#গোলকধাঁধা
#পর্ব৩
#রাউফুন
ডাইনিং টেবিলের সেই মুহূর্তের নিস্তব্ধতা যেন কয়েক শতাব্দীর ভারী হয়ে নেমে এল। ইফশির সেই অকস্মাৎ স্বীকারোক্তি আর লামিয়ার দিকে তাকানো শীতল দৃষ্টিতে পুরো ঘর কাঁপছে। লিলি বেগম এবং রুকন শিকদার যেন কী শুনলেন তা বুঝে ওঠার আগেই ইফশি নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। ওর কণ্ঠস্বরে এবার আর কোনো দ্বিধা নেই, আছে ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা। ইফশি সরাসরি লামিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল,”প্রেগন্যান্ট তুমি তার দায় আমি কেন নেবো? পাপ করেছো তুমি, পাপের ফল তোমার, আমি তার দায়ভার নেবো ভাবলে ক্যামন করে? একটা বাস্টার্ড চাইল্ড আমার পরিচয়ে বড়ো হতে পারে না। কখনোই না।”
লামিয়ার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে তো ভেবেছিল ইফশি তার পাতা ছকে পা দেবে, কিন্তু ইফশি উল্টো মোড় ঘুরিয়ে দিল। রুকন শিকদার টেবিল চাপড়ে চিৎকার করে উঠলেন, “এসব কী নাটক হচ্ছে? ইফশি, তুমি কী বলছ এসব? এই লামিয়া কি হচ্ছে এসব?”
ইফশি এবার নিজের ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে স্পিকারে দিয়ে রিং দিল। ওপাশ থেকে কিয়ারার কন্ঠ ভেসে এল। ইফশি শান্ত গলায় বলল, “কিয়ারা, নিয়ে আয়।”
ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল ইফশির বান্ধবী কিয়ারা। তার এক হাতে ফোন, আর অন্য হাতে সে টানতে টানতে নিয়ে এল এক টগবগে যুবককে। ছেলেটার চুল উস্কোখুস্কো, পরনের শার্টে ধুলোবালি, মনে হচ্ছে তাকে মেরে, টেনেহিঁচড়ে এনেছে এখানে। সে কোনোমতে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করছিল, কিন্তু কিয়ারার দৃঢ় মুষ্ঠি থেকে তার নিস্তার নেই। ছেলেটাকে দেখে লামিয়া রীতিমতো কাঁপতে শুরু করল। লিলি বেগম চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে অস্ফুট স্বরে বললেন, “এই ছেলেটা কে? লামিয়া, এই ছেলে কে?”
কিয়ারা ছেলেটাকে ধাক্কা দিয়ে রুকন শিকদারের পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে বলল, “এই সেই নবাবজাদা, যে আপনাদের আদরের মেয়ের ‘প্রেগন্যান্সির’ আসল কারিগর!”
রুকন শিকদারের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। তিনি রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, “লামিয়া! তুই কি এই বিষয়ে কোনো কিছু বলতে চাস?”
লামিয়া ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পড়ল। ইফশি এগোতে এগোতে বলল, “মা, আপনি বলছিলেন না আমি কালো জাদু করেছি? দেখুন, এই হলো আপনার মেয়েকে কালো জাদুর ফল, আপনার মেয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে। আর আপনার ছেলে, আমার স্বামী রঞ্জন, সে কিন্তু এসব জানত না। আর আজকে সে আমাকে মা’রেনি, সে আমাকে মা’রার নাটক করছিল কেবল আপনাদের সন্তুষ্ট করতে! কথাটা এখন বললাম, কারণ আপনার মনটা আরও একটু ভেঙে দিতে মন চাইলো।”
রঞ্জন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে দেখছিল। সে এবার রাগে ফেটে পড়ে লামিয়ার দিকে এগিয়ে এল। রঞ্জন গর্জে উঠল, “নিজের কৃতকর্মের দায়ভার ভাইয়ের বউয়ের ওপর? এত বড় সাহস তুই পেলি কোথায়?”
ইফশি পকেট থেকে একটা ছোট্ট ফাইল বের করল। তাতে সেই বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে লামিয়ার গোপন কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং হাসপাতালের ফেইক রিপোর্টের কপি। ইফশি তা সবার সামনে ছুড়ে দিয়ে বলল, “আজ আর কোনো মিথ্যে নয়। আপনার মেয়েকে আজই এই ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে, নইলে এই খবর পাড়ার মানুষের মুখে পৌঁছাতে সময় লাগবে না।”
লিলি বেগম যেন পাথর হয়ে গেছেন। তিনি নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে উঠলেন, “একি করলি তুই লামিয়া!”
