#পনেরো_টাকার_নোট (০৪/শেষপর্ব)
লেখা: ইফরাত মিলি
__________________
সামিরার মনে হচ্ছে সে স্বপ্ন দেখছে। হাবিবুর রহমানের থেকে গিফট আসাটা স্বপ্নের মতোই। একটু আগেও ওই মানুষটাকেই ভাবছিল সে। ভাবছিল দেখা হবে কি না আর কখনও। আর এখন তার থেকেই আচানক একটা গিফট বক্স এলো! কী কাকতালীয়! ওই ছেলেটার থেকেও কখনও তার জন্য গিফট আসতে পারে এটা তার ভাবনা থেকেও অনেক দূরে ছিল। আজ হঠাৎ তার মনে হচ্ছে ছেলেটা হয়তো তার কোনো আত্মীয়ই। যাকে সে চেনে না, কিন্তু ছেলেটা তাকে চেনে। সুহানা আপু গিফটটা এভাবে দিয়ে গেছে মানে সেও কি চেনে? সামিরার ভীষণ এলোমেলো লাগছে ব্যাপারটা। সে দ্রুত বক্সটা খুললো। ভিতরে রয়েছে একটা লাল গোলাপ, কিছু লাল গোলাপের পাপড়ি, আর একটা পার্পল রঙের খাম। সামিরা কয়েক সেকেন্ড স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে রইল। এরপর খামের মুখ খুললো। ভিতর থেকে বের করে আনলো একটা ভাঁজ করা সাদা কাগজ, আর একটা ভারি অদ্ভুত জিনিস। একটা দশ টাকা নোটের অর্ধাংশ এবং পাঁচ টাকা নোটের অর্ধাংশকে স্বচ্ছ টেপ দিয়ে জোড়া দেওয়া হয়েছে। সামিরা হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইল ওটার দিকে। এটা কেমন গিফট?
সামিরার হঠাৎ মনে পড়লো, সেই রাতে সে হাবিবুর রহমানকে একটা দশ টাকা ও একটা পাঁচ টাকার নোট দিয়েছিল। হ্যাঁ, মোট পনেরো টাকা দিয়েছিল। আর এই টাকার অর্ধাংশগুলো হয়তো তার দেওয়া সেই নোটেরই। ভারি অদ্ভুত লাগছে এটাকে দেখতে। মনে হচ্ছে যেন একটি নতুন পনেরো টাকার নোট তৈরি হয়েছে। সামিরা হাসলো। ভীষণই উদ্ভট ব্যাপার! তবে ভালো লাগছে হাবিবুর রহমানের থেকে গিফট পেয়ে। কিন্তু এভাবে টাকাটা নষ্ট করলো কেন? পনেরো টাকার কোনো মূল্যে নেই না-কি ছেলেটার কাছে?
সামিরা এবার সাদা কাগজটার ভাঁজ খুললো। সুন্দর হাতের লেখা। লিখেছে,
‘আপনাকে আনজুম ডাকবো না-কি সামিরা? যেহেতু হাবিবুর রহমানের থেকে গিফট যাচ্ছে তাই আনজুমই হয়তো সঠিক হবে। বাড়িতে ফেরার পর আর পালিয়ে যাননি দেখে ভালো লাগছে। সেদিন কিন্তু না পালালেও পারতেন। তবে পালিয়েছিলেন বলেই আমাদের সেদিন ওইভাবে দেখা হয়েছিল। যাই হোক, বিয়ের জন্য অভিনন্দন আনজুম। আপনার বিয়ের উপহার হিসেবে এই পনেরো টাকার নোট দিলাম। চিনতে পেরেছেন? আপনার দেওয়া সেই নতুন কচকচে দশ টাকা এবং পাঁচ টাকা মিলিয়েই কিন্তু পনেরো টাকার নোট হলো।
আর একটা কথা, আমার নাম হাবিবুর রহমান নয়। আর আমি কোনো রাইডারও নই। তবে এক রাতে আমি আনজুম নামের এক মেয়ের জন্য বাইক রাইডার হাবিবুর রহমান হয়েছিলাম।’
চিঠিটা পড়তে পড়তে সামিরার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এলো। বুকের ভিতরেও মৃদু কম্পন টের পাচ্ছে। হাবিবুর রহমান আসলে হাবিবুর রহমান নয়? তবে কে?
