Friday, June 5, 2026







সন্ধ্যালয়ের প্রণয় পর্ব-০২

#সন্ধ্যালয়ের_প্রণয়
#আফসানা_মিমি
|দ্বিতীয় পর্ব|
❌[কোনোভাবেই কপি করা যাবে না]❌

সরকার বাড়িতে হৈ হুল্লোর পরিবেশ। বংশের প্রথম নাতির সাফল্যতায় আরিফ সরকারের মন বেশ প্রফুল্ল। গত সপ্তাহে তিনি লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন, ফিরেছেন সন্ধ্যায়। লন্ডনে বসেই টিভির পর্দায় নাতির সাফল্যতার সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে দেখেছেন। আজ সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছেন। এসেই ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে দারোয়ান সবাইকে দু’হাত ভরে টাকা দিচ্ছেন। এই অজুহাতে ঘরের রমণীরা ফায়দা লুফে নিচ্ছে।
ক্লান্ত শরীরে নিলয় বাড়ি ফিরে আসে। বর্তমানে দূর থেকে নিলয়কে যে কেউ দেখে বলবে সে খুবই ক্লান্ত। যেন কিয়ৎক্ষণ পূর্বেই কোনো ঝড় তুফানের সাথে মোকাবিলা করে এসেছে। সাদা শার্টের বুকপকেটের তিনটি বোতাম খোলা, হাতে কালো রঙের ব্লেজার, গলার লাল টাই ঢিলে হয়ে বুকের উপর ঝুলছে।

” এই তো আমার বংশের প্রদীপ চলে এসেছে!”

প্রিয় দাদাজানের কথার আওয়াজে শরীরের ক্লান্তিরা বিদায় জানায়। আরিফ সরকারের আকস্মাত আগমনে নিলয়ও চমকপ্রদ। সোফার উপর ব্লেজার রেখে দাদাকে জরিয়ে ধরে সে।

” কখন এসেছো! আমাকে জানাওনি কেন তোমরা আসবে, পিচ্ছু কোথায়?”

আরিফ সরকার নিলয়কে ছেড়ে দিয়ে সোফায় বসলেন। কাজের লোককে ইশারায় ঠান্ডা পানীয় আনতে পাঠিয়ে বলে, ” নীলিমা উপরে ঘুমাচ্ছে। আমি আরিফ সরকার, কখনো স্বর্ণ চিনতে ভুল করি না। আমার আসনে যে যোগ্য তাকেই বসিয়েছি। তোমার সাফল্যতা আমাকে খুশি করেছে। এভাবেই এগিয়ে যাও।”

নিলয় হাসছে। আরিফ সরকারের ভাবভঙ্গি কিছুটা রাজাদের মতো। রাজা যেমন সিংহাসনে বসে বুক ফুলিয়ে প্রজাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখে, আরিফ সরকারও ঠিক তেমন ভাবেই কথা বলে। এজন্যই হয়তো সন্ধ্যা দাদাকে রাজা দাদা বলে ডাকে।
নিলয় দাদার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফ্রেস হওয়ার জন্য সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে নেয় তখনই কর্ণধারে সন্ধ্যাবতীর স্বর ভেসে আসে, ” আমাকে কী আপনার চাকর মনে হয়, মিস্টার অসভ্য দুর্লয়? এই ব্যাগও কী বহন করে আপনার ঘর পর্যন্ত দিয়ে আসতে হবে?”

নিলয় থেমে যায়। মুখে বাঁকা হাসির রেখা টেনে প্রত্যুত্তরে বলে, ” নিয়োগ যেহেতু নিয়েই ফেলেছো।তবে তাই হোক, মিস ঐরাবতী! অফিসে তুমি আমার কর্মচারী আর বাসায় চাকরানী।”

সন্ধ্যা কটমট চোখে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। হাতের ব্যাগ জমিনে সজোরে নি’ক্ষে’প করে।
” অফিসে কাজের বাহানায় অ’ত্যা’চা’র করুন সেটা চুপচাপ মেনে নেই বলে ভাববেন না, এই সন্ধ্যা কারোর গোলাম। সন্ধ্যা কখনো কারোর কথা মেনে চলেনি,আর চলবেও না।”

” এ কেমন বেয়াদবি, সন্ধ্যাবতী?”

