#তুই_আমার_শেষ_ক্ষুধা(ডার্ক ফ্যান্টাসি রোমান্স)
#শারমিন_প্রিয়া (বাসর স্পেশাল)
৯.
দুপুর একটা নাগাদ বরযাত্রী আসে। একটা মাত্র মাইক্রো করে আরহাম, দ্রোহান সহ বাকি সবাই আসে। আরহামকে নিয়ে তারা স্টেজে গিয়ে বসে। চারদিকে এত এত মানুষ দেখে দ্রাভানি সিলথারাকে চিমটি মেরে বলে, “এত তরতাজা মানুষ দেখে জিভে জল আসছে আমার।” দ্রোহান এটা শুনতে পেয়ে হাত দিয়ে গুতা মারল দ্রাভানিকে। “সাবধান, কোনো কিছু যেন না ঘটে, নয়তো সর্দার আস্ত রাখবেন না।”।
পার্লারের লোকেরা এসে আরশীকে সাজিয়ে দিয়ে গেছে। আরশী পরেছে সূক্ষ্ম সোনালি জরির দুধসাদা বেনারসি শাড়ি আর লাল টুকটুকে ওড়না মাথায় দিয়েছে, যার কিনারা জুড়ে সোনালি বুটের কাজ। কনে সাজে অপূর্ব সুন্দর লাগছে আরশীকে। সবাই ভিড় করেছে আরশীকে কনে সাজে দেখতে।
খাবারের পর্ব শেষ করা হলো। বিদায়ের মুহূর্ত আসলে মুখ মলিন হয়ে উঠল আরশীর। মাকে একা রেখে যেতে মন কাঁদছে তার। রুদ্রাণীও নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলেন না। কেঁদে ফেললেন আরশীকে জড়িয়ে ধরে। তারপর আরহামের হাত ধরে কেঁদে কেঁদে বললেন, “খুব আদরের মেয়ে আমার, যত্নে রেখো তাকে।”
রুদ্রাণীকে সান্ত্বনা দিতে আরহাম উনার সামনে আরশীর এক হাত ধরে বলল, “এই হাত একবার যখন নিজের করে ধরেছি, ছাড়ব না আর। কখনো না।”
সবার ভীড়ে আরশীর চোখ পড়ল এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা পাগলের দিকে। আরশী এগিয়ে যায় তার কাছে, বলে, “দোয়া করো আমার জন্য। যাই।” পাগলটা হেসে মাথা নাড়াল।
*********
গাড়ি চলতে শুরু করে। আরশীর চোখ বেয়ে নীরব অশ্রু পড়ে। আরহাম তার ছোট্ট তোয়ালে দিয়ে আরশীর চোখের জল মুছে বলে, “কান্না করার কিছু নেই আরশী। মন চাইলেই মাকে দেখতে চলে আসবে।”
ড্রাইভারের পাশে বসা দ্রোহান আড়চোখে আরহামের এই খেয়ালদারি দেখে মুচকি হাসল। প্রথমদিকে সে এই সম্পর্কে খুব একটা খুশি ছিল না। কিন্তু এখন কায়ান, যে তাদের ভাষায় রাক্ষস সর্দার— তার চোখে আরশীর প্রতি এমন গভীর ভালোবাসা দেখে দ্রোহান মন থেকে চাইতে শুরু করেছে, এই মেয়েটা যেন সত্যিই কায়ানের জীবনে থেকে যায়। আরশীর জন্যই যেন কায়ান সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে ওঠে। যে ভালোবাসার জন্য কায়ান নিজের জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে পেরেছে, সেই ভালোবাসা আজন্ম অটুট থাকুক। এই কামনা এখন দ্রোহানেরও।
গাড়ি প্রাসাদের কাছে এসে থামল। আরহাম আগে নেমে দাঁড়াল, তারপর হাত বাড়িয়ে দিল। আরশী তার হাত ধরে নেমে পড়ল। বড় গেট পেরোতেই আরশী চারপাশে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়।
বিশাল বড় দুতলা প্রাসাদ, চারদিকে সারি সারি নারকেল, তাল আর কাঁঠালগাছ। উঠোনজুড়ে বেলি ফুলের গাছ। নিচতলায় লম্বা বারান্দা, সারিবদ্ধ রুম। উপরে তিনটি বড় ঘর। আরশী অবাক হলো, এত বড় একটা বাড়িতে মাত্র এ–কজন মানুষ থাকে? ভয় লাগে না?