আগেই ছেলেটার পরিচয়কে কেন্দ্র করে গভীর রহস্য ছিল, আর এখন সেই রহস্য যেন আরও গভীর হয়ে উঠলো। সামিরা হতবিহ্বল হয়ে আছে। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবলে কোনো সমাধান হবে না, আজ ছেলেটার মুখোমুখি হতেই হবে। গিফট পাঠিয়েছে এর মানে তো বিয়েতেও নিশ্চয় এসেছে। ওকে যে করেই হোক খুঁজে বের করতে হবে, আর এই রহস্যের এখানেই সমাপ্তি ঘটাতে হবে। সুহানা আপুর কাছে যেহেতু গিফট দিয়েছে, সুহানা আপুর কাছেই খোঁজ পাওয়া যাবে। সামিরা ব্যালকনি থেকে রুমে এলো। আর এরপর রুম থেকে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলতেই থমকে গেল। সামনের মানুষটাকে দেখে বিস্ময়ে বড়ো হয়ে উঠলো চোখ দুটো।
তাহমিদ দরজায় নক করতেই যাচ্ছিল, কিন্তু এর আগেই সামিরা দরজা খুলেছে। সেদিনের পর আবার আজ সামনাসামনি দেখা ওর সাথে। তবে আজকের প্রেক্ষাপট একেবারেই আলাদা সেদিনের চেয়ে। আজ তাদের বিয়ে। মেয়েটা বউ সেজেছে, ভীষণই সুন্দর লাগছে দেখতে! সে বললো,
“এত ব্যস্ত হয়ে কোথায় ছুটছেন? হাবিবুর রহমানের কাছে?”
সামিরা কোনো উত্তর দিতে পারলো না, নির্বাক তাকিয়ে রইল। যাকে খুঁজবে বলে যাচ্ছিল, সে নিজেই তার রুমের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। আজ এসব কী হচ্ছে তার সঙ্গে? এ কদিন যে মানুষটাকে প্রতিনিয়ত ভেবেছে, যার সাথে দেখা করার জন্য মনে মনে মরিয়া হয়েছে, সেই মানুষটা এখন তার সামনে! অথচ তার এখন মনে হচ্ছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা…এ যেন বাস্তব না, কোনো ভুল দেখা। সত্যিই এখন সবকিছু অবাস্তব বলে মনে হচ্ছে।
সামিরার এই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা, ওর দ্বিধা জর্জরিত মনের সংশয়, এসব বেশ ভালো লাগছে তাহমিদের। সামিরাকে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো,
“দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকবো? এটা ভালো দেখাচ্ছে না ঠিক। ভিতরে ঢুকছি।”
তাহমিদ সামিরার পাশ কাটিয়ে ভিতরে ঢুকলো।
সামিরা এখনও কিছু বলতে পারছে না। কত কী জানার ছিল, দেখা হলে কত প্রশ্ন করবে ভেবেছিল, অথচ এখন যখন ওকে নিজের সামনে পেল তখন তার মাথাটা পুরো ফাঁকা লাগছে। কিছুই বলতে পারছে না! এত লোক বাড়িতে, অথচ তাদের অতিক্রম করে তার রুম পর্যন্ত এসেছে ছেলেটা, রুমের ভিতরে ঢুকে গেছে, অনুমতি পর্যন্ত নেয়নি। এটা কি কোনো সাধারণ আত্মীয়র পক্ষে করা সম্ভব? সে হলে তো কখনোই পারতো না। ও আসলে কে? আর ওর সাজসজ্জাটাও অদ্ভুত লাগছে তার কাছে। অবাক হয়ে দেখছে সামিরা। কালো শেরওয়ানি পরেছে ছেলেটা। সে তার এক কাজিনকে বলতে শুনেছিল বর না-কি কালো শেরওয়ানি পরে এসেছে। সামিরার মাথায় কখনও যে ভাবনাটা আসেনি এই মুহূর্তে হঠাৎ সেটাই ভাবলো। আর সে যা আশঙ্কা করছে, সেটাই কি ঠিক?
