#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব_১
“কেমন আছো?”
হঠাৎই কোনো পরিচিত কণ্ঠসর শুনে চমকে উঠলো ফিরোজা।
এই দিকে কোনো উত্তর না পেয়ে ফোনের অপর পাশে থাকা মানুষটি আবারো বললো,”কেমন আছো?”
এবারের কথায় ফিরোজা উত্তর দিলো ছোটো করে,”ভালো”
কিছু সময় নীরবতা ভেঙ্গে ফিরোজা জিজ্ঞাসা করলো অপর পাশের মানুষটিকে,”তুমি কেমন আছো?”
তার কথায় তাহির উত্তর দিলো, ভালো
ফিরোজা আবার বললো,”তো এতদিন পর কি মনে করে কথা বলছো?”
তার প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না তাহির।
কি উত্তর দেবে সে, সে তো নিজেই জানে না যে সে কেনো ফোন করেছে।
কোনো উত্তর না পেয়ে ফিরোজা আবার বললো, ”
কি হলো বলো, কি মনে করে এতো দিন পর খোঁজ নিচ্ছো?”
তাহিরের ভাবনায় ছেদ পড়ল,
সে ছোটো করে বলল,” না এমনিই”
এটা শুনে ফিরোজা বললো,” এমনিই, ভালো”
থেমে গিয়ে আবারো বললো,”তো সবার সামনে কথা না বলে, ফোন এ কেনো?”
অনেক দীপ্ত কন্ঠেই কথাটা বলল সে,
তাহির শুধু শুনে গেলো কিছু বললো না,
ফিরোজা আবার ও বললো, “সব যখন শেষ হয়ে গেছে তো আবার ও কেনো এমনি কথা?”
তাহির এবার বললো,”এখন তো আমরা বিজনেস পার্টনার তো কথা কি বলতে পারি না?”
উত্তরে ফিরোজা বললো,”অবশ্যই, আমি তো ভুলেই গেছিলাম যে, আপনি আমার বিজনেস পার্টনার Mr. তাহির, মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”
তাহির বললো,”আমি এমন টা বলি নি,”
আমার কথা টা তো শোনো, এটা বলা শেষ হওয়ার আগেই ফোন কেটে দিলো ফিরোজা
ফোন কেটে দেওয়ার সাথে সাথে সে কান্নায় ভেংগে পড়লো, সে আজ নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না, কেনো কান্না করছে সে, কার জন্য কান্না করছে সে,যার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
“কেনো কেনো চলে গিয়ে আবার ফিরে এলো তার জীবনে, কেনো আবার ‘হঠাৎ দেখা হলো তার সাথে ‘ এতো দিন পর? এরকম আরো কথা তার মনে উঠে এলো।
অপর দিকে তাহিরের চোখে ও পানি,
সে এটাই ভাবছে যে আজ ও বদলালোনা মেয়ে টা, আজ ও তার কথা না শুনেই কেটে দিলো তার ফোন টা
সে তো এমন টা বলতে চাই নি, যেমন টা ফিরোজা ভাবছে,
ফিরোজা তাহিরের কথা শুনে বুঝতে না পারলেও (যে তাহির কান্না করছিল)
কিন্তু তাহির বুঝতে পারছে তার ভালো বাসার মানুষ টি কান্না করছিল।
তার তো এখন নিজের থেকে তার চিন্তা হচ্ছিল যে সে কিছু করে না বসে আগের বারের মতো,
এই সব ভাবনা চিন্তার মাঝেই তার ফোন এ ফোন আসে এক অচেনা নাম্বার থেকে,
সে কল রিসিপ করার সাথে সাথে অপর পাশের কথা শেষ হওয়ার আগেই তার হাত থেকে ফোন টা পড়ে যায়,
তখন ফিরোজা তাহিরের সাথে কথা বলে বসে ওই সব ভাবতে ভাবতে তার তার কাছে অফিস থেকে কল এসে ছিল, কল পেয়ে সে তৎক্ষণাৎ সে বেরিয়ে পরে অফিসের উদ্দেশ্যে,
সে অনেক টা তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিল, তাই সে তার গাড়ির জন্য ও অপেক্ষা ও করে নি।
রাস্তা দিয়ে সে অন্য মনস্ক হয়ে হাত ছিল ঠিক তখনি, একটা গাড়ি এসে পড়ে ফিরোজার সামনে, তার অতটা সমস্যা না হলেও তার পায়ে কিছু টা চোট পেয়েছে, আর মাথায় আর হাতে সামান্য কেটে গেছে,
তো যেহেতু কিছুক্ষন আগে সে …
চলবে…..