ইফশি কিয়ারাকে ইশারা করতেই সে একটি কাজী অফিসের পরিচিত লোককে ঘরে ঢুকিয়ে দিল। কাজী সাহেব সব শুনে নিয়ে রুকন শিকদারের দিকে তাকালেন। রুকন শিকদার পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে কাঁপা গলায় বললেন, “বিয়ে… বিয়ে এখনই হবে।”
লামিয়া মেঝেতে বসে অঝোরে কাঁদছে। তার প্রেমিকের চোখেমুখে তখন পরাজয়ের গ্লানি। ইফশি দাঁড়িয়ে দেখল, যে মিথ্যে পাহাড় তাকে দমবন্ধ করে মারতে চেয়েছিল, তা আজ নিজের ভারেই ভেঙে পড়ছে। সে রঞ্জনের হাতটা শক্ত করে ধরল। রঞ্জন তখনো ঘোরে।
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর যখন সবাই স্থির হয়ে বসল, রুকন সাহেব কুঁকড়ে যাওয়া কণ্ঠে বললেন, “আজ থেকে এই বাড়িতে এরা থাকবে না। লামিয়া আর ওর বর কালই বিদায় হবে।”
ইফশি জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখল আকাশ পরিষ্কার হয়ে আসছে। সে মুচকি হেসে রঞ্জনের দিকে তাকাল। রঞ্জন ফিসফিস করে বলল, “তুমি অসাধারণ ইফশি। কীভাবে করলে?”
ইফশি রঞ্জনের দিকে তাকিয়ে বলল, “যে মিথ্যে দিয়ে মানুষ ঘর বানাতে চায়, সেই মিথ্যের ভিত্তি বালুর চেয়েও দুর্বল হয়।”
পুরো বাড়িতে এখন এক বিষাদময় পরিবেশ। লিলি বেগম স্তব্ধ হয়ে সোফায় বসে আছেন। লামিয়া কাঁদছে নিজের কপালে হাত রেখে। ইফশি জানে, এই ঘটনার পর তাকে আর শাশুড়ির অপবাদ সহ্য করতে হবে না। কিন্তু সামনে নতুন এক লড়াই অপেক্ষা করছে। ইফশি কি এখন রঞ্জনকে নিয়ে আমেরিকা পাড়ি জমাতে পারবে? নাকি এই পরিবারের কলঙ্ক এখনো তাকে আঁকড়ে ধরে রাখবে?
নিঝুম রাত। রুকন শিকদারের ড্রয়িং রুমে তখন পিনপতন নিস্তব্ধতা। কিন্তু ড্রয়িং রুমের পাশের ছোট ঘরটিতে লিমনের কণ্ঠস্বর যেন আগ্নেয়গিরির লাভাস্রোতের মতো ফেটে পড়ছে। লামিয়া মেঝেতে বসে অঝোরে কাঁদছে, তার চোখের জল যেন ফুরোবার নয়। এই বিয়েটা লামিয়ার জন্য কোনো মতেই প্রত্যাশিত ছিল না। সে তো চেয়েছিল ইফশির কাঁধে বন্দুক রেখে নিজের ভবিষ্যৎ গোছাতে। অথচ আজ সেই ইফশির বুদ্ধির কাছেই সে পুরোপুরি ধরাশায়ী। লিমনের দিকে তাকিয়ে লামিয়ার মনে হচ্ছে, এ যেন কোনো এক দুঃস্বপ্ন। লিমনের দরিদ্র পরিচয় আর তার কঠোর রূপ লামিয়াকে ভেতর থেকে চুরমার করে দিচ্ছে।
লামিয়া রাগে আর অভিমানে ফুঁসে উঠে লিমনের দিকে আঙুল উঁচিয়ে আর্তনাদ করে উঠল,”আমি তোকে কখনোই বিয়ে করতে চাইনি, তোকে আমি বলেছিলাম না এলাকা ছাড়বি, এই কুত্তা, তোর এতো লোভ কেন?”