রাগ,অহংকার একজন মানুষকে ধ্বং’সের দিকে ধাবিত করে। আক্রোশে বড়ো-ছোট কাউকে মানা দুষ্কর হয়ে যায়। সন্ধ্যা রাগের বশে হিতাহিত জ্ঞানবোধ শূন্য হয়ে গিয়েছে। পাশে আরিফ সরকার বসে আছেন সেদিকে ধ্যান নেই। আরিফ সরকারের কর্কশ আওয়াজ কর্ণধারে প্রবেশ করতেই সন্ধ্যা চুপ হয়ে যায়। সন্ধ্যার মৌনতা আরিফ সরকারের চোখে অপছন্দীয়। সাত বছর যাবত আদরের নাতনি মাথা উঁচু করে দাদাকে চেয়ে দেখেনি। মুখ খুলে কথা বলেনি। কীসের এতো রাগ? কীসের অহংকার? আরিফ সরকারের ছোট সন্তান এতটাই নিচে নেমেছে যে আদরের নাতনিকেও উনার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে? আরিফ সরকার কষ্ট আড়াল করে আবারো কর্কশ স্বরে সন্ধ্যাকে বললেন, ” উত্তর দাও সন্ধ্যাবতী?”

সন্ধ্যাবতী নিরুত্তর। এক পলক নিলয়ের দিকে তাকিয়ে নিজেদের বাড়ির দিকে চলে গেল।
আরিফ সরকার নিলয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করে। উনার চোখ শক্ত, রাগে ঠোঁট কাঁপছে। নিলয় দাদার রাগ সম্পর্কে অবগত। চোখের ইশারায় বলল,” সব ঠিক হয়ে যাবে।”

সরকার বাড়ি। পূর্বে ইট পাটকেলের দেয়াল এবং উপরে টিনের ছাউনি দিয়ে বাঁধা ছিল বাড়িটি। সময়ের পরিবর্তনে, আভিজাত্যের ছাপ পড়ে সরকার বাড়ি বর্তমানে বিশাল বড়ো অট্টালিকায় রূপান্তরিত করা হয়েছে শুধু তফাত সম্পর্কের। পূর্বে টিনের ছাউনির নিচে সকলে একসাথে আনন্দে জীবনযাপন করত আর বর্তমানে বিশাল বড়ো অট্টালিকায় সকলে একছাদের নিচে বসবাস করলেও পরিবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। সরকার বাড়িটি তৈরিও করা হয়েছে সেভাবেই। গোলাকৃতির বাড়িটির একপাশে আরিফ সরকার ও দুই ছেলে পরিবার সহ থাকে আর অপর পাশে এক ছেলে বউ সন্তান নিয়ে থাকে।
——————

সন্ধ্যা খুবই ক্লান্ত নিজের ব্যস্ততা জীবন নিয়ে। ঘরে এসে হাত ব্যাগ টেবিলের উপর রেখে বাবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
সন্ধ্যার বাবা নীরব সরকার আরিফ সরকারের ছোট ছেলে। সন্ধ্যা বাবার ঘরের দরজায় করাঘাত করল। ভেতর থেকে আসো শুনতে পেয়ে প্রবেশ করল সে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে নীরব সরকার বসে আছেন। সন্ধ্যা বাবার ঘরে প্রবেশ করে প্রথমেই ঘরে আলো জ্বালায়। নীরব সরকার তখন পর্দা ভেদ করে আসা দূরের দালানের টিমটিম করে জ্বলে থাকা রঙ বেরঙের আলোর ঝিলিক দেখছিল। মেয়েকে আসতে দেখে মুচকি হাসেন। হাতের ইশারায় কাছে ডাকেন।
” আজ অফিস কেমন ছিল?”

