Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"একা তারা গুনতে নেইএকা_তারা_গুনতে_নেই পর্ব-১৮+১৯

একা_তারা_গুনতে_নেই পর্ব-১৮+১৯

#একা_তারা_গুনতে_নেই
— লামইয়া চৌধুরী।
পর্বঃ ১৮
জায়গাবদল হওয়ায় ভোরের দিকে দীপার ঘুম ভেঙে গেল। এমনিতে এক ঘুমে সে রাত এমনকি সকাল আর দুপুরও নিশ্চিন্তে পার করে দিতে পারে। নড়েচড়ে চোখ মেলতেই তার চোখ জলে ভরে গেল। কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল বালিশে। ঘুমের মাঝে হাত – পা তুলে দেওয়ার অভ্যাস তার। কাদিনের উপর পা তুলে রেখেছে সে। হাতটাও কাদিনের বুকে। কাদিন অবশ্য হাত দিয়ে কপাল ঢেকে চিন্তা করতে করতে যেভাবে শুয়েছিল সেভাবেই ঘুমিয়ে পড়েছে। দীপা উঠে বসল। তার পাশে তো এই মানুষটি থাকার কথা নয়। যাকে গোলাপের পাঁপড়ি ছিঁড়তে, খোঁপায় ফুল গুঁজতে, বৃষ্টিতে ভিজতে এতটা কাল ধরে ভেবে এসেছে তার থাকার কথা। থাকার কথা তার যার সাথে বিগত বর্ষাগুলোয় পিঁচঢালা পথে হেঁটেছিল। ডুবেছিল যার চোরাবালিতে। বিছানা ছেড়ে নেমে গেল সে। বারান্দার দরজা খুলে বারান্দার দাঁড়াল। চারদিক পাখিদের কিচিরমিচিরে মুখোরিত হচ্ছে। অন্ধকার খানিকবাদেই কেটে যাবে। আর দীপার কান্না? কখনো কি থামবে? দোলনায় বসে চোখ বুজল সে। তাহমিদ গতকাল তার বিয়েতে এসেছিল তাও প্রেমিকা সহিত। না ঠিক তার বিয়েতে নয়, নিজের বন্ধু কাদিনের বিয়েতে। কাদিন নাকি তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন। অথচ, দীপাকে কখনো সে কাদিনের নামটুকুও বলেনি। শুধু কাদিন কেন? কোনোদিন তাহমিদ তার অন্য কোনো বন্ধুদের সাথেও তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। না দিয়ে দিয়েছে তার পরিবারপরিজনেরর সাথে পরিচয় করিয়ে। অথচ, দীপা গতকাল খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে তাহমিদের নতুন প্রেমিকা তার বন্ধুমহলে বেশ সুপরিচিত। শুধু সুপরচিত’ই নয় ভাবি বলে পরিচিত। কাদিনও মেয়েটাকে ভাবি বলে কথা বলছিল!
সে যে এতদিন বোকার স্বর্গে বাস করছিল তাতে আর কোনো সন্দেহ রইল না তার। বোকাই ত সে। ঘুম ভাঙা চোখে যে মেয়ে তার স্বামীকে মানতে পারে না, যে এখনো চোখ মেলে তার প্রতারক প্রেমিককে দেখার জন্যে, সে বোকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
.
কাদিন আর কাইয়ূমের ঘরের বারান্দা পাশাপাশি। রিমা তার বারান্দায় সকালে কি একটা কাজে যেন এল। পাশের বারান্দায় চোখ পড়তেই ভ্রু কুঁচকে ফেলল। দীপা বারান্দার দোলনায় শুয়ে ঘুমাচ্ছে কেন? নতুন বউকে কি সারারাত বারান্দায় রেখেছিল কাদিন? এ কেমন কথা? হলুদ সন্ধ্যা থেকেই কাদিনকে চিন্তিত লাগছিল। কোনো সমস্যা হয়নি তো? রিমা চুল বাঁধতে বাঁধতে কাদিনের ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলো। রিমার জায়গায় অন্য কেউ হলে দেবর আর জায়ের মধ্যকার বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতো না। কিন্তু সে ভিন্ন। সে কাদিনের বড় বোনও। ধীর গলায় দরজা ধাক্কে কাদিনকে ডেকে তুলল। কাদিন আড়মোড়া ভেঙে দরজা খুলতেই রিমা ঘরের ভেতর ঢুকে দরজা আটকে ফেলল। বলল, “এসব কি হচ্ছে, কাদিন?”
