Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুরক্তি অন্তরিক্ষঅনুরক্তি অন্তরিক্ষ পর্ব-১৫+১৬

অনুরক্তি অন্তরিক্ষ পর্ব-১৫+১৬

#অনুরক্তি_অন্তরিক্ষ [১৫ পর্ব]
তাসনিম তামান্না

অগোছালো সৃগ্ধ মেঘলা বিকাল চারিদিকে ভেজা বৃষ্টির পানির কনা শীতল মৃদু বাতাসে বৃষ্টিতে ভিজে সজিব হয়ে ওঠা গাছের পাতাগুলো এলোমেলো হয়ে দুলছে। বিকালটা সুন্দর করে দিতে এক চিলতে খুশি হয়ে শায়রী, পলক, রুহান, সাইম, প্রীতি এসে হাজির জারা সহ সকলে খুশি। শান্তি তো কি খাবে রান্না করা শুরু করে দিয়েছে। সকলে ড্রাইংরুমের সোফায় বসলো জারা ভ্রু কুচকে বলল

-‘ তোরা আসবি আগে বললি না যে? ‘

সাইম বলল

-‘ ক্যান আগে জানলে কি করতে বাড়ি থেকে ভাইগা যাইতিস না-কি আমাদের আসতে মানা করছি ‘

জারা ভাব নিয়ে বলল

-‘ বাসার দরজায় খুলতাম না ‘

শায়রী বলল

-‘ দেখছিস কত বড় দুশমন ‘

রুহান ওদেরকে থামিয়ে বলল

-‘ জারা তুই হসপিটাল থেকে আসলি একবারও বলছিস আমাদের? আমার সকালে হসপিটালে গেছিলাম দেখতে কিন্তু তুই… ‘

-‘ সরি দোস্ত কিন্তু হসপিটাল থেকে এসে তো টেক্সট করে দিয়েছিলাম এতো রাগ করিস না ‘.

প্রীতি বলল

-‘ রাগ করলেই বা তোর কি? ‘

পলক বলল

-‘ আচ্ছা বাদ দে এখন শরীর কেমন তোর? ‘

-‘ আলহামদুলিল্লাহ ভালো ‘

রুহান জারার কপালে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কি না। শান তখন শিরি দিয়ে নাম ছিল। জারার কপালে রুহানের হাত দেখে রেগে গেলো হাত মুষ্টি বদ্ধ করে নিয়ে এগিয়ে আসতে নিলেই। তখন শান্তি বেগম এসে রুহানকে ওনার সাথে নিয়ে গেলো কি যেনো ইনপটেন কথা বলবে। শান আর নিচে নামলো না উল্টো ঘুরে ওপরে চলে গেলো। জারা এক পলক তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিলো। ওরা গল্প করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর রুহানও আসলো।

ইশা সকলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল

-‘ এটেনশন প্লিজ ‘

সকলে ইশার দিকে তাকালো। ইশা গলা ঝেড়ে বলল

-‘ শুনো সবাই পৌশু দিন তোমরা সকলে আসবে সন্ধ্যায় তোমাদের ইনভাইট কিন্তু তোমরা সকলে সকালে আসবে ‘

পলক বলল

-‘ বাট ইনভাইটের রিজন কি? ‘

ইশা হিহিহি করে হেসে বলল

-‘ গেস্ট করো ‘

কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর শায়রী বলল

-‘ জানি না তুমি বলে দাও ‘

ইশা হেসে বলল

-‘ আমার এনগেজমেন্ট ‘

সাইম অবাক হয়ে আফসোসের সুরে বলল

-‘ কি? এতো পিচ্চি মেয়ের বিয়ে? আমি জীবনে কি করলাম কি করতে বেঁচে আছি আমার মরে যাওয়া উচিত আমি একটা প্রেম ও করতে পারলাম না ‘

সবাই মিলে হেসে উঠলো প্রীতি বলল।

-‘ তোর দ্বারা প্রেম ট্রেম কিছু হবে না বিয়ে তো অনেক দূরের কথা ‘

-‘ এই একদম আমাকে ইনসাল্ট করবি না আমি একটা কাউকে কিছু না বলে হুট করে বিয়ে করে বউ এনে সকলকে তাক লাগিয়ে দিবো দেখিস ‘

