#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব___৩
তাহির :”এভাবে কেউ কাউকে বলে”
ফিরোজা:” কেউ না বললেও আমি বলি”
তাহির বিড়বিড় করে বলল;” হ্যাঁ; তুমি ছাড়া আর কে ই বা এভাবে বলবে; তোমার দ্বারাই তো অদ্ভুত অদ্ভুত কাজ সম্ভব”
ফিরোজা :”এই আপনি কি বললেন?”
তাহির তার কথার উত্তর না দিয়ে বলল;” তুমি আমাকে আপনি আপনি করছ কেন?”
ফিরোজা ভাবালেশহীন ভাবে বলল;”তো কি বলব?”
তাহির তা শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, তার পর বলল;” সম্পর্কটা কি আবার ঠিক করে ,নেওয়া যায় না”
ফিরোজা এবার বেশ রাগী স্বরে বলল;” কিসের সম্পর্ক হ্যাঁ ?কোন সম্পর্কের কথা বলছেন আপনি? যা আরো কয়েক বছর আগে ভেঙ্গে গেছে”
তাহির :”আমার কথা টা তো শুনবে”
ফিরোজা:” কোনো কথা শুনবো না আমি”
থেমে গিয়ে তাহিরকে কিছু বলতে না দিয়ে আবার বলল;”আপনি তো যাবেন না তাই আমি চলে যাচ্ছি”
কথা বলেই হাঁটতে উদ্ধুত হয় ,কিন্তু যেই না পা ফেলে হাঁটবে, তখনই পড়ে যেতে নেয়,
কারণ, তার পায় সে মোটামুটি ভালোই চোট পেয়েছে তাই পা ফেলাতে পারছে না
ফিরোজা পড়ে যেতে নিলে, তাহির তার হাত ধরে নেয়, যার ফলে ফিরোজা গিয়ে ঠেকে তাহিরের বুকে ,
সে নিজেকে সামলে নিয়ে, দ্রুত সরে যায় তাহিরের থেকে সরে যায়,
তাহির তো এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে তার রাগ রানির দিকে, ফিরোজা সরে যেতেই তাহির তাকে বলে,” তুমি তো একা হেঁটে যেতে পারবে না”
ফিরোজা:”কে বলেছে পারবো না? এক বার পড়ে গেছি বলে আবার পড়বো নাকি ”
বলেই সে হাঁটা শুরু করে, তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে, যে সে ব্যাথা পাচ্ছে,
কিন্তু ওই যে একটা কথা আছে না,” মানুষের জেদের কাছে সব হার মেনে যায়”
সেটা সামান্য ব্যাথায় কিছু হয় না;
ফিরোজা চলে গেলো, তার যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তাহির ও চলে গেলো,
সে যেতে যেতে কিছুক্ষনের আগের কথা মনে করলো;……..
চলবে………
#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব_৪
একটা নীল রঙের গাড়ি এসে থামলো Software Designer Award Function এর সামনে, গাড়ি টি আসার সাথে সাথে এই অনুষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যানেজার Mr. আতিক এসে গাড়ির দরজা টা খুলে দিলো, গাড়ির ভিতর থেকে নেমে এলো নীল রঙের কোর্ট প্যান্ট পরা ছেলেটি, আতিক তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালো, তার পর তার উদ্দেশ্যে বলো Well come to our award function Mr. তাহির মির্জা, আপনার মূল্য বান সময় থেকে আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ
তাহির: আরে ধন্যবাদ তো আমার আপনাদের দেওয়া উচিত, আপনারা এতো বড় অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন
আতিক: স্যার একটু বেশি বলতেন নয় কি?
বলে সে হেঁসে দিলো,
তাহির তা শুনে মুচকি হাসলো
এবার তাহির বললো কত দিন পর দেখা , তাই বলে আমাকে আপনি বানাই দিলি, থেমে গিয়ে আবার বলল, বিদেশ গিয়ে ছিলাম বলে ভুলে গেছিস বন্ধু কে?
এবার আতিক বলল, “মনে রেখেছিস আমাকে, আমি ভাবলাম আমাকে ভুলেই গেছিস”,
তাহির একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল, “ভুলে যাওয়া কি এতোই সোজা নাকি ভাই”
আতিক, “হুম তাই তো”, থেমে গিয়ে আবার বলল, “আচ্ছা স্যার আপনি এখন ভিতরে চলেন, না হলে এই অনুষ্ঠান এর মেইন স্যার এর থেকে রক্ষা হবে না নে আমার”
তাহির:”তুই আবার স্যার বলতেছিস”
আতিক:”আচ্ছা ভাই, চল এবার ভিতরে”
তাহির ছোট করে বলল,”হুম, চল”
ভিতরে যেতেই তার চোখ গিয়ে ঠেকলো, এতো ভিড়ের মাঝেও এক নীল রূপসীর দিকে, যে তার খুব চিরো চেনা, এতো দিন পর এই ভাবে দেখা হবে সে ভাবেও নি,
সে তো আরও ভাবতে ছিল এতো দিন পর দেশে এসে তার মনের মানুষ কে কোথায় খুঁজবে কিন্ত,”এতো মেঘ না চাইতেই জল”
তার ভাবনার মাঝেই যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে সে এসে তাহির এর দিকে তার হাত বাড়িয়ে দেয় তার দিকে,Mr. আলতাফ তাহির কে বলে, “এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে স্বাগতম”
তাহির:”আঙ্কেল আপনিও এমন ভাবে বলতেছেন?”
আলতাফ: “আরে তোমার দেখি আমাকে মনে আছে, আমি ভাবছিলাম ভুলেই গেছো”
তাহির:”ভুল তে আর পারলাম কোই আঙ্কেল, আপনারা তো ভুলতে দিলেন না, আসার সাথে সাথে ডাকলেন”
আলতাফ:”হুম, তাতো ঠিক”, “তো যাই হোক পরে এ নিয়ে কথা হবে, এখনই অনুষ্ঠান শুরু হবে চলো ওই দিকে, গিয়ে ওখানে বসো “তাহির কথা শেষ করে যেখানে তার মনের মানুষ টি কে দেখেছিলো সেই দিকে তাকায়, কিন্ত ততক্ষণে সে ওখান থেকে সরে যায়,
তাহির গিয়ে আলতাফ এর দেখানো জায়গায় বসে, তখনই স্ট্রেজে যে প্রথম হয়েছে তাকে ডাকা হয় এবং সাথে তাহির কে ডাকা হয় পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য,
প্রথম স্থান অধিকারীর নাম শুনে তাহির থমকে যায়,
স্টেজে ডাকা হচ্ছে ফিরোজা আরুশি কে তাহির স্ট্রেজে দাঁড়িয়ে আছে, ফিরোজা স্ট্রেজে উঠতেই তার চোখ পড়ে তাহিরের উপর, সে আগে তাকে খেয়াল করে নি, ফিরোজা আসতেই তাহির তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়, তখন ফিরোজা কে বক্তব্য দিতে বলে কিন্তু সে তো তাহির কে দেখে কিছু বলতেই পারতেছে না, তবুও সে কিছু কথা কোনো রকম ভাবে বলে দ্রুত চলে আসে, তাহির তো এতক্ষন এক দৃষ্টি তে,,,,,
চলবে,,
