Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_৭

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_৭
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

সকাল বেলা উঠে বেলী সব নাস্তা বানিয়ে টেবিলে সাজিয়ে রেখে দিয়েছে । আজ ইরফানের জন্যে একটি বিশেষ দিন । প্রেজেন্টেশন টা সবার পছন্দ হলেই এই প্রজেক্ট অনুযায়ী তাদের কাজ হবে । এর সাথে ইরফানেরও প্রমোশনটা হয়ে যাবে । সব কিছু মাথায় রেখেই আজ বেলীর আয়োজন । ইরফান লাচ্ছা সেমাইটা খুব পছন্দ করে তাও ডুবো দুধে । আর বেলী সেমাইটা দারুণ বানায় । তাই আজ সেমাইও বানিয়েছে । আজ মনে হচ্ছে ইরফানের থেকে বেলীর উদ্বিগ্নতা বেশি ।
রুমে ইরফান রেডি হচ্ছে । ফরমাল পরে পাক্কা সাহেব সাহেব লাগছে তাকে । সাদা শার্ট সাথে নেভিব্লু ব্লেজার । সব মিলিয়ে অসাধারণ লাগছিল ইরফানকে ।
সব গুছিয়ে নিয়ে নিজেকে পরিপাটি করে রুম থেকে বের হয় ইরফান । নাস্তা করতে টেবিলে এসে দেখে এলাহী কারবার । ইরফান যা যা ভালোবাসে সব বানিয়েছে বেলী । ইরফান এইসব দেখছে আর ভাবছে ,

– এক রুবি , যে কিনা একটা থাপ্পড় দেয়াতে বাপের বাড়ি গিয়ে বসে আছে । খোঁজ খবর তো নেয়-ই না , আসারও নাম নেই । আর এক এই মেয়েটা , শত অবহেলা , শত মা’র খেয়েও আমার কথা ভেবে যায় নির্দ্বিধায় । আমার কি প্রয়োজন , কিসে আমি ভালো থাকি সবটাই তার জানা । আর এই মেয়েটাকে গ্রাম্য , অশিক্ষিত , গরীব মানুষ ভেবে কত অপমান , কত মারধর করেছি আমি । কতটা নির্বোধ হলে এইসব করতে পারলাম । এমনকি জিদ করে আরেকটা বিয়েও করে ফেললাম । ওর বয়সটাই বা কতটুকু ছিল , যার এখন প্রতিটা মুহুর্ত হাসার কথা তার মুখ থেকে হাসি নামক জিনিসটা কেড়ে নিয়ে নিলাম আমি । আর সে নিরবে চুপ করে থাকে । সত্যিই হাজারো মেয়ে রুবি হতে পারে , কিন্তু একজন মেয়ে বেলী হতে হাজারবার জন্ম নিতে হয় হয়তো হবে ।

ইরফান এর ভাবনায় ছেদ পরে মিনু ডাকে ,

– ও ভাই , ভাই ???
-……..
– ভাই , ও ভাই,,,,,,,,???
– হু,,,,,,, হু
– দাড়াইয়া আছেন যে ভাই , বসেন । নাস্তা কইরা লন ।
– এত নাস্তা বেলী বানিয়েছে ?
– হ ভাই ,
– এত কিছু কিভাবে খাবো ?
– সব কিছুর থিকা একটু একটু কইরা খাইয়া নেন , আর সেমাইডাও খাইয়েন ডুবা দুধে বানাইছে ভাবী । সেই সকাল থিকা সব বানাইছে ভাবী ।
– বেলী কোথায় ?
– ভাবী আইতাছে , আপনে খাইয়া নেন ।

ইরফান ভেবেছিল বেলী অন্তত এখন তার সামনে থাকবে । কিন্তু বেলী রুমে বসে আছে । বিষয়টা ইরফানের কাছে খটকা লাগছিল , কিন্তু হাতে সময়ও নেই তার । তাই নাস্তা খেতে বসে যায় সে । প্রত্যেকটা আইটেম থেকে কিছু কিছু খেয়ে নেয় সে । তবুও তৃপ্তি পাচ্ছে না সে , হয়তো তৃপ্তিটা বেলীর আগমনেই ঘুচে যেতো । আজ বেলীকে একটু ট্রাই করবে সে । সেমাইটা খেয়ে পানি খেয়ে ঘড়িতে টাইম দেখে নেয় ইরফান । গাড়ি আসতে এখনও ১০ মিনিট বাকি । ইরফান উঠে বেলীর রুমে যায় ।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখে বেলী বিছানায় ওপাশ ফিরে বসে কি যেনো করতেছে ।

– বেলী,,,,,,,,,,,?

