Friday, June 5, 2026







পনেরো টাকার নোট পর্ব-০১

#পনেরো_টাকার_নোট (০১)
লেখা: ইফরাত মিলি

আর মাত্র সাত দিন পর বিয়ে। অথচ আজ তার হবু স্ত্রী নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। আর অদ্ভুত হলেও সত্যি মেয়েটাকে পালাতে সাহায্য করছে সে নিজেই। এমন ঘটনা নাটক-সিনেমাতে হলে ঠিক ছিল, কিন্তু বাস্তব জীবনে ঘটনাটা বড্ড কেমন কেমন যেন লাগছে তাহমিদের। বেমানান! সে কখনোই এতটা পরোপকারী ছিল না। তবে আজ কেন এই মেয়েটাকে এতটা উপকার করার দায় পড়লো সেটা ভেবে নিজেই চমকাচ্ছে। তার বাইকটা এগোচ্ছে মিরপুর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে। পিছনের সিটেই মেয়েটা রয়েছে। ওর নাম সামিরা। গত এক মাস ধরে মেয়েটার সাথে তার বিয়ের আলাপ-আলোচনা চলে অবশেষে বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু বিয়েটা আর হবে বলে মনে হচ্ছে না।
দেশে আসার পর আজই সামিরাকে প্রথম দেখেছে সে। এর আগেও দেখেছে অবশ্য, তবে ছবিতে। কেবল ওই দেখা পর্যন্তই। মেয়েটার সাথে কখনও ফোনেও কথা হয়নি তার। যেহেতু দুজনের মাঝে সেরকম কোনো যোগাযোগ ছিল না, তাই সকলে মনে করলো বিয়ের আগে একবার বর-কনের সামনাসামনি দেখা হওয়াটা দরকার। তাই আজ সপরিবারে হবু শ্বশুরবাড়িতে নিমন্ত্রণ করা হলো তাহমিদকে। তার মা-বাবা সামিরার বাড়িতে আগেভাগেই চলে গিয়েছে। সে বন্ধুদের সাথে দেখা করে তারপর এলো বলে পনেরো মিনিট দেরি হলো। আর ওদের বাড়িতে পৌঁছে গিয়ে যখন নিজের বাইক থামিয়েছিল তখনই একটা ব্যস্ত গলা ভেসে এলো দূর থেকে,
“এই, এই…থামুন, থামুন।”

তাহমিদ বুঝতে পারছিল না কে বলছে কথাগুলো। এদিক-ওদিক তাকাতেই হঠাৎ একটা মেয়ে তার সামনে এসে দাঁড়ালো। মেয়েটাকে চেনা চেনা লাগলো তার। ভালো করে দেখে বুঝলো মেয়েটি সামিরা। ওকে এর আগে কেবল মোবাইলে ছবিতে দেখেছিল। আর ছবিতে দেখা কাউকে সরাসরি দেখলে প্রথমটায় একটু চিনতে সমস্যা হবারই কথা। তাহমিদ অবাক হয়েছিল। সে ভেবেছিল সামিরা বোধহয় তাকে ওয়েলকাম করতেই রাস্তা পর্যন্ত চলে এসেছে। সে ওকে কিছু বলতেও যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই সামিরা বললো,
“মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন যাবেন?”

তাহমিদ আরেক দফা অবাক হলো। মেয়েটা কি তাকে চিনতে পারেনি? তার তো ওকে চিনতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। তবে ও কেন চিনতে পারছে না? তাহমিদের হঠাৎ মনে হলো, মেয়েটা কি তাহলে ইতোপূর্বে তাকে দেখেইনি? আর এই রাত্রি বেলা রেলওয়ে স্টেশনে কাজ কী ওর? নিজের হবু শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তো উপস্থিত বাড়ির ভিতরে, হবু বরেরও আসার কথা ছিল, আর এ মেয়ে এমন সময়ে কেন রেলওয়ে স্টেশনে যেতে চাচ্ছে? তাহমিদ বুঝতে পারলো কোথাও একটা বিরাট ঘাপলা আছে। আর সে এতক্ষণ যেটা লক্ষ করেনি এবার করলো, সামিরার হাতে বিশাল বড়ো এক ব্যাগ। ট্রাভেল ব্যাগ এটা। তাহমিদ কিছুটা সন্দেহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“পালাচ্ছেন না-কি আপনি?”

