একদম তোর বাবার মতো দেখতে।”
শুভ্রর ঠোঁটে হালকা একটা হাসি ফুটে ওঠে। সে ধীরে বলে,
–” আজকের মতো অবস্থান যদি তখন আমার হতো, মা! তাহলে আমার বাবাকে চিকিৎসার অভাবে মা’রা যেতে হতো না।”
কথাটা বলার সময় শুভ্রর গলা সামান্য ভারী হয়ে আসে। মিলি ইয়াসমিনের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। চোখে পানি এসে যায়, কিন্তু তিনি নিজেকে সামলে নেন। ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেন,
–” কষ্ট পাস না, বাবা। আল্লাহ যা করেন, মঙ্গলের জন্যই করেন।”
শুভ্র মাথা নেড়ে বলে,
–” হুম! আগামীকাল বাবার কবর জিয়ারত করতে যাবো।”
মিলি ইয়াসমিন সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন,
–” আমাকে নিয়ে যাস।”
–” আচ্ছা।”
কথোপকথনটা এখানেই থামে। মিলি ইয়াসমিন উঠে দাঁড়ান। বাস্তবতার ছোট ছোট কাজেই তিনি নিজেকে শক্ত রাখতে চান।
–” এখন চল, খেয়ে নিবি।”
শুভ্রও উঠে দাঁড়ায়।
–” চলো।”
দুই জন পাশাপাশি হেঁটে ডাইনিংয়ের দিকে এগিয়ে যায়। শুভ্র টেবিলে বসতেই মিলি ইয়াসমিন খাবার বেড়ে দেন ছেলেকে। এইতো তার সম্বল। তার বেঁচে থাকার এক মাত্র খুঁটি। তার সন্তান। শুভ্র!
#_চলবে_ইনশাআল্লাহ_🌹
