#শেষ_বেঞ্চের_মা
#আরেব্বা_চৌধুরী
#পর্ব_সংখ্যা_১০
সন্ধ্যার ম্লান আলোয় সেবিকা খাতা-কলম নিয়ে বসলেন নুরজাহান চিঠি লিখার জন্য, ধীরে ধীরে কথাগুলো উচ্চারণ করতে লাগলেন। কাঁপা গলায় বলা প্রতিটি শব্দ যেন তার বুকের গভীর হাহাকার ছুঁয়ে বেরিয়ে আসছিল। সেবিকা চুপচাপ লিখে যাচ্ছিলেন।
নুরজাহান বললেন,
নাহিদ,
আমার দুই নয়নের মণি, আমার সোনা বাবা তুই কেমন আছিস? তোকে দেখার তৃষ্ণায় এ মায়ের হৃদয় শুকিয়ে যায়। সেই যে হাত ধরে রেখে গেলি আজ তিন মাস পেরিয়ে গেলো একবারও ফিরে তাকালি না। এতদিনে কি আমার কথা একবারও মনে পড়লো না তোর?
তুই জানিস নাহিদ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে আমার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। মনে হয়, দরজাটা খুলে তুই এসে দাঁড়াবি, একমুঠো হাসি দিয়ে বলবি, মা খেয়েছো? কিন্তু কোনো শব্দ আসে না। শুধু নিস্তব্ধতা এসে আমার গলা চেপে ধরে।
আমার সোনা ছেলে
মা ডাক শুনতে যে কী রকম তৃষ্ণা জাগে বুকের ভেতর, তা তোকে কীভাবে বোঝাবো? এখানে সবাই আছে, অনেক মুখ, অনেক শব্দ তারপরও আমি ভীষণ একা। তোর একটা ডাকই তো আমার পৃথিবী ছিল। আজ সেই পৃথিবীটুকু যেনো ছাই হয়ে উড়ে গেছে।
আচ্ছা বাবা, আমি না থাকাতে কি তুই ভালো আছিস?
সংসারের ঝামেলা কি একটু হলেও কমেছে? নিশিও কি এখন হাসিমুখে আছে? দোয়া করি তোরা দুইজন সুখে থাকিস, শান্তিতে থাকিস।
নিজের সামনে কতশত যুক্তি দাঁড় করাই, কিন্তু মায়ের মন তো আর যুক্তি মানে না। আমি ভালো না থাকলেও চলবে, কিন্তু তোর ভালো থাকার একটু খবর না পেলে মনটা রোজ ভেঙে ধুলায় মিশে যায়।
রাত গভীর হলে আমি জানালার পাশে বসে থাকি, আকাশের দিকে তাকাই। মনে হয় তুই ঘুমিয়ে আছিস হয়তো খেয়েছিস, হয়তো টিভি দেখছিস আর আমি এই লোহার দরজার আড়ালে বসে তোর কথাগুলো ভাবতেই থাকি।
তুই কি জানিস নাহিদ? এখানে আমার কেউ নেই, কেউ না। সবাই থাকে, কিন্তু কেউ আমার নয়। তোর গায়ের গন্ধটুকু, তোর পায়ের শব্দ, তোর শরীরের উষ্ণতা এই বৃদ্ধাশ্রমের ঠান্ডা দেয়ালে কোনটাই খুঁজে পাই না।
আমার বাবা,
একবার এসে আমাকে দেখে যা একবার শুধু বলিস,
মা, তুমি কেমন আছো? এই একটি বাক্যেই আমার সারা জীবনের ব্যথা সাগর শুকিয়ে যাবে, বিশ্বাস কর।
এখানে রাতগুলো খুব লম্বা হয় নাহিদ। ঘুম আসে না।
তোর শৈশবের প্রতিটি মুহূর্ত চোখের সামনে ভাসে। তুই প্রথম হাঁটতে শিখলি, প্রথম স্কুলে গেলে যেভাবে আমার আঁচলে ধরে কেঁদেছিলি… সব মনে পড়ে।
আজ সেই তুইই আমাকে ফেলে রেখে গেলি কিন্তু আমি অভিমান করে থাকি না বাবা।
মা কি কখনো ছেলের উপর অভিমান করে থাকতে পারে? আমি শুধু অপেক্ষা করি হয়তো কোনোদিন তুইও অনুভব করবি, মা ছাড়া সংসার কতটা ফাঁকা।
তুই ভালো থাকিস বাবা। আর যদি কখনো মন চায়
এই বুড়ো মা’টাকে দেখতে আসিস। অন্তত জানি তুই আসবি এই বিশ্বাসেই আমি বেঁচে থাকি।
তোর মা,
নুরজাহান।
সেবিকা নরম স্বরে বললো,
-কাগজটা ছিঁড়ে দেব নাকি খালা?