কাদিন কাঁচা ঘুম থেকে উঠায় অনেককিছুই ধরতে পারছে না সে। তাই প্রশ্ন করল, “কি হবে?”
“দীপা বারান্দায় কি করছে? রাস্তা থেকে বারান্দা স্পষ্ট দেখা যায়। মানুষজন কি বলবে, কাদিন?”
কাদিনের এতক্ষণে খেয়াল হলো দীপা বিছানায় নেই। সে বারান্দার দিকে হেঁটে গেল। রিমাও পেছন পেছন গেল। বারান্দার ঠাণ্ডা বাতাসে আরাম পেয়ে দীপা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। কাদিন রাস্তার দিকে তাকিয়ে আতঙ্কিত হয়ে গেল। নীচ থেকে কেউ দেখে ফেলেনি তো? আর পাশের বাসার ওরা?
কাদিন প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে ডাকল, “দীপা? অ্যাই দীপা? উঠো। উঠো বলছি। তুমি এখানে কি করছ? দীপা?”
কাদিন এবার দীপার কাঁধ ধরে ঝাঁকুনী দিলো। দীপা ঘুম থেকে উঠে হকচকিয়ে গেল। রিমা ভাবি অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছেন। দীপা ঘাবড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়াল। কাদিন বলল, “তুমি বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলে! আশ্চর্য!”
দীপা বলল, “গরম করছিল বলে বাতাস খেতে বসেছিলাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি টেরই পাইনি।”
কাদিন রাগে কিছু বলতে পারল না। রিমা বলল, “কাদিন তোমায় উল্টাপাল্টা কিছু বলেছে? কোনো ঝামেলা হলে আমাকে বলো, লুকিয়ো না।”
দীপা বলল, “না, না তেমন কিছু না। আপনি কি করে জানলেন আমি এখানে?”
“তোমার পাশের ঘরটা আমার আর তোমার পাশের বারান্দাটাও।”
কাদিন আর নিজেকে সামলাতে পারছে না বলে সেখান থেকে সরে এল। এই মেয়ে জাস্ট রিডিকিউলাস! রিমা আপুকে প্রশ্ন করছে আপু কি করে দেখল। কোনো আক্কেল নেই। কত গাধী এই মেয়ে! কখনো, কোথায়, কি বলতে হবে সে সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞানও তার নেই।
.
কাদের সাহেব ঠিক করলেন বড় ছেলের মত মেজো ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানটাও তিনি নিজের গ্রামের বাড়িতেই করবেন। দীপাকে নাশতার টেবিলে বললেন, “তোমাদের বাড়ির লোকদের অসুবিধে হবে না তো, মা?”
দীপা বলল, “না, বাবা। অসুবিধা কেন হবে?..”
দীপা হয়তো আরো কিছু বলত। কিন্তু তার আগেই কাদিন খপ করে টেবিলের নীচে দীপার হাত চেপে ধরল। পাঠক, এই হাত চেপে ধরাকে কোনো প্রকার রোমান্টিসিজমের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করার দরকার নেই। এই হাত চেপে ধরার অর্থ, দয়া করে এখানেই থামো। বেশি বেশি বলো না তুমি। তুমি মুখ খুললেই আমি বিপদে পড়ব। দীপা এই হাত ধরার মানে কি বুঝল কী যেন! তবে হকচকিয়ে উঠল। দ্রুত হাত ছাড়িয়ে নিয়ে চুপ হয়ে গেল। কায়েস এসে একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল, “দীপা ভাবিকে জানালার পাশের চেয়ারটা দাওনা তোমরা।”
রিমা এই কথা শুনে হাসতে হাসতে কড়ির উপর ঢলে পড়ল। কড়িও ঠোঁট টিপে হাসছে। কাদের সাহেবও না হেসে পারলেন না। কাইয়ূম নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে বলল, “দীপা, নাও বোন তুমি এটায় বসো।”
দীপা লজ্জায় মাথা নীচু করে জিহ্ব কাটল, “ভাইয়া প্লিজ বসুন।”
কাদিনের মুখ থমথম করছে। সে চুপচাপ মুখে লোকমা তুলল।
কাণ্ডজ্ঞান ছাড়া বউ তার।
.
নাঈম সকালের নাশতা করতে মেস থেকে বেরুচ্ছিল। ইমাদ পিছু ডাকল, “নাঈম?”
নাঈম হাসতে হাসতে ইমাদের কাছে ফিরে গেল, “কি খবর, ইমাদ?”
