Friday, June 5, 2026







সে প্রেমিক নয় পর্ব-০৩

#সে_প্রেমিক_নয়
#Mehek_Enayya(লেখিকা)

#পর্ব ০৩

সকাল সকাল তৈরি হয়ে মার রুমে আসে ইরান। অন্ধকার রাজ্যে জালানা দিয়ে এক চিলতে সূর্যের আলো এসে পরছে। ইরান সম্পূর্ণ জালানা খুলে দেয়। এক পা দু পা করে এগিয়ে মার পাশে বসে পরে। ছেলের অস্তিত্ব টের পেতেই ধীরে ধীরে চোখ খুলে রাকিয়া শেখ। ইরান হাসি দিয়ে মায়ের হাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নেয়। হাসি হাসি মুখে বলে,

-আম্মা ঘুম হয়েছে? শরীর কী একটু ভালো লাগছে?

ছেলেকে এইরকম ব্যাকুল হতে দেখে রাকিয়া শেখের মন ভরে উঠে। আস্তে আস্তে বলে,

-বাবা ঠিক আছি আমি।

-এখন নাস্তা করবে তারপর আরো সুস্থ হয়ে যাবে।

-তোর বাবা কী বেঁচে আছে ইরান?

-না। নিজ হাতে তাকে মেরে ফেলেছি আমি।

শান্ত কণ্ঠস্বরে এইরকম ভয়ংকর কথা শুনে কেঁপে উঠে রাকিয়া। করুণ কণ্ঠে বলে,

-মেরেই ফেললি তবে?

-তার মতো কীটপতঙ্গের বেঁচে থাকার অধিকার নেই।

গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে রাকিয়ার। ইরান মার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে,

-তুমি কান্না করছো কেনো আম্মা? এই মহা মূল্যবান চোখের পানি আর ফেলবে না বলে দিলাম। ঐ লোক মানুষ ছিল না। এইযে হাত, গলা দেখছো? কত জঘন্য ভাবে মেরেছে তোমায়! সে এই বয়সে এসে দিনের পর দিন নষ্টামি করে যাবে। কেউ কিছু বললে তাকেও মারবে, বকবে। তাই তো তার খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়ে চিরকালের জন্য বিদায় করে দিলাম। সে সেখানে শান্তিতে থাকুক আর তুমি এখানে।

-বাবা রে তোর কিছু না হলেই হলো।

-আম্মা তোমার ছেলেকে ছোঁয়ার সাদ্ধও কারো নেই বুঝলে? প্রিয় মানুষদের চোখে পানি সহ্য হয় না আমার। এই চাঁদের মতো মুখখানায় আর কখন কান্না দেখতে চাই না আমি।

মাকে ধরে ধরে দাঁড় করায় ইরান। নিজ হাতে মুখ ধোতো করিয়ে ডায়নিং টেবিলে নিয়ে আসে। আগের থেকেই ডায়নিং টেবিলে ইসরাফ আর তনুসফা বসে ছিল। ইরান রাকিয়াকে চেয়ারে বসিয়ে নিজেও পাশের চেয়ারে বসে পরে। তনুসফা মাকে দেখে খুশি হয়ে বলে,

-আম্মা শরীর কেমন এখন?(তনুসফা)

-আমার কলিজায় কী আর আমাকে অসুস্থ থাকতে দেয়!(রাকিয়া)

-হ্যাঁ শুধু কলিজার তারিফই করো আমরা তো দুধ ভাত। (তনুসফা)

ইরান খাবার মুখে দিয়ে ইসরাফের দিকে তাকায়। আগাগোড়া পরোক্ষ করে বলে,

-আপা আজ হঠাৎ ডায়নিং টেবিলে আপনার ছোট ভাইয়ের আগমন!

-তোর ভাই না? (রাকিয়া)

-এইরকম গুন্ডা, বদমাইশ ইরান শেখের ভাই কিভাবে হয়! আপা জেসিকা কোথায়?(ইরান)

-ও ফামহাউস গিয়েছে। (তনুসফা)

-ওহহ। (ইরান)

-তোমাদের জন্য একটা গুড নিউজ আছে। (তনুসফা)

-কী? (ইরান)

-ইসরাফ বিয়ে করতে যাচ্ছে। মেয়ে ওর নিজের পছন্দ করা আজ বিকেলে আমি দেখতে যাবো। (তনুসফা)

