#শেষ_বেঞ্চের_মা
#আরেব্বা_চৌধুরী
#পর্ব_সংখ্যা_০৯
মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে বাড়ি ফিরলো নাহিদ। দরজা খুলতেই ঘরটা অস্বাভাবিক নীরবতা নিয়ে তার সামনে দাঁড়ালো যেনো সব শব্দ, সব নিঃশ্বাস, সব উষ্ণতা কোথাও গা ঢাকা দিয়েছে। আজ আর দরজার আড়াল থেকে সেই পরিচিত কাঁপা কণ্ঠ শোনা গেলো না, “নাহিদ তুই এসেছিস বাবা? দুপুরে কিছু খেয়েছিস?”
ফাঁকা বাড়িটা যেনো নিজের নীরবতাকেই শোনাচ্ছিল তাকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীরে সোফায় ঢলে পড়লো নাহিদ। মনে হলো কেউ তার বুকে একটা ভারি পাথর চেপে রেখেছে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবুও নিতে হয়।
নিশি রান্নাঘর থেকে এক গ্লাস পানি এনে নাহিদের সামনে ধরলো। কিন্তু নাহিদের চোখ যেনো একেবারেই পানির গ্লাসে নেই চেয়ে আছে শূন্যে, সেই দরজার দিকে, যেখানে মা প্রতিদিন হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
নিশি আস্তে বললো,
-পানি খাও।
নাহিদ ধীরে গ্লাসটা হাতে নিলেও ঠোঁট পর্যন্ত তুললো না।
তার গলা শুকিয়ে কাঠ, কিন্তু পানি নামার পথ যেনো বন্ধ হয়ে গেছে। নিশি পরম স্নেহে নাহিদের কাঁধে হাত রাখলো। সেই স্পর্শেও নাহিদের ভেতরের ঝড় থামলো না। গৃহস্থালি নীরবতার মাঝে তার বুকের ধুকপুক শব্দ যেন আরও প্রকট হয়ে উঠলো।
ওদিকে নুরজাহানের চোখে আজ ঘুম নেই।
এক বিছানায় পাশাপাশি আরও অনেক বৃদ্ধা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু নুরজাহানের দুচোখে ঘুমের কণা পর্যন্ত এসে বাধেনি। তিনি আস্তে করে বিছানা ছেড়ে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন, ধীরে জানালাটা একটু ফাঁক করে দিলেন, মনে হলো হয়তো হাওয়া এসে আজকের ব্যথাটা একটু হালকা করবে।
বাইরে আজ পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে, অদ্ভুত উজ্জ্বল।
কিন্তু নুরজাহানের অন্তরে কোনো আলো নেই সব অচেনা, শূন্য, অন্ধকার। চাঁদের আলো জানালা বেয়ে ঘরে ঢুকছিলো, অথচ তার নিজের জীবনের আলোটা যেন আজই নিভে গেছে। হঠাৎ পেছন থেকে এক বৃদ্ধা চেঁচিয়ে উঠলেন,
-রাত বিরেতে জানালা খুলে রেখেছো কেনো? একটু ঘুমোতে দিবে না নাকি?
চমকে উঠলেন নুরজাহান। হাতের কাঁপুনিতে তড়িঘড়ি জানালাটা আবার বন্ধ করে দিলেন। চাদর মুড়ে আবার বিছানায় চুপচাপ শুয়ে পড়লেন, যেন নিজের অস্তিত্বটুকু গুটিয়ে নিতে চাইছেন।
বাইরে সব নীরব, ভেতরে সব অস্থির। সেই অস্থিরতার শব্দ কারও কানে পৌঁছালো না, শুধু বালিশটাই জানলো
তার শব্দহীন কান্নার প্রতিটি ধাক্কা, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি ভাঙা হৃদয়ের আর্তনাদ।
সকালে একজন সেবিকা এসে সবাইকে তাড়া দিলেন,
-তাড়াতাড়ি বিছানা গোছাও সবাই। দ্রুত হাত চালাও। রুটিন অনুযায়ী আজ মালতি, রায়না, রাশেদা তোমরা ঘর ঝাড়ু দেবে।
নুরজাহান ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন সেবিকার কাছে। মুখের রঙ ফ্যাকাশে, চোখদুটো নিদ্রাহীন ভারে নুয়ে আছে। মিইয়ে যাওয়া কণ্ঠে বললেন,
-মেয়ে… তুমি কি লিখতে জানো?