#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব__২
তো কিছুক্ষন আগে যেহেতু সে তাহিরের সাথে কথা বলছে, তাই তার নাম্বারেই হাসপাতাল থেকে কল আসে।
তো ফোন আসার পর তাহির আর দেরি করে না সে হাসপাতালে পৌঁছে,,,,
তাহির এক ধ্যান তাকিয়ে আছে তার প্রিয় মানুষ টার দিকে,
ফিরোজা কে ডাক্তার কিছুক্ষন আগে দেখে গেছে, সে এখন ঘুমে মগ্ন,
তাহিরের স্মৃতির পাতায় কিছু পুরানো কথা মনে পরে,
সময় টা তখন কলেজ জীবন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, বেগুনি রঙের কুর্তি পরা এক রমণী। সে অন্য চিন্তায় মগ্ন, বার বার নিজের ফোন দেখছে আর গাল ফোলাচ্ছে। ঠিক এমনি সময় সামনে দিয়ে একটা মোটর সাইকেল আসছিল কিন্তু তার কি তা খেয়াল আছে।
তার ঠিক সামনে গাড়িটি এসে পড়েছে ঠিক সেই সময় একটা ছেলে এসে ফিরোজা কে তার এক বাহু ধরে টেনে রাস্তার পাশে নিয়ে আসে , ফিরোজা ছেলে টির দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কাটলো আর তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করলো।
এটা দেখে তাহির তাকে ডাক দিলো পিছন থেকে, কিন্ত সে কোনো উত্তর না দিয়েই হাঁটতে লাগলো,
সেটা দেখে তাহির ফিরোজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,
ফিরোজা এবার বেশ রাগী গলায় বলল,”এতক্ষন এ আপানার আসার সময় হলো মহোদয় ”
তাহির বেশ বুঝতে পারলো যে তার রাগী রানী রাগ করেছে,
তাহির বললো, আমি তো চেষ্টা করছি তাড়াতাড়ি আসার,কিন্তু দেরি হয়ে গেলে আমার কি দোষ, রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ছিল ,
কে শোনে কার কথা ফিরোজা পূর্বের ন্যায় আবার হাঁটা ধরলো, তার রাগ কি এতো সহজে কমবে নাকি, সেটা তো সে ভালো করেই জানে,
তাই আর কি সেও তার সাথে হাঁটতে শুরু করে, রাগ কমাতে তার অনেক কষ্ট করা লাগে, কিন্তু সে সফল হয়,
তো এরকমই অনেক কথা তার মনে পড়ে, আর মনে পড়তেই ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে ওঠে,
ফিরোজা চোখ খুলে তাকালো, তাকাতেই পাশে বসে থাকা মানুষটি কে দেখে সে কিছু টা রাগী দৃষ্টি তে তাকালো তার দিকে, দেখতে পেলো সে হাসতেছে, সে কিছুটা রাগী স্বরে বলল , “এভাবে হাসতেছেন কেনো?”
ফিরোজার কথা শুনে ধ্যান ভাঙলো তাহিরের,
সে কিছু প্রশ্ন করলো ফিরোজা,”আপনি এখানে কি করছেন?”
আসলে ফিরোজা কে ডাক্তার দেখে যাওয়ার পর তাহির এসেছে ,
তাই ফিরোজা জানে যে তাহির কখন এসেছে ,
ফিরোজা আবারো জিজ্ঞাসা করল, “কি হলো বলুন ?আপনি এখানে কেনো এসেছেন? আর কেনো এসেছেন?”
তাহির এবার বলল, “প্রথম আমি এখানে নিজে থেকে আসিনি , আর আমি এখানে আসলে সমস্যা কি?”
তার প্রথম কথা শুনে ফিরোজা বলল ,”হ্যাঁ; আপনি এখানে কেনো আসতে যাবেন ?কেবা হই আমি আপনার ” প্রথম কথাটা স্বাভাবিক ভাবে বললেও দ্বিতীয় কথা টা বেশ অভিমানির সুরে বলল ফিরোজা,
যেটা বেশ বুঝতে পারল তাহির
সে মনে মনে বলল ,”যাক বাবা আবার ভুল বুঝালো ,এ মেয়ের সমস্যা কি ?শুধু কথায় কথায় ভুল বুঝে ,অভ্যাসটা এখনো বদলাই নি”
ফিরোজা তাহির কে চুপ কিছু ভাবতে দেখে বলল,” কি ভাবতেছেন?”
ফিরোজার কথায় তাহির এর ভাবনা ভাঙল,
সে বলল,” কিছু না ”
ফিরোজা:” তো আপনি কি এখানেই থাকবেন নাকি যা যাবেন এবার ”
তাহির:”এভাবে কেউ কাউকে বলে নাকি ”
চলবে…..
