#তুই_আমার_শেষ_ক্ষুধা (ফ্যান্টাসি)
#শারমিন_প্রিয়া
১০.
লুমিরা(কাল্পনিক) নামে একটা জায়গা আছে—খুবই বিখ্যাত। সেখানে আছে সমুদ্র, ঝর্না আর পাহাড়ের অপূর্ব মেলবন্ধন। বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক সেখানে ঘুরতে আসে। বিশেষ করে নবদম্পতিদের কাছে লুমিরা হানিমুনের জন্য স্বপ্নের ঠিকানা।া
আরহাম পাঁচদিন পর টিকিট কাটল লুমিরাতে যাওয়ার জন্য। আরশীকে রাতে বলল, “চলো দুজনে সবকিছু গুছিয়ে নেই।”
আরশী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কেন?”
“কাল দুপুরে হানিমুনে যাব। অন্য শহরে। খুব সুন্দর জায়গা সেটা। গেলে বুঝতে পারবে।”
“কতদিন থাকবেন?”
“বেশ নয়। সর্বোচ্চ দুদিন।”
“তুমি কখনও কোথাও ঘুরতে গিয়েছো আরশী?”
আরশী মাথা নেড়ে বলল, “না, যাইনি।”
আরহাম হাসল। চোখে উজ্জ্বলতা নিয়ে বলল, “আমি তোমাকে পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখাব। দেখবে?”
আরশী হেসে উঠল, “কেন নয়?”
“ ঠিক আছে। চলো, এবার লাগেজ বের করি। কাপড় গুছিয়ে নেই।”
কাজের খালা আসার তিনদিন হয়ে গেছে। তিনি টুকটাক কাজ করেন। রান্না করেন। আরশীর সাথে মাঝেমাঝে গল্পও করেন। তারপর নিজের ঘরে শুয়ে থাকেন। নতুবা জানলা খুলে বিলের ধারে চেয়ে বসে থাকেন।
তিনি রান্নাঘরে ছিলেন। আরহাম–আরশীর বলা কথা শুনতে পেয়ে তিনি তাদের কাছে আসেন। বলেন, “আপনারা চলে গেলে আমি এ বাড়িতে থেকে কি করব?”
আরশী কপালে ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করল, “থাকতে অসুবিধা আপনার?”
খালা মাথা নেড়ে বললেন, “না, অসুবিধা নয়। তবে এত বড় প্রাসাদ… আমার একা একা ভয় লাগবে।”
আরহাম কিছুক্ষণ ভেবে তারপর বলল, “আপনার যদি ভয় লাগে তবে আপনি যেতে পারেন খালা। পরে চলে আসবেন।”
_______________
দুপুর দুটো নাগাদ বিমান থেকে নামে আরহাম–আরশী। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে গাড়িতে চেপে তারা রওনা দিল লুমিরা স্পটের দিকে। যাওয়ার পথে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গাছ আর পাহাড় দেখে মুগ্ধ হলো আরশী।
হোস্টেল ভাড়া রেখেছিল আরহাম, আগে গিয়ে সেখানে ওঠে তারা। খেয়ে নেয়। আরশীরা যে রুম রেখেছে, রুমের পাশেই সমুদ্র। জানলা খুলে দিলেই দেখা যায় সমুদ্রের ঢেউ। আরহাম আরশীর চোখ চেপে বলল, “খেয়াল করে শুনো তো, কিছু শোনা যায় কিনা।”
আরশী দু–তিন সেকেন্ড পর বলল, “সমুদ্রের শব্দ।”
“ঠিক বলেছো।” তারপর আরহাম আরশীকে সামনে নিয়ে যায়। জানলার কপাট খুলে হাত সরায় আরশীর চোখ থেকে, “দেখো—”
আরশী অবাক হয়ে যায় সামনে সমুদ্র দেখে। সমুদ্রের গর্জন এখান থেকে শোনা যাচ্ছে। কড়া রোদের ছায়া পানিতে মিশে চকচক করছে পানি। পাশে হাজার হাজার মানুষ।
আরশী বলে, “আমি জানলা খুলে বসে থাকব রাতে। চারদিক সুনসান থাকবে, তখন নিশ্চয়ই ঢেউয়ের শব্দ শুনতে আরও মধুর লাগবে।”
“আমাকে সাথে রাখবে না?”
