Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুভূতি পর্ব ২২

অনুভূতি পর্ব ২২

অনুভূতি
পর্ব ২২
মিশু মনি
.
৩৪.
রৌদ্রময়ীকে নাস্তা এনে দিয়ে নিখিল বললো, “এখন যাবি কোথায়?”
– “জানিনা রে।”
নিখিল একটু কি যেন ভাবলো। তারপর বললো, “দুটো দিন এখানে থাক। তারপর দেখা যাবে।”
রোদ বেশ অবাক হয়ে গেলো। নিখিলের বুকের ভেতর কেমন দহন চলছে সেটা ও বেশ ভালো করেই জানে। বুঝতে পারছে সবই। ছেলেটার চেহারা একরাতেই কেমন করুণ হয়ে গেছে। তবুও কত সুন্দর ভাবে বলছে থেকে যেতে।
নিখিল বললো, “কি ভাবছিস? খেয়ে নে।”
– “তুই খেয়েছিস?”
– “আমি খাবো না,রুচি নেই খাওয়ার।”
রোদ জানে নিখিল কেন খেতে চাইছে না। নিখিল কে জোর করে খাওয়াতে পারলে হয়। যদিও ওর নিজের ও খেতে ইচ্ছে করছে না। তবুও নিখিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো, “খেয়ে নে প্লিজ।”
– “বাদ দে।আমি খাবো না,ভালো লাগছে না খেতে।”
– “নিখিল প্লিজ,তুই না খেলে আমিও খাবো না।”
নিখিল একবার রাগত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললো, “ঢং আমার একদম ই ভালো লাগেনা। চুপচাপ খেয়ে নে।”
রোদ আরো জোরালো গলায় বললো, “তুই না খেলে আমি খাবো না একবার বলেছি।”
– “আমার উপর কিসের অধিকার খাটাচ্ছিস তুই?”
– “কোনো অধিকার খাটাচ্ছি না, মানবতার খাতিরে খেতে বলছি।”
– “যে বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে ছোট বোনের লাইফটা শেষ করে দেয় তার আবার মানবতা।”
কথাটা খুব খারাপ লাগলো রোদের। তবুও কিছু মনে করলো না। এখন এই কথাটা বারবার শুনতে হবে ওকে। তবুও মুখ বন্ধ রাখতে হবে। এখন কিছুতেই মুখ খোলা যাবেনা, কিছুদিন যাক তারপর নিখিলকে সব বলে দিবে ও।
নিখিল দেখলো রোদ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। তারমানে এই মেয়ে খাবেনা। প্রচুর জেদি একটা মেয়ে। কি যেন ভেবে নিখিল নিজেও এক প্লেট খাবার নিয়ে এসে ওর পাশে বসে খেতে শুরু করলো। ওর খাওয়া দেখে রোদ হেসে খেতে শুরু করলো।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে দুই বন্ধু মিলে টুকটাক কথাকাটি আর ঝগড়াও হলো। অনেক কিছু নিয়ে যুক্তি তর্কও হলো। নিখিল বারবার করে শুনতে চাইছে কেন বাড়ি থেকে পালালো রোদ? কিন্তু রোদ কিছুতেই সেটা বলতে চাইছে না। কটা দিন সময় নিয়ে তারপর বলবে বলছে। বাধ্য হয়েই আশা ছেড়ে দিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো নিখিল।
রোদ একাই বসে রইলো বিছানার উপর। এখানে কয়টা দিন আপাতত নিশ্চিন্তে থাকা যাবে, তারপর ঢাকায় চলে গেলে ভালো হবে। কিন্তু কি করবে সে গিয়ে? চাকরী পেতেও তো সময় লাগে,সুযোগ লাগে।
বসে বসে এসব চিন্তা করতে লাগলো।
৩৫.