লিমন এক পা এগিয়ে এসে লামিয়ার চোখের দিকে সরাসরি তাকাল। তার চোখে এখন আর আগের মতো প্রেম নেই, আছে কেবল এক গভীর ঘৃণার ছাপ। লিমন ব্যঙ্গাত্মক হাসি হেসে পাল্টা জবাব দিল,
“আমার লোভ? যখন জানতে আমি কোটিপতির ছেলে, তখন তো আমার বিছানায় যেতে একবারও ভাবোনি। ভেবেছিলে টাকার বিছানায় ঘুমাবে, টাকার লোভ তোমার এতোটাই যে এক কথায় রুমডেটে যেতে রাজি হয়ে গেলে৷ আমি তো তোমাকে জাষ্ট পরীক্ষা করতেই রুমডেটের অফার দিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি এমনই নিকৃষ্ট লোভী মেয়ে যে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে নিজেকে বিলিয়ে দিলে। তো আমি সবে যুবক হয়েছি, আমার উপর কোনো মেয়ে ঝাপিয়ে পড়লে আমি নিজেকে সামলাবো কিভাবে? তবুও আমি বাঁধা দিয়েছিলাম। কিন্তু তুমিই শোনো নি। এসেছে আমাকে জ্ঞান দিতে।”
লামিয়া স্তব্ধ হয়ে গেল। তার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে যেন। সে কি জানত না লিমন এমন কথা বলবে? লিমন তার টাকার গরম, তার ধুরন্ধর বুদ্ধির প্রয়োগ আজ এমনভাবে করেছে যে লামিয়া নিজের অস্তিত্বের ওপরই প্রশ্ন তুলে ফেলেছে। লামিয়া কান্নার দমক চেপে অস্ফুট স্বরে বলল,”তো তুই যে আমাকে ঠকিয়েছিস, বলেছিস তুই বড়োলোক তার বেলায়?”
লিমন এক মুহূর্তের জন্য জানালার দিকে তাকাল। বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,”ভুল বলিনি, এটাও একটা পরীক্ষা ছিলো যে, আমি গরীব জানার পর তুমি কি করো। আসলে তুমি আমায় কখনোই ভালোইবাসো নি। বেসেছো আমার টাকাকে। তোমার ধারণা ওসব দামী দামী গিফট হাওয়া থেকে উড়ে আসতো?”
লামিয়া লিমনের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার সমস্ত জেদ যেন মুহূর্তেই জল হয়ে গেল। সে ভাঙা গলায় প্রশ্ন করল, “তুমি আমার সঙ্গে এমন কেন করলে?”
লিমন ঘরজুড়ে পায়চারি করতে লাগল। তার মনের ভেতর বয়ে যাচ্ছে এক তুমুল অস্থিরতা। সে তার জীবনের প্রথম ভালোবাসা আর সেই ভালোবাসার বিসর্জন নিয়ে আজ বড়ই তিক্ত। লিমন নিগূঢ় শ্বাস ফেলে বলল,”আমার বন্ধুরা সবাই আমাকে বলেছিলো, তুমি ভালো মেয়ে নও। এর আগেও তুমি আরও সম্পর্ক করেছো। কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনি, আমার প্রথম ভালোবাসা ছিলে তুমি। তোমার ফাঁদে পা দেওয়াই সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিলো আমার। তুমি শুনে রাখো আমার কথা, বাচ্চাটা হলেই আমি তাকে নিয়ে চলে যাবো। এই বাচ্চাটাকে আমি আমার পরিচয়ে বড়ো করবো, তুমি তার ছাঁয়াও দেখতে পাবে না। আমি জানি আমি ভুল করেছি, এই ভুলের মাসুল হিসেবেই তোমাকে আমি বিয়ে করেছি। তোমাকে আমি ডিভোর্স ও দেবো না, অন্য কাউকে বিয়েও করতে দেবো না আর না তুমি আমাকে পাবে।”
কথাগুলো বলেই লিমন আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে লিমনের এই কঠোর রূপ, তার কণ্ঠের শীতলতা লামিয়াকে যেন পাথরের মতো জমে যেতে বাধ্য করল। লিমন হনহনিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
দরজার বাইরে ইফশি দাঁড়িয়েছিল। সে সব শুনছিল। ইফশি মনে মনে ভাবল, লিমনের এই রুক্ষ স্বভাবের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো গভীর ক্ষত আছে। আর লামিয়া? লামিয়া আজ নিজের জালেই নিজে আটকে গেল। ইফশি বুঝতে পারছে, লামিয়ার জীবনের গোলকধাঁধাটা এখন আর কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং এক দীর্ঘমেয়াদী অভিশাপের রূপ নিয়েছে।
ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ইফশি ড্রয়িং রুমে রঞ্জনের কাছে গিয়ে বসল। রঞ্জন চুপচাপ বসে আছে। পুরো বাড়িটা যেন এক অদ্ভুত আতঙ্কের মাঝে নিমজ্জিত। রঞ্জন নিচু গলায় ইফশিকে বলল, “তুমি কি মনে করো লামিয়া এই শাস্তির যোগ্য?”
