#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_৫
‘নব বরবধূর আয়নাতে মুখ দেখার একটা রিচ্যুয়াল কিন্তু বিয়েতে হয়। এটা কিন্তু করতেই হবে; কেউ মানা করবে না আবার।’
অনুর কথায় কেউ আর কিছু বলেনি। বাচ্চারা একটু মজা করতে চাইছে করুক। কিন্তু গল্প পারছে না অনুকে ধরে দুটো থাপ্পড় লাগাতে। তার এমনেতেই লজ্জায় অস্বস্তি লাগছে। আর এদিকে এই মেয়ে কোথা থেকে কোন রিচ্যুয়াল নিয়ে আসলো! সবাই আবার তাতে সায়ও দিচ্ছে। অদ্ভুত! শুভ্র গল্পের অভিব্যক্তি কিছুটা আন্দাজ করতে পারছে। কিন্তু তার কাছে বিষয় টা ভালোই লাগছে। এবার শুধু আয়নায় তার নববধূর লজ্জা মাখা মুখটি দেখার অপেক্ষা।
বড়রা এদিকে আর কেউ থাকেনি। ইমতিয়াজ রহমান সবাইকে নিয়ে খাবারের টেবিলের দিকে গেলেন। ছেলেমেয়েদেরকে এদিকে একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা ওদের মতো মজার ছলে একটু-আধটু বাচ্চামো করুক।
অনু শুভ্র আর গল্পর সামনে একটু নিচু করে গোল দেখতে একটা বড় সুন্দর আয়না ধরলো। অনুর চটপটে গলায় বললো,
‘দুলাভাই এখন বলতে হবে আয়নায় আপনি কাকে দেখতে পাচ্ছেন?’
পিছন থেকে নিষাদ বলে উঠে,
‘এটা আবার কেমন প্রশ্ন? আয়নায় অবশ্যই গল্পকেই দেখা যাচ্ছে এখন!’
অনু বিরক্ত হলো। বলল,
‘উফ…নিষাদ ভাই যেটা জানো না; সেটা বলো না তো। এটা একটা রিচ্যুয়ালি প্রশ্ন। আমি এমনটা অনেক বিয়েতে দেখেছি নতুন বর-বউয়ের সামনে এভাবে আয়না ধরে প্রশ্ন করে।’
অনুর কথায় সবাই হেসে ফেললো। কল্পর হাজব্যান্ড সাজিদ এক পাশ থেকে শুভ্রকে উদ্দেশ্য করে বলল,
‘হ্যাঁ ভাই; শালিকা যা জিজ্ঞেস করছে তার সঠিক সঠিক উত্তর দিয়ে দাও তো। নাহলে কিন্তু আজ এখান থেকে সহজে ছাড়া পাবে না।’
শুভ্র মুচকি হেসে গল্পর দিকে তাকাল একবার। তারপর ঝুঁকে আয়নায় তাকাল; দেখল গল্প আয়নার দিকে ঝুঁকে থাকলেও তার চোখ নামানো। শুভ্র ভালো করে দেখল এবার গল্পকে। গোলগাল মিষ্টি দেখতে মেয়েটি তার বউ। শুভ্রর বউ; যাকে শুভ্র কিছুক্ষণ আগেই নিজ নামে দলিল করেছে। শুভ্র মুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকতে থাকতেই কোমল স্বরে বললো,
‘আয়নায় আমার বা পাঁজরের হাড়ের একটি অংশ দেখা যাচ্ছে। মিসেস তাহিয়াত আহমেদ গল্প ওয়াইফ অব শেহজাদ আহমেদ শুভ্র।’
গল্প চট করে আয়নায় চোখ মেলে তাকাল। শুভ্র আগে থেকে থাকিয়ে ছিলো বিধায় দুজনের চোখে চোখ মিললো। শুভ্রর ঠোঁটের কোনে হাসিটা গল্পর নজর কাড়ছে। বলাবাহুল্য এইমাত্র বলা শুভ্রর কথাটা তার হৃদযন্ত্রে এক আলোড়ন তৈরি করলো। গল্পর ধ্যান ভাঙলো অনুর হাততালির শব্দে।
‘দারুন দুলাভাই দারুণ। সুপ্রার্ব উত্তর দিয়েছেন সুপ্রার্ব। এই না হলো আমার দুলাভাই।’
শুভ্র অনুর এমন কথায় হেসে ফেললো। গল্প লজ্জায় শুভ্রর থেকে দ্রুতই চোখ সরিয়ে নিলো। এতোক্ষণ সে কীভাবে আয়নায় শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ছিলো! এভাবে তাকিয়ে থালার ধরুন সে নিজেই নিজেকে ভয়াবহ কিছু গালি দিল। লোকটা কি ভাবছে কে জানে!
