Friday, June 5, 2026







সর্দি কন্যা পর্ব – ০২

#সর্দি কন্যা
#রোকসানা রাহমান
#পর্ব (২)

” আপনার কাছে টিস্যু হবে? ”

উষ্মার হঠাৎ জিজ্ঞাসায় আমি অপ্রস্তুত হলাম। অবোধের মতো প্রশ্ন করলাম,
” কী? ”

উষ্মা বলতে গিয়ে বাঁধা পেল। টানা হাঁচি দিল কয়েকবার। তারপরে দু-হাতে মুখ ঢেকে ক্লান্ত ও অনুরোধের সুরে বলল,
” আমার টিস্যু লাগবে! ”

আমি এক মুহূর্ত চুপ থেকে নাক-মুখ কুঁচকে ফেললাম। না চাইতেও চোখের পর্দায় একটা নোংরা মেয়ে মুখ ভেসে উঠল।

” কী হলো? আমার কথা বুঝতে পারছেন না? ”

উষ্মার অসহায় কণ্ঠস্বরে আমার একটুও মায়া হলো না। গলার স্বর কঠিন করে ডাকলাম,
” তনয়া? ”

আমার সে রাগীস্বর কাচের দরজা ভেদ করে বাইরে গেল না। অথচ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তনয়া দরজার কাছটাতেই শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি রাগে চেঁচিয়ে উঠলাম,
” তনয়া? তনয়া কবির? ”

এবারও সে শুনতে পেল না। প্রচণ্ড রাগে আমি ভুলেই গেলাম ইমার্জেন্সি বেলের কথা। যেটায় একটা চাপেই তনয়া ভূতের মতো হাজির হবে। আমি ভয়াবহ রাগ নিয়ে দরজার কাছে ছুটে গেলাম। দরজা ঠেলে চিৎকার করে বললাম,
” তখন থেকে ডাকছি, শুনতে পাচ্ছ না? ”

তনয়া চমকে উঠল। ভয়ে ভয়ে বলল,
” সরি, স্যার। আমি আসলেই শুনতে পাইনি। ”

তনয়া অপরাধীর মতো মুখ বানালে আমি বললাম,
” এক প্যাকেট টিস্যু নিয়ে আসো। ”

তনয়া চোখ তুলে তাকাল। চোখের চাহনিতে বিস্ময়! আমি মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে ওর হাতে দিয়ে বললাম,
” যাও, ফাস্ট। ”

তনয়া জায়গা থেকে নড়ল না। বিস্মিত চাহনি প্রগাঢ় হলো। যেন সে বিশ্বাসই করতে পারছে না, তাকে দিয়ে আমি টিস্যু আনাচ্ছি। আমি বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠলাম,
” এভাবে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন? যেতে বললাম না? ”

তনয়া বিস্ময় কাটিয়ে মিনমিনে বলল,
” আপনার টেবিলে টিস্যু দেওয়া আছে, স্যার। ”
” তো কী হয়েছে? আবার আনবে। ”
” কিন্তু…. ”

তনয়াকে কিছু বলতে না দিয়েই আমি দরজা ছেড়ে ভেতরে এসে দাঁড়ালাম। উষ্মা বোধ হয় এতক্ষণ আমার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি তাকাতেই সে উল্টো ঘুরে দাঁড়াল। আমি ঘেন্নায় দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। আপনমনে বিড়বিড় করতে করতে চেয়ারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। সেসময় উষ্মা আমার হাত টেনে ধরল। আমি কিছু বুঝার আগেই হাতায় নাক মুছে হড়বড়ে বলল,
” মেয়ে মানুষকে দিয়ে টিস্যু আনাচ্ছেন? ছি! আপনার জীবন ব্যয় হোক টিস্যু কিনতে কিনতে। ”

কথাটা বলেই সে দৌড়ভঙ্গিতে বেরিয়ে গেল। আমি হতভম্ব চোখে তার চলে যাওয়া দেখলাম। বিমূঢ়তা কাটল ফোনের রিংটোনে,
” হ্যালো। ”
” স্লামু আলাইকুম, স্যার। ”
” ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কে বলছেন? ”
” আমি আসাদ, স্যার। আপনাগো অপিসের দারোয়ান। ”
” তুমি আমার নাম্বার কোথায় পেয়েছ? ”
” উষ্মা আপা দিছে। ”
” উষ্মা? ”
” চিনতে পারতাছেন না, স্যার? একটু আগেই তো আপনার লগে দেহা করল। আরে ঐ যে আপনার আম্মার বান্ধুপির মে….”

