#মালিহা
#পর্ব_১
#ইলোরা_ফারদিন
( সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
আমার আপন ছোটবোন আমার স্বামীর নামে ধর্ষণ মামলা করেছে- খবরটি শোনা মাত্রই আমার পায়ের নিচের মাটি সরে গেল।
যেয়ে মিলার গালে সজোরে থাপ্প*ড় বসিয়ে দিলাম। রেগে চিৎকার করে বললাম,” এসব কোন ধরণের আচরণ মিলা, সজিব তোর বড় ভাইয়ের মতো। ওর উপর এসব মিথ্যা মামলা কোন হিসেবে দিলি তুই? ওহ, ও বিসিএস ক্যাডার হয়েছে, এখন তোর লোভ আটকাচ্ছে না, তাই না? এসব মিথ্যে মামলা দিয়ে ওকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছিস তাই না?
“খবরদার আপি, আমার গায়ে হাত তুলার সাহস দেখাবে না। মামলা করে দিব একেবারে। আর হ্যা, কি যেন বলছিলে? তোমার স্বামীকে আমি ব্লাকমেইল করি? হাহ! জিজ্ঞেস করো তোমার স্বামীকে যে বগুড়ায় কেনো আমাকে আলাদা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে দিয়েছিল, তাও আবার স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে। প্রতি মাসে ৭ দিনের জন্য তোমার স্বামী যে অফিসিয়াল ট্যুরের নাম করে বের হতো, ওটা সে কোথায় যেত, তাকে জিজ্ঞেস করো। সে ওই সাত দিন বগুড়ায় আমার কাছে যেত। ওই এলাকায় সবাই জানে আমরা স্বামী স্ত্রী।”
মিলার কথায় মালিহা বিষ্ময় দৃষ্টিতে তাকালো স্বামীর দিকে। ছয় বছরের সংসার তাদের, তিন বছরের ছোট্ট বাচ্চাও আছে। কবে থেকে তার স্বামী তারও আপন বোনের সাথে পরকীয়ায় জড়ালো! করুণ চোখে তাকালো স্বামীর পানে। আহত গলায় জিজ্ঞেস করলো, “কবে থেকে?”
সজিব কিছু বলতে যাবে তার আগেই মিলা বলে উঠলো, ” যখন তুমি প্রেগন্যান্ট ছিলে, আর মা আমাকে তোমার দেখাশোনা করার জন্য পাঠালো, তখন থেকেই।”
আমি অবাক হয়ে শুধু তাকিয়েই রইলাম। এ কি সত্যি আমার নিজের বোন? নির্দ্বিধায় আমার স্বামীর সাথে তার পরকীয়ার কাহিনী বর্ণনা করছে। তার চোখে না আছে কোনো লাজ, আর না আছে কোনো লজ্জা। কিভাবে পারলো তারা।
আমাদের কথপোকথনের পুরোটা সময় সজীব ছিল নিশ্চুপ।
।।।।।।।।
বাসায় বিচার বসেছে। আমার পুরো পরিবার আর সজিবের পুরো পরিবার এসেছে। সবাই চাচ্ছে ব্যাপারটা এখানেই মিটমাট করে ফেলতে। কারণ যেহেতু আমাদের একটা বাচ্চাও আছে।
এসবের মাঝে সজিবের বক্তব্য ছিল, ” মালিহা যখন প্রেগন্যান্ট ছিল, তখন মিলা আমাদের বাসায় আসে। মিলা যখন তখন আমার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে। প্রথমে আমি বাধা দিতাম, কিন্তু একটা পর্যায়ে যায়ে সেটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। আর আমিও পুরুষ মানুষ। চাহিদা আমারও ছিল। বাধ্য হয়ে আমিও সায় দিই। কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই ছিল চাহিদা। আমি আমার স্ত্রী সন্তানকে নিয়েই থাকতে চাই। মিলা চাইলে আমি তাকে ক্ষতি পূরণ দিতেও রাজি।”
