গল্প – গোপন সংসার
পর্ব -৪
লেখক : রিহান অরণ্য
নিজের বান্ধবী কে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম,যে মেয়ে আমাদের মেয়েদের সামনে ও মাথায় কাপড় দিয়ে রাখে সেই মেয়ে কি না একটা পুরুষ বাসায় থাকে বাচ্চার খেলনা নিবার জন্য বার বার রুমে আসে,সেই জায়গায় অর্ধনগ্ন হয়ে শুয়ে থাকাটা আমার কাছে সুবিধার মনে হলো না।
আমি রেশমি কে জিজ্ঞেস করলাম কিরে তর এই অবস্থা কেন সে বলে অনেক গরম লাগছিলো তাই, আমি বললাম রুমে এসি চলে তার পর কিসের গরম, সে এখন কোন কথা না বলে বলে ঘুমের মধ্যে কেমনে কি হলো জানি না, এটা বলে সে অন্য রুমে চলে গেছে।
আমি কথা না বাড়িয়ে স্যারের দরজা নক করলাম স্যার আমাকে দেখে বললো তুমি চলে এসেছো? আমি বললাম হ্যা সিফিনের জন্য খারাপ লাগছিলো, সিফিন ঘুমাচ্ছে তাই ওরে না নিয়ে নিজের রুমে চলে আসলাম।
রুমে গিয়ে সব গুছিয়ে শুয়ে পরলাম, জার্নি করে এসেছি তাই শুয়েই ঘুমিয়ে গেলাম, একটু পর সিফিনের কান্নার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে গেলাম, স্যারের রুম থেকে সিফিন কে নিয়ে আমার রুমে চলে আসলাম।
এই ছেলে এখন আর ঘুমাবে না,আমার ও ঘুম হবে না।
তাই ওর সব খেলনা গুলো খুঁজে খুঁজে এক সাথে করতে লাগলাম, হঠাৎ বিছানার নিচে একটা প্যাকেট পেলাম, উপর থেকে দেখে বুঝতে পারছিলাম না কি এটা, তাই খুললাম প্যাকেট টা, খুলে দেখি কনডমের প্যাকেট, আমি আগে কখনো দেখিনি কনডম তাই প্যাকেট উপর থেকে প্রথমে চিনতে পারি নি,,
কিন্তু কথা হলো কনডম কেন আমার বেডের নিচে,
তাও ইনটেক প্যাকেট, তাইলে কি রেশমি কে অর্ধনগ্ন অবস্থায়
দেখলাম, তারা তাহলে ওই গুলো করছে!
ছি৷ ছি, এ কেমন মানুষ ওরা, আর রেশমি বা কেমন একজন অপরিচিত পুরুষ কে সব দিয়ে দিলো,।
২ দিন হলো না ওদের পরিচয়,, কেমনে পারলো,,
আমার মনে এখন ঘৃণা সৃষ্টি হলো ওদের জন্য, আমি মেনে নিলাম পুরুষ মানুষ একটু অন্য রকম কিন্তুু রেশমি কেমনে রাজি হলো!ওয় তো নিজের ইচ্ছায় করছে।
সকাল বেলা আমি কনডেম প্যাকেট টা রেশমির বিছানার উপরে ফিক্কা দিয়ে বললাম যা করার এই রুমে করবি,আমার রুমে না, আর কনডম প্যাকেট কেন বাচ্চা নিয়ে নে, ভালোই হবে, আমার কথা শুনে রেশমি আর কোন কথা বললো না।
সিফিনের আব্বু তো আর ২ দিন পর চলে যাবে তখন রেশমি কে বাসা থেকে বের করবো, এখন যা মন চায় করুক।
এখন আগের মতো সিফিনের আব্বুর সাথে কথা বলি না রেশমির সাথে ও না,এখন এই বাসায় শুধু আমি আর সিফিন ২ জনে কথা বলি, যদি ও সে কথা বলতে পারে না তার পর ও
আমি বকবক করি আর সে হাত পা নাড়িয়ে সারা দেয়,
তূর্য যে দিন চলে যাবে তার আগের দিন রাতে আমার রুমে এসেছে, আমি ওনাকে দেখে একটু দূরে দূরে সরে আছি।