সামিরা একটু অপ্রস্তুত হলো। তবে দ্রুত কথা সাজিয়ে নিয়ে বললো,
“সেটা কি আপনাকে বলতে হবে? যাবেন কি না তাই বলুন।”

“উহুঁ, যাব না।”

সামিরা অসহায় চোখে তাকালো। নরম গলায় বললো এবার,
“কেন যাবেন না? চলুন, ভাড়া বাড়িয়ে দিবো। লাভ হবে আপনার।”

অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল তাহমিদ। মেয়েটা তাকে একজন সাধারণ বাইক ড্রাইভার ভাবছে! সত্যিই কি চেনে না তাকে? বুঝতে পারছে না। তবে তাহমিদ এটুকু নিশ্চিত হলো, মেয়েটা পালিয়ে যাচ্ছে। হয়তো বিয়ে করবে না বলেই পালাচ্ছে। কিন্তু একা পালাবে না-কি প্রেমিকের সঙ্গে? ব্যাপারটা বড্ড জানার ইচ্ছা হলো হঠাৎ। সে মত পালটে বললো,
“ঠিক আছে, বাইকে উঠুন।”

যেই কথা সেই কাজ, অগত্যা বাইকের পিছনে নিজের হবু স্ত্রীকে নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে ছুটলো, যাতে হবু বউয়ের পালাতে সুবিধা হয়। আর সেখান অবধি পৌঁছে দিলেই মেয়েটা ট্রেনে করে নিজের প্রেমিকের সঙ্গে পালাবে। কী নাটকীয় ঘটনা! তাও কি না ঘটছে তার জীবনে!

নয় মিনিটের মাথায় তারা গন্তব্যে পৌঁছালো। সামিরা বাইক থেকে নেমে দশ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিলো তাহমিদের দিকে। তাহমিদ নিলো। তবে কেন যেন মনে হলো দশ টাকা ন্যায্য ভাড়া নয়। কমসেকম ভাড়ার পরিমাণ ত্রিশ টাকা হবে। জানতে চাইলো,
“ওখান থেকে এখান অবধি ভাড়া মাত্র দশ টাকা?”

“হ্যাঁ, দশ টাকাই তো।”

“কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে ভাড়া বিশ-ত্রিশ টাকা হবে।”

সামিরা হাত থেকে ব্যাগটা নিচে নামিয়ে রেখে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো,
“আপনি তো মশাই খুব ধান্দাবাজ! যেই দেখলেন একটা মেয়ে বিপদে পড়ে আপনার গাড়িতে করে এলো, অমনি আপনি বেশি টাকা চাচ্ছেন? নেহাত ওই সময় কোনো গাড়ি পাচ্ছিলাম না বলে আপনার বাইকে এসেছি, নয়তো জীবনে বাইকে আসতাম না। শুনুন, ড্রাইভার গিরি করলে সৎ ভাবে করুন। ওখান থেকে এখান অবধি ভাড়া গুণে গুণে দশ টাকা। আমি আপনাকে দশ টাকাই দিয়েছি। তাও আবার একটা নতুন কচকচে নোট। কারো বিপদের সুযোগ নিবেন না। ন্যায্য ভাড়া রাখবেন।”

তাহমিদ ভাবতে পারেনি সামিরা তার কথার বিপরীতে এত এত কথা শোনাবে। সে তো সত্যি সত্যি কোনো বাইক রাইডার নয়, মানুষের যাতায়াতের জন্য বাইক চালায় না, দেশেও থাকে না, তাই কোথায় কেমন ভাড়া সে সম্পর্কে ধারণাও নেই। তবে সামিরার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না এখনো, ভাড়া কিছুতেই দশ টাকা হতে পারে না। তবে সে কথা বাড়ালো না আর, দশ টাকা রেখে দিলো। আশেপাশে তাকালো। মেয়েটার প্রেমিক কোথায়? এমন কাউকেই দেখতে পাচ্ছে না যে কি না সামিরার প্রেমিক হতে পারে। এখনো এসে পৌঁছয়নি না-কি? তার কি এখানে দাঁড়ানোটা উচিত হবে? না, সেটা ভালো দেখাবে না।
তাহমিদ বাইক স্টার্ট করতে উদ্যত হলেই সামিরা বলে উঠলো,
“একি! আপনি চলে যাচ্ছেন?”