“ভালো। একটা ভালো টিউশনীর সন্ধান আছে। তুমি চাইলে পড়িয়ে দেখতে পারো।”
নাঈমের চোখ চকচক করে উঠল, “কোন ক্লাস? কত দিবে?”
“দিবে ভালোই। রেসকোর্সের দিকে পারবে?”
“পারব, পারব আলবত পারব। বড় উপকার করলে ভাই।”
ইমাদ প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল বের করতে করতে বলল, “গার্ডিয়ানের নাম্বারটা মেসেজ করে দিচ্ছি। তুমি আগে কথা বলে দেখো।”
নাঈম ইমাদের কাঁধ চেপে ধরল, “নাশতা করেছ? এসো না একসাথে যাই।”
ইমাদ নাশতা করেনি তবুও বলল, “করে ফেলেছি। আরেকদিন।” সে নাঈমের কাছ থেকে ট্রিট নিতে নারাজ।
চলবে…

#একা_তারা_গুনতে_নেই
— লামইয়া চৌধুরী।
পর্বঃ ১৯
মঈনকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। সে আপাতত বাসায়’ই আছে। ডান হাতে আঘাত পাওয়ায় নিজে নিজে খেতে পারে না সে। শিল্পী’ই খাইয়ে দেয়। খাওয়ানোর সময়টায় শিল্পীর চেহারা দেখে মঈনের মনে হয় প্রতি লোকমায় সে এক ফোঁটা করে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে। কারণও আছে। সেদিন সে মঈনকে কলে কথা বলতে শুনে ফেলেছিল। ডিভোর্স এর বিষয়াদি নিয়ে উকিলের সাথে কথা হচ্ছিল। শুনে সে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। চুপ করেছিল। মঈন তা দেখে ভেবেছিল শিল্পী বুঝি তাদের আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা এতদিনে মেনে নিতে পেরেছে। কিন্তু তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। সেদিনের পর থেকে শিল্পী মঈন ছাড়া আর বাদদবাকি সবার প্রতি, সবকিছুর প্রতি খুব বেশি ক্রুদ্ধ আর নির্মম। যা সচরাচর ঘটে না, কয়দিন ধরে তাই ঘটছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে শিল্পী মুবিন, মিলা দুজনকেই ধরে ধরে মারছে। বাসার এটাসেটা ইচ্ছে করে ভাঙছে। এ যেন মঈনকে আর নিজেকে আঘাত করার এক নান্দনিক উপায়। তবে এতকিছুর পরও মঈনের দেখাশুনায় কোনো ঘাটতি নেই। সে যখন রাতে পাশ ফিরতে ব্যথায় গোঙিয়ে উঠে, কাতরায় তখন শিল্পী’ই অস্থির হয়ে উঠে। উঠে বসে ব্যাকুল হয়ে। মঈনের হাত চেপে ধরে বলে, “বেশি কষ্ট হচ্ছে না তো? কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো তো।”
সম্পর্কগুলো কত দুর্বল আবার দৃঢ়ও। চাইলেও ধরে বেঁধে রাখা যায় না তা যেমন সত্য, ইচ্ছে হলেই সম্পর্ক ছিন্নও করা যায় না। এ এক অদ্ভুত সুঁতোর খেলা।
থালার শেষ লোকমাটা মাখতে মাখতে শিল্পী দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মঈন হঠাৎ বলে উঠল, “আমার খাবারে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে যে তোমার হয় তা আমি জানি। নিজের উপর মানসিক অত্যাচার করে আমার সেবা করার কোনো দরকার নেই। আমি দেখি একটা লোক রাখব কদিনের জন্য।”
শিল্পী খুব স্বাভাবিকভাবে বলল, “মেয়েলোক রেখো। তোমার সুবিধা হবে।”
শেষ লোকমাটা হাতে নিয়েই প্লেট সহ শিল্পী ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
.