জারা ভ্রু কুচকে বলল

-‘ সাইম একটা কথা সত্যি করে বলতো তুই কি চুপিচুপি ট্রেন চালাছিস না-কি? ছিঃ তোর লজ্জা করলো না আমাদেরকে না জানিয়ে এসব করতে? ‘

সাইম ভাব নিয়ে বলল

-‘ জানবি জানবি আস্তে আস্তে সব জানবি ‘।

পলক আর রুহান সাইমকে চে/পে ধরলো। কিন্তু সাইমের মুখ থেকে কিছুই বের করতে পারলো না। সন্ধ্যার আরো কিছুক্ষণ পর ওরা বাসায় রওনা হলো।

★★★

পরের দুদিন গেলো খুব অদ্ভুত ভাবে। আত্মীয় স্বজন দের দেখাশোনায় আর কাজকর্মের ব্যস্ততায়। বাড়ি ভর্তি এতো আত্মীয় স্বজন যেনো মনে হচ্ছে আজ-ই ইশার বিয়ে। জারা এর মাঝে শানকে কয়েক মুহুর্ত চোখের পলক দেখেছিল। অদ্ভুত ভাবে এরমধ্যে একবার জারা আর শানের কোনো রকম কথা হয় নি। জারা নিজেও নিজেকে লুকিয়ে বা শানের সামনে যেনো না পড়ে তেমন ভাবেই ছিল। কিন্তু যতটুকু শানের সামনে পরছে শান একবারও জারার দিকে তাকায় নি। জারা নিজের মনে খুঁতখুঁত করছিল কিন্তু পরে ভেবে দেখলো তাকে ছাড়া তো থাকতেই হবে একদিন এতো মায়া বারিয়ে কি লাভ? যত দূরে থাকবে ততই ভালো।

দোতালা বাড়িটা রঙবেরঙে ফেরিলাইট, ফুল দিয়ে সাজানে এযেনো এক রূপকথার রাজপ্রাসাদ রাজ্যকিয় ব্যাপার আর সেই রাজ্যের রাজকন্যার আজ এনগেজমেন্ট। ইশা আজ মিষ্টি কালারের গাউন পড়েছে আর ইশার বাগদত্তা জিহান কালো সুট পরছে দুজনকে আজ পাশাপাশি মেড ফর ইচ আডার লাগছে একেবারে কিউট কাপল। জারা জুস হাতে নিয়ে এগুলো দেখছে আর গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে। জারা মনে মনে কল্পনা জল্পনা করছে

-‘ আজ যদি আমার বাবা-মা থাকত। আমার রাজ্যর রাজা-রানি থাকত তাহলে আমিও আজ রাজকন্যা হতাম অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাকে টেনশন করা লাগত না তারা আমাকে সুপাত্রের হাতে তুলে দিতো। কিন্তু না আজ তারা নাই আমার নিজের ওপরে নিজের সব দায়িত্ব চাপিয়ে অন্যের বাড়ির আশ্রিতা ট্যাগ লাগিয়ে চলে গেলো না ফেরার দেশে ‘

জারা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো। চোখ গেলো শানের দিকে শান আজ ব্লু সুট পরছে চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা, হাতে ওয়াইনের গ্লাস ফেন্ডদের সাথে কথা বলতে বলতে চুমুক দিচ্ছে। জারা নিজের দিকে তাকালো আজ সে ওফ ওয়াইট কালারের সিলকের শাড়ি তার ওপরে স্টোনের কাজ করা শাড়ি পরছে, মুখে হালকা মেকাপ, চুলগুলো খোঁপা করে সামনের বেবি হেয়ার গুলো ছেড়ে রাখা দেখতে মিষ্টি লাগছে। জারা চারিদিকে চোখ ঘুরিয়ে দেখলো। শান্তি বেগম আর আসলাম সাহেব গেস্ট দের সাথে কথা বলছে। জারার ফেন্ডগুলা আসছে অনেকক্ষণ তারা কি নিয়ে কথা বলছে সেখানে জারার যাওয়া বারণ জারাও বিরক্ত নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তবুও তাদের পাত্তা নেই। জারার এবার ওদের কাছে গিয়ে বলল

-‘ হলো তোদের? কি এতো কথা বলছিস? আসার আগে বাইরে থেকে বলে আসতে পারিস নি অসহ্য সব কইটা ‘