অনু আবারও বলল,
‘এবার গল্পপু তোমার পালা। তুমি বলো আয়নায় কাকে দেখছ? দুলাভাইয়ের মতো একটু রোমান্টিক ভাবে বলার চেষ্টা করো, কেমন?’
গল্পর এবার সত্যিই অনুর কান মলে দিতে ইচ্ছে করছে। মেয়েটা তো ভারী দস্যি। তাকে একের পর এক অস্বস্তিতে ফেলেই যাচ্ছে। তার ভাবনার মধ্যেই অনু আবারও তাড়া দিলো,
‘ও গল্পপু! এতো কি ভাবছ? বলে ফেলো।’
গল্প চেষ্টা করেও মুখ দিয়ে একটা রা’ বের করতে পারলো না। সবার সামনে এভাবে বলা সম্ভব বুঝি? কই সে তো পারছে না। ভিতরে ভিতরে লজ্জায় অস্বস্তিতে সে মুষড়ে যাচ্ছে একপ্রকার।
শুভ্র যেনো গল্পর এমন অভিব্যক্তি আন্দাজ করতে পারলো। বউয়ের হয়ে সাফাই গাইল,
‘শালিকা এসব প্রশ্ন-উত্তর পর্ব এখন থাক। এই উত্তর টা নাহয় আমি একান্তেই কোনো একসময় শুনে নিব। তোমার রিচ্যুয়াল তো হলোই তাই-না? ’
গল্প যেনো স্বস্তির শ্বাস ফেললো এবার। মনে মনে শুভ্রকে ধন্যবাদও জানাল। অনু আর পরে জোর করেনি এটা নিয়ে। তবে শুভ্রর থেকে আয়না দেখানোর জন্য ভালো এমাউন্ট নিল। শুভ্রও দ্বিমত না করে একহাজার টাকার পাঁচটি নোট দিল অনুর হাতে। দুলাভাইয়ের থেকে ফি পেয়ে অনু দারুণ খুশি।
________________
শুভ্ররা আজ কেউ থাকবে না। রাতেই চলে যাবে। নিলুফার মেয়ে আর জামাতাকে আলাদা করে সময় কাটানোর জন্য নিষাদকে বললেন- শুভ্রকে গল্পর ঘরে নিয়ে যেতে। নিষাদ তার কথানুযায়ী শুভ্রকে গল্পর ঘরে দিয়ে এলো।
শুভ্র গল্পর ঘরটা চোখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলো। ঘরটা এতো বেশি বড়ো না তবে মুটামুটি ভালোই বড়ো। একটা মিডিয়াম বিছানা; একটা কাভার্ড; একটা বড় আয়না আর একটা পড়ার টেবিল। যদিও পড়ার টেবিলে বইয়ের সংখ্যা খুবই কম; তাও আবার যা আছে তা সবই ফিকশন দেখা যাচ্ছে। একাডেমিক বই না থাকার কারন গল্প ঢাকায় পড়াশোনা করে তাই হয়তো। শুভ্র টেবিলের সাথে লাগোয়া দেয়ালে কিছু স্টিকি নোট দেখতে পেলো।
শুভ্র কৌতূহল বশত এগিয়ে এসে নোট গুলোতে চোখ বুলালো। একটা নোটে লেখা— ” দূর এবারও আমার দারুচিনি দ্বীপে যাওয়া হলো না। উফফ কিছুই ভালো লাগছে না।”
শুভ্র ভ্রু কুচকে ফেলে। দারুচিনি দ্বীপ এটা আবার কোথায়? নামটা কোথাও শুনেছে বলে তো মনে হচ্ছে না। তারপর আবারও চোখ গেলো আরেকটি নোটে। সেখানে লেখা— ” বিয়েটা কি অত্যাবশকীয় কোনো বিষয় নাকি; যে করতেই হবে? আব্বু-আম্মু এমন করছে যেনো এই বিয়ে ঘটিত বিষয়টি তাদের মেয়ের জীবনে না ঘটলে; তার লাইফটাই লস! ”
এটা পড়ে শুভ্র হেসে ফেললো। গল্পর এই অভিযোগ পত্র গুলো তার বেশ ভালোই লাগছে। শেষের দিকে আরও একটা নোট আছে তাতে লেখা—” আমাকে দেখতে আসা পাত্র টাকে আমার কেন জানি প্লে-বয় টাইপ মনে হলো। মনে হলো মেয়েদের সাথে ফ্ল্যাটিং করতে বেশ পটু। কিন্তু তার বাবা-মা দুজনেই আবার ভিষণ সুইট, ভালোমানুষ। ”