অফিসের কথা বলায় সন্ধ্যার নিলয়ের কথা স্বরণে আসে। সন্ধ্যার মুখের রং পরিবর্তন হয়ে যায়। চোখ মুখ শক্ত করে প্রত্যুত্তরে বলে, ” ভালো ছিল। তবে ঐ নিলয়কে যতবার এম ডির চেয়ারে বসতে দেখি ততবারই কিছু মানুষের পক্ষপাতিত্ব মনে পড়ে যায়।”

নীরব সরকারের মুখশ্রী শক্ত হয়ে আসে। হস্তদ্বয় মুষ্টিবদ্ধ করে চেয়ারের হাতলে আঘাত করে বসে।

“তোমাকে সহ্য করতে হবে। মানতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে ঐ স্থানে আসন গ্রহণ করার।”
সন্ধ্যা মনকে আরো শক্ত, স্থির করল। শুধু কাঙ্খিত সময়ের অপেক্ষা করছে সে। সন্ধ্যাবতীর মনে কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন, কেন তার বাবা আপনজনের বিরুদ্ধে আর কেন-ই বা সন্ধ্যাকে নিজেদের অফিসে চাকরি করতে বলেছে আর কেন-ই বা এত বছর ঘর থেকে বের হোন না, আপনজনদের দেখতে চান না।
” বাবা, একটা প্রশ্ন ছিল।”

নীরব সরকার বুঝতে পেরেছেন। মেয়ের মনের বর্তমান অবস্থা। দৃষ্টি আবারো দূরে দালানের দিকে নিবদ্ধ করে প্রত্যুত্তরে বললেন, ” আমি জানি তুমি কী বলতে চাইছো। সময় হোক, তোমার প্রশ্ন করতে হবে না। উত্তর এমনিতেই পেয়ে যাবে।”

সন্ধ্যা আর কিছু বলল না। লম্বা নিশ্বাস ত্যাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে আসলো।
——–

“তুমি এসেছিলে কোনো এক বসন্তে, চলে গেলে গত গ্রীষ্মে। ভেবেছ, আমি ভেঙে পড়েছি নাকি বিরহে আছি তোমার অনুপস্থিতিতে।”

ডায়েরিতে খচখচ শব্দে কয়েক বাক্য লিখে কলম থামায় নিলয়। চোখের সামনে অতীতের কিছু স্মৃতি চলাচল করছে। শান্তি দিচ্ছে না তাঁকে। এদিকে অফিসের সেই ঘটনা এখনো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কে ছিল,কি করতে এসেছিল, আর কোথায় চলে গিয়েছে? এমন তো নয় অফিসে নিলয়ের আড়ালে আবডালে অসৎ কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে! নিলয় ভাবতে ভাবতে বারান্দায় চলে আসে। এত বছর অফিসের সকল দায়িত্ব পুরাতন ম্যানেজার পালন করতো। আরিফ সরকার শুধুমাত্র সপ্তাহে অফিসে বসতেন আর খোঁজ নিতেন। কোনো এক কারণে ম্যানেজারকে আরিফ সরকার অফিস থেকে বের করে দেন। নিলয়ের নিকটে পুরো অফিস এখনো ধোঁয়াশা। নিলয় মনে করে এই অফিসের আনাচে কানাচে এখনো অনেক রহস্য রয়েছে।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিলয় কথাগুলো ভাবছিল। দূরে বারান্দায় কারো ঝুলন্ত ওড়না দেখে ভ্রু যুগল কুঁচকে নেয়। নিলয় জানে এটা কার বারান্দা। এতরাতে ওড়না ঝুলছে মানে ঐরাবতী এখনো ঘুমায়নি। নিলয় নিজ বারান্দার দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যার ভাবগতি লক্ষ্য করতে চেষ্টা করছে। মুঠোফোনের আলোয় সন্ধ্যাবতীর হাস্যজ্বল চেহারা স্পষ্টত চিকচিক করছে। নিলয় নিজ ফোনে সময় দেখে নিল। সন্ধ্যাবতীর সন্ধ্যা নগ্ন শুরু হয়েছে মাত্র? নিলয় কি আর সন্ধ্যার সন্ধ্যালয় রঙিন হতে দিবে? কখনোই না। কল লিস্ট খুঁজে ঐরাবতী নাম বের করে কল করলো সে। রিং বাজছে,দূর থেকে নিলয় স্পষ্টত সন্ধ্যার বিরক্তি মুখশ্রী দেখতে পাচ্ছে। সময় নিয়ে সন্ধ্যা ফোন রিসিভ করে।
” আপনার পেত্নি গার্লেফ্রন্ড কী রাগ করে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে যে এত রাতে আমাকে বিরক্ত করছেন?”
” মুখে লাগাম দাও মিস ঐরাবতী। আজকাল তোমার মুখ একটু না অনেক বেশিই চলে। ভুলে যেও না, তুমি কার সাথে কথা বলছো।”