ইরান বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে ইসরাফের পানে চোখ স্থির করে। কোনোদিকে না তাকিয়ে চুপচাপ খাবার খেয়ে যাচ্ছে ইসরাফ। হালকা হেসে ইরান বলে,

-মেয়ে কী তাকে পছন্দ করে নাকি জোর করে বিয়ে করবে? (ইরান)

-না, মেয়েও নাকি ইসরাফকে পছন্দ করে। (তনুসফা)

-তাহলে তো হলোই। (ইরান)

____________________🌸

আজ ভার্সিটি যায়নি আনাবিয়া। ডিসাইড করেছে আতিয়াকে নিয়ে পুরো ঢাকা শহর ঘুরবে। এই মেয়েটা কেনো তাকে এতো অপছন্দ করে আজ সেটা জেনেই ছাড়বে। ব্রেকফাস্ট করে আনাবিয়া আতিয়ার রুমে আসে। বিছানায় বসে ফোন টিপছিল আতিয়া। আনাবিয়াকে নিজের রুমে দেখে চেঁচিয়ে বলে,

-তুমি আমার রুমে কেনো এসেছো?

আনাবিয়া আতিয়ার বিছানায় বসতে বসতে গোমড়া মুখে বলে,

-এটা কোনো কথা হলো আতিয়া? এতদিন ধরে তোমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছিস অথচ তুমি এখন পর্যন্ত আমাকে তোমাদের ঢাকা শহরে ঘুরাও নি! কিছুদিন পর তো আমি চলেই যাবো এখন নাহয় একটু ভালোভাবে কথা বলো আমার সাথে?

-তুমি চলে যাবে?

-হুমম। তুমি কী যাবে রাশিয়া?

-নিয়ে যাবে আমায়? আমার ফ্রেন্ডরা বলে রাশিয়া নাকি অনেক সুন্দর দেশ?

-হ্যাঁ অনেক সুন্দর। তুমি যেতে চাইলে আমি নিয়ে যাবো তোমাকে।

খুশিতে চকচক হয়ে উঠে আতিয়ার মুখশ্রী। ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়ে মেয়েটা। বয়স অনুযায়ী কথাবার্তায় একটু বেশিই অবুঝপানা। এটাকে মানসিক সমস্যাও বলা যায়।

-আমি যাবো। প্লিজ আমাকে তোমায় সাথে নিয়ে যেও?

-হ্যাঁ, কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে। যদি তুমি শর্তটি মানতে রাজি হও তাহলেই নিয়ে যাবো?

-বলো বলো?

-আজ সারাদিন আমার সাথে একজন বোনের মতো ঘুরবে, নিজের মনের সকল কথা শেয়ার করবে এবং অকারণেই রাগ দেখাবে না। রাজি?

-হুম রাজি রাজি।

আনাবিয়া বড় করে একটি হাসি দেয়। অতঃপর দুইজন তৈরি হয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পরে। জয়তি খুশি মনে দুইজনকে বিদায় দেয়। আনাবিয়া আতিয়াকে নিয়ে সর্বপ্রথম রিকশায় উঠে। এখন তারা টুকটাক কেনাকাটা করবে। আতিয়া চুপচাপ বসে হাতের নক কামড়াচ্ছে। আনাবিয়া সেটা লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করে,

-কলেজে কয়জন বন্ধু তোমার?

-একজনও না।

-কেনো? তুমি কী কারো সাথে কথা বলো না?

-না।

-ওহ বুঝেছি।

আতিয়া আনাবিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,

-তুমি কী রাশিয়াও বোরখা পরো? আর মুখে এইরকম কালি কেনো দিয়েছো? সুন্দর রঙ কী তোমার অপছন্দের?

আতিয়ার প্রশ্নে থমথমে যায় আনাবিয়া। কথা পরিবর্তন করে বলে,

-আতিয়া তুমি কী ফুল নেবে? ঐ দেখো ফুলের দোকান।

-আমার টকটকে লাল গোলাপ ভীষণ পছন্দের।

-চলো তাহলে নেই।

রিকশা থেকে নেমে পরে তারা। ভাড়া দিয়ে আগে বাড়তে নিলে এক দুই ফোটা করে বৃষ্টি পরতে থাকে। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তো আকাশে রোদ ছিল হঠাৎ কিভাবে আকাশ এইরকম কালো মেঘে ঢেকে গেলো! দুইজন দ্রুত করে ফুলের দোকানের সামনে আসে। আতিয়াকে গোলাপ ফুলের তোড়া ও বেলি ফুলের হাতের মালা কিনে দেয়। বৃষ্টি ধীরে ধীরে বাড়ছে। আনাবিয়া বিরক্ত হয়ে কোনো উপায় না পেয়ে আতিয়াকে নিয়ে রাস্তার কিনারে একটা বড় গাছের নিচে এসে দাঁড়ায়। মুহূর্তেই রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যায়। মানুষজন দৌড়ে গাছের নিচে অথবা কোনো চায়ের দোকানে আশ্রয় নিচ্ছে। আতিয়া বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলা করছে। আনাবিয়া হালকা ধমকের স্বরে বলে,

