Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_৮

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_৮
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

ইরফানের চাওয়াটা কি আদৌ সঠিক নাকি পুরোটাই আবেগ বুঝতে পারছে না বেলী । তাহলে কি এইজন্যই মিনুকে অন্য রুমে শুতে বলেছিল ইরফান । বেলীর হাত পা গুলো ঠান্ডা হয়ে আসছে । ইরফান বেলীর সামনে দিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দেয় । যা দেখে বেলী আরও চমকে যায় । ঘরে লাইটটাও বন্ধ । বেলী লাইট জ্বালাতে গেলে ইরফান বেলীর হাত ধরে নেয় । ইরফান বেলীর হাত ধরেই বুঝতে পারে যে বেলীর হাত পা সব ঠান্ডা হয়ে গেছে । সে বুঝে যায় বেলী ভয় পাচ্ছে । তবে মুখে কিছুই বলছে না ।

– লাইট বন্ধ থাকুক ,
– অন্ধকার তো ?
– ড্রীম লাইট তো জ্বলতেছে ।
-…………..
– ভয় পাচ্ছিস ?
– নাহ কেন ভয় পাবো ।
– বস এইখানে ,

ইরফান বেলীর হাতটা ধরে নিয়ে বেলীকে বিছানায় বসায় । বেলী তখন একদম চুপচাপ হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকে ।

– ” গরীবের রক্ত তো তাই শরীরে থাকতে চায় না ” কথাটার মানে কি ছিল রে ?
-…………….
– কিরে বল ,
-…………….
– হাতটা কিভাবে কাটলি ?
-…………….
– বলবি না ?
– কি ,
– হাতটা কিভাবে কাটলি ?
– অসাবধানতাবশত ছুরিটা লেগে গেছিলো ।
– ওহ ,

কিছুক্ষণ ওইভাবেই বসে থাকে বেলী আর ইরফান । ইরফান কি বলবে , কোথা থেকে শুরু করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না সে । সামনে দীর্ঘ পথ কিন্তু পারি দেয়ার মত কেউ নেই তার । তদ্রুপ বেলীও একদম চুপ করে বসে আছে । কিছু বলার নেই তার । সব কথা কেন যেন বুক অবদি এসে আটকে আছে তার । গলা অবদি উঠছেই না কিছু । এইবার ইরফানই বলতে শুরু করে ,

– তোকে যদি বলি , আমার তোকে চাই তখন কি করবি তুই ?
-…………..
– কিরে আজকে কি নিরব থাকার ডিসিশন নিয়েছিস নাকি ?
– শুনতেছি ,,,,,,
– শুনলে উত্তর দিতে হয় , তা তো জানিস ।
– উত্তর নেই ।
– কেন ?
– বেলীফুল সেইদিনই ঝরে গেছে যেইদিন সে তার বাবাকে হারাইছে । দ্বিতীয়বার বেলীফুল সেইদিনই ঝরে গেছে যেইদিন সে তার স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসার বদলে জুতার বারি খেয়েছে । তৃতীয়বার বেলীফুল সেইদিনই ঝরে গেছে যেইদিন তার স্বামী তার দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছিল । বেলীফুল বার বার ঝরে যাচ্ছে , কোনদিন জানি সারাজীবনের জন্য ঝরে পড়ে যায় , কে বলতে পারে তাই না ?

বেলী শান্ত গলায় কথা গুলো বলে গেছে আর ইরফান শান্ত মস্তিষ্কে বেলীর কথা গুলো শ্রবণ করছে । আজ সে শুনবে , হ্যাঁ সে শুনবে আজ বেলীর সব কথা । বেলীকে আজ নিজের সব মনের কথা ব্যাক্ত করতে হবে তার কাছে । ইরফান চায় বেলী আজ বলুক । তাই আবারও বেলীকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে ,

– তারপর ?
– তার আর পর নেই ,
– তুই ভালো নেই , তাই না ?
– বালাই ষাট , কে বললো ভালো নেই আমি । আমি খুব ভালো আছি , নিয়ম করে স্বামীর মা’র , সতীনের হাতে চড় থাপ্পড় , আজেবাজে কথা গিলে আমি আলহামদুলিল্লাহ বেশ আছি ।
– তারপর ?
– আর কিছু না ৷ রাত অনেক হয়েছে , রুমে যান আর ঘুমিয়ে পড়েন ।

