গল্প – গোপন সংসার
পর্ব -৯
লেখক : রিহান অরণ্য
তূর্যের উপরে উঠার পর ও সে শান্ত হয়নি। সে আমার যে টুকু কাপড় পরা ছিলো সেটুকু ও ছিঁড়ে ফেলছে।আমি বললাম কেন এমন করছেন কেন এতো রাগ, এইতো আমি আপনার কাছে এখন একটু শান্ত হবেন নাকি আমাকে ও জামা কাপরের মতো ছিঁড়ে ফেলবেন।
এখন তূর্য চুপচাপ হয়ে গেছে, আমি ওর উপরেই শুয়ে আছি, শরীরে কোন জামা নেই, সব তো ওনি ছিড়ে ফেলছে, আমি ওনার মাথা হাতিয়ে বললাম এবার শান্ত হোন প্লিজ।ওনি কিছু বলছে না আমার ই যা করার করতে হবে ওনার রাগ কমিয়ে আনতে হলে, যেহুতো আমারই করতে হবে তাই আমার পাওয়ার ব্যবহার করতে লাগলাম, ওনার হাতে আমার হাত দিয়ে বেঁধে দিলাম,তার পর ওনার খালি বুকের পশম গুলো কে কামরাতে লাগলাম, এখন ওনি একটু বেসামাল হয়ে যাচ্ছে তাই আরেকটু বেসামাল করার জন্য, বুকের গুলো ওনার মুখের কাছে নিয়ে গেলাম, ওনি এখন পুরোপুরি বেসামাল, তখন আমি ওনার কানের কাছে গিয়ে বললাম আমার উপর রাগ করে সব জামা কাপর বিছানার চাদর সব ছিড়ে ফেলছেন, তাইলে লুঙ্গি কেন রাখলেন, তখন ওনি ওটা সরিয়ে নিলো, তার পর…….
প্রায় এক বছর হতে চলছে ওনার সাথে, এই প্রথম আমাদের শারিরিক সম্পর্ক হয়েছে, এখন নিজের কাছে খারাপ লাগতে শুরু করলো, ওনি তো চলে যাবে কয়েক দিন পর, আগেই ভালোছিলাম কোন পুরুষের ছোঁয়া লাগে নি কিন্তু এখন কেমনে কি করবো।
পরের দিন আমি রান্না করতেছিলাম,তূর্য এসে বললো তুমি একটু সিফিনের কাছে যাও তো,আমি একটু বাহিরে যাবো, কি হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না।
আমি সিফিন কে রুম থেকে নিয়ে তানজিলার কাছে দিলাম।
রান্না শেষ করে তূর্য কে ফোন দিলাম কি হয়েছে আপনি তাড়াহুড়ো করে কই গেলেন, তূর্য বললো রেশি তুমি আমার ব্যগ গুছিয়ে রাখো আনি সন্ধায় চলে যাবো টিকেট কাটলাম এখন ব্যংকে আছি।
কি হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না, আমি ওর সব গুছিয়ে রাখলাম একটু পর সে বাসায় এসে গোসল করে রেডি হয়ে গেলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে?
