(অন্তিম পর্ব )
#রাতের_নক্ষত্র 🌿🕊️
#মুক্ত_রহমান
কেটে গেছে মাস খানেক। অরাত্রিকা কেসটা আজ বন্ধ করবে সাবিত মহান। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে কেসটা আজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ওভারব্রিজে ঝুলন্ত সব ডেডবডির এখনো কোনো ক্লু মেলেনি। কে বা কারা এমন কাজটা করেছে, তার হদিস আজও অন্ধকারেই রয়ে গেছে। তবে একটা বিষয় সাবিত মহান নিশ্চিতভাবে জানেন – অরাত্রিকাকে যারা ধর্ষণ করেছিল, তারা ওই ঝুলন্ত দেহগুলোর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত।এই নিশ্চয়তাটাই তাকে অস্থির করে রাখে।আজ অফিসিয়ালি কেস বন্ধ। ফাইল ক্লোজড।কিন্তু বাস্তবে নয়।সাবিত মহান নিজের চেয়ারে বসে মনোযোগ দিয়ে ফাইল উল্টাচ্ছিলেন। সামনে বিশাল কাঁচের টেবিলজুড়ে ছড়িয়ে আছে কিছু মার্ক করা লেখা, কিছু রিপোর্টের কপি, কয়েকটা তারিখ গোল করে ঘেরা। সবকিছুর মাঝে একটা অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই মনোযোগের পেছনে আরেকটা কারণ আছে,আমজাদ সাহেবের নির্দেশ।
কেসটা বন্ধ হলেও তিনি চান, সাবিত গোপনে বিষয়টা স্টাডি করুক। বাবার বন্ধুর কথা, পিতৃসমতুল্য মানুষটার অনুরোধ ফেলতে পারেনি সে।ঘরের ভেতরে চাপা নীরবতা। এসির হালকা শব্দ ছাড়া কিছু শোনা যাচ্ছে না।এমন সময় দরজার কাছে হালকা শব্দ হয়।অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর সৈকত ভেতরে ঢোকে। হাঁটার ভঙ্গিতেই বোঝা যায় সেও দ্বিধায় আছে। একবার ফাইলগুলোর দিকে তাকায়, আবার সাবিতের মুখের দিকে।আমতা আমতা করে বলে ওঠে,
“স্যার… কেসটা তো বন্ধ হওয়ার কথা। তাহলে আপনি আবার পুরোনো সব ফাইল দেখছেন যে?”
সৈকতের কথায় সাবিত ধীরে মাথা তোলে। চোখের দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। সে নিজেও চায় না এই কেসটা আর বেশি ঘাঁটতে। চায় না নিজের শান্তিটা নষ্ট করতে। কিন্তু অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে কিছু কেস বন্ধ হয় না, শুধু চাপা পড়ে।
“তুমি কি মনে কর? সব বন্ধ মানেই সব শেষ?”
সাবিতের কণ্ঠ নিচু, কিন্তু দৃঢ়।সৈকত চুপ করে থাকে।সাবিত চেয়ার থেকে উঠে টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। আঙুল দিয়ে একটা নির্দিষ্ট তারিখে টোকা দেয়।
“এখানে কিছু ঠিক নেই। তিনটা লাশ, একটা ধর্ষণ কেস, কোনো ক্লু নেই।এটা কাকতাল না।”
একটু থেমে, ঠোঁটের কোণে কঠিন একটা রেখা টানে সে।
“কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যদি সাপ বেরিয়ে আসে?”চোখ সরাসরি সৈকতের দিকে,“আর সেই সাপটাকেই আমি দেখতে চাই।”
সৈকত ঢোক গিলে ফেলে বলে,“স্যার, তাহলে…?”