ওনি বলতে এসেছে, কাল সে চলে যাবে, ওর এক্সাম আছে আসতে অনেক দেরি হবে,
সব কিছু গুছিয়ে রাখছে, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যাবে, আমাকে অনেক গুলো টাকা দিয়েছে বললো এই গুলো রাখো, আর একটা কথা সিফিন তোমার কাছেই ভালো আছে, অন্য কারো কাছে গেলে কান্না করে,তোমার বান্ধবী হাজার চেষ্টা করার পর ও সিফিন কে রাখতে পারেনি, তুমি অল্পতেই পারছো ওর আম্মু হতে, আর কেন পারছো সেইটা আমি জানি,তাই কোন চিন্তা নেই আমার তুমি শুধু ওরে তোমার কাছে রেখো।
আমি হয়তো ৫/৬ মাস পর আসবো তবে এখানে থাকবো না, বাড়িতে থাকবো ২০/২৫ দিন আসার আগে তোমাকে জানাবো, আরেক টা রিকুয়েষ্ট যদি পারো তোমার বান্ধবী কে এখানে রেখোনা অন্য কোন মানুষ থাকলে নিয়ে এসো।
আমি ওনার কথা টার মানে বুঝতে পারলাম না, কেন বললো রেশমি কে বের করে দিতে, রেশমি থাকলে তো ওনারই ভালো সব কিছু পাবে রেশমির থেকে, নাকি এখন মজা শেষ ওর,, এসব চিন্তাভাবনা করে নিজের মাথা খারাপ না করে সিফিন কে নিয়ে শুয়ে পরলাম সকালে তূর্য নাস্তা না করেই চলে গেছে, আমার সকালে নাস্তা বানাতে দেরি হয়ে গেছে সিফিনের জন্য,
তূর্য চলে যাবার পর আমি ভাবতে লাগলাম,রেশমি কে কেন বের করে দিতে বললো, আমি তো এমনি বের করে দিতাম,তাইলে ওনি কেন বের করে দিতে বললো।
আমি স্যারের রুমে গেলাম ভাবছি এখন থেকে ওই রুমেই থাকবো, ওনার রুমে ওনার অনেক জিনিস পত্র রেখে গেছে, সব গুছিয়ে রাখলাম।
রেশমি কে ডেকে বললাম তুই মেসে চলে যা, আমি সিফিন কে নিয়ে বাড়ি চলে যাবো, মিথ্যা বলে আমি রেশমি কে বের করে দিলাম,আর কোন বান্ধবী কে আনবো না,ওরা উপরে উপরে ভালো কিন্তুু ভিতরে হিং*সায় ভর্তি।
রেশমি কে বের করে দিয়ে সিফিন কে নিয়ে একাই থাকতে লাগলাম, আমার পড়ালেখা একটু সমস্যা হয়ে যাচ্ছে ক্লাস যেতে পারছি না সিফিন কে রেখে।
সিফিনের আব্বু এখন থেকে সব সময় ভিডিও কল করে, সিফিন কে দেখার জন্য, আমি সামনে যাই না,অনেকবার বলছে সামনে আসতে কিন্তু যাইনি,কারণ কি জানি না, শুধু এটাই জানি ওনি রেশমির সাথে ওইসব করছে তার জন্য।
আমার লেখা পড়া সমস্যা হচ্ছে ওনাকে বললাম আরেক জন যদি থাকতো তাইলে ভালো হতো,
বাচ্চার জন্য এটা ওটা আনার জন্য বাহিরে যেতে হয়,
আমার নিজের জন্য যেতে হয়, তা ছাড়া ক্লাসে যেতে পারছি না।
ওনি বললো আরেক জন কে আনতে, টাকা যা লাগে ওনি দিবে, কিন্তুু এমন কাকে আনবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।
কোন ব্যবস্থা না পেয়ে এক জন কাজের মহিলা রাখলাম, আমি সকালে ক্লাসে চলে গেলে ওনার কাছে রেখে যাই।
ওনি সময় পেলে আমার জন্য রান্না করে রাখে।
যে দিন আমি বাসায় থাকি ওই দিন ওনাকে ছুটি দিয়ে দেই।