নাস্তার পর্ব শেষ করেই মেঘালয় মিশুকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লো। ওর বন্ধুরাও ব্যাগ গুছানোর জন্য যে যার বাড়িতে চলে গেলো। বিকেল অব্দি ঘুমিয়ে সবাই সন্ধ্যায় চলে আসবে ব্যাগ নিয়ে। কিন্তু মেঘালয় মিশুকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে এটা কাউকেই জানালো না। এমনকি মিশুকেও জানালো না। মিশু খুব কৌতুহলী হয়ে উঠছে। মেঘালয় নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছে আর ও পাশে বসে আছে।
গাড়ি এসে থামলো একটা চমৎকার বাড়ির সামনে। মেঘালয় গাড়ির দরজা খুলে মিশুকে নামতে বললো। গাড়ি থেকে নেমে অনেক্ষণ মিশু চেয়ে রইলো বাড়িটার দিকে। ডিজাইন, রং, গ্লাস সবমিলিয়ে অন্যরকম সুন্দর একটা বাড়ি! এটা আবার কার বাড়িতে নিয়ে এলো মেঘ? বাড়িটার সৌন্দর্য দেখেই তো মিশু নির্বাক হয়ে যাচ্ছে। মুগ্ধতা চেপে রাখতে পারছে না।
মেঘালয় ওর হাত ধরে বাড়ির প্রধান দরজায় আসলো। দরজায় এসে চাবি দিয়ে লক খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো। পুরো বাড়ির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মত। সাজসজ্জা অনেক আকর্ষণীয়! কিন্তু বাড়িটা কার কিছুতেই বুঝতে পারছে না মিশু। মেঘালয়ের বাড়ি তো মোহম্মদপুরে, আর মিশু নিজেই ওর বাড়ি চেনে। একদিন ওর বাড়ির সামনে দিয়েই বাইকে করে মেঘালয় মিশুকে বাসায় পৌছে দিয়ে এসেছে। তাহলে এটা আবার কার বাড়ি!
মিশু দুবার জিজ্ঞেস করলো মেঘালয়কে। কিন্তু মেঘালয় কোনো উত্তর দিলো না। মিশুকে কোলে তুলে নিয়ে একটা রুমে এসে দরজা আটকিয়ে দিলো। মিশুকে বিছানার উপর বসিয়ে দিতেই অনেক দূর নিচে তলিয়ে গেলো ও। অবাক হয়ে বললো, “এত সফট বিছানা!”
মেঘালয় ঝাঁপিয়ে পড়লো মিশুর উপর। অনেক্ষণ ধরে দুজনের খুনসুটি চলতে লাগলো। একে অপরকে বালিশ দিয়ে মারামারি করছে, একটা বালিশের তুলো ইতিমধ্যে পুরো ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে। বালিশের তুলো উড়িয়ে মারামারি করতে এত ভালো লাগে আগে জানতো না মিশু। ও তুলা গুলো দুহাতে তুলে মেঘালয়ের মাথার উপর দিয়ে দিলো। মেঘালয়ের মাথা,চুল,মুখ শার্ট সব তুলা দিয়ে একাকার হয়ে গেছে।
মিশু এগিয়ে এসে মেঘালয়ের কলার টেনে ধরে ওকে কাছে নিয়ে বললো, ” এটা কার বাড়ি বলছো না যে? বাড়ির লোকজন সবাই কোথায়?”
– “ওহ হো, দাড়াও একটা ফোন করে আসি।”
মেঘালয় বাইরে গিয়ে ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছে। কি এমন কথা যা মিশুর সামনে বলা যায়না! কৌতুহল চেপে গেলো মিশু। মেঘালয় এসে বললো, “বাইরে যাবো।”
মিশুর জানতে ইচ্ছে করছে কোথায় যাবে কিন্তু জিজ্ঞেস করতে পারলো না। মেঘালয় আলমারি খুলে একটা টি শার্ট আর ট্রাউজার এনে দিয়ে বললো, “পড়ে নাও দ্রুত।”
– “এগুলো তো তোমার মনেহচ্ছে। আমি কেন পড়বো?”
– “উফফ পড়ো তো। তাড়াতাড়ি।”
মিশু থতমত খেয়ে গেছে। গেঞ্জিটা গায়ে দিয়ে দেখলো অনেক ঢোলা ঢোলা লাগছে। আর প্যান্ট টা হচ্ছে না কিছুতেই। সেটা পড়ে খুবই হাস্যকর দেখাচ্ছে মিশুকে।
মিশু মুখটা কাচুমাচু করে বললো, “কিরকম বাজে দেখাচ্ছে! ছি, তুমি কেন পড়তে দিলা এটা?”
মেঘালয় মিশুকে দেখে হেসেই খুন। মেঘালয়ের গেঞ্জির ভিতর ঢুকে যাওয়ার মত অবস্থা ওর, এত বেশি ঢোলা আর লম্বা। প্যান্ট পড়ে আরো হাস্যকর লাগছে। মিশু মুখটা বিকৃত করছে দেখে মেঘালয় হো হো করে হাসছে। মেঘালয় বললো, “খারাপ লাগছে?”
