Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"শিউলি পাওয়াশিউলি পাওয়া পর্ব-০৮(শেষ পর্ব)

শিউলি পাওয়া পর্ব-০৮(শেষ পর্ব)

#শিউলি_পাওয়া <শেষ পর্ব>
#ঈপ্সিতা_মিত্র
<১২>
আজ নবমী | পুজোর শেষ দিন | বাঙালির মনে আজ পুজোর আনন্দর সাথে একটা অদ্ভুত দুঃখ মিশে আছে | কালই বিসর্জন , আবার তারপর এক বছরের অপেক্ষা | তাই প্রত্যেকটা বাঙালিই আজকে ঘড়ির কাঁটাকে যেন আটকে রাখতে চায় , সময়টাকে থামিয়ে দিতে চায় , আর নবমীর দিনটাকে ধরে রাখার একটা অদ্ভুত চেষ্টা করে যায় সারাক্ষন | দীপেরও আজকে মনটা একটু খারাপ | এই নবমীর রাতটা কাটলেই তো পুজো শেষ ! আসলে এই কদিন এখানে এতো মজা করেছে , এতো জড়িয়ে গেছে এখানে থাকা মানুষগুলোর সাথে , এই শরৎ-টার সাথে , যে পুজো শেষ হওয়ার কথা মনে এলেই একটা খারাপ লাগা ঘিরে ধরছে ওকে | যাই হোক, সেইসব মন খারাপ নিয়েই ল্যাপটপটা খুলে বসেছিল | সময়কে মুঠো বন্দি না করতে পারুক, ফ্রেম বন্দি তো করেছে | তাই সেইসব পুরোনো ছবিগুলোকেই দেখছিলো ! সেই চতুর্থীর দুপুর , ময়ূরপঙ্খী ঘাটের ফটোগুলো | আর তখনই একটা ফটোটা এসে ওর চোখটা আটকে গেলো | গঙ্গার সৌন্দর্য ক্যাপচার করতে গিয়ে কখন যে কথাকেও ফ্রেমে নিয়ে এসেছিলো, নিজেও বোঝেনি ! এখন ফটোটা দেখে মনে পড়লো | সেই লাল চুড়িদার, সেই প্রথম দিন | উফ , সত্যি , এই একটা ফটোর জন্য কি ঝগড়াই না শুরু করেছিল কথা ! ভেবেই একটা হাসি চলে এলো দীপের মুখে | ব্যাপারটা যে অনিন্দ খেয়াল করছে দূরে দাঁড়িয়ে , সেটা দীপ বোঝেনি | বুঝলো , যখন হঠাৎ অনিন্দ বলে উঠলো ,
” কি রে ? কি ব্যাপার ? হাসছিস যে ! প্রেমে পরে গেলি না কি ?”
আচমকা এই রকম একটা স্ট্রেট কাট প্রশ্নের জন্য দীপ তৈরী ছিল না , তাই দু সেকেন্ড ভেবে নিয়ে বললো , ” থামবি | আরে , ফটোটা দেখে ময়ূরপঙ্খী ঘাটে প্রথম দিনের ঝগড়ার কথাটা মনে পরে গেলো , তাই হাসছিলাম |”
এবার কিন্তু অনিন্দ একটু সিরিয়াস ভাবেই বললো , ” ওকে , বুঝলাম | তবে একটা জিনিস বলতে পারি | কথার মতন মেয়ে হাজার খুঁজেও পাবি না |”
এটা শুনে দীপ হেসে ফেললো , ” হ্যাঁ , জানি তো | পাবো না | এই রকম পাগল, ঝগড়ুটে টাইপের মেয়েকে পাওয়া সত্যি খুব মুশকিল |”
এরপর অনিন্দ আর কিছু বললো না | চুপ করে গেলো | বেশ গম্ভীর হয়ে গেছে মুখটা ! দীপ ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছে না | কি হলো আবার হুট্ করে ! ও তো মজা করেই কথাটা বলেছিলো | অনিন্দ রেগে গেলো না কি ! এইসবই ভাবছিলো , তখনই অনিন্দ হঠাৎ বলে উঠলো ,
” আমি মজা করছি না দীপ | সিরিয়াসলি বলছি | কথার মতন মেয়ে দেখা যায় না | নইলে এতো কিছু হওয়ার পরও কেউ এতটা হাসিখুশি থাকতে
পারে ?”