ইরফান বেশ বুঝতে পেরেছে বেলী তার থেকে দূরে থাকতে চাইছে । কিন্তু ইরফান কেন জানি বেলীর প্রতি খুব আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে । তার আজ বেলীকে চাই , এইবার তা যে করেই হোক আর যেভাবেই হোক । বেলীর বাম হাতটা নিজের হাতের ভাজে নিয়ে নেয় ইরফান ।

– আজ যদি তোর সাথে ঘুমাতে চাই , তখন ?
– এখানে ঘুমাইতে পারবেন না , তোশকটা শক্ত , আর আপনি তো ফোমের বিছানাতে ঘুমাইতে অভ্যস্ত ।
– ওইটা ফোমের বিছানা না , ওটা মেট্রিক্স যা জাজিমের মত হয় ।
– ওহ , তাইলে আর কি , যান ঘুমান গিয়ে ।

এই বলে বেলী উঠে যেতে নিলে ইরফান শক্ত করেই বেলীর হাত ধরে নেয় ।

– উঠে যাস কেন , এখনে বসতে বলছি না ?
– রাত অনেক হলো , আপনার কাল অফিস আছে ।
– আমার অফিসের কাজ কি তুই করতে যাবি ?
– নাহ ,
– তাহলে , এত পেরেশানি কেন তোর ? নাকি থাকতে চাস না আমার কাছে , কোনটা ?
– কি জানি ,
– মনকে জিজ্ঞাসা কর ?
– মনের ঘরে তালা দেয়া , আজকাল খবর রাখি না ।

ইরফান আর কথা বাড়ায় নি । বসা অবস্থাতেই বেলীকে কোলে তুলে নেয় ইরফান । বেলী কয়েকবার বারণ করে তবুও শুনেনি ইরফান । বেলীকে কোলে তুলে নিজেই অনেক অবাক , বেলীর ওজন এত কম হবে ভাবেই নি ইরফান । বিছানায় এনে শুইয়ে দেয় বেলীকে সে ।
তারপর গায়ের থেকে ওড়নাটা সরিয়ে বেলীর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে ইরফান । বেলীর চোখের মধ্যে পানি গুলো চিক চিক করছে । গভীর নিরবতায় চেয়ে আছে শান্ত চোখ জোড়া তার দিকে । এ যেন এক কালচে পরী । এরই মাঝে বেলী একটা ঢোক গিলে । ইরফান বেলীর দিকে একটু ঝুকে যায় , তারপর নিজেই বেলীর কানের কাছে এসে বেলীর গালে হাত রেখে বলে ,

– আমি শুধু তোর সাথে মিশতে চাই । তোর মাঝে বিচরণ করতে চাই । স্বাদ নিতে চাই তোর ঘ্রাণের । আর কিছু না বিশ্বাস কর , আর কিছু না ।

বলতে বলতে ইরফান বেলীর গাল থেকে ঘাড়ে হাত দেয় । আচমকা ঘাড়ে হাত দেয়ায় বেলী নড়ে উঠে আর হাল্কা চিৎকার দিয়ে ফেলে । যা ইরফানও আশা করেনি । বেশ অবাক হয়ে যায় ইরফান ।

– হায় হায় গো যা ভাবছিলাম আমি , আমার ফুলের মত ভাবীডারে ফিডাইতাছে অসিভ্য বেডাডায় । এল্লিগাই তো আমারে অন্য রুমে হোয়াইছে । আল্লায় সারাইছে উইড্ডা গেছি আমি । আমি ঘুমাইয়া গেছি আর হেইতে এই সুযোগে ভাবীরে ফিডাইতাছে । একবার দরজা খুলুক খালি , আইজ্জা আর ছাড়ুম না । এক্কেরে থানার বেডাগোরে খবর দিমু ।