মিলার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। ২ ঘণ্টার পরীক্ষা ছিল। সকাল আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত। সুহার পরীক্ষা মোটামুটি হয়েছে। অত ভালো না। তা নিয়ে অবশ্য সুহার কোনো মাথাব্যথা নেই। সুহা বলল, “মিলা, চল না, ডিএসপি দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাই।”
ডিএসপি মানে ধর্মসাগরপার। লোকজন পণ্ডিতী করে ইংরেজী বানানের প্রথম অক্ষরগুলি নিয়ে ধর্মসাগর পাড়কে ডিএসপি বানিয়ে ফেলেছে। মিলা বলল, “না আজ না। আরেকদিন। আজ হাতে ভালো সময় আছে। দুই তিন ঘণ্টা পড়লেও এক, দুইটা চ্যাপ্টার রিভাইস দেয়া যাবে। স্কুলে যেহেতু যাওয়াই হয়নি সময়টা নষ্ট করা যাবে না।”
সুহা বিরক্ত হলো খুব। মিলা তবুও গেল না। গলি থেকে বেরিয়ে মূল রাস্তায় এসে দুজনই অটোতে উঠে বসল। সুহা সামনেই নেমে যাবে। তার বাসা কাছাকাছি। অটোটা একটু চলেই সুহার বাসার কাছে যাওয়ার আগে আগেই একবার থামল। অটোচালকের পাশের সিট খালি না হওয়ার তখনি অটোতে তাদের সিটের ঠিক উল্টোপাশে চিত্তগ্রাহী এক পরিণত যুবক উঠে বসল। দোহারা গড়নের লম্বাটে চেহারার ছেলে। উচ্চতায়ও বেশ। মেদহীন চিবুকের প্রশস্ততা এবং দৈর্ঘ্য চোখে পড়ার মত। পোশাকআশাক মলিন। সাদা শার্ট, কালো জিন্সের প্যান্ট। পায়ের গোড়ালির কাছে প্যান্ট ফেঁসে আছে। পায়ে বাটার স্যান্ডেল। সুহা খেয়াল করল মিলা সাথে সাথে কেমন জড়সড় হয়ে গেছে। হাত পা আরো গুটিয়ে বিনম্র ভঙ্গিতে বসার চেষ্টা করছে। নত গলায় সালামও দিলো। পরিচিত নাকি? ছেলেটি সালামের উত্তর দিয়ে জানতে চাইল, “স্কুলে যাওনি আজ?”
মিলা বিনয়ের সাথে বলল, “স্যার, প্রাইভেটে আজ মডেল টেস্ট ছিল।”
“আচ্ছা।”
এরপর আর কোনো কথা হয়নি। নেমে যাওয়ার আগে ইমাদ শুধু বলে গেল, “ভালো করে পড়ো। ইউ আর আ জিনিয়াস।”
মিলা একবার ভাবল বলবে, স্যার, আপনার কাছে আবার পড়তে চাই। কিন্তু সাহসে কোলায়নি। তাই বলল, “দোয়া করবেন, স্যার।”
ইমাদ মিলার মাথায় হাত রেখে চলে গেল। অটো আবার চলতে শুরু করেছে। সুহা প্রায় লাফিয়ে উঠে মিলার হাত চেপে ধরল, “এটা তোর স্যার? মাই গশ! আ’ম ডেড। দোস্ত মারাত্মক লেভেলের ক্রাশিত আমি।”
মিলা বিরক্তিতে চোখ উল্টে বলল, “শিক্ষকরা পিতা সমতুল্য হয় মেয়ে।”
“রাখ তোর পিতা সমতুল্য। ওসব বাপের বয়সী স্যারদের জন্য বলা কথা। উনি কি আমার বাপের বয়সী? তাছাড়া, উনি তোর স্যার। আমার না।” মিলা অবাক হয়ে সুহার দিকে তাকিয়ে রইল। সুহার চোখেমুখে অস্থিরতা।
.
কাদিন বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দীপার কেন যেন খুব মায়া হয় লোকটার জন্য। বারবার মনে হয় ইশ উনার প্রেমটা কেন টেকেনি? সে নাহয় পোড়াকপালী। কিন্তু কাদিনের প্রেমটাও রক্ষা হলো না? কড়িরও ত সেই একই কষ্ট। আচ্ছা সব প্রেম শুধু ভেঙে যায় কেন? প্রেম বোধহয় কাঁচের শিশিতে রাখা বিষ। শিশি ভেঙে হয় টুকরো টুকরো, আর আকণ্ঠ বিষের জ্বালা। দীপার কাদিনের সাথে গল্প করতে ইচ্ছে হলো। লোকটা এত কম কথা বলে! সে পায়ে পায়ে গিয়ে কাদিনের পেছনে দাঁড়াল। কাদিন বারান্দার রেলিং এ দুহাতের কনুই রেখে ঝুঁকে ছিল বাইরের দিকে। দীপা বলল, “আপনার বন্ধুবান্ধব খুব কম, তাইনা?”
কাদিন সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “বোধ হয়।”
“আপনি কি সবসময় এত কম কথা বলেন?”
কাদিন উত্তর করল না। দীপা বলল, “আপনার বোধহয় মন খারাপ। কেন বলুন তো?”