সেবিকা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বললো,
-তা জেনে আপনার কি কাজ?
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই রাশেদা ঠোঁট মোচড়ে বলল,
-ইনি তো কাল সারারাত ঘুমাতে দেন নি। পুরো রাত ভুতের মতো এদিক-ওদিক ঘুরেছেন। আবার জানালাও খুলে রেখেছিলেন। সবাই ভয় পেয়ে গেছিলাম।
সেবিকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
-নতুন এসেছেন মানিয়ে নিতে সময় লাগেই। তবে নিয়ম না মানলে শাস্তির আলাদা লিস্ট আছে, সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছি।
কিন্তু নুরজাহান যেনো কারও কথাই শুনলেন না। তাঁর মন এখনো ছেলের মুখে আটকে। তিনি নরম স্বরে আবারও বললেন,
-বললে না মেয়ে তুমি কি লিখতে জানো?
সেবিকা এবার একটু নরম হলো,
-হ্যাঁ, লিখতে জানি।
নুরজাহান দুহাতে আঁচল চেপে ধরলেন, চোখের পাতা ভিজে উঠলো। খুব ধীরে, যেন নিজের বুকের ভেতর থেকে কণ্ঠ উঠে আসছে,
-আমার একটা চিঠি লিখে দেবে?
সেবিকা থমকে দাঁড়াল।
-কালই তো মাত্র এসেছেন, এর মধ্যে আবার কাকে চিঠি লিখবেন?
নুরজাহান আকাশের দিকে তাকানোর মতো করে চোখ তুলে বললেন,
-আমার নাহিদকে… আমার ছেলেকে।
তারপর ফিসফিস করে বললেন,
-রাতে ঘুম এলো না। বারবার মনে হলো ও খেয়েছে তো? বাড়ি ফিরে আমাকে খুঁজেছে তো? তাই আমি একটা চিঠি লিখিতে চাই, এমন চিঠি যেখানে আমার মনের সব কথা থাকবে।
সেবিকা বললো,
-এখন না, পরে একসময় লিখে দেবো।
কথাগুলো শুনেই নুরজাহানের মুখটায় যেন অন্ধকার নেমে এলো। চোখের কোণে জমে থাকা আশার প্রদীপটা একটু কেঁপে উঠে নিভুনিভু হয়ে গেল।
তিনি ধীরে ধীরে ঘরের এক কোণে গিয়ে হেলান দিয়ে বসে পড়লেন, যেন পৃথিবীর সবটুকু ক্লান্তি তাঁর কাঁধে এসে জমেছে।
সকালের নাশতার থালাটা সামনে এনে রাখা হলেও তাঁর হাত উঠলো না।
এক চামচ মুখে তুলেও মনে হলো গলার কাছে আটকে গেল, মনের ভেতর কিছু একটা ভারী পাথরের মতো চেপে বসে আছে।
নাহিদের মুখটা মনে হতেই একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো তাঁর বুক থেকে। পানি ছাড়া মাছ যেমন উন্মুখ হয়ে ছটফট করতে থাকে, তেমনই নাহিদকে দেখার তৃষ্ণায় নুরজাহানের বুকটা ছটফট করতে থাকে, নীরব, অথচ অসহায় ব্যথায় টনটন করতে থাকা সেই প্রতীক্ষা। কেউ দেখে না, কেউ শুনেও না।
কেটে গেছে তিন মাস।
নাহিদের ভেতরের ঝড়টি যেন ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে এসেছে। প্রথম প্রথম প্রতিটি ভোরে, প্রতিটি রাতে মায়ের ডাক আর মমতার স্পর্শ মনে হতো, যেন বুকের ভেতর হঠাৎ ছুরি বিঁধে যাচ্ছে। এখন আর তেমন হয় না। সময় তার নিজের মতো করে মানুষকে বদলে দেয় নাহিদের ক্ষেত্রেও তাই হলো।