এপর্যায়ে শুভ্র বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে গেলো। সে প্লে-বয় টাইপ! জীবনে একটিও প্রেম না করা শুভ্রর চরিত্রে কিনা প্লেবয়েয় তকমা লাগলো। তাও আবার কে লাগালো? তার সদ্য বিবাহিত বউ! সে বিস্মিত না হয়ে পারলো না। তবে মনে মনে হাসলো গল্পর ছেলেমানুষী চিন্তা ভাবনায়।
কল্প গল্পকে তার রুমের সামন অব্দি একপ্রকার জোর করেই নিয়ে এলো। গল্পর ভীষণ লজ্জা লাগছে ভিতরে ডুকতে। নিজের ঘরেই ডুকতে তার লজ্জার কারন শুভ্র। কল্প বোনকে চোখ রাঙিয়ে ভিতরে পাঠাল কোনোমতে। গল্প ভিতরে যেতেই কল্প আস্তে করে দরজাটা টেনে দিল।
শুভ্র টেবিলে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে তার সামনের দেয়ালে টাঙানো; গল্পর একটা সাদা কালো ছবির দিকে তাকিয়ে আছে। ছবিটাতে গল্প প্রাণবন্ত হাসি হাসছে। সে ছবিটা এতোই মুগ্ধ হয়ে দেখছিল যে ঘরে গল্পর আগমনও টের পায়নি। গল্প শুভ্রর দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকাতেই দেখে; জনাব তার ছবিটি-ই এতো মনোযোগ দিয়ে দেখছে। ছবিটা এভাবে দেখার কি আছে! গল্প ভেবে পেলো না। তবে সে শুভ্রর মনোযোগ সরাতে কি বলবে ভেবে না পেয়ে হালকা গলা ঝাড়ল।
শুভ্রর মনোযোগ ভাঙলো মেয়েলি গলার আওয়াজে। পাশে তাকাতেই দেখে গল্প মাথায় ঘোমটা টেনে চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে আবার একটা কফির মগ। গল্প কাঁপা কাঁপা হাতে শুভ্রর দিকে কফির মগটা বাড়িয়ে দিল। এটা নিলুফার আসার সময় তার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে।
শুভ্র হালকা হেসে কফির মগটা নিল। বলল,
‘থ্যাঙ্ক ইউ। এটার সত্যিই প্রয়োজন ছিলো। মাথা ধরেছে।’
গল্প হালকা গলায় বলল,
‘আম্মু দিয়েছে কফিটা।’
‘কিন্তু আনলেন তো আপনি। তাই ধন্যবাদ টা আপনাকেই জানালাম। আপনি নাহয় ধন্যবাদ টা আমার হয়ে আন্টির কাছে পৌঁছে দিবেন।’
গল্প চুপচাপ দাড়িয়ে শাড়ির আঁচলের কোনায় নিজের আঙুল গুটাতে থাকে। শুভ্র হুট করেই প্রশ্ন করল,
‘ দারুচিনি দ্বীপ টা কোথায়? এই নামের দ্বীপ আছে বলে তো শুনিনি?’
গল্প মাথা তুলে তাকাল শুভ্রর দিকে। অবাক হয়ে বলল,
‘আপনি দারুচিনি দ্বীপের নাম শুনেননি?’
শুভ্র মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো। গল্প আবারও বলল,
‘আপনি হুমায়ুন আহমেদ এর দারুচিনি দ্বীপ’ বইটি পড়েননি বোধ হয়। ওই বইয়ে শুভ্র নামের একটা ক্যারেক্টার থাকে; সে আর তার বন্ধুরা মিলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়ার এক ট্যুর প্ল্যান করে। আর ওই ট্যুরে ওরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নামকরণ করে দারুচিনি দ্বীপ। ওটাই দারুচিনি দ্বীপ।’
শুভ্র এতোক্ষণে বুঝল বিষয়টা। বলল,
‘কিন্তু আপনার দারুচিনি দ্বীপে ট্যুর টা হলো না কেনো?’
গল্প অবাক হয়ে বললো,
‘আপনি জানলেন কিকরে এটা?’
