“ঘাসফুলের ধ্রুবতারা”
পর্ব-১০
শাহাজাদী মাহাপারা
অসম্ভব গরমটা কেটে গিয়েছে যেনো মূহুর্তের মধ্যেই। সন্ধ্যের সূর্যের স্থানে আকাশে মেঘের আনাগোনা। ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুতের ঝিলিক। উঠোন জুড়ে কাঁদা মাটি আর তাতে জোড়ায় জোড়ায় জুতোর ছাপ স্পষ্ট।
বিয়ে বাড়ির পাট চুকেছে সে বিকেলেই। অথচ বাড়ির বাহির থেকে কোনোভাবেই বাড়িটাকে বিয়ে বাড়ি লাগছেনা। ভিতরে একটা গুমোট ভাব৷ একটু পর পর অন্দরমহল থেকে একজন নারীর চিৎকারের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আর কে! নাজিফা।
শাপশাপান্ত করেই যাচ্ছে সে এক নাগারে৷
তার মাথায় কিছুক্ষণ পূর্বেই পানি ঢালা হচ্ছিলো। রাগে বেদিশা হয়ে আছেন তিনি। এক্ষুণি একটা খুন করতে পারলে হয়তো তার ভেতরটা শান্ত হতো৷ ফুফা কিছুক্ষণ পর পর স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত হতে বলছেন। তার বলা কথা শুনেই ফুফু যেনো আরেক দফা কেঁদে উঠছেন৷
ঘরে মোহনা, তার মা, রাফি আরও কয়েকজন আত্মীয়া আর মাঝে চেয়ারে বসে আছে সাহিল।
সাহিলের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে সে খুবই নিদারুণ মনঃকষ্টে ভুগছে। মোহনা মুখ মুচড়ে রুম থেকে বের হয়ে এলো। তার আর আজ যাওয়া হলো না। ডায়েরিটা পড়ার পর থেকে অনুশোচনা হচ্ছিলো কিছুটা। অন্যের গোপনীয়তা পড়ে ফেলাটা সীমা লঙ্ঘন৷ কিন্তু এখন আর সেই অনুশোচনাবোধটুকু নেই। এটুকু জানতেই হতো তার। না জানলেই জেনো ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যেতো সে। কেনো? সে শেষ কেনো হবে? তার কি দোষ? কতটুকু দোষ? একজনকে ঘৃণা করতে পারেনি এটা তার দোষ? নাকি একজনকে নিজের সমস্ত স্বত্তা দিয়ে ভালোবেসেছে, এমনকি চূড়ান্ত অপমান সয়েও দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছে,এটা তার দোষ? শত উপেক্ষা আর যন্ত্রণা নিজের ভেতর নিয়ে বিগত আট বছর ভালোবেসেছে, অন্য কারো দিকে মন ঘোরাতে পারেনি এইটুকুই তার দোষ? রাতের পর রাত কেটেছে বালিশ ভিজিয়ে৷ কলেজ থেকে ইউনিভার্সিটি ভূড়ি ভূড়ি প্রেমের প্রস্তাব থেকে বিয়ের প্রস্তাব অব্দি পেয়েও এই একজনের জন্য কাওকে মন হস্থান্তর করতে পারেনি। সে কেনো এতো ভুগবে? আর ভুগবে না সে। আর না।
সাহিল দেখলো মোহনার চুপ করে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়া৷ সে ধীর পায়ে উঠে বেড়িয়ে এলো ঘর থেকে। নিজের ঘরে ঢুকতেই চমকালো সে। বাসর!