তূর্য বললো আর বলোনা ওই যে মেয়েটা এসেছিলো না ওইটা আমার সাথে সেলফি তুলছিলো, সেটা আমার ফেসবুকে ট্যাগ করে পোস্ট করছে আমরা যে বাংলাদেশে এসেছি সেটা নিয়ে,এটা এখন আমার বাবা জেনে গেছে ওনি আমার Whatsapp কল দিয়ে বললো আমি কই, আমার ওই দেশের নাম্বার বন্ধ কেন, আমি বাংলাদেশ থাকলে বাসায় যেতে বলছে, আমি বললাম আমি বাংলাদেশে না, আব্বু বললো ঠিক আছে তোমার নাম্বার দিয়ে কল দাও,আমি বললাম এখন তো কলেজ বন্ধ বাহিরে যাইনা সিমে টাকা নাই, একটু পর দিচ্ছি বলে ফোন কাটলাম যদি বলতো ভিডিও কল দিতে তাইলে ধরা পরে যেতাম।
এই নাও টাকা গুলো তোমার কাছে রাখো, আর তুমি ঠিক মতো ক্লাস করো।
আমি বললাম ৫/৬ দিন ক্লাসে যাবো না, ওনি বললো কেন, আমি বললাম কেন আবার আপনি কি আমার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে দেখছেন, কাল রাতের পর থেকে আমি ঠিক মতো হাটতে পারছিনা।
তূর্য বললো সরি, আমার জন্য এসব হলো। প্লিজ কষ্ট পেওনা।
আমি তূর্য কে জিজ্ঞেস করলাম কখন বের হবেন,তূর্য বললো এখনই, আমি গিয়ে সিফিন কে নিয়ে আসলাম ওর বাবার মুখ টা মলিন হয়ে গেছে, তার পর ও কিছু করার নাই, তূর্য চলে গেছে, আমার আজকে ভীষণ খারাপ লাগছে ওনার জন্য, তার পর ও করার নাই,
এই দিকে আমার সমস্যা হাটতে ক’ষ্ট হচ্ছে,
সিফিন কে তানজিলার কাছে রেখে আমি একটু ঘুমিয়ে গেলাম।
==========================
এখন আমার একার সংসারে গল্প শুনিয়ে কোন লাভ নেই, তাতে গল্প বারবে, তূর্য ওই খানে গিয়ে ফোন দিছে তার বাবা ইমিগ্রেশন চেক করাই সব কিছু ধরে ফেলছে ওয় কবে কখন দেশে এসেছে এটা নিয়ে ওদের পরিবারে একটা ঝামেলা হয়েছে, তার কিছু দিন পর কাকি তানজিলা ওরা ও চলে গেছে,,
====================================
৮ মাস ধরে তূর্য দেশে আসতে পারে না,
দিন গুলো অনেক ক’ষ্টকরে পার করছি, আমার দ্বিতীয় সেমিস্টারে এক্সাম শেষ হয়েছে।
যে ভাবিদের কে রুম ভাড়া দিছিলাম ওনারা চলে গেছে ওনার জামাই চাকরির জায়গা পরিবর্তন করছে তাই, এখন অন্য এক ফেমিলি কে ভাড়া দিয়ে রাখছি।
তূর্য চাইলে ও এখন সে আসতে পারবে না, তার বাবা টিকেট কেটে দিবে তার পর আসতে হবে, তা ছাড়া আসলে ইমিগ্রেশন থেকে তার বাবাকে ফোন দেওয়া হবে।
ওর সামনে পরিক্ষা, শেষ হলে ওর বাবা বলছে বাড়িতে আসতে, তা ও এখনো ২ মাস বাকি।
এই দিকে সিফিন এখন কথা বলা শুরু করছে সারাদিন কথা বলে একা একা, ওর বাবা কে ডাকে, আমাকে তো আরো আগে থেকেই ডাকে।
অনেক অপেক্ষার পর এখন ২ মাস আগের ৮ মাস = ১০ মাস পর তূর্য আবার আসতেছে তা ও আবার তার বাড়িতে যাবে, ১৫ দিনের ছুটি, আমাকে বলছে আমি যেন সিফিন কে নিয়ে এয়ারপোর্টে যাই,ওনাকে নিতে ওনার ফ্যামিলি মেম্বার আসবে আমাকে বললো আমি যেন ১ নাম্বার টার্মিনালের কাছে থাকি ওনার পরিবার কে বলছে ওনি ২ নাম্বার টার্মিনাল দিয়ে বের হবে।
যথা সময়ে আমি সিফিন কে নিয়ে এয়ারপোর্টে গেলাম, ওনি ১ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে বের হয়ে একটা ল্যাগেজ আমাকে দিয়ে বললো এটা বাসায় নিয়ে যাও, আর সিফিনের গালে হাত দিয়ে একটু আদর করে ওনি চলে গেছে, আমি সিফিনকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
