Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_২৩

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_২৩
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

আজ ইরফান সন্ধ্যার পর পরই বাসায় চলে আসছে । এসেই তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নেয় । আজ আর কফির কথা বলেনি সে , তবুও বেলী নিজ থেকেই কফি করে আনে । বেলীর হাতে কফি দেখে ইরফান বেশ অবাক হয় ।

– আমি তো কফি চাই নাই ,
– আমিই বানালাম ,
– ওহ ,
– আজ এত তাড়াতাড়ি চলে আসলেন , শরীর খারাপ নাকি ?
– নাহ , একটু কাজ আছে , তাই ।
– ওহ ,
– কয়েকজন লোক আসবে একটু পর ।
– কে , রান্না করা লাগবে নাকি ?
– নাহ নাহ , তেমন কিছু না , তুমি এই রুমেই থাকো ।
– নাহ , এখানে না আমি আমার রুমেই যাই ,
– ওই রুমেই কাজ আছে , এক কাজ করো গেস্ট রুমে চলে যাও ,
– আচ্ছা ।

বেলী সাধারণত বাহিরের লোকদের সামনে যায় না । এইসব ব্যাপারে সে একটু সচেতন । যার তার সামনে যেতে অনিচ্ছা তার । তাই ইরফানও জোর করে না । কিছুক্ষণ পরই দরজায় কলিংবেল পড়ে , আর বেলীও তাড়াতাড়ি ভেতরে চলে যায় । ইরফান নিজেই গিয়ে দরজা খুলে ।

আসলে আসার সময় ইরফান ফার্নিচার এর দোকান থেকে কিছু ফার্নিচার কিনে রেখেছিল , তারাই এসেছে সেট করার জন্যে । বেলীর রুমটা বরাবরই খালি ছিল । বেলীর জন্যে ইরফান তেমন ভাবে কিছুই করেনি কখনো । তাই আজ সব কিনে এনেছে । লোকদের সাথে ইরফানও সাহায্য করেছে সাথে মিনুও ছিল । ইরফান মিনুর অনেক কাছের মানুষ এখন । একদম নিজের বোনের মতই কথা বলে মিনুর সাথে সে । মিনুও যথেষ্ট সম্মান দেয় তবে বকাঝকা করে ইরফানের আড়ালে । প্রায় ঘন্টাখানেক বাদে লোকজন চলে যায় । মিনু তখন ইরফানকে বলে ,

– ভাই এক্কেরে ভালা কাম করছেন । এহন ঘরডা পুরা পুরা লাগে ।
– সুন্দর হয়েছে ?
– হ হ অনেক ফছন্দ হইছে আমার ।
– বেলীর হবে কিনা জানি না ?
– হেতির কি-ই বা বালা লাগে , হেতির আবার ফছন্দ ।
– কেন , কি হয়েছে ?
– আইজ্জাও কতক্ষন ছোড ভাবীর লাই আফসোস করছে , আমি বুঝি না সতীনের লাই এত কইলজা পুড়ে কিত্তে সেতির । ওইডা তো একছার বদমাইশ মাতারি , ওইডার লাই অন্তর পুড়াইয়া লাভ আছে কোন ?

মিনুর মুখে আসলেই লাগাম নেই কার সামনে দাঁড়িয়ে কি যে বলে তার ঠিক নেই । ইরফান মিনুর মুখের দিকে চেয়েই আছে , আর অথচ মিনু বলেই যাচ্ছে তো বলেই যাচ্ছে ।

– খবিশ মাতারি একডা , শয়তাইন্না বেডি । এক ওয়াক্ত নামাজ কালাম তো পড়েই না , শয়তানের মত চলাফেরা করে এইডার লাই কিসের মায়া মহব্বত , উষ্টা ১০০ টা মারলে কি অয় এইডারে ।।

মিনুর কথা গুলো চুপচাপ শুনার পর ইরফান গলা ঝাড়া দেয় ।

– উহুম উহুম , মিনু ?
– জ্বে ভাই ,
– আমি তো তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছি , তুই কার সামনে দাঁড়িয়ে কি সব বলিস ।

এই এতক্ষণে মিনুর হুশ আসে সে কার সামনে কি বলতেছিল । পিছন দিকে ফিরে জিহবায় কামড় দিয়ে নিজেকে ১০০ গালাগাল দেয় সে । পরে চুপ করে থাকে ।
ইরফানও বুঝতে পারে যে রুবিকে মিনুর একদম পছন্দ না । তাই আবারও মিনুকে ডেকে বলে ,

