গল্প -গোপন সংসার
পর্ব -১০
লেখক : রিহান অরণ্য
তূর্য এয়ারপোর্টে গিয়ে ফোন দিছে ওনি এয়ারপোর্টে আছে শুনে আমি ফোন কেটে দিছি, কারন এতোদিন বাড়িতে থেকে ও ফোন দেয়নি আর এখন চলে যাবার সময় ফোন দিলো, যদি শুনে আমি অসুস্থ তাইলে হয়তো সিফিন কে দেখার কেউ নাই এটা মনে করে চলে আসতে পারে সেই জন্য ওনার ফোন রিসিভ করি নি,
ওনি বাহিরে গিয়ে লন্ডনের নাম্বারে ফোন দিছে তার পর ফোন রিসিভ করলাম,ওনি জানতে চাইলো কেন ওর ফোন ধরিনি, আমি বলছি এমনি ধরি নাই, ওনার মনে আঘাত লাগছে বুঝতে পারছি, তবোও কিছু কারার নাই ওনাকে বললাম আপনার সিফিন কে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না,আপনি আপনার লেখাপড়ায় মন দিন, এসব বলে ফোন কেটে দিছি,
আমার জ্বর এতোবেশি ছিলো যে আমি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না,
এখন আশেপাশে পরিচিত কেউ ও নাই যে সিফিনের জন্য খাবার বানিয়ে দিবে, তার পর ও নিজকে শক্ত রেখে সব কিছু করছি, আমি অসুস্থ সিফিন সেটা বুঝতে পড়েছে, সে ও শান্ত ছিলো, ২ দিন পর জ্বর কমে গেছে, আসতে আসতে আগের মতো হয়ে গেছি,
তূর্য চলে যাবার ৪ মাস হ’য়ে গেছে আমাদের মধ্যে আগের মতো কোন কথা হয়না দরকারি কথা ছাড়া,
যে বাড়িতে থাকি ওই বাড়িতে মালিক এসে জিজ্ঞেস করলো তোমার জামাই কে জিজ্ঞেস করো এগ্রিমেন্ট কি বাড়াবে নাকি এই বছর শেষ, আমি বললাম ঠিক আছে ওনার সাথে কথা বলে আপনাকে জানিয়ে দিবো, তারে তূর্য কে জিজ্ঞেস করলাম কি করবে,সে বলে আমি তো আর ৫ মাস পরে চলে আসবো, তখন ও আমাদের হাতে ২ মাস সময় থাকবে এর মধ্যে একটা ব্যবস্থা করে সিফিন কে নিয়ে যাবো এগ্রিমেন্ট বাড়ানোর দরকার নেই,
আমি বাড়ির মালিক কে জানিয়ে দিলাম বিষয়টি,
এখন ভাবতে লাগলাম তূর্য চলে আসলে সে আমার থেকে সিফিন কে নিয়ে যাবে, আমি একা হয়ে যাবো
বাড়িতেও যেতে পারবো না, আমি কি করবো মেয়ে মানুষ একা একা কই থাকবো,আর সিফিন কে ছাড়াই বা কেমনে বাঁচবো, সেই ৩ মাসের বাচ্চা থেকে এতো বড় করলাম এখন আমার কোন অধিকার নেই, এখন আমি শুধু কাজের মেয়ে 😪 যেইভাবেই হোক একটা
ব্যবস্থা করবো, প্রথমে একটা চাকরি নিবো তার পর বাড়িতে যাবো, বলবো স্বামী আমাকে তালাক দিছে, এটা ছাড়া কোন উপায় নেই,
______________________________________________
সময় গুলো অনেক অল্পতেই চলে গেছে তূর্যের সাথে এখন তেমন কথা হয়না ওর এক্সাম, এই মাসের মধে সে চলে আসবে,
আমার আর সিফিনের মধে দূরত্বে সৃষ্টি হতে আর কয়েক মাস বাকি,
তূর্য চলে আসলেই সিফিনকে নিয়ে যাবে, এসব ভাবতে ভাবতে নিজের চেহেরাটা নষ্ট করে ফেলতেছি, রাত হলে সিফিনকে জরিয়ে ধরে কান্না করি,যাতে সিফিন বুঝতে না পারে,
এতোকিছু করে কোন লাব নেই সিফিনকে তার বাবা নিয়ে যাবে, সিফিন তার সন্তান, চাইলে আমি আমার কাছে রাখতে পারবো না,
