Friday, June 5, 2026







লাভ ফাইট পর্ব-২+৩

#লাভ_ফাইট
#লুৎফুন্নাহার_আজমীন(#কন্ঠ)
#পার্ট২_৩
(অনুমতি ব্যতীত কপি নিষেধ)

” তোমার বিয়েতে কোনো আপত্তি আছে?”

প্রশ্ন ছুঁড়ে মারে আব্বু ফালাককে।ফালাক মাথা তুলে শীতল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়।মুচকী হেসে বলে,,,

” ওপরওয়ালা জোড়া বেঁধে রাখলে আজ হোক বা কাল হোক,দোয়েলের সাথেই বিয়ে হতো আমার।আর ওপরওয়ালাই উত্তম পরিকল্পনাকারী।উনি যা ভালো বুঝেন তাই করেন।”

ফালাকের কথা শুনে আমি ওর দিকে তাকিয়ে বিজয়ের হাসি দিই।ভাবনাচ্ছেদ ঘটে মানিক আংকেলের কথায়।লোকটা বড্ড খোঁচা মেরে কথা বলে।

” মেয়ে ন*ষ্টামি করতে গিয়ে ধরা পরেছে!কোথায় মেয়েকে শাসন করবে তা না।নাটক শুরু করেছে এরা! গণি ভাই,চলেন।এখানে থেকে সময় নষ্ট করার মানে হয় না।তাদের মেয়েকে তারাই বুঝে নিক।”

যা না যা। কে তোদের বেঁধে রেখেছে।অ*সভ্য লোক।নিজের ছেলের বাদ্রামি চোখে পরে না আসছে অন্যের মেয়ের দোষ ধরতে।আব্বু বরাবরই শান্ত স্বভাবের লোক।মানিক আংকেলের কথায় কোনো কর্ণপাত করেন না আব্বু।বেশ শান্ত গলায়ই আব্বু ইমাম সাহেবকে বলেন,,,

” ছেলে মেয়ের কোনো আপত্তি নেই।আপনি যে কাজটা করতে এসেছেন সেই কাজটা করতে পারেন।”

ফজরের আজানের আগ দিয়ে আমাদের বিয়ে পড়ানো হয়।তিনবার কবুল বলে আমরা একেঅপরকে গ্রহণ করি।ইমাম সাহেব আমাদের বিয়ে পড়িয়ে মসজিদের দিকে রওনা দেন।আর বাকীরা যে যার বাসার দিকে।আব্বু ওযু করতে যায়।আর আম্মু আমার পাশে ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন।পায়েল কিছুক্ষণ পর পর আমার আর ফালাকের দিকে তাকিয়ে মুচকী মুচকী হাসছে।আব্বু ওযু করে মসজিদে চলে যান।আম্মু আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে সেও আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে যান।পায়েল তখনও আমাদের সাথে বসে আছে।চোখ মেরে বলে,,,

” আপ্পি জিতে গেলি তো!”

” খুব বেশি পাকনামো বেড়েছে না তোমার?মারবো এক চড়।”

” দে না দে!আমিও আব্বুকে বলে দিবো তুই প্রেম করিস।”