কিন্তু মিলা সাথে সাথেই চিতকার করে বলে উঠে,” আমি কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না। আমি চাই সজিবেত স্ত্রীর অধিকার। নাহলে আমি ফেসবুক লাইভে যায়ে এই ঘটনা সারা বাংলাদেশে প্রচার করব।”
মা সাথে সাথে যেয়ে থাপ্পড় বসালো, কাদতে কাদতে বললো,” বেয়াদব মেয়ে, জানিস না, এক বোন যদি তার আরেক বোনের স্বামীকে বিয়ে করে, তাহলে প্রথম বোনের স্বামীর সাথে তালাক হয়ে যায়। তুই কিভাবে তোর আপন বোন আর ভাগ্নির জীবন নষ্ট করতে চাস।”
” আমি কারো জীবনের ঠেকা নিয়ে আসি নি মা। মালিয়া আপু আর ওর বাচ্চার কি হবে এসব নিয়ে আমার ভাবার সময় নেই। ও আর ওর বাচ্চা মরবে না বাচবে ওটা ওর ব্যাপার।”
মিলার কথায় সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। এদিকে সজিব কোনোভাবেই মিলাকে স্ত্রী হিসেবে চায় না। মিলারা বেড পার্টনার হিসেবেই পারফেক্ট, কিন্তু ঘরের বউ হিসেবে মালিহার মতো মেয়েদেরই প্রয়োজন। তার উপরে আবার মালিহা আর তার একটা বাচ্চাও আছে। কিন্তু নিজের এতো কষ্টে পাওয়া চাকরি আর মান সম্মান খোয়ানোর ভয়ও তার মনে গেথে ছিল। সজীব এখন কি করব সে নিজেও বুঝে উঠতে পারছে না। মিলা যে বহুদিন ধরে এসব পরিকল্পনা করছে তা মোটেও টের পায় নি সে। এমনকি মিলার কাছে তাদের রাত কাটানোর সংখ্য ভিডিও ও ছবি রয়েছে। আরও রয়েছে সজীবের অবৈধ কাজের প্রমাণ। যা একবার ফাস হলে সজীবের চাকরি চ্যুত হতে সময় লাগবে না!
প্রায় দুই ঘন্টা ধরে পারিবারিক আলোচনা চললো৷ কিন্তু মিলার এক কথা যে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে সে সজীবের ক্যারিয়ার শেষ করে দিবে। অবশেষে সজীব বাধ্য হয়ে মালিহাকে তালাক দিল। সেদিনই হুজুর এনে সজীব আর মিলার বিয়ে পড়ানো হলো।
পুরোটা সময় মালিহা সজীব আর ওদের পরিবারের সবার পা ধরে কান্নাকাটি করেছে যে সে ডিভোর্সি হতে চায় না, তার সন্তানটার ভবিষ্যতের কথা যাতে তারা ভাবে। কিন্তু সজীব আর তার পরিবার চায় নি সজীবের চাকরিজীবন ক্ষতির সম্মুখীন হোক। কারণ এই যুগে একজন ক্যাডার হওয়া আর ক্যাডারের পিতা মাতা হওয়া অত্যন্ত সম্মানের ব্যাপার। কি করে তারা তাদের সম্মান হারাবে?
অন্যদিকে মালিহার বাবা মাও নির্বিকার। কারণ তার এক মেয়ে ডিভোর্সি হলেও আরেক মেয়ে তো ঠিকি ক্যাডার জামাই পাচ্ছে। তাহলে সমস্যা কি!
আর মালিহা নিজের স্বামী ধরে রাখতে পারে নি। এটা তারই দোষ। তাই তারাও শেষে সব মেনে নিল।
আর মালিহা? সে শুধু স্বার্থপর মানুষগুলোকে চেয়ে চেয়ে দেখলো….
চলবে…