– “রাগ লাগছে।”
– “তাহলে খুলে ফেলে দাও। খালি গায়ে আসো।”
– “ছি,…”
মিশুর মুখ দেখে আবারো হেসে উঠলো মেঘালয়। তারপর ওকে কোলে তুলে নিয়ে হাটতে শুরু করলো। মিশুকে বললো চোখ বন্ধ করে রাখো। একদম খুলবা না। মিশু দুহাতে চোখ চেপে ধরে আছে। খুব হাসি পাচ্ছে,রাগও হচ্ছে। এই টি শার্ট পড়া অবস্থায় কারো সাথে দেখা হয়ে গেলে সে নির্ঘাত হাসবে। বলবে মেঘালয়ের বউটা খুব বাজে দেখতে। এসব ভেবে ভেবে মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে মিশুর। কিন্তু মেঘালয় কি করতে চাইছে সেটা এখনো বুঝতে পারছে না।
মেঘালয় মিশুকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে বললো, “এবার চোখ খোলো।”
মিশু চোখ খোলামাত্রই বিস্ময়ে ওর চোখ বড়বড় হয়ে গেলো! সুইমিংপুল! একদম নীল রঙের পানি, তরঙ্গ খেলা করছে উপরে, চারিদিকে সবুজ গাছপালায় ঘেরা! উফফ এত্ত সুন্দর কেন!
মিশু খুশিতে মেঘালয়ের হাত চেপে ধরে বললো, “পুল! আমি জীবনেও কখনো এরকম পুল সামনাসামনি দেখিও নি। এত সুন্দর সুইমিংপুল কিভাবে হয়? ন্যাচারাল লাগছে, চারদিকে এত ঘন গাছ!”
মেঘালয় মিশুকে বুকে টেনে নিয়ে বললো, “বউ নিয়ে রোমাঞ্চ করবো তো, সেজন্য এত ঘন করে গাছ লাগানো হয়েছে।”
– “তুমি খুব খারাপ! বাজে বাজে খুব বাজে একটা লোক।”
মেঘালয় হাসতে হাসতে দুইপা পিছিয়ে গেলো। মিশু অবাক হয়ে সবকিছুর সৌন্দর্য দেখছে। সত্যিই পানিগুলো একদম নীল, মাথার উপরে নীলাকাশ দেখা যাচ্ছে। আকাশে তুলোর মত মেঘ উড়ছে। খুব ভালো লাগছে মিশুর। এমন সময় মেঘালয় পানিতে লাফিয়ে পড়লো। ঝাপ দিয়েই একদম সাঁতরানো আরম্ভ করে দিয়েছে। মিশু হা করে চেয়ে চেয়ে দেখছে। নীল পানির ভেতরে মেঘালয়ের মুখটা যখনি উকি দিচ্ছে,অন্যরকম ভালো লাগা ছেয়ে যায় ভেতরে। মেঘালয় কিছুক্ষণ সাতরিয়ে মিশুর সামনে এসে ওকে নামতে বললো। হাত বাড়িয়ে দিয়ে ডাকছে ওকে। কিন্তু মিশু চেয়ে আছে মেঘালয়ের রোমশ বুকের দিকে। ছেলেটা কখন খালি গা হয়ে লাফ দিয়েছে খেয়াল ই করেনি মিশু। কিন্তু ওর খোলা বুকে লোমগুলো ভিজে ভয়ংকর সুন্দর দেখাচ্ছে। চুলগুলো ভিজে গেছে, চুল থেকে গাল বেয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। হাতের লোমগুলোও ভিজে হাতের সাথে লেপ্টে গেছে। এত সুন্দর কেন মেঘালয়! মিশু মুগ্ধতা লুকিয়ে রাখতে পারছে না।
মেঘালয় ওর হাত টেনে ধরে কোলে তুলে নিয়ে সুইমিংপুলে নামালো। মিশু ওর কোলেই দুহাতে ওর গলা জড়িয়ে ধরে দেখছে মেঘালয়কে। ঘোর লেগে যাচ্ছে ওর। মেঘালয় সত্যিই অনেক সুন্দর! মেঘালয়ের শরীরে বিন্দু বিন্দু লেগে লাগা সমস্ত জল গুলো খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে।
মিশু বললো, “আমার হিংসে হচ্ছে মেঘ।”
– “কেন?”