ইরফানের মুখ থেকে নিজের নামটা শুনে চমকে যায় সে । কেঁপে ওঠে সে , বেলী এমনিতেও একটু ভীতু , আচমকা কেউ এসে ভাউ করলেও সে লাফিয়ে উঠে । গরীব ঘরের আদরের রাজকুমারী ছিল সে আর আজ সে স্বামীর ঘরের কাজের মেয়ে হয়ে গেছে । তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে পিছনে ফিরে দাঁড়ায় বেলী ।
ইরফান বেলীর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । ওড়না দিয়ে সুন্দর করে দুই পেচ দিয়ে ঘোমটা দেয়া তার মাথায় । এইভাবে বেলীকে খুব সুন্দর লাগে । আবার ওড়না ছাড়াও ভালো লাগে দেখতে । হাত দুটো দিয়ে জামাটা মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে সে । ইরফান ধীর পায়ে বেলীর সামনে এসে দাঁড়ায় ।

– কিছু বলবেন ?
– হু , নাস্তার টেবিলে গেলি না যে ?
– মিনু তো ছিল , আসলে আমি একটু কাজ করতেছিলাম ।
– টাই টা ঠিক করে বেঁধে দে ।

ইরফানের এমন কথায় হতভম্ভ হয়ে যায় বেলী । হঠাৎ টাই বাঁধার কথা বললো তাও আবার আজকেই । কিন্তু আজকেই তো,,,,,,,

– কিরে বেঁধে দে ,
– বাঁধা আছে তো ,
– ঠিক করে দে টাই টা ।

বেলীর প্রচন্ড ভয় লাগছিল । এখন হাত উপরে উঠাবে কিভাবে সে । উঠালেই তো ইরফান দেখে ফেলবে । আর দেখার পর যদি প্রশ্ন করে তখন কি হবে ? এরই মাঝে আবারও ইরফানের তাড়া ,

– কিরে , একটু পরে গাড়ি চলে আসবে , বেঁধে দে ঠিক করে ।
– ঠিকই তো আছে ,
– টাইতে হাত দিয়ে ঠিক করে দে বেলী ।

অগত্যা হাত টা কাঁপতে কাঁপতে ইরফানের বুকের কাছে আনে বেলী । আর তখনই ইরফানের চোখে অন্য কিছু পড়ে । বেলীর ডান হাতের অনামিকা আঙুলে পুরো ব্যান্ডেজ করা । হাতের দিকে তাকিয়ে আবার সে বেলীর মুখের দিকে তাকায় । ইরফান । সে জানতো বেলীর কিছু একটা হয়েছে যার কারণে বেলী নাস্তার টেবিলের কাছে ছিল না । বেলীর মুখটা একদম শুকনো হয়ে আছে । ইরফান অনেকটা শান্ত গলাতেই বেলীকে প্রশ্ন করে ,

– কিভাবে কাটলি ?
-…………
– কিরে , বল কিভাবে কাটলি ?
– গরীবের রক্ত তো তাই শরীরে থাকতে চায় না ।
– এইটা উত্তর ?
– টাই ঠিক আছে এখন ?
– গরীবের রক্ত তো তাই শরীরে থাকতে চায় না কথাটার জবাব রাতে পাবি , আসতেছি ।

ইরফান রুম থেকে বেরিয়ে যায় । বেলীর মনে ভয় ঢুকে যায় । হয়তো রাতে এসে আবারও মারবে বেলীকে ইরফান । এমনটাই ধারনা তার । তবে আপাতত সব কিছু ভুলে গিয়ে আজকে ইরফানের জন্যে মন থেকে দোয়া পড়ছে বেলী । অসুস্থতার কারণে নামাজ পড়তে পারছে না সে । তাই মনে মনে দোয়া পড়ে বেলী । বেলীর একটাই চাওয়া ।

– ‘ হাসবুনাল্লাহ ওয়া নি’মাল ওয়াকিল ‘
হে আল্লাহ পাক আপনিই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং আপনিই উত্তম সাহায্যকারী । আল্লাহ পাক আজ যেনো মানুষটা সফল হতে পারে । তাকে আপনি সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষান করুন এবং তাকে সফলতা দান করুন ।

ঠিক সেই মুহুর্তে মিনু দরজার সামনে থেকে বলে উঠে ,

– মরইন্না দোয়া আছে নি ?