আরহাম আরশীকে নিয়ে উপরতলায় ওঠে। একটু পরে সিলথারা, দ্রাভানি, দ্রোভান—আর্জেন্ট চলে যেতে হবে বলে আরশীর কাছ থেকে বিদায় নেয়। কতক্ষণ পর রাভানও।
আরশী জিজ্ঞেস করে আরহামকে, “আজই বিয়ে হলো, আজই সব চলে যাচ্ছে কেন?”
“ওদের তাড়া আছে বউ। রাতেই ওদের ফ্লাইট। বাইরে থাকে তো সবাই। শুধু দ্রোহান মাঝেমধ্যে আসবে আমাদের কাছে। ওর বাসা পাশেই। আমার দেশ ভালো লাগে। নয়তো কবেই আমিও পাড়ি দিতাম বিদেশে।”
তারপর একটু থেমে বলে, “এই বিশাল বাড়ির মালকিন এখন থেকে শুধু তুমি। তুমিই দেখে রাখবে এ প্রাসাদকে। আমি তো সবসময় বাসায় থাকব না। তাই তোমার সাথে থাকার জন্য একজন মধ্যবয়স্ক লোককে রেখেছি, যে টুকটাক কাজ করে দেবে, আবার তোমার অবসরে সঙ্গ দেবে। পরশুদিন আসবেন উনি।
আজ শুধু এই প্রাসাদে তুমি আর আমি থাকব। জানো তো, আজ আমাদের কী? বাসর রাত। মনের মতো করে তোমাকে আদর করব। আমার সঙ্গ পেলে চলবে তো?” —এই বলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল আরশীর দিকে।
আরশীর লজ্জা লাগল, সাথে অদ্ভুত ভালো লাগাও কাজ করল। আজ সত্যি তার বিশেষ একটা রাত। স্বপ্নের রাত। সে আরহামের হাত তার হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘষতে ঘষতে বলল, “আপনি থাকলে দুনিয়া লাগবে না আমার। শুধু আপনি হলেই হবে।”
“এই তো মনের মতো কথা বললে বউ আমার” — আরহাম এটা বলতে বলতে আরশীকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে। আরশীর দিকে ঝুঁকে মুখের কাছে মুখ নিয়ে আসে। আরশী নিজেকে সামলাতে পারে না। আঁকড়ে ধরে থাকে আরহামের ব্লেজার। চোখ নামিয়ে নেয় আরহামের থেকে।
আরহাম মিটিমিটি হাসে। লজ্জায় লাল হয়ে পড়া আরশীকে দেখে কামড়ে কামড়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে তার। পুরো শক্তি দিয়ে আরশীকে তার হাতের মুঠোয় নিতে ইচ্ছে করছে।
সাথে সাথে আরহামের কপালে ভাঁজ পড়ে। আরশী তো মানুষ! তার শক্তির কাছে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাবে আরশী। সে মাথা ঝাকায়, না, এত জোর দেখানো যাবে না। নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে।
ধীরে ধীরে সে আরশীর ডান কানের লতিতে একটা আলতো কামড় দেয়। জীবনে প্রথম কোনো পুরুষের এরকম আচরণে কেঁপে ওঠে আরশী। থরথর করে কাপে। বুকের ভেতর দপদপ করে ওঠে। অজানা উত্তেজনায় অস্থির হয়ে ওঠে সে। আরও শক্ত করে ধরে আরহামকে।
আরহাম আরশীতে বিভোর হয়ে এক ঝটকায় কোলে তুলে নেয় । আরশী পিটপিট করে তাকায়। আরহাম আরশীর চোখে চোখ রেখে দুষ্টু হেসে এক চোখ টিপে। তারপর বিছানায় শুয়ে দিয়ে একটানে শাড়ি খুলে আরশীর। নিজের ব্লেজার আর শার্ট ছুড়ে ফেলে ফ্লোরে।
আরশী চোখ বন্ধ করে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে, “এ…স…ব কী কর…ছেন?”
আরহাম বাকা হাসে, “কী আবার? বাসর!”
