Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুরক্তি অন্তরিক্ষঅনুরক্তি অন্তরিক্ষ পর্ব-১৩+১৪

অনুরক্তি অন্তরিক্ষ পর্ব-১৩+১৪

#অনুরক্তি_অন্তরিক্ষ [১৩ পর্ব]
তাসনিম তামান্না

-‘ তুই আর শান কি ঝগড়া করছিস? ‘

-‘ তেমন কিছুই না মনি। তোমার এসব কে বলল মনি? ‘

-‘ আমাকে কে বলবে আমি শুনতে পাইছি রুম থেকে ‘

-‘ খালা বলছে না? খালা…’

সুমী রুমের বাইরেই ছিল জারা ডাকতেই রুমে আসলো। জারা সুমীর দিয়ে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল

-‘ তুমি আমার সাথে কথা বলবে না খালা ‘

-‘ ও আম্মা কি কও এসব ‘

-‘ ওকে বকছিস কেনো? কি হইছে সেটা আমাকে সরাসরি বল নাহলে আমি বুঝবো কেমন করে ‘

-‘ তেমন কিছুই হয় নি মনি তোমার ছেলে সারাক্ষণই আমার সাথে পাগলা ষাঁড়ের মতো হমড়িতমড়ি করে বাদ দাও তো পাগলা ষাঁড়ের কথা আমি ধরি না ‘

শান জারার রুমের সামনে দিয়েই যাচ্ছিল। তখনি জারার কথা শুনে থেমে যায় রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রুমে ডুকে বলল

-‘ কি বললি তুই? আমি পাগলা ষাঁড়! ‘

জারা ঘাবরালো না। জারা মুখ বাকিয়ে বলল

-‘ ওমা আমি কখন বললাম আপনি তো নিজেই নিজের মুখে শিকার করলেন আপনি পাগলা ষাঁড় ‘

শান্তি বেগম আর সুমী মুখ টিপে হাসলো ওদের হাসতে দেখে শান রেগ বলল

-‘ তোকে তো আমি পরে দেখে নিবো ‘

জারা কোনো কিছু না ভেবেই ভাব নিয়ে বলল

-‘ পরে কেনো দেখবেন এখনি দেখেন আমি আপনার সামনেই দাড়িয়ে আছি। ‘

শান বাঁকা হেসে বলল

-‘ উহুম না থাক এখন দেখলে তুই লজ্জা পাবি পরেই দেখে নিবো ‘

বলে চোখ টিপ দিয়ে চলে গেলো। শান কি মিন করছে সকলে বুঝতে পারলো জারা লজ্জায় কান গরম হয়ে গেলো মুখে রক্তিম আভা ফুটে উঠলো। শান্তি বেগম কিছু না শোনার ভান করে চলে গেলেন সাথে সীমাকেও নিয়ে গেলে সকলে চলে যেতেই জারা বিরবির করে বলতে লাগলো

-‘ অ’স’ভ্য বেহা/য়য়া নি/ল/জ্জ ছেলে একে বারে ঠোঁট কাটা কোথায় কি বলতে হয় জানে না। বিদেশের ছোঁয়া লাগছে তো এমন তো হবেই ‘

জারার বিরবিরের মাঝে নিচ থেকে ডাকলো। শান্তি খেতে ডাকছে। আসলাম আর ইশাও চলে এসেছে। জারা চিৎকার দিয়ে বলল

-‘ আসছি ‘

জারা কিছুক্ষণ পর পরই নিচে নামলো শান্তি বেগম সার্ভ করে দিচ্ছিলেন। জারা ইশা পাশে বসে পড়লো উল্টো পাশে শান বসেছে। জারা নিজেকে স্বাভাবিক রেখে ইশাকে প্রশ্ন করলো