কি সুন্দর বাসর সাজিয়েছে। এ বাসর সাজানোতে নিশ্চই মোহনাও ছিলো? হাসলো সাহিল। এখন কি সে ফিল্মের নায়কদের মতো সব ছিড়ে ছুড়ে ফেলবে? নাহ থাকুক বেচারা বাচ্চারা কত আনন্দে ঘর সাজিয়েছে। কাল সকালে সরানো যাবে সব। সকলের কষ্ট পন্ডের মানে হয় না। তোয়ালে আর ট্রাউজার নিয়ে সাহিল ঢুকলো ওয়াশরুমে৷
বৃষ্টি ঝমঝমিয়ে নামছে। শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে সাহিলের মনে হলো পানি গুলো তার গায়ের বিঁধে যাচ্ছে। গরম পানি হলে বেশ হতো৷ তাদের বাড়ি আধুনিক, তবে গিজারটা এখনো বসানো হয়নি। দরজায় ধাক্কা পড়লো ওয়াশরুমের। সাহিল বার কয়েক ডাকলো কে? কে? বলে৷ উত্তর এলো না। ওয়াশরুমের দরজা খুলে উঁকি দিতেই খানিকটা অবাক হলো৷ বালতিতে গরম পানি। দরজার দিকে তাকালো সে। কেউ নেই। সাহিল চমৎকার হাসলো, কাজটা কার বুঝতে সময় লাগলো না। বালতি নিয়ে আবার দরজা বন্ধ করলো সে। আরাম করে স্টুলে বসে গায়ে হালকা কুসুম গরম পানি ঢালতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরই অপ্রকৃতস্থের ন্যায় হাসতে লাগলো। দেয়ালে দেয়ালে বাড়ি খেয়ে সে হাসি ফিরে এলো তার কানেই। আচ্ছা মেয়েদের বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে গেলে তারা হয় লগ্নভ্রষ্টা। ছেলের বিয়ে ভাঙ্গলে তারা কি হয় তবে? বাংলা একাডেমি এটার কোনো মেইল ভার্সন কেনো বের করেনি? যেমন মৃত স্ত্রীর স্বামীকে বিপত্নীক বলে৷
——–
সাহিলের ঝাল যেনো কমছেই না। বমি করলে হয়তো ভালো লাগতো পেটটা৷ কিন্তু এতো ঝাল খেয়ে বমি করলে তা গলা চিড়ে বের হবে৷ কষ্ট আরও বেশি। ওদিকে মামীর তার স্বরে চিৎকারের আওয়াজ ভেসে আসছে৷ সাহিল রাফিকে পাঠালো খোঁজ নিতে। ততক্ষণে বরের খাবারের আয়োজনও হয়ে গিয়েছে। ভাবলো বমি যদি করতেই হয় তবে ভরা পেটেই করবে। সাহিল কোনোদিকে আর মনোযোগ দিলো না। চুপচাপ খাওয়াতে মনোনিবেশ করলো। নাজিফা হন্তদন্ত হয়ে এসেই সাহিলের ডান হাতের কব্জি টেনে তুললেন৷ সাহিল অবাক হয়ে তাকালো মামীর দিকে। নাজিফা চিৎকার করে বললেন, ” এই তোরে জীবনে পোলাও মাংস খাওয়াই নাই? তুই আইসাই বেহায়ার মতো খাইতে বসে গেছিস? উঠ এক্ষুণি উঠবি৷ ”
সাহিল লজ্জা পেলো। আরে নিজের বিয়ের খাবার খাওয়াটাও কি দোষের? কি যন্ত্রণা!
” উঠিস না কেন?”
” কি হইছে মামনী? এমন করছো কেনো? শান্ত হও তোমার শরীর খারাপ করবে। ” সাহিল রাফির দিকে তাকাতেই সে ইশারায় সাহিল কে উঠে যেতে বললো। সাহিল জিজ্ঞেস করলো, ” আমাকে বলো কি হয়েছে?” নাজিফা রাগে দুঃখে কেঁদে ফেলার যোগাড়৷ কিন্তু সে কাঁদবেন না৷ তাকে এখন শান্ত আর শক্ত থাকতে হবে। নাহলে তার ছেলেটা কষ্ট পাবে। কত কষ্টে, কত কষ্টে তিনি এই ছেলেকে বিয়েতে রাজি করিয়েছিলেন৷ অথচ কি হলো! কি জুটলো তার কপালে? তার এই বাচ্চাটাই কেনো এতো কষ্ট সহ্য করবে? প্রকৃতি কেনো তার কাছ থেকেই সব কেড়ে নিতে চায়?
