#লিটল_গার্ল
#পর্ব_৬
#আইজা_আহমেদ
(কপি পোস্ট নিষিদ্ধ )
আদ্র ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে। কোনো কথা বলছে না, শুধু তাকিয়ে আছে চুপচাপ। ওয়ারিনের বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। হাতে শাড়ির আঁচল শক্ত করে চেপে ধরেছে, চোখ নামানো, গলা শুকিয়ে এসেছে যেন। আদ্রের নীরবতা শরীরে অচেনা শীতলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এক মুহূর্তে আদ্র এগিয়ে আসে। ওয়ারিন অজান্তেই এক পা পিছিয়ে যায়। আদ্র আবার এগোয়।
ওয়ারিনের পিঠ গিয়ে ঠেকে দেওয়ালে। আর জায়গা নেই পিছিয়ে যাওয়ার। ভয়ে দুই হাত দিয়ে নিজের শাড়ি চেপে ধরে। আদ্র দুই হাত দিয়ে দেওয়ালে রাখে ওয়ারিনকে ঘিরে ফেলে। মুখ খুব কাছে, এত কাছে যে ওয়ারিন তার নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারছে। তীব্র পুরুষালি ঘ্রাণ নাকে এসে ঠেকছে। ওয়ারিন কাঁপা গলায় বলে,
“কিছু বলবেন, আদ্র ভাই ?”
ওয়ারিনের কণ্ঠে আদ্রর হুশ ফিরে আসে। ধীরে ধীরে নিজের দুই হাত দেওয়াল থেকে সরিয়ে নেয়। কয়েক কদম দূরে গিয়ে টাই খুলে ওয়াশরুমে চলে যায়। ওয়ারিন এক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। বুকের ভেতর তখনও কাঁপুনি। আদ্রর চোখের সেই নিস্তব্ধ দৃষ্টি এখনো তাকে ঘিরে আছে। গভীর একটা নিঃশ্বাস নেয়।
তারপর দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শাড়িটা ঠিক করে পড়ে নেয়। কাঁধের পাড় ঠিক করে, চুলগুলো গুছিয়ে নেয় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বে চোখ পড়ে। চোখের কোণে একটু ভয়। তখনই ওয়াশরুমের দরজা খোলে। আদ্র বেরিয়ে আসে। ভেজা চুলের ফোঁটা কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে গলায়। তার সাদা শার্টের কলার খানিকটা খোলা। আদ্র এক পলক তাকায়
ওয়ারিনের দিকে। ওয়ারিন আয়নার সামনে বসা, মাথা সামান্য কাত করে, কানের দুল পড়ছে। সে কারণে শাড়ির আঁচল একটু সরে গেছে, ফলে ফর্সা কোমরের অংশটা স্পষ্ট হয়ে আছে। ওয়ারিন তা টেরও পায় না। তখন ছোট্ট পায়ে ঘরে ঢুকে রোহান। চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক।
“আপু, রেডি হওনি এখনো?”
ওয়ারিন তৎক্ষণাৎ মুখ ফিরিয়ে মিষ্টি হাসে।
“হ্যাঁ, শেষ। চলো।”
ওয়ারিনও উঠে দাঁড়ায়, পেছনের আয়নায় একবার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে নেয়, সবকিছু ঠিক আছে কিনা। আদ্র ত্রু কুঁচকে তাকায়,
“কোথায় যাবি?”
ওয়ারিন থেমে যায়। তার হাতের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়।
“ঘুরতে যাবো। আয়াশ ভাইয়াও এসেছে।”
আয়াশ এসেছে শুনে আদ্রর মুখ পাল্টে যায়।চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। এক কদম এগিয়ে আসে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“যাবি না। যা বলে আয়, তুই যাবি না।”
ওয়ারিনের চোখে তখন দ্বিধা। সে কিছু বুঝতে পারছে না। একটু আগেও যেই মানুষটা একটাও কথা বলছিল না, এখন তার চোখে রাগের ঝলক। মনে প্রশ্নের পর প্রশ্ন জমছে।
“আপনার কী হলো হটাৎ? আপু আর আয়াশ ভাইয়া..”
“ওয়ারিন!” আদ্র এবার গলা উঁচু করল।
“আমার কথা আবার রিপিট করতে হয় কেন?
বলে আয়, যাবি না। আমার সাথে যাবি।”
ওয়ারিন অবাক হয়ে তাকায়। হৃদস্পন্দন যেনো একটু বেড়ে গেল। মাথার মধ্যে ঘুরছে একটাই ভাবনা, সে আদ্রর সাথে ঘুরতে যাবে!! এই মানুষটা সাথে ঘুরতে যাবে!