পায়েলের কথা শুনে আমি আর ফালাক ফিক করে হেসে উঠি।পায়েল যখন আমার আর ফালাকের রিলেশনের কথা জানতে পারে তখন প্রায়ই আমায় এরকম ব্ল্যাকমেইল করে আমার থেকে টাকা আর এটা ওটা নিতো।আমার কাছে পায়েল বদের হাড্ডি হলেও ফালাকের কাছে সে ছিলো নিতান্তই শিশু।এক প্রকার গোয়েন্দা বলা যেতে পারে।ট্যাবে মেসেঞ্জার একাউন্ট খুলেছিলো ও।প্রায়ই ফালাককে আমার গতিবিধি সম্পর্কে খবরাখবর দিতো।এই কারণে সে ফালাকের চোখের মণি ছিলো।যদিও আমি আব্বুকে অতটা ভয় পাই না।কিন্তু আব্বু কষ্ট পাবে ভেবে বিষয়টা গোপন রাখতে চেয়েছিলাম সাময়িক সময়ের জন্য।
ফালাক আর আমার রিলেশন হয় চার বছর আগে।আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। ক্লাস নাইনে উঠলে নাকি সবার ডানা গজায়।আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।থ্রীতে পড়া ছোট বোনের প্রাইভেট টিচারকে দেখে আমার মন উড়ু উড়ু করতে লাগে।প্রায়ই এটা ওটার বাহানা দিয়ে দেখতে যেতাম ফালাক ভাইয়াকে।ভাইয়া!তাকে আমি ফালাক ভাইয়া বলেই ডাকতাম।ইভেন এখনো ডাকি।শুধু রাগ উঠলে নাম ধরে ডাকি।প্রপোজটা অবশ্য আমিই করি আগে!বেতনের খামের ভেতর একটা কাগজে I love you লিখে দিয়েছিলাম। বেতনের খামটা খুলে তিনি টাকার সাথে কাগজটা দেখতে পান।কাগজটা খুলে পড়তেই তিনি চিৎকার দিয়ে
বলে ওঠেন,,,

” আস্তাগফিরুল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ।আপু এইগ্লা কি?”

আমি ভ্রু কুঁচকে বলি,,,

” কি হয়েছে ভাইয়া?”

” আন্টি কই?আন্টিরে ডাকেন।”

” আম্মু তো আপুনির সাথে শপিংয়ে গেছে।যাওয়ার আগে আপনার স্যালারির খামটা আপু আমার হাতে দিয়ে বললো আম্মু এটা আপনাকে দিতে বলেছে।”

ফালাক ভাইয়া গলা ঝেড়ে কেশে বলেন,,,,

” আপু একটু পানি হবে?”

” Why not?sure vaia.”

আমি রান্নাঘরে গিয়ে ট্রে বের করে সেখানে শরবত বানিয়ে আর ফ্রিজ থেকে পুডিং বের করে উনার জন্য নিয়ে যাই।ভেবেছিলাম বুঝতে পারবেন উনি।তাই মিষ্টিমুখ করানোর জন্য পুডিং বানিয়েছিলাম।শুধু তার জন্য।কিন্তু তা আর হলো কই?তাই বলে কি যার জন্য স্পেশালি পুডিংটা বানিয়েছি তাকে খাওয়াবো না?আমি ট্রেতে খাবার নিয়ে তার সামনে দিয়ে বলি,,,

” আজকে ফার্স্ট টাইম পুডিং বানিয়েছিলাম।দেখেন তো কেমন হয়েছে খেতে।”

উনি আমার দিকে কিছুক্ষণ সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।আমি চাপা হাসি দিয়ে বলি,,,

” কি হলো ভাইয়া খান?খেয়ে বলেন কেমন হয়েছে!”

উনি কিছুডা পুডিং খেয়ে বলেন,,,

” জ্বী আপু অসাধারণ হয়েছে।”

আমি বোকা হাসি হেসে লাফাতে লাফাতে নিজের ঘরে চলে যাই।ঘরে গিয়ে লজ্জা মুখ খানা হাত দিয়ে আড়াল করে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়ি।গুণগুণ করে পরিনীতা মুভির “তোমাকে” গানটা গাইতে লাগি আর ঘরে একা একাই নাচতে লাগি।আয়হায়,ফালাক ভাইয়া আমার রান্নাকে অসাধারণ বলেছে!এমন সময় পায়েল আমার ঘরে আসে।

” আপ্পি?”

পায়েলের হঠাৎ ডাকে আমি ভড়কে যাই।তোতলাতে তোতলাতে বলি,,,

” কি..কি..কি হয়েছে?”