নুরজাহান দ্রুত হাত বাড়িয়ে কাগজটা আঁকড়ে ধরলেন, কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
-না মা, ছিঁড়বে না। এই কাগজটুকুই থাকুক আমার অপেক্ষার মতোই অক্ষত হয়ে।
খাতাটা তো এখনো খালি পড়ে আছে। ধীরে ধীরে প্রতিদিন একটু করে আমি পুরো খাতা লিখে শেষ করবো। তারপর একদিন একেবারে পাঠিয়ে দেব আমার নাহিদের কাছে।
তিনি কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। চোখের কোণে জমে থাকা জল আঙুলের পিঠ দিয়ে মুছে নিয়ে আস্তে বললেন,
-আমি জানি, আমার ছেলে আসবে… কোনো এক ভোরে বা কোনো এক সন্ধ্যায়। হয়তো হঠাৎ দরজায় দাঁড়িয়ে বলবে মা, চলো বাড়ি। এই আশাতেই আমি বেঁচে আছি মা, শুধু ছেলেকে একপলক দেখার তৃষ্ণা নিয়েই বেঁচে আছি।
সেবিকা নিঃশ্বাস ছেড়ে ধীরে বললো,
-খালা, আপনি কেন এভাবে নিজেকে আশা দিয়ে কষ্ট দিচ্ছেন? তিন মাসে একবারও খবর নেননি আপনার ছেলে, উনি আর আপনার খোঁজ নেবেন বলে মনেও হয় না।
কথা শেষ হওয়ার আগেই নুরজাহান মৃদু হাসলেন, সেই হাসিতে ক্লান্তির রেশ, তবু যেন অটল এক বিশ্বাসের আলো লুকিয়ে আছে।
-থাক মেয়ে, তুমি এসব বলো না। মা-দের বুকের ভিতর যে আশার প্রদীপ জ্বলে, তার আলোর আয়ু অনেক লম্বা। নিভে যেতে চাইলেও সহজে নিভে যায় না।
সেবিকা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো। নুরজাহান তখন খাতার দিকে তাকিয়ে হাত বুলোতে বুলোতে ফিসফিস করে বললেন,
-এই খাতাটা আমার সাথেই থাকুক। প্রতিদিন একটু করে লিখবো আমার মন যা বলতে চায়, সব। যখন পুরোটা ভরে যাবে, তখন একদিন তুমি নিজেই দেখবে আমার নাহিদ ঠিক আসবে, আমাকে নিতে। আমার এখানে থাকার সময়সীমা এই খাতার পৃষ্ঠা পর্যন্ত, যখন খাতা ফুরিয়ে আসবে তখন আমারও চলে যাওয়ার সময় হবে।
তার চোখ দুটো জলে ভিজে উঠলো, কিন্তু সেই জলে ছিলো না অভিমান বা অভিযোগ ছিলো নিঃশেষ ভালোবাসার পরশ।
-যেদিন নাহিদ আমায় নিতে আসবে, সেদিন তোমায় ডেকে বলবো, মেয়ে, আমার খাতাটা গুছিয়ে দাও। সেদিন তোমাকে খুশি করবো আমি, আমার দোয়ায় আল্লাহ তোমার সংসার ভরিয়ে দেবেন, আর হাতে উপহার দিতেও কৃপণতা করবো না।
এতদিন নুরজাহানের প্রতি উগ্র মেজাজ দেখালেও আজ অদ্ভুত কোমল এক মায়ায় ভরে উঠলো সেবিকার মন।
চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই বয়োবৃদ্ধা নারীটিকে দেখে যেন প্রথমবারের মতো বুঝতে পারলো একটা মানুষ নিজের সন্তানকে কতটা সীমাহীন ভালোবাসতে পারে।
এই বৃদ্ধাশ্রমে শত শত বৃদ্ধা আছেন কারও দু’টি ছেলে, কারও তিনটি মেয়ে; কেউ কেউ তো পাঁচ-ছয়জন সন্তান থাকা সত্ত্বেও এখানে এসে জীবন কাটাচ্ছেন।
এই বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিটি কক্ষে চার-পাঁচ জন করে থাকে, সবাই-ই কোনো না কোনোভাবে সময়ের সাথে আপোষ করে নিয়েছে।
কেউ গল্প করে, কেউ লুডু খেলে, কেউবা সন্ধ্যেবেলা উঠোনে বসে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে।
কিন্তু নুরজাহান তিনি যেন এই ভিড়ের মাঝেও একা, অন্য এক জগতে আটকে থাকা মানুষ।