নিশির দিনকালও এখন স্বচ্ছন্দে কাটে। সপ্তাহে একদিন বাপের বাড়ি গিয়ে একরাত থেকে আসা এসব যেন তার জীবনে নতুন স্বস্তির হাওয়া হয়ে এসেছে। এই প্রথম তার মনে হলো, শাশুড়িকে বিদায় করে দেওয়া কোনো খারাপ সিদ্ধান্ত ছিল না। বুড়ো মানুষ… বৃদ্ধাশ্রমে থাকলেই ভালো থাকবেন। আমরা-ও তো কত শান্তিতে আছি! ঘরে উটকো ঝামেলা না থাকলে সংসারের দিনযাপনও বোধহয় সহজ হয় এই ভ্রান্ত ধারণাই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নিশির মনে।
এদিকে তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে নুরজাহান সেবিকার পেছন পেছন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মাত্র একটি চিঠি লিখিয়ে নেওয়ার জন্য। চোখ দুটোতে অদ্ভুত এক ব্যাকুলতা; মনে হয় যেন জীবনের শেষ আকুল আবেদনটুকু নিয়েই দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
বিরক্তির স্বরে রাশেদা বেগম বললেন
-আসার পর থেকেই শুধু ছেলে, ছেলে আর ছেলে। এতো ভালোবাসা যখন ছেলের প্রতি, তখন ছেলে আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমেই বা রেখে গেলেন কেন?
নুরজাহান নিথর হয়ে গেলেন। ঠোঁট কাঁপলো, কিন্তু শব্দ বের হলো না। চোখের কোণে জমে থাকা জল থরথর করে কাঁপতে লাগলো, যেন সকল প্রশ্নের উত্তর ওই দু’ফোঁটা অশ্রুতে লুকিয়ে আছে।
নিস্তব্ধ রাতটায় চারদিক যেনো জমে থাকা নিঃশ্বাসহীন শূন্যতা। আশ্রমের সব ঘর অন্ধকারে ডুবে আছে, শুধু নুরজাহানের কক্ষে মৃদু হাওয়া জানালার পর্দা দুলিয়ে দিচ্ছে। চুপিচুপি উঠে জানালাটা পুরোপুরি খুলে দিলেন তিনি যেনো বাইরে থেকে একটু মুক্তির বাতাস ডাক দিচ্ছিল তাঁকে। দূরের আকাশে তারারা যেনো জোনাকির মতো টুকটুক করে জ্বলে উঠছে। সেই আকাশের দিকেই অন্যমনস্ক চোখ তুলে নুরজাহান ফিসফিস করে বললেন,
-আজ আপনার কথা বড় বেশি মনে পড়ছে। সঙ্গহীন জীবনটা যেনো বিষের মতো তীব্র। কত অবহেলা, কত না-বলা কথায় আপনাকে কষ্ট দিয়েছি আমি আর আজ একই কষ্ট আমাকেই সয়ে যেতে হচ্ছে। নাহিদের জন্মের পর থেকে আমি এক মুহূর্তও ভাবিনি আপনার মনটা কেমন আছে, আপনার শরীরটা কেমন আছে শুধু ছেলেকে আঁকড়ে ধরেছিলাম, আপনাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলাম। অথচ আপনারও তো দু’চোখ ভরা স্বপ্ন ছিলো, দু’হাত ভরা মমতা ছিলো, তা আমি বুঝতে চাই নি।
একটু থেমে, জানালার কাঠে মাথা ঠেকিয়ে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। রাতের হাওয়া তাঁর সাদা চুল উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।
-কখনো আপনার পাতে মাছের মাথাটা তুলে দেই নি, শুধু নাহিদের কথা চিন্তা করেছি, অথচ আপনি আর নাহিদ দু’জনেরই পছন্দ ছিলো মাছের মাথা। আপনি খেতে চাইতেন, অথচ আমি প্রথমে ছেলেকে দিয়ে তারপর আপনাকে দিতাম। আপনার কষ্ট, আপনার ক্লান্তি, আপনার চাহিদা সবকিছুই আমি দু’চোখ বুঁজে উপেক্ষা করেছি। আপনাকে দিয়েছি শুধু দায়িত্বের বোঝা, আর ছেলেকে বানিয়েছি সোনার রাজপুত্র। আজ সেই রাজপুত্রই আমাকে এই একাকী ঘরে ফেলে গেছে কেনো জানেন? কারণ আমি আপনাকে যেমন অবহেলা করেছি, আমাকেও ঠিক তেমনভাবেই ভুলে গেছে নাহিদ।