প্রীতি ঢং করে বলল

-‘ ও তুই আয় তোর কথা তো ভুলেই গেছিলাম ‘

জারা রেগে বলল

-‘ হ্যাঁ হ্যাঁ তা তো ভুলে যাবাই আমি তো তোমাদের কেউ হই না ‘

সাইম বলল

-‘ এমন করে রাগ করিস কেন বউ? তুই ছাড়া আমার কে আছে বল? তোকে ছাড়া তোর বরটা যে অসহায় ‘

-‘ হ্যাঁ তার পরিণাম তো এতোক্ষণ দেখলাম ‘

পলক বলল

-‘ থাক কষ্ট পাস না ওরা এমন-ই ‘।

জারা কঠিন চোখে তাকিয়ে বলল

-‘ তা আপনি আবার কেমন শুনি? আপনিও তো আমাকে ডাকেনি ‘

রুহান বলল

-‘ আচ্ছা থাক এতো রাগিস কেন? ‘

-‘ এটা রাগার জিনিস তো রাগবো না? ‘

কেউ আর কিছু বলল না।

কথা ঘুরিয়ে শায়রী বলল

-‘ আচ্ছা শোন জারা আর রুহান তোরা দুইটা কি প্লান করে এক রংয়ের মিলিয়ে পরছিস? আমাদেরও বলতিস আমরাও পরতাম’

জারা রুহান অবাক হয়ে নিজেদের দিয়ে তাকিয়ে হেসে ফেললো। জারা বলল

-‘ হোয়াট এ কোইনসিডেন্স! ‘

পলক বলল

-‘ বুঝি বুঝি আমরা জানি তোরা মিলিয়ে পরছি এখন ঢং করবি ‘

রুহান জারার হাত জড়িয়ে ধরে বলল

-‘ আমাদেরকে কাপল লাগছে না? ‘

প্রীতি বলল

-‘ হ্যাঁ পলক তুই কখন আমার সাথে এমন করে মিলিয়ে পরছিস? ‘

কথাটা বলে কোনা চোখে তাকালো প্রীতি পলক শুকনো ঢোক গিললো। রুহাম প্রীতির কথায় পাত্তা না দিয়ে বলল

-‘ তাহলে আমাদের এখনি বিয়ে করা উচিত ‘

জারা হেসে রুহানের বাহুতে চাপর মেরে বলল

-‘ ফাজলামি করিস কেন? ‘

-‘ এই তুই কার গায়ে হাত তুলছিস খেয়াল আছে তোর আমি চাইলেই তোকে জেলে পুরে দিতে পারি কিন্তু দিবো না ‘

-‘ কেন দে দিবি না কেন?’

ওয়েটার কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে আসলো। ধাক্কা লেগে জারা শাড়ীতে পারলো। ওয়েটারটা অপরাধী মুখে তাকিয়ে বলল

-‘ সরি ম্যাম আসলে তাড়াহুড়ায়…. ‘

জারা শাড়ী ঝাড়তে ঝাড়তে বলল

-‘ ইট’স ওকে দেখে কাজ করবেন যান ‘

ওয়েটারটা চলে গেলো জারা বলল

-‘ তোরা থাক আমি আসছি ‘

জারা ওপরে এসে টিস্যু দিয়ে শাড়ী মুছ ছিল তখন দরজা আটকানোর শব্দে পিছনে ফিরে তাকালো।

চলবে ইনশাআল্লাহ।

#অনুরক্তি_অন্তরিক্ষ [১৬ পর্ব]
তাসনিম তামান্না

জারা ওপরে এসে টিস্যু দিয়ে শাড়ী মুছ ছিল তখন দরজা আটকানোর শব্দে পিছনে ফিরে তাকালো। চমকে উঠল শান এখানে? জারার ঠোঁট তিরতির করে কাঁপছে কাঁপা কন্ঠে বলল