এখন নিজের একটা ঠিকানা দরকার তাই চাকরি খুজতে লাগলাম, সাথের বেচম্যান রা একেক জায়গায় চাকরি নিয়ে নিছে, আমি ও সিদ্ধান্ত নিলাম চাকরি করবো, আমাকে চিটাগং যাবার জন্য রিকুয়েষ্ট করতেছে বান্ধবীরা, ওরা অনেক জন আছে ওখানে, আমি বললাম ঠিক আছে তবে ২/৩ মাস পরে,
_________________________________________
আজকে সেই সোনালি দিন গুলো শেষ, তূর্য চলে আসবে আজকে রাতে তবে এখানে না তার বাড়িতে যাবে, আনাকে জানিয়ে রাখছে,
আমি বললাম সিফিন কে নিয়ে কি এয়ারপোর্টে আসবো,ওনি বললো না সাথে বাবা থাকবে, বাবা আমার এখানে এসেছে ৬ দিন গলো, আমি বললাম একবার তো বললেন ও না,তূর্য বললো কি বলবো, বলার মতো তো কিছু নেই এখানে, আমি বললাম হা তা ও ঠিক বলার মতো তো কিন্তু নেই, আচ্ছা সাবধানে যাবেন, বাড়িতে গিয়ে ফোন দিয়েন, এই বলে আমার ফোনের ওয়াইফাই বন্ধ করে দিছি,
তূর্য বাড়িতে এসে আমাকে মেসেজ দিলো ওনি বাড়িতে চলে এসেছে, কালকে একটু সময়ে জন্য ফ্রী হয়ে কল দিবে,
পরের দিন ওনি ফ্রী হয়ে ফোন দিলে আমাকে,
ফোন রিসিভ করে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছেন স্যার, ওনি বললো ভালোই আছি, তবে একটু পেশারে আছি, তোমকাে হয়তো অনেক কিছু বলা হয়নি তুমি জানোনা আনার এঙ্গেজমেন্ট হয়ে গেছে গতবছর বিষয় টা তোমাকে বলি নাই কারণ তুমি যদি বলো এখন বউ আছে সিফিনকে ওনার কাছে রাখেন তাই, কিন্তু রেশি আমি চাইনি সিফিন ওই সময় অন্য কারো কাছে থাক, আমি বললাম তাইলে এখন চান সিফিন অন্য কারো কাছে থাকুক, তূর্য বললো এখন তো আমি দেশে আমার কাছাকাছি থাকবে সমস্যা হবে না আর তুমিই বা আর কতো করবা, এইবার বিয়ে করে সংসার করো, ওনার কথা শুনে চোখ দিয়ে টলটল করে পানি ঝরতে লাগলো, আমি বললাম ওহ, এতো চিন্তা আপনার আগে তো জানতাম না,ওনি বললো হা তোমার জন্য তো চিন্তা করতেই হবে এতো বছর
এক সাথে ছিলা সিফিন কে বড় করছো,
আমি বললাম থাক এসব বাদ দিন আপনার বিয়ে কবে,কাকে বিয়ে করছেন, ওনি বললো আমার বাবা বিয়ে ঠিক করছে, মেয়েটা আমাদের বাড়ি থেকেই পরছে এখনো, তবে ওর সাথে সিফিনের বিষয় নিয়ে কথা বলবো বিয়ের আগেই বলে রাখা ভালো না হয় সমস্যা হবে, আমি বললাম আপনার যা ভালো মনে হয় করেন,
তবে আমার একটা রিকুয়েষ্ট রাখবেন স্যার, এটাই আমার জীবনের শেষ রিকুয়েষ্ট,
তূর্য বললো কি রিকুয়েষ্ট বলো, আমি বললাম আগে কথা দিন আমার রিকুয়েষ্ট রাখবেন, তূর্য কথা দিবার আগেই কে জানি ওরে ডাক দিলো সে পরে ফোন দিবে বলে ফোন কেটে দিলো,
একটু পর মেসেজ দিলো তূর্য,
Hi.
Reshi, Tumi ki chaw blo Ami Kotha dilam Ajk tumr sob kotha rakhbo, siFiner Kosom Ajk tumk Ferabo na ja chaiba tai dibo,
আনি উনার মেসেজ টা দেখে রিপ্লাই দিছি, সিফিন কে নিয়ে যদি দ্বিতীয় বার কসম কাটেন তাইলে আপনার খবার আছে, উনি আমার কাছে সরি বলছে আর বলবে না,
আমি বললাম ঠিক আছে আর যেন ভুল না হয়,
তবে আমার শেষ রিকুয়েষ্ট টা শুনতে হলে আমার কাছে আসতে হবে আপনি কবে আসবেন বলেন,
তূর্য বললো ঠিক আছে কাল দুপুরে তোমার বাসায় থাকবো,
আমি বললাম ঠিক আছে কথা যেন মনে থাকে,
চলবে।