-‘ পরিক্ষা কেমন হলো? ‘

-‘ হয়েছে মোটামুটি জানি না কি হবে ‘

শান ফোড়ন কেটে বলল

-‘ ফেল করলে বাসা থেকে বের করে দিবো ‘

ইশা রেগে বলল

-‘ তুই চুপ কর শান ‘

-‘ আমি তোর বড় রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলবি ‘

-‘ পারতাম না ‘

আসলাম বললেন

-‘ আহা হচ্ছে টা কি? ‘

-‘ তোমার ছেলেই তো আমাকে খেচাছে কেনো? ‘

আসলাম কৃত্রিম কপট রাগ দেখিয়ে বলল

-‘ শান চুপ করে খাও ‘

ইশা শানের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি দিলো।
জারা বলল

-‘ আর কয়টা এক্সাম আছে? ‘

-‘ আর দুইটা ‘

শান্তি বেগম ভাজি দিতে দিতে বলল

-‘ জিহানের মা ফোন দিয়ে ছিল আমাদেরকে ওদের বাসায় যেতে বলছিল ইশার এক্সাম শেষ হলে এনগেজমেন্টটা করিয়ে রাখতে চাইছেন আমি তেমন কিছুই বলতে পারলাম না তোমার আর শানের কাছে শুনে বলবো বলছি ‘

ইশা স্থির হয়ে গেলো। শুকনো ফাঁকা ঢোক গিললো। অস্বস্তি আর লজ্জায় টইটম্বুর হয়ে গেলো। মাথা নিচু করে বসে রইলো ইশা অবস্থা দেখে জারা মুচকি হাসলো কিছু বলল না সব মেয়েরাই বিয়ের কথা শুনলে লজ্জা ভয়ে আরোস্ট হয়ে যায়।

শান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল

-‘ হুম ছেলে ভালো আমি খোঁজ নিয়েছি আর ইশাও যখন ছেলেটাকে ভালোবাসে তখন আর না করার কিছু নাই আম্মু ‘

আসলাম বলল

-‘ ওরা সুখী হলেই সব আর যেখানে ইশার অমত নেই ছেলেও ভালো না করার কোনো প্রশ্ন আসছে না ‘

আর কেউ কিছু বলল না পরিবেশটা গুমোট হয়ে গেলো। একটা মেয়ের যখন বাসায় বিয়ের কথা উঠে তখন সেটা সুখের আবার অন্য দিকে বিদায়ের কষ্ট সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক অনুভূতি।

_____________

হাতে ব্যথায় জারার রাতে জ্বর আসলো। জারা অল্প জ্বরেই ঔষধ খেলো তবুও জ্বর কমার নাম নেই। জারার যত বারই জ্বর আসুক না কেনো ততো বারই হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছে। হসপিটালে ভর্তি না হলে যেনো সে জ্বর কমতেই চাই না কি অদ্ভুত সে জ্বর।

সকালে উঠে জারার জ্বর একটু কমেছে তবুও মাথা ঝিম ধরে আছে। মাথায় ব্যথায় টিসটিস করছে। কিন্তু শুয়ে থাকলে তো চলবে না আজ কেসের লাস্ট ডেট সব প্রুফ পেস করতে হবে কোটে। জ্বর জারাকে দমাতে পারলো না জারা জ্বর গায়ে চলে গেলো কোটে সকালে খাই ও নি কেউ জানেও না জারার জ্বর।

কোটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে জারা রুহানের অপেক্ষায় কিন্তু রুহান এখনো অপরাধীদের নিয়ে আসি নি। জারার দাড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে তবুও দাড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষণ পররেই রুহান এলো।

-‘ কি রে ওরা মুখ খুলেছে কিছু বলছে ‘

-‘ না রে দোস্ত তোদেরকে এতো মা’র’ছি কাল রাতে তবুও মুখ খুলে নি ‘

-‘ কিন্তু এখনো তো ১জন অপরাধী মিসিং ভিকটিমের দেওয়া ছবির বননার সাথে দুই জনের মিল আছে আর একজন কে সে? আর এর পিছনে এদের বস কে? ‘