” এতো কিছু হওয়ার পর ? মানে ? কি হয়েছে ওর ?” দীপ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো এবার |
এর উত্তরটা দেয়ার সময় অনিন্দর একটা দীর্ঘ্যশ্বাস আপনাআপনিই চলে এলো , ” কথার তখন কলেজে ফার্স্ট ইয়ার | সেইবার দূর্গা পুজোয় কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলো ওরা | কিন্তু , ফেরার পথে ওদের গাড়িটার একটা একসিডেন্ট হয়ে যায় | গাড়িতে ভূমি , ওর মা বাবাও ছিল | কারোর বিশেষ লাগেনি , শুধু কথারই ! কোমর থেকে প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছিলো পুরো | ওই রকম হাসিখুশি চঞ্চল একটা মেয়ে হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরেছিল হুইল চেয়ারে | আমরা তো কেউ ভাবতেই পারছিলাম না যে কথা কি করে পুরো ব্যাপারটাকে একসেপ্ট করবে ! এক্সিডেন্টের পর প্রথম দু মাস তো সিভিয়ার ডিপ্রেশনে ছিল | কারোর সাথে কথা বলতো না | কিন্তু তারপর আস্তে আস্তে নিজেকে সামলে নিলো | আবার শুরুর থেকে চেষ্টা করতে থাকলো , এক পা এক পা করে হাঁটার | প্রায় দু বছর লেগেছিলো ওর সোজা হয়ে দাঁড়াতে | আর চলতে আরো এক বছর | কত ফিজিওথেরাপি, ওষুধ , ইনজেকশনের পর ! আর সব থেকে বড়ো কথা কি জানিস ! কথা ছোট থেকেই দারুন নাচতো | ওর ঘরে গেলে দেখবি , ক্লাসিক্যাল ডান্সের জন্য কত এওয়ার্ড এখনো সাজানো আছে শো কেসটায় | খুব চাইতো গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে বিশ্বভারতী থেকে নাচ নিয়ে পড়বে | কিন্তু ওই এক্সিডেন্টের জন্য সেইসব কিছুই আর হলো না | ডাক্তার বলেই দিয়েছে , ওর পা এ খুব স্ট্রেস দেয়া যাবে না কখনো | তাই আর কোনোদিনও ও নাচতে পারবে না | কিন্তু এতো কিছুর পরও ও কত হাসিখুশি থাকে সব সময় | ওকে দেখে তো কেউ ভাবতেই পারবে না যে লাইফে কি কি ফেস করতে হয়েছে মেয়েটাকে ! ”
এইসব শোনার পর দীপ যেন কিছুক্ষনের জন্য একটু থমকে গেলো | কিছুতেই মেলাতে পারছে না কোনো কিছু ! যার সাথে চার দিন এতো কথা হলো , এতো ঝগড়া , এতো একসঙ্গে ঘোরা , ঠাকুর দেখা , এতো হাসি মজা হলো , তার লাইফটা আসলে এই রকম ! এতটা অন্ধকার , কষ্ট , যন্ত্রনা মিশে আছে ওই হাসি মুখটায় ! ভাবতেই পারছিলো না | তিন বছর একটা মানুষ হাঁটতে পারেনি , একটা হুইল চেয়ারে বসে কাটিয়েছে | কতটা খারাপ লাগা নিয়ে সেইদিন গুলো বাঁচতো কথা ! আর ছোট থেকে যেই স্বপ্ন দেখে এসেছে , নাচ নিয়ে পড়ার স্বপ্ন , সেটা যখন এক সেকেন্ডে ভেঙে গেলো ! তখন ঠিক কি রকম লেগেছিলো ওর | না , দীপ সেটা হয়তো কোনোদিনও জানতে পারবে না | ওই পরিস্থিতে একটা মানুষের কি রকম লাগে , সেটা সে নিজে ফেস না করলে কখনো বুঝতে পারা যায় না | ভেবেই ওর চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো হঠাৎ | নিজের অজান্তেই কথার জন্য ওর চোখে জল জমেছে কখন ! ও বুঝতেই পারেনি | এখন হঠাৎ খুব কথাকে দেখতে ইচ্ছে করছে | মনে হচ্ছে এই চার দিনের চেনাটা যেন কোনো চেনাই ছিল না | আজ নতুন করে চিনলো ওই মেয়েটা | ওর সহ্য শক্তিকে | ওর ওই হাসি মুখটাকে | আসলে এতো কিছু না পাওয়া নিয়েও যে কোনো মানুষ এতো লাইভলি হতে পারে, নিজের কথা দিয়ে অন্যের মুখেও হাসি এনে দিতে পারে , এটা দীপ আজ প্রথম জানলো | তাই আজ কথাকে আবার প্রথম থেকে চিনতে , নতুন করে বুঝতে ইচ্ছে করছে খুব | এইসব ভেবেই কথার বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির | কলিং বাজাতেই দরজার ওপার থেকে সেই হাসি মুখটা বেরিয়ে এলো | আচমকা দীপকে ওদের বাড়িতে দেখে তো সে অবাক ! — ” কি ব্যাপার ? তুমি ? হঠাৎ , এই অধমের বাড়িতে ?”