চাপা গলায় নিজে নিজে বক বক করছে মিনু । মিনু তখন বেলীর দরজায় কান পেতে শুনছিল তাদের রুমে কি হচ্ছে । মিনুর ঘুমটা হঠাৎ করেই ভেঙে যায় , ঘুম ভেঙে গেলে বেলীকে দেখতেই সে বেলীর রুমে আসে , এসে দেখে দরজা আটকানো । বুদ্ধি করে ইরফানের রুমে উঁকি দেয় মিনু , দেখে ইরফান সেখানে নেই তাই সে এসে কান পেতে থাকে বেলীর দরজায় । এসে শুনে বেলী চাপাস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠে । তাই মিনুও ভাবতে শুরু করে নেয় ইরফান মনে হয় বেলীকে মানে তার ভাবীকে মারছে । আর এইদিকে ইরফান উঠে লাইট জ্বালায় দেখার জন্যে বেলী হঠাৎ চিৎকার দিল কেন । ইরফান তো কিছুই করে নি । শুধু আবাগের বশে হাতটা গাল থেকে গলায় চলে গেছে আর তাতে চিৎকার দেয়ার মত মেয়ে বেলী নয় । নিশ্চয়ই কিছু তো হয়েছে যার জন্যে বেলী এমন করেছে । আর ইরফান সেই কিছুটাই দেখবে আজ ।

ইরফান লাইট জ্বালিয়ে বেলীর কাছে এসে বসে । আর এই ফাঁকে ওড়নাটা দিয়ে আবার নিজেকে আবৃত করে নেয় । আর ওদিকে দরজার নিচ দিয়ে লাইটের আলো দেখে মিনুও ফ্লোরে শুয়ে পড়ে । দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে ভেতরে ইরফান কি করছে বেলীর সাথে । দরজার নিচে অল্প একটু ফাঁক সেই ফাঁকের মধ্যে মিনু পারে না তার পুরো মাথাটাই ঢুকিয়ে দেয় ।

– ধুর , ছাতার মাতা এইডার ভিত্রে দিয়া কিছুই দেহা যায় না । কিছু দেহা যায় না কিল্লাই , ভাবীরে কিয়াত্তাছে আল্লায় জানে । ভাল্লাগে না আর , মনডায় চায় দরজার ভিত্রে বারি মারি কিন্তু আমারেই ফরে যদি মাইরা লায় । হায় হায় গো মইরা যাইতাম চাই না এত্ত তাত্তারি ।

মিনু এইসব আবলতাবল বলছে আর দেখার চেষ্টা করছে ।
ইরফান দেখার চেষ্টা করছে বেলীর গলায় কি হয়েছে । অন্যদিকে বেলী একেবারে উঠে বসেই গেছে । ইরফান জোড়াজুড়ি করছিল তাকে অনেক ।

– কি হয়েছে , দেখি আমি ।
– কিছু হয় নাই ,
– তাহলে চিৎকার করলি কেন ?
– এমনিতেই ,
– কিছু হয় নাই , এমনিতেই , তাহলে ওড়না পরেছিস কেন ?
– শীত লাগে ,
– এইবার ঠাটিয়ে চড় মারবো একটা ।
– সহ্য করার মত ক্ষমতা আর শক্তি দুটোই আছে ।

ইরফান আর সহ্য করতে পারে নি । টান দিয়ে ওড়নাটা সরিয়ে নেয় বেলীর গা থেকে । তারপর ঘাড়ে নজর দেয় সে । দিনের বেলায় সে যতক্ষনই বাসায় থাকে বেলী তার সামনে মাথার কাপড় দিয়ে সব ঢেকে রাখে আর রাতে তারা আলাদা ঘুমায় । তাই ক্ষতস্থান গুলো ইরফানের নজর থেকে সহজেই আড়াল হয়ে যায় । সেইদিনের মা’রের দাগ বেলীর গলায় । কালো হয়ে আছ আর বেশ খানিকটা ফুলে আছে স্থানটা । ইরফান বুঝে যায় এই জায়গাটায় এইজন্যই ব্যাথা । হয়তো ভুলবশত তার হাতটা সেখানেই লেগেছে ।