ল্যাগেজে সিফিনের জন্য অনেক খেলনা,আমার জন্য ফোন আরো অনেক কিছু ছিলো।কিন্তু আমি এসবে হ্যাপি হতে পারিনি মানুষ টা কে এতো দিন পর দেখলাম একটু কথা ও বলতে পারলাম না।
তূর্য বাড়ি যাবার পর তেমন একটা অনলাইনে দেখা যায় না ওনার বাংলাদেশের নাম্বার ও বন্ধ।আমি একটু পর পর চেক করি কিন্তুু পাইনা।
ওনি বাসায় যাবার ৩ দিন পর ফোন দিছে, তা ও ২ মিনিট কথা বলছে। ওনি নাকি সারাদিন বাসায় থাকে তাই কথা বলতে পারে না,আর বাহিরে যাওয়া নিষেধ।
আমি বললাম এতোকিছু জানি না আপনি যেভাবে পারেন একবার আসেন।আপনার ছেলে বড় হয়ে গেছে ওয় এখন কথা বলতে শিখছে।ওর এখন কথা বলার মানুষ দরকার, ওনি বললো চেষ্টা করবো।
এই ভাবে ৯ দিন চলে গেছে ওনি আসেনি, আর ৬ দিন বাকি ওনি চলে যাবে, আবার কখন আসে কে জানে, এতো কাছে থেকেও চোখের দেখা দেখতে পারছি না।
ওনাকে ফোন দিলে সকালে ওনি বিকালে ফোন দেয়,
এই ভাবে দিন গুলো চলে যাচ্ছে, আর মাত্র ২ দিন বাকি আমি তূর্য কে বললাম যার জন্য এতোকিছু করলেন তারে কোলে না নিয়ে চলে যাবেন, ওনি বললো আমি অনেক চেষ্টা করছি কিছু পারছি না।
আমি ফোন রেখে দিলাম,বুঝতে পারছি ওনি আসবে না, ওনার ছুটি শেষ হ’য়ে গেছে, কখন এয়ারপোর্টে যাবে কি করবে কিছুই বললো না ইচ্ছে ছিলো এয়ারপোর্টে গিয়ে দেখা করবো কিন্তু ওনি যাবার সময় বলে যায়নি।
ওই খানে গিয়ে ফোন দিছে,সরি বলতেছে, ওনার সাথে ওর বাবা ছিলো তাই কিছু বলতে পারছিলো না।
আমি এখন চিন্তা করতে লাগলাম ১৯ মাস হয়ে গেছে
এখানে এসেছি, তূর্যের আগে আমার নার্সি শেষ হবে।
এই বাসায় আরো ২ বছরের ও বেশি থাকতে হবে তখন তো সিফিন অনেকটা বড় হয়ে যাবে, তখন কোনো এক সময় ওর বাবা এসে ওরে আমার থেকে নিয়ে যাবে তখন আমি কেমনে থাকবো,এসব চিন্তা ভাবনা এখনি করতে লাগলাম।
এখন দিন যতো যাচ্ছে চিন্তা আরো বাড়ছে, তূর্য আসে না সময় মতো টা’কা পাঠিয়ে দেয়,
কিন্তু সিফিনের মুখে এখন ও বাবা ডাক শুনলো না।
=================================
আবার ও ৬ মাস চলে গেছে শুধু ফোনে কথা বলে তূর্য, আমার সামনে পরিক্ষা, তাই বললাম তূর্য কে দেশে আসতে, কিন্তু সে এখন আসতে পারবে না,কয়দিন পর আসবে, সেই আশায় আমরা বসে আছি সিফিন এখন সব বুঝতে পারে, আমি শুধু একবার বকা দিছিলাম সারা দিন কান্না করছে, তার পর থেকে আর বকা দেই না। এখন ওর প্রায় ৩ বছর হয়ে গেছে, সামনে আমার ফাইনাল এক্সাম, কিন্তুু এখন একটা লোকের দরকার আমি বাসায় না থাকলে সিফিন কে নিয়ে ভয় আছে।সে এখনই একা একা রান্না করতে চলে যায়।
তাই আমি আমার কাকি কে বলে গোপনে তানজিলা কে ঢাকা নিয়ে আসলাম,এক মাসের জন্য।
তূর্য এখন নাকি অনেক বিজি থাকে তার লেখা পড়া নিয়ে, সিফিনকে আগে ভিডিও কলে কথা বলতো এখন কমিয়ে দিছে, তূর্য এখন বাড়িতে যাবে না
বাড়ি গিয়ে নাকি স্বাধীনতা পায়না আমাদের সাথে দেখা করতে পারে না তাই আসবে না এখন।