-‘ আ আপনি? এ খানে? দরজা আটকালেন কেনো? ‘

-‘ তোর সাথে হিসাব নিকাশ মিলাতে আসছি ‘

-‘ মানে? কিসের হিসাব নিকাশ? ‘

-‘ তুই বুঝিস না আমাকে? একটুও বুঝিস না! কখনো কি বুঝবি না? ‘

শানের কথা শুনে জারা হতভম্ব হয়ে গেলো। শানের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলো শানের চোখের ভাষা কিছু বলছে কথার খেলা চলছে কিন্তু জারা সেটা বুঝতে ব্যর্থ হলো। শান বিয়ের পর বা বিয়ের কথা উঠার পর থেকে কখনোই জারার সাথে ভালো ভাবে কথা বলে নি সবসময় ধমকা ধমকি করে কথা বলেছে। বিয়ে আগের শান আর বিয়ে পরের শান দু’টোই অদ্ভুত ভাবে আলাদা চিনতে খুব কষ্ট হয় জারা মাঝে মাঝে তো মনে হয় তার জন্যই শানের এতো পরিবর্তন তারই সব দোষ তার জন্যই এতো কিছু। শান হয়ত কখনো গায়ে হাত তোলে নি। কিন্তু তার কথা মন মস্তিষ্ক এমন ভাবে আ-ঘা-ত করে যাতে ম-রে যেতে ইচ্ছে হয় জারার।

নিস্তব্ধ দুই মানব-মানবী দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ তাদের কথা বলছে। কিন্তু চোখের ভাষা বুঝতে তারা ব্যর্থ। কেউ তো কাউকে কখনো নিজের মনকে বুঝতে দেয় না। দূরে দূরে থাকে।

জারা নিজের মনে বলল

-‘ আচ্ছা ভালোবাসলে না-কি তার চোখের ভাষা বোঝা যায় কই আমি ও তো শান ভাইয়াকে ভালোবাসি তাহলে তার চোখের ভাষা কেনো বুঝতে পারছি না? তাহলে কি আমি ওনাকে ভালোবসি না?’

জারা অস্থির হয়ে উঠলো। শানের চোখ থেকে চোখ সরিয়ে এলোমেলো দৃষ্টি দিলো গলা শুকিয়ে আসছে বার বার। জারা আবার চোখ তুলে তাকালো শানের দিকে শানের মুখে কেমন অদ্ভুত হাসি জারা ভ্রু কুচকে বলল

-‘ হাসছেন কেনো? এখানে কি মিরাক্কেল হচ্ছে? ‘

-‘ তার থেকে বড় কিছু। বাই দ্যা ওয়ে শাড়ি পড়ছিস কেনো? তাও আবার সাদা বাহ তোর বর ম-রে গেছে? ‘

ম-রা-র কথা শুনে জারা রেগে বলল

-‘ কি সব যাতা বলছেন একদম উল্টো পাল্টা কথা বলবেন না ফাউল লোক যান তো এখান থেকে ‘

শান এক ভ্রু উঁচু করে বলল

-‘ আমার বাড়ি, আমি যেখানে খুশি থাকবো তুই বলার কে?’

জারা মুচকি হেসে বলল

-‘ ফাস্ট টফল এটা আপনার বাবার বাড়ি আপনার নয় আপনি তার ছেলে ফিউচারে মালিক হবেন সেকেন্ড হলো হ্যাঁ আমি জানি আমি এ বাড়ির কেউ নয় একজন আশ্রিতা বা আত্মীয় মাত্র কিন্তু যতদিন এখানে আছি এই রুমটা আমার জন্য বরাদ্দ আমি চলে গেলে এই রুমে যা ইচ্ছে করেন নো প্রবলেম আর একটা মেয়ের রুমে আসার সময় অবশ্যই আপনার নক করে আসা উচিত ছিলো এতটুকু সেন্স আপনার নাই? ‘

শান অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো জারার মুখ পানে জারা স্বাভাবিক ভাবে কত অবলীলায় কথা গুলো বলে দিলো কিন্তু ওপর ব্যক্তিটার কোথাও আঘাত করলো। অদৃশ্য র-ক্ত ক্ষরন হলো। শানের মুখ থেকে অস্ফুটস্বরে বেরিয়ে এলো ‘আশ্রিতা?’