কথাটা শুনে চমকে যায় বেলী । অবাক নজরে মিনুর দিকে তাকিয়ে থাকে সে । হঠাৎ মরার কথা কেন বললো সে ।

– এইসব কি বলো মিনু ?
– না মানে কইছিলাম , মরার আগের দোয়া থাকলে পইড়া লন , কওন যায় না কোন সময় না সময় মাইরা লায় আপনেরে ।
– এইভাবে কেন বলতেছো মিনু ? উনি আমার গায়ে হাত তুলে তা ঠিক তবে আমাকে একেবারে মেরে ফেলবেন না তিনি ।
– হ , হাচাই তো । আরে ভাবী এইসব আপনের মত আলাভোলারাই কয় গো ভাবী । ভাইয়ে জানি কেমন হইয়া গেছে , চুপচাপ । নিশ্চয়ই মাতায় পেলেন করতাছে আপনেরে কিভাবে মারন যায় ।
সি আই ডি ‘ র মইদ্যে এই সব দেহায় ।
– তুমি আর এইসব দেখবা না । এইসব দেখে আর উলটাপালটা চিন্তাভাবনা মাথায় আনে ।
– হ হ , হের সোয়ামীরে লইয়া কিছু কওন যায় না এক্কেরে । এত ভালাবাসা ঠিক না , এই কইলাম আমি । এত ফিডায় তহন কই থাহে ভালাবাসা ।
– রান্নাঘরে যাও আমি আসতেছি ।
– হুহ উচিত কথা কইলেই আমি ভালা না , কি আর করনের আছে আমার । আমি তো ভালা না ভালা লইয়াই থাহেন ।

মিনুর এমন পাকা পাকা কথায় এক গাল হেসে দেয় বেলী । তারপর নিজের রুম গুছিয়ে নিয়ে রান্নাঘরে যায় বেলী । কিন্তু মনটা উদ্বিগ্নতায় ভরপুর । স্বয়ং আল্লাহ পাকই জানেন অফিসে কি হচ্ছে এখন ।

অন্যদিকে ,

রুবিকে তার বাবা এবং মা উভয়েই বোঝাতে বোঝাতে ক্লান্ত । তারা যতই বোঝাচ্ছে সে কিছুতেই মানছে না । জাফর সাহেব সর্বপ্রকার মেয়েকে বুঝিয়েও কোন দিক করতে পারছেন না ।

– তুমি কি চাইছো রুবি , তোমার সংসার টা ভেঙে যাক ?
– বাবা সে আমাকে চড় মেরেছে ।
– মেরেছে তো কি হয়েছে , তোমার প্রোভোকেশনেই তো বেলীকে মারে ইরফান , তা তুমি না হয় একটা চড় খেলেই । তাতে সমস্যা কি ?
– বাবা,,,,,,,,,,?
– স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাসায় বসে আছো । তো বেলী কি সুযোগ পাবে না এই সুযোগে ইরফানকে হাত করার ।
– কখনোই না , ইরফান তো বেলীকে ঘেন্না ছাড়া আর কিছুই করে না ।

তখনই রুবির মা বলে ওঠে ,

– বার বার মানা করছিলাম বিবাহিত ছেলের সাথে প্রেম করিস না করিস না , শুনছোস আমার কথা ? এখন সতীন নিয়ে সংসার করস ।
– ওহহহ মা , থামবা ।
– আমি বললেই থামবা , আরেক মেয়ের ঘর নষ্ট করছিস , আল্লাহ তোর সাথে কি করে দেখ এখন ।
– বাবা দেখলা মা কিভাবে বললো ?
– ভুল কিছু বলে নাই তোমার মা । কাল সকালে চলে যাবা ইরফানের কাছে ।
– আমি যাবো না , যতক্ষন না ও আমার পা ধরে ক্ষমা না চায় ততক্ষণ অবদি আমি কোথাও যাবো না ।
– তাহলে বাপের বাড়িতে বসে থাক সারাজীবন ।

মায়ের এমন কথায় রুবি জেদ দেখিয়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা লক করে দেয় ।

– এই মেয়ের যে কি হবে , আল্লাহ পাকই ভালো জানেন ।
– মেয়ের শিক্ষায় ঘাটতি আছে তাই মেয়ে এমন হয়েছে ।
– আমাকে কথা শুনাচ্ছো নাকি তুমি ?
– তুমি মেয়ের মা , তুমি বর্তমান থাকাকালীন সময়ে সে কিভাবে বিবাহিত ছেলের পাল্লায় পড়ে ?
– বিবাহিত ছেলে কি ধোয়া তুলসীপাতা ? যে মেয়ে ইশারা করলো আর ছেলেও গলে গেলো ?
– অবশ্যই গলে যাবে । একটা মেয়ে ইশারা করবে আর ছেলে কি বসে থাকবে । তোমার মেয়ে জানতো না ওই ছেলের বউ আছে ।
– তোমাকে যখন বলেছিল , তখন নিজে চুপ ছিলা কেন ? এখন আমার দোষ দাও কেন ?
– দোষ ছেলেরও দোষ মেয়েরও মাঝে থেকে ওই গরীম এতিম মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে । দেখবা অভিশাপ লাগবে আমাদের৷, ওই মেয়ের অভিশাপ ।
– ওই মেয়েও কম যায় না । চলে গেলেই তো পারে ?
– তুমি মা হয়ে কিভাবে বলো এইসব কথা , তা তোমার মেয়েও তো চলে আসতে পারে ? নিজের কাছে রেখে মেয়েকে বানিয়েছো আল্ট্রামর্ডান । দুই হাতে টাকা উড়ানো , বন্ধু বান্ধবী নিয়ে আমোদ ফূর্তক করা এইসব শিখিয়েছো , এখন মেয়ে এইসব ছাড়তে পারে না ।
– দেখো রুবির বাবা , আমি কোন বলে দেই নাই যে বিবাহিত ছেলের সাথে প্রেম করতে আর তাকেই বিয়ে করতে । অতএব আমাকে বলবা না এইসব । আমি কিটি পার্টিতে যাবো আজকে ।
– ওই তো , এইসব পার্টি পুর্টি করেই জীবন পার করলা আর মেয়েকেও বানিয়েছো তেমন ।