“আপনার সাথে?”
আদ্র প্রতিত্তোর করল না। গায়ে শার্টটা জড়িয়ে নেয়। ওয়ারিনে মনটা অদ্ভুতভাবে খুশিতে ভরে উঠল। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল। আদ্রর সাথে ঘুরতে যাবে। একবার শুধু তার সাথে। তারা দু’জন। ওয়ারিন তাড়াতাড়ি নিচে নেমে গেল। ওদের বলেই রুমে আসে। রুমে ঢুকতেই থমকে গেল ওয়ারিন।
আদ্র আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছে।
সাদা শার্টটা কাঁধে ঢিলেঢালা ভাবে ঝুলছে, বুকের কাছে দু’টো বোতাম খুলা। ফর্সা বুক কিছুটা দৃশ্যমান। ওয়ারিন ধীরে ধীরে সিঙ্গেল সোফায় গিয়ে বসে। চোখ সরাতে পারছে না আদ্রর দিক থেকে। কতটা সুন্দর লাগছে ছেলেটাকে আজ। মুখে কোনো অতিরিক্ত ভাব নেই, তবুও চোখের কোণে গভীরতা।
আদ্র লম্বা চুল পছন্দ করে, সেটা সে জানে। তবু রেখেছে, শুধুমাত্র তার জন্য। অথচ নিজের চুল লম্বা রাখা ওর পছন্দ নয়। চুল আর কাটেনি, কারণ আদ্রর পছন্দের কিছু হারাতে মন চায়নি।
ওয়ারিনের মনে মনে কথা গুলো শুধায়,
“একটু ভালবাসেন না, আদ্র ভাই… আমি জানি আপনার কঠিন বুকের ভেতরেও একটা নরম জায়গা আছে। সেই জায়গাটা যদি একবার আমার জন্য খুলে দিতেন… আমি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটা হয়ে যেতাম।”
মনের কথা মনেই চাপা রইল।ওয়ারিন চুপচাপ বসে থাকে, হাতদুটো কোলের ওপর জড়ানো, চোখ স্থির আদ্রর দিকে। তার বুকের ভেতরে এত কিছু জমে আছে। হাজারটা না-বলা কথা, অপূর্ণ আশা, আর একটুকরো নিষিদ্ধ ভালোবাসা। তবুও মুখ খুলে কিছু বলতে পারে না। ভয় পায়, এই নীরব ভালোবাসাটুকু যদি উচ্চারণ হয়ে যায়, তাহলে সেটা যদি হারিয়ে যায়। ওয়ারিনের বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে। হঠাৎ একরাশ কষ্ট গলায় দলা পাকিয়ে ওঠে, সে তো এতিম। এজন্যই হয়তো আদ্র ওকে ভালোবাসেন না। এতিমদের ও কি ভালোবাসা হয়? ঠোঁটে কাঁপুনি ধরে। চোখের কোণ ভিজে ওঠে, কিন্তু ও সেটা দ্রুত হাতের পিঠে মুছে ফেলে।
কিছুক্ষন পর দু’জনে নিচে নামতেই বিকেলের রোদটা নরম হয়ে এলো। হালকা বাতাসে ওয়ারিনের চুল উড়ছে, গালে লাগছে সূর্যের আলো। গাড়ির চাবিটা ঘুরিয়ে দরজা খুলে বসে আদ্র। অভ্যস্ত ভঙ্গিতে সিটবেল্ট বাঁধে, তারপর আয়নায় একবার তাকায়। ওয়ারিন একটু ইতস্তত করে পিছনের সিটে গিয়ে বসে।
আদ্র রিয়ার মিররে ওর প্রতিচ্ছবি দেখে ঠোঁট শক্ত করে।
“আমাকে কী ড্রাইভার পেয়েছিস নাকি? সামনে এসে বস।”
ওয়ারিন চুপ করে ব্যাগটা হাতে নিয়ে দরজা খুলে সামনে এসে বসে। সিটবেল্ট বাঁধতে গিয়েই হাত কেঁপে যায় ওয়ারিনের। আদ্র একবার পাশের দিকে তাকায়, চোখের কোণে ঠান্ডা দৃষ্টি।
সেই ঠান্ডার ভেতরেও ওয়ারিন একটুখানি উষ্ণতা খুঁজে পায়। গাড়ি চলতে শুরু করে।
রাস্তায় মানুষের ভিড়, দোকানের রঙিন ব্যানার, সবকিছুই দ্রুত পেছনে মিলিয়ে যায়।
ওয়ারিন জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে।
কানের পাশে হাওয়ার দোলা, চুলগুলো উড়ছে।
আদ্র ফোনটা তুলে ডায়াল করে,
“কোথায় তুই?”