– এটা এমন হয়ে আছে যে ?
– থাক ,
– মলম লাগাস নাই ?
– মিনু লাগিয়ে দিত ,
– কি মলম লাগাইছিস , যে এমন হয়ে আছে ।
– আপনি ঘুমাতে যান ।
– বার বার এক কথা বলতেছে , এইখানে চুপ করে বসে থাক আমি আসতেছি ।

মিনু ইরফানের পায়ের আওয়াজ পেয়ে আর দরজার ফাঁক দিয়ে ইরফানের পা দেখতে পেয়ে হুরমুর করে উঠে তাড়াতাড়ি সরে যায় । ইরফান দরজা খুলে নিজের রুমে যায় , সেখান থেকে একটা স্প্রে আর একটা মলম নিয়ে আবার বেলীর রুমে ফিরে আসে । এসেই দরজা লাগিয়ে দেয় সে । বিছানায় এসে একদম বেলীর কাছে বসে যায় ইরফান । তারপর বেলীর ক্ষতস্থানে হাল্কা স্প্রে করে দেয় । স্প্রের পানি গুলো পড়াতে জ্বলে ওঠে আর বেলী সহ্য করতে না পেরে সেলোয়ারে খামচি মেরে ধরে রাখে ।

– বেশি জ্বলবে না , একটু সহ্য কর
– আমার সহ্য শক্তি আলহামদুলিল্লাহ , সমস্যা নাই ।
– দেখি শুয়ে পড় ।

ইরফান বেলীকে কাত করে শুইয়ে দেয় । তারপর পেছন থেকে বেলীর জামার চেইনে হাত দিতেই বেলী আবার উঠে বসে যায় ।

– কি হলো ?
– আপনি এমন কর‍তেছেন কেন ?
– কি করলাম আবার আমি ?
– চেইন খুলেন যে ?
– যার ঘাড়ে এমন আঘাত তাকে তো এলোপাথাড়ি লাথি ঘুষি চড় থাপ্পড় কম মারি নি , সেই চিহ্ন গুলো আজকে দেখতে মন চাইছে অনেক ।

ইরফানের কথায় স্তব্ধ হয়ে যায় বেলী । চুপ করে মাথা নিচু করে রাখে সে । ইরফান আবার শুইয়ে দেয় বেলীকে । বেলী ওপাশে মুখ করে চোখ মুখ খিটে শুয়ে আছে । আর ইরফান বেলীর জামার চেইনটা খুলে দেয় । চেইনটা দুপাশে সরিয়ে দেয় ইরফান । বেলী তখন না পারছে উঠে যেতে না পারছে শুয়ে থাকতে । কিন্তু এইভাবে সেও সহ্য করতে পারছে না । চেইনটা খুলার পর ইরফানের চোখের সামনে তখন বেলীর উন্মুক্ত পিঠ ছিল । যা দেখে সহজেই কোন ছেলের কাম-সাধণা জেগে উঠবে । কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ বিপরীতটা ঘটলো । বেলীর পিঠে অনেকগুলো ছোপ ছোপ দাগ । ইরফানের এক সেকেন্ডও সময় লাগে নি বুঝতে যে এইগুলো সব তার মা’রের চিহ্ন । যা সহজেই যে কারো চোখে পানি এনে দেয়ার মত । ইরফান বেলীর ব্রা এর হুক খুলে দেয় । বেলী তখন আরও খিটে যায় । বিয়ের ১০ মাস পরে এই প্রথমবার সে আর তার বর এতটা কাছাকাছি এসেছে । এর আগে ইরফান এমন করে কাছে আসে নি কখনো । বেলী ভেবেছিল হয়তো রুবি নেই সেইজন্যেই ইরফান তার কাছে এসেছে । কিন্তু এটা বুঝে নি যে শারিরীক চাহিদা তো যে কোন মুহুর্তেই মেটাতে পারে কিন্তু শারীরিক চাহিদার থেকে প্রয়োজন মনের চাহিদা । যা একজন মানুষকে অন্য একজন মানুষের প্রতি আকর্ষিত করে । ইরফান মলম দিয়ে ভালো করে বেলীর পিঠ টা ডোলে দেয় । পুরো রুম জুড়ে শুধু নিরবতা । ঘড়িতে তখন ২ টা বেজে ১০ মিনিট । ইরফান হুক লাগিয়ে দিয়ে জামার চেইন টেনে দেয় । তারপর উঠে লাইট অফ করে দিয়ে এসে আবার বেলীর পাশে শুয়ে পড়ে । বেলী তখনও ওপাশে মুখ করে আছে । ইরফান বেলীর একদম কাছে চলে আসে ।

