Friday, June 5, 2026







LOVE part:17+18

#LOVE❤
part:17+18
Writer:Suvhan Årag(ছদ্মনাম)

আবেগ ফোন রেখে দিল।আবেগ জানে নোভা কে বলে লাভ নেই।নোভা ওর মা কে বলবে।আর আবেগ আর যাই হোক নিজের মায়ের কথা ফেলতে পারে না

পরের দিন অফিসে

ম্যানেজার এসে আবেগকে কিছু ফাইল দিল

-স্যার আজি ডিলটা করতে হবে ।এম কে কোম্পানি না হলে অন্য কাউকে এই প্রজেক্ট দিয়ে দেবে সেটাই বললো
-ওহ।তাহলে তো এখনি বেরোতে হবে।এই সাইট টা কে সামলায়।তাকে তো সাথে নিতে হবে
-স্যার এটা তো মিসেস রিদিতা সামলান।আমি ওনাকে বলে দিচ্ছি আপনি বের হন ওনাকে নিয়ে
-আচ্ছা যান

ম্যানেজার চলে গেল।আবেগ বসে ভাবছে

-আবার রিদিতা ।যতোই একে দূরে রাখতে চাই ততোই আরো কাছে চলে যাই ওর।ধ্যাত ভাল লাগে না

আবেগ বেরিয়ে গেল

এইদিকে ম্যানেজার এসে রিদিতা কে সব বলেছে।রিদিতা ও আবেগের গাড়ি র উদ্দেশ্য এ গেল

-আল্লাহ্ আর কতো ।এই লোকটার সামনে আর যেতে চাচ্ছি না আর তুমি তার কাছেই খালি পাঠাও

রিদিতা কে দেখে আবেগ গাড়ি র হর্ন বাজালো ।রিদিতা গিয়ে গাড়ি র পেছনে র দরজা খুলতে গেল

-আমি কারোর ড্রাইভার না

রিদিতা বুঝতে পারছে আবেগ ওকেই বলছে।রিদিতা কথা না বাড়িয়ে আবেগের পাশের সিটে গিয়ে বসলো জানালার দিকে তাকিয়ে ।রিদিতা এক বারও আবেগের দিকে ফিরে দেখেনি।এদিকে আবেগ সব লক্ষ করছে

-সিট বেল্ট লাগাও

রিদিতা আবেগের কথায় কান না দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে

-এই তোকে কি একবার বললে কথা কানে যায় না।এতো ঘ্যাছড়া কেন তুই ।গাড়ি একটু জোরে ব্রেক করলে যদি সামনে গিয়ে মাথায় বারি খাস সে দায় কে নেবে শুনি
-চিন্তা করবেন না।আমার জন্য আপনাকে কোন দায় নিতে হবে না।আর মাথায় বারি লেগে যদি মরে যায় তাহলে ভালো হবে।অনেকে খুশি হবে অনেকের আমাকে সহ্য করতে হবে না

রিদিতা বেল্ট লাগিয়ে সিটের সাথে গা এলিয়ে চোখ বুজে রইলো।কিন্তু রিদিতা র বলা শেষ কথা শুনে আবেগের চোখে পানি এসে গেছে।আবেগ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে রিদিতা র দিকে।কারণ রিদিতা তাকে উদ্দেশ্য করেই কথা বলেছে তা বোঝাই যায়

-এতো ই খারাপ মনে হয় তোমার আমাকে।আমি তুমি মরলে খুশি হব।এই কথা টা বলতে পারলে তুমি ।তোমার জন্য তো আমার মরার কথা।প্রতি মূহুর্তে তোমার কষ্ট এ আমি মরি।থাক তোমাকে কিছু বলবো না।তোমাকে বিশ্বাস নেই।ইমোশন নিয়ে তুমি ভালোই খেলতে পারো—মনে মনে