ওপাশে আফনানের গলা,
“আমি আসছি, তোরা যা আগে।”
আদ্র ছোট্ট একটা হুম বলে ফোন কেটে রাখে।
গাড়ির ভেতরে আবার নীরবতা ফিরে আসে।
——
আফনান কানে ধরলো, ঠিক ছোট্ট বাচ্চাদের মতো। মুখে চোখে অনুতাপের ছাপ।
“আর এমন করবো না, বললাম তো।”
নিধি থামলো না। মুখ শক্ত, চোখে অভিমান জমে আছে। ওর চুলগুলো মুখের পাশে এসে পড়েছে, বাতাসে দুলছে। আজ আর আফনানের কথা শুনবে না। নিধির হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেয়। শাড়ির আঁচল পেছনে উড়ছে, আর আফনান পেছন থেকে বলছে,
“এই নিধি, দাঁড়াও না। কানে ধরেছি বললাম না? এখনো রাগ করছো?”
রাস্তাটা নির্জন, বিকেলের নরম আলো পড়েছে, বুকের ভেতর জমে থাকা অভিমান শব্দগুলো ঢেকে দেয়। আফনান হাঁপাতে হাঁপাতে ওর পাশে এসে দাঁড়ায়। নিধি তাকায় না।
“নিধি, শোনো, আমি সত্যি ভুল করেছি। তোমায় কষ্ট দেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না।”
নিধি ঠান্ডা গলায় বলে,
“তুমি সব সময় এটাই বলো, আফনান। প্রতিবারই ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু কষ্টটা তো থেকে যায়। আমি মানুষ না?”
আফনান থেমে যায়, কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে বলে,
“আমি জানি, তুমিই তো আমার শান্তি। তাই তোমায় হারাতে চাই না।”
আফনান চোখ ঘুরিয়ে তাকায়, সেই এক মুহূর্তেই চোখে পড়ে নিধির মুখের ক্লান্তি, চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু। এই মেয়েটা, যে একসময় সামান্য রাগে ঠোঁট ফুলিয়ে হাসতো, আজ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে নীরব, অভিমানী এক নারী হয়ে। তাদের কাবিন হয়েছে নয় মাস আগে। নয় মাস সময়টা ছোট না, আবার খুব বড়ও না। এই নয় মাসে ভালোবাসা যেমন বেড়েছে, তেমনি অভিমানও। প্রথমদিকে আফনান তাকে রাজকন্যার মতো সামলাতো। কিন্তু এখন, এখন কাজের চাপে, ব্যস্ততায়, হয়তো নিজের অজান্তেই দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
আফনান নিধির পাশে এসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে।
“এইভাবে চলে যেও না, নিধি। তোমার কথা রাখবো।”
নিধি থামে। চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নেয়।
“তুমি সবসময় বলো, আফনান। কিন্তু জানো? আমি এখন কথায় না, কাজে বিশ্বাস করতে শিখেছি।”
আফনান নিধির হাতের কাছে ধীরে নিজের হাত রাখে,
“তাহলে আমায় সুযোগ দাও। একসপ্তাহ ধরে কথা বলছো না। এমন করো না, প্লিজ।”
বাতাস হালকা হয়ে আসে, নিধির চুল উড়ে একটু একটু গিয়ে আফনানের মুখে লাগে। নিধি একটু পেছনে সরে দাঁড়ায়, কিন্তু ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি খেলে যায়। হয়তো এখনো মন পুরো গলেছে না, কিন্তু কিছুটা নরম হয়েছে।
কাঁচের দেয়াল ঘেরা রেস্টুরেন্ট। কাচের ওপারে আলো নিভু নিভু হয়ে ঢুকছে। জানালার পাশে কোণার টেবিলে বসে আছে আদ্র আর ওয়ারিন। দু’জনেই নীরব। কফির কাপের ভেতর থেকে উঠছে ধোঁয়া, কিন্তু কেউই কথা বলছে না। ওয়ারিন কাপের হ্যান্ডেলে আঙুল ঘুরাচ্ছে, চোখ নামানো। আদ্র জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরেই রেস্টুরেন্টের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে আফনান আর নিধি। দু’জনের হাসির শব্দ পুরো পরিবেশটাকে মুহূর্তে বদলে দেয়। আফনান হাত তুলে বলে,
“এই যে, নবদম্পতি।”
ওরা টেবিলের দিকে এগিয়ে আসে। ওয়ারিন তাকিয়ে দেখে, নিধি ও আফনান ওকে আগে থেকেই চিনে। মাঝে মাঝে আদ্রর বাড়িতে দেখা হয়েছে তাদের। তাই নিধি খুশি হয়ে ওয়ারিনকে জড়িয়ে ধরে। “ওয়ারিন!”