” তুই স্যাররে কিছু বলেছিস নাকি?আজ বেশিই তাড়াতাড়ি চলে গেলো।”

” আ..আ..আমি তোর স্যাররে কি বলবো।”

” না এমনি মনে হলো।তুই আসার পর স্যারের ব্যবহার অন্যরকম লাগলো তো!তাই জিজ্ঞেস করলাম।”

আমি পায়েলের কথা শুনে শুকনো ঢোক গিলি।

___________

মেসে ফিরেই ফালাক হাত মুখ ধুয়ে নেয়। অর্ক একটু অবাকই হয়ে যায়!

” কি রে?আজ এত তাড়াতাড়ি ফিরলি!”

” আর বলিস না।ছাত্রীর মেঝোবোন বেতনের খামে টাকা সাথে কাগজে আই লাভ ইউ লিখে দিয়েছে।আবার পুডিং,শরবত খাওয়ালো।”

” ভালো কথা তো!পুডিং শরবত খাওয়ালো ভালো কথা।”

ফালাক টাওয়েল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলে,,,

” কিভাবে ভালো কথা?”

” মেসে তো খালার হাতের সেই একই ভাত তরকারি খাওয়া লাগে।সে হিসাবে ছাত্রীর বাসায় গিয়ে যদি ভালো মন্দ খেতে পাস তো ভালো কথা হবে না?আমার কপাল দেখ!ছাত্রীর মা আমায় লবণ দিয়ে শশা মেখে সাথে চা খেতে দেয়।”

” না,আন্টি-আংকেল,ছাত্রীর বড় বোন ভালোই আছেন।যথেষ্ট স্নেহ করেন আমায়।কিন্তু মেঝোটাই একটু ইঁচড়েপাকা টাইপের আছে।সবে মাত্র ক্লাস নাইনে উঠেছি।উড়ু উড়ু করছে।আর চাপে থাকতে হয় আমায়।ভাবছি টিউশটা রাখবো না।ওভাবে টেনশনে পড়ানো যায় না।”

” হুদাই টেনশন!আমি থাকলে পটে যেতাম।”

” এখানে পটাপটির কথা আসছে না!আবেগে কি না কি করে দেয় মেয়েটা!আর প্যারা না আমাকে পেতে হয়।”

” তুই শুধু শুধু বেশি ভাবিস।”

” হু ভাবি,কারণ মনিষীরা বলেছে ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।”

______

রাতে খেয়ে ফালাক ফেসবুকে ঢুকতেই ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্টের নোটিফিকেশনে ফোনটা মৃদু কেঁপে ওঠে।আইডিটার নাম মেহজাবিন দোয়েল।ফালাক যতদুর জানে পায়েলের মেঝোবোনের নাম মেহজাবিন দোয়েল।এটা দোয়েলের আইডি না তো?ফালাক লাফ দিয়ে চিৎকার করে ওঠে,,,

” ওরে শা*লা”

পাশের রুমে গার্লফ্রেন্ডের সাথে প্রেমালাপে মগ্ন ছিলো অর্ক।ফালাকের চিৎকার শুনে সে দৌড়ে আসে।

” আরেহ কি হয়েছে?”

” ভাই,ওই মেয়েটা ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিছে।বলছিলাম না?সুবিধার লাগে না আমায় এরে!”

“দিছে দিছে!ফলোয়ার বানায় ঝুলায় রাখ।চিৎকার চেঁচামেচির কি আছে।আমি ভাবছি না জানি কি হইছে!সারাদিন শেষে একটু কথা বলতেছিলাম তোর ভাবির সাথে!”

” আসতে বলছে কে তোকে?”

” ভাবছিলাম তোরে বোবায় ধরছে তাই…।উপকারের দাম নাই দুনিয়ায়!”