তাকে কেউ কখনো ঠিকমতো মানিয়ে নিতে দেখেনি।
এমনকি সংসারের বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসার এতদিন পরও তিনি নিজের বুকের ভেতর সেই একই আগুন, একই আকুলতা আঁকড়ে বেঁচে আছেন।
তার পাগলামোকে সবাই শুরুতে শুধু আদিখ্যেতা বলে উড়িয়ে দিতো। রাত-বিরেতে জানালা খুলে দেওয়া, কখনো শব্দ করে কান্না, কখনো হঠাৎ শিশুর মতো হেসে ওঠা এসব দেখে আশ্রমের সবাই বিরক্ত হতো, অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিতো, কেউ কেউ কথা শোনাতো।
সেবিকা নিজেও কতবার যে তাকে শাস্তি দিয়েছেন তার কোনো হিসেব নেই।
কখনো ঘরের বাইরে বসিয়ে রাখতো, কখনো খাবার ইচ্ছাকৃত দেরি করিয়ে দিত, কখনো আবার সরাসরি বকাঝকা করতো।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়,
এই অসহায় বৃদ্ধা নারীর চোখের জল, কাঁপা কণ্ঠ বা প্রতিটি অভিমানী নিঃশ্বাস কিছুই এই আশ্রমের কাউকে বদলাতে পারেনি। কেউ একটু সহানুভূতি দেখায়নি, আপন ভেবে একটু কাছে টেনে নেয় নি। তার দুঃখে কারো চোখে এক ফোঁটা জল ও গড়ায় নি।
তার গলার প্রতিটি স্বরেই ভেসে উঠতো একই নাম
নাহিদ, আমার নাহিদ।
আজ সেবিকা বুঝলো এটা কোনো পাগলামো নয়
এটা সেই ভালোবাসা, যে ভালোবাসা মানুষকে শেষ বয়সেও বাঁচিয়ে রাখে, আবার ভেঙেও দেয় ভয়াবহ নিঃসঙ্গতায়।
সেবিকা চলে যেতেই নুরজাহান খাতাটা বুকের কাছে টেনে নিলেন। চুপচাপ আলনা থেকে নরম পুরোনো শালের ভাঁজ খুলে খাতাটাকে সযত্নে জড়িয়ে বালিশের নিচে রাখলেন যেনো সেই খাতাই তার শেষ আশ্রয়, শেষ আলো।
মালতি পাশের খাট থেকে ব্যঙ্গ মিশ্রিত স্বরে বললো,
এতোই যখন ভালোবাসা তোমার ছেলের প্রতি, তখন এখানে এলে কেনো নুরজাহান? ছেলের ঘরেই তো থাকতে পারতে।
নুরজাহান মাথা নিচু করলেন, কণ্ঠে নীরবতা।
কিন্তু তার আগেই রায়না তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মালতিকে থামিয়ে দিলো,
- চুপ থাকো তুমি। সব কথা সব মানুষের জন্য নয়।
তোমার নিজের ছেলে-মেয়ের জন্য মন টানে না?
নুরজাহান কি আর সখ করে এসেছে এখানে?
ছেলেই তো ফেলে রেখে গেছে! এতো ভালোবাসা দিয়ে মা যদি শেষ বয়সে একা হয়ে যায় তাহলে দোষটা তার নয়, সমাজের।
মালতি যেনো আরেকটু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই নুরজাহান কেঁপে ওঠা গলায় বললেন,
আমার ছেলেকে দোষ দিও না ও খুব ভালো। খুবই ভালো।
মালতি ঠোঁট বাঁকালো,
-হ্যাঁ, ভালো তো দেখতেই পাচ্ছি। ভালো ছেলে বলেই তো মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে, তাই না?
এইবার নুরজাহানের চোখ লাল হয়ে উঠল, বুকের জমাট ক্ষত যেন হঠাৎই ফেটে বেরোতে চাইলো। তিনি গর্জে ওঠা কন্ঠে বললেন,
-খবরদার! আমার ছেলের সম্পর্কে বাজে কথা বলবে না।
আমার ছেলে আমাকে এখানে রেখে গেছে এটা আমাদের মা-ছেলের ব্যাপার, তোমাদের কথা বলার অধিকার নেই।
আমার ছেলেকে নিয়ে একটি কথাও বললে আমি একচুল ছাড় দেব না।
রায়না ঠোঁট কামড়ে মালতির দিকে তাকিয়ে হালকা ক্ষোভে বলল,
এর জন্যই তো বলে, যার জন্য করলাম চুরি সেই বলে চোর!