” অহ শিট! আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, আমি বর্তমানে একজন অভদ্র দুর্লয়ের সাথে কথা বলছি।”
” সন্ধ্যাবতী?”

কর্কশ আওয়াজ ফোন ভেদ করে কর্ণধারের পর্দায় বাড়ি খেলো। সন্ধ্যা তা দেখে হেসে ফেলল। নিলয়কে রাগাতে সন্ধ্যার বেশ লাগে। নিলয়ের কপট রাগ পুরোই আরিফ সরকারের ন্যায়।
” আপনার ধমকে পিঁপড়েও নড়বে না আর আমি তো মানুষ।”

” পিঁপড়ে হও বা মানুষ হও। ভয় তো তোমাকে পেতেই হবে মিস ঐরাবতী। আগামীকাল সকাল ছয়টায় সাতটা ফাইল আমার টেবিলের উপর চাই। রাত জেগে প্রেমালাপ করো বা বাচ্চা পালো তাতে আমার যায় আসে না। তবে সঠিক সময়ে ফাইল না পেলে! শুভ রাত্রি মিস ঐরাবতী।”

ফোন কে’টে গেলো। সন্ধ্যার জীবন তেজপাতার চেয়েও পাতলা। সন্ধ্যার শক্তি থাকলে এই অসভ্য দুর্লয়কে বস্তায় ভরে দূর দেশে পাঠিয়ে দিত।
মুঠোফোনে টুং টাং বার্তা আসলো। সন্ধ্যাবতী হাসিমুখে শুভরাত্রি জানিয়ে বিদায় নিলো।
————–

পুরো পৃথিবীর মানুষদের সকাল যেখানে শুরু হয় সকাল সাতটায় সেখানে সন্ধ্যার সকাল শুরু হয়েছে আজ আটটায়। সন্ধ্যার মা নিজের বাবার বাসায় গিয়েছে যার ফলে নাশতাটাও করা হয়নি। কাজের দুজন লোক আছে যারা সন্ধ্যার জন্য নাশতা তৈরি করেছেন কিন্তু সন্ধ্যার সেসব খাবার পছন্দ হয়নি। তাড়াহুড়ো করে সন্ধ্যা তৈরি হয়ে নিচে নেমে আসে। বাড়ির বাহিরে বাগানটায় তখন আরিফ সরকার বসে নাশতা করছিলেন। সন্ধ্যা দৌড়ে বের হয়ে যাচ্ছিল তখনই আরিফ সরকারের কথা সন্ধ্যার কানে আসে।

” সন্ধ্যাবতী, নাশতা করে যাও।”

দাদার সাথে কথা না বললেও সন্ধ্যা দাদাকে খুবই শ্রদ্ধা করে। আড়ালে যত যাই বলুক না কেনো মানুষটাকে সত্যিই সকলে ভয় পায়। সন্ধ্যা উপরে একবার বাবার ঘরের জানালার দিকে তাকিয়ে আরিফ সরকারের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। কাজের লোককে তিনি ইশারায় নাশতা নিয়ে আসতে বলেন।

