#গল্প_সন্তান_সুখ
#পর্ব_২(সমাপ্ত)
#লেখিকা_Keya_Mukherjee
গতকাল রাত থেকে খুব শরীর খারাপ।শাহানা বিছানা থেকেই উঠতে পারছে না । বমি করে করে অবস্থা শেষ ।
পেটে কিছু পরেও নি । জল ছাড়া ।।
মলয় বউ এর এমন শরীর দেখে সকালে জিজ্ঞেস করে ,,
কিরে তোর আবার কি হল ?
একটা টেস্ট কিট এনে দিন ওষুধ এর দোকান থেকে ।
মলয় চক চক চোখ করে চায় শাহানার পানে ।
কি বলিস আইসে নাকি আমার বংশের প্রদীপ ?
জানি না টেস্ট করে দেখা লাগবে । তবে মনে হয় বাচ্চা আসছে পেটে । যাও আগে নিয়ে আসো ।
মলয় তাড়াতাড়ি যায় । ওষুধ এর দোকান থেকে টেস্ট কিট নিয়ে আসে ।
টেস্ট করে দেখে পর পর দুটো দাগ । শাহানা সন্তান সম্ভবা। মলয় এর যে কি আনন্দ,, আনন্দ আর ধরে না । শাহানার শাশুড়ি সহ বাড়ির প্রতিটা মানুষ ই খুব খুব খুশি ।
রানী আর রূপা ও নতুন ভাই বা বনু আসবে সেই কারণে ওরাও খুব খুশি ।
_______
দেখতে দেখতে দিন যায় , যত দিন বাড়ে ততই যেন সমস্যা শুরু হয় । তবুও এই শরীর নিয়ে সংসারের সব কাজ করে চলে ।
ছোটো রূপা ও বোঝে মায়ের এই কষ্ট । রানী ও মায়ের পা টিপে দেওয়া । চুলে তেল দিয়ে দেওয়া থেকে সব করে দেয় । মেয়ে দের যে মাকে হারানোর ভয় চেপে বসেছে মনে ।
মলয় আজ সময় করে রুটিন চেকাপ এ নিয়ে যায় শাহানা কে । শাহানা র USG রিপোর্ট দেখাতে আর চেকাপ করতে ।
ডাক্তার হতাশ । USG ভালো না । বাচ্চা মা দুজনেই রিস্ক এ আছে ।
ডাক্তার বলেন ,, পেশেন্ট এর যা অবস্থা ওনাকে আপনি বাইরে নিয়ে যান। এখানে ট্রিটমেন্ট সম্ভব না ।
সেই শুনে মলয় ভয় পেলেও ভয় পায় নি শাহানা ।
যেন ও আগে থেকেই জানতো এমন কিছু।
ডাক্তার আরো বলেন ,, ওনার প্রথম দুটো বেবি নরমাল ডেলিভারি হলেও এই বেবি টা নেওয়া উচিত হয় নি।
দ্বীতিয় বাচ্চা হওয়ার সময় আগের ডাক্তার কিছু বলেন নি ?