“হ্যাঁ। এছাড়া কী করবো? আপনার সাথে পালাবো না-কি?”

সামিরা বিরক্ত গলায় বললো,
“আপনি এত বেশি কথা বলেন কেন?”

প্রত্যুত্তর দিলো না তাহমিদ। আশেপাশে চোখ বুলালো আবার। সামিরার প্রেমিকের সন্ধান করছে। বেশ অনেকজন পুরুষ মানুষ এখানে থাকলেও মনে হলো না এদের ভিতর কেউ মেয়েটার প্রেমিক। আবারও বাইক স্টার্ট করতে নিলো সে। সামিরা বলে উঠলো,
“আপনি আবার যেতে চাচ্ছেন? কিছুক্ষণ থাকুন প্লিজ। আমাকে যে নিতে আসবে সে তো এখনো এসে পৌঁছয়নি। ও আসুক আগে, তারপর আপনি যাবেন প্লিজ। আমি একা একটি মেয়ে এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো তা কেমন দেখায়?”

তাহমিদ তাকালো ওর দিকে। বুঝতে পারলো মেয়েটা একটু অস্বস্তি বোধ করছে। হয়তো ওর একা একা চলাফেরা করার অভ্যাস নেই। ভয় পাচ্ছে একা একা এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে। কিন্তু সেও তো অপরিচিত, তাহলে মেয়েটা তাকেই বা নির্ভরযোগ্য মনে করছে কোন বিবেকে? সে বললো,
“আপনি একটা ছেলের সাথে দাঁড়িয়ে থাকবেন, সেটা কি খুব ভালো দেখাবে?”

মাথা নত করে ফেললো সামিরা। মন্থর কণ্ঠে বললো,
“না। তবে আপনি থাকুন।”
এরপর দৃষ্টি তুলে মুখপানে তাকিয়ে বললো,
“দরকার হলে আপনাকে পাঁচ-দশ টাকা বাড়িয়ে দিবো।”

মনে মনে হাসলো তাহমিদ। বেশ বুঝতে পারছে মেয়েটা কত টাকা বাড়িয়ে দিবে তাকে। বাইকে ওঠার আগেও বলেছিল ভাড়া বাড়িয়ে দিবে। কিন্তু দিলো মোটে দশ টাকা। যা সঠিক ভাড়া বলেও মনে হয়নি। সে ঠিক করলো যাবে না এখনই। অপেক্ষা করুক কিছুক্ষণ। এত দূর যখন এলো তখন প্রেমিককে দেখেই যাক। চাইলেই সে সামিরাকে নিজের পরিচয় দিতে পারে, ওকে পালাতে বাধা দিতে পারে, তবে কেন যেন কিছুই করতে ইচ্ছা হচ্ছে না। বরং মেয়েটার চোখে একজন অপরিচিত মানুষ আর একজন বাইক চালক হয়েই থাকতে ইচ্ছা হচ্ছে। বাইক থেকে নামলো সে।
সামিরা যেন স্বস্তি অনুভব করলো। সাইড ব্যাগ থেকে ফোন বের করে কল করলো কাউকে। কল রিসিভ হলো দ্রুতই। বললো,
“তুমি কোথায়? আমি তো এসে পড়েছি।”

ওপাশ থেকে মানুষটা কিছু বললো। সামিরা এরপর বললো,
“ঠিক আছে, জলদি আসো।”

কথাবার্তা এতটুকুই। সামিরা ফোন ঢুকিয়ে রাখলো ব্যাগে। তাহমিদ দেখছিল ওকেই। সামিরাও হঠাৎ তাকালো। অপ্রস্তুত হয়ে চোখ সরিয়ে নিলো তাহমিদ। আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটার মুখভঙ্গি কেমন যেন হয়ে আছে। হয়তো তাকে খুব বেশি সুবিধার মনে করছে না। তাহমিদ জিজ্ঞেস করলো,
“আপনার নাম কী?”