-আতিয়া ভদ্র মেয়ের মতো দাঁড়াও বৃষ্টির পানি শরীরে লাগলে জ্বর হবে।

আনাবিয়ার কথায় আতিয়া চোখ মুখ ছোট করে এক কিনারে দাঁড়িয়ে থাকে। বৃষ্টির তেজ বাড়ছে। আনাবিয়া রাগে জেদে পারছে না বৃষ্টির ১৪ গুষ্টি উদ্ধার করতে। বোরখার নিচের অংশ ভিজে টইটুম্বুর। হাত ঘড়িতে সময় দেখে নেয়। এখন মাত্র ১২ টা বাজে। সহসা আনাবিয়াদের ঠিক সামনে এসে একটি গাড়ি থেমে যায়। হয়তো বৃষ্টির জন্য গাড়িটি এখন থামানো হয়েছে। আনাবিয়া মনে মনে ভাবলো গাড়ির মালিক থেকে লিফ্ট চাইবে। বৃষ্টির সময় রিকশা পাওয়া ভীষণ কষ্টকর! আর আতিয়ার বেশিক্ষন বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর এসে যাবে। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে আনাবিয়া দ্রুত পায়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটের স্মুখীন যেয়ে কাঁচের ওপরে ঠক ঠক আওয়াজ করে। ড্রাইভিং সিটে বসা লোকটি জালানার কাঁচ নিচে নামিয়ে দেয়। পুরুষালি ভরাট কণ্ঠে বলে,

-কোনো সমস্যা?

-ভাইয়া আমাদের একটু লিফ্ট দেবেন? আসলে আমরা হঠাৎ মাঝ রাস্তায় বৃষ্টির মধ্যে আটকা পরে গিয়েছি। কোনো গাড়িই এখন পাচ্ছি না।

-ঠিক আছে আসুন। তবে বৃষ্টি একটু কমলে আমি গাড়ি স্টার্ট দেবো।

-ঠিক আছে সমস্যা নেই।

আনাবিয়া হাতের ইশারায় আতিয়াকে দ্রুত গাড়ির সামনে আসতে বলে। পিছনের সিট খুলে দুইজন ভিতরে ঢুকে বসে পরে। অচেনা লোকটা তাদের টিসু পেপার এগিয়ে দেয়। আনাবিয়া ভীষণ ইমপ্রেস হয় লোকটার আচরণ দেখে। চোখ থেকে সানগ্লাস নামিয়ে নেয়। বৃষ্টিতে যাতে চেহারা না ভেজে তাই সানগ্লাস পরে নিয়েছিল। কিন্তু কোনো কাজই হয় নি। নেকাবের ওপর দিয়ে পুরো মুখ ভিজে একাকার। একবার সামনে বসা লোকটিকে দেখে মাথা নিচু করে নেকাব ওপরে তুলে। টিসু দিয়ে সম্পূর্ণ চেহারা মুছে ফেলে। আতিয়া হাসতে হাসতে বলে,

-তোমার কালো ফেইস সুন্দর হয়ে গিয়েছে।

-শাট ইউর মাউথ আতিয়া। ভদ্র মেয়ের মতো বসো।

বৃষ্টি কমে যায়। লোকটা তাঁদের বাড়ির সামনে গাড়ি থামায়। গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে আতিয়া লোকটির মুখ দেখে। ভীত হয়ে চোখ ঢলে পুনরায় তাকায়। আনাবিয়া তাড়া দিয়ে নামতে বলে। বাসায় যাওয়ার আগে আনাবিয়া লোকটিকে ধন্যবাদ বলে চলে যায়। বাসায় পৌঁছে আতিয়া ধপ করে ড্রইংরুমের সোফায় বসে পরে। তখনও তার চোখ মুখে ভীত। আনাবিয়া বোরখা খুলতে খুলতে বলে,

-লোকটা ভীষণ ভালো ছিল। সে না থাকলে আজ আমাদের ভিজে ভিজে আসতে হতো।

জয়তি একবার আতিয়ার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,

-কে ছিল লোকটা?