শুভ্র হেসে বললো,
‘দেয়ালে লাগানো আপনার অভিযোগ পত্র থেকে।’
গল্প শুভ্রর পিছনে থাকা স্টিকি নোট গুলোর দিকে তাকাল। ইশশ শুভ্র বুঝি সবগুলোই পড়েছে! তারপর কন্ঠ নামিয়ে বলল,
‘আসলে বাবার পারমিশন ছিলো না। আমি ছোট বেলায় একবার পানিতে পড়ে গিয়েছিলাম। আর ওই ইন্সিডেন্ট এর পর আমার শ্বাস কষ্টের একটা সমস্যা দেখা দেয়। তারউপর আমি আবার সাঁতারও জানি না। তাই আব্বু আম্মু দুজনেই আমাকে ভার্সিটির ট্যুরের ব্যাপারে পারমিশন দেন না। আমার শ্বাস কষ্টের বিষয় টা নিয়ে তারা ভিষণই ভয়ে থাকে। যদিও খুব বেশি প্যানিক না নিলে সমস্যা দেখা দেয় না।’
গল্প একদমে কথাগুলো বলে থামলো। শুভ্র অবাক হলো গল্পর শ্বাসকষ্ট আছে শুনে। খেয়াল করলো কথা গুলো বলতে বলতে গল্প মুখ মলিন হয়ে গেলো। শুভ্র গল্পর অভিলাষ বুঝে কথা ঘুরালো। বলল,
‘মিস..উফ এখন থেকে তো মিসেস তাহিয়াত হবেন। তো তাহিয়াত দ্রুতই একটু ওজু করে আসুন।’
গল্প অবাক হয়ে বলল,
‘এখন ওজু করতে হবে কেনো?’
শুভ্র কফির মগটা টেবিলে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল। বলল,
‘আজ তো জীবনের নতুন একটা অধ্যায়ে প্রবেশ করলাম আমরা। জীবনের এই নতুন অধ্যায়টা যেনো সুখকর এবং নির্মল হয় তার জন্য তো; রবের কাছে প্রার্থনা করা উচিত আমাদের। রাইট?’
গল্প শুভ্রর চিন্তা ভাবনায় মুগ্ধ হলো। মাথা দুলিয়ে ওজু করতে গেলো।
শুভ্র আর গল্প পাশাপাশি দু’রাকাআত নফল নামাজ করে নিলো। নামাজ শেষে গল্প জায়নামাজ দুটো কাভার্ডে গুছিয়ে রাখলো। পিছনে ফিরতেই দেখে শুভ্র হাত দুটো পিঠের দিকে রেখে; ঠোঁটের কোনে হাসি ঝুলিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। বলল,
‘তাহিয়াত আপনার আনা কফি খেয়ে মাথা ধরাটা দ্রুতই সেরেছে। এর জন্য ধন্যবাদের পাশাপাশি আপনি ছোট একটা উপহারও ডিজার্ভ করেন।’
কথাটা বলেই শুভ্র পিছনে থেকে হাতটা সামনে আনলো। সাথে সাথেই গল্পর চোখ দুটো চকচক করে উঠলো। শুভ্রর হাতে একঝাঁক রজনীগন্ধার একটা তোড়া। রজনীগন্ধা ফুলটার প্রতি গল্পর দারুণ টান; এর মাতাল করা সুবাসে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
শুভ্র গল্পর দিকে রজনীগন্ধার ফুলের তোড়া টা বাড়িয়ে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
‘ নিশিগন্ধা ফর মাই নিশিগন্ধা। ’
গল্প অবাক হলো- নিশিগন্ধা? পরক্ষণেই মনে হলো রজনীগন্ধার আরেক নামও নিশিগন্ধা। কিন্তু শুভ্র যে বলল— মাই নিশিগন্ধা! সে কি শুভ্রর নিশিগন্ধা?
শুভ্র আবারও বললো,
‘আর হ্যাঁ, বিয়ে টা অত্যাবশকীয় কিছু না। কিন্তু জীবনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। একা একা তো পুরো লাইফ কাটানো যায় না; তবে তো একটা সময় মানুষ একাকিত্বে হাঁপিয়ে উঠবে। তাই বিয়েটা প্রয়োজনীয়।’
গল্প মন্ত্র মুগ্ধের ন্যায় শুনে গেলো শুভ্রর কথা গুলো। শুভ্র আবারও বলল,
‘শুনোন, আমি কিন্তু মোটেই প্লেবয় টাইপ ছেলে নই। আপনার হাজব্যান্ড জীবনে এখন অব্দি একটা প্রেমও করলো না; আর আপনি কিনা তাকে সোজা প্লেবয় এর তকমা দিয়ে দিলেন!’