সব কিছু মিলিয়ে ওনার আর ১ বছর বাকি তার পর চলে আসবে দেশে কিন্তু এতো দিন হলো দেশে আসে না কেন, আমি কতবার বললাম আমার পরিক্ষা শেষ। একবার আসেন, কিন্তু আসলো না, ওনি সামনের বছর পরিক্ষা দিয়ে একেবারে চলে আসবে, আমি বললাম এখনো ১ বছর বাকি এতো সময় কেন থাকবেন ছুটিতে আসেন,ওনি আসবে না।
আমি বললাম আমার রেজাল্টের দিন আপনাকে দেখতে পাইলে ভালো হতো, কিন্তুু ওনি কোন গুরুত্ব দিলো না।
===================[===
এখন সারাদিন বাসায় থাকি, এই বাসা টা কে নিজের মনে করে থাকছি এতো দিন, আর ১ বছর পর চলে যেতে হবে, তূর্য সিফিনকে নিয়ে যাবে, কিন্তুু আমার জায়গা কোথায় হবে, এই সব ভেবে আমি এখনি কান্না করতে লাগলাম।
এই দিকে তূর্য ও ঠিক মতো ফোন দেয় না, সিফিন কে নিয়ে ওনার কি চিন্তা ভাবনা, কিছুই বুঝতে পারলাম না।
২ দিন পর হঠাৎ ওনি ফোন দিয়ে বললো রেশি আমি দেশে আসতেছি তোমার বাসায় একদিন থেকে পরের দিন বাসায় চলে যাবো, আমি অনেক টা খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কবে আসবেন, ওনি বললো কাল সকালে ভোরে তোমার বাসায় থাকবো, আমি বললাম তাইলে আমি এয়ারপোর্টে গাড়ি নিয়ে যাবো, ওনি বললো না তোমাকে আসতে হবে না, আমার মন টা খারাপ হয়ে গেলো, আমি বললাম ঠিক আছে সাবধানে আসেন।
বিকাল থেকে টুকটাক সাজতে লাগলাম আমার সাজ দেখে সিফিন ও সাজবে তাই ওরে ও একটু সাজিয়ে দিলাম, রাতে আমরা মা ছেলে ঘুমিয়ে গেছি, ভোরে তার বাবা বাসায় এসে আমাদের কে ডেকে তুলছে।
তূর্যের চেহারাটা আগের মতো নেই, আজ একবছরে ও বেশি সময় পর ওনাকে দেখলাম।
ওনি সিফিন কে কোলে নিয়ে আদর করতে লাগলো।
আমি বললাম সিফিন তোমার আব্বু কে ডাক দাও, কিন্তু সে ডাকে না একবার আমার দিকে তাকায় আরেবার ওর বাবার দিকে তাকায়, কিছু সময় পর সিফিন আব্বু ডাকলো, তূর্য অনেক খুশি,ওনি আমাকে ও কপালে চুমু খাইছে,আমি বললাম এখন সাবধান ছেলে বড় হয়েছে। তখন ওনি বললো ওকে তাইলে চলো অন্য রুমে যাই। আমি না করলাম কিন্তুু শুনলো না, কোলে করে নিয়ে গেলো ওই রুমে,গিয়ে দরজা বন্ধ করেই শুরু করলো, ভাবছি এতো বছর পর আসলো হয়তো অনেক টাইম লাগবে কিন্তুু হলোনা, বৃষ্টির পানিতে মাটি ভিজলো না।
ওনি ফ্রেশ হবার জন্য, ওয়াশরুমে গেলো আমি শুয়ে শুয়ে ওনার নতুন ফোনটা দেখছিলাম, লক খোলাই ছিলো, মডেল টা অনেক সুন্দর, হঠাৎ একটা মিসকল আসলো,আমি দেখলাম নাম্বার টা সেভ না, কিন্তুু ওনার কি এটা বিডি সিম নাকি, চেক করলাম গ্রামিন সিম, ডায়াল লিষ্টটা চেক করলাম, আননোন কল তা ও ২ দিন আগের, ওনি আজকে আসলে ২ দিন আগে ক্যামনে এই সিমে এই ডায়াল নাম্বার থাকবে, একটু নিচে দেখলাম আরো ৬ মাস আগে ও বাংলাদেশে এই ফোন থেকে ডায়াল কল + মিস কল ও আছে। ফোন টা রেখে আমি ওই রুমে গেলাম দেখি তূর্য এখন কোন ল্যাগেজ আনে নি একটা কাঁধ ব্যাগ, ওই ব্যাগে কোন বডিং চেকাপের স্টিকার নেই, যেমন টা এর আগে তূর্য আমাকে যে ল্যাগেজ দিছিলো ওটায় ছিলো।
তূর্য কি তাইলে দেশেই ছিলো, আর ৬ মাস আগের ও এসেছে আমরা জানতাম না, কিন্তু কেন এমন টা করলো আজকে ও সে তার বাসা থেকে এখানে আসলো, কিন্তু মি’থ্যা বলে আসলো, কারন টা কি?