-আমি চিনি না খালামুনি।

-মাম্মা আমাদের লিফ্ট দেওয়া লোকটা এমপি ইরান শেখ ছিল।

আতিয়ার কথায় বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় জয়তি। চমকে যাওয়ার ভণিতায় বলে,

-সত্যি বলছিস?

-হ্যাঁ মাম্মা।

আনাবিয়া আতিয়ার কথায় অমনোযোগী। তার কল আসায় ফোন হাতে নিয়ে রুমে চলে যায়। ইরান শেখ যে ইসরাফের বড় ভাই সেটা হয়তো আনাবিয়া ভুলেই গিয়েছে!

____________________🖤

বিকেলে বৃষ্টি কমে উজ্জ্বল রোদের দেখা মিলেছে। কাঁথা মুড়িয়ে আয়েস করে ঘুমিয়ে আছে আনাবিয়া। কিছুক্ষন ধরে লাগাতার কলিংবেল বেজেই চলছে। রান্নার কাজে ব্যস্ত জয়তি। হাতের কাজ ফেলে এসে দ্রুত দরজা খুলে দেয়। সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের দেখে জয়তির চোখ বড় বড় হয়ে যায়। তনুসফা আর ইসরাফ দাঁড়িয়ে আছে দরজার বাহিরে। জয়তি দুইজনকে ভিতরে আসতে বলে। ড্রইংরুমের সোফায় এসে বসে তারা। মুখ গম্ভীর করে চোখ বুলাচ্ছে তনুসফা। জয়তির কিছু বলার পূর্বেই তনুসফা বলে,

-আমাকে চিনেছেন? (তনুসফা)

-হ্যাঁ আপনাকে কে না চিনবে আপা! আপনারা বসুন আমি আসছি। (জয়তি)

-কোনো কিছু করার প্রয়োজন নেই আপা। আমরা কিছু জরুরি কথা বলতে এসেছিলাম। (তনুসফা)

জয়তি শুনলো না তাঁদের কথা। ভদ্রতার খাতিরে দ্রুত করে কিছু নাস্তা আর শরবত বানিয়ে নিয়ে আসে। সোফায় বসতে বসতে তাঁদের বলে,

-শরবতটা নিন না আপনারা।

ইসরাফ মুচকি হেসে শরবত নেয়। কিন্তু তনুসফা নেয় না। হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,

-ও আমার ছোট ভাই ইসরাফ। (তনুসফা)

-হ্যাঁ সেদিন মার্কেটে দেখেছিলাম তাকে। (জয়তি)

-আমার ভাই আপনার ভাগ্নিকে পছন্দ করে। এখন আমাকে জোর করে নিয়ে এসেছে মেয়েকে দেখতে। (তনুসফা)

-ওওও! আপনাদের মতো মানুষদের সাথে সম্পর্ক করা আমাদের জন্য তো ভাগ্যের বিষয়। (জয়তি)

-আমি একটু আপনার ভাগ্নিকে দেখতে চাচ্ছি। (তনুসফা)

-আমি ওকে ডেকে নিয়ে আসছি। (জয়তি)

আনাবিয়ার রুমে এসে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয় জয়তি। লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসে আনাবিয়া। বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে,

-কী হয়েছে খালামুনি?

-তোর শত্রুরা এসেছে।

-কারা?

-তনুসফা শেখ আর ইসরাফ এসেছে।

বিছানা থেকে নেমে যায় আনাবিয়া। আনন্দে পাগল হওয়ার মতো অবস্থা তার! জয়তি সেটা লক্ষ্য করে বলে,

-খুশি পরে হো এখন বল আমি তাঁদের কী বলবো? তারা তোকে দেখতে চাচ্ছে।

-চিন্তার কিছু নেই আমি বলছি তুমি কী বলবে।

মেকি হেসে আনাবিয়ার রুম থেকে বের হয় জয়তি। তনুসফার দিকে তাকিয়ে বলে,

-আসলে আমার ভাগ্নি তো পর্দা করে তাই অপরিচিত কারো সামনে আসতে চায় না।

তনুসফা কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে বলে,

-আমি তো মেয়ে আমার সামনে আসতে সমস্যা কোথায়? (তনুসফা)

-আনাবিয়া পর্দা করে আপা ও কারো সামনে আসবে না। (ইসরাফ)

-কিন্তু,,,,,,,,,, (তনুসফা)

-থাক না আপা। আমি তো ওকে দেখেছি আমার যেহেতু পছন্দ হয়েছে আপনাদের পছন্দ হবে। (ইসরাফ মিথ্যে বলে)

জয়তি ইসরাফের কথায় ভেবছেঁকা খেয়ে যায়। ও আনাবিয়াকে কিভাবে দেখলো!