“আপনাকে বলবো কেন?”

“এই যে আমাকে আপনার সাথে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন এজন্য। এটা তো ভদ্রতার খাতিরেও বলে মানুষ।”

সামিরা নিভলো। শান্ত গলায় বললো,
“আনজুম।”

তাহমিদ জানে ওর নাম সামিরা। মেয়েটা মিথ্যা নাম বললো তাকে। বললো,
“আমার নাম জানতে চাইবেন না?”

সামিরার ইচ্ছা ছিল না নাম জানার। তবুও জিজ্ঞেস করলো,
“কী নাম?”

“হাবিবুর রহমান।” তাহমিদও নিজের নাম গোপন করলো। কারণ, মেয়েটি তাকে ইতোপূর্বে না দেখলেও নাম তো শুনতেই পারে।

নাম শুনে আর কিছু বললো না সামিরা।
নীরব হয়ে গেল পরিবেশ। খানিক ক্ষণ বাদে তাহমিদ আবার বললো,
“পালাচ্ছেন কেন?”

“আপনাকে কে বললো পালাচ্ছি?”

“পালাচ্ছেন না?”

সামিরা নিশ্চুপ হয়ে গেল। ওর মৌনতা দেখেই বোঝা গেল ও অবশ্যই পালিয়ে যাচ্ছে। একটুক্ষণ পর ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বদলে গলায় বেশ ঝাঁজ নিয়ে বললো,
“আপনি অনেক বেশি কথা বলেন। এত বেশি কথা বলা ভালো না।”

“আসলে আমার একটু বেশি কথা বলারই অভ্যাস। আপনি যদি চুপ থাকার জন্য আরও পাঁচ-দশ টাকা বাড়িয়ে দেন, তাহলে চেষ্টা করে দেখতে পারি চুপ থাকতে।”
বলে মনে মনে হাসলো তাহমিদ।

সামিরা কিছু বললো না। একটু দুশ্চিন্তার মেঘ দেখা গেল ওর চেহারায়। তাহমিদ চুপি চুপি লক্ষ করছিল ওকে। গোটা ব্যাপারটা তার কাছে অদ্ভুত এবং রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। আর মাত্র সাতটা দিন পেরোলেই এই মেয়েটা তার স্ত্রী হতো, অথচ আজ মেয়েটা তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাবে। সে সবটা জেনে, দেখেও কিছুই বলছে না। কী হবে মেয়েটা পালিয়ে গেলে সে ভেবেও চিন্তা হচ্ছে না। নিজেকে মনে হচ্ছে আবেগ শূন্য। অন্য কেউ তার জায়গায় থাকলেও কি এরকম করতো? হয়তো না।

প্রায় পাঁচ মিনিট পর সামিরার প্রেমিক এসে হাজির হলো। ছেলেটাকে দেখে একটু বিস্মিত হলো তাহমিদ। কারণ, দেখে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে বলে মনে হচ্ছে। বয়সে সামিরার চেয়ে ছোটোই হবে। তবে এটা নতুন কিছু নয়। বয়সে ছোটো ছেলেরাও সিনিয়র মেয়েদের প্রেমে পড়ছে, সম্পর্কে জড়াচ্ছে, বিয়েও করছে। ছেলেটার পরনে কালো রঙের টি-শার্ট ও ছাই রঙা ব্যাগি প্যান্ট। পিঠে ব্যাকপ্যাক। সামিরা যেমন বিশাল ব্যাগ নিয়ে পালাবে বলে খুব আয়োজন করে এসেছে, সেই আয়োজনটা ছেলেটার মাঝে অনুপস্থিত। ছেলেটা এসেই বললো,
“সরি, আমার একটু দেরি হয়ে গেল।”

“সমস্যা নেই। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার আগে তো এসেছো।” বললো সামিরা।

ছেলেটা তাহমিদকে খেয়াল করলো। সামিরার পাশে তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
“উনি কে?”