আমি ভারি বিরক্ত হয়ে তাড়াতাড়ি বললাম,
” কী জন্যে কল করেছ তাই বলো। ”

ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ ফিসফিসের শব্দ হলো। তারপর বলল,
” উষ্মা ম্যাডামের তো সিএনজি চইলা গেছে। এখন বাড়ি যাইব ক্যামনে বুঝতে পারতাছে না। বৃষ্টিও থামে না। ”
” এখন আমি কী করব? বৃষ্টি থামিয়ে দেব? নাকি কোলে করে বাড়ি দিয়ে আসব? ”
” স্যার দেহি রাগ করতাছেন৷ ”
” ফোন কাটো। খবরদার আমাকে আর কল দিবে না। ”

ফোন পকেটে ভরে আমি ঘন ঘন শ্বাস ছাড়লাম। রাগ কিছুতেই কমছে না। মাথাটা ধপ ধপ করছে। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না, আম্মুর পছন্দ এতটা জঘন্য!

____________
আমি বাসায় ফিরলাম ঠিক দুপুরে। আম্মু আর আব্বু তৈরি ছিল। আমাকে দেখেই ভারী ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে এলেন বাবা। বললেন,
” এত দেরি করলি কেন, অরু? তোর মা তো….”

বাবা কথাটা শেষ করতে পারলেন না। আমি চটে গিয়ে বললাম,
” তুমি আবার আমাকে অরু ডাকছ, আব্বু? ”

বাবা খানিকটা দমে গেলেন। আমতা আমতা শুরু করলে মা এগিয়ে এসে বললেন,
” তো কী ডাকবে? গরু? ”
” আম্মু! ”

আমার করুণ কণ্ঠস্বরে মা বিরক্তের মুখ বানালে আমি বললাম,
” অরুণ ডাকবে। আমার নাম অরুণ। ”

বাবা নরম স্বরে বললেন,
” জানি তো। ওটা তো আমরা আদর করে ডাকি, বাবা। ”
” আদর করে অন্যকিছু ডাকো, আব্বু। অরু বলবে না। কেমন যেন মেয়েলি লাগে! ”
” আচ্ছা। ”

বাবার ‘ আচ্ছা ‘ শব্দটা বড়ই হালকা শোনাল। বুঝে গেলাম একটু পরেই আবারও ‘ অরু ‘ বলে ডাকবে। এভাবেই তো চলছে। আমি গোপনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।

” তুই শার্ট পাল্টেছিস? ”

মায়ের প্রশ্নে আমি নিজের শার্টের দিকে তাকালাম। সাথে সাথে উষ্মার কথা মনে পড়ল। তার নোংরা মুখটা মনে পড়ল। নোংরা আচরনও।

” ভালোই হয়েছে একদম তৈরি হয়ে এসেছিস। এমনিতেও আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে। চল, বেরিয়ে পড়ি। ”

কথাটা বলেই মা বাবাকে ব্যাগপত্রসহ ঠেলে বাইরে বেরুতে বলে নিজেও হাঁটা ধরে। আমি উষ্মার ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করব কী করব না দ্বিধায় পড়ে গেলাম। মনে প্রশ্ন জমল, উষ্মা মেয়েটা আসলেই আম্মুর বান্ধুবীর মেয়ে তো? নাকি অন্য কেউ? সত্যিই সে আম্মুর পছন্দ? আসলেই কি আমরা তাকে দেখতে যাচ্ছি? ওকেই বিয়ে করতে হবে? উষ্মার সাধারণ গড়নের শরীরখানা কল্পনায় ভেসে উঠতে আমি চেঁচিয়ে উঠলাম,
” আম্মু? ”