আবেগ কিছু না বলে গাড়ি চালানো শুরু করলো।

ডিল কমপ্লিট করে দুপুরের দিকেই আবেগ রিদিতা কে নিয়ে রওনা হলো।রাস্তায় কেউ কারোর সাথে কথা বলেনি।রিদিতা তো সারা রাস্তা সিটে গা এলিয়ে চোখ বুজে পরেছিল।কিন্তু ও হয়তো চোখ খুললে ভালো করতো।তাহলে দেখতে পারতো পাশের দুটো চোখ বারবার ওকে দেখছে

এদিকে রিদিতা র তো খুব খিদে পেয়েছে ।আসার সময় শুধু ফোন আর ছোট একটা পার্স নিয়ে এসেছে।কোন খাবার সাথে আনেনি।বারোটা র দিকে রেস্টুরেন্ট এ আবেগ চাউমিন স্যুপ নিজে খেয়ে ছিল সাথে রিদিতা কে খাইয়ে ছিল।এখন সাড়ে তিনটা বাজে।এটুকু খাবারে রিদিতা র পেট ভরেনি

রিদিতা বারবার পেটে হাত বুলাচ্ছে ।আবেগ এসব লক্ষ্য করছে।হঠাত্ রিদিতা উঠে বসলো।আবেগের দিকে তাকালো।কারণ যে পরিমাণ খিদে পেয়েছে তাতে আবেগকে না বলে উপায় নেই

-গাড়ি থামান
-কেন
-গাড়ি থামান আমি খাব
-কি
-আমার খিদে পেয়েছে ।আমি খাব
-মানেটাকি।একটু আগে চাউমিন স্যুপ কফি খেলে।তারপর খিদে পাই কি করে
-আমি জানিনা ।গাড়ি থামান

আবেগ সাইট করে গাড়ি থামিয়ে বিরক্তি নিয়ে রিদিতা র দিকে তাকালো ।কিন্তু রিদিতা কে দেখে আবেগের বিরক্তি উধাও।রিদিতা বাচ্চা দের মতো আবেগের দিকে তাকিয়ে আছে আর বায়না করছে

-আমি খাব।আমাকে খাওয়া র এনে দিন
-কিন্তু এখন কোথায় খাবার পাব
-জানিনা ।আমি খাব।আমাকে খেতে দিন না হলে আপনাকেই কামড়ে খেয়ে ফেলবো

রিদিতা র কথা শুনে আবেগ ভুত দেখার মতো তাকিয়ে আছে।উপায় না পেয়ে নেমে গেল

-তুমি বসো।দেখছি কি পাওয়া যায়

আবেগ দেখলো রাস্তার ওপারে দু একটা হোটেল কিছু দোকান আছে।আবেগ একটা হোটেল থেকে এক প্যাকেট বিরিয়ানি আর এক বোতল পানি এনে গাড়ি তে গেল

-নেও খেয়ে,,,,,

আবেগ বলার আগেই রিদিতা আবেগের হাত থেকে নিয়ে গপগপ করে খাওয়া শুরু করেছে।সামনে যে আবেগ আছে সেদিকে খেয়াল নেই।কারণ এই সময়ে আর যাই হোক খিদে সহ্য করা যায় না

আবেগ হা হয়ে তাকিয়ে আছে।এতো খানি বিরিয়ানি দেখতে দেখতে রিদিতা চেটে পুটে খেয়ে ফেলেছে।আবেগ কখনো এরকম খেতে দেখেনি রিদিতা কে

-আরেকটু খাবে
-খাবো।এনে দিন

আবেগ একবার অবাক হয়ে রিদিতা কে দেখে তারপর গিয়ে আরেক প্যাকেট বিরিয়ানি আনলো ।এটাও নিয়ে রিদিতা গপগপ করে খাওয়া শুরু করেছে।আবেগ পাশে বসে হা হয়ে দেখছে

-এই মেয়ে র হলো টাকি।এখন এরকম খাই খাই করে কেন(মনে মনে)

রিদিতা মন দিয়ে খাচ্ছে ।খাওয়া শেষ হলে রিদিতা প্যাকেট ফেলে দিয়ে হাত ধুয়ে পানি খেয়ে সিটের সাথে হেলান দেবে তার আগে পাশে তাকিয়ে দেখে আবেগ ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে

-কি দেখছেন আপনি
-দেখছি দুজন মানুষের খাবার একজন মানুষ কিভাবে খায়
-দেখুন খাওয়া নিয়ে কথা বলবেন না বলে দিলাম ।দুজন মানুষের খাবার কৈ একা খেয়েছি।আমরা তো দুজনেই খেয়ে ছি
-কিহ ।খাবার তুমি খেলে এর মধ্যে আরেকজন আসলো কোথা থেকে

এবার রিদিতা র হুস ফিরলো।ওর খেয়াল ছিল না যে ও আবেগকে কি বলছে।আর যাই হোক সন্তান এর কথা আবেগকে জানাবে না।কারণ যেখানে বিশ্বাস ভালোবাসা কিছু নেই সেখানে সন্তান এর দোহাই দিয়ে ও আবেগের কাছে গিয়ে দয়ার প্রার্থী হতে চায় না

-কি হলো বলো

রিদিতা কথা ঘুরিয়ে দিল

-আপনি আমাকে খাওয়া র খোঁটা দিচ্ছেন
-এই মেয়ে ফালতু কথা বলবে না।আমি তোমাকে কখন খোঁটা দিলাম
-তা নয় তো কি।আপনি এবার আমার বেতন থেকে এই খাবার এর বিলটি কেটে রেখেন ।এই বিলের জন্য ই তো খোঁটা দিচ্ছে ন
-এক থাপ্পড় মেরে তোমার দাঁত ফেলাবো।আমি কি বলেছি তোমাকে খাবার এর দাম দিতে।আর একটা কথা বলবে না।মেজাজ টাই খারাপ করে দিল।অসহ্য একটা

আবেগ গাড়ি চালানো শুরু করলো।রিদিতা গা এলিয়ে শুয়ে পরলো

-আমি কারোর দয়া চাই না।আমি নিজেই আমার সন্তান কে দেখবো ।আর দয়া না তোমাকে যদি বাচ্চা র কথা বলি তুমি তো বলবে আমি নাটক করছি।না হলে দুশ্চরিত্রা ।অন্য কারোর বাচ্চা কে তোমার বাচ্চা বলছি।দরকার কি।আল্লাহ্ যেভাবে রেখেছে তেমন ই ভালো আছি(মনে মনে)

আবেগ অফিসে আর গেলো না

-আমাকে নামিয়ে দিন
-কেন।তোমার বাড়ি রেখে তার অনেক পরেই তো আমার বাড়ি ।আমি নামিয়ে দিচ্ছি
-দরকার নেই।আমি এমনিতেই নষ্টা মেয়ে আপনাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া র নাটক করতে পারি।আপনি বরং আমাকে নামিয়েই দিন

রিদিতা র কথা শুনে আবেগ ব্রেক কষে রিদিতা র দিতে তাকালো।এই সুযোগে রিদিতা দ্রুত নেমে একটা অটো নিয়ে চলে গেল।আবেগ রিদিতা র যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে

আবেগ বাড়ি র উদ্দেশ্য এ রওনা দিল

রাতের বেলা

-আবেগ ডিনার করতে আয়
-মা কি রেধেছো
-বিরিয়ানি করেছি

বিরিয়ানি র কথা শুনে আবেগের দুপুরের কথা মনে পরলো।আর রিদিতা র খাওয়া র ব্যাপার টা

-আচ্ছা ও এখন এমন হয় এ গেছে কেন।আগে তো এরকম খেতো না।এখন দেখি নিজেই সারাদিন কিছু না কিছু খেতেই থাকে।হাঁটা চলাও করে খুব ধীরে।আগে তো সব কিছুতেই দ্রুত কাজ করতো।এখন এমন হয় এছে কেনো ও(মনে মনে)

চলবে——

#LOVE❤

part:18
Writer:Suvhan Årag(ছদ্মনাম)

পরের দিন সন্ধ্যায়

আজ অফ ডে ছিল।অফিস বন্ধ ।আবেগ এর মনটা কেনো জানো ভালো নেই।রিদিতা কে দেখতে পারেনি আজ।না চাইতেও আবেগ রেডি হচ্ছে তার মায়ের আদেশ নোভা র পার্টিতে যেতেই হবে