আরশী হেসে চোখ ছোট করে, “তুমি না থাকলে হবে নাকি! তুমি মানে আমি। আলাদা করে বলতে হবে নাকি?”
_________
চারটা নাগাদ আরশী–আরহাম বের হয় রুম থেকে। আরশী পরে বেগুনি শাড়ি, সাথে সোয়েটার। আরহাম পরে বেগুনি শার্ট আর শীতের কালো জ্যাকেট। বের হওয়ার সময় আরশী আরহামকে চুপিচুপি বলে, “তোমাকে যে কি সুন্দর লাগছে বলতে পারব না। মুখটা এগিয়ে দাও, একটু কিস করি।”
আরহাম মিষ্টি হেসে আরশীর গালে গাল ঘষল, “ইচ্ছে মতো করো। বাধা দেব না।”
“তুমি করবে না?”
“আমি রাতে সব শোধ করব।”
আরশী মুখ কুঁচকালো।
আরহাম আরশীর হাত ধরে হেসে বলল, “চলো তো এখন।”
সমুদ্রের ধারে পর্যটকের অভাব নেই। কেউ স্ব–পরিবারে, কেউ কাপল, কেউ নবদম্পতি। ঘুরাঘুরি, হাঁটাহাঁটি করছে সবাই। আরশী–আরহাম কতক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে কাঠের আসনে বসল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। সূর্যাস্তের শেষ আলোয় সমুদ্রের রং যেন গাঢ় নীল রাজ্যে ডুকে গেল। চকচক করছে পানি। যে দেখবে, সে এই সমুদ্রে একবার পা ভিজাতে চাইবে। আরশী লোভ সামলাতে পারল না। দৌড়ে গিয়ে নীল পানিতে পা ভেজালো। আরহামও বউয়ের পেছনে গেল।
আরশী দুষ্টুমি করে পানির ছিটা দিল আরহামের গায়ে। আরহাম হেসে পানি নিয়ে আরশীকে ভিজিয়ে দিল। দুজন দুজনকে পানি ছিটাতে লাগল ঘুরে ঘুরে। অনেক পর্যটক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের রোমান্টিক দৃশ্য দেখল।
হুট করে কোলে তুলে নিল আরহাম আরশীকে। বলল, “এই! এত দৌড়ঝাঁপ কেনো? হাপিয়ে উঠবে তো! তুমিই জিতেছো। বুঝলে?”
আরশী চোখ টিপে হাসলো।
আরহাম আরশীকে নিয়ে কাঠের আসনে বসাল। সেও বসলো। তারপর জ্যাকেটের পকেট থেকে টাওয়েল বের করে ভালো করে মুছে দিল আরশীর চুল, মুখ। কিছুক্ষণ বসে ফের তারা উঠে হাতে হাত ধরে সমুদ্রের ধারে গল্প করে হাঁটতে লাগল। হাঁটতে হাঁটতে চলে আসে ঝর্নার কাছে। উঁচু পাহাড়ের বুক চিরে ঝর্না পড়ছে সমুদ্রে।
আরশী মুগ্ধ হয়ে বলল, “সূর্যাস্তের সময় পুরো পৃথিবী রক্তিম আকার ধারণ করছে, সেই আলোয় সমুদ্রের পানি চকচক করছে, পাহাড় থেকে পড়ছে ঝর্না, সব মিলিয়ে কত সুন্দর এই দৃশ্য, তাই না?”