আজ সন্ধ্যার প্রিয় নাশতা তৈরি করা হয়েছে। পরোটা এবং গরুর গোস্তের কালো ভুনা। সন্ধ্যা আরিফ সরকারের সামনের চেয়ারে বসে আছে মাথা নত করে। কাজের লোক খাবার পরিবেশন করে। সন্ধ্যা কোনো কথা না বলে খাওয়া শুরু করে।

সরকার বাড়ির একটা নিয়ম আছে। বাড়ির বউরা বাহিরে বের হতে পারে না। নিলয়ের মায়ের হাতের কালো ভুনা খুবই মজাদার। সন্ধ্যা খুবই পছন্দ করে
একসময় সন্ধ্যা নিলয়ের মায়ের গলায় ঝুলতো কালো ভুনা খাওয়ার বাহানায়। আজ অনেক বছর পর সে তৃপ্তি ভরে খেয়ে নিল। এদিকে আরিফ সরকার সন্ধ্যাবতীর খাবার খাওয়া দেখে মুচকি হাসেন বিড়বিড় করে বলেন,

” নীরব তুই তোর সন্তানকে যতই অমানুষ বানাতে চেষ্টা করিস না কেনো। তোর সন্তান একদম পবিত্র। মনের ভিতরে খারাপ কিছুই ঢুকতে পারবে না। কেননা তার শরীরে আমার বংশের র’ক্ত ব’য়ে চলছে।”

সন্ধ্যা চলে গেছে আরিফ সরকার এবার তৃপ্তি হেসে ডুব দেন খবরের কাগজে।

——————

অফিসের সকল কর্মচারীরা কাজে মগ্ন। সকাল সকাল কাজের চাপের সাথে কাজের অনেক জোশ। দিনশেষে অচল মস্তিষ্ক সারারাত ঘুমিয়ে একদম সচল হয়ে আছে। সন্ধ্যাকে অফিসে ঢুকতে দেখে কয়েকজন হেসে ফেলেন। সন্ধ্যার রোজকার রুটিন। কিছুক্ষণ পর বস সন্ধ্যাকে বকবে আর শা’স্তি দিবে। কয়েকজন দুষ্টুমির ছলে বলেন,

“আজ তোমার খবর আছে রে, সন্ধ্যাবতী।”

সন্ধ্যা চুপি চুপি নিজে ডেক্সে এসে বসলো। এমন সময় কোথায় থেকে আকাশ দৌড়ে এসে সন্ধ্যাকে টেনে অফিসের এক কোনায় নিয়ে গেল।

” পাগল হয়েছিস আক্কাইস্সা। এভাবে টেনে নিয়ে আসলি কেনো? অসভ্য দুর্লয় যদি একবার দেখতে পারে তাহলে তোকে তো ছেড়ে দেবে কিন্তু আমাকে একদম আস্তো গি’লে খাবে।”

” আরে থাম বইন। আর ভয় দেখাস না। গতকাল বাঘের মুখ থেকে যে কীভাবে ছাড়া পেয়েছিলাম তা আমি জানি।”

” হ্যাঁ! নিজে তো ছাড়া পেয়েছিলি কিন্তু আমাকে তো ফাঁ’সি’য়ে গেলি। তোর জন্য, শুধুমাত্র তোর জন্য আমি সব সময় ফেঁসে যাই। এখন থেকে তোর সাথে কথা বন্ধ। ভুলেও তুই আমার আশেপাশে ঘেঁষার চেষ্টা করবি না।”
আকাশ কষ্ট পায়। সন্ধ্যার মতো ভালো বন্ধুকে হারাতে চায় না। তাই সন্ধ্যার উদ্দেশ্যে বলে,
” বন্ধুরে এভাবে বলিস না, কলিজায় লাগে।”

” তোর কলিজা বের করে ওটাকে কুঁচি কুঁচি করে কে’টে নদীতে ভাসিয়ে দিব। দূর হো ছাগল কোথাকার।”

আকাশ ছলছল চোখে তাকিয়ে রয়। সন্ধ্যা রেগে আছে। রাগ ভাঙাতে আকাশকে এখন কত কী করতে হবে!
ডেক্সের উপরে রাখা টেলিফোন বেজে চলছে।টেলিফোন বাজাতে সন্ধ্যা ভয় পেয়ে যায়। বুকে তিনবার থুথু দিয়ে কাঁপা হাতে ফোন কানে নেয়।