আরশী কণ্ঠ নামিয়ে বলে, “বাসর তো রাতে হয়!”
আরহাম ভ্রু কুঁচকায়, “কে বলল রাতে? বর যখন চায় তখনই বাসর হয়। আমি এখনই করব। মধু সামনে রেখে অপেক্ষা করতে যাব কোন দুঃখে? তুমি তৈরি তো?”
“ আমার দম বন্ধ লাগছে। মনে হচ্ছে মরে যাব দম আটকে।”
“আমাকে কাছে পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তোমার প্রতিটি অঙ্গ আমাকে চুম্বকের মতো টানছে।”
আরহাম আর সময় নেয় না। তার অতিকাঙ্ক্ষিত নারীর খুব কাছে চলে যায়। দুহাত দিয়ে শক্ত করে আরশীর হাত ধরে মুখ চালায় গলায়, ঠোঁটে, ঘাড়ে। ইনস্ট্যান্ট আরশী কেঁপে ওঠে। নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে আরহামকে শক্ত করে ধরে। সেও আদর করতে থাকে আরহামকে।
আরহামের পুরুষত্ব পুরোপুরি জেগে উঠলে আরশী আর সহ্য করতে পারে না। সে ভাবে—পুরুষদের উত্তেজনা এত ভয়ংকর নাকি! এত শক্তি তাদের শরীরে!
দম ছাড়তে ছাড়তে বলে আরহামকে, “আমি সহ্য করতে পারছি না… ছাড়েন আমায়।”
রাক্ষস কায়ান মানব শরীর ভোগ করতে মত্ত থাকে। মাতালের মতো করতে থাকে। আরশীর কান্না তার খেয়ালের বাইরে চলে যায়। সে জোর চালাতে থাকে আরও। ঠোঁট কামড়ে ধরে।
আরশী এবার ছটফট করে চিৎকার শুরু করে। খামচে ধরে আরহামের পিঠ।
আরহাম এবার একটু থামে। আরশীর ওপর থেকে সরে পাশে শোয়। একটুও ক্লান্তি আসেনি তার। পুরো রাত আরশীর সাথে বাসর করার ক্ষমতা এখনও আছে তার।
আরশী কান্না করে যাচ্ছে ফুঁপিয়ে। আরহাম আরশীকে টেনে বুকে নিয়ে আসে। শাড়ি দিয়ে ঢেকে দেয় আরশীকে। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে— “বেশি হয়ে গেছে, তাই না?
একটু সহ্য করো প্লিজ। আমার চাহিদা অনেক। প্রথম তোমাকে কাছে পেয়েছি তো, ছাড়তে ইচ্ছে করছিল না। কেঁদো না, আমি ক্ষত সারিয়ে দেবো। মেডিসিন এনে রেখেছি। দাঁড়াও, নিয়ে আসছি।”
এই বলে আরহাম উঠে। কোমরে তোয়ালে জড়িয়ে একটা বোতল নিয়ে আসে। গুঁড়ো করা ওষুধ। বের করে খাইয়ে দেয় আরশীকে। তিতা বলে আরশী খেতে চাইছিল না। আরহাম জোর করে খাওয়ায়।
বলে, “বিশ্বাস করো, এক ঘণ্টার ভেতর তোমার ক্ষত সেরে যাবে। এটা বাইরে থেকে নিয়ে আসা বিশেষ ওষুধ। তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে।” তারপর আরশীর চোখে চোখ রেখে দুষ্টু হেসে বলে, “আমার কিন্তু রাতে আরও চাই, মনে রেখো।”
_________
জানলা-বেদ করে সকালের সূর্য আরশীর চোখ–মুখে এসে পড়ে। আরহাম পাশে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ নয়নে দেখে আরশীকে। তার চুল এলোমেলো, লিপস্টিক লেগে আছে এখানে–ওখানে। সূর্যের আলো পড়ে এলোমেলো আরশীকে যেন আরও সুন্দর লাগছে। লম্বা নাকের হীরের নাকফুলটি চকচক করছে।
চোখ না সরিয়ে আরহাম ঝুঁকে কপালে একটা চুমু এঁকে দেয়। তারপর একটা লিখিত খাম রেখে চলে যায়। গতরাত সে ঘুমায়নি। আরশী ঘুমিয়ে পড়লে সে গুহায় গিয়ে খানিকক্ষণ আসল চেহারায় ছিল। এখন একটু না ঘুমালে শরীর খারাপ লাগবে। তাই সে চলে যায় গুহায়।
আরও এক ঘণ্টা বাদে আরশীর ঘুম ভাঙে। ধীরে ধীরে চোখ খুলে সে। জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বড় বড় গাছপালা। আরশী উঠতে গিয়ে টের পায়, তার শরীরে একটুও ব্যথা নেই। সে অবাক হয়, এটা কেমন করে সম্ভব? রাতে অসহ্য ব্যথা ছিল তার। আর এখন সব উধাও, কেমন করে?