দীপ গম্ভীর মুখে বললো , ” কেন ? আসতে পারি না ! ”
কি হলো ব্যাপারটা ! মুখটা এই রকম অন্ধকার লাগছে কেন ! ভেবেই কথা বলে উঠলো , ” আরে , আমি ওই ভাবে বলেছি না কি ! আর কি হয়েছে ? তুমি এতো সিরিয়াস কেন ? ”
এবার দীপ একটু অধৈর্য্য হয়ে বললো , ” আচ্ছা , সব কথা কি দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে বলবো ? ভেতরে যেতে দেবে না |”
এটা শুনে কথা হেসে ফেললো | সত্যি , দরজাটা ধরে ও কতক্ষন দাঁড়িয়ে আছে | তাই তাড়াতাড়ি সরে এসে বললো , “প্লিজ প্লিজ , আসুন আসুন | আপনি তো আমার সব থেকে বড়ো অতিথি |”
সেইদিন প্রথম কথার ঘরে গেলো দীপ | অনিন্দর কথাটাকে ওর ঘরে গিয়ে ঠিক মিলিয়ে দেখলো | একটা শো কেশে কত কত মেডেলস , সার্টিফিকেট , এওয়ার্ডস যত্ন করে সাজানো আছে | তখনি আনমনে ও বলে উঠলো , ” এইসব সার্টিফিকেট , মেডেলস গুলো তোমার ? ”
কথা কয়েক মুহূর্তে সময় নিয়ে হেসেই উত্তর দিলো , ” হ্যাঁ, একটা সময়ের আমার | একটু আধটু নাচতাম তখন | এখন আর এইসব কিছুই পারি না |”
এবার দীপের চোখটা কথার সামনেই ভিজে গেলো | সঙ্গে একটা রাগও হলো | চারটে দিন নেহাত কম কিছু না | এতো ঝগড়া, এতো কথা হয়েছে ওদের মধ্যে , কিন্তু এতো বড়ো একটা ঘটনার ব্যাপারে কথা একবারও একটা শব্দ উচ্চারণ করেনি ওর কাছে ! কেন এতটা দূরের ভাবে ওকে ! ভেবেই বেশ রেগে বলে উঠলো দীপ , ” তোমার এক্সিডেন্টের ব্যাপারে আমাকে কেন কিছু বলোনি ? কাল ও তো আমাদের মধ্যে কত কথা হলো | আমার পুরো লাইফ হিস্ট্রি জেনে নিলে তুমি | আর নিজের জীবনের এতো বড়ো কথাটা শেয়ার করলে না ? ”
তার মানে দীপ সব কিছু জেনে গেছে | ওর থমথমে মুখটা দেখে কথা বুঝতে পারছে এখন ওর কতটা খারাপ লাগছে | সত্যি কখনো ভাবেনি , চার দিনের চেনা একটা মানুষের চোখ ওর কারণে ভিজতে পারে ! তাই দীপের হাতটা শক্ত করে ধরে ওকে পাশের চেয়ারটায় বসালো | তারপর শান্ত গলায় বললো ,
” বলিনি কারণ আমি মনে করি না ওই একসিডেন্ট , ওই তিনটে বছরের ব্যাপারে আমার বলার মতন কিছু আছে ! সত্যি কথা বলবো , আমার এটা নিয়ে এখন আর কোনো কষ্ট হয় না | হ্যাঁ , এক্সিডেন্টের পর দু মাস আমি ডিপ্রেশনে ছিলাম , কারোর সাথে কথা বলতাম না | একেবারে চুপ থাকতাম | কিন্তু তারপর রিয়ালাইজ করলাম , যা হয়েছে আমার লাইফে সেটাকে তো আমি এইভাবে বদলাতে পারবো না | একচুয়ালি আমাদের হাতে তো কিছুই নেই | খারাপ ভালো যা ই হোক , সবটাই আমাদের একসেপ্ট করতে হয় , আর রোজ নিজের মতন করে ভালো থাকার চেষ্টা করতে হয় | এটাই তো লাইফ | জানি , ওই এক্সিডেন্টের জন্য আমার তিনটে বছর নষ্ট হয়েছে , আমার লাইফ থেকে