– “এই পানিগুলোর কত সৌভাগ্য, তারা তোমার চোখে, গালে, মুখে, ঠোঁটে সবখানে লেগে আছে। আমি পারছি না।”
মেঘালয় একদম অবাক হয়ে গেলো মিশুর কথায়। ওর চোখের মায়ায় তলিয়ে যাচ্ছে মেঘালয়। চোখে চোখ রেখে বললো, “এত ঘোর কেন তোমার চোখে?”
– “আমার এত ঘোর ঘোর লাগে ক্যান মেঘ?”
– “তোমার ও কি পানির মত আমার চোখে,গালে ঠোঁটে সবখানে লেগে থাকতে ইচ্ছে করে?”
– “হুম।”
মেঘালয় মিশুকে নিয়ে পানির ভেতর তলিয়ে গেলো। মিশু ওর কোলে,মনেহচ্ছে শূন্যে ভেসে আছে ও। মেঘালয়ের স্পর্শ অনুভব করছে তীব্রভাবে। আর সুখের অন্য এক রাজ্যে প্রবেশ করছে দুজনে। আবেশে চোখ বুজে আসে মিশুর। হাতের বাঁধন আলগা হয়ে আসে। মেঘালয় ওকে জড়িয়ে রেখেছে, আটকে রেখেছে দুহাতে আর ঠোঁটের কোমল বাঁধনে। মিশুর দম বন্ধ হয়ে আসছিলো, মেঘালয় ওকে আবার ভাসিয়ে তুললো পানির উপরে। মেঘালয়ের গায়ের উপর ভর দিয়েই মাথাটা উপরে তুলে হাফাতে লাগলো মিশু। ঘনঘন নিশ্বাস নিতে লাগলো। মিশু চোখ মেলে তাকাতে পারছে না। এতক্ষণ মেঘালয় ঠিক কি কি করেছে বুঝতে পারেনি ও। কিন্তু কেবলই মনেহচ্ছে, এত সুখ সুখ লাগে কেন!
মেঘালয় মিশুর মুখের উপর নেমে আসা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বললো, “ঠিক আছো?”
মিশু কথা বলতে পারলো না। মেঘালয় তীরে এনে ওকে পুলের শানের সাথে ঠেস দিয়ে দাড় করিয়ে দিয়ে মিশুর দুই পা নিজের দুই কাঁধের উপর তুলে নিলো। মেঘালয়ের কাঁধের উপর পা তুলে দিয়ে দুহাতে ওকে হালকা করে ধরে রইলো মিশু। মাথাটা ভেসে আছে পানির উপরে। মিশু চোখ মেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে সাদা মেঘের উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখছে আর প্রাণভরে নিশ্বাস নিচ্ছে। মেঘালয় দুহাতে ওকে আকড়ে ধরে আছে, আর ও দুইপা মেঘালয়ের কাঁধের উপর তুলে দিয়ে আরামে পানির উপর শুয়ে আছে।
স্বাভাবিক হওয়ার পর মেঘালয় বললো, “কেমন লাগছে মেঘবতী?”
মিশু এগিয়ে এসে মেঘালয়কে জড়িয়ে ধরে ওর রোমশ বুকে নাক ডুবিয়ে বললো, “আগে জানতাম দম বন্ধ হয়ে আসলে মানুষের কষ্ট হয়। কিন্তু দম বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতিটাও সুখের হতে পারে এটা আজ প্রথম জানলাম। এত সুখ সুখ লাগে কেন মেঘ?”
মেঘালয় শক্ত করে মিশুকে জড়িয়ে ধরে রইলো। মিশুকে পিঠের উপর নিয়ে পুরো পুল সাতরিয়ে আসলো একবার। মিশু পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবারো ওকে নিয়ে জলের ভেতর ডুব দিলো মেঘালয়। মিশু সমস্ত শরীর ছেড়ে দিয়ে আলগা হয়ে পুরো ভরটাই মেঘালয়ের উপর দিয়ে দিয়েছে। মেঘালয় ওর কোমল দেহটাকে নতুন নতুন ভাবে আবিষ্কার করতে শুরু করে দিয়েছে। মিশুর কেবলই মনেহচ্ছে সে স্বপ্নের রাজ্যে ভাসছে।
এভাবে কতক্ষণ চলে গেলো কেউই বলতে পারেনা। মেঘালয় মিশুকে কোলে নিয়ে যখন তীরের দিকে আসলো তখন ও মিশুর চোখ বন্ধ। মেঘালয় মিশুর মুখটা একহাতে ধরে বললো, “মিশু, আমি কি অন্যায় করে ফেলেছি?”