নুরজাহানের চোখ বেয়ে টুপটাপ অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। তিনি আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে ফিসফিসিয়ে বললেন,
-আপনি যদি সেদিন আমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে একটু শক্ত করে বুকে টেনে নিতেন, হয়তো আজ আমি এতটা ভেঙে পড়তাম না। আপনার সঙ্গ ছাড়া এই পৃথিবীটা যেনো অসহনীয়। এই যন্ত্রণায় প্রতিরাত কেঁদে কেঁদে ভিজে যায় বালিশ। এই একাকীত্বের দেয়াল, আপনার অনুপস্থিতির ছায়া সব মিলিয়ে মনে হয় শ্বাসটাই আটকে যাচ্ছে।
হঠাৎ তাঁর কণ্ঠটি আরও কেঁপে উঠলো,
এখন এই নিস্তব্ধ প্রতিটি রাত আমায় আপনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কবে ভাঙবে আপনার সেই দীর্ঘদিনের অভিমান?কবে আপনি এসে দাঁড়াবেন আমার সামনে ঠিক আগের মতো শান্ত, নিশ্চুপ, তবুও স্নেহভরা চোখ নিয়ে? আমি অপেক্ষায় আছি অধীর, অস্থির, অশেষ অপেক্ষায়। যেদিন আপনি আপনার সাথে করে আমাকে নিয়ে যাবেন, পৃথিবীর সকল কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়ে।
মালতি পেছন থেকে চেঁচিয়ে উঠলো,
-এই নুরজাহান, কি সমস্যা তোমার? রাত-বিরেতে জানালা খুলে রেখেছো কেনো? সকাল হোক, সেবিকার কাছে বিচার দেব!
চমকে উঠে তড়িঘড়ি করে জানালাটা বন্ধ করলেন নুরজাহান। হাত দুটো কাঁপছিল, চোখের ভেতর জমে থাকা অশ্রু তিনি হাতের পিঠে আড়াল করে ফেললেন।
এখানে আসার তিন মাস কেটে গেছে তবুও মনটা কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারে না। এই ঘর, এই মানুষগুলো, এই কাঠফাঁটা নিস্তব্ধতা কিছুই তাঁর নয়। যেনো এক অচেনা জগতে আটকে পড়েছেন, যেখানে দিনের আলোও তাকে ছুঁয়ে যায় না। বারান্দার কোণায় রাখা সেই পুরনো কাঠের চেয়ারে প্রায়ই চুপ হয়ে বসে থাকেন তিনি। খাবার সামনে রেখে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকেন, তারপর নিঃশব্দে সরিয়ে দেন। যেনো পেট নয় শুধু বুকটাই শূন্য হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি।
এখানকার কেউই তেমন কথা বলে না তাঁর সঙ্গে। সবাই দূরে দূরে থাকে কেউ উদাসীন, কেউ বিরক্ত, কেউ বা তাচ্ছিল্য নিয়ে তাকায়। নুরজাহানও ভেতর থেকে যেনো দিন দিন আরো পাথর হয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে আড়াল করে রাখেন, চোখে চোখ রাখতে ভয় পান। মনে হয় যেনো নিজের অস্তিত্বটাই কারো কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাতে যখন ঘরগুলো অন্ধকারে ডুবে যায়, আর চারদিক নিস্তব্ধতার চাদরে ঢেকে যায় তখনই বুকের ভেতরটা সবচেয়ে বেশি হাহাকার করে ওঠে।
মনে হয়, এই পৃথিবীতে তিনি একা একদম একা।
একজন মানুষও নেই পাশে দাঁড়ানোর মতো।
আর তখনই তাঁর কানে বাজে সেই একই প্রশ্ন,
”যাদের জন্য বেঁচে ছিলাম এতদিন, তারা কি সত্যিই আমার ছিল?”