নাচটা চলে গেছে | তার জন্য খারাপ লাগা আছে | কিন্তু সেটা আমি একসেপ্ট করে নিয়েছি | আর যখন মন খারাপ হয় , তখন এটা ভাবি যে ওই একসিডেন্টে তো আমি মারাও যেতে পারতাম | তখন তো সব শেষ হয়ে যেত ! কিন্তু তার বদলে লাইফ তো আমাকে আর একটা চান্স দিয়েছে, নতুন করে বাঁচার চান্স | তাই সেই চান্সটাকে মন খারাপ করে , কষ্ট পেয়ে , কি কি জীবনে হলো না , কি কি পেলাম না , এইসব ভেবে নষ্ট করে কি হবে ! তার থেকে বরং এই হিসাবটা করি , যে কি কি পেয়েছি | কি কি নিয়ে নতুন ভাবে আবার সব কিছু শুরু করা যায় | বুঝলেন | ইশ , অনেক জ্ঞান দিয়ে ফেললাম | বোর হলে না তো ? ”
শেষের এই লাইনটা কথা যেন ইচ্ছে করেই বললো | আর তারপরই ওর মুখে এক চিলতে হাসি | চারিদিকটা আসলে বড্ডো সিরিয়াস হয়ে গেছে | আর দীপের এই রকম থমথমে মুখটা দেখতে একদম ভালো লাগছে না কথার | কিন্তু সেই মুহূর্তে দীপ হাজার চেষ্টা করেও হাসতে পারলো না | অদ্ভুত একটা কষ্ট হচ্ছিলো ওর | কিসের কষ্ট , ও নিজেও ঠিক বুঝতে পারছে না ! ওই একটা কথা আছে , প্রথম আলাপে কখনো কাউকে বিচার করতে নেই | কথাটার মানে আজ দীপ বুঝলো | যেইদিন এই মেয়েটার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল , মনে হয়েছিল এর থেকে বেশি ইমম্যাচিওর মেয়ে ও জীবনে দেখেনি ! আর আজ ঠিক উল্টোটা মনে হচ্ছে | মনে হচ্ছে লাইফটাকে যে কেউ এতটা পজিটিভলি , ম্যাচিওরলি দেখতে পারে , সেটা আজ কথার কথাগুলো না শুনলে বুঝতেই পারতো না | তাই অপলক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বললো ,
” তুমি খুব আলাদা কথা | সবাই তোমার মতন করে ভাবতে পারে না | সব কিছুকে এই ভাবে একসেপ্ট করতে পারে না |”
কথা এবার দৃঢ় গলায় উত্তর দিলো , ” কেন পারে না ! চাইলেই পারা যায় | আর একটা কথা বলবো তোমাকে ; তুমিও একসেপ্ট করে নাও | আমি জানি তোমার সাথে যেটা হয়েছে খুব খারাপ হয়েছে | ছোটবেলা থেকে ওই ভাবে একা একা থাকা ! তোমার মা বাবা থাকা সত্ত্বেও তুমি জানো না ফ্যামিলি কি ! আর শুধু টাকা দিয়েই তো আর মা বাবা হয় যায় না | মা বাবা হতে গেলে ভালোবাসতেও জানতে হয় | আসলে তোমার মা বাবা শুধু নিজেদেরটাই ভেবেছে সব সময় | তোমার কথা ওরা কোনোদিনও ভাবেনি | যদি ভাবতো , তাহলে এই ভাবে দূরে সরিয়ে রাখতো না | আর আমি জানি এই কথাগুলো তোমার রোজ মনে হয় | রোজ খুব রাগ হয়ে ওদের ওপর | আর রোজ এই কথাগুলোকে , এই রাগটাকে , এই খারাপ লাগাটাকে তুমি জমিয়ে রাখো, নিজের মধ্যে | কিন্তু ট্রাস্ট মি , এই ভাবে জমিয়ে রাখতে রাখতে তো একদিন তুমি নিজেই শেষ হয়ে যাবে | আর সেইদিনও ওদের কিছু যায় আসবে না | তাই বলছি , যা মনে আছে সেই সব কিছুই বলে ফেলো , আর জমিয়ে না রেখে ! শেষ করে দাও সব কিছু | আর হ্যাঁ, ওদেরও তো জানা দরকার , যে ওরা ঠিক কতটা খারাপ | কতটা ইররেসপন্সিবল দুটো মানুষ | ”