আরহাম ঢোক গিলে বলে, “হুম। অনেক সুন্দর। জানো? ওই পাহাড়ের উপর একটা জায়গা আছে, সানসেট পয়েন্ট। কাল ওখানে তোমাকে নিয়ে যাব। ওপর থেকে সূর্যাস্ত হওয়া দেখবে, সমুদ্র দেখবে, ঝর্না দেখবে। এখন চলো। কিছু দূর গেলেই মুন লাইট লেক আছে, সেখানে যাই।”
_________
মুনলাইট লেকের ধারে মানুষের ভিড় আর ভিড়। নানান রকম দোকান বসেছে সেখানে। চাঁদের আলোয় জ্বলজ্বল করছে লেকের পানি। লেকের ধারে লাগানো লাল ঝালর আর স্ট্রিট হলুদ লাইট। তার কিনারা জুড়ে বড় বড় নারকেল গাছ, খেজুর গাছ। বাতাস বইছে জোরে। গাছের পাতা নড়ছে। বাতাসের ঝাপটায় ঠান্ডার ছোঁয়া। ঠান্ডায় আরশীর গা কেঁপে উঠতেই আরহাম তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নিল, যাতে উষ্ণ লাগে আরশীর।
ঘোরাঘুরি শেষে রাত দশটায় হোস্টেলে ফিরে তারা। কাপড় চেঞ্জ করে নেয় প্রথমে। আরহাম টি–শার্ট পরতে পরতে হঠাৎ আবদার করে, “শর্ট ড্রেস পরো তো আরশী।”
আরশী ঠোঁট ফুলিয়ে বলল, “আমি ওসব পরতে পারি না। লজ্জা লাগে।”
আরহাম বাকা হাসে, “যখন আমার আদর পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে উঠো তখন লজ্জা লাগে না?”
আরশী রাগ দেখায়, “খোটা দিচ্ছো? আর ফিরেও তাকাব না।”
আরহাম তড়িঘড়ি করে বলে, “না না বউ, রাগ করে না। মজা করছিলাম। শর্ট ড্রেসে তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে খুব। পরো বলছি। নাকি পরিয়ে দেব?”
আরহাম পা বাড়াতে গেলে আরশী বলে উঠল, “না না। আমি পরছি। তুমি চোখ বন্ধ করো তো।”
“ওকে ম্যাডাম” —বলে আরহাম চোখ বন্ধ করে।
আরশী তাড়াতাড়ি শর্ট ড্রেস বের করে আরহামের দিকে চোখ রেখে পরতে থাকে। মাঝখানে একবার আরহাম এক চোখ অল্প খুললে চিল্লিয়ে উঠে আরশী, “আপনি কিন্তু চিটারি করছেন!”
“আরে দেখছি না” —বলে আরহাম নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে হাসে।
“বড্ড মিথ্যুক তো আপনি। ঠিক আছে, এবার খুলতে পারেন। হয়ে গেছে।”
কালো শর্ট ড্রেস পরে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে আরশী। চোখ খুলতেই নিশ্বাস আটকে গেল আরহামের। বড় বড় চোখ করে তাকায় সে। ভীষণ হট লাগছে আরশীকে। আরহাম এক সেকেন্ডও দেরি না করে এক ঝটকায় কোলে তুলে নেয় আরশীকে। চুমু দিতে দিতে ভরিয়ে তোলে। বিছানায় রেখে নাকে আলতো কামড়ে বলে, “তুমি এত মায়াবতী কেন আরশী?”
“তুমি মায়া নিয়ে তাকিয়ে থাকো তো, তাই মায়াবতী লাগে।”
আরহামের কণ্ঠ ভারী হয়ে এলো, “জানো? সারাজীবন যদি তোমাকে তাকিয়ে দেখি, ছুঁই, আদর করি, তবু হৃদয় তৃপ্তি পাবে না আমার। আমি যে তোমাকে কতটা ভালোবাসি, তা তোমার ধারণার বাইরে আরশী।”
আরহাম আরও গভীরে চলে যায়। আরশীর চোখে চোখ স্থির করে গভীর হয়ে বলে, “বলো তো আরশী? যদি কখনও কোনদিন কোন কারণে আমাকে তোমার পছন্দ না হয়, কিংবা অপছন্দের কাজ করি, তুমি কি আমাকে ত্যাগ করবে?”