সাহিল দেখছে তার মামীকে। অস্থির তার ভেতরে অথচ কতটা শান্ত বাহিরে।
রাফি সাহিলের পাশে দাঁড়িয়ে কানে কানে বললো, ” কনে পালিয়েছে। ” উফফ! দমবন্ধ হয়ে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস অচিরেই বেড়িয়ে এলো সাহিলের বুক থেকে। ভার হয়ে থাকা বুকটা যেনো নিস্তার পেলো৷ কি স্বস্তি! কি স্বস্তি৷ আচ্ছা সে কি পাপ করতে যাচ্ছিলো! এমন আসামি লাগছিলো কেনো নিজেকে? যদি বিয়েটা হতো? মনে একজনকে রেখে অন্য জনের সাথে ঘর বাঁধা যায়! সাহিল মামীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। মামী শান্ত স্বরে বললেন ” আমাকে মাফ করিস আব্বা। তোকে আমি আরও ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দিবো। আজকেই দিবো।” বলেই তিনি কয়েক জায়গায় ফোন করলেন। পাত্রীর খোঁজ চালালেন। রাগে উন্মাদ নাজিফা যেভাবেই হোক আজ সাহিলের বিয়ে দিয়েই ছাড়বেন তিনি।
এদিকে কনের বাবা মা কেও ইচ্ছে মতো কথা শোনালেন। যদিও তিনি জানেন তাদের এখানে দোষ নেই। কিন্তু তার চাপা রাগটা তিনি সংবরন করতে পারছেন না। তিনি কনের রেখে যাওয়া চিঠি পড়েছেন। কনের আগেই অন্যত্র বিয়ে হয়েছে এবং বিয়ে সে নিজেই করেছে তার পরিচিত কলিগকে। সেই কলিগ কিছুদিন যাবত তার সাথে যোগাযোগ করছে না৷ কিন্তু বাবা মা কে সে তা জানাতে পারেনি৷ এমনকি সাহিলকে দেখে ভালো লেগেছিলো বিধায় নাও করেনি। তবে আজ তার স্বামী তার সাথে যোগাযোগ করেছে অবশেষে এবং সাহিলের মুদি দোকানদার একথাও সে জানতে পেরেছে আজই৷ তাই তার এই পলায়ন। নাজিফা যখন পাত্রীর মা বাবাকে জিজ্ঞেস করছিলেন তারা কেনো জানায় নি সাহিলের পেশার কথা তাদের মেয়েকে৷ তারা বললেন তাদের কন্যাই কখনো আগ্রহ দেখায় নি। কিছুই জানতে চায়নি৷ তাদের বিশ্বাস ছিলো তারা মেয়ের জন্য সঠিকটাই করবেন। নাজিফা রাগে উন্মাদিনী হলেন তখনই।
সাহিলকে এক প্রকার টানতে টানতেই বের হলেন বিয়ে বাড়ি থেকে৷ তারা তাদের অন্য কন্যার সাথেও বিয়ের কথা তুলেছিলেন। কিন্তু নাজিফা বললেন, ” এমন বাটপার পরিবারে আমার ছেলেকে আমি বিয়ে করতে দিবো না৷ একটা বিয়ের আগেই ভেগেছে আরেকটা ভাগবে বিয়ের পর প্রেমিক নিয়ে৷ ” অপমানের চূড়ান্ত করলেন এবং নিজেও অপমানিত হয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে বের হলো তারা।
পথিমধ্যে নাজিফা আর একটা শব্দও বলেন নি। বাড়ির ভেতরে ঢুকেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। সাহিল বুঝতে পারছিলো না কি বলে শান্তনা দিবে মামীকে। কিন্তু এতে মামীই বা এতো ভেঙে পড়ছে কেনো তাও বুঝতে পারছে না সে৷ মামীর অহং বোধে লেগেছে খুব দ্রুত বুঝলো সে৷ যে সন্তানকে নিয়ে তার গর্বের শেষ নেই সে সন্তানকেই লাঞ্ছিত হতে হয় প্রতিবার। কিছুক্ষণের মাঝেই টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হলো৷ পরিস্থিতি আরও গুমোট হয়ে উঠলো মামী বমি করে ঘর ভাসালেন৷ প্রেসার ফল করে সেই এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা৷
————-
গোসল করে বের হতেই সাহিল দেখলো নাজিফা বিছানায় বসা। তস্ত্র পায়ে সে তার কাছে গেলো। মাথায় হাত রেখে বললো, ” তুমি কেনো আসতে গেলে আবার? আমাকে ডাকিয়ে নিতে৷ ”
নাজিফা সাহিলের হাতে একটা সাদা পাঞ্জাবী ধরিয়ে দিলেন। বললেন, ” দ্রুত আমার রুমে আসবি। ” বলেই তিনি চলে গেলেন। সাহিল বুঝতে পারছে না এইটুকু বলতে এসেছিলেন?