-‘ হুম কিন্তু ও বলছি ৫ জন ছিল তার মধ্যে থেকে আমরা তিনজনকে পাইছি এখনো দুইজন মিসিং ‘

-‘ কি হবে তাহলে এই কেসটায় ‘

-‘ জানি না আর এতো টেনশন নিতে পারছি না ‘

-‘ আচ্ছা দেখা যাক কোটের রায় কি আসে আরো কয়দিন ডেট বারায় ‘

-‘ হুম দেখা যাক তুই কি অসুস্থ? চোখ মুখ এমন লাগছে কেনো? ‘

-‘ আরে দূর না আমার কি হবে? চল ভিতরে চল ‘

কোটের জারা একে একে সকল প্রমান কোটে পেস করলো। জারা তাকালো দূরে বসে থাকা ভয়ার্ত কিশোরী মেয়েটার দিকে মেয়েটার নাম ও পুতুল দেখতেও পুতুল গায়ের রং শ্যামলা হলেও চেহারা একটা মায়া আছে যে মায়ায় জারাকে খুব করে কষ্ট হয়। এতটুকু মেয়ে এই বয়সে কি-না এতো বড় দাগ লাগলো তার জীবনে। মেয়েটার তো এখন হেসেখেলে জীবন কাটানো উচিত কিন্তু না তার জীবনের পৃষ্ঠা ভিজে উল্টো পাল্টা হয়ে গেছে কিছু জা/নো/য়া/রদের জন্য।

কোলাহল সৃষ্টি হলো জারা পুতুলের দিক থেকে চোখ সরিয়ে দেখলো অপরাধীগুলো নিচে পড়ে আছে। জারা চমকালো। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। কি হলো বুঝতে পারছে না এইতো ঠিক ছিল আবার কি হলো? রুহান জারার কাছে এসে বলল

-‘ সব শেষ দোস্ত ওরা সু/ই/সা/ই/ড করছে’

জারা মাথা ব্যথা বারতে লাগলো। কোটের ভিতরে হইচই চেচামেচি বেঁধে গেলো লা-শ গুলো বাইরে নিয়ে গেলো।

ল্যান্ড লাইনে ফোন বাজছে সুমি এসে ফোন রিসিভ করলো পুরোটা না শুনেই কান্নাকাটি জুড়ে দিলো। বাসার সকলে জড়ো হলো এক জায়গায়।

চলবে ইনশাআল্লাহ

#অনুরক্তি_অন্তরিক্ষ [১৪ পর্ব]
তাসনিম তামান্না

নিকষ গভীর আঁধার রাত চারিদিকে কৃত্রিম আলোই ভরপুর হসপিটালের সামনের রাস্তায় জনজাট রাত গভীর হলেও মানুষের ব্যস্ততার শেষ নেই। ফিনাইলের গন্ধে ক্লান্ত চারি দিক। নির্ঘুম রাত চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে অক্লান্ত চোখে তাকিয়ে আছে প্রিয়শীর দিকে। অস্থির মনে মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে অপেক্ষা তার চোখ খুলে তাকানোর। মাথায় টিসটিস ব্যাথা নিয়ে জারা নড়েচড়ে উঠে শান মাথা থেকে হাত সরিয়ে নেয় জারা আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকায় ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখে চারিদিক বুঝতে অসুবিধা হলো না সে কোথায়। হঠাৎ নিজের ওপর বিরক্ত আসলো বিরক্তিতে চোখমুখ কুঁচকে ‘চ’ শব্দ করে ঘুমঘুম কন্ঠে নিজেই বলল

-‘ জীবনে ভালো হবি না তুই সবাইকে টেনশন দিতে এতো ভালো লাগে তোর ওফ্ফ কাল আরও কয়েকটা ঔষধ খেলাম না কেন? তাহলে আর জ্বর আসতো না ‘