আরশী ঘাবড়ে যায়। আরহামের চোখের কোণায় পানি চকচক করছে। আরহামের ফেস চেঞ্জ হয়ে গেছে। আরশী দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুহাত রাখে আরহামের দু’গালে। বলে, “এত ইমোশনাল হচ্ছেন কেন আপনি? আপনাকে ত্যাগ কেন করব আমি? আমার হৃদয়ের একমাত্র মালিক আপনি। বুঝেন না? আর আমি জানি, আপনি কখনও আমার অপছন্দের কাজ করবেনই না।”
আরহাম জড়িয়ে ধরে আরশীকে। তার বুক জ্বলছে ভীষণ। আরশীর বুকের সাথে সে বুক মিশিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকে। সে এমনভাবে চলে যে আরশী কখনও তার আসল পরিচয় জানতে পারবে না। কিন্তু সত্যি জেনে ফেললে তখন কি হবে তার? আরশী কি মেনে নেবে রাক্ষস স্বামীকে? সবসময় এই ভয়টা কাজ করে আরহামের। যদি আরশী মেনে না নেয়, তখন তার কি হবে? আরশীকে হারালে পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দেবে সে।
সমুদ্রের চারপাশ শান্ত হয়ে উঠছে। হয়তো পর্যটক সবাই আস্তানায় ফিরে গেছে। নিস্তব্ধ রাতে সমুদ্রের গর্জন ভেসে আসছে। আরহাম উঠে ঘরের লাইট অফ করে জানলা খুলে দেয়। জানলার ধারে পাশাপাশি বসে দুজন। সমুদ্রের ধারের লাইট টিমটিম করে জ্বলছে। তার আলোয় আরশী–আরহাম দুজন দুজনার মুখ দেখতে পাচ্ছে। হাওয়ায় আরশীর খোলা চুল দোল খাচ্ছে। আরহাম হাত দিয়ে আরশীর চুল পেছনে সরাল। ফিসফিস করে বলল, “এই রাতটা তুমি মনে রাখবে?”
“মনে থাকবে। আমার প্রিয় মানুষের সাথে এরকম একটা রাতে সমুদ্রের পারে মাঝরাতে সমুদ্র দেখছি! স্মৃতিপটে গেঁথে থাকবে রাতটা। তবে সত্যি বলতে, আপনি না থাকলে এই রাতের কোন গুরুত্বই থাকত না আমার কাছে। আপনি আছেন বলে, আমার পৃথিবী এত সুন্দর! আপনার হাতটা ধরলে মনে হয়, আমি পুরো পৃথিবী পেয়ে গেছি। সব ভয়, সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।”
আরহাম মুচকি হাসল। আরশীর কোলে মাথা রাখল। বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে বলল,” তুমি আমার পৃথিবী। আমার পৃথিবীর সব শান্তি, সব রূপ, সব রং, সব তোমার জন্য আরশী। তুমি আছো তো আমি আছি। তুমি নেই তো আমার মূল্য নেই।” তারপর মাথা তুলে আরশীর দিকে তাকিয়ে ভ্রু জোড়া নাচিয়ে বলল, “বিষাদে কাটল অনেকক্ষণ। এবার কি একটু সুখ দেওয়া যাবে আমাকে?”
আরশী লাজুক হাসল, “কেমনে?”
“ জানো না বুঝি? আচ্ছা, আমিই বুঝিয়ে দিচ্ছি।”
আরহাম এই বলে একদম কাছে নিয়ে নিল আরশীকে। ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে সহজেই কাবু করে ফেলল তার প্রিয়তমাকে।
___________
তিনদিন পর তারা প্রাসাদে ফিরল। ফিরেই আরশী আবদার করল, “মনে হচ্ছে কতদিন মাকে দেখিনি। চলো না, মায়ের কাছে যাই।”
আরহাম একটু ভেবে বলল, “আমার না ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে কোম্পানির। এক কাজ করি, তোমাকে দিয়ে আসি। আমি অন্যদিন থাকব।”
আরশী মাথা নাড়ল।
রুদ্রাণী মেয়েকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন। বললেন, “মনে হচ্ছে কতদিন পর তোমায় দেখছি আরশী।”
আরশীর চোখ ভিজে এলো। তার ভীষণ আনন্দ হচ্ছে মা তাকে চুমু খাওয়ায়। সে সবসময় মায়ের সান্নিধ্য চাইত। শেষ কবে মা তাকে এভাবে চুমু খেয়েছেন তার মনে নেই। সে জানে মা তাকে খুব খুব ভালোবাসেন, কিন্তু ক্লোজ হওয়া হয়তো পছন্দ করেন না। আজ তিনদিন দূরে থাকায় মায়ের হৃদয়টা পুড়ছে।
আরশী দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সত্যি—রুদ্রাণী মানুষ হিসাবে অনেক স্বার্থপর, অনেক খারাপ। কিন্তু মা হিসাবে বেস্ট।
আরশী মাকে সর্বপ্রথম প্রশ্ন করল, “মা, পাগলটাকে কি দেখা যায়?”