রুবির বাবা মায়ের মাঝে রুবিকে নিয়ে তর্ক লেগে যায় । আর তার একপর্যায়ে রুবির মা চলে যায় রুমে আর রুবির বাবা বাসা থেকেই বেরিয়ে যায় ।

[ বিঃদ্রঃ একজন মা-ই কিন্তু পারেন তার সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে তুলতে । কারণ বাবারা সব সময় কাছে থাকেন । এখনকার যুগে কিছু কিছু মায়েরা আছেন যারা সন্তানকে এত বেশিই আহ্লাদি করে লালন পালন করেন যারা পরবর্তীতে এমন এক একটা রুবি তৈরি হয় । আবার কিছু কিছু সন্তান আছে হাজারো শাসনের মধ্যে থেকেও জানোয়ার তৈরি হয় , যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ আবরার হত্যার খুনিরা । কারো বাবা ভ্যানচালক কারো বাবা অনেক কষ্টে ছেলে মেয়েকে মানুষ করছেন , তারা কিনা অন্য মায়ের কোল খালিই করে দিল সারাজীবনের জন্যে । আবার কারো বাসাতে নাকি টিভিই নাই যাতে করে নাকি সে ভিক্টিমের খবরই দেখেন নাই , তার সন্তান বুলেটে পড়ে । কিছু কিছু বাবা মায়ের প্রশ্রয়ে সন্তান উচ্ছন্নে যায় আবার কিছু কিছু পারিশ্রমিক বাবা মায়ের সন্তানও উচ্ছন্নে চলে যায় । আর কিছু কিছু মেয়ে হয় যারা জন্ম থেকেই একরোখা ছাড়পোকা যারা এক একটা রুবি তৈরি হয় ]

রাত প্রায় ৯ টা বাজছে ঘড়িতে । কিন্তু আজ ইরফান এখনও আসে নাই । অন্যান্য দিন তো ৮ টার পর পরই চলে আসে । তাহলে আজ এত দেরি কেন ? বেলীর চিন্তা বেড়েই যাচ্ছে । এই যাবত প্রায় ১৫ বার বারান্দায় গেছে বেলী । দেখার জন্যে ইরফান আসে কিনা । মিনু তখন টিভিতে সিরিয়াল দেখছে । বার বার বেলীর বারান্দায় যাওয়া দেখে মিনুও বিরক্ত হয়ে যায় ।

– ভাবী কি অইছে আপনের ? এমন করতেছেন কিল্লাই ?
– এই মিনু দেখো ৯ টা ৫ বেজে গেছে , আজকে এখনও আসে নাই যে মানুষটা ?
– হায়রে আল্লাহ , এই বেডির শরম লইজ্জা কিছুই নাই । বেলাজা মাতারি এইদিকে আইয়েন , আর বইয়া বইয়া নাটক দেহেন আইয়েন ।
– কি বলো এইসব তুমি মিনু ?
– ভাবী ভাইয়ে দেহেন গিয়া হেই শয়তানির বাসায় গেছে গা । এখন শয়তানি হেইডার মা শয়তানি মিল্লা ভাইয়েরে ফাম দিবো আর ভাইয়েও ফাম নিবো । দেইক্ষেন আমার কতাই মিলবে ।
– কিযে বলো না তুমি আজকাল মিনু আর শুনো মানুষ হচ্ছে আশরাফুল মাখলুকাত তাদের শয়তান বলতে হয় না ।
– ভাবী হুনেন , সেই আশরাফুল মাখলুকাত যদি শয়তানের মত কাম করে তারে শয়তান কা আরও কত্ত কিছু কওন যায় । ওহন নাটক চাইতাছি কতা কইয়ে না ।