– বেলী ,,,,,,,?
-…….
– কিরে ঘুমিয়ে গেছিস নাকি ?
– উহু ,
– এইদিকে ফের ,
– আমার ঘুম আসে ।

বেলীর কন্ঠস্বর তখন অন্যরকম শুনা যাচ্ছিল । বেলী তখন হয়তো কাঁদছিল । তাই গলা বসে গেছে ।

– বেলী এইদিকে ফের ,
– আমার ঘুম আসে তো ?
– এইদিকে ফিরতে বলছি আমি ,,,

ইরফানের কথায় এইবার এই দিকে ফেরে বেলী । অন্ধকারের মধ্যেও বেলীর মুখটা দেখতে পাচ্ছে ইরফান ।

– কাঁদছিস যে ?
– কই ?
– তোকে হয়তো বেশিই কষ্ট দিয়ে ফেলছি , তাই না ?
-…………
– এতটা পাথর কিভাবে হলাম , কবে হলাম টেরও পেলাম না জানিস ।
-…………
– আমাকে অনেক ঘেন্না করিস তাই না রে ?
– ঘেন্না করলে এইদিকে থাকতাম না ।
– আমি অনেকটা অমানুষ রে , আমার কাছে থাকলে তো মরে যাবি তুই ।
– কপালে এইভাবে মরণ থাকলে মরবো , এতে কি করা যাবে ।
– একটা সত্যি কথা বলবি আজকে বেলী ?
– বলেন ,
– আমাকে ভালোবাসিস ?
– জানা নাই ,
– কেন ?
– বেলীফুল আজ মৃত
ঝরে গেছে গাছ থেকে
তাকে খোঁজ করা আর
মরিচিকার পেছনে ছুটা
দুটোই সমান কথা

ইরফান অবাক হয়ে যায় বেলীর কথায় । বেলী এইভাবে সাজাতে পারে তা জানতো না ইরফান ।

– ভালো বললি তো ।
– ইন্টার পাশ টা করতে পারি নাই , পেটে একটু হলেও বিদ্যা আছে ।

বেলীর দিকে তাকিয়ে আছে ইরফান । মেয়েটা কতটা সরল সোজা । কতটা শান্ত , যার মুখের দিকে তাকালে সারা রাজ্যের শান্তি চলে আসে । ইরফানের আজ ইচ্ছে হচ্ছে বেলীতে মিশে যেতে । এক হাত দিয়ে বেলীর মাজায় টান দেয় ইরফান । এতে বেলী অনেকটাই ইরফানের কাছে চলে আসে । বেলী গাঢ় নজরে ইরফানের দিকে তাকিয়ে আছে ।
মনে পড়ে যায় , তার নিজের চোখে দেখা প্রতি সকালে রুবির ভেজা চুলগুলো । তার মনে পড়ে যায় গত তিন আগে বেধড়ক মারধরের কথা । তার মনে পড়ে যায় আজ ১০ টা মাস এক অসহ্য নীয় যন্ত্রণার কথা । চাইলেই কি স্বামীকে সবটা দেয়া যায় ? চাইলেই কি সেই স্বামীকে নিজের শরীরটা দেয়া যায় সে স্বামী তারই সামনে অন্য রুমে সতীন নিয়ে সংসার করে ? এইসব ভেবে হঠাৎই নিজেকে ইরফানের থেকে সরিয়ে নেয় বেলী ।