কিন্তু সমস্যা হলো সামনে ঈদের ছুটি,বাসায় গিয়ে ঈদ করতে হবে,সিফিন কে কি করবো কার কাছে রাখবো, তা ও আবার ১০/১২ দিন,যেখানে সিফিন কে রেখে সারাদিন বাহিরে থাকি না সেখানে ১০/১২ দিন কোনো দিন ও সম্ভব না।
আবার কাজের খালা ওনি ও গ্রামে ঈদ করবে ওনার ও ছুটি লাগবে।
বাড়ি থেকে কেউ ফোন দিলে এমনি তে অন্য রুমে গিয়ে কথা বলি কারণ বাচ্চার কান্না শুনলে আবার কি না কি মনে করে।
আম্মু কে বললাম ঈদের বাড়ি না গেলে হয়না সামনে তো পরিক্ষা তাই একটু পড়াশোনা বাড়ানো দরকার, আম্মু বললেন তর পড়া লাগবে না তারা তারি বাড়ি চলে আয়।
আমি কি করবো বুঝতে পারছি না, সিফিন আমার কাছে আমানত, আর ওরে নিয়ে বাড়িতে থাকার মতো কোন পরিবেশ ও নাই তা ছাড়া মানুষ নানান কথা বলবে তাই আমি বাড়ির কারো ফোন ধরি নাই, ঈদে বাড়িতে যাইনি, আব্বু আম্মু সবাই ফোন দিছে, যে বাসায় থাকতাম সেই বাসায় ও ফোন দিছে ওখান থেকে বলে দিছে আপনার মেয়ে আমাদের এখানে থাকে না,অন্য জায়গায় রুম নিয়ে থাকে, তা ও একা,
এসব শুনে বাড়ির সবাই ধরে নিছে আমি বিয়ে করে ফেলছি কাউকে কিছু না বলে, আরো বেশি সন্দেহ হলো আমি বাড়ি থেকে টাকা নেই না বলেছি এখন টাকা লাগবে না।
সব কিছু মিলিয়ে আমার উপরে সন্দেহ টা গভীর হলো ওদের।
আমি ও কিছু বলতে পারছি না, তাই সব কিছু এক সাইডে রেখে তূর্যের আমানত কে নিয়েই থাকার চিন্তা ভাবনা করলাম।
মনের মধ্যে এই আশা টুকু নিয়ে যে আমি কোন ভুল করিনি,কোন এক দিন আমার ফ্যামিলি আমাকে কাছে টানবে।
ঈদের দিন তূর্য আমাকে জিজ্ঞেস করছে তুমি বাড়িতে যাওনি তোমার পরিবার কেউ কিছু বলে নি, আমি বললাম,না স্যার সবাই কে বলছি তাই ওরা ও রাজি হয়েছে।
ঈদের দিন রাতে সিফিনের জ্বর উঠেছে, রাত টা অপেক্ষা করে সকালেই ডক্টরের কাছে নিলাম,তূর্য সারাক্ষণ আমাকে কলে রাখছে সিফিনের খবর নিবার জন্য, ৩ দিন পর জ্বর কমছে এই ৩ দিন যে কখন রাত আর কখন দিন গেলো বুঝতে পারলাম না। এইভাবেই ঈদের ছুটি পার হয়ে গেছে, গ্রাম থেকে কাজের মহিলা ও চলে এসেছে,
তূর্য সামনের ঈদে বাড়ি আসবে,২ মাসের কম সময়ের
আগে সে আসবে কিন্তু সে এখানে আসবে না তার বাড়িতে যাবে, আমি বললাম আপনি যেখানেই থাকেন ঈদ ছেলের সাথে করবেন ওনি বললো দেখা যাক, আমি বললাম সারা দিন একা একা বাসায় ভালো লাগে না, দেশে এসে বিয়ে করেন তাইলে ভাবির সাথে থাকলে সময় টা ভালো কাটবে।
ওনি এখন উল্টো আমাকে বিয়ে করতে বললো।জামাই নিয়ে এখানে থাকতে,আমি বললাম থাক আর দরকার নাই একাই থাকবো।
এইবার ঈদের ছুটি কাটিয়ে কাজের খালা দেশ থেকে তার নাতি কে সাথে নিয়ে এসেছে, মেরের ঘরের, বাসায় কাজ করার সময় এখানে নিয়ে আসে, আমি ও সিফিনের অনেক গুলো খেলনা ওরে দিলাম সে একা একা খেলে।