মিনু নাটক দেখায় মন দিচ্ছে । আর অন্যদিকে বেলীর মনে ভয় আরও গাঢ় হচ্ছে । এরই মাঝে হঠাৎ করেই ডোরবেল বেজে ওঠে । বেলীই যায় দৌড়ে । তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দেয় সে । ইরফান দাঁড়িয়ে আছে দরজার বাহিরে । ইরফানকে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বেলী । তবে মানুষটাকে বড্ড বেশিই ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো ।

– আসছেন আপনি , এত দেরি হলো যে ?
– আগে এক মগ কফি বানা , আমি শাওয়ার নিয়ে আসছি । মাথা প্রচুর পরিমানে ধরে আছে ।
– আচ্ছা ,

বেলী এক দৌড়ে গিয়ে কফি বানাইতে থাকে । মিনুও দেখতেছে সব , হাল্কা মলিন হাসি দিয়ে সেও মনে মনে বলে ,

– আল্লাহ পাক তারে যে এত সরল সোজা কিত্তে বানাইলো । জামাই যা কয় তাই হুনে , জামাই তো ভালা না কোনদিন জানি মাইরাই ফালায় । বেচারি এইডাই বুঝপার পারে নাহ । জামাই যা কয় তাতেই হ হ করে । সহজ সরল মাইয়া মানুষ ।

মিনুর মনের ভয় তার বেলী ভাবীকে কোনদিন জানি ইরফান মেরেই ফেলে । কিন্তু বেলী তো তা বোঝে না । এটাই মিনুর খারাপ লাগে ।
বেলী কফি বানিয়ে ইরফানের রুমে যায় । ইরফান তখন গোসল করে বের হয় , ইরফান তখন মাথার পানি গুলো মুছতেছে । তখনই বেলী রুমে যায় ।

– আপনার কফি,,,,,,,?
– থ্যাংকস রে , এত ধকলের পরে এই কফিটার সত্যিই প্রয়োজন ছিল ।
– খেয়ে নেন ।
– বেলী,,,,,,,,?
– জ্বি ,
– ‘ স্বপ্ননীড় ‘ প্রজেক্টটা সাইন হয়ে গেছে ।
– বুঝলাম না ঠিক ।
– বুঝলি না ?
– উহু ,

কফির মগে চুমুক দিয়ে বেলীর সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ইরফান । তারপর হাল্কা হেসে বেলীর চোখের দিকে তাকায় ইরফান ।

– তোর দেয়া নামটাই রেখেছি প্রজেক্টের । বস নামটা শুনে খুব খুশি হলেন । আমাদের কোম্পানির পরবর্তী প্রজেক্টের নাম হচ্ছে ‘ স্বপ্ননীড় ‘। আর হ্যাঁ আরেকটা কথা , আমার প্রমোশনটাও হয়ে গেছে আজকেই বস ডিক্লেয়ার করে দিলো ।
– আলহামদুলিল্লাহ , আমি বলেছিলাম না আপনাকে , ঠিক হবে সব ।
– হ্যাঁ , সবটাই ঠিক হয়েছে ।
– আচ্ছা আপনি কফি খেয়ে আসেন , আমি টেবিলে ভাত দিতেছি ।
– বেলী দাঁড়া ,
– জ্বি , কিছু বলবেন ?
– কি চাই তোর , আজ যা চাস মুখ ফুটে বল ।
– চাইছি তো কাল রাতে ।
– বেলী ,,,,,, শাড়ি গহনা কিংবা অন্য যা কিছু চাই বলতে পারিস ।
– এইসব কিছুই চাই না আমার , আমার যা চাই তা বলছিলাম তো কালকে । আপনি খাইতে আসে , আমি ভাত বাড়তেছি ।

ইরফানের কথা এড়িয়ে গিয়ে বেলী রুম থেকে বেরিয়ে যায় । বেলী যেই কথা গুলো বলে গেলো কথা গুলো কি অভিমানের কথা নাকি বেলীর মনের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না ইরফান । তবে এতটুকু বুঝতে পেরেছে বেলীর সাথে করা অন্যায় গুলোর জন্যে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে বেলীর কাছে । আর তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ।
ইরফান ডাইনিং টেবিলে বসে আছে । বেলী ভাত সহ সব কিছু এগিয়ে দিচ্ছে ইরফানকে । ইরফান কিছুক্ষণ বেলীর দিকে তাকিয়ে আছে । তারপর কি যেনো একটা ভেবে বেলীর সামনেই মিনুকে ডেকে আনে ইরফান ।

