#মালিহা
#পর্ব_২
#ইলোরা_ফারদিন
মিডিয়ার সামনে মলিন শাড়িতে বসে আছে মালিহা। কোলে তার তিন বছরের বাচ্চা ছেলেটা। মালিহার চোখে কাজল লেপ্টে আছে। চোখ ভর্তি পানি। ওর পাশেই বসে আছে ওর আইনজীবী বন্ধু রণিত আর ওর পাচ বান্ধুবি। আর তাদের সামনে সনামধন্য গণমাধ্যম কর্মীরা। তাদের অবশ্য আনিয়েছে রণিত নিজেই।
মালিহা এবার কাদতে কাদতে বললো, ” আমি সামান্য একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান নিয়েই ছিল আমার ছোট্ট জগৎ। আমার স্বামী সজীব একজন উচু স্তরের সরকারি কর্মকর্তা। আমি আমার স্বামী সন্তানের বাহিরে দ্বিতীয় কিছুই চিন্তা করতাম না। কিন্তু আমার স্বামী গোপনে আমার বোনের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। তারপর সে আমার স্বামীকে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে বাধ্য করে যেন আমার স্বামী আমাকে ডিভোর্স দিয়ে তাকে বিয়ে করে। ওর কাছে নাকি আমার স্বামীর দুর্নীতির প্রমাণ আছে, সেগুলো ফাস হলে আমার স্বামীর চাকরি সংকটে পরতে পারে।
আমার স্বামী আমার বোনের কথা মতো আমাকে মুখে তিন তালাক দিয়ে সেদিনই আমার বোনকে বিয়ে করে।
এখন আপনারাই বিচার করেন। আমি কি পাপ করেছিলাম যে আমাকে ডিভোর্সি ট্যাগ ধারণ করতে হলো। আমার সন্তান বাবা হারা হলো?? আইনত আমি এখনো তার স্ত্রী। আমি ডিভোর্সি হতে চাই না। আমি এই কলঙ্ক নিয়ে বাচবো কি করে? আমার নিজের আয় নেই, আমার সন্তানের মুখে খাবার দিব কি করে?” বলেই চিৎকার করে কাদতে লাগলো মালিহা।
উপস্থিত সবার বুক মালিহার করুণ আর্তনাদে কেপে উঠলো। একটা মেয়ে কতটা অসহায় হলে এরকম অমানুষ আর প্রতারক একজন পুরুষের সাথে সংসার করতে চায়!
এরপর যা ঘটলো, সবাই তাতে হতবাক হয়ে গেল। মালিহা হুট করেই হাত থেকে ব্লেড বের করে নিজের হাতে চালিয়ে দিল। সবাই মুহুর্তের মাঝে থমকে গেল। হুশ ফিরতেই তাড়াতাড়ি মালিহাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলো।
এদিকে মালিহার ইন্টারভিউ টা মুহুর্তের মাঝে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেল। আর সবচেয়ে বেশি কোট করা হলো মালিহার একটি কথা যে সজীব দুর্নীতির সাথে জড়িত!
ব্যাস পুরো মিডিয়া লেগে পরলো তার দুর্নীতির প্রমাণ খুজতে।
।।।।।।।।।।
এদিকে সজীব আর মিলার অবস্থাও নাজেহাল। মানুষের ভয়ে তারা বাসা থেকেও বের হতে পারছে না। সজীবের মা মিলাকে এরই মধ্যে দু তিনটা থাপ্পড় দিয়ে ফেলেছে। তার কথা এই মিলার জন্য তার শান্তশিষ্ট ছেলেটা বিগড়ে গেছে। তার ছেলের এতো বদনামের জন্য দায়ী মিলা।
অন্যদিকে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে মিলা আর সজীবের ছিহ ছিহ চলছে।
।।।।।।।।।
দু’দিন পর
হসপিটালের ভি আই পি কেবিনের বেডে শুয়ে আপেল খাচ্ছে মালিহা। তার পাশের বেডে বসে তার বাচ্চা সামির খেলছে। এদিকে বেডের পাশে স্টুলে বসে আছে তার পাচ বান্ধুবি। সামনে টিভি চলছে।
কালকে রাতে সজীব আর মিলার অন্তরঙ্গ বেশ কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে সজীবের দুর্নীতি বিষয়ক নথিও।
সজীবকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
নিউজ দেখার মাঝেই সুপ্রিয়া বলে উঠলো,” সবি তো ঠিক চলছিল মালিহা, কি তার মাঝে তুই আমাদের না জানিয়ে লাইফ রিস্ক নিলি কেন। যদি ভুল করে ডিপলি হাতের রগ কেটে যেত?”
মালিহার মুখে পৈশাচিক হাসি। তারপর হাসতে হাসতে বললো,” কোনো কিছুই হতো না বইন। এক বছর ধরে প্রেকটিস করেছি হাত কাটার যাতে সেটা শুধু লোক দেখানো হয়, আমার জীবন ঝুকি যাতে না হয়। মাথা খারাপ আমার? ওই অমানুষ কুত্তা জানো*য়ারটার জন্য নিজেকে মারবো।
হুহ! স্বপ্নেও না…..! ”
বলেই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো মালিহা। সাথে হেসে উঠলো তার পাচ বান্ধুবি।
চলবে….