শুভ্রর কথায় গল্প লজ্জা পেলো বেশ। ইশ স্টিকি নোট গুলো যে কেনো ফেলে দিলো না তখন! তাহলে এখন এসব শুনতে হতো না। শুভ্র আবারও ফিসফিসিয়ে বললো,
‘আপনার সুইট শ্বশুর – শ্বাশুড়ির ছেলেও কিন্তু ভীষণ সুইট। কিছুদিন তার কাছাকাছি তাকলেই টের পাবেন। সাথে এ-ও বুঝতে পারবেন সে নিরেট-ই ভদ্রলোক।’
গল্পর গাল গুলো গরম হয়ে গেলো লজ্জায়। শুভ্র ততক্ষণে বেরিয়ে গেছে। গল্পর নিজের উপরই রাগ হলো- কেনো সে নোট গুলো ফেলে দেয়নি সেদিন? তাহলে তো আর শুভ্রর থেকে তাকে লজ্জা পেতে হতো না। গল্প আনমনে হাতে থাকা ফুলগুলোর দিয়ে তাকাতেই লজ্জা সরে চোখে ভীর করলো মুগ্ধতা। নাক টেনে রজনীগন্ধার সুবাস নিলো। সঙ্গে সঙ্গেই মনে হয়ে গেলো শুভ্রর বলা কথাটা—
‘ নিশিগন্ধা ফর মাই নিশিগন্ধা। ’
#চলবে…
#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_৬
গল্প আজ ঢাকায় ফিরছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তার ভার্সিটি মিস যাচ্ছে। এবার না গেলে পড়ায় অনেকটা পিছিয়ে পরবে। ইমতিয়াজ রহমান বা নিলুফার বেগম কেউ-ই তাকে আর থাকার জন্য বলেনি। গল্প ব্যাগ-প্যাক সব গুছিয়ে নিচে নামলো। তার মাথায় রাজ্যর চিন্তা; এখান থেকে ফিরেই তার মিস হওয়া ক্লাসের সব নোট কালেক্ট করতে হবে। নয়তো দুদিন পর যে মিড আছে; তাতে নির্ঘাত গোল্লা পাবে।
ইমতিয়াজ রহমান মেয়েকে স্টেশন অব্দি পৌঁছে দিতে এলেন। ট্রেন স্টেশন ছাড়া অব্দি তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন ঠায়।
কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই ময়মনসিংহ হতে আগত; আন্তঃনগর ট্রেন টি ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে। গল্প নড়েচড়ে বসে। ট্রেন স্থির হতেই ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ভীর ঠেলে ট্রেন থেকে বের হতেই অনুভব করলো মাথাটা হালকা ঝিমঝিম করছে। এই সমস্যা টা তার প্রত্যেকবারই জার্নি শেষে হয়। দীর্ঘ সময় জার্নি করে গাড়ি থেকে নামার পরেই মাথা ঝিমঝিম করে; পরে আবার এক কাপ চা খেলেই সব ঠিকঠাক।
এক কাপ চা খাওয়ার পর গল্প ব্যাস্ত প্লাটফর্ম থেকে বের হয়ে বাহিরে এলো। এদিক ওদিক থাকিয়ে রিক্সা খুঁজলো; নাহ আজ সব রিক্সাই বোধ করি হরতাল ডেকেছে। একটাও দেখা যাচ্ছে না; যা আছে তাও আবার অন্য যাত্রীরা ঠিক করে ফেলেছে। গল্প বিরক্ত হয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালো। দু-কদম এগুতেই তার পা জোড়া স্থির হয়ে এলো।
সামনেই একটা কালো রঙের গাড়িতে শুভ্র হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। ফর্মাল ড্রেস, চোখে আবার একটা সানগ্লাস; চেহারা গম্ভীর। গল্প অবাক হলো ভীষণ। শুভ্রকে এই সময় এখানে সে একদমই আসা করেনি। গল্পর চিন্তা ভাবনার মধ্যেই দেখে শুভ্র তার দিকেই এগিয়ে আসছে। ঠোঁটের কোনে সুক্ষ্ম একটা হাসির রেখা টানা। কাছে আসতেই তার দিকে বাড়িয়ে দিল; একগুচ্ছ রজনীগন্ধার একটি সুন্দর তোড়া। কোমল স্বরে বললো,
‘ওয়েলকাম টু মাই বিলভড সিটি।’
গল্প ঠায় দাঁড়িয়ে রয়; তার মুগ্ধ চোখ শুভ্রর বাড়িয়ে রাখা ফুল গুলোর দিকেই। আচ্ছা লোকটা কি জানে এই রজনীগন্ধা তার মারাত্মক প্রিয়। নাকি আনমনেই নিজের পছন্দসই নিয়ে এলো; আকদের দিনও এই দুর্দান্ত ফুলগুলোই দিয়েছিল।
শুভ্র গল্প এভাবে চেয়ে থাকতে দেখে মুচকি হেসে ধীর স্বরে বললো,
‘তাহিয়াত ফুলগুলোও কিন্তু আগ্রহ নিয়ে আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে। তাদের আগলে ধরুন জলদিই।’
শুভ্রর কথায় গল্পর ধ্যান ভাঙে। আলতো হেসে হাত বাড়িয়ে ফুল গুলো নেয়। বলে,
‘থ্যাঙ্ক ইুউ। তবে আমি কিন্তু এই শহরে নতুন নই। আপনার ওয়েলকাম দেখে মনে হচ্ছে; আমি আজই প্রথম আপনার শহরে পা রাখলাম।’
শুভ্র চোখ থেকে সানগ্লাস টা খুলে গল্পর দিকে গাঢ় চোখে চাইল। একটু এগিয়ে এসে মৃদু হেসে বলল,
‘কিন্ত শেহজাদ আহমেদ শুভ্র’র ওয়াইফ হিসেবে তো এই প্রথম তার শহরে আসলেন। তাই নয় কি?’