জারা মাথায় হাত দিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে নিলো। শান শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে। ঘুম কন্ঠ শুনে তার হার্ট বিট যেনো কয়েকগুণ বেরে গেছে। শান নিজের বুকের বা পাশে হাত দিলো। নিঃশব্দে সাবধানে শ্বাস ফেলতে লাগলো।

হসপিটালের জারার সাথে কে আছে মাথায় আসতেই জারা চট করে চোখ খুলে নিলো চোখ ডলতে ডলতে পাশে তাকিয়ে শানকে দেখতে পেয়ে থেমে গিয়ে ঘুম কন্ঠে বলল

-‘ আপনি? এখানে? ‘

শান গলা ঝেড়ে বলল

-‘ অন্য কেউ থাকার কথা ছিল না-কি? ‘

জারা কি বলবে খুঁজে পাচ্ছে না এই লোকটা সবসময় ত্যাড়ামো করে কোনো কথা সোজাসাপটা উত্তর দিতে পারে না। যা বলবে সব ঘুড়িয়ে প্যাচিয়ে যা জারার মোটেও পছন্দ নয়। জারা অকপটে বলল

-‘ থাকার লোকের তার অভাব নাই তাই শুনছিলাম এতো ভালোবাসার লোক থাকতে আপনি ই কেনো? ‘

-‘ বাবা জানতাম না তো তোর এতো ভালোবাসার মিলিয়ন বিলিয়ন লোকজন আছে জানলে আর থাকতাম না ‘

জারা আর কিছু বলল না। কথায় কথা বাড়বে ঝগড়া লাগবে। ঝগড়া করার মুড বা মন মানসিকতা কোনোটাই নাই শরীরেও আর কুলাছে না। জারা চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো। শান কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল

-‘ শরীর কি খুব বেশি খারাপ লাগছে? কিছু খাবে? ‘

জারা চুপ থেকে ভাবলো ২ মিনিট পর উত্তর দিলো।

-‘ খেতে ইচ্ছে করছে না ‘

জারার কথা শুনে শান বাইরে চলে এলো। জারা শব্দ পেয়ে চোখ খুলে দেখলো শান নেই। জারা বিরক্ত হয়ে নিজে নিজে বলল

-‘ আমার কথা যখন শুনবি না তখন জিজ্ঞাসা করার কি মানে খবিশ লোক কোথা কার এবার যদি আমারকে জোর করে খাওয়াতে এলে একটা কিক্ মেরে দিবো। দূর! বাসায় যাবো কাল-ই হসপিটালে কার ভালো লাগে? ‘

কথার মাঝে শায়রী আসলো সাথে শান ও। জারা তাকালো শায়রী দাঁত কেলিয়ে বলল

-‘ কি রে চাশমিশ কেমন আছে? হসপিটালে থাকবেন না কেনো হসপিটাল তো আপনার ফেবারিট জায়গা ‘

-‘ একেবারে ফাউল কথা বলবি না ‘

-‘ তাইলে খাস না কেন ঠিক মতো নিজের খেয়াল রাখিস না কেনো? ‘

-‘ তুই কথা না বলে ক্যানেলা খোল ‘

শায়রী জারার হাতের ক্যানেলু খুলতে খুলতে বলল

-‘ হুহ বুঝলাম আন্টিকে বলতে হবে তোর বিয়ের কথা বিয়ে দিলে তোর বর তোকে পি’টি’য়ে খাওয়াবে ‘

কথাটা বলে শায়রী আড়চোখে শানের দিকে তাকালো শান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে শায়রীর কথা জারার কানে গেলো ঠিকি কিন্তু প্রতিত্তোর করলো না। চোখ খিঁচে চাদর খামছে শুয়ে রইলো। ব্যাথা পেতেই ‘আহ’ করে উঠলো।

-‘ শেষ ‘

জারা চোখ খুলে বা হাত দিয়ে ডান হাত বুলিয়ে বলল

-‘ ডান হাতে দিসিস কেন বা হাতে দিতে পারিস নি ‘

-‘ তোর হাতের শিরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না তাই ডান হাতেই দিসি ‘

