গল্প -গোপন সংসার
পর্ব -৫
লেখক : রিহান অরণ্য
রুমে গোপন ক্যামেরা লাগানো ছিলো এটা জানলে কোনদিন ও এই রুমে থাকতাম না।এখন তো সব শেষ যা আছে সব তূর্য দেখে ফেলছে।এসব চিন্তাভাবনা করে মা*থা খা*রাপ হয়ে গেছে হাতে ফোন নিয়ে সিফিনের আব্বু কে ফোন দিলাম,ওনি কল ধরলো,আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনি রুমে ক্যামেরা লাগাবেন আমাকে কেন বলেন নি, কেন করলেন এটা?
এখন আমি কি করবো,তূর্য জিজ্ঞেস করলো কেন কি হইছে?ক্যামেরা আমার রুমে লাগানো কিন্তু তোমার রুমে না,আমি বললাম যা করছি সব তো আপনার রুমেই, তূর্য বললো কি করছো আমি তো কিছু দেখিনি।
আর তোমার এসব নিয়ে চিন্তা ভাবনা মা*থা থেকে ঝেরে ফেলো, তুমি কি বলতে চাইছো আমি বুঝতে পারছি, তোমার কোন কিছু আমি দেখিনি, যখন দেখতাম তুমি সিফিনের পাশে তখন ভিডিও ফুটেজ অফ করে দিতাম কারণ তোমার কাছে সিফিন নিরাপদ, আর সবচেয়ে বড় কথা তুমি সিফিনের মা,আমি কি ভাবে একজন মায়ের ভিডিও ধারণ করতে পারি তুমি বলো, টেনশন করার কোন দরকার নেই আমি সামনের মাসে আসবো তখন ক্যামেরা খুলে ফেলবো আমি বললাম না থাক, আমি বাসায় না থাকলে কি হয় না হয় দেখতে পারবেন, এই বলে কল কে*টে দিয়ে সিফিন কে নিয়ে অন্য রুমে চলে আসলাম।
আমার কলেজ ও খোলা ক্লাসে যেতে পারছি না সিফিন কে রেখে। ভাবছি কাল বাড়িওয়ালা আন্টির কাছে সিফিন কে রেখে কলেজে যাবো, তাই ওনাকে ফোন দিয়ে নিয়ে আসলাম, ওনি বলতে লাগলো তোমার জামাই কি জানেনা তোমার এক্সাম, আমি মনে মনে ভাবতে লাগলান ওনি জামাই কেন বললো,নাকি এখানে সবার সামনে আমরা জামাই বউ সেটা পরিচয় দিছে।
যাইহোক হয়তো বলছে।
আমি বাড়িওয়ালা আন্টির কাছে বললাম সিফিন কে একটু ওনার কাছে রাখতে, ওনি বললো এখন ওনি বাচ্চা সামলাতে পারবে না।আমরা রাজি হলে আমাদের ৩ রুমের একটি রুমের ওনি ভাড়াটিয়া এনে দিতে পারে, ফ্যামিলি নিয়ে থাকে জামাই বউ এমন ২ জন, তাতে হয়তো আমাদের ভালো হবে, আমি বললাম ঠিক আছে বাচ্চার বাবার সাথে কথা বলে আপনাকে ফোন করে জানিয়ে দিবো।আমি সিফিনের আব্বুর সাথে কথা বললাম ওনি বললো আমি যা ভালো মনে করি তাই করতে ওনার কোন সমস্যা নেই,, আমি ও চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম ভালোই হবে সিফিন কে ওদের কাছে রেখে কলেজে যেতে পারবো।
বাড়িওয়ালি মহিলা কে ফোন দিয়ে বললাম, ওনি বললো ঠিক আছে আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
পরেরদিন একটা ভাড়াটিয়া আনলো ছোট বাচ্চা আছে আমি না করে দিছি, তার ২ দিন পর আরেকটি ভাড়াটিয়া আনলো জামাই বউ ২ জন, বাচ্চা নেই, আমি রাজি হলাম, ওনারা সেই দিনই রুমে সিফট হয়ে গেছে, জামাই বায়িং হাউজে চাকরি করে, আর ওনার বউ বাসায়ই থাকে। ওনাদের সাথে পরিচয় হয়ে নিলাম, ওনারা সন্ধ্যা হলেই রুমের দরজা লাগিয়ে দেয় ঠিক মতো কথা বলতে ও পারছি না,