সাবিত শান্তভাবে বলে,
“অফিসিয়ালি কেস ক্লোজড,কিন্তু গোপনে আমি এটা স্টাডি করবো।”
সে আবার চেয়ারে বসে পড়ে। ফাইলের পাতাগুলো একটার পর একটা উল্টাতে থাকে। জানালার বাইরে সন্ধ্যা নামছে। শহরের আলো জ্বলছে, কিন্তু সাবিতের চোখে আলো নেই শুধু সন্দেহ।
—
দুবছরের বেশি সময় কেটে গেছে লন্ডনে আসার অরাত্রিকাদের। আজ সে ভীষণ খুশি। বিয়ের পর সেই যে লোকটার হাত ধরে ভিনদেশে পারি জমিয়েছিলো, এখনো দেশে যাওয়া হয়নি। আজ সন্ধ্যায় তাঁদের ফ্লাইট। খুশি মনে অরাত্রিকা প্যাকিং করছে। নয় মাসের ফুলো পেটটা নিয়ে বারবার হাঁটাচলা করতে হিমসিম খাচ্ছে মেয়েটা। পরিবারের সকলের ইচ্ছে বাড়ির একমাত্র ছেলের ওনাগত সন্তান নিজ দেশে নিজ বাড়ীতে ভূমিষ্ট হক। নক্ষত্র রাজি না হলেও রাতের জুরাজুড়িতে রাজি হয়েছে। তার সকল চিন্তা অরাত্রিকা জুড়ে। মেয়েটা যে তার প্রাণ ভ্রমরা।
কিন্তু এই গল্পের শুরু আরও বহু বছর আগে।
যেদিন পড়াশোনার জন্যে নক্ষত্রকে লন্ডনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, নক্ষত্র তখন মাত্র আঠারো বছরের যৌবনে পদার্পন করা যুবক। বাড়ির সবাই খুশি, গর্বিত। শুধু নক্ষত্র নিজে নির্বাক। কারণ যৌবনের লুকানো সুপ্ত অনুভূতির মানুষকে ছেড়ে সে কোনোভাবেই যাবেনা।রাতকে ছেড়ে সে যেতে পারবে না।লিভিং রুমে সেদিন ঝড় বয়ে গিয়েছিল।
“আমি যাবো না।”
নক্ষত্রের কণ্ঠ শান্ত রেখে কথাটা বলে ওঠে। সবাই বুঝতে পারেনা এমন কথার মানে। তবে নক্ষত্র সিদ্ধান্তে অটল, সে যাবেনা।আমজাদ সাহেব প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি।তবে একমাত্র ছেলেকে আদরে সুরে সুধায়,
“কেন যাবেনা বাবা ?”
“আমি রাতকে ছেড়ে যাবো না। ওকে ছাড়া আমি কোথাও যাবো না।”
এই কথাতেই বিস্ফোরণ ঘটে।নক্ষত্র থেমে এবার প্রস্তাব রাখে সকলের সামনে,
“আমি রাতকে বিয়ে করতে চাই বাবা।”
“খান বাড়ির একমাত্র ওয়ারিশ হয়েও এমন বেয়াদবি করছো! নিজের বেয়াদবি এবার বন্ধ করো নক্ষত্র!আমি ভুলে যাবো তুমি আমার একমাত্র ছেলে!”আমজাদ সাহেব চিৎকার করে কথাগুলো বলে হাপাতে থাকেন।
লিভিং রুম জুড়ে তখন নিস্তব্ধতা। বাড়ির সবাই ততক্ষনে জড়ো হয়েছে লিভিংরুমে।তারাও কিছু বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছেন। এদিক দিয়ে রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে নুরজাহানের কান্নার শব্দ। ছেলের এহেন কান্ডে তিনি নির্বাক।পাশে বসে ওনাকে শান্তনা দিচ্ছেন রাতের মা। তিনিও নিজের মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অশ্রু সামলাতে পারছেন না। নক্ষত্র তখন দাঁড়িয়ে আছে সিঁড়ির পাশে, চোখ নামানো। কিছু বলছে না। বাবার দিকে আশাভরা দৃষ্টিতে শুধু দাঁড়িয়ে আছে।নক্ষত্র এবার ধীরে করে বাবার সামনে দাঁড়ায়।
“আমি পড়াশোনা করবো। আমি দায়িত্ব এড়াচ্ছি না,
একটু থেমে বলে,“কিন্তু রাতকে বিয়ে করেই যাবো।”
ঘরে আবার নীরবতা নামে। এই নীরবতা চিৎকারের থেকেও ভয়ংকর। আদনান খান প্রথম সাহস করে কথা বলেন।
“ছেলেটা ভুল কিছু চাইছে না, দাদা। ও দায়িত্ব নিয়েই কথা বলছে।বাড়ির মেয়ে বাড়ি থাকবে এর থেকে ভালো কিছু আমি দেখছিনা। নক্ষত্র পড়াশুনা শেষ করে এলেই নাহয় দায়িত্ব পালন করবে। ততদিন এসব সকলের আড়ালেই রইলো?”
আমজাদ সাহেব তাকান সেদিকে।শান্ত কণ্ঠে বলে,
“ত তুই বুঝছিস এর পরিণতি?”