-‘ খুব ভালো করছেন আপনি ‘

-‘ হ আমি জানি আমি সবসময় ভালো কাজেই করি তোর চোখে চশমা ছাড়া যে চোখে পরলো আমি ধন্য হয়ে গেলাম তো বলে ফেল কি খাবি কি খেতে ইচ্ছে করছে? ‘

-‘ তোরে খেতে ইচ্ছে করছে ‘

শায়রী লজ্জা মিশ্রিত হাসি দিয়ে হেলে দুলে বলল

-‘ ছিঃ ছিঃ এসব কি কস আমার বর…’

শায়রী আর কিছু বলতে পারলো না জারা ধমক দিয়ে বলল

-‘ দূর হ আমার চোখের সামনে থেকে ‘

শায়রী মুখ ভেংচি কেটে বলল

-‘ যাচ্ছি একেবারে বাড়ি যাচ্ছি আর আসবো না ‘

-‘ হ যা তোর তো আজ রাতে ডিউটি না তাহলে আছিস কে দূর হ কাল সকালে যেনো তোকে আমার সামনে না দেখি ‘

-‘ কিছু বললেন আপনি? ‘

শায়রী চলে গেলো চোখ বন্ধ করে নিলো। শান হটপট থেকে স্যুপ বোলে স্যুপ ঢেলে চামশ নিয়ে জারার পাশে বসলো। বাড়ি থেকে শান্তির পাঠিয়ে দিয়ে ফোন দিয়ে বলল দিয়েছে জারার ঘুম ভাংলেই জেনো জারাকে খেতে দেয়। শান বলল

-‘ উঠে বসো খেয়ে নাও ‘

জারা চোখ খুলে স্যুপ দেখে বলল

-‘ এটা কোথায় পেলেন এখন? ‘

-‘ বাসা থেকে পাঠিয়ে দিয়েছিলো ‘

-‘ ও কিন্তু আমার খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। ‘

-‘ খেয়ে নে তারাতাড়ি তোর সাথে ঢং করার কোনো ইচ্ছে বা শখ কোনো টাই নাই মা বলে দিয়েছিল বলে তোকে খেতে বলছি না হলে তাও বলতাম না ‘

জারার উল্টো প্রশ্ন করে বলল

-‘ আপনি খেয়েছেন? ‘

শান চুপ থেকে উত্তর দেয়

-‘ কেনো আমি খাবো না কেনো? আমার শোক লাগছে যে আমি খাবো না? বেশি কথা না বলে উঠে বস খেয়ে নে ‘

-‘ বমি করে দিলে ‘

-‘ করবি তাও খাবি ‘

জারা জানে শানের সাথে পারবে না যত যায় করে হক জারাকে যখন খাবাবে বলছে তখন খাবাবেই জারা উঠে বসে বলল

-‘ দিন খাচ্ছি ‘

শান ফট করে বলল

-‘ হা কর আমি খাইয়ে দিচ্ছি ‘

জারা চমকে তাকালো শানের দিকে শান জারা মুখে স্যুপ দিয়ে বলল

-‘ মটেও ভাববি না আমি তোকে ভালোবাসি তোর হাত ফুলে আছে ব্যথা তাই খাইয়ে দিলাম ‘

জারা কিছু বলল না খেয়ে নিলো। শান ঔষধ খাইয়ে দিলো জারা ঘুমিয়ে পড়লো।

সকাল ৭ টায় ঘুম ভাংতেই জারা শানকে বেডে হেলান দিয়ে ঘুমাতে দেখে কিছু বলতে গিয়েও বলল না। হাত বাড়িয়ে নিজের ফোনটা হাতে নিলো কোনো কাজ না পেয়ে গেম খেলতে লাগলো। হুট করে শান জারার ফোন কেরে নিয়ে বলল