” এক্ষুনি আমার কেবিনে আসুন, মিস ঐরাবতী। আর হ্যাঁ! সাথে সাতটা ফাইলো নিয়ে আসবেন।”

সন্ধ্যা শুকনো ঢোক গিলে। গতকাল পাঁচটা ফাইল দেখা হয়েছে। বাকি দুইটা গতকাল রাতে নিলয়ের জন্যই দেখতে পারেনি সে।
গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল সন্ধ্যাবতী নিলয়ের কেবিনের সামনে। অভ্যাস মোতাবেক চেয়েছিল ধুরুম করে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে। কিন্তু পরক্ষণে মনে হল আজ প্রথমত সন্ধ্যা দেরি করে অফিসের ঢুকেছে তার উপর কাজ কমপ্লিট হয়নি। এখন যদি তিন নাম্বার ভুল কাজটা করে ফেলে তাহলে অসভ্য দুর্লয় হয়তো তাকে কান ধরে তিন ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখবে। সন্ধ্যা দাঁড়িয়ে মিষ্টি কন্ঠে অনুমতি চাইল ভেতরে ঢোকার জন্য।

” আসতে পারি স্যার?”
” আসুন।”

সন্ধ্যা ঘরে প্রবেশ করলো। নিলয় পায়ের উপর পা তুলে সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে আছে। সন্ধ্যার মুখে মিষ্টি হাসি যা দেখে নিলয়ের ভ্রু কুঁচকে আসে। সন্ধ্যায় এমন একজন মেয়ে যার মুখে কখনো মিষ্টি হাসি দেখতে পায়নি নিলয়। সবসময় নিলয়েরর সাথে কর্কশ ভাষায় এবং ত্যাড়া কথা শুনতে পেয়েছে সে। আজ হঠাৎ মিষ্টি হাসি দেখে নিলয়ের হজম হচ্ছে না।

” ফাইলগুলো দিন মিস ঐরাবতী। আমি ভাবছি আজকের কাজ ঠিক হলে আপনাকে প্রমোশন দিয়ে দেব। আপনি এত কষ্ট করে দিন রাত এক করে অফিসের জন্য কাজ করছেন আপনার তো এতোটুকু পাও নাই আছে, তাই না!”

প্রতুত্তরে সন্ধ্যা শুধু হাসছে আর মনে মনে গালি দিচ্ছে।

” অসভ্য দুর্লয়, আজ আপনি আমাকে কেমন প্রমোশন দিবেন তা ঠিকই বুঝতে পারছি। আজ একবার বেঁচে যাই, আপনার মরা পেত্নি গার্লেফ্রন্ডকে ধরে বেঁধে নিয়ে আসবো। তারপর বিয়ে করিয়ে দিব। হে আল্লাহ বাঁচাও আমাকে এ রা’ক্ষ’সে’র হাত থেকে।”

একটার পর একটা ফাইল দেখে যাচ্ছে নিলয়। কিছু ফাইলে লাল কালি দিয়ে গোল মার্ক করে রাখছে তো কিছু ফাইল দেখে প্রশান্তির হাসি হাসছে। শেষ ফাইল দুটোতে চোখ দিতে নিলয়ের চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যায়। সন্ধ্যা বুঝে গেছে এখন তার শাস্তি পেতে হবে। তাই পা টিপে টিপে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিল। কিন্তু তা আর হলো কই! নিলয়ের তীর্যক দৃষ্টি পড়ে সন্ধ্যাবতীর উপর। কর্কশ আওয়াজ ভেসে আসে তখনই। টেবিলে হাত দ্বারা আঘাত করে সন্ধ্যাবতীর উদ্দেশ্য বলে,

” কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকুন, মিস ইরাবতী। যতক্ষণ না আমি বলব ততক্ষণ কান ছাড়তে পারবেন না।”

চলবে……….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