তারপর মনে পড়ে, আরহাম তাকে কী একটা বানানো ওষুধ খাইয়েছিল।
আরশী আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজেকে এমন বিধ্বস্ত দেখে রাতের সবকিছু মনে পড়ে তার। লজ্জার হাসি পায় তার। ভাবে—মানুষটা এত রোমান্টিক, এত শক্তি, এত চাহিদা! রোজ রোজ এসব সামলাতে পারব তো আমি?
কিন্তু সে কোথায়? আরশী বারান্দায় যায়। রুমের অভাব নেই বাড়িতে। অর্ধেক রুম তালা দেওয়া। সে সেগুলোয় না ঢুকে খোলা কয়েকটা রুমে গিয়ে দেখে, আরহাম নেই।
রুমে ফিরে গোসল সেরে নেয়। টেবিলের ওপরে চোখ পড়তেই দেখে, বড় ট্রেতে ঢাকা কিছু। আরশী ঢাকনা সরিয়ে দেখে নাস্তা রাখা। পাশে ইলেকট্রিক কেতলিতে কফি। কেতলির নিচে ভাঁজ করে রাখা ছোট্ট একটা কাগজ।
আরশী সেটা খুলে, তাতে লেখা— “জরুরি কাজে বাইরে গেলাম একটু। দু’ঘণ্টা পর ফিরব। নাশতা করে নিয়ো। আর হে, রেডি হয়ে থেকো। আমি ফিরে তোমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাব।”
সবশেষে চুমুর ইমোজি দেওয়া কয়েকটা।
আরশী নিঃশ্বাস ফেলে হাসে। মানুষটা এত কেয়ারিং আর এত ভালো কেন?
আরশী জানলার কাছে বসে। জানলা দিয়ে বিল থেকে বিশুদ্ধ বাতাস আসতে থাকে। শ্যাম্পু করা আরশীর সিল্কি চুল উড়তে থাকে বাতাসে। আরশী তৃপ্তি নিয়ে খায়। আরহাম ভালো রান্না করে।
কায়ান রাত্রেশ শুয়ে আছে তার রাক্ষসী বিছানায়। এখানে আসার পর থেকে তারা টগবগে জীবিত মানুষ খুব একটা পাচ্ছে না। গরু-মহিষ খাচ্ছে, মরা মানুষের মাংস খাচ্ছে।
শেষ তারা হেমন্তকে আনন্দ করে খেয়েছিল। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ সিলথারা, দ্রাভানী আর রাভানের মধ্যে। কায়ান সেটা বুঝতে পারে। সে সিলথারাকে বলল, “দ্রাভিনা আর তুমি চলে যেতে পারো। আজই যাবে। দরকার হলে ডেকে নেবো।”
দ্রোহান আর রাভান থাকবে। আমি ঘুমালাম।
আরশী রান্নাবান্না যে একেবারে পারে না, তা নয়। টুকটাক পারে, তবে সবটা ভালো মতো নয়। আরহাম মাংস রান্না করেছে। ডিম ভুনা করেছে।
আরশী ফ্রিজ থেকে বের করে কড়া করে পেঁয়াজ দিয়ে মাছ ভাজল। পেঁয়াজ দিয়ে মাছ ভাজা হলে সে পেট ভরে ভাত খেতে পারে।
রান্না শেষে না খেয়ে সে আরহামের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। দুপুর গড়িয়ে গেলে আরহাম বাড়ি ফিরে। আরশী তাড়াতাড়ি উঠে দরজার সামনে আসে। আরহামের দিকে তাকিয়ে এক মিষ্টি হাসি হাসে। আরহামের হাতে ব্যাগ ছিল। সে সেটা একপাশে রেখে কোলে তুলে নেয় আরশীকে। সারা ঘরময় সে আরশীকে কোলে নিয়ে ঘোরায়। আরশী হাসতে থাকে।
“আরে নামান, পড়ে যাব তো!”