গল্প চোখ নামিয়ে নেয়। এই লোক কথার মারপ্যচ ভালোই জানে। তবে এই বিষয় টা নিতান্তই সত্যি যে; আজ এখন এই মুহূর্তে তার একটি নতুন পরিচয় আছে আর তা হলো- সে এখন শুভ্রর বউ।
শুভ্র আর কথা বাড়ায়নি। বলল,
‘আসুন আপনাকে হোস্টেলে ছেড়ে দিয়ে আসি।’
বলেই গল্পর পাশ থেকে লাগেজ টা নিতে গেলে; গল্প বলে উঠে,
‘আমি নিতে পারব। আপনি শু…’
গল্পর কথা শেষ হওয়ার আগেই শুভ্র বলল,
‘বউয়ের কাঁধ থেকে তার বোঝা কমানো হাজব্যান্ডের নৈতিক দায়িত্ব। আমি আবার নীতির দিক থেকে পিছপা হইনা। আসুন এবার।’
কথাটা বলেই শুভ্র লাগেজ টা নিয়ে সামনে হাঁটা ধরলো। গল্প আরও একবার মুগ্ধ হলো। সেও শুভ্রর পিছু পিছু গাড়ির দিকে এগোতে থাকে। হুট করেই শুভ্র দাঁড়িয়ে যায়। পিছনে ফিরে গল্পর দিকে তাকিয়ে বলল,
‘তাহিয়াত আপনি পিছিয়ে কেন? আমার সাথে পায়ে পা মিলিয়ে চলুন; নয়তো নিজেকে কুলি কুলি ফিল হচ্ছে।’
এপর্যায়ে গল্প হেসে ফেললো। মনে মনে বলল— “বউয়ের ব্যাগ টানার ক্ষেত্রে হাজব্যান্ডরা ওলোয়েজ কুলির রুল প্লে করে, মি.শুভ্র।”
তবে মুখে কিছু বলল না। শুভ্র লাগেজ টা গাড়ির পিছনে রেখে ড্রাইভিং সিটে বসলো। গল্পও তার পাশেই বসলো। শুভ্র গাড়ি স্টার্ট করে গল্পর দিকে তাকিয়ে বলল,
‘সামনের কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে গাড়ি থামাই? অনেকক্ষণ জার্নি করে এসেছেন। ক্ষুধা পেয়েছে নিশ্চয়ই?’
গল্প অনীহা নিয়ে বললো,
‘না, না। আসলে আমি জার্নি করার পর শাওয়ার না নিয়ে কিছু খেতে পারি না। কেমন যেন আনইজি লাগে।’
শুভ্রও মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়; সে নিজেও জার্নি করার পর ভালোভাবে ফ্রেশ না হয়ে কিছু খেতে পারে না। এদিক থেকে দুজনের অভ্যাস-ই মিলে গেলো।
খানিক বাদেই গল্প সেলফোনটা বেজে উঠলো। ব্যাগ থেকে ফোন বের করতে স্কিনে ভেসে উঠলো তার বাবার নম্বর। গল্প ফোন রিসিভ করে সালাম দিলো। জানাল- সে ঢাকায় ঠিকঠাক ভাবেই পৌঁছে গেছে। এখন হোস্টেলে যাচ্ছে; গাড়িতে আছে। ইমতিয়াজ রহমান আর কথা বাড়ায় নি; তবে ফোন রাখার আগে বলল,
‘হোস্টেলে পৌঁছে তোমার মাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়ো। নাহলে তো জানোই টেনশন করবে।’
‘জ্বী আব্বু, জানিয়ে দিবো।’
বলেই ফোন রাখল গল্প। হুট করেই তার মনে একটা প্রশ্ন আসলো। চট করেই শুভ্রর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
‘আপনি জানলেন কি করে আজ আমি ঢাকায় আসবো? আমি তো বলি নি!’