-ঠিক আছে তাহলে। মেয়ের ফ্যামিলি নাকি নেই? (তনুসফা)

-হ্যাঁ আপা ওর পরিবারের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। (জয়তি)

-আমাদের এতে প্রবলেম নেই। আপনারা তো আছেনই ওর বাবা মার মতো। (ইসরাফ)

ইসরাফের এতো ভালো সাজা জাস্ট অসহ্য লাগছে তনুফার। সে পারছে না এখনই ইসরাফের গালে দুটো চড় বসিয়ে দেয়!

-তাহলে আপনারা একদিন আমাদের বাসায় আসেন। বাড়িও দেখে আসবেন আর বিয়ের তারিখও ঠিক করে ফেলবো। (তনুসফা)

-আমাদের আর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনারা বিয়ের তারিখ ঠিক করে বলুন। (জয়তি)

-আন্টি আমি চাচ্ছিলাম বিয়েটা জলদি হয়ে যাক। (ইসরাফ)

-ঠিক আছে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে আমরা চাই ঘরোয়া ভাবে হোক বিয়েটা। (জয়তি)

-হ্যাঁ এটা ভালো হয়। আমরা এক দুইদিনের মধ্যে তারিখ ঠিক করছি। (তনুসফা)

-জি জি অবশ্যই। (জয়তি)

-তাহলে আমরা এখন আসি আন্টি। (ইসরাফ)

কথাবার্তা শেষ করে বিদায় নেয় তারা। শব্দ করে দরজা লাগায় জয়তি। ধপ করে সোফায় বসে পরে। আনাবিয়া দৌড়ে এসে খালার পাশে বসে। জয়তি নিঃশাস নিতে নিতে বলে,

-আপদ বিদায় হলো।

-আসলেই।

-তুই কী সত্যি বিয়ে করছি মা?

-হ্যাঁ খালামুনি।

-তুই নিজের সুন্দর জীবনটা নষ্ট করছিস মা! ওরা কেউ ভালো নয় তোর আসল পরিচয় জেনে গেলে জিন্দা রাখবে না তোকে। এখনও সময় আছে রাশিয়া চলে যা। এই প্রতিশোধের নেশায় নিজেকে বরবাদ করিস না।

আনাবিয়া জয়তিকে জড়িয়ে ধরে। শান্ত কণ্ঠে বলে,

-আমি যদি না চাই তাহলে তারা কেউই আমাকে চিনতে পারবে না। আর এতো চিন্তা করো না। ওদের আসল জায়গা আমি দেখিয়েই ছাড়বো।

-তোর যদি কিছু হয়ে যায়?

-কিছু হবে। একবার বিয়েটা সুন্দর মতো হয়ে যাক তারপর আমি নিজেই তাঁদের কাছে আমার আসল পরিচয় তুলে ধরবো।

-জানিস আনা আমি না একটা কথা ভাবছি। তনুসফা শেখ এতো সহজেই ভাইয়ের পছন্দ মেনে নিলো! আর ইসরাফই বা তোকে না দেখে কিভাবে তোর প্রেমে পাগল হয়ে গেলো!

-সৃষ্টিকর্তা এবার আমার সাথে তাই তিনি সব সহজ করে দিচ্ছেন।

-হ্যাঁ, এখন সামনের সব কিছুই জানো পরিকল্পনা মাফিকই হয়।

🌸🌸🌸

গায়ে জড়ানো কোট খুলতে খুলতে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ইরান। ড্রইংরুমে আসতেই একজন ভৃত্য এসে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়। এক চুমুকে পুরো গ্লাস খালি করে দেয়। সোফার দিকে তাকাতেই দেখে তনুসফার মেয়ে জেসিকা উঁচু আওয়াজ দিয়ে গান শুনছে। কাঁধ ঘুরিয়ে ইরানকে দেখে দৌড়ে আসে। হাসি মুখে বলে,

-হেই মামু অফিস থেকে আসলে নাকি?

-হ্যাঁ মামনি।

-ওওও! বাসায় একা একা ভীষণ বোরিং লাগছে। কথার বলার মতো একজনও নেই!