– রুবিকে যেহেতু তোর এত অপছন্দ তাহলে তো তুই আমাকেও দেখতে পারিস না , তাই না ?
– হ ভাই হ , আপনেও খবিশ কম আছিলেন না , এহন কেমতে কেমতে ভালা হইছেন আল্লাহ পাকই জানে । আপনে আমার বেলী ভাবীরে কম ফিডান নাই , আপনেও ওই শয়তানের লগে থাইকা শয়তান হয়ে গেছিলেন ।

ইরফান চোখ বড় বড় করে মিনুর দিকে তাকিয়ে আছে । মিনু সত্যিটাই বলেছে আর তা সবার সামনই । কিন্তু বেচারি এক্সাইটমেন্টে সব গুলিয়ে ফেলছে । তাই ইরফানের সামনে ইরফানকেই যা তা বলে দিছে ।

ইরফান মিনুর কথা কানে নেয় নি । পরে কথা ঘুরিয়ে দিয়েছে । এছাড়া আর কম করার । তার বিরুদ্ধে মিনুর বলা কথা গুলো তেতো হলেও সত্যিই ছিল । যার জন্যে সে আর বেশি কিছু বলেনি ।

– মিনু বেলীকে পাঠিয়ে দে , যাহ
– আইচ্ছা ভাই ,

কিছুক্ষণ পর বেলী নিজের রুমে আসে । সে নিজের রুমকে চিনতেই যেন পারে না । ওই রুম থেকে বোঝা যাচ্ছিলো যে বাসায় কিছু একটা আনা হয়েছে । কিন্তু লোক থাকায় দেখতে পারেনি সে । এখন বুঝতে পারছে যে এইসব আনা হয়েছে । হা করে তাকিয়ে নিজের রুম দেখছিল বেলী । বেশ খানিকটা সিম্পল এর মাঝে অনেক সুন্দর একটা খাট সাথে অন্যান্য ফার্নিচার তার রুমে । এরপর ইরফানের দিকে তাকায় বেলী ।

– এত কিছু কিসের জন্যে ?
– আমার বউয়ের জন্যে , কেন কোন সমস্যা ?

ইরফানের মুখ থেকে বউ শব্দটা বেলীর বুকের ঠিক মাঝে গিয়ে লাগে । বউ ডাকটা এত সুন্দর লাগলো শুনতে যে বার বার শুনতে মন চাইছিল বেলীর । কিন্তু নিজেকে দমিয়ে রেখে আবার বলা শুরু করে সে ,

– এত টাকা খরচ করার কি দরকার ছিল , এই রুমে যা ছিল তাতেই হতো আমার ।
– হ্যাঁ , কত হতো বুঝা গেছে৷, একটা খাট আর একটা আলনায় অনেক কিছুই হয় ।
– এত দামী জিনিস দিয়ে কি করবো যদি মানুষটাই আমার না হয় ??

কথাটা আচমকাই বেলীর মুখ থেকে বেরিয়ে যায় । যা ইরফানও শুনে নেয় , তখন হালকা হাসি দিয়ে বেলীর সামনে এসে দাঁড়ায় । বেলীর বাম গালে নিজের ডান হাতের আলতো পরশ দিয়ে বলে ,

– মানুষটা তোমার কাছেই কাছে । খুজে দেখতে হবে শুধু ।

ইরফানের হাতের ছোয়াটা বড্ড বেশি আদরের ছিল । মায়া ভরা দু’নয়নে তাকিয়ে আছে বেলী ইরফানের দিকে ।

– এইভাবে দেখো না , প্রেমে পড়ে যাবে তো ?

ইরফানের এমন কথায় লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয় বেলী । তখন ইরফান তার এক জোড়া হাত বেলীর ঘাড়ের পেছনে নিয়ে নেয় । বেলীকে আরেকটু কাছে নিয়ে আসে সে ।

– এইভাবে চোখ সরালে আমার বুকের ভেতরটা কিন্তু বেলীফুলকে আরও কাছে চাইবে , তখন আমি কি করবো ? আমায় থামাবে কে তখন , হু ?