-‘ ফোন দেখলে মাথা ব্যথা করবে ‘

-‘ করুক আপনি ফোন দিন ‘

-‘ নাহ ‘

জারা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো

-‘ তাইলে বাসায় নিয়ে চলুন আমার এখানে ভালো লাগছে না ‘

-‘ দেখছি ‘

১০ টার দিকে সকল কাজকর্ম শেষে জারা বাসায় ফিরলো। জারাকে দেখে শান্তি বেগম অস্থির হয়ে পড়লেন কি করবে না করবে দিক বেদিক ছোটাছুটি করতে লাগলো। জারা শান্তিকে শান্ত হতে বলল। তিনি শান্ত হলেন না। ইশা পরিক্ষা দিতে গেছে। আসলাম অফিসের জরুরি মিটিংয়ে গেছে। জারাকে বাসায় দিয়ে শানও কোথায় উধাও হয়ে গেলো। জারা সাওয়ার নিয়ে বাইরে এসে বলল

-‘ মনি কি করছ? এতো ব্যস্ত হওয়ার তো কিছু দেখছি না ‘

-‘ জানি তো আমরা তোর কেউ না ‘

-‘ এসব কথা কেনো বলছ?’

-‘ তোর যে হাত কাটছে একবারও বলছিস আমাকে? ‘

জারা শান্তিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল

-‘ এমন করছ কেনো? তোমরা টেনশন করবে বলে কিছু বলি নি’

-‘ সর আমাকে মনি বলে ডাকবি না আমি তোর কেউ না ‘

জারা শান্তির অভিমান খুব কষ্টে ভাংগালো। শান্তি জারাকে খাইয়ে দিয়ে বললেন

-‘ রুমে গিয়ে রেস্ট নিবি একদম এই শরীর নিয়ে নিয়ে আসবি ‘

জারা মাথা নাড়িয়ে উঠে এসে শুয়ে পড়লো। কিন্তু ভালো লাগছে না শুয়ে থাকতে। উঠে ছাদে চলে আসলো আজ আকাশ মেঘলা জ্যোষ্ঠ মাসের শেষের দিকে জারা দেখলো নিচে অনেক গুলো কাঠগোলাপ পড়ে আছে জারা মাথায় বুদ্ধি আসলো খুশিতে লাফিয়ে দৌড়ে নিচে গিয়ে সুই সুতা এনে কাঠগোলাপ ফুলের মালা বানাতে লাগলো। হাতে সুই ফুটে আহ শব্দ তুলে হাত দিয়ে আংগুল ধরে দেখলো র-ক্ত পরছে। কোথা থেকে শান এসে জারার আংগুল ধরে গালে দিলো। জারা কেঁপে উঠলো। শান ছেড়ে দিয়ে বলল

-‘ দেখে কাজ করতে পারিস না? এটা কি করছিস? ‘

জারা এখনো অবাকের রেস কাটিয়ে উঠতে পারি নি শুকনো ঢোক গিলে বলল

-‘ মালা ‘

শান সুই সুতা নিয়ে মালা বানাতে বানাতে বলল

-‘ অকর্মা ঢেকি’

জারা আরো অবাক হলো। কি হচ্ছে এসব জারা কি স্বপ্ন দেখছে? বিষময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো শানের দিকে মালা বানানো শেষে শান জারার হাতে পরিয়ে দিয়ে বলল

-‘ রুমে যা অসুস্থ না তুই মাথা ঘুরে পরলে আরেক কান্ড ‘

জারা হতভম্ব হয়ে রুমে আসলো। থম মেরে বসে রইলো অনেকক্ষণ। খুশি হবে কি দুঃখ পাবে বুঝে উঠতে পারলো না। জারা হাতের মালাটা ডাইরির মাঝে রেখে দিলো। লিখলো…

১৬ জুন ২০২২

ভালোবাসা আর কাঠগোলাপ
দুটোই খুব প্রিয়…❀

চলবে ইনশাআল্লাহ

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