চলবে
গল্প -গোপন সংসার
বোনাস পর্ব
লেখক রিহান অরণ্য
তূর্য গোপনে বাড়ি এসে আবার চলে ও গেছে , আবার আসলো, এই গোপনীয়তার কারণ কি, সে তো এমন ছিলো না, সে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আমাকে বললো রেশি তোমার রেজাল্ট সময় আসতে পারি নি অনেক বিজি ছিলাম, তো এখন কি করবা চিন্তা ভাবনা কিছু করছো, আমি বললাম এখনো তো ১ বছর বাকি আছে আপনার কন্টাক্টে, তা ছাড়া আমি এখন যদি চলে যাই সিফিন কে কি করবেন, তূর্য বললো ওর জন্য তোমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করবা নাকি,
তূর্যের মূখে এমন কথা শুনে আমার ভিতর টা চুরমার হয়ে গেছে, যার জন্য আমি আমার ভবিষ্যতে আগেই নষ্ট করছি, সে এখন আমার ভবিষ্যতে কথা বললো,
এই বাচ্চা কে আমার মনে করে আমার ভবিষ্যত আগেই নষ্ট করে ফেলছি আর উনি এখন আমাকে দূরে সরিয়ে দিবার চেষ্টা করছে, আমি তূর্য কে বললাম আপনি কি আমাকে এখন চলে যেতে বলছেন নাকি ভবিষ্যতের কথা বলে, তূর্য বললো না সেটা না আগে থেকে কিছু চিন্তা করে রাখা ভালো না, আমি একেবারে দেশে চলে আসলে সিফিন কে নিয়ে আমি আমার বাড়ি নিয়ে যাবো,
তূর্যের কথা শুনে আমার বুঝতে বাকি নাই, আমি যে একজন কাজের মেয়ে সে এখন বুঝিয়ে দিলো,
আমি বললাম ঠিক আছে আপনি আগে আপনার এক্সাম শেষ করেন, পরের টা পরে দেখা যাবে, এই কথা বলে উনাকে শান্ত করে দিলাম,
উনাকে জিজ্ঞেস করলাম কতো দিন থাকবেন উনি বললো বিকালে বাড়ি চলে যাবো আর ৭ দিন পর বাহিরে চলে যাবো,
উনার জন্য দুপুরে খাবার রেডি করে সিফিন কে গোসল করিয়ে ওর বাবার সাথে বাহিরে পাঠিয়েছি, সিফিনের চুল কেটে আনার জন্য,
ওরা বাহির থেকে এসে তূর্য আমাকে নিয়ে অন্য রুমে নিয়ে গিয়ে বুকে জরিয়ে ধরে……
কিন্তু আমি দেইনি অনেক টা জোর করেই ওনার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আনলাম, আর বলে দিছি আমি কাজের মেয়ে, আপনার বউ না, আগে যা হয়েছে তার জন্য নিজের কাছে খারাপ হয়েছি, আগে মনে করতাম আমি সিফিনের আম্মু, তাই নিজের সবটা তার বাবা কে দিছিলাম অবুঝের মতো,
আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন,
এই বলে আমি সিফিনের কাছে এসে বসে আছি,
উনি আমার সাথে কোন কথা বলে না,
চলে যাবার সময় বলে গেছে সিনহা পরিবারের বংশধর তোমার কাছে আমানত ওর যেন কোন সমস্যা না হয়, বিছানায় টাকা রেখে চলে গেছে,
উনি চলে যাবার পর চিৎকার করে কান্না করছি,
আমার কান্না দেখে সিফিন ও কান্না শুরু করে দিয়েছে, তখন আমি আমার কান্না থামিয়ে আমার কলিজা কে বুকে নিয়ে বললাম তুমি কান্না করো কেন, তোমার জন্য আমার জীবন শেষ হলে ও তোমার চোখে পানি আমি দেখতে চাইনা,
তূর্য বাড়িতে গিয়ে একবার ও ফোন দেয়নি, শুধু বাহিরে চলে যাবার সময় এয়ারপোর্টে এসে আমাকে ফোন দেয়, তখন আমার অনেক জ্বর ছিলো ঠিক মতো কথা বলতে পাছিলাম না, উনি বার বার ফোন দিয়েছে আমি ফোন ধরি নাই,
চলবে।