– জ্বে ভাই , আমারে ডাকছেন ?
– হু ,
– কি ভাই , কন ।
– আজকে তুই গেষ্ট রুমে থাকিস ।

কথাটা শুনে বেলীর কলিজায় এক কামড় দেয় । আর তার থেকেও বড় কথা মিনুর তো কলিজার সব পানি নাড়াচাড়া দিয়ে উঠে । ইরফান হঠাৎ করেই কেন আজকে মিনুকে গেষ্ট রুমে শুতে বললো । মিনু বেলীর দিকে তাকায় আর বেলীও মিনুর দিকে তাকায় । মিনু চোখের ইশারায় বেলীকে বোঝাতে চাচ্ছে হয়তো আজ রাতই বেলীর শেষ রাত । ইরফান হয়তো আজ রাতেই বেলীকে মেরে ফেলবে । তাই মিনুকে আলাদা শুতে বলেছে । এইদিকে বেলীও বিচলিত , হঠাৎ করে ইরফানের আজ কি হলো ? মিনু কথা ঘুরিয়ে নিয়ে নিজেই বলা শুরু করে ,

– ভাই আমার একলা হুইতে ডর লাগে তো ,
– কিসের ডর আবার , বাসায় আমি আছি তোর ভাবী আছে , কিসের ডর আবার ।
– ভাবী আছে সমিস্যা নাই কিন্তু আপনে আছেন এইডাই আসল সমিস্যা (গুনগুনিয়ে)
– এই মিনু কি বলিস গুনগুন করে ।
– কই কি কইচি আবার , আমি ভিত্রের রুমে হুইতাম না , আমার ডর করে ।
– আচ্ছা তাহলে তুই বেলীর রুমে ঘুমাস , বেলী গেষ্ট রুমে ঘুমাবে ।
– কিল্লাই , ইরাম কিল্লাই ?
– কি কিল্লাই কিল্লাই করছিস , আর তোকে না কতবার বলছি নরমাল ভাষায় কথা বলতে ।

মিনুর মনে এইবার পুরোপুরি দাগ কেটে যায় , যে আজ রাতেই ইরফান বেলীকে মেরে ফেলবে । তাই বেলীকে , চোখে ইশারা করে । তখন আবার বেলী বলা শুরু করে ।

– মিনু তো রোজ আমার কাছেই ঘুমায় তাহলে আজ কেন অন্য ঘরে ঘুমাবে ?
– আমি বলেছি তাই ,
– কিন্তু ও তো ভয় পায় ।
– পাবে না ভয় । এখন মিনু তুই কোন রুমে থাকবি ভেবে দেখ ।

এই বলে ইরফান খাবার টেবিল থেকে উঠে নিজ রুমে চলে যায় । ইরফান যেতে না যেতেই মিনু শুরু করে দেয় ,

– দেখছেন ভাবী দেখছেন৷, কইছিলাম না মাইরা ফালাবে , আমারে অন্য রুমে দিয়া আপনেরে মাইরা ফালাইবো গো ভাবী ।
– কি সব বলো না তুমি । আমাকে মেরে ফেললেও তুমি দেখবে না মারলেও তুমি দেখবে , বাদ দাও । উনি যা বলছে তাই করো , আজকে বরং গেষ্ট রুমেই ঘুমাও ।
– কিন্তু আপনে ,
– যা আছে কপালে ।

রাত প্রায় ১২ টা নাগাদ বাজবে । মিনু চিন্তা করতে করতে গেষ্ট রুমেই ঘুমিয়ে গেছে । আর অন্যদিকে রুমে শুয়ে শুয়ে বেলী ভাবছে আজকে হঠাৎ মিনুকে কেন অন্য রুমে ঘুমাইতে বললো ইরফাজ । এপাশ ওপাশ করেও ঘুম আসছে না বেলীর । এরই মাঝে দরজায় টোকা পড়ে , বেলী দরজা খুলে দিয়ে দেখে ইরফাজ , টাউজারের পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে । অনেকটাই চমকে যায় বেলী ইরফাজকে দেখে ।

– ভেতরে আসতে পারি ?
– এটা আপনার বাসা , সেই হিসাবে রুমগুলাও আপনার , আসেন ।
– ঘুমাস নাই এখনও ?
– শুইছিলাম , এখনি ঘুম আসতো ।
– ওহ , তখন বললাম কি চাই তোর কিছুই বললি না ?
– আমার কিছু চাই না । আর যা চাওয়ার ছিল চেয়েছি তো ।
– আজ যদি আমি তোর কাছে কিছু চাই , দিবি আমাকে ?
– এমন কিছু চাইয়েন না যা আমি দিতে পারবো না । আর যদি আমার জীবনটা চান সহজেই দিয়ে দিবো , তবুও এমন কিছু চাইয়েন না যা আমার আয়ত্তের বাহিরে ।
– জীবন চাইবো না কারণ এই জীবনটাই তো আমার ।
– মানে ??
– যদি বলি আমি তোকে চাই , তখন কি করবি তুই ??