ঠিক আট টায় আবেগ গিয়ে পার্টি তে পৌছালো।আবেগ কালো টি শার্ট আর জিন্স পরেছে।আবেগকে দেখে নোভা গদগদ হয়ে এগিয়ে এলো

-আবেগগ তুমি এসে গেছো।এতো দেরী করলে কেনো।জানো আমি কখন থেকে তোমার অপেক্ষা করছি
-ন্যাকামি বন্ধ করো।তাড়াতাড়ি আমাকে ছারবে।আমি এক ঘন্টা র বেশি থাকতে পারব না

নোভা আবেগের কথা শুনে কিছু বলছে না

-হাহ এক ঘন্টা আজ তো সারা রাত তোমাকে এখানে থাকতে হবে(মনে মনে)

নোভা তো শর্ট টপস জিন্স পরেছে।তাও স্লিভলেস টপস।আর গলাতে ভাব দিয়ে একটা স্কার্ফ ঝুলিয়ে ছে

নোভা সবার সাথে গিয়ে নাচছে।আর আবেগ একটা জায়গায় কোল্ড ড্রিঙ্কস সহ কিছু ড্রিঙ্কস রাখা আছে সেখানে গিয়ে বসেছে।হঠাত্ নোভা এসে আবেগের হাত টানা শুরু করলো

-আবেগ চলো আমরা ড্যান্স করি
-যাস্ট শাট আপ নোভা ।কি পরেছো এটা ।শুধু মা চায় তাই তোমাকে আমি,,,,,,না হলে তোমার মতো মেয়ে দেখলেই ঘৃনা লাগে
-শোন আবেগ ঐ কথা আমার সামনে বলবে না।আমি বাইরে যেমন থাকি আমি ভেতরে তেমন থাকি।তোমার ঐ রিদিতা র মতো বাইরে সাধু সেজে ভেতরে নোংরামী করিনা
-এইখানে রিদিতা কৈ কেনো টানছো ।অসহ্য আমার এখানে আসাই উচিত হয় নি।আমি চলে যাচ্ছি

নোভা তো চিন্তা তে শেষ

-নাহ ওকে যেতে দেওয়া যাবে না।আমার সব প্লান শেষ হয়ে যাবে(মনে মনে)

নোভা নাটক শুরু করলো

-আবেগ সরি প্লিজ রাগ করোনা।আচ্ছা চল তুমি একটু জুস খাও দেখবে ভালো লাগবে

নোভা ওয়েটার কে কি ইশারা করলো।ওয়েটার কি জুস এনে দিল

-আবেগ জুস খাও ভালো লাগবে
-আমি কিছু খাব না
-আবেগ প্লিজ ।আচ্ছা আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি

নোভা জোর করে আবেগকে জুস খাইয়ে দিল।জুস খেয়ে আবেগের যেন কেমন লাগছে।নোভা বুঝতে পারলো ওষুধ কাজ করছে

-আবেগ চলো আমরা ওপরে যাই
-কেনো
-আরে চলো না

নোভা আবেগকে ধরে এনে উপরে একটা রুম এ এনে দরজা লক করে দিল।আবেগ এর মাথা ঘোরানো বারছেই

-আবেগ কেমন লাগছে এখন
-নোভা আমার মাথা ঘুরছে কেন।আর তুমি দরজা কেন লাগিয়ে ছো।খোল বলছি

নোভা অট্টহাসিতে ফেটে পরলো

-কি হলো হাসছো কেন
-দরজা তো সকালে র আগে আমি খুলব না
-মানে কি বলছো তুমি

নোভা গায়ে র স্কার্ফ টা খুলে ফেলে দিলো

-মানে আজ শুধু তুমি আর আমি।কি করবো বলো আমি তোমার স্পর্শ চাই আবেগ।তাই এই কাজ করতে হলো
-কিহ তুমি এতো খারাপ
-আবেগ চুপ করো তো ।তুমি জানো তোমার জুসে আমি ড্রাগ দিয়ে ছি।একটু পর তুমি নিজেই তোমার কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলবে।তারপর নিজেই আমার সাথে,,,,,উহ আমিতো ভাবতে পারছি না।তুমি বসো আবেগ।আমি তোমার সাথে বাসর করবো বলে তিনদিন আগে ইন্ডিয়া থেকে একটা নাইটি এনেছি।আমি না হয় রেডি হয়ে আসি।তুমি বসো আবেগ