সামিরা গভীর বিস্ময়ে প্রশ্ন করলো,
“আপনি হাবিবুর রহমান নন?”
তাহমিদ ফিরে তাকালো সামিরার দিকে। কতটা অস্থির আর দ্বিধায় রয়েছে মেয়েটা! এমনটাই দেখতে চেয়েছিল ওকে, যে কারণে একবারও মেয়েটাকে তার আসল পরিচয় জানার সুযোগ দেয়নি।
সামিরা একই রকম বিস্ময়ে জানতে চাইলো,
“আপনি কে?”
“আপনার কী মনে হচ্ছে? কে হতে পারি আমি?” শান্ত স্বরে জানতে চাইলো তাহমিদ।
সামিরার বিস্ময় কাটছে না কিছুতেই। কী হচ্ছে কিছু বুঝতে পারছে না। তার যা মনে হচ্ছে সেটাই কি সত্যি? এই কণ্ঠও এখন তার বড্ড পরিচিত মনে হচ্ছে। সেদিন কলে যে কণ্ঠ শুনেছিল, এটাই কি সেই কণ্ঠস্বর নয়? কিন্তু কীভাবে সম্ভব এটা? ছেলেটা নিজে তাকে পৌঁছে দিয়েছিল রেলওয়ে স্টেশনে!
সামিরাকে নীরব ও সংশয়ে ভুগতে দেখে তাহমিদ বললো,
“আমার বয়স কি অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে?”
সে এরপর সামিরার একটু কাছে এগিয়ে এলো। বললো,
“আমার মনে হয় না আমি আপনার ভাবনার মতো বয়স্ক। আর আমি কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কারও নই।”
সামিরার নিঃশ্বাস আটকে এলো। এই ভাবনাগুলো তার তাহমিদের প্রতি ছিল। তবে কি সত্যিই এই মানুষটাই তাহমিদ? সে ভাবতো তাহমিদ নামের লোকটা হবে বয়স্ক ও একজন কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার বা ওই ধরনেরই অন্য কোনো পেশার মানুষ। সে সব সময়ই অন্য রকম কল্পনা করেছে তাহমিদকে। কিন্তু তার সামনে দাঁড়ানো এই তাহমিদ তার ভাবনার মতো নয়, বরং ঠিক তার মা-বাবার বর্ণনার মতোই। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় তো এটা, এই তাহমিদই হলো সেই বাইক চালক, যে তাকে রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছিল!
সেই রাতের পর যে মানুষটাকে প্রতিনিয়ত ভেবেছে, সেই মানুষটাকে এভাবে নিজের জীবনে পাওয়ার মতো চমৎকার কিছু আর ঘটেনি তার জীবনে। আর সবাই সবটাই জানতো তাহলে। কিন্তু কেউ কিছু জানায়নি তাকে। সে যখন কল করেছিল তখনও তাহমিদ কিছুই বলেনি।
সামিরা বললো,
“আপনি তো চিনতেন আমাকে, তাহলে যেদিন আমি পালিয়ে গেলাম সেদিন কিছু বলেননি কেন?”