জারা তাচ্ছিল্য হেসে বলল

-‘ হ্যাঁ আশ্রিতা ছাড়া কি? আপনি কি আমাকে বউ হিসেবে মানেন না মানবে যে আমি নিজেকে এ বাড়ির বউ হিসেবে দাবি বা অধিকার খাটাবো? আপনি তো বিয়েটাই মানেন না আর সেখানে বউ ‘

শান কিছুক্ষণ চুপ থেকে শক্ত গলায় বলল

-‘ এই শাড়ি পড়ে যেনো বাইরে না দেখি। যদি দেখি না তাইলে আজকে আমার হাতে খু-ন টু-ন হয়ে যাবি ‘

জারা ভ্রু কুচকে বলল

-‘ আমি যা-ই পড়ি যা-ই করি আপনার সমস্যা কোথায়? আপনি আমার ওপর অধিকার খাটাচ্ছেন না-কি হুকুম চালাছেন? ‘

শান বাকা হেসে বলল

-‘ আদেশ করছি।

-‘ যদি না শুনি? ‘

-‘ তার ফল তোকে পদে পদে ভোগ করতে হবে মাইন্ড ইট ‘

শান চলে গেলো। জারা তাকিয়ে রইলো শানের দিকে কি হয় মাঝে মাঝে এই লোকের এমন ভাবে অধিকার খাটাই মনে হয় তিনি সব মেনে নিয়েছেন আমাকে ভালোবাসেন আদেও কি তাই? ‘

জারা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আগে শাড়ি চেজ্ঞ করার কথা ভাবলেও বর্তমানে সিচুয়েশনে মনে মনে ভেবে নিলো এই শাড়ি পড়েই পার্টিতে যাবে। করলোও তাই শান রাগি চোখে তাকিয়ে রইলো জারা শানকে পাত্তায় দিলো না। পার্টি শেষ করতে রাত হলো সকলের বাসা কাছাকাছি হওয়ায় বাসায় চলে গেলো থেকে গেলো কয়েকজন আত্মীয় স্বজনরা। ইশার বিয়ের ডেট ফিক্সড হলো ১৫ দিন পর।

জারা খেয়ে ওপরে রুমে চলে আসলো। এসেই থমকে গেলো শান জারার বেডে শুয়ে ফোন টিপছে জারা স্ট্যাচু হয়ে গেলো। স্তম্ভিত ফিরে পেতেই বলল

-‘ আপনি আবার এখানে কি করছেন? ‘

-‘ ভাবছিলাম আজ রাতটা এখানেই ঘুমাবো ‘

জারা চমকে বলল।।

-‘ মানে?’

-‘ যা শুনছিস সেটাই ‘

-‘ আশ্চর্য তাহলে আমি কোথায় ঘুমাবো?

-‘ যেখানে খুশি থাক। মন চাইলে আমার পাশেও ঘুমাতে পারিস আমি মাইন্ড করবো না’

-‘ অসহ্য ফাজিল লোক ফাইজলামি পাইছেন না-কি আমি কিন্তু চিৎকার দিয়ে সকলকে ডাক।

-‘ ডাক স্বামী স্ত্রী একসাথে থাকবে তাতে কে কি বলবে আমিও দেখি ‘

জারা চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল

-‘ আপনার মাথায় কি চলছে সত্যি করে বলেন তো আমার আপনাকে সুবিধার লাগছে না ‘

শান ঝংকার তুলে হেসে উঠে বলল

-‘ বাহ তোর মাথায় তো দেখছি বুদ্ধি হয়েছে তাহলে ‘

জারা দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলল

-‘ আপনি যাবেন? ‘

শান অকপটে বলল

-‘ না! ‘

জারা ফোঁস ফোঁস করতে করতে জামাকাপড় নিয়ে ওয়াসরুমে থেকে চেজ্ঞ করে আসলো। জারার কাজে তার রাগ প্রকাশ পাচ্ছে। সব কাজ জোরে জোরে শব্দ করে করলো। থাকলো না এ রুমে ইশা রুমে গেলো। সব শুনে ইশা হাসি থামছেই না। জারা তাতে আরো বিরক্ত হলো বালিশ নিয়ে কান চেপে শুয়ে রইলো।

—-

সকালে সকলে বসে চা খাচ্ছে জারা ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলো। নিজের রুমে আর যায় নি। সারারাত ঠিক মতো ঘুমাতে পারি নি। সকালের নাস্তা খেয়ে ওপরে আসলো এখন শান নেই খাবার খেয়ে কোথায় যানি গিয়েছে। জারা রুমে এসে স্তব্ধ হয়ে গেলো কালকের শাড়িটা কাঁ/চি দিয়ে কেউ কু’চিকু’চি করে কেটেছে। কে কাজটা করেছে যারার বুঝতে অসুবিধা হলো না। জারা রেগে গিয়ে বিচার দিতে গেলো শান্তির কাছে।

চলবে ইনশাআল্লাহ

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