আবেগ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।আর নোভা নাইটি নিয়ে ওয়াশরুমে গেছে

-আল্লাহ্ আমাকে বাঁচাও ।কোথায় ফেঁসে গেলাম আমি।আমার চারপাশ যে ঝাপসা হয়ে আসছে।আমি কিছুতেই এই পাপ কাজ করতে পারব না।আল্লাহ্ রক্ষা করো।আমাকে কিছু করতে হবে

আবেগ আসতে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার লক খুলতে গেল।কি মনে করে আবেগ এসে নোভা র ওয়াশরুমে র বাইরে থেকে আসতে করে দরজা লক করে এলো।তারপর ঢলতে ঢলতে গিয়ে দরজা খুলে বাইরে থেকে দরজা লক করে দিলো।

আবেগ যেই বেরোতে যাবে দুজন ছেলে ওর পথ আটকালো

-দাঁড়ান কোথায় যাচ্ছে ন।নোভা ম্যাডাম সকালের আগে আপনাকে যেতে নিষেধ করেছে

আবেগ বুঝতে পেরেছে নোভা কি প্লান করেছে আবেগকে ফাসানোর জন্য

-আল্লাহ্ তুমি শক্তি দেও।আমাকে যে করে হোক বাঁচতে হবে।এদের সাথে নাটক করতে হবে(মনে মনে)

-কি হলো যান ভেতরে যান

আবেগ নিজেকে একটু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বললো

-নোভা তো আমাকে বলেছে এখানে আসতে।কিন্তু হঠাত্ ও নিচে চলে গেল।আর আমাকে ও যেতে বললো।আগে পার্টি করবো তারপর না হয়,,,,,,

ছেলে দুটো একে অপরের দিকে তাকালো

-কিন্তু আপনি তাহলে দরজা দিয়ে ই বা যাচ্ছে ন কোথায়
-দেখুন রুম খোলা থাকলে যে কেউ রেস্ট করতে ঢুকে পরবে তাই
-না আপনাকে বিশ্বাস হচ্ছে না।নোভা ম্যাম কে তো নিচে যেতে দেখিনি
-আচ্ছা আপনাদের চোখে নাও পরতে পারে।সন্দেহ হলে ডাক দিন।দেখুন সারা পান কি না

ছেলে দুটো ডাকা শুরু করলো ।এইদিকে ওয়াশরুমে নোভা চেঁচাচ্ছে ।কিন্তু ওয়াশরুম বন্ধ ।তারপর ঘরের দরজা জানলা সব বন্ধ ।নোভা র কোন কথায় বাইরে যাচ্ছে না

-দেখলেন বললাম না নোভা নিচে
-আসলেই ।আচ্ছা আপনি যান।আমরা পাহারা দিচ্ছি যাতে এই রুম এ কেউ আসতে না পারে।আপনাদের সময় হলে আসবেন
-আচ্ছা

আবেগ হাফ ছেড়ে আল্লাহ্ র নাম নিচ্ছে আর নিচে নামছে।নিচে নেমে আবেগ দ্রুত ওখান থেকে বেরিয়ে গাড়ি তে গিয়ে বসে গাড়ি স্টার্ট দিল

আবেগ এর চোখ আরো ঝাপসা হয়ে আসছে।চারদিকে কেমন ঘুলিয়ে যাচ্ছে ।গাড়ি ঠিকমতো চালাতে পারছে না

আবেগ ড্রাইভ করছে সামনে রিদিতা র বাড়ি।রিদিতা র বাসা রেখেই আরো দূরে আবেগের ম্যানসন ।কিন্তু গাড়ি চালানোর অবস্থায় আবেগ নেই।ড্রাগ এর ডোজ কাজ করছে