কথাটা বলে অর্ক ভেংচি কেটে চলে গেলো।ফালাক দোয়েলের আইডিতে ঢুকে পোস্ট গুলো দেখতে লাগলো।যদিও আইডি নতুন হওয়ায় বেশি পোস্ট নেই।তারপরেও রাতের নিদ্রাহীন অলস সময়ে এই পোস্টগুলোই ভালো লাগতে শুরু করলো ফালাকের।

চলবে,,,ইনশাআল্লাহ

#লাভ_ফাইট
#লুৎফুন্নাহার_আজমীন(#কন্ঠ)
#পার্ট৩
(অনুমতি ব্যতীত কপি নিষেধ)

” ভাইয়া আপনি আমার ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট একসেপ্ট করেন নি কেন?”

পায়েলকে পড়িয়ে বের হচ্ছিলো ফালাক।পেছন থেকে আচমকা দোয়েলের ডাক শুনে থতমত খেয়ে যায় ফালাক।দোয়েল ফালাকের সামনে আসে।

” দেখেন আপু আপনি যদি এমন করেন আমি কিন্তু আন্টিকে সব বলে দেবো।”

” দিন।আমার কোনো প্রবলেম নাই।”

দোয়েলের কথা শুনে ফালাক বেকুবের মতো দোয়েলের দিকে তাকিয়ে থাকে।দোয়েল দুষ্টু হাসি দিয়ে চোখ মারে।ফালাক লাফিয়ে বলে উঠে,,,

” নাউজুবিল্লাহ।এগুলা কি শুরু করছেন আপু?”

” কি শুরু করলাম?”

” দেখেন আপু!আপনি যদি এমন শুরু করেন আমি কিন্তু পায়েলকে পড়ানোই বাদ দেবো।”

” আপনি রিকুয়েষ্টটা একসেপ্ট করুন না!আমি আর এরকম করবো না।”

” মেসে গিয়ে করবো নি।”

” নাহ,এখনি এখানে কর‍তে হবে।”

” ফোনে নেট নাই।”

” সমস্যা নাই।আমি ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড দিচ্ছি।”

ফালাক কোনো কথা বলে না।কিছুক্ষণ পর পর শুকনো ঢোক গিলে।

” কি হলো ভাইয়া ফোনটা দিন!”

ফালাক এইবারও চুপ থাকে।দোয়েল ভ্রু কুঁচকে তাকায়।ফালাক আমতা আমতা করে বলে,,,

” আসলে হয়েছে কি আপু!আমি না মেয়েদের এড দিই না।”

” আমি মেয়ে না।আমি পরী।এড দিতে পারেন।আর কথায়।কথায় আপু বলবেন না।আমি আপনার থেকে ছোট।দোয়েল বলে ডাকবেন আমায়।এখন ফোনটা দিন।”

ফালাক অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে দেয়।দোয়েল পাসওয়ার্ড সেভ করে দিয়ে আইডিতে ঢুকে নিজের আইডিকে ফালাকের লিস্টে এড করে নেয়।ফোনটা ফালাকের হাতে দিয়ে বলে,,,

” ব্লক দেওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাববেন না।”

_______

“আপ্পি উঠ।এই আপ্পি।”

পায়েলের ডাকে ঘুম ঘুম চোখে চোখ মেলি।মোচড় দিয়ে লম্বা একটা হাই তুলে পায়েলকে বলি,,

” কি হয়েছে?”

” তুই ফালাক ভাইয়াকে বের করে দিয়েছিস তাই আব্বু রাগারাগি করছে।”

পায়েলের কথা শুনে মুহুর্তেই আমি আকাশ থেকে পড়ি।ভোর রাতের দিকে ফালাকের সাথে সেই আমার রাগারাগি ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলি।তারপর ও আর দেরি করে না।বেরিয়ে যায়।ও বেরিয়ে যাওয়ার পর ঘরে এসে সেই রাগে কান্নাকাটি করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়ালই নেই।
বালিশের পাশ থেকে ফোন বের করে দেখি মোবাইলের স্ক্রিনে সাড়ে তিনটা বাজে।দুপুর সাড়ে তিনটা। এতক্ষণ ঘুমালাম?তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হতে যাই।ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িংরুমে যেতেই আম্মুর বকা শুনতে হয়,,,