বেলী আর সেখানে থাকতে পারে নি , ইরফানের কাছ থেকে ছুটে দৌড়ে বাহিরের রুমে চলে যায় সে । আর ইরফান সেখানেই দাড়িয়েই থাকে । একটা জিনিস হঠাৎ তার মাইন্ডে আসে । কিছুর একটা স্মেল নাকে আসছে তার । অনেক গাঢ় একটা স্মেল । পরক্ষনেই ইরফান নিজের হাত দুটো তার নাকের কাছে নেয় । হ্যাঁ , ইরফানের হাত থেকেই আসছে স্মেলটা । কিন্তু এতক্ষন তো এই স্মেলটা ছিলোই না হঠাৎ কিভাবে এলো ? ভাবতে ভাবতে মাথায় আসে সে শুধু বেলীর কাধেই তার দু’হাত রেখেছে । তাহলে কি স্মেলটা বেলীর শরীর থেকেই এসেছে ?

নিজের রুমে যায় ইরফান । সোফায় বসে কিছুক্ষণ চিন্তা করে সে । বেলীর কাছে যাওয়ার পর থেকে কেমন জানি লাগছে তার । এ যেন এক অন্য রকম অনুভূতি । রুবির কাছে বহুবার গিয়েছে সে , কিন্তু এমন অনুভূতি তার হয়নি । এ যেন অন্য রকম ভালো লাগা তার । বেলী যেন তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে । ভালোবাসার এ যেন এক নতুন অধ্যায় । যা ইরফানকে আঁকড়ে ধরেছে শক্ত করে । ইরফানের মনটা বড্ড বেশি বিচলিত । বার বার বেলীর দিকে ধাবিত হচ্ছে । রুবির সাথে তার সম্পর্ক স্বামী স্ত্রী হলেও কোথাও যেন এক অসম্পূর্ণতা ছিল । আর যেই বেলীকে সে এত অবহেলা এত অবজ্ঞা করতো সেই বেলীর মাঝেই সে সম্পূর্ণতা খুজে পায় । যদিও দূরত্ব অনেক তাদের মাঝে ।

ভাবনার মাঝেই মিনুর ডাক ,

– ভাই তাত্তারি খাইতেন আইয়েন , কতক্ষন বইয়া থাকুম ?
– আসতেছি যা তুই ।

মিনু খুব চঞ্চল । সব কিছুতেই তার তাড়াহুড়ো । সে যেন তাড়াহুড়ো না করলে কিছুই পারে না । ইরফান ঘড়িতে চেয়ে দেখে প্রায় সাড়ে ১০ টা বাজতে চললো , হয়তো বেলী সব কিছু সার্ভ করেই মিনুকে পাঠিয়েছে । ইরফান আর দেরি না করে ডাইনিংয়ে চলে যায় ।

বেশ কয়েকদিন পর ইরফান বেলী এক টেবিলে আবার । মিনু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাতের প্লেটে হাত দেয় । এইদিকে বেলী তাকে ইশারায় বার বার বসতে বলছিল কিন্তু মিনুর সেইদিকে খেয়াল নেই । অথচ ইরফান দাঁড়িয়ে খাওয়া পছন্দ করে না । তারপর সুযোগ বুঝে বেলী মিনুকে নাড়া দিয়ে ইশারায় বসে খেতে বলে । বেলীর ইশারায় মিনুও নিচে বসে যায় ভাতের প্লেট নিয়ে । যা এইবার ইরফানের চোখে লাগে ।

– মিনু,,,,,,,,,,,?
– জ্বে ভাই ,
– ভাই ডাকিস আবার ভাইয়েরই বাদায় নিচে বসে খাচ্ছিস ?
– বুঝবার পারলাম না ভাই
– টেবিলে আয় , টেবিলে বসে খা ।
– আমি কামের মানুষ , আমি টেবিলে কেমনে খাইতাম ।
– কাজের মেয়ে শুধু বেলীর সাথে বসেই খেতে পারে আমার সাথে পারে না তাই না ?

এইবার বেলী বুঝতে পারে যে ইরফান কোন ভাবে বুঝতে পেরেছে যে মিনু বেলীর সাথে বসে খেয়েছিল । সেটার কথাই এখানে তুলে দিয়েছে । পরে ইরফান আবারও বলে ,

– নাকি তুই-ও তোর বেলী ভাবীর মত আমায় খারাপ ভাবিস , যে আমার সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়া যায় না , কোনটা রে ?