“বলেছিলাম তো, ‘আপনি তো পালিয়ে যাচ্ছেন, আপনার বরের কী হবে?’…”
সেদিনের কথাটা পুনরায় একবার বলে স্মরণ করিয়ে দিলো তাহমিদ।
“এটা ওই শেষ সময়ে গিয়ে বলা, না বলা একই কথা।”
যদিও সামিরা মুখে এ কথা বললো, কিন্তু সে জানে কথাটা তার মাঝে কতটা প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু তার একবারও মনে হয়নি এটা তাহমিদ হতে পারে।
তাহমিদ বললো,
“তাই? আসলে আটকাতে চাইনি। ভেবেছিলাম প্রেমিকের সঙ্গে পালাচ্ছেন। আর যে মেয়েটা প্রেমিকের সাথে পালাবে বলে ঠিক করেছে, তাকে আটকে রেখে কী করবো? যে থাকতে চায় না, সে কখনো না কখনো চলে যাবেই। সেটা আমার বেলাতে হোক, কিংবা অন্য কারো বেলাতে। এসব ভেবেছিলাম। আর সেদিন যদি নিজের পরিচয় বলে দিতাম তাহলে কি এই পনেরো টাকা পাওয়া হতো?”
তাহমিদ নিজের হাতের টাকার নোটটা দেখালো, যেটা ঠিক সামিরাকে পাঠানো নোটটার মতোই।
তাহমিদ হঠাৎ বললো,
“আচ্ছা, দশ টাকাই কি ন্যায্য ভাড়া ছিল? এখনো কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছে না।”
সামিরা হেসে ফেললো এ কথায়। সত্যি বলতে তার নিজেরও জানা নেই ন্যায্য ভাড়া কত টাকা। তবে সেদিন বেশ বিশ্বাসের সঙ্গে দশ টাকা ধরিয়ে দিয়েছিল তাহমিদকে আর তাহমিদ সন্দেহ প্রকাশ করায় এক গাদা কথাও শুনিয়েছিল। সে বললো,
“ন্যায্য ভাড়া না হলে কী করবেন? কম টাকা দেওয়ার অপরাধে মামলা করবেন না-কি?”
“না, আমার বউয়ের নামে একটা মামলা ফাইল করা থাকবে এটা একদমই ভালো লাগবে না আমার।”
সেদিন ফোনে কথা বলতে গিয়ে তাহমিদের উপর ভীষণ মেজাজ খারাপ হয়েছিল, কিন্তু আজ কথা বলতে অদ্ভুত রকম ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে ভীষণ সুন্দর করে কথা বলছে ও। আসলেই কি সুন্দর করে কথা বলছে? না-কি তার ভ্রম? সামিরা বললো,
“আমি যখন আপনাকে কল করেছিলাম, তখনো কিন্তু আপনি কিছু বলেননি!”
“সে সময় বলিনি কারণ, সেটা ছিল আপনার পালিয়ে যাওয়ার শাস্তি। চাইছিলাম আপনি আমার প্রতি আগের ধারণাটাই পুষে রাখুন, আর এটা আপনাকে মানসিক অশান্তিতে রাখুক কিছু দিনের জন্য। আর এরপর শেষে গিয়ে আমাকে দেখে সারপ্রাইজড হন।”
সত্যিই, এমনভাবে আর কখনও সারপ্রাইজড হয়নি সামিরা। জীবনের সবচেয়ে বেশি চমকপ্রদ বিষয় হলো হাবিবুর রহমানের তাহমিদ হওয়ার ব্যাপারটা। সামিরা বললো,
“আমি পালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেন আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলেন?”