রুদ্রাণী মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, “না সোনা। দেখিনি তো।”
আরশী আর এ বিষয়ে কথা বাড়াল না। সমুদ্রের গল্প করল জমিয়ে মায়ের সাথে। সবশেষে বলল, “মা, তোমাকে নিয়ে একদিন সমুদ্রে যাব।”
রুদ্ধাণী হেসে বললেন, “তোমাদের সাথে আমাকে যাওয়া মানাবে না। আমার সঙ্গী কেউ আসলে আমি অবশ্যই যাব।”
আরশী বুঝতে পারল না। জিজ্ঞেস করল, “সঙ্গী কে মা?”
রুদ্রাণী এবার জোরে হাসলেন, “যখন আমার নাতি নাতনী হবে।”
আরশী লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো। “ উফ মা!”
_________
হঠাৎ আরহামকে ছাড়া ঘুমাতে ছটফট করছে আরশীর। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা বিরাজ করছে। মনে হচ্ছে কতকাল সে আরহামকে দেখেনি। আরহামকে কল করলে নম্বর বন্ধ পেল। টাইম দেখল বাজে রাত দুটো। আরশী ভাবল, সে হয়তো ঘুমিয়ে পড়ছে। কিন্তু আরহামকে ছাড়া তার ঘুম আসছে না। সে তার পছন্দের জায়গা, বেলকনিতে যায়। আকাশের আজ মন ভালো নেই। কালো করে আছে পুরো আকাশ। । কয়েকটা তারা ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। গেটের কাছে লাইট জ্বলছে। আরশীর সেখানে চোখ পড়তেই দেখে পাগলটা দাঁড়িয়ে আছে। সে একা না। তার সাথে আজ আরেকজনও। মানুষটার মুখ দেখা যাচ্ছে না। চাদরে ঢাকা শরীর। ওদিকে ফিরে আছে। পাগল আর চাদরওয়ালা মানুষটা কথা বলছে।
আরশী হকচকিয়ে যায়। এত রাতে পাগলটার সাথে কে থাকতে পারে আর কে বা তার সাথে কথা বলতে পারে। সন্দেহজনক কাজ। আরশীর দৃঢ় বিশ্বাস, পাগলটা কখনোই পাগল হতে পারে না। এ নিশ্চয়ই অন্য কেউ, কোনো গোয়েন্দা বা অন্য কিছু। গা শিউরে উঠে আরশীর।
আরশী তাড়াতাড়ি মায়ের রুমের দিকে যায়, মাকে দেখাবে বাইরে কি হচ্ছে। মায়ের রুমে গিয়ে শক খায় আরশী। মা নেই ঘরে। সাথে সাথেই আরশীর মনে পড়ে পুরনো সব কথা – মায়ের জঙ্গলে যাওয়ার কথা, কবর থেকে লাশ তোলার কথা, রাক্ষসের কথা। তাহলে আজও কি মা পাগলটার সাথে কথা বলছেন? পাগলের সাথে মায়ের কি সম্পর্ক?
মা যদি আবার খারাপ কিছু করেন, মাকে ত্যাগ করতে আমি একবারও ভাবব না।
আরশী তার রুমে যায়। দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে চাদরওয়ালা মানুষটা ফিরে আসার। সে নিশ্চিত হতে চায় মানুষটা তার মা কিনা। খানিক পরেই চাদরপরা মানুষটা ঘরে এসে ঢুকল। তারপর তার মায়ের রুমে গেল। আরশীর বড়সড় ধাক্কা লাগল বুকে। চাদরওয়ালা মানুষটা তার মা–ই। কি করতে চলেছেন মা আবার? আরশীর অশান্তি শুরু হয়। এবার কি করবে সে বুঝে না।
সে রুমে গিয়ে ধপাস করে ফ্লোরে বসে পড়ে। তার মাথায় সত্যি কিছু কাজ করছে না।
চলমান….!