ইরফানের এমন কথায় বেলী আরও চুপ হয়ে যায় সাথে মিনুও । তাই মিনুও তাড়াতাড়ি উঠে এসে টেবিলে বসে যায় ওদের সাথে । এমনিতেই আজকে অনেক ভালো মন্দ বলে ফেলেছে সে ইরফানকে । এখানে অন্য কেউ হলে সোজা বের করে দিতো বাসা থেকে । তবে যেখানে ইরফান দোষী তাই সে চুপ করে যায় । খাওয়ার টেবিলে কেউ আর কোন কথা-ই বলে নি । বেলীও একদম অল্প কিছু খাবার খেয়ে উঠে যায় । ইরফান চলে যাওয়ার পর মিনু বেলীর কাছে আসে ।

– ভাবী ,,,,, ও ভাবী !!
– হু ,
– ভাইয়ের জানি কি হইছে ?
– কি ?
– এইযে , কেমন জানি চুপচাপ হইয়া গেছে , কথাও কম কয় । তয় ভাবী আমি একটা কাম কইরা ফালাইছি ।
– কি করলা আবার ?
– খুশির ঠ্যালায় রুবি শয়তানির নামে বদনাম করতাম গিয়া ভাইয়ের নামেও কইয়া ফালাইছি তাও ভাইয়েরই সামনে ।
– হায়রে মিনু তোমায় কত বার বললে তুমি ঠিক মত কাজ করবে ?
– কিচ্চি আমি ,
– কি দরকার অন্যের সমালোচনা করা , যে আমাদের সামনেই নেই তাকে নিয়ে সমালোচনা করা গীবত গাওয়া এক মিনু , এইসব আর করো না ।
– আইচ্ছা ।
– যাও শুয়ে পড়ো ,
– হুমু ডা কই ?
– কোথায় শুবে মানে ?
– মেহমান রুমে হুইতাম ?
– আমি নিজেও জানি না ।
– আপনের লাই ভাইয়ে কত কিছু আনছে । আপনেরে এহন ভাইয়ে অনেক ভালাবাসে গো ভাবী ।
– জানি না মিনু , আমার কপালে তো আবার বেশি সুখ সয় না ।
– সইবে ভাবী সইবে , ভাইয়ে জানি কেমনেই আপনের দিকে চায় । আপনের এই ভালা ব্যবহার খানা-ই ভাইয়েরে পাল্টাইয়া দিছে ভাবী ।
-……………
– আল্লাহ পাক কইছে ধৈর্য ধরতে , আপনেও ধরছেন , ফলও পাইতাছেন ভাবী । আমি দোয়া করি আপনি যেন এইভাবেই ভালা থাকেন ভাবী ।
– গেষ্ট রুমেই ঘুমাও তুমি , কেমন ?
– আইচ্ছা ,

মিনুকে গেষ্ট রুমে শুতে বলার হয়তো কারণ ছিল । সে জানতো হয়তো ইরফান আসবে । কারণ ইরফান জানে বেলী ওই রুমে যাবে না । তাই ইরফান নিজেই বেলীর রুমে আসে । হয়তো আজকেও আসবে । এইসব ভেবেই মিনুকে সেখানে শুতে বলেছে বেলী ।

সব কাজ শেষ করে নিজের রুমে যায় বেলী । দরজাটা পুরো না লাগিয়ে আলগা করে রাখে সে । রুমের ফার্নিচার গুলো দেখছে সে । যেই রুমটা আজ সকালেও খালি ছিল সেই রুমটা এখন ভরাট করে দেয়া হয়েছে । বার বার ইরফানের কথা মনে হচ্ছিল বেলীর । ইরফান কেন তাকে এত মায়ায় ফেলে দিচ্ছে । সে যে এমনিতেই ইরফানের প্রতি দুর্বল । ইরফান এমন করে তাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে ।

– মানুষটার মনের মধ্যে যে কি চলে তা কেবল মানুষটাই জানে । আমায় এইভাবে মায়ায় কেন যে জড়াচ্ছে সে-ই ভালো জানে ।

বেলীর একা একা কথা বলাটা ইদানীং অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে । যখন একা থাকে তখনই একা একা কথা বলে তাও শুধু ইরফানকে নিয়ে ।

– মানুষটার মনের মধ্যে একজনের চলাচল চলে । আর মানুষটা তোমাকে মায়ায় জড়ায় নাই তুমিই মানুষটাকে জড়িয়ে নিয়েছো তোমায় মায়ার মাঝে ।

ইরফানের কন্ঠস্বর শুনে বেলী পিছনে তাকায় । ইরফান সেদিনের মত আবারও রুমে দাঁড়িয়ে আছে । আর আজও বেলীর কথা গুলো শুনে নেয় । বেলীর দিকে হা করে তাকিয়ে থাকা ইরফানকে দেখে বেলীর ভিষণ লজ্জা লাগছিল । বেলীর মন তখন একটা কথাই বলছে ,