“যদি আমাকে দেখেশুনে তারপর পালাতেন তবে কখনোই আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। কিন্তু যেহেতু আমাকে দেখেননি, না দেখে, না জেনে, নিজ মনে আমার সম্পর্কে ভুলভাল ভেবে পালিয়েছেন, তাই ভাবলাম বিয়েটা করা যেতে পারে। আর পালিয়ে তো খালার বাসায় গিয়েছিলেন, অন্য কোথাও না। এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হলো, আমার আনজুমকে পছন্দ। আনজুমকে পছন্দ বলেই সামিরাকে বিয়ে করার জন্য আজ আমি এখানে। হয়তো সেদিন যদি আমাদের ওইভাবে দেখা না হতো, আজ আমরা কেউই এই দিনে, এই পরিবেশে, এভাবে মুখোমুখি হতাম না।”
সামিরা বুঝতে পারলো সবটা। এর মানে তাহমিদ তাকে পছন্দ করে। সামিরার একটু লজ্জা লজ্জা লাগলো। এসব কথার বিপরীতে কী বলবে বুঝতে না পেরে হাতের চিঠিটার দিকে ইশারা করে বললো,
“আপনার হাতের লেখা সুন্দর।”
“আর আমি?”
তাহমিদের আচানক এমন প্রশ্নে একটু অপ্রস্তুত হলো সামিরা।
তাহমিদ জানতে চাইলো,
“আপনার কি আপনার বর পছন্দ হয়েছে? আপনার বাবার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আপনি তাহমিদকে সামনাসামনি দেখলে কখনও অপছন্দ করতে পারবেন না। আপনার বাবার অনুমান কতটুকু সঠিক? তাহমিদকে পছন্দ হয়েছে আপনার?”
সামিরা গভীরভাবে ভেবে দেখলো। অপছন্দ করার মতো কারণ এই মুহূর্তে কিছুই পেল না। তবে পছন্দ করার বেশ কয়েকটা কারণ আছে। কিন্তু সে কথা এমন সরাসরি স্বীকার করা কঠিন। সে বললো,
“আমার হাবিবুর রহমানকে পছন্দ!”
এমন উত্তরে হাসলো তাহমিদ। সামিরা মুগ্ধ হয়ে দেখলো। কী সুন্দর ছেলেটা! কথাও বলে কী সুন্দরভাবে! অথচ সে নিজ মনে কীসব আবোলতাবোল ভেবে পালিয়ে গিয়েছিল, এমনকি ছবিটা পর্যন্ত একবার দেখেনি, এখন সে কথা ভাবতেই নিজেকে ভীষণ বোকা মনে হচ্ছে তার। হুম, বোকাই তো। বোকা সামিরা! নয়তো অমন কাণ্ড সে কখনও করতো না।
“আমি কি তাহলে চলে যাব?” বললো তাহমিদ, “হাবিবুর রহমানকে বিয়ে করবেন আপনি?”
সামিরা কিছু বললো না। শুধু দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো অন্য দিকে। এমন সময় রুমের বাইরে থেকে হঠাৎ তাহমিদের ডাক পড়লো। বিয়ের কাজ শুরু হবে এখন, তাই ডাকা হচ্ছে তাকে। সামিরা তাহমিদের দিকে তাকালো আবার। তাহমিদ বললো,
“ওই যে, ডাকছে আমাকে। সবার বোধহয় খুব তাড়া। হাবিবুর রহমানের ভাবনা বাদ দিয়ে এবারের মতো না হয় আমাকেই বিয়ে করে নিন।”
এরপর সামিরার আরও কাছে এগিয়ে এসে, ওর হাতে থাকা গিফট বক্সটা থেকে কিছু ফুলের পাপড়ি নিয়ে সামিরার দিকে ছিটিয়ে দিয়ে বললো,
“বিয়ে মুবারক সামিরা নুর!”
এরপর বের হয়ে গেল রুম থেকে। সামিরা ওর যাওয়ার পথেই তাকিয়ে রইল। হৃদয়টা কেমন কেমন করছে তার! তাহমিদের হাসিটা চোখে লেগে আছে। মাথায় হাত দিলো সামিরা। একটা ফুলের পাপড়ির স্পর্শ টের পেল। সে পাপড়িটা হাতে এনে ওটার দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবলো, সে কি প্রেমে পড়ে গেল?
(সমাপ্ত)