-কেনো তোমার নানু আর মম কোথায়?

জেসিকা উদাসীন হয়ে বলে,

-নানু তার রুমে শুয়ে আছে কিছুক্ষন আগেই দেখে আসলাম। আর মম তার রুমে কাজ করছে।

-ওহহ!

-মামু এক কাজ করো না আমার জন্য একটা কথা বলার পাটনার এনে দেও না?

-আমি কিভাবে আনবো মামনি?

-বিয়ে করে মামী এনে দেও।

ইরান মৃদু হাসলো। কথা ঘুরিয়ে ফেলে। হাতের ফাইল গুলো অন্য হাতে নিয়ে চুলে হাত চালাতে চালাতে বলে,

-শুনলাম বিয়ে ঠিক হয়েছে নাকি?

এবার জেসিকা একটু সরম পেলো। মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। ইরান মুচকি হেসে বলে,

-এখন তাহলে মামা শশুরও হয়ে যাবো! আমাকে পরিচয় করিয়ে দেবে না ভাগ্নির উল্ড বি হাসব্যান্ডের সাথে?

-অবশ্যই। কালই তোমার সাথে তার মিট করাচ্ছি। আর মামীর কী হবে?

ইরান কিছু বলবে তার আগেই পিছন থেকে তনুসফা বলে,

-জেসিকা আর কয়েকদিনের মধ্যেই তোমার কথা বলার পাটনার মানে একজন মামীকে পেয়ে যাবে।

-হাও মম? (জেসিকা)

-তোমার ছোট মামা বিয়ে করছে খুব জলদি। আজ মামীকে দেখতে গিয়েছিলাম। (তনুসফা)

-কেমন দেখতে মামী? (জেসিকা)

-মুখ দেখতে পারিনি পর্দা করে তাই! (তনুসফা)

-পর্দা করে ভালো কথা। মেয়ের মেয়েদের সামনে আসতে প্রবলেম কোথায়? (ইরান)

-সেটাই তো। হয়তো অন্যরকম পর্দা করে। (জেসিকা)

ইরান শব্দ করে হেসে দেয়। হাতের ফাইল গুলো তনুসফার হাতে দিয়ে ওপরে যেতে যেতে রসিকতার স্বরে বলে,

-ল্যাংগুরের কপালে যে আঙ্গুর জুটছে এটাই অনেক! নাহলে বর্তমান যে অবস্থা! ভদ্রতা সুশীল ছেলেরাও এইরকম ভদ্র মেয়ে পাচ্ছে না।

নিজ রুমে এসে গলার থেকে টাই খুলতে থাকে। একটু বেশিই পরিষ্কার-পরিছন্ন সে। রুমের এক কোণাও ময়লা নেই। মেঝের সাদা টাইলস গুলো চকচক করছে। টাই খোলার পর পরিহিত শার্ট অর্ধেক খুলে কাবাড থেকে একটি টি-শার্ট আর টাউজার নিয়ে ওয়াশরুম চলে যায়। জর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে হাতের রগ গুলো দেখতে থাকে ইরান। এক এক পানির ফোটা তার বলিষ্ঠ শরীর ছুঁয়ে নিচে পরছে।
অকস্মাত ইরানের ছোট ছোট আঁখিজোড়ায় ভেসে উঠে সকালের সেই ঘটনার কথা। দুইজন মেয়েকে মাঝ রাস্তায় এভাবে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভীষণ মায়া হয়েছিল তার। তাই তো বোরখা পরা মেয়েটির বলার সাথে সাথেই লিফ্ট দেয়। কিন্তু মেয়েটা গাড়ির ভিতরে এসে কী কান্ডটাই না করল! নিজের মুখে কালি দিয়ে রেখেছিল মেয়েটি। গাড়ির ভিতরে বসে সবটা মুছে ফেলে। ইরান তাকাতে চায়নি তবুও আগ্রহ দমিয়ে রাখতে না পেরে লুকিংগ্লাসে সে সবই দেখেছে। তবে স্পষ্টভাবে মেয়েটার মুখশ্রী দেখতে ব্যর্থ হয়। নেকাবের আড়ালে মেয়েটা নয়নও ইরানের কাছে কেমন জানো নকলি নকলি মনে হচ্ছিল। সম্পূর্ণ প্লাস্টিকের পুতুল! ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে ইরান। কপালে আসা চুল গুলো দুইহাতের সাহায্যে পিছনে নেয়।

>>>চলবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