সাহিল পাঞ্জাবী পরেই মামীর ঘরে গেলো।
তখন আকাশে মেঘে মেঘে ঘর্ষণের কর্কশ শব্দ। সামনে বসা এক ঘর মানুষ আর তাদের মাঝে বিশাল বড় পর্দা৷ পর্দাটা মামীর শাড়ি দিয়ে দেয়া। দুপাশ থেকে সাহিলের দু কাজিন ধরে রেখেছে। মামী হাত টেনে নিয়ে সাহিলকে চেয়ারে বসালো। বললো, ” আমি তোমার কাছে তোমার সুখ টুকু ছাড়া আর কিছুই চাই না বাবা৷ মামনীর মান সম্মানের বিষয় এই ত্যাগটুকু তুমি করো। আমি জানি তুমি ভালো থাকবে, সুখ সব তোমার হাতে এসে ধরা দিবেই৷ আমাকে একটু বিশ্বাস করো। ”
সাহিলের হাত মামী শক্ত করে ধরে রেখেছেন। মাত্র আধা ঘন্টা সাহিল ওয়াশরুমে ছিলো। ইচ্ছে করেই ছিলো বের হচ্ছিলো না। এইটুকু সময়ের মধ্যে মামী কাজি ডেকে পাত্রী রেডি করে ফেলেছেন৷ ধ্বক করে উঠলো তার বুকে। মোহনা! ও কোথায়?
আবার! আবারও! দুপুরের ভার হয়ে থাকা ভাবটা যেনো ফিরে এলো তার মধ্যে৷
সাহিলের চোখে জলের ছলছলানি। পুরুষদের কাঁদতে নেই বিদ্যায় সিদ্ধহস্ত সাহিলের অশ্রু আর গড়িয়ে আসার সুযোগ পেলো না৷ নাজিফা একপ্রকার জোর করেই সাহিলকে বসিয়ে দিলেন চেয়ারে। মামীর আবদার ফেলার মতো সাহস তার নেই এতে যদি লোকে তাকে মেরুদন্ডহীন কাপুরুষ ঘোষণা করে তবে সে তাই। মামীতো বললোই সে তার সুখ চায়। সাহিল নিশ্চই একদিন সুখী হবে। আর ওই পাষাণী! সেও কি একবারো পারলো না সবকিছু ভুলে তাকে চাইতে? কেনো পারলো না? কেনো সে সাহিলকে চাইলো না?
অতঃপর আরও একটা দীর্ঘশ্বাস বুক চিড়ে দিলো তার।
কাজী কনের থেকে কবুল স্বীকার করাতেই কামড়া জুড়ে “আলহামদুলিল্লাহ” ধ্বনি শোনা গেলো। একপ্রকার ঘোরের মাঝেই সাহিলও কবুল বলে দিলো৷ তারপর চট করেই জেনো বাহিরের বিদ্যুতের ঝিলিকের মতো তার মস্তিষ্কও সজাগ হলো৷ তখনই পর্দা সরলো সামনের।
বিছানায় একটা সবুজ জায়নামাজের উপর বসে আছে তার ভুবনমোহিনী। মেরুন রঙা বেনারসি গায়ে শুধু স্বর্ণালংকারে ঢাকা তার মোহনা। সাহিলের মোহনা। ইশ! মামী একটু সময় ও দিলো না৷ এভাবে হুট করে বিয়ে হয়! বেচারী সাজারও সময় পেলো না। খোপাটাও বাধতে পারেনি বোধহয়। প্রসাধনীহীন সেই সরল মুখটা জুড়ে হারিয়ে ফেলা মূল্যবান কিছু খুঁজে পাওয়ার খুশি ঝিলিক দিচ্ছে। সাহিল দেখলো মুগ্ধ হয়ে তার নবপরিণীতাকে। কি আশ্চর্য! এমন মিরাকেলও হয় বুঝি? পৃথিবীটা তার হাতের মুঠোয় মনে হচ্ছে।
পরিশিষ্টঃ
ভাগ্যিস বাসরটা নষ্ট করেনি সে।
দরজায় খিল দিতেই মোহনা ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “কি বাসর দেখি অক্ষুণ্ণ রয়েছে৷ আহারে লেকচারার হলেও হতে পারতো স্ত্রীর স্মৃতিতে বুঝি কিছু পন্ড করা হয়নি৷ কি কষ্ট! কি কষ্ট!”