৪/৫ চলে যাবার পর একটু একটু ফ্রী হয়ে গেছি, তখন ওনাকে বললাম, আমার তো সকালে ক্লাস থাকে তুমি যদি বাবু কে একটু রাখো তাইলে ভালো হয় ওনি বললো ঠিক আছে।
তার পর থেকে আমি ক্লাস করতে গেলে সিফিন কে ওনাদের কাছে রেখে যাই।
এই দিকে তূর্য আসার সময় হয়েছে সামনে কোর*বানি ঈদ, কিন্তু তূর্য তো বললো সে এখানে না বাড়িতে যাবে, কারণ তার ছুটির সব কিছুর টিকেট ওর বাবা কেটে দেয়। আমি বলছিলাম এয়ারপোর্টে যাবো সিফিন কে নিয়ে, কিন্তু রাজি হয়নি।ওনাকে নিতে ওর বাবা মা আসবে এয়ারপোর্টে।আমাকে বললো তুমি বাসায় থাইকো কোন কিছু করতে হবে না, আমি বললাম ঠিক আছে কবে আসবেন আমাকে জানাবেন, তূর্য বললো ঠিক আছে।
এইদিকে আমার পরিবারের সবাই আমাকে বলছে আমাকে জ*ন্ম না দেওয়াটাই ওদের জন্য ভালো ছিলো। রমজান ঈদের পর থেকে এই কয়দিনে শুধু ২ বার আমার আম্মু ফোন দিছে, শেষ শুধু একবার বললো যা ভুল করছি এখন বাড়িতে গিয়ে যেন বাবার কাছে মাফ চাই, আমি আম্মু কে বলে দিছি সেটা এখন সম্ভব না,আমি বাড়ি যেতে পারবো না, তার পর থেকে আম্মু ও তেমন ফোন দেয় না,,
ঈদের বাকি আর ৪ দিন কালকে ভোরে তূর্য দেশে আসবে, আমি ওনার রুম গুছিয়ে রাখছি, ২১ দিনের ছুটি ওনার।উনি দেশে এসেই নাম্বারে ফোন দিছে, আমাকে বললো তোমার আর সিফিনের জন্য কিছু কেনাকাটা করো আমি বিকাশে টা*কা দিয়ে দিচ্ছি।
আমি বললাম না, যদি কিছু কিনে দিতে হয় তাইলে আপনি নিজে কিনে নিয়ে আইসেন, ছেলের জন্য যা মন চায় নিয়ে আইসেন, ওনি বললো তাইলে অপেক্ষা কইরো, ওনি ওনার বাড়িতে চলে চলে গেছে।
ঈদের আগের দিন রাতে ওনি আসলো বাসার কাছে এসেই ফোন দিলো আমি বললাম পারমিশন নিবার দরকার নেই সোজা চলে আসেন আপনার পোলা আপনার জন্য অপেক্ষা করতেছে। ওনি সোজা চলে আসলো বাসার ভিতরে, তার পর ওনার রুমে। আমি সিফিন কে নিয়ে ওনার রুমে গেলাম, ওনি ওনার ছেলেকে কোলে নিয়ে চুমু খেতে লাগলো।
ছেলের বাবা ছেলের জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসলো। আমাকে বললো আগের খেলনা গুলো ফেলে দিয়ো নতুন গুলো দিয়ে খেলবে এখন থেকে।আমি বললাম ঠিক আছে।এখন ব্যাগ থেকে আমার জন্য আনা জিনিস গুলো বার করতে লাগলো, মনে করছিলাম ছেলের জন্য অনেক কিছু আনলো কিন্তু ওনার ছেলের থেকে বেশি আমার জন্য নিয়ে আসলো।
আমাকে একে একে সব খুলে দেখাতে লাগলো, আমি বললাম এখন কিছু দেখাতে হবে না আগে আপনি খেয়ে নিন,আমি সেই কখন রান্না করে রাখছি আপনার জন্য। ওনি হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসলো, সিফিন ওর বাবার দিকে তাকিয়ে আছে, আমি ও ওনার ছেলের মতো তূর্যের দিকে তাকিয়ে আছি, ওনি আগের চাইতে সুন্দর হয়ে গেছে, দেখে মনে হয়না ওনি বিয়ে করছে ৮/৯ মাসের একটা ছেলে ও আছে ওনার, 😟
খাবার শেষ করে ওনি রুমে শুয়ে আছে আমাকে বললো ওনি একটু পর চলে যাবে বাড়িতে।এখন রাতে বাহিরে থাকা ওনার পক্ষে সম্ভব না।