শুভ্র গল্পর দিকে তাকিয়ে ঠোঁট এলিয়ে হেসে বলল,
‘এ্যাজ এ্যা হাজব্যান্ড হিসেবে আপনার এতটুকু তথ্য তো আমার নখদর্পনে থাকবেই। আপনি না বললেও আমি কোনো না কোনোভাবে ঠিক জেনে নিবো।’
শুভ্রর এমন উত্তরে গল্প কি বলবে তার কিছু খুঁজে পেলো না। শুভ্র মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করছে। গল্প হঠাৎ করেই শুভ্রকে কুটিয়ে কুটিয়ে দেখতে লাগলো। বলাবাহুল্য সে এখন পর্যন্ত একবারও শুভ্রর দিকে ভালোভাবে লক্ষ্য করেনি। তবে এবার যখন করলো তখন হুট করেই তার মনে হলো; শুভ্র যেনো একটু বেশিই সুদর্শন। গায়ের রঙও তার চেয়ে বোধহয় এক-শেড বেশিই ফর্সা। চুলগুলো দুর্দান্ত সিল্কি; ঠোঁটের কোনে হাসিটাও বেশ নজরকাড়া। হুট করেই তার মনে হলো ছেলেদের এতো বেশিও সৌন্দর্য থাকা উচিত নয়। সৌন্দর্য ব্যাপারটা মেয়েদের ক্ষেত্রেই বেশি যায়; কিন্তু তার বরের বেলায় তো তার উল্টোটা হলো। তার ধ্যান ভাঙলো শুভ্রর গলার আওয়াজে,
‘তো মিসেস আহমেদ, আপনার অবজারভেশন হয়েছে? অবজারভেশনের ফলাফল জানতে চাচ্ছি।’
গল্প মারাত্মক লজ্জা পেলো; সঙ্গে সঙ্গেই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো। সে যে এতোক্ষণ শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ছিলো, এটা কি শুভ্র বুঝে গেলো? তাই তো। নাহলে এমন করে নিশ্চয়ই বলত না। ইশশ বিষয়টা গল্পর জন্য মারাত্মক লজ্জাজনক। শুভ্র যে এভাবে বুঝে যাবে এটা সে বুঝতেই পারেনি। তবে সে শুভ্রর প্রশ্ন নাকচ করে বলল,
‘আমি মোটেই আপনাকে অবজারভেশন করেনি। আমি…আমি তো রাস্তার ওপাশের গাড়ি গুলো দেখছিলাম।’
শুভ্র গল্পর দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় বললো,
‘তো আমি কখন বললাম; আপনি আমাকেই অবজারভেশন করছেন? আমি তো আপনি এতোক্ষণ যা অবজার্ভ করছিলেন তাই জানতে চাচ্ছিলাম। সামহাউ, আপনি কি আদতে আমাকেই অবজার্ভ করছিলেন এতোক্ষণ?’
গল্প বিপাকে পরল। এই লোক তো ভারী সেয়ানা। কিভাবে কথা ঘুরায় মুহূর্তেই! তবে সে এবারও অস্বীকার করে বলল,
‘মোটেই না। আমি রাস্তার ওপাশের গাড়ি গুলোই দেখছিলাম। আপনি অযথাই বেশি ভাবছেন, হুহ্।’
শুভ্র নিঃশব্দে হাসলো। টিপ্পনী কেটে বলল,
‘ওহ তাই! তাহলে আপনি এক কাজ করুন; আবারও গাড়ি গুলো অবজার্ভ করতে থাকুন। আমি এবার আর বেশি কিছু ভাবব না।’
গল্প স্পষ্ট দেখতে পেলো শুভ্রর ঠোঁটের কোনে হাসিটা। তার নিজের উপরই রাগ হচ্ছে এখন। এভাবে হা করে শুভ্রর দিকে কেনো তাকিয়ে ছিলো সে? তাকাল তো তাকালই আবার সেটা শুভ্রর চোখেই কেনো পড়তে গেলো? উফফ সে নিজের প্রতিই বিরক্ত হলো; মনে মনে নিজেকে কিছু ভয়াবহ গালি দিল। শুভ্রর মারাত্মক হাসি পেলো গল্পর মুখভঙ্গি বুঝতে পেরে; তবে সে নিজেকে সংযত রেখেছে। গল্প এমনেতেই লজ্জা পেয়েছে, সে হেসে আরও তার লজ্জা আর বাড়াতে চায়নি।
মিনিট পাঁচেক এর মধ্যেই শুভ্রর গাড়িটা গল্পর হোস্টেলের সামনে এসে থামলো। গল্প দ্রুতই নামলো; বাকি রাস্তায় গল্প একবারের জন্যও শুভ্রর দিকে ভুলেও তাকায়নি।
শুভ্র গাড়ির পিছন থেকে গল্পর লাগেজ টা বের করতেই গল্প তা হাতে নিয়ে; গেটের দিকে হাঁটা ধরলো।
‘তাহিয়াত?’
শুভ্রর ডাকে গল্প থামলো। পিছন ঘুরে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল। শুভ্র গাড়ির ব্যাক সাইডের দরজাটা খুলে একটা গ্রাব ব্যাগ নিয়ে তার হাতে ধরিয়ে দিলো। গল্প অবাক হয়ে বলল,
‘এটা কি?’