আমি যখন ক্লাসে চলে যাই তখন সিফিনকে রুমেই রেখে যেতাম, আর আমি কলেজ থাকলে কোন দিন ও তূর্য ফোন দেয় না, কিন্তুু হঠাৎ একদিন ক্লাসে থাকা অবস্থায় তূর্য ফোন দিছে,আমি বাহিরে গিয়ে ওনার সাথে কথা বলতে লাগাম,ওনি বললো তুমি বাসায় যাবে কখন, আমি বললাম এইতো একটু পরেই, তূর্য বললো তারা তারি যাও, আমি বললাম কোন সমস্যা হলো নাকি,ওনি বললো তোমার কাছে একটা ভিডিও পাঠাবো একটু দেখো তখন বুঝতে পারবা, একটু পর তূর্য ভিডিও পাঠালো, CCTV record সিফিন কে খালার নাতিন মা*রছে, এটা দেখে আমি তারা তারি বাসায় গেলাম, গিয়ে সিফিন কে কোলে নিলাম, দেখি ওর মুখ টা লাল, কাজের খালা কে বললাম আপনি থাকতে ওরে কেন মারলো,ভিডিও দেখাইলাম, ওনি বললো এসব তো আমি জানি না,আমি চেঁচামেচি করতে লাগলাম আপনি ওকে আমার ছেলের রুমে কেন পাঠালেন, কোন জবাব দেয়না ওনি, আমি সিফিন কে কোলে নিয়ে হাটাহাটি করতে থাকলাম তখন কাজের মহিলা তার নাতিন কে মা*রছে আর বলতে লাগলো কোন জায়গায় তরে নিয়ে শান্তি পাইনা,তর জন্য আজকে কাজের মেয়ের কথা ও শুনতে হয়, নিজের সন্তান হলে তো আমাকে মে*রেই ফেলতো,এই কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম খালা আপনি এসব কি বললেন, আমি এখানে কাজ করি না কি করি সেটা বড় কথা নয়,আপনাকে দ্বায়িত্ব দিছি দেখে রাখার জন্য আর আপনি এখন আমাকে নিয়ে কথা বলেন, আপনাকে আর কাজ করতে হবে না আজকে ১৩ তারিক আপনি ফুল মাসের বেতন নিয়ে এখনই চলে যান, এই বলে ওনাকে টাকা দিয়ে বের করে দিছি।
এখন আবার একা হয়ে গেলাম, তবুও ভালো নিজের কাজ নিজে করবো, কিন্তু মহিলার কথা টা মাথা থেকে যাচ্ছে না।
যেই না বললাম আমার ছেলেকে কেন মারলো অমনি বলে উঠলো আজেবাজে কথা।
রাতে সিফিন কে নিয়ে শুয়ে পরলাম, সেই আগের অভ্যাস রয়ে গেছে শুয়ে শুয়ে দুধ খাওয়া, তাই নিজরে গুলো ওর মুখে দিয়ে পাশাপাশি ফিডার থেকে খাওয়াই
আজকে তারাতারি ঘুমিয়ে গেছে, আমার ঘুম আসিতেছে না তাই ফোন টিপতে লাগালম,হঠাৎ করে মনে হলো তূর্য যে ভিডিও দিছে সেটা সে কই পাইলো,তার মানে রুমে কেমেরা লাগানো, সাথে সাথে উঠে জামাকাপড় ঠিক করে বসে পরলাম, কোন জায়গায় কেমেরা খুজতে লাগলাম, কোথাও খুঁজে না পেয়ে আলমারি উপরে একটা কিছু দেখা যাচ্ছে আমি নাগাল পাবো না, এতো উপরে,তাইলে ওটাই, কিন্তু কেমেরা কেন লাগালো,আমি যে প্রতিদিন রুমে সিফিন কে দুধ খাওয়ানোর অভিনয় করি সে গুলো তো তাইলে দেখছে, শুধু ওটা না মাঝেমধ্যে এসিতে সিফিনের কাশি হতো তাই এসি বন্ধ রেখে স্ট কিছু পরে থাকতাম
জামা কাপর চেঞ্জ করতাম তাইলে সব দেখে ফেললো
এখন নিজের কাছে লজ্জা লাগতে শুরু করলো,
চলবে।