মিশু মেঘালয়কে জাপটে ধরে বললো, “আমি কিন্তু তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না বলে দিচ্ছি। তুমি আমাকে ফেলে কক্ষনো মুহুর্তের জন্যও দূরে যাবেনা।”
মেঘালয় হেসে ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিলো। বললো, “যাবো না রে পাগলী। ছেড়ে গিয়ে এত ভালোবাসবো কাকে?”
মিশু আস্তে আস্তে চোখ মেললো। এখনো ওর চোখে ঘোর, মায়া! ওর চোখের দিকে তাকালেই তো খুন হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয় মেঘালয়ের।
মিশু একা উঠতে পারলো না। মেঘালয় টেনে তুললো ওকে। তারপর আবারো ওকে কোলে নিয়ে বাসার ভিতরে গিয়ে ঢুকলো। বাথরুমে মিশুকে ঢুকিয়ে দিয়ে একটা তোয়ালে দিয়ে দিলো।
মিশু ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে দেখে মেঘালয় একটা ব্লাক শার্ট ও প্যান্ট পরে বডি স্প্রে দিয়ে একদম জেন্টলম্যান সেজে বসে আছে। কে বলবে এই ছেলেটা একটু আগে কি পরিমাণ ভালোবাসার অত্যাচার চালিয়েছে ওর উপর? মিশু এসে বিছানার উপর বসতেই অনেক দূর তলিয়ে গেলো। এত সফট বিছানায় কিভাবে কেউ ঘুমায় ভাবতে পারেনা ও।
মেঘালয় একটা শাড়ি ও ব্লাউজ এনে দিয়ে বললো, “এটা পড়ে নাও।”
মিশু অবাক হয়ে বললো, “কোথায় পেলে এটা? কার শাড়ি?”
মেঘালয় প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ওকে যত্ন করে শাড়ি পড়িয়ে দিলো। মিশু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হালকা সাজুগুজু করে নিলো। ব্লাউজটা একদম ফিট হয়ে গেছে। ও বারবার জানতে চাইছে এটা কার বাড়ি? বাড়িতে কোনো লোকজন নেই কেন? মেঘালয় কোনো প্রশ্নের উত্তর ই দিলোনা। শুধু হাসলো।
মিশু সাজুগুজু করে সোফার উপর বসে রইল চুপ করে। মেঘালয় আলমারি খুলে কি যেন দেখছে। বিছানার উপরে অনেক গুলো টাকা রাখলো। মিশু হা করে চেয়ে আছে সেদিকে। মেঘালয় একটা রুমালের মত মাফলার জাতীয় কিছু গলায় বেধে বললো, “দাগ গুলো দেখা যাচ্ছে?”
– “না।”
মেঘালয় একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো। এমন সময় দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো। মেঘালয় মিশুকে রুমেই বসতে বলে দরজা খুলতে চলে গেলো। মিশু একাই বসে রইলো চুপচাপ। রুমটা অনেক সুন্দর, শুভ্রতা ছেয়ে আছে পুরো রুমে। কার বাড়ি এটা কিছুতেই বুঝতে পারছে না ও।
মেঘালয় এসে মিশুর হাত ধরে ওকে বসার ঘরে নিয়ে আসলো। বসার ঘরে একজন মধ্যবয়স্ক লোক ও মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। ওনারা এইমাত্র অফিস থেকে ফিরলেন সেটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। মেঘালয় মিশুকে দেখিয়ে দিয়ে বললো, “তোমাদের পুত্রবধূ।”
মিশুর চোখ কপালে উঠে গেলো কথাটা শুনে। তারমানে এনারা মেঘালয়ের বাবা মা! আর এত বিশাল আর সুন্দর বাড়িটা মেঘালয়ের নিজের! অবিশ্বাস্য লাগছে সবকিছু। মেঘালয় তো বলেছিলো এখনি বাসায় বিয়ের কথা জানাবেই না। তাছাড়া এটা কিভাবে ওর বাড়ি হতে পারে! সবকিছু কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে।
চলবে..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