শুভ্র মৃদু হেসে বলে,
‘আপনার ভাষ্যমতে, আপনার সুইট শ্বাশুড়ি খাবার প্যাক করে দিয়েছে আপনার জন্য।’
গল্প প্রথমে বিস্মিত হলো। পরপরই তার মনটা অদ্ভুত প্রশান্তিতে ছেয়ে গেলো। ঠোঁটের কোনে আপনা-আপনিই হাসি এসে গেলো। বলল,
‘আন্টি কেনো শুধু শুধু কষ্ট করতে গেলো! বাসা থেকে আসার সময় তো আম্মু প্রতিবারই আমাকে খাবার প্যাক করে দেয়।’
শুভ্র বলল,
‘আগে তো আপনার একজন আম্মু ছিলো। কিন্তু এখন আরও একজন বেড়েছে। তাই খাবারের বক্সও একটা বেড়েছে।’
গল্প মৃদু হেসে বললো,
‘আন্টিকে আমার তরফ থেকে ধন্যবাদ দিবেন।’
শুভ্র মাথা নাড়িয়ে সায় দিল। গল্প আর দাঁড়ায় নি। হোস্টেলে ডুকে গেলো। গল্প যেতেই শুভ্রও গাড়ি স্টার্ট দিল। কিছুক্ষণ পরেই তার একটা ক্লাস আছে; সে আর্কিটেক্ট এর পাশাপাশি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে গেস্ট টিচার হিসেবে ক্লাস নেয় সাপ্তাহে একটি। আজ আবার তার ক্লাস শিডিউল আছে। তাই দ্রুতই গাড়ি চালালো।
___________
গল্প হোস্টেলে এসে শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হলো প্রথমে; তারপর কল লাগালো মায়ের ফোনে। সেকেন্ডের মধ্যেই রিসিভ হলো। নিলুফার চটপটে গলায় বললো,
‘গল্প ভালোভাবে পৌঁছেছিস? রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়নি তো?’
‘হ্যাঁ, আম্মু পৌঁছেছি। আর রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়নি।’
নিলুফার যেনো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। পরপরই বলল,
‘হ্যরে গল্প, শুভ্র কি তোকে আনতে স্টেশনে গিয়েছিলো?’
গল্প যারপরনাই অবাক হলো; মায়ের এহেন প্রশ্নে। সন্দিহান গলায় বলল,
‘কেনো উনি কেনো আসতে যাবেন?’
নিলুফার যেনো হতাশ হলো। ম্লান গলায় বলল,
‘ওমা যায় নি? কাল আমাকে ফোন করেছিল; তখন আমিই বলেছিলাম, তুই আজকে ঢাকায় ফিরবি। ভেবেছিলাম হয়তো তোকে নিতে আসবে!’
গল্প এবার বুঝতে পারলো স্টেশনে শুভ্রর হুট করে আগমনের কারন। মায়ের গলার স্বর পাল্টে গেছে দেখে বলল,
‘হয়েছে মন ভার করতে হবে না। উনি এসেছিলেন; আমাকে হোস্টেল অব্দি নামিয়ে দিয়ে গেছেন।’
নিলুফার খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,
‘আমি জানতাম শুভ্র তোকে নিতে যাবে। আচ্ছা শুন, এখন ঘুমা কিছুক্ষণ। আর মনে করে তর শ্বশুর -শ্বাশুড়ির সাথে ফোন-কলে কথা বলবি কিন্তু। শুভ্রর বাবা-মা কিন্তু দুজনেই ভীষণ ভালো লোক। তাদের কষ্ট দিবি না কখনো; সবসময় সমীহ করে চলবি।’
গল্প মায়ের আরও কিছু আদর্শবানী শুনে ফোন রাখল। অল্প কিছু খাবার খেয়ে এখন সত্যিই তার ঘুম প্রয়োজন। নাহলে মাথা ব্যাথা উঠবে। ঘুম থেকে উঠেই তাকে প্রিভিয়াস ক্লাসের নোট গুলো কালেক্ট করতে হবে। তবে তার আগে সে মায়ের কথামতো শুভ্রর মায়ের ফোনে কল দিয়ে; তার সাথে কিছু কুশলাদি বিনিময় করে। জাহানারা যে গল্পর ফোন পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছেন; গল্প সেটা উনার গলার আওয়াজেই বুঝলো। হুট করেই তার মনে হলো; শুভ্রর পরিবারটি দুর্দান্ত। যাদের সাথে কিছু সময় থাকলে বা কথা বললে মন-মেজাজ ফুরফুরে হয়ে যায়!!
#চলবে…