“কেউ না। রাইডার।” কেমন অবহেলা নিয়ে বললো সামিরা। তারপর নিজের সাইড ব্যাগ খুঁজে একটা পাঁচ টাকার নোট বের করে তাহমিদকে দিয়ে বললো,
“এই নিন। আমি কথার খেলাপ করি না। বলেছিলাম আমার সাথে কিছুক্ষণ দাঁড়ালে টাকা দিবো। এই যে, দিলাম।”

টাকাটা নিলো তাহমিদ। মেয়েটার থেকে এই পাঁচ-দশ টাকা গ্রহণ করতে খারাপ লাগছে না তার, বরং ভালোই লাগছে।

সামিরা ছেলেটার দিকে ফিরলো টাকা দিয়েই। ছেলেটা উদ্বিগ্ন হয়ে বললো,
“আমরা যা করছি, তা কি ঠিক করছি? আরও একবার ভেবে নাও।”

“ভেবেছি। ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আর বাড়িতে ফিরতে পারবো না এখন।”

ছেলেটা বড়ো করে নিঃশ্বাস ফেললো। হালকা হওয়ার চেষ্টা করে বললো,
“ঠিক আছে, চলো। আগে বাড়িতে নিয়ে যাই তোমাকে, তারপর যা হওয়ার হবে।”

মানবে না, মানবে না, কিছুতেই মানবে না। মনে মনে ভাবলো তাহমিদ। পরিবারের লোকজন এমনিতেই সহজে প্রেমের সম্পর্কগুলো মানতে নারাজ থাকে। তার উপর যখন দেখবে ছেলে একটা বয়সে বড়ো মেয়ে নিয়ে এসেছে, তখন কেলেঙ্কারি হবে খুব। মেনে নিলেও তাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে।

হঠাৎ ট্রেন ছাড়ার হুইস্‌ল বাজলো। ট্রেন থেকে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল তারা। তাই হুইস্‌লের পর আর সময় নষ্ট করার ফুরসত পেল না সামিরা ও ছেলেটা। ছেলেটা সামিরার ট্রাভেল ব্যাগ নিজের হাতে তুলে নিলো। দ্রুত পায়ে এগোতে লাগলো ট্রেনের দিকে। ওর পিছন পিছন ছুটলো সামিরাও। তাহমিদ দাঁড়িয়ে রইল। দেখলো ওদের ব্যস্ত হয়ে ছোটা। চলে যাচ্ছে ওরা। যখন একদম ট্রেনের কাছাকাছি পৌঁছলো, ঠিক ওই সময় তাহমিদ উচ্চৈঃস্বরে ডাকলো,
“সামিরা!”

সামিরা ডাক শুনে দাঁড়িয়ে গেল। এ সময় স্টেশন জুড়ে ব্যস্ততা। মানুষজন ট্রেনের দিকে যাচ্ছে, উঠছে। কেমন যেন হুলুস্থুল পড়ে গেছে। সামিরার দৃষ্টি অন্য সবাইকে অতিক্রম করে তাহমিদের উপর এসে থামতে একটু সময় নিলো। হয়তো বুঝতে সময় নিলো ওর নাম ধরে কে ডাকছে। তাহমিদ বললো,
“আপনি তো চলে যাচ্ছেন, আপনার বরের কী হবে? সে কাকে বিয়ে করবে?”

সামিরা চমকে উঠলো ভীষণ। এমনভাবে বহুকাল চমকায়নি সে। গভীর বিস্ময়ে ভাবলো, বাইক চালক তার নাম জানলো কী করে? আর তার বিয়ের ব্যাপারেই বা কী করে জানলো? সে হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কিছু বলতে পারলো না, বলার সুযোগও হলো না। ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে। তাকে তো ট্রেনে উঠতে হবে।

চলবে।

_____________

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