– এমন টা কেন হয় , যখন আমি একা কথা বলি আর উনিই এসে শুনে নেয় । আমি আর কখনও একা একা কিছু বলবো না ।

ইরফান তখন বেলীর সামনে গিয়ে দাঁড়ায় । বেলীর হাত ধরে বেলীকে বিছানায় বসায় সে । তাকিয়ে আছে বেলীর দিকে এক দৃষ্টিতে । বেলীও চুপচাপ , তেমন কিছুই বলে নি সে । তখন ইরফানই বেলীর বাম হাত টা ধরে নেয় ।

– বেলী,,,,,,,,?
– আর কিছু চাই তোমার ?
– উহু ,
– কিছুই চাই না ?
– উহু ,
– আমাকেও চাই না তোমার ?

ইরফানের মুখ থেকে ঠান্ডা আমেজে বেরিয়ে যাওয়া কথাটা বেলীর ভেতরটাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয় । মাথা তুলে ইরফানের দিকে তাকায় সে । মন অনেক জোরে জোরে বলছে তাকে ,

– বেলী বলে দেও , হ্যাঁ আমার তোমাকে চাই ।

বেলীর মুখ থেকে যেনো কথা আসে না । গলা অবদি কথা এসে আটকে আছে তার । সে কি বলবে কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না । অন্যদিকে বেলীর নিরবতাতে ইরফান তার দোষের প্রমাণ খুজে পায় । ইরফান বেলীকে ঘুমিয়ে পড়ো বলে উঠে চলে যেতে নিলে বেলী ডেকে দেয় তাকে ,

– শুনেন ,,,,,,,?

বেলীর মুখের শুনেন শব্দটা ইরফানকে আটকে দেয় ।

– হ্যাঁ বলো ,

বেলী তখন মাথা নিচু করেই বলে ,

– আমার দুইটা জিনিস চাই ।
– কি জিনিস বলো ?
– একটা সাদা শাড়ি আর একটা ফুলের মালা , মালাটা হতে হবে বেলীফুলের । সেই মালাটা খোঁপায় দিবো

বেলীর চাওয়া জিনিসগুলো অনেকটা স্বস্তা মনে হচ্ছিল । কারণ একটা সাদা শাড়ি সর্বোচ্চ হাজার টাকা , আর মালাটার দাম সর্বোচ্চ ৫০ কি ১০০ টাকা । বেলীর চাওয়া জিনিস গুলোর নাম শুনে অবাক নয়নে বেলীর দিকে তাকিয়ে থাকে ইরফান ।

– সাদা শাড়িই লাগবে ?
– হ্যাঁ , সাদা রঙটা অনেক ভালো লাগে ।
– তাই ?

বেলী উঠে গিয়ে জানালার পাশে দাঁড়ায় , আর ইরফানের প্রশ্নের উত্তর দেয় ।

– হু , সাদা মানেই স্নিগ্ধতা । সাদা মানেই পবিত্রতা । সাদা মানে কাফনের কাপড় যাতে মানুষ শেষ শায়িত হয় ।
– মানে ?
– মানে সাদা পরতে মন চায় । আপনি আমার জন্যে সাদা শাড়ি আর মালা আনবেন । আর কিছু চাই না ।
-………………..
– আমি স্বর্ণ গয়না চাই না , এইসবের প্রতি লোভ কিংবা মোহ নেই । শুধু ওইটুকুনই চাই । দিবেন না বেলীফুলকে একটা সাদা শাড়ি আর একটা বেলীফুলের মালা । রক্তে মাংসে গড়া এই বেলীফুল যে শুধু ওইটুকুনই চায় ।

বেলীর এমনভাবে চাওয়ার দিকে ইরফান একটু হলেও ভড়কে যায় । এমন না যে সে এনে দিবে না । কিন্তু বেলীর চাওয়া জিনিস গুলো একদম অদ্ভুত লাগছিল তার কাছে । কেমন যেনো হচ্ছিলো তার ভেতরে । বেলী কি বোঝাতে চাইছে কিংবা কি করতে চাইছে তার কিছুই সে এই মুহুর্তে বুঝতে পারছে না । এরই মাঝে বেলী তখন দূর আকাশে পূর্নিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে আবারও বলে ওঠে ,

– বেলী একটা সাদা শাড়ি আর একটা বেলীফুলের মালা চায় । দিবেন না আমায় ?

.
.

চলবে………………..

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