খেয়ে সবাই যখন গভীর ঘুমে, তখনও নুরজাহানের চোখে ঘুম নেই।
ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে চশমাটা তুলে নিলেন তিনি। কাচ দুটো ঘাসে ছুঁয়ে থাকা শিশিরের মতো ঘোলা আঙুলের ডগায় তা মুছে তিনি চশমা পরলেন।
তারপর বালিশের নিচে গুঁজে রাখা সেই পুরোনো খাতা বের করলেন।
পাতাটা খুলে নাহিদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিটা বহুবার পড়তে লাগলেন।
আজ যেনো শব্দগুলোও তার কাছে অপরিচিত মনে হলো, শব্দ আছে, বাক্য আছে, কিন্তু নেই সেই বুকভরা হাহাকার, নেই সেই দীর্ঘশ্বাসের আগুন। কাঁপা কাঁপা হাতে পাতার ওপর আঙুল বোলালেন তিনি,
মনে হলো এই শব্দগুলো তার মনের বিশাল যন্ত্রণার সামান্য অংশও বহন করতে পারছে না।
নুরজাহানের বুক দুরু দুরু করে উঠলো। একটা নিশ্বাস ভেঙে বের হলো, যেনো নিজের বুকের ভেতরেই কেউ কেমন করে মুঠোভরা ব্যথা চেপে ধরেছে।
তিনি ফিসফিস করে বললেন,
আরে বাবা, সব কথা কি আর কাগজে লেখা যায়? যা ভিতরে জ্বলছে তা তো ভাষা পায় না। যা শুধু মা বুঝে মা সহ্য করে।
চোখের কোণ ভিজে উঠলো, কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো কাগজের কিনারায়। শব্দগুলো তার কাছে হঠাৎই অসম্পূর্ণ মনে হলো, যেনো কতটা চাওয়া, কতোটা অভিমান, কতটা প্রতীক্ষা, কতোটা মমতা এখনও লেখা হয়নি।
চিঠিটা বুকে চেপে ধরে নুরজাহান নিঃশব্দে কেঁদে উঠলেন। এই না বলা কথাগুলো কি কখনো আর বলা হবে?
কেটে গেছে তিন মাস।
এই ছয় মাসে নাহিদ একবারও দেখতে আসেনি নুরজাহানকে। সেই প্রথমে যেমন চোখে আশার ঝিলিক থাকত, এখন সেই ঝিলিকও ম্লান হয়ে গেছে। নুরজাহান নিজেকে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছেন; আর আগের মতো প্রতিদিন জানালার বাইরে তাকিয়ে পথচেয়ে বসে থাকেন না। বুঝে গেছেন এই অপেক্ষা শুধুই শূন্যের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া নিঃশ্বাস।
তিন দিন পর ঈদ। বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিটি কোণে আনন্দের হাহাকার, উৎসবের ছাপ। কেউ কেউ এসেছে ছেলে-মেয়ে বা আত্মীয়স্বজন নিয়ে চোখে মুখে উল্লাস, যেন ছোটবেলার মতো প্রত্যেকটি মুহূর্ত উদ্দীপনায় ভরা। কারো ছেলে এসেছে হাতে খাবার আর ঈদের উপহার নিয়ে। নুরজাহান তা দেখছেন, কিন্তু তার হৃদয় এখন অন্য কোনো দিকে।
নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি জীবনের হিসেব মিলাতে লাগলেন। বুক চিঁড়ে বেরিয়ে এলো দীর্ঘশ্বাস। ফিসফিস করে বললেন,
-এক জীবনে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মিলিয়ে দেখলাম, আমার স্থান প্রায় শুন্যতে গিয়ে ঠেকেছে
হঠাৎ মনে হল, এই শহরের হাহাকার, উৎসবের শব্দ সবকিছু যেন তার ভিতরকার নিঃশব্দ কষ্টকে আরও জোরে আঘাত করছে। বুকে ধরা বেদনার বোঝা যেন আরও ভারী হয়ে উঠলো। চোখ ভিজে গেলেও তিনি কাউকে দেখালেন না, শুধুই নিজের কণ্ঠে ফিসফিস করলেন,
-আমার জন্য আর কেউ আসে না, কেউ নয়। শুধু এই নিঃশব্দ রাত আর আমার একাকীত্ব ছাড়া।
চলবে,,,,,