আজকাল নিশির এই ঘনঘন আসা-যাওয়া একদমই সহ্য হচ্ছে না নিশির ভাবি মেহরুনের। এমনিতেই মন তার নানান কারণে খিটখিটে থাকে, তার উপর নিশির একটু বেশি হাসিমুখে ঘরে ঢোকা-বের হওয়া যেন আরও জ্বালা বাড়িয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত মনের রাগ আর চেপে রাখতে পারলো না মেহরুন।
দুপুরের ভাতের হাঁড়ির ঢাকনা লাগাতে লাগাতেই ঝড়ের মতো গিয়ে সামিরা বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে বললো,
-মা, মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু বাপের বাড়ি কি সারাক্ষণ থাকার জায়গা? বছরখানেক পর একবার এলো, দশ-পনেরো দিন থাকলো, এটা ঠিক আছে। কিন্তু এ তো দুই দিন পর পর হাজির! এসে আবার আমার সংসারে নাক গলাবে কেনো?
মেহরুনের কথাগুলো সামিরা বেগমের কানে পৌঁছতেই তিনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন ।
চোখ দুটো বিদ্যুতের মতো চকচক করে উঠলো।
তিনি ধীরে ধীরে কথা বললেও প্রতিটি শব্দ যেন ছুরির মতো গেঁথে যাচ্ছিল।
-আমার একমাত্র মেয়ে ও আসবে নাতো কে আসবে?
আমার মেয়েকে কি তুমি তোমার বাপের বাড়ি থেকে এনে খাওয়াচ্ছো? ও তার ভাইয়েরটা খায়, বাপেরটা খায়। শুনো, বাপ-মায়ের স্নেহ কি ক্যালেন্ডারের পাতায় বেঁধে রাখা যায়? বছরে একবার আসবে এই নিয়ম কে বানিয়েছে? তুমি? না তোমার মনগড়া সংসারের আইন?
ও এবাড়ি আসা নিয়ে তোমার কেনো এত আপত্তি?
মেহরুন চুপ করে রইলো।
সামিরা বেগম এবার আরও এক পা এগিয়ে এলেন, গলা খানিকটা উঁচু করেই বললেন,
-আর শোনো, আমার মেয়ে তার ভাইয়ের সংসারে দু’টো কথা বলতে হলে বলবে। পাড়া- প্রতিবেশির ঘরে তো কথা বলতে যায় না সে। নিশি আমার বুকের ধন। ওকে নিয়ে আর একটা বাজে কথা যেনো তোমার মুখ থেকে না শুনি।
বউ হয়ে এসেছো বউয়ের মতো থাকো। সংসার চালাতে শিখো। হর্তাকর্তা হওয়ার চেষ্টা করো না।
তার কথাগুলো শুনে ঘরটা কয়েক মূহুর্ত নিস্তব্ধ হয়ে থাকে। পরিবেশে যেন থমথমে উত্তাপ তৈরি হয়।
মেহরুন মাথা নিচু করে দাঁতে দাঁত চেপে গিলে নেয় সব কথা, কিন্তু তার চোখে স্পষ্ট আগুন অভিমান, ঈর্ষা আর হেরে যাওয়ার তীব্র ক্ষোভ।
❝আপনারা যারা গল্প পড়েন প্রত্যেকে রেসপন্স করুন, মন্তব্য যখন গঠনমূলক হয়, কলমের ডগা দিয়ে আপনা-আপনি কালি বের হয়।❞
চলবে,,,,,,