মলয় ঘাড় নেড়ে হ্যা বলে । হম বলেছিলেন যেন আর কোন বেবি না নেওয়া হয় ।
তবে তখন ই যখন ওয়ার্ন করা হয়েছিল তবে কেন নিলেন । জেনে বুঝে । উনি খুব দূর্বল , তার মধ্যে প্রেসার হাই । ইউট্রাস এ ও সমস্যা সব মিলিয়ে মোটেও ভালো কথা না । দেখুন ভালো বড় জায়গায় যোগাযোগ করুন ।
মলয় বউ কে নিয়ে চলে আসে সেদিন । খোঁজ নেয় ভেলোর এর। সেখানে নিয়ে যাবে ঠিক করে ।
কিন্তু শাহানা যেতে রাজি হয় না । একটাই কথা যা হবে এখানে থেকেই হবে । মনে মনে ভয় ও হয় যদি বাইরে নিয়ে গিয়েও মেয়ের জন্ম দেয় । তখন তো কথার জালে পিষে মা’রবে সব । তাই সিদ্ধান্ত নেয় কোথাও যাবে না ।
মলয় বুঝিয়েও পারে নি । শাহানা মনে মনে হয় তো নিজের চলে যাওয়া র ইঙ্গিত পেয়েই গিয়েছিল । তাই আর নিজের মেয়ে দের থেকে দূরে যেতে রাজি হয় নি ।
দেখতে দেখতে সমস্যা আরো বাড়লো । শ্বাস কষ্ট বাড়লো, খাওয়া দাওয়া কমে এলো । হঠাৎ করে এক রাতে যত্রনা তীব্র হল ।
শাহানা কে বড় নাম করা নার্সিং হোম এ ভর্তি করা হল ।
নরমাল ডেলিভারি র প্রোসেস শুরু হল । ঘণ্টা দুয়েক পর ভিতর থেকে নার্স সাদা তোয়ালে পেঁচানো বেবি নিয়ে এলো । মলয় হাত পেতে নিতেই । নার্স বলে ,, মেয়ে বেবি হয়েছে ।
মলয় এর হাত টলমল করে ওঠে । মলয় এর মা সহ বাড়ির মানুষ গুলো রাগে মুখ ঘুরিয়ে নেয় ।
রানী ছুটে গিয়ে নার্স কে কেঁদে কেঁদে জিজ্ঞেস করে আমার মা আমার মা কেমন আছে ?
ভিতর থেকে ডাক্তার সহ নার্স বেরিয়ে আসেন ।
সরি পেশেন্ট কে বাঁচানো গেলো না । বাচ্চা বার হতেই উনি হার্ট এটাক করেছেন ।
কার কি গেলো জানা নেই তবে সেদিন নব্য জন্ম নেওয়া বাচ্চা সহ আরো দুটি সন্তান নিজের মা কে চিরতরে হারালো ।।
ব’ডি দেওয়া হল কিছু সময় পর । সব নিয়ম মেনে শেষ বিদায় দেওয়া হল শাহানা কে ।
বেঁচে থাকতে মূল্য না দেওয়া মানুষ গুলো যেন শাহানার মৃ’ত্যু তে বাচ্চা গুলো দেখে দেখে আহাজারি করতে লাগলো ।
বাড়ি শুদ্ধ মানুষ অথচ বাচ্চার কান্না কমে না । নবজাত শিশু কে গোলা দুধ খাইয়ে শান্ত করে সব । রানী ,রূপা যে বাবা কে দেখলেই চিৎকার করে বলছে মা এনে দাও।
শাহানার দাদা ও ভাই খবর পেয়ে ছুটে আসে । সৌরভ দিদির কবর এ র পাশে বসে সেকি কান্না ।। রানী ও রূপা ছুটে আসে প্রায় প্রায় মায়ের কবর এর কাছে ।
মা মা বলে চিৎকার করে ।
দিন গেলো , মাস গেলো , গেলো গোটা একটা বছর তবুও বাচ্চা গুলো আজও মায়ের কবর এর কাছে এসে বসে। কত কত গল্প জুড়ে দেয় তাদের ছোট্ট বোনটিকে সাথে করে নিয়ে আসে মেয়েগুলো যেন হুট করেই বড় হয়ে গেল।। শাহানার এত কষ্টের ফল। মেয়েটা আর সন্তানের সুখ পেলো না । চলে গেলো দূর দেশে তারপর কি হলো ?
কি বা হবে স্বামী নিশ্চয়ই বিয়ে করে সুন্দর সংসার গড়ে তুলেছে। আসলেই বউ ম’রলে বউ পাওয়া যায় কিন্তু মা ম’রলে মা পাওয়া যায় না। আসলেই পাওয়া যায় না।
সমাপ্ত ,,