কথাগুলো শেষ করেই কথা চুপ করে গেলো | দীপও আজ নিঃস্তব্ধ | মনে হচ্ছে ওর সামনে যেন কেউ একটা আয়না ধরে দাঁড়িয়ে আছে এখন | এতদিন যেই যন্ত্রনা , যেই কষ্ট , যেই খারাপ লাগা নিয়ে ওর দিনের চব্বিশটা ঘন্টা কেটে যেত , কিন্তু তা ও একটা হাসি হাসি মুখের মুখোশ পরে সারাদিন সবার সামনে ঘুরে বেড়াতো , সেই মুখোশটা হঠাৎ যেন কথা টেনে খুলে দিয়েছে | কি অদ্ভুত , এতো এতো বন্ধু ওর লাইফে , সবাই ওকে কত বছর ধরে চেনে | কিন্তু কেউ আজ অব্দি ওর ভেতরের মানুষটাকে চিনতেই পারেনি ! আর কথা , মাত্র চারদিনের আলাপে , হয়তো ওকে ওর থেকেও বেশি চিনে ফেলেছে | তবে আর না | আর এই ভাবে বাঁচবে না ও | যারা ওর কথা কখনো ভাবে না , তাদের নিয়ে আজকের পর থেকে আর ও নিজেও ভাববে না | কথা ঠিক বলেছে | একসেপ্ট করতে হবে সব কিছু | জমা কথাগুলো জমিয়ে না রেখে বলে ফেলতে হবে আজ | শেষ করে দিতে হবে এই পুরো চ্যাপ্টারটা | এইসব ভাবনার ভিড়েই নবমীর সন্ধ্যে নেমে এলো | চারদিকে মাইকের আওয়াজ , ঢাকের তাল , জমজমাট সন্ধ্যে | কিন্তু দীপের ঘরটা অন্ধকার | তবে আর বেশিক্ষন এই অন্ধকার থাকবে না ওর জীবনে , কারণ আজ সবটা শেষ করে দেবে দীপ |
<১৩>
সেইদিন ল্যাপটবটা খুলে ও আর এক সেকেন্ডও ভাবলো না | কমপোজ মেইল এ গিয়ে সবটা লিখে ফেললো | সেই পাঁচ বছর থেকে জমে থাকা সব কথা |
” ডিয়ার মা এন্ড বাবা ,
কথাগুলো তোমাদের ফোন করেও বলতে পারতাম | কিন্তু বললাম না | আজকাল আর তোমাদের গলা শুনতেও ইচ্ছে করে না আমার , তাই এই মেইলটা করছি | আসলে কথাগুলো অনেক দিন ধরেই জমে ছিল আমার মধ্যে | আর আজ মনে হয়েছে , এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে তোমাদের সবটা বলে দেয়া দরকার | একচুয়ালি আমি আমার লাইফে তোমাদের মতন স্বার্থপর দুটো মানুষ কখনো দেখিনি | আর আই উইশ , যে কখনো যেন দেখতেও না হয় | একটা পাঁচ বছরের বাচ্চাকে হোস্টেলে রেখে এলে ! খোঁজ নেয়ারও কখনো একবারও প্রয়োজন মনে করলে না, যে সে ঠিক কেমন আছে ! নিজেদের নতুন লাইফ নিয়ে এতোই ব্যস্ত ! সত্যি , তোমাদের মিউজিয়ামে রাখা উচিত , কারণ বিলিভ মি , এই পৃথিবীতে হাতে গুনে হয়তো এই রকম মা বাবা খুঁজে পাওয়া যাবে | মাঝে মাঝে তো আমার মনে হয় , এর থেকে কোনো অরফ্যানেজে জন্মালে বোধ হয় ভালো হতো | অন্তত নিজেকে শান্তনা তো দিতে পারতাম যে মা বাবা পৃথিবীতে নেই, মারা গেছে !