কাদিন দীপার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। চোখে চোখ পড়ে গেল দুজনের। দীপা চোখ সরিয়ে নিলো। তবে থামল না। সে আজ জেনেই ছাড়বে কাদিন সাহেবের কাহিনী কি! তাই বলল, “আচ্ছা আপনার কোনো মেয়ে বন্ধু নেই?”
“মানে?” কাদিন একটু অবাক। তার ভ্রুজোড়া বেঁকে গেছে।
দীপা কথা ঘুরিয়ে ফেলল, “না, বিয়েতে শুধু আপনার বন্ধুদের দেখেছি। কোনো বান্ধবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেননি তাই বলছিলাম আরকি।”
কাদিন আবার সামনের দিকে তাকাল। মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশে। সে বলল, “কোনো বান্ধবী নেই আমার।”
দীপা বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে ফেলল, “বলেন কি! স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি কোথাও কোনো মেয়ে বন্ধু হয়নি আপনার?”
“না।”
“কলিগদের মাঝেও কেউ না?”
“না।”
“আমি কিন্তু আপনার প্রেমিকা টেমিকার কথা জানতে চাইনি। অমনি বান্ধবীর কথা জানতে চেয়েছি। আমার সাদা মনে কাদা নেই।”
কাদিন ছোট করে বলল, “জি, বুঝতে পেরেছি।”
দীপা নিজের গালে হাত রেখে বলল, “অবাককাণ্ড! আপনার সাথে আমার এত মিল কি করে!”
“মিল?” কাদিন এবার রেলিং ছেড়ে পুরোপুরি ঘুরে তাকাল।
“হ্যাঁ।”
“মিল কি করে হয়? বিয়েতেই তো তোমার বন্ধুদের দেখলাম।”
“হ্যাঁ মিল’ই তো। আপনারো এ জীবনে কোনো মেয়ে বন্ধু নেই, আর আমারো।”
কাদিন হতাশায় ডানেবায়ে মাথা নাড়তে নাড়তে আবার বারান্দার রেলিং ধরে বাইরের দিকে ঘুরে দাঁড়াল।
.
নাঈমের জন্য নিজের টিউশনিটা ছেড়ে দিয়ে ইমাদ একটু বিপাকেই আছে। একটামাত্র টিউশনীতে ওর হয়না। অন্তত দুইটা না হলে না’ই হয়। আগে তিন জায়গায় পড়াত সে। মিলা, মুবিনেরটা ছেড়ে দেওয়ার পর হাতে ছিল দুটো টিউশনী। নাঈমের জন্য একটা ছেড়ে দিয়ে এখন কি করবে তাই ভাবছে। সরু, অন্ধকার গলির ভেতর দিয়ে হেঁটে মেসে ফিরছিল সে। পাশেই একটা ডাস্টবিন। দুটো ছোট কুকুরছানা ডাস্টবিনের ময়লায় খেলা করছে। একটা বাদামী রঙের, অন্যটা সাদার মাঝে কালো কালো ছোপ। আহ্লাদে ঘেউ ঘেউ করতে করতে গড়িয়ে পড়ছে একটা অারেকটার উপর। বলা হয় নিঃশ্বাস আটকে মানুষ মরে! কিন্তু ইমাদ জানে এখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ভুলেও কেউ নিঃশ্বাস ফেললে নিশ্চিত তার মৃত্যু হবে। হাতের পাঁচ আঙুলে নাক চেপে ধরে ইমাদ দ্রুত পা ফেলল সামনের দিকে। পকেটে মোবাইল বাজছে। মোবাইল হাতে নিয়েও রিসিভ করল না সে। অচেনা নাম্বার। গলিটা পেরিয়ে তারপর নাহয় কলব্যাক করা যাবে। এখানে কথা বলতে গেলে শহীদ হতে হবে! কিন্তু, মোবাইল বেজেই চলেছে। বারবার কল আসছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে ভেবে ইমাদ হাঁটা বাদ দিয়ে দৌড়ে গলি থেকে বের হয়ে এল। নাক থেকে হাত সরিয়ে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে কল রিসিভ করল সে, “হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।”
ওপাশ থেকে রিনরিনে একটা মেয়েলী গলা ভেসে এল, “ইমাদ বলছেন?”
“জি, ইমাদ বলছি। স্যরি, আপনি কে বলছেন?”
সুহা নিজের পরিচয় লুকিয়ে বলল, “আমার নাম নেই। আমি অনামিকা।”
চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