নক্ষত্র এবার সামনে এগিয়ে আসে।কাতর কণ্ঠে বলে,
“আমি বুঝি। আমি সব বুঝেই বলছি। রাতকে আমি স্ত্রী হিসেবে চাই, দায় হিসেবে না।আমি ভালোবাসি ওকে আমার তাকেই চাই বাবা।”
কথাটা আমজাদ সাহেবকে থামিয়ে দেয়। তিনি প্রথমবার ছেলের চোখে তাকান। সেখানে আবদার নেই, জেদ নেই শুধু স্থিরতা। নক্ষত্র একচুল নড়ে না। সে পড়াশোনা করবে, সে ফিরবে, সে দায়িত্ব নেবে কিন্তু বিয়ে ছাড়া যাবে না।শেষমেশ খান বাড়ির দেয়ালগুলো হার মানে। আলোচনা চলে।ছোট করে বিয়ে হয়। কোনো জাঁকজমক নেই।বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয় ছোট্ট রাত। ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে নিজের নামে জুড়ে নক্ষত্র সেদিন বিশ্বজয়ের হাসি হাসে।বিয়ের পরদিনই লন্ডন রওনা দেয় সে। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে রাতের হাত শক্ত করে ধরে বলে,
“আমি ফিরবো। ততদিন অপেক্ষায় থেকো।”
অরাত্রিকা লাগেজটার সামনে বসে আছে।কাপড়গুলো একটার পর একটা ভাঁজ করে তুলছে, কিন্তু ফুলো পেটটা নিয়ে বারবার ঝুঁকতে গিয়ে কপালে ভাঁজ পড়ে যাচ্ছে। একবার হাঁপিয়ে উঠে বিছানার ধারে হাত রেখে বসতে যাবে,ঠিক তখনই পেছন থেকে নক্ষত্র এসে দাঁড়ায়।অরাত্রিকা কিছু বলতে যাবে, তার আগেই নক্ষত্র পেছন থেকে তাকে সরিয়ে দেয়।
“তুমি বসো।”
লাগেজটার ঢাকনা পুরো খুলে নিজেই কাপড় তুলতে শুরু করে।অরাত্রিকা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।হালকা প্রতিবাদি সুরে বলে,
“আমি পারি, আপনি সরুন ডাক্তার সাহেব।”
নক্ষত্র তাকায় না। শার্ট ভাঁজ করতে করতেই বলে,
“আমি পারি আরও ভালো করে।”
অরাত্রিকা হাসে। সেই হাসিটা নক্ষত্রের চোখ এড়ায় না। সে কাজ থামিয়ে অরাত্রিকার সামনে এসে বসে পড়ে। দু’হাত দিয়ে আলতো করে পেটটা ছুঁয়ে দেখে।
“ও খুব দুষ্টুমি করছে?”
অরাত্রিকা মাথা নেড়ে বলে,“তোমার মতো।”
নক্ষত্রের ঠোঁটের কোণে হাসি জমে। সে কপাল ঠেকায় অরাত্রিকার কপালে।তারপর উষ্ণ অধর চেপে গভীর চুম্বন একে বলে,
“আর একটু কষ্ট করো লিটলষ্টার।তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।”
অরাত্রিকা হাত বাড়িয়ে নক্ষত্রের গাল ছোঁয়।নক্ষত্র কিছু বলে না। শুধু রাতের হাতটা নিজের গালের সঙ্গে চেপে ধরে। তারপর আবার লাগেজের দিকে ফিরে যায়। জামা-কাপড় গুছোতে গুছোতে মাঝেমাঝে পেছন ফিরে তাকায়।আড়চোখে রাতকে দেখে মিষ্টি করে হাসে।একটা সময় লাগেজ বন্ধ করে অরাত্রিকার হাতটা টেনে ধরে নক্ষত্র।তারপর কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,
“বাপের বাড়ি যাচ্ছ বউ?আমাকে সঙ্গে নেবে না?আমি কি একটু যেতে পারি আপনারা বাপের বাড়ি?”
অরাত্রিকা চোখ বন্ধ করে মৃদু হাসে।
“আপনি চাইলে যেতে পারেন বাবুর আব্বু।”
–
ফাঁকা রাস্তায় গাড়িটা মসৃণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। শহরের আলো অনেক আগেই পেছনে পড়ে গেছে। চারপাশে কেবল রাত, নীরবতা আর দূরের বাতাসের শব্দ। নক্ষত্র দু’হাতে স্টিয়ারিং ধরে খুব সাবধানে দিক পরিবর্তন করছে। পাশের সিটে বসে থাকা মানুষটা তার কাছে জীবনের চেয়েও বেশি মূল্যবান।এদিকে অরাত্রিকা সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে। এক হাত ফুলো পেটের ওপর রেখে আলতো করে বুলিয়ে যাচ্ছে, যেন ভেতরের ছোট্ট প্রাণটাকে আশ্বস্ত করছে। অন্য হাতে স্বামীর হাত শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে। হাত ছাড়তে ভয় পাচ্ছে, যদিও জানে নক্ষত্র কখনোই ছাড়বে না। মেয়েটার চোখেমুখে উপচে পড়া আনন্দ। এই ফেরাটা শুধু বাড়ি ফেরা নয়, এই ফেরাটা পূর্ণতা।নক্ষত্র একনজর তাকায় ওর দিকে। ঠোঁটের কোণে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে ওঠে।
“ক্লান্ত লাগছে?”