যাই হোক , একটা কথাই বলার ছিল , মা বাবার সাথে কখনো টাকার সম্পর্ক হয় না | মা বাবা হতে গেলে একটু ভালোবাসতেও জানতে হয় | আর সেটা তো তোমাদের পক্ষে কোনোদিনই পসিবল না ! তাই প্রত্যেক মাসে আমার একাউন্টে টাকাটা প্লিজ আর পাঠিয়ো না | এটা আমার রিকুয়েস্ট | আর খুব ভালো থেকো , যেই রকম এতদিন থেকে এসেছো | এন্ড ফর মি , ইট’স এ গুড বাই ফর এভার , সো আর আমাকে কন্ট্যাক্ট করার চেষ্টা কোরো না
কখনো |”
সেইদিন মেইলটা সেন্ড করে দীপের মুখে আপনাআপনিই একটা হাসি চলে এসেছিলো হঠাৎ | মনে হচ্ছিলো যেন অনেক দিনের জমে থাকা একটা পাথর বুক থেকে নেমে গেছে , আর সব কিছু খুব হালকা লাগছে | চারিদিকটা ভীষণ ভালো লাগছে | কথা মনে হয় এই ভালো লাগার কথাটাই বলেছিলো সকালে | আর ঠিকই তো , নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্বটা তো একদম নিজেরই | আর আজ থেকে দীপ এই কাজটাই রোজ করবে | রোজ নিজের মুখে হাসি ফোটানোর একটা রিজন ও ঠিক খুঁজে বার করবে | আর হ্যাঁ , আজকে থেকে কোনো কথা নিজের মনের মধ্যে আর জমিয়ে রাখবে না ও | জমা কথাগুলোই আস্তে আস্তে বুকের মধ্যে বড়ো একটা পাথরের মতন হয়ে যায় | যেই পাথরটাকে আর ও কোনোদিনও নিজের জীবনে জমতে দেবে না | তাই এবার যাকে যা বলার স্পষ্ট করে , মুখের ওপর বলবে | নিজেকে পুরোপুরিভাবে এক্সপ্রেস করবে |
<১৪>
সেই সন্ধ্যেবেলা দীপ যখন পাড়ার ফাংশনে গিয়ে পৌঁছলো তখন ঘড়িতে সাড়ে সাতটা | হ্যাঁ, আজকেই সেই বিখ্যাত অনুষ্ঠান , যেখানে দীপের এন্ট্রি অনেকদিন আগেই অনিন্দর বাবা করে দিয়েছে | আর এমনি সেমনি ভাবে না , বোম্বে থেকে আসা সিঙ্গার হিসেবে ! কথাটা ভেবেই হেসে ফেললো দীপ | আর তখনই খেয়াল করলো দূরে সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে , নীল রঙের শাড়িতে, ওরই দিকে তাকিয়ে |
তবে আজ এই মুহূর্তে কথার মুখে একটা অদ্ভুত বিষন্নতা ! যেন জোর করে হাসছে | আসলে আজ নবমীর সন্ধ্যেবেলা হঠাৎ মনে হচ্ছে পুজো তো শেষ | কাল দশমী , বিসর্জনের দিন | আর আজ রাতটাই হয়তো ওর আর দীপের গল্পেরও শেষ | এরপর প্রবাসী বাঙালির প্রবাসে ফেরার সময় চলে আসবে | তখন ! তখন তো আর এই মিষ্টি মুখের ছেলেটাকে দেখতে পাবে না কখনো ! আর হয়তো কোনোদিনও দীপ আসবে না ওর এই শহরে | হ্যাঁ, ফোন আছে | কিন্তু চারদিনের আলাপে কে ই বা কাকে মনে রেখে ফোন করে ! আর ফিরে গিয়ে দীপের জীবনেও অনেক ব্যস্ততা এসে ঘিরে ধরবে | হসপিটাল , পেশেন্টস , ওখানকার বন্ধু বান্ধব , তখন হয়তো ভুলেও আর কথার কথা মনে পরবে না | আর এটাই তো স্বাভাবিক | এই ক দিনের আলাপে