আবেগ রিদিতার বাড়ি র সামনে গিয়ে গাড়ি থামালো ।ঢুলতে ঢুলতে গিয়ে রিদিতা র দরজা র দিকে এগিয়ে গেল

ঐদিকে

দিশা রিদিতা কে নিয়ে চেকাপ করিয়ে কেবল বাড়ি এলো

-দিশা বাইরে তো খেয়ে এসেছি এখন ঘুমিয়ে পর
-দাঁড়া এই শো টা শুরু হবে এখন।দেখে ঘুমাবো ।তুই কি করছিস
-একটু গোসল করে আসলাম
-আচ্ছা

বাড়িতে দিশা ছাড়া কেউ নেই।তাই রিদিতা কোন রকম দরজা লাগিয়ে টাওয়েল পেঁচিয়ে বাইরে বেরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছছে

হঠাত্ দরজায় কেউ ধাক্কা চ্ছে

দিশা তো বিরক্তি বোধ করলো

-এখন আবার কে।বাড়ি য়ালা না তো ।কিন্তু ঐ লোকের তো হাত পায়ে ব্যান্ডেজ ।ঐ লোক আসবে না।কলিং বেল ও বাজছে না।দেখি তো

দিশা গিয়ে দরজা খুলে দেখে আবেগ দাঁড়িয়ে আছে

-স্যার আআপনি
-রিদিতা কোথায়
-ও গোসলের,,,,,

দিশা র কথা শেষ হতে না হতেই আবেগ রিদিতার ঘরের দিকে গেলো

দিশা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে

-আচ্ছা স্যার কি ওর কাছে মাফ চাইতে এসেছে।তাহলে তো ভালো।রিদিতা আর স্যার এর ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাক।অনেক কষ্ট পাচ্ছে বোনটা ।আমি বরং আজ এই রুম এ ঘুমাই ।ওরা ওদের মতো আলোচনা করুক

দিশা দরজা লাগিয়ে দিল।তার পর বসার রুমে গিয়ে দরজা লক করে মাদুর বিছিয়ে শুয়ে টিভি দেখা শুরু করলো

ঐদিকে আবেগ আসতে করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো।ঢুকে দরজা লক করে দিল।রিদিতা চুল মুছছে।ও ভেবেছে দিশা এসেছে

-দিশা তুই বলে শো দেখবি এতো তাড়াতাড়ি শো শেষ।কি হলো।আর তোকে না বললাম গোসল করছি।তুই কেন এলি।তুই একটু বাইরে যা আমি ড্রেস পরে নি।তারপর ঘুমোতে আসিস

রিদিতা দিশার কোন রেসপন্স পাচ্ছে না।এদিকে আবেগ ঢলতে ঢলতে রিদিতা র পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো ।এমনিতেই আবেগ এর নেশা হয়ে ছে ড্রাগে ।তারপর আবার রিদিতা কে চকলেট কালারের টাওয়েল পেঁচিয়ে ভেজা চুলে দেখছে।আবেগের নেশা টা আরো বেড়ে গেল।রিদিতা দিশার কোন রেসপন্স না পেয়ে পেছনে ফিরলো

-দিশা তোকে,,,,,,আআআ আপনি এখানে

রিদিতা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।তাড়াতাড়ি চুলের টাওয়েল দিয়ে ওপর থেকে ঢেকে নিল

রিদিতা দৌড়ে ওয়াশরুমে যাবে তার আগে আবেগ হাত টেনে ধরল

-ছারুন আমাকে।আপনি এখানে কি করছেন।দিশা দিশা,,,,

ওদিকে দরজা লক করে দিশা ভলিউম বাড়ি এ টিভি দেখছে।ওর কানে কিছুই যাচ্ছে না

-ছারুন আমাকে ছারুন বলছি।কেনো এসেছেন এখানে বের হন বলছি দিশা,,,
-তোমাকে না পুরো মনে হচ্ছে কি জানো চকলেট আইসক্রিম ।পুরো চকবার ।আমি খাব