আমি বললাম ঠিক আছে ঈদের দিন কিন্তু ছেলেকে আদর করে যাবেন, ওনি বললো ঠিক আছে।
তূর্য চলে গেছে, বলছে যদি পারে ঈদের দিন আসবে।
আমি সিফিন কে ভাবির কাছে রেখে ( আমাদের ফ্ল্যাটে যারা ভাড়াটিয়া তারা ও ঈদের বাড়ি যাবে না) আমি বাহিরে গিয়ে বাজার করে আনলাম, তূর্য এসেছে ওনার পছন্দ সব কিছু কিনে আনলাম।
ঈদের দিন সকাল থেকে তূর্য় কে ফোন দিতে লাগলাম কিন্তু সে ফোন ধরে না, সকাল গড়িয়ে রাত হয়ে গেছে ওনার কোন খোঁজ নাই, আমি সিফিন কে সাজিয়ে আমি ও একটু সাজলাম, শাড়ি পরলাম তূর্য যে শাড়ি কিনে দিছে ওটাই পরলাম, কিন্তু বাবুর আব্বুর কোন খবর নেই। একটু পর ভাড়াটিয়া ভাবি আর ভাইয়া আসলো আমার রুমে এসে বললো ওদের আত্মীয় আছে যদি পারমিশন দেই তাইলে নিয়ে আসবে বাসায়, আমি বললাম এতে পারমিশন কেন লাগবে আত্মীয় স্বজন আসবে এতে কোন সমস্যা নেই।
কিছুক্ষণ পর ওনাদের বাসায় মেহমান আসলো, সম্পর্কে নাকি ভাবির চাচা শশুর আর শাশুড়ী হয়, ওনারা কাল সকালে গ্রামে যাবে রাত টুকু এখানে থেকে।যেহুতো মহাখালী টার্মিনাল থেকে ওনাদের গাড়ি তাই এখানে আসলো, আমি বললাম কোন সমস্যা নেই।
আমি সিফিনকে নিয়ে রুমে দরজা লাগিয়ে শুয়ে আছি, টিভি দেখতেছিলাম, হঠাৎ কেন জানি মনে হলো মেহমান আসলো ওনারা কই থাকবে এক রুমে কেমনে থাকবে, ওরা জামাই বউ আর ওনারা শশুর শাশুড়ী, আবার আজকে ঈদের দিন, জামাই বউ যদি এক সাথে না থাকে তাইলে কেমনে হয়, তাই ভাবলাম এই রুম টা ওনাদের কে দিয়ে আমরা তূর্যের রুমে চলে যাই একটা রাতইতো, আমি গিয়ে ভাবি কে ডাক দিয়ে বললাম ভাবি আপনারা আমার রুমে থাইকেন আমি আর বাবু ওইরুমে থাকবো, ভাবি বললো ধন্যবাদ ভাবি, ( ওনি ও আমাকে ভাবি ডাকে🥰)
ওদের কে রুম দিয়ে আমি সিফিন কে নিয়ে শুয়ে পরলাম।সিফিন একা একাই খেলা করছে আমি ফোন টিপছি, একটু পর কে যেন দরজায় নক দিচ্ছে মনে হয় ভাবি, দরজা খুলে দিলাম সাথে সাথে তূর্য রুমে ঢুকলো।
আমি বললাম আপনাকে এতোবার ফোন দিলাম ধরলেন না কেন, ওনি বললো বাড়িতে আছি তাই ফোন সাইলেন্ট করা, তোমার ফোন দেখেই মি*থ্যা বলে এখানে চলে আসলাম, সকালে চলে যাবো, এই কথা শুনে আমার হাত পা কাপতে লাগলো, ওই রুম তো ভাবিদের দিয়ে আসলাম এখন আমি কই থাকবো,একবার দরজার সামনে যাই আবার রুমে চলে আসি, এখন কি করবো, তূর্যকে কেমনে বলি রুম খালি নাই, আর এখানেই বা ওনার সাথে কেমনে থাকবো, তা ও আবার এখনো শাড়ি খুলিনি,, তূর্য কে হাতমুখ ধুইতে বললাম ওনি বললো না এখন কিছুই খাবো না, বাড়ি থেকে খেয়ে এসেছি, আমি বললাম খাবেন কি না সেইটা পরে আগে হাতমুখ ধুয়ে তার পর বাবুকে কোলে নিন।
আমার কথা শুনে ওনি হাতমুখ ধুয়ে এসেছে, আমি বললাম চুপচাপ বসেন,
ওনাকে বসিয়ে প্লেট দিয়ে সেমাই নিয়ে ওনার সামনে দিলাম বললাম কিছু খান আর না খান এইটুকু খাবেন। তার আগে অল্প একটু বাবুর মুখে দিন আপনার জন্য সারা দিন অপেক্ষা করলাম, তূর্য আমার কথা মতো সেমাই একটু সিফিনের মুখে দিলো, আর একটু আমার মুখে আমি না করতে পারলাম না, লজ্জায় পরে গেছি।