আম্মু থমকে পেছন ঘুরলেন। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন,
” কী রে, কী হলো? ”

আমি দৌড়ে আসলাম। অস্থির চিত্তে বললাম,
” আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছ? ”
” কী লুকাব? ”
” এমন কিছু যেটা আমি পছন্দ করব না৷ ”
” তেমন কিছু তো মনে পড়ছে না! আর তুই পছন্দ করবি না এমন কিছু করতে পারি? তোর সব পছন্দ আমার জানা। ”

আমি স্বস্তি পেলাম! কয়েক দিন আগে আমার কেমন মেয়ে পছন্দ জিজ্ঞেস করেছিল আম্মু। আমিও বলে দিয়েছি। বিয়ে করব না বা পরে করব এমন চিন্তা-ভাবনা আমার মধ্যে নেই। শুধু মেয়ে আমার পছন্দসই হলেই হবে।

_____________
আম্মুর বান্ধুবীর বাড়ি শরিয়তপুর। যাত্রা পথেই জানলাম উষ্মা তার একমাত্র মেয়ে। এবার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। অথচ আমাকে বলেছিল কলেজে পড়ে। মিথ্যাবাদী! এমন মিথ্যুক মেয়ে কখনই আম্মুর পছন্দ হতে পারে না। এই ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম। ভরসা ভারী করছিলাম।

উষ্মাদের বাড়িতে পৌঁছালাম সন্ধ্যা নাগাদ। মাটি রাস্তা শেষ করে উঠোনে পা পড়তেই কেউ একজন চিৎকার করে উঠল। আমি সচকিত হয়ে সামনে তাকালাম। ঝাপসা অন্ধকারে দেখলাম এক মহিলা এসে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছে। আমি হতভম্ব চোখে আব্বুর দিকে তাকালাম। সেও সংশয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কী হয়েছে বুঝার চেষ্টা করছে। বেশ কিছুক্ষণ পরে জানতে পারলাম উষ্মা নাকি হারিয়ে গেছে! সারা গ্রাম খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাবা শপথ করেছে, মেয়েকে না পাওয়া পর্যন্ত বাসায় ফিরবে না। সেও এখন লাপাত্তা! এই অবস্থায় উষ্মাদের বাসা থেকে আমাদের তেমন কোনো আপ্যায়ন হলো না। নাজু আন্টি গলায় কান্না নিয়ে আমাকে একটা রুমে দিয়ে গেল। বাবা মায়ের সাথে বাইরেই থেকে যাওয়াই আমি রুমে একা হয়ে গেলাম। চিন্তায় পড়তে বাধ্য হলাম। মনের অজান্তেই ঠোঁটদুটো নড়ে উঠল, ‘ উষ্মা কি সত্যিই হারিয়ে গেছে? ‘ আমি তাৎক্ষণিক দারওয়ানের নাম্বারে কল দিলাম। শেষবার তো তার সামনেই শুনেছিলাম! একবার ছেড়ে দু-বার রিং হতেই কেমন একটা শব্দ হলো। আমি ফোন কানে নিয়েই পুরো রুমে চোখ বুলালাম। সেসময় শব্দটা আবার হলো। পরপর তিনবার। আমি স্পষ্ট বুঝলাম এটা কারও হাঁচির শব্দ। মেয়েরই হবে। কিন্তু শব্দটা আসছে কোথা থেকে? আমি ফোন কান থেকে নামিয়ে রুমের কোণায় কোণায় চোখ রাখছিলাম। কোথাও কিছু না পেয়ে খাটের উপর ধপাস করে বসতেই শব্দটা আবার হলো। আমার কর্ণদ্বয় সজাগ হলো। মস্তিষ্ক খুব সচেতন হতেই বুঝে গেলাম শব্দটা খাটের নিচ থেকে আসছে। আমি বসা অবস্থায় খাটের নিচে উঁকি দিতেই চোখদুটো ছানাবড় হলো। সীমাহীন বিস্ময় ঝরে পড়ল কণ্ঠ থেকে,
” তুমি! ”

চলবে

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