ইরফানের কাছ থেকে এমন কথা আশা করেনি বেলী । এই কথাটা পুরোটাই তার আশপাশের জগত থেকে অনেক দূরে ছিল যা বেলীর ধারণাতেই ছিল না । যেই মুহুর্তটা প্রত্যেক নারী আশা করে তার স্বামীর কাছে । সেই মুহুর্তটা যে এইটা হবে জানা ছিল না বেলীর । আর মুহুর্তটা যে আজকের রাতটা হবে তাও জানা ছিল না বেলীর ।।

.
.

চলবে………………

[ লেখিকার কিছু কথা –

আসসালামু আলাইকুম ,

‘ ঝরে যাওয়া বেলীফুল ‘ আমার এই যাবত লিখার মধ্যে একদম ভিন্ন একটি উপন্যাস । যা কিছুদিন আগেই লিখা শুরু করেছিলাম । আলহামদুলিল্লাহ ৬ পর্বতেই সবার মনে জায়গায় করে নিয়েছে এই উপন্যাসটি । এই উপন্যাসের মাধ্যমে আমি আমাদের সমাজের কিছু বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । জানি না কতটুকু সফল হতে পেরেছি । তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি অবিরত ।

এইবার আসি পাঠক সমালোচনায় । আমি এই উপন্যাসটিতে এখন পর্যন্ত কারো কাছ থেকে সমালোচনা পাই নি ৷ এটা আমার কাছে অনেক কিছু আলহামদুলিল্লাহ । আমার এই যাবত লিখা ১৪ টি ফেসবুক উপন্যাসের মাঝে এমন কোন পাঠক নেই যে আমার লিখা নিয়ে সমালোচনা করেছে । তবে যেখানে ৯৫% ভালোবাসা পেয়েছি সেখানে ৫% সমালোচনা আমার জন্যে ভালো কিছু । কারণ পাঠক সমালোচনা না করলে আমি আমার ভুল গুলো সংশোধন করে নিতে পারি না । তাই সমালোচনা করা ভালো আমার কাছে । এটা পাঠকের অধিকার বলে আমি মনে করি । সে তার মতামত পোষণ করবেন এটাই স্বাভাবিক । আর এটা আমি শান্তির দৃষ্টিতেই দেখি এতে সন্দেহ নেই ।

এইবার আসি উপন্যাস দীর্ঘ/ছোট করার ব্যাপারে । ২/৫ জন বলেছেন গল্প দীর্ঘ না করাই ভালো , তাদের জন্যে বলি – উপন্যাস ৬/৭ কিংবা ৭/৮ পর্বের হয় না । অনুগল্প ১/১০ পর্বের এর মাঝে থাকে । আর আমি অনুগল্প লিখছি না । আপনারা অন্তত এতটুকু বুঝবেন যে কোনটা ছোট গল্প কোনটা উপন্যাস আর কোনটা অনুগল্প । তাই প্রত্যেকের কাছে বিনীত অনুরোধ আমার গল্প দীর্ঘ কিংবা ছোট করার ব্যাপারে আমাকে বলবেন না । বিষয়টি সম্পূর্ণ আমার ব্যাক্তিগত । যদি অতিরিক্ত বিরক্তিবোধ করেন একদম আপনার ছোট বোন ভেবে একটা কমেন্ট করবেন আমি গল্প অফ করে দিবো । তবুও এমন কিছু বলবেন না যাতে আমার লিখার মন মানষিকতা নষ্ট হয় । কারণ আমি লিখছি আপনারা পড়ছেন । তাই আমিই হয়তো ভালো বুঝবো কোথায় গিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে ।

এখন আসি অভিযোগের ব্যাপারে , অনেকের অভিযোগ আমি কেন রেগুলার দিচ্ছি না এবং আমার পর্ব গুলো কেন ছোট হচ্ছে । তাহলে বলি , ভাইয়ারা/বোনেরা আমিও তো মানুষ । আমারও তো সুযোগ সুবিধা আছে । আমিও তো পরিবার নিয়ে থাকি । আমারও ব্যাক্তিগত কিছু কাজ থাকতে পারে । তাই হয়তো এক দুইদিন বাদ যেতে পারে । অবশ্য আমি গল্প না দিতে পারলে আগাম নোটিশ দিয়ে দেই । আমি গতকালও আমার আইডিতে বলে দিয়েছিলাম যে আমি গল্প দিতে পারবোনা । তবুও অনেকেই কথা শুনিয়েছেন । লিখালিখি করি বলে কি নিজের সব কিছু ববিসর্জন দিয়ে দিবো ? আর গ্রুপে বা পেইজে গল্পের ব্যাপারে ছোট খাটো স্ট্যাটাস দেয়া আমার কাছে ভালো লাগে না । এতে করে গ্রুপের সৌন্দর্যতা নষ্ট হয় । আর যেই গ্রুপ অথবা পেইজ আমার লিখাটাকে এত প্রাধান্য দিয়ে এপ্রুভ করেছে আমি সেই গ্রুপ অথবা পেইজকে ছোট করতে পারবো না । এখন থেকে গল্প না পেলে একবার অন্তত আমার আইডিতে গিয়ে দেখে আসবেন আমি যদি জানিয়ে দেই তাহলে দেখবেন আর না জানাই তাহলেও দেখবেন । আপনাদেরকে তো একটু হলেও আমার সুবিধা অসুবিধা গুলো দেখতে হবে , তাই না ?