“না… আজ সবকিছু ভালো লাগছে।”
নক্ষত্র সামনে তাকিয়েই হাতটা আরও শক্ত করে ধরে।অরাত্রিকা জানালার বাইরে তাকায়। অন্ধকারের মাঝেও তার চোখে আলো।
“বিশ্বাস হচ্ছে না,আমরা সত্যিই ফিরছি।”
নক্ষত্র হালকা নিঃশ্বাস ছাড়ে।সে আগেই প্রাইভেট জেট বুক করেছে। যাতে রাতের কোনো কষ্ট না হয়। এই যাত্রাটাকে নিরাপদ রাখতে চেয়েছে শেষ পর্যন্ত। গাড়ির গতি আরও মেপে নেয়। স্টিয়ারিংয়ে হাতের চাপটা একটু বাড়ে।আকস্মিক দূর থেকে তীক্ষ্ণ হর্নের শব্দ কানে আসে।একটা অস্বস্তিকর অনুভূতি বুকের ভেতর চেপে বসে।নক্ষত্র চোখ তুলে তাকানোর আগেই ডান দিক থেকে নিয়ন্ত্রণহীন এক মালবাহী ট্রাক ছুটে আসে। আলো ঝলসে ওঠে।নক্ষত্র ব্রেক কষে, স্টিয়ারিং ঘোরায় এক সেকেন্ডের ভেতর যতটা সম্ভব চেষ্টা করে। কিন্তু সময়টা তার পক্ষে নেই।ভয়ংকর শব্দে ধাক্কা লাগে।
গাড়িটা ঘুরে গিয়ে উল্টে ছিটকে পড়ে রাস্তায়। কাঁচ ভাঙার শব্দ, ধাতব ঘর্ষণ।তারপর হঠাৎ সবকিছু থেমে যায়। শব্দ, আলো, গতি সব নিঃশেষ।ভাঙা কাঁচের ফাঁক দিয়ে নক্ষত্রের হাত অন্ধের মতো অরাত্রিকাকে খোঁজে।
“রাত…”
গলাটা কেঁপে ওঠে নক্ষত্রের। অনেক কষ্টের ভেতর অরাত্রিকার হাতটা খুঁজে পায়। আঙুলগুলো শক্ত করে চেপে ধরে।
“আমি আছি…কিছু হবেনা। একটু ধর্য্য ধরো কেউ নিশ্চয় আমাদের উদ্ধার করবে।”
স্বরে ব্যথা তবুও নক্ষত্র আশ্বাস দিতে ভুলেনা।সিট্ ব্লেট খুলে নক্ষত্র টেনে ছিচড়ে অরাত্রিকার দিকে এগিয়ে যাই। রক্তাক্ত শরীরটা ক্রমশ নিঃতেজ হয়ে আসছে। কপাল চুইয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে। পুরুষালি হাতটা তবুও থামেনা। পাগলের মতো অর্ধচেতন রাতকে ডাকতে থাকে।এদিকে অরাত্রিকাকে নাগালে পেতেই নক্ষত্র ধীরে নিজের কপালটা রাতের কপালে ঠেকায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, তবু চোখে তাকায়।সুশ্রী মুখটা রক্তে ভেজা। এতে রাতের সৌন্দর্য যেন দ্বিগুন লাগছে নক্ষত্রের কাছে।সেদিকে চোখ রেখে নক্ষত্র কান্নারত ভাঙা স্বরে বলে,
“ক্ষমা করো,আমি তোমাদের নিরাপদ রাখতে চেয়েছিলাম।তবে ব্যর্থ আমি পাখি।”
অরাত্রিকা চোখ মেলে তাকায়। ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ একটা হাসি।
“তুমি সবসময় চেষ্টা করেছো,এইটাই যথেষ্ট।”
তার হাতটা নক্ষত্রের হাতের ভেতরেই থাকে। পেটের ওপর রাখা হাতটা একটু নড়ে ওঠে, তারপর স্থির হয়ে যায়। নক্ষত্র চোখ বন্ধ করে। সে হাত ছাড়ে না। কোনোভাবেই না।অন্ধকার আরো নেমে আসে গভীর হয়ে নিঃশব্দে।ফাঁকা রাস্তায় উল্টে থাকা গাড়িটার ভেতর দু’জন মানুষ শেষ পর্যন্ত একে অপরের হাত ধরে অন্তিম প্রহর গুনছে।
সমাপ্ত.