ইফশি রঞ্জনের হাতের ওপর নিজের হাত রাখল। সে কোনো উত্তর দিল না। সে জানে, এই বাড়িতে শান্তি ফেরার কোনো পথ আর খোলা নেই। লিলি বেগম কিচেনে বসে কাঁদছেন, রুকন সাহেব নিজের ঘরে দরজা আটকে বসে আছেন। আর ইফশি? সে তো কেবল নিজের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে আজ এই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে।
ইফশি ভাবছে সেই কদিন আগের কথা। লামিয়া যখন তাকে প্রথম বলেছিল সে প্রেগন্যান্ট, ইফশি তাকে সন্দেহ করেছিল ঠিকই, কিন্তু সে বুঝতে পারেনি লামিয়া এতটা নিচে নামবে। আজ সব ফাঁস হওয়ার পর ইফশির মনে হচ্ছে, সে যেন এক বিশাল যুদ্ধ জয় করেছে। কিন্তু এই জয় কি তাকে শান্তি দেবে?
রাত গভীর হচ্ছে। ওয়াশরুমের ভেতর থেকে পানির শব্দ আসছে। লিমন কি ভেতরে কাঁদছে? নাকি সে নিজের ভাগ্যের ওপর হাসছে? লামিয়া মেঝেতে পড়ে থাকা নিজের ওড়নাটা টেনে নিয়ে মুখে চাপা দিল। তার চিৎকার যেন দেয়াল ভেদ করতে পারছে না। ইফশি জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকাল। দূরে কোনো এক অশুভ বাতাসের সংকেত।
ইফশি জানে, এই গোলকধাঁধার প্রতিটি মোড় এখন বড়ই বিপজ্জনক। লিমন যখন বলেছে সে ডিভোর্স দেবে না, তখন লামিয়ার ভবিষ্যৎ কি শুধুই এক অন্ধকার কক্ষে কাটবে? ইফশি নিজেকে একটু গুছিয়ে নিল। সে লিমনের চোখের সেই ঘৃণার ছাপটা কিছুতেই ভুলতে পারছে না। যে ঘৃণা কেবল ভালোবাসার বিসর্জন থেকেই আসতে পারে।
ইফশি উঠে দাঁড়াল। সে রান্নাঘরের দিকে গেল একটু পানি খাওয়ার জন্য। লিলি বেগম তখনো সেখানে বসে আছেন, অন্ধকারে। তিনি ইফশিকে দেখে থমকে গেলেন। ইফশি নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল, “মা, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
লিলি বেগম কোনো কথা বললেন না। তার গাল বেয়ে টপ টপ করে চোখের জল পড়ছে। তিনি বুঝতে পারছেন না, তার আদরের মেয়েটার জীবনটা কেন এমন ধ্বংসের মুখে। ইফশি নিঃশব্দে এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার নিজের ঘরে ফিরে এল।
বাইরে তখন ঝোড়ো হাওয়া বইছে। গাছপালা কাঁপছে। ইফশি বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে রঞ্জনের বুকের সাথে লেগে থাকল। রঞ্জন তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারা দুজনই জানে, এই বাড়ির প্রতিটি দেয়াল এখন আর শুধু ইট-পাথরের নয়, বরং মিথ্যের এক বিশাল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
লামিয়ার জীবনের এই গোলকধাঁধা আর কতদূর যাবে? লিমন কি পারবে সেই অনাগত সন্তানকে নিয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে? নাকি এই বাড়ির বিষাক্ত বাতাস তাদেরকেও গ্রাস করবে?
ইফশি চোখ বন্ধ করল। অন্ধকার ঘরে তার মনে হলো, সে যেন এক গোলকধাঁধার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছে। সব সত্য তো সামনে এসেছে, কিন্তু শান্তি কোথায়?
#চলবে….