আবেগ এর এবার সত্যি কন্ট্রোল হারিয়ে গেছে।তাই ভুলভাল বকছে

-কি বাজে কথা বলছেন ছারুন আমাকে।দিশা কোথায় তুই

রিদিতা ছুটার চেষ্টা করছে।আবেগ শক্তি দিয়ে রিদিতা কে ধরছে।রিদিতা আবেগের হাতে কামড় দিচ্ছে ছাড়ানোর জন্য ।কিন্তু আবেগের ছাড়া র নাম নেই

-এই চকবার এতো লাফালাফি করছো কেনো।চলো আমি তোমাকে খাব

বলেই আবেগ হাত টানছে রিদিতা র।রিদিতা আবেগের কন্ঠ শুনে বুঝতে পারছে আবেগ নেশা করেছে।আবেগ বাচ্চা দের মতো করে কথা বলছে

-আপনি নেশা করেছেন।নেশা করে আমার কাছে এসেছেন।ছারুন বলছি।আগের দিন কিছু বলিনি বলে ভাববেন না আজ কিছু বলবো না।ছারুন আমাকে
-আমিই নেশা।ইশ ।পচা কথা ওগুলো বলে না।আমার তো চকবার দেখে নেশা লাগছে।আমি চকবার খাব।এই চকবার চলো আমার সাথে

রিদিতা জোরে কামড় দিল আবেগের হাতে।গিয়ে দরজা খুলতে যাবে তার আগে আবেগ এসে ওকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানার দিকে গেলো।রিদিতা হাত পা ছুরছে

-এই চকবার এরকম নড়ছো কেন চুপ করে থাকবে তো

আবেগ রিদিতা কে শুইয়ে দিয়ে রিদিতা র হাত দুটো নিজের মুঠোতে নিয়ে নিল

-আল্লাহ্ এ কোন মুছিবতে পরলাম আমি।ছারুন আমাকে

আবেগগ রিদিতা র কোন কথা না শুনে রিদিতা চুলে মুখ গুঁজে দিল

এদিকে নোভাকে ঐ লোক দুটো বের করেছে।ওদের সন্দেহ হয়ে ছিল।তাই দরজা খুলে ওরা নোভাকে বের করেছে।বের হয়ে নোভা আবেগের ফোনে কল দিচ্ছে

আবেগ ফোনের শব্দ পেয়ে ফোনটা পকেট থেকে নিয়ে খাটের এক কোনে ছুড়ে মারলো।রিদিতা র ঠোট দখল করে নিলো

আবেগ এর টাচে ফোন রিসিভ হয়ে গেছে।নোভা তো হ্যালো বলছে

-হ্যালো আবেগ তুমি,,,,,,,,

নোভা থেমে গেল।নোভা কান পেতে শুনছে ওপাশের আওয়াজ ।নোভা র চোখ দিয়ে যেমন লাল আভা বেরোচ্ছে সাথে পানি।নোভা কান থেকে ফোন সরিয়ে ফোনটা ছুড়ে মারলো

-রিদিতা আআআ ।তোকে ছারবো না আমি ছারবো না,,,তুই আমার আবেগকে নিয়ে গেছিস,,তোকে ছারব না

মাঝরাতে আবেগ রিদিতার বুকে মাথা দিয়ে ঘুমোচ্ছে আর বিড়বিড় করছে

-আমাকে কেন এতো কষ্ট দিলে রিদি।আমার যে ভেতর জলে যায় ।কেন এমন করলে কেন

আবেগ এর কথা রিদিতা র কানে যাচ্ছে না।বেচারির চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পরছে।আবেগ এমন ভাবে রিদিতা কে জাপটে ধরেছে ও উঠতে ও পারছে না

-আল্লাহ্ আমি কি করব এখন।কি করবো।নিজে আসবে আমার কাছে ভোরের আলো ফুটলেই আমাকে আর চিনবে না।আমাকে আবার শুনতে হবে অপবাদ ।আর কতো আর কতো সইবো আমি

চলবে—-

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