এইবার আসি একজনের কথার উত্তরে , কেউ একজন বলেছিলেন আমায় তবে আইডির নাম বলে সবার কাছে তাকে ছোট করবো না । তার মতামত ” আপনার বিঃদ্রঃ আপনার গল্পের থেকেও বড় ” তাহলে বলি ভাইয়া আপনি খেয়াল করলে দেখতে পারবেন বিঃদ্রঃ তে আমি কি বলি । যদি আপনি বুঝতেন তাহলে এমন কথাটা বলতে পারতেন না । বিঃদ্রঃ নিয়ে আপনার একার সমস্যা হতে পারে তবে বাকিদের নেই । তাই আপনি দূরত্ব বজায় রাখবেন ।

এইবার আসি ইনবক্সের কথা নিয়ে , অনেকেই নক করেন আমার ইনবক্সে । আমি সবার ম্যাসেজের রিপ্লাই হয়তো দেই না । আমি সময়ের কারণে দিতে পারি না আবার আমার বিরুদ্ধে আমার কাছের মানুষের অনেক অভিযোগ আছে তা হচ্ছে আমি ইনবক্সের ম্যাসেজের রিপ্লাই দেই না । আসলেই আমার ইনবক্সে কথা বলতে ভালো লাগে না । আবার যাদের সাথে বলি তাদের সাথে বলি । তাই এ নিয়ে আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী সবার কাছে যারা নক দেন আমাকে । আমি চেষ্টা করবো সবার ম্যাসেজের রিপ্লাই দেয়ার জন্যে ।

ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট অনেকেই দেন । হয়তো এক্সেপ্ট হয় না বলে রাগ করেন । একজন বলেছেন “আপনাকে রিকুয়েষ্ট দিছি এক্সেপ্ট করেন নাই তাই হা হা রিয়্যাক্ট দিছি” আরেকজন বলেছেন “এটা কেমন ব্যবহার রিকুয়েষ্ট এক্সেপ্ট করেন না” ভাই আপনার একাউন্ট পুরা দমে ফেইক হলে আমি কেন এক্সেপ্ট করতে যাবো । যারা আমার কাছে রিয়েল ইউজার মনে হয় এবং আইডিতে সব প্রমাণ থাকে তাদেরটাই এক্সেপ্ট করি ।

এইবার আসি চুরির ব্যাপারে । আমার লিখা গুলো অনেকেই কপি করেন । আমার আপত্তি নেই এই বিষয়ে । তবে নিজের নাম বসান এটাতেই ঘোর আপত্তি । কেন নিজের নাম বসান । আমি কি কষ্ট করে লিখি নাই ? আমার কষ্টের মূল্য কই দিলেন চোর ভাইয়ারা । তাও কিছু বলি না । কারণ কথায় আছে কয়লার ময়লা ধুলেও যায় না । এদের অবস্থা এই রকম ।

অবশেষে বলি , আমি সামাজিকতা বুঝি তাই সমঝোতার মাঝে লিখি । আমার দ্বারা স্বস্তা রোমান্স ঢেলে দিয়ে লুতুরপুতুর করা গল্প লিখা হয় না আর হবেও না । ভালো লাগলে পড়বেন না পড়লে আপত্তি নেই । আমার যদি কোথাও ভুল হয়ে থাকে আপনারা আমাকে আপনাদের ছোট বোন অথবা বড় বোন কিংবা বন্ধু অথবা সমবয়সী ভেবে আমার ভুল গুলো ধরিয়ে দিবেন । কারণ আপনারা আমার ভুল গুলো বললেই আমি নিজেকে শুধরাতে পারবো ।

এর থেকে বেশি আর কিছুই বলার নেই । যদি বেশি বলে থাকি তাহলে দুঃখিত । ভালো থাকবেন প্রত্যেকে আর ভালো রাখবেন নিজের পরিবার এবং প্রিয় মানুষটিকে । আর আমার জন্যে দোয়া করবেন ।

আসসালামু আলাইকুম ? ]

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