মাথা নিচু করে হাসলো সাহিল৷
চোখ তুলেই চট করে মোহনাকে বাহুবন্দী করলো। তার আর ধৈর্য নেই। চুমে চুমে মোহনার নিশ্বাস বন্ধ করার চিন্তা যেনো তার। তার যেমন সারাদিন দমবন্ধ কেটেছে, এইতো একটু আগেও যেমন বুকে রক্তক্ষরণ হয়েছে মোহনাও তার স্বাদ নিক। সে একা কেনো সইবে ভালোবাসার ভার!
মোহনা শ্বাস নিলো। এতো আনন্দ কি জীবনে আর কখনো এসেছিলো? মনে পড়ছে না তার। মোহনা অস্ফুটেই চোখে অশ্রু নিয়ে বললো, ” আমি চেয়েছিলাম সাহিল ভাই। খুব করে চেয়েছিলাম। দেখো এই যে তুমি আমার কাছে। স্রষ্টার কাছেও যেমন চেয়েছি, ফুপির কাছেও তেমন চেয়ে নিলাম তার ছেলেকে। ”
সাহিল চুমু খেলো মোহনার দু চোখে৷ সেও যদি সাহস করে চেয়ে নিতে পারতো মোহনা কে৷ সবাই কি আর সাহসী হতে পারে? তবে আজীবনের আরেকজনকে কোনঠাসা করা সাহিল নিজেই এখন পদে পদে কোনঠাসা হবে বুঝে গিয়েছে সে। এই নারী সবাইকে বলে বেড়াবে সে বিয়ে না করলে সাহিল জলে ভেসে যেতো। হাসলো সাহল তার আনন্দকে বুকে আগলে নিয়ে। বলুক। যা খুশি বলুক। সবে মেনে নিবে সে৷ সত্যিই তো। এই নারী তাকে না চাইলে সে তো ভেসেই যেতো।
“মামনী রাজি হয়ে গেলো? আর তোর মা?”
মোহনা সাহিলের হাতে ডায়েরিটা তুলে দিলো। সাহিল অবাক চোখে দেখলো তাকে৷
“ব্যাড ম্যানার্স।”
কেনো জেনো রাগ করতে পারলো না সে৷ চুলায় যাক সব। এ ডায়েরিতে এমন কিছুই নেই যা কেউ জানে না। সত্যিটা সবাই জানতো কম বেশি। শুধু অপ্রকাশিত ছিলো সব। মোহনাও বললো,” আই ডোন্ট কেয়ার। আম্মু রাজি হয়নি। তাতে আমার কিছু এসে যায়ও না৷ আমার বর, আমার ঘর, আমার সংসার আমি বুঝবো। অনেক তো শুনলাম তাদের কথা এবার নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিলাম। সাহিলের পা ধোঁয়া পানি খাওয়া মোহনাকে এখন থেকে রোজ সাহিল পা ধুঁয়ে দিবে৷ সবাই এমনটাই ভাবছে । আমি মনে মনে এটা ভেবেই হেসে খুন হচ্ছি। একদম ঠিক আছে যেমন কে তেমন।”
সাহিল হাসলো প্রাণখোলা হাসি। মোহনাকে দূরে সরিয়ে একদৃষ্টে দেখলো সে। আবার টেনে নিলো কাছে৷ মোহনা হাই তুলে বললো,” আমি বড্ডো ক্লান্ত, ঘুমাবো।”
সাহিল বুঝতে পেরেছে তাকে অপেক্ষা করানোর পায়তারা। তাতো হতে দেয়া যাবে না। বাহিরের সবাই যা খুশি ভাবুক। বিড়াল সে বাসরেই বধ করবে। সাহিল কাছে টানলো মোহনাকে। মোহনা মোটেও বাধা দিলো না৷ চরম আকাঙ্খিত রাতটা সে কাটালো সাহিলের উষ্ণতায়। বাহিরে তখনো থেমে থেমে বৃষ্টি ঝড়ছে।
সমাপ্ত।