“পাগল নাকি আমি? তোমাকে ফেলে দেব?”
“দিতেও তো পারেন!”
“হুশ! আমি তোমাকে বারবার বাঁচাতে পারি, মারতে পারি না।”
আরশী চোখ কুঁচকায়, “এত ভালোবাসেন?”
“১০০%। সন্দেহ আছে?”
আরশী দু’হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে আরহামের মাথা। কানে কানে ফিসফিস করে বলে, “০%ও সন্দেহ নেই। আমি জানি আপনি আমাকে খুব খুব খুব ভালোবাসেন।”
“আর তুমি?”
“আমিও অনেক অনেক। আমার থেকেও বেশি।”
আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলে মলিন হাসে। আরশীকে নিচে নামিয়ে বলে, “চলো, খেয়ে নেওয়া যাক। তোমার বাসায় যেতে হবে। আমরা কিন্তু রাতেই ফিরব। বাড়ি একা।”
আরশী মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, “ঠিক আছে।”
আরশী আর আরহাম বিকেলে রুদ্রাণীর বাসায় আসে। গল্প করে খায়। একফাঁকে রুদ্রাণী জিজ্ঞেস করেন আরশীকে, “কি বুঝলি? আরহাম কেমন?”
আরশী গালে হাত রাখে। হেসে বলে, “অনেক অনেক ভালো মা। তুমি দোয়া রেখো, আমরা যেন সারাজীবন একসাথে থাকতে পারি।”
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। রুদ্রাণী বেশি জোর করেননি থাকার জন্য। নতুন বিয়ে হয়েছে, ছেলে-মেয়ে একসাথে সময় কাটাক।
আরশীরা বেরিয়ে পড়ে। যেতে যেতে আরশী সবদিক চোখ ঘুরিয়ে পাগলটাকে খুঁজে। কোথাও দেখতে পায়নি। মনে মনে ভাবে, কেমন যেন একটা টান তার পাগলটার প্রতি। এমন কেন? নাকি মানুষের সাথে কিছুদিন কথা বললে টান হয়ে যায়।
“এত কি ভাবছো আরশী?”
“কিছু না।”
“কিছু খাবে? কিনে দেবো?”
আরশী স্মিত হেসে মাথা ঝাঁকাল, “না।”
“চলো না। কলেজের পাশ থেকে ঘুরে আসি। ওখানে সন্ধ্যায় অনেক বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়া যায়। দুজনে ঘুরে আসব। দোকান ও অনেক বসে সন্দ্যার পর। কিছু খেয়ে আসবে।”
আরশী বলল, “চলো।”
গল্প করতে করতে তারা কলেজের পাশের পার্কে চলে আসে। গাড়ি পার্ক করে, হাতে বাদাম নিয়ে খেতে খেতে হাটে দুজন। আরহাম জিজ্ঞেস করে, “এই সন্ধ্যায় এই পরিবেশে আমার সাথে চলতে কেমন ফিল হচ্ছে তোমার?”
আরশী থামে। চোখ চোখ স্থির রাখে কতক্ষণ। তারপর বলে, “ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা নেই আমার। আমার জীবনের প্রথম আপনি। তাই অনূভুতি বোঝানোর ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।”
আরহাম আরশীর হাত নিজের হাতের মুঠোয় আনে। আবার হাঁটে তারা। আরহাম এবার বলে, “হানিমুনে কোথায় যেতে চাও বলো তো? কোন দেশে?”
“বিদেশে যাব না। আমার মাকে দেশে একা রেখে কোথাও যাব না।”
“তাহলে দেশে?”
“হুঁ।”
“ওকে। তাহলে সুন্দর একটা জায়গায় তোমাকে আমি নিয়ে যাব। সে জায়গাটার স্মৃতি আজন্ম তোমার হৃদস্পটে গেঁথে থাকবে।”
চলমান…..!