সেমাই খেয়ে তূর্য বললো এখন আর কিছু খাবো না, সিফিন কে নিয়ে তোমার রুমে চলে যাও,আমি চুপচাপ দাড়িয়ে আছি একটু পর বললাম ওইরুমে মেহমান,তূর্য জানতে চাইলো কার মেহমান আমি বললাম ওইরুমের, কাল সকালে চলে যাবে, তূর্ব বললো তাইলে সিফিন কে নিয়ে এখানে শুয়ে থাকো আমি বাড়ি চলে যাই, আম্মু কে ফোন দিয়ে বলে রাখি গেইট খোলা রাখতে।
আমি বললাম না,এখন এতো রাতে কোথাও যেতে হবে হবে না,আপনি শুয়ে থাকেন, আমি সিফিন কে ঘুম পাড়িয়ে নিচে শুয়ে যাবো তূর্য বললো না তোমরা উপরই থাকো আমি নিচে শুয়ে থাকবো।
আমি উপরে শুয়ে সিফিন কে ঘুম পাড়িয়ে দিবার চেষ্টা করছি, কিন্তু ওরে বুকের দুধ খাওয়ানো ছাড়া ঘুমাবে না, এখন লাইট ও অফ করানো যাবে না,তাই অন্য সাইডে কাত হয়ে শুয়ে ফিডারটা হাতে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়ানের অভিনয় করতে থাকলাম, কিছুক্ষণ পর সিফিন ঘুমাইছে, ওরে এক সাইড করে তূর্কে বিছানায় শুইতে বললাম ওনি বললো না তুমি শুয়ে থাকো, আমি বললাম সমস্যা নেই আপনি উপরে আসেন, ওনি বিছানায় এক সাইডে শুয়ে পরছে, আমি নিচে বসে আছি, শাড়ি ও খুলতে পারছি না, ডিম লাইট অন করে দিছি যাতে ওনারা ঘুমাতে পারে।
সিফিনের পাশেই ওর বাবা শুয়ে আছে, মনে হয় ওনি সিফিন কে ধরছিলো সিফিন কান্না শুরু করছে,আমি গিয়ে ওরে কোলে নিয়ে রুমের মধ্যে হেঁটে হেঁটে কান্না থামালাম, এখন ওরে নিয়ে বিছানায় শুইতে হবে তা ছাড়া সিফিন ঘুমাবে না, যখন আমি বিছানা গেলাম তূর্য এক সাইড হয়ে গেছে সে ঘুমায় না,আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আজকে নাকি আমাকে অনেক সুন্দর লাগছে,, আমাকে জিজ্ঞেস করলো তোমার হাতের চুড়ি কই পায়ের নুপুর কই,আমি বললাম এই গুলো পরার সময় কই, এই গুলো পরলে বাবু রাখবো কেমনে তাই পরি নাই, তূর্য বললো এখন তোমার বাবু ঘুমাইছে এখন পরতে পারো, আমি বললাম এখন,ওনি বললো হ্যাঁ, ঈদের দিনই পরতে হয় ঈদের পর না, ওনার কথা রাখার জন চুড়ি আর নুপুর পরলাম এখন হাত নড়াচড়া করলেই শব্দ হয়, ওনি আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমাকে বললো লাইট অন করো,আমি বললাম না সিফিন উঠে যাবে তার পর ও ওনি শুনেনি লাইট অন করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে এখন আমার লজ্জা করছে।
,আমি আবার লাইট অফ করে দিলাম,
এখন আবার চুড়ি খুলতে লাগলাম কিন্তুু তূর্য আমার হাত ধরে ফেলছে,
হাত ধরে বললো খুলো না, এই ভাবে থাকো,ওনার হাত টা সরিয়ে আমি দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি, ওনি অনেক বার বললো শুয়ে থাকতে কিন্তুু আমি শুই না কারন তূর্যের কথা শুনে মনে হলো ওনি ঠিক নেই, ওনি ওনার মধ্যে নেই।
চলবে