ওয়ারিন হালকা হাসে, “তোমরা কেমন আছো?”
আফনান চেয়ার টেনে বসে, “আমরা ভালো আছি। তুমি দেখি আগের মতই শান্ত।”
ওয়ারিন কিছু বলে না, শুধু মুচকি হাসে। নিধি খুনসুটি ভরা গলায় বলল,
“আদ্র ভাই, হানিমুন ঠিক করেছেন তো?”
আদ্র তখন কফিতে চুমুক দিচ্ছলো। নিধির কথা শুনে কাঁশি উঠে যায়। চোখ বড় বড় করে তাকায়। আফনান হেসে বলল,
“আদ্র, তোদের হানিমুনের টিকেট আমি গিফট দিচ্ছি!”
আদ্র কটমট করে তাকাল আফনানের দিকে।
“তোর নিজের কাজ শেষ হইছে? এখন অন্যের প্ল্যানিং শুরু করছিস?”
আফনান চাপা হেসে বলল,
“বন্ধুর হানিমুন মানে আমারও তো আনন্দের ব্যাপার!”
ওয়ারিনের গাল তখন লাল হয়ে গেছে। লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। হাতের আঙুল গুলো একসাথে চেপে ধরে আছে। কেমন অস্বস্তি হচ্ছে। নিধি নিচু স্বরে ওয়ারিনকে বলে,
“তোমরা কবে যাচ্ছো, প্ল্যানটা আমাকে বলো, আমি সাহায্য করব সব সাজাতে।”
ওয়ারিন কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু আদ্রর কড়া চোখে তাকানো দেখে থেমে গেল। আফনান ফিসফিস করে বলে,
“ভাই, দেখতেছি তোর বউয়ের সামনে তুই ভয় পাচ্ছিস।”
“তুই চুপ কর আফনান, না হলে এই রেস্টুরেন্ট থেকেই বাইরে ফেলে দিব।”
রেস্টুরেন্টের বাইরে তখন রাতের আলো নেমে এসেছে। কাচে লেগে থাকা জলের দাগে শহরের আলো কেমন ঝাপসা লাগছে। রাত বেশ হয়েছে। ওরা চারজন রেস্টুরেন্ট থেকে বেরোয়।
নিধি আর আফনান বিদায় দিয়ে চলে যায়। ওরা দু’জন গাড়িতে গিয়ে বসে। বাইরে ঠান্ডা হাওয়া বইছে। রাস্তায় গাড়ি চলছে। ওয়ারিন জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে। রাতের হাওয়া ওর মুখে লাগছে। নীরবতার পর আদ্রর ফোন বেজে ওঠে। মালিনী বেগম ফোন দিয়েছেন। আদ্র ফোন ধরে,
“বলো, আম্মু।”
অপর প্রান্ত থেকে মায়াভরা গলায় মালিনী বেগম বলেন,
“রোহান যেতে দিচ্ছে না। ভাবছি আজকে ওর সাথেই থাকবো।”
আদ্র মৃদু স্বরে বলে,”আচ্ছা, ঠিক আছে।”
ফোন কেটে দেয়ার পর আদ্র বাইরে তাকায় কিছুক্ষণ। আলো-আঁধারির শহর। তখন আদ্রর
হঠাৎ চোখ পড়ে পাশে। ওয়ারিন ঘুমিয়ে পড়েছে। মাথাটা সামান্য এক পাশে হেলে আছে, মুখে নরম ক্লান্তি। সামনের ছোট ছোট চুলগুলো কপাল থেকে নেমে এসে মুখে পড়েছে। গাড়ির আলোয় চুলগুলো হালকা সোনালি ঝলক দিচ্ছে। আদ্রর গলা শুকিয়ে যায়। হাতটা স্টিয়ারিং থেকে এক মুহূর্তের জন্য উঠিয়ে রাখে। একটুখানি ছুঁয়ে চুলগুলো সরিয়ে দেয়ার ইচ্ছে জাগে। কিন্তু হাতটা থেমে যায় মাঝপথে। চোখ নামিয়ে নেয়, সামনের দিকে তাকায়।
চলবে…?