কেনই বা মনে রাখবে কেউ ! ভেবেই মুখটা অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিলো কথার | কালো মেঘ এসে ভিড় করছিলো ওর চারিদিকে যেন | কিন্তু তখনই হঠাৎ দীপের নামটা মাইকে এনাউন্স হওয়ায় কথার সম্ভিত ফিরলো | মনে হলো , চারিদিকের কালো মেঘ কেটে যেন এক টুকরো রোদ এসেছে ওর সামনে | আর ও নিস্পলকে তাকিয়ে রইলো সেই রোদের দিকে |
সেইদিন পাড়ার ফাংশনে দীপ নিজের পছন্দের গানটাই গেয়েছিল | ” খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি , আমার মনের ভিতরে |” তবে আজকে এই গানের সুর ওর মন খারাপ করে দেয়নি | বরং নতুন করে একটা স্বপ্ন দেখিয়েছি | নতুন খেলাঘর তৈরী করার স্বপ্ন | জানে না , এই স্বপ্নের পরিণতি কি ! এই কয়েকটা মাত্র দিনে কারোর মনে জায়গা করে নেয়া হয়তো আদেও সম্ভব না ! কিন্তু তা ও দীপ নিজের মনের কথা বলবে | তারপর যা হয় দেখা যাবে | আর নিজের মধ্যে কোনো ফিলিংস জমিয়ে রাখবে না ও , এবার এক্সপ্রেশ করার সময় এসেছে | এই ভেবেই সেইদিন ভিড়ের মধ্যে কথার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো | তারপর মনের সব সাহস এক করে কথার কানের কাছে এসে আস্তে করে ওকে ডাকলো | আচমকা দীপকে দেখে কথা একটু অবাক ! ভিড়ের মধ্যে কখন ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে খেয়ালই করেনি ! তবে কথার অবাক হওয়ার আরোও বাকি ছিল , কারণ দীপ হঠাৎ নিজের মনের কথার ঝাঁপি খুলে বসলো ওর কাছে | চারিদিকের ভিড়ে , ঢাকের আওয়াজের মাঝে ওর কানের কাছে এসে বললো , ” কথা , একটা কথা বলার ছিল | হয়তো শুনে রাগ করবে | মুখের ওপর না বলে দেবে | কারণ মাত্র এই চার দিনে কাউ কে দেখে আর যাই হোক , ভালোবাসা যায় না | কিন্তু কি ভাবে জানি না ,আমি ভালো বেসে ফেলেছি ,তোমাকে | আর আজই একটা ডিসিশন নিয়েছি আমি | মনে কথা জমিয়ে না রাখার ডিসিশন | তাই কিছু না ভেবে বলে ফেললাম সবটা | ” .. এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো শেষ করে চুপ করে গেলো দীপ | এখন শুধুই অপেক্ষা , কথার উত্তরের | কিন্তু কথার মুখেও এখন আর কোনো কথা নেই ! কি হচ্ছে , ব্যাপারটা বুঝতে ওর একটু সময় লাগছে | ভাবতে পারছে না যার জন্য ভেবে ওর এতো মন খারাপ হচ্ছিলো , যাকে আর কখনো দেখতে পাবে না ভেবে ওর চারদিকটা অন্ধকার হয়ে আসছিলো , সে নিজেই হঠাৎ ওর কাছে এসে ও যা শুনতে চায় সব লাইন এর পর লাইন সাজিয়ে বলে দিচ্ছে | বিশ্বাস হচ্ছে না , যেই স্বপ্নগুলো কিছুক্ষন আগেও অধরা লাগছিলো , সেই সব স্বপ্ন নিয়ে সে এসে হাজির হয়েছে ওর সামনে ! কিন্তু কথাকে ওই ভাবে চুপ থাকতে দেখে দীপের মনটা ভেঙে যাচ্ছিলো | তার মানে উত্তরটা ‘না’ ই | হয়তো খুব অপ্রস্তুত হয়ে গেছে এইসব শুনে , তাই এইভাবে চুপ করে গেছে | না , আর এখানে দাঁড়িয়ে থেকে কোনো লাভ নেই ওর , ভেবেই দীপ চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো ,আর তখনই কথা ওর হাতটা শক্ত করে ধরে নিলো , আর তারপর ঢাকের আওয়াজ , ভিড় , সব এড়িয়ে ওর কানের কাছে এসে বললো , ” এই কদিনে তোমাকে সহ্য করার অভ্যেস হয়ে গেছে আমার | তাই সারা জীবনের পার্টনারশিপে কোনো প্রব্লেম নেই | তবে হ্যাঁ, ঝগড়া কিন্তু আগের মতনই করবো | আসলে ওটা না করলে ঠিক জমবে না ব্যাপারটা | রাজি তো এই শর্তে ?”
দীপের মুখে এবার চওড়া হাসি | ভাবতে পারেনি এই রকম একটা পজিটিভ আনসার পাবে ! ভাবেনি যে এই ঝগড়ুটে পাগল মেয়েটাকে সারা জীবনের মতন নিজের করে পাবে ! আজ তাই দীপও কথার হাতটাকে শক্ত করে ধরলো | সামনে এখন ধুনুচি নাচ চলছে | ঢাকের তালে ধুনোর ধোঁয়ায় পা মেলাচ্ছে পাড়ার ছেলেরা | আর লোকের ভিড়ে , সবার অজান্তে , দুটো মন একসঙ্গে তাল মেলাচ্ছে | দীপ আর কথার আজ থেকে একটা নতুন গল্পের শুরু হলো | নতুন করে খেলাঘর বাঁধার গল্পের | বিসর্জনের আগেই যেই শিউলি ফুলগুলো হারিয়ে গিয়েছিলো ওদের জীবন থেকে , সেই শিউলি গুলোকে একসাথে জড়ো করে , মুঠো বন্দি করে, এই শরৎ ফিরিয়ে দিয়েছে ওদের কাছে | তাই আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সময় শুরু হয়েছে |

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এই রকম হারানো কিছু শিউলি ফুল আছে | প্রত্যেকের জীবনেই ভেঙে যাওয়ার , শেষ হয়ে যাওয়ার গল্প আছে | আর প্রত্যেকেরই হয়তো একটা অপেক্ষা আছে ! হারানো শিউলি ফুল গুলোকে ফেরত পাওয়ার অপেক্ষা | একটা এই রকম শরৎ এর অপেক্ষা |
——— <সমাপ্ত>———–

( এই রকম মন কেমন করা উপন্যাস পড়ার জন্য সংগ্রহ করতে পারেন আমার নতুন বই ‘ মন কেমনের গল্প ‘ এবার হার্ড কপি হিসেবে। বইটি প্রি বুকিং এর জন্য হোয়াটস অ্যাপ করতে পারেন 8420275853 নম্বরে। বইটির মূল্য মাত্র 150 টাকা। এছাড়া https://shopizen.app.link/cU0E47ExtPb এই লিঙ্কে ক্লিক করে বইটি শপিজেন এর ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি বুক করতে পারেন। বইটি পনেরো দিনের মধ্যে আপনার এড্রেস এ পোস্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও 25 ডিসেম্বর থেকে বইটি নিউটাউন বইমেলায় শপিজেন এর স্টলেও পাওয়া যাবে। )

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