– আমি অসুস্থ , আপনি ঘুমিয়ে পড়েন ।

এই বলে বেলী ওপাশে মুখ ফিরিয়ে নেয় । ইরফানেরও মেজাজ খারাপ হয়ে যায় ।

– সরে গেলি ? আমার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলি ?
– কাল যখন রুবি আপু আসবে আপনি আবার আমায় ভুলে যাবেন । রুবি আপুর কথায় আমায় এসে মারবেন । কুকুরের মত আচরণ করবেন আমার সাথে । বিশ্বাস করেন এতে আমার কষ্ট হয় না , একটুও কষ্ট হয় না । শুধু কষ্ট হয় আপনার এই পাল্টে যাওয়া দেখলে । রুবি আপু অনেক ভালো মানুষ তাকেই ভালোবাসুন । আমি তো আপনার ঘরের বান্দি মাত্র । আমার জন্যে না হয় লাথি ঘুষি টাই ঠিক আছে । আদর সোহাগ আমার কপালে জুটে না ।

বেলী ফোপাতে ফোপাতে বহুত কষ্টে এইসব কথা বললো । এইবার ইরফানের মেজাজ আরও খারাপ হয়ে গেছে । সে বেলীর একদম কাছে চলে আসে । সে নিজের করে পেতে চায় বেলীকে আজ । কিন্তু সে এটা মানতে পারছে না যে বেলীর মনের অবস্থা এই মুহুর্তে কি । দিক বিক না পেয়ে বেলী তার পুরো শরীরকে আলগা করে দেয় । তাকিয়ে আছে সে ইরফানের দিকে । ইরফানের চোখে আজ ঘোর লেগেছে । বেলীকে কাছে পাওয়ার ঘোর ।
তখন বেলী শুধু একটা কথা বলার জন্যে মুখ খুলে ,

– আমি অসুস্থ , তবুও এমন করতেছেন । ঠিকাছে যেমন ভালো মনে করেন তেমনই করেন । আমি বাঁধা দিবো না । আপনি আমার স্বামী আমার শরীরে উপর আপনার অধিকার আছে । আমি বাঁধা দিবো না ।
– আমি তোকে জোর করে পেতে চাই না বেলী । তোর সম্মতিতে চাই ,
– মন থেকে সম্মতি আসতেছে না , তবে বাঁধা দিবো না । যা মন চায় করতে পারেন আপনি ।

ইরফান আর সহ্য করতে পারে নি । দ্রুত উঠে বসে পড়ে সে । খাটের কার্নিশের সাথে একটা ঘুষি মারে ইরফান । তারপর সোজা রুম থেকে বেরিয়ে যায় সে । আর বেলী সেখানেই পড়ে বালিশ চাপা দিয়ে কাঁদতে থাকে । তবে আজ বেলীর উপায় ছিল না , সত্যিই উপায় ছিল না । যদি উপায় থাকতো ফেরাতো না সে ইরফানকে । তবে বেলী জানে ইরফান আবার বদলে যাবে । রুবি আসলেই সে আবারও বদলে যাবে । তখন হয়তো বেলীর ছায়াও তার পছন্দ হবে না । তখন যাতে নিজেকে সামলাতে কষ্ট না হয় তারই চেষ্টা করলো বেলী । কিন্তু এইসব কিছু ভাবতে গিয়ে সে ইরফানকে কষ্ট দিয়ে ফেলছে এটাই সব থেকে কষ্টের তার কাছে ।

[ বিঃদ্রঃ বর্তমান সমাজে পুরুষরা যারা একাধিক বিয়ে করেন তাদের দুটো সংসার সামলাতে হয় । এই বউয়ের মন রাখতে অন্য বউকে অবহেলা করা তাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে । সেখানে কিছু নারী আছে রুবির মত যারা নিজের টাই বুঝবে আর কিছু নারী আছে যারা বেলীর মত । নিজে কষ্টে থেকেও চায় স্বামী তার ভালো থাকুক । অনেকেই বলে এখনকার যুগে এমন নারী আছে নাকি । আমি বলবো আছে । হাজারে একজন আছে যে পুরোপুরি বেলী হতে পারে আর সেই পুরুষটিই ভাগ্যবান যার কপালে একজন বেলী জুটে । আর সেই একজন বেলীই অভাগী যার কপালে শেষ ভাগ টা অন্ধকার কবর দখল করে নেয় ]

.
.

চলবে………….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