” উঠেছে জমিদারের বাচ্চা।কয়টা বাজে খেয়াল আছে?রাত ভোর কিচ্ছা কাহিনি করে এতক্ষণে উঠলেন তিনি।”

আম্মুর কথার কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে আমি আমি বাটিতে দুধ আর কনফ্লেক্স নিয়ে খেতে লাগি।শুরু হয় আম্মুর আরেক দফা ভাষণ,,,

” তুই দুধ কনফ্লেক্স খাবি আগে বলতি।আমি কি ভাত রান্না করতাম তোর জন্য।শুধু শুধু ভাত গুলো নষ্ট হলো।”

আম্মুর এই ভাতের কথা শুনতে শুনতে আমি বিরক্ত হয়ে গেছি।মাঝে মাঝে তো আমার এইও মনে হয় আমি ম*রলে তখনও আমার আম্মু বলবে মা*রা যাবি আগে বলতি,শুধু শুধু ভাতগুলো নষ্ট হলো।

এরই মধ্যে আব্বু ঘর থেকে বের হয়।চোখে মুখে রাগ ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।আমার দিকে কিছুক্ষণ আড়চোখে তাকিয়ে আব্বু সোফায় গিয়ে বসে।আমি আস্তে ধীরে খেতে লাগি।কারণ আমি জানি আব্বু আমায় খাওয়ার সময় কোনো বকাঝকা করবে না।উলটা রাগ করে যদি খাওয়া দাওয়া বাদ দিই! ধীরে ধীরে খেতে খেতে দুই বাটি দুধ কনফ্লেক্স শেষ করি আমি।আরেক বাটি খেতে যাবো কিন্তু পেটে কুলাচ্ছে না।চুপচাপ মাথা নিচু করে ঘরে আসতে যাবো ঠিক তখনই আব্বু পেছন থেকে ডাক দেয়,,,

” দোয়েল!”

” জ্বী আব্বু।”

” বসো তোমার সাথে কথা আছে।”

আমি শুকনো ঢোক গিলে বসি।আব্বু বলা শুরু করে,,,

” মসজিদ থেকে এসে ফালাককে না দেখে ভেবেছিলাম নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পরেছে।সকালে ডাকাডাকির পরও ফালাককে পাই না।তখন পায়েল বলে তুমি নাকি ওকে বের করে দিয়েছো।”

” জ্বী আব্বু।পায়েল ভুল কিছু বলেনি।”

” দেখো দোয়েল তুমি এখনো বাচ্চা নও।”

” জানি।”

” জানোই যখন এখন এত নাটক করার কি দরকার?ফালাককে ফোন দাও।আর ফোন দিয়ে ওকে বাসায় আসতে বলো।কথা আছে।কথাগুলো তোমায় খাওয়ার সময় বললাম না।কিছু বললেই তো রাগ করে খাওয়া বাদ দাও।”

আমি চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে ছিলাম।এমন সময় পাশ থেকে আম্মু বলে,,,

” কোয়েলের আব্বু,তুমি এখনই দোয়েলকে ফোন দিতে বলো।না হলে ও জীবনে ফালাককে ফোন দেবে না।বাপের মতোই হয়েছে।রাগ পুষে রাখে।”

আম্মুর কথা শুনে আমি পায়েল মুখ টিপে হেসে দিই।আব্বু আম্মুর দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকায়।তারপর আমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলেন,,

” এখনই ফালাককে ফোন দাও।”

আমি চাপা হাসি নিয়ে ফালাককে ফোন দিই।কিন্তু ও ফোন রিসিভ করে না।আমি আব্বুর দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকাই।আব্বু বলে,,,

” দিতে থাকো।একবার না একবার ধরবেই।”

কল দেওয়াটা বড্ড আমার ইগোতে লাগছে।আমি সচারাচর কাওকে নিজে থেকে ফোন দিই না।সে আমার যতই দরকার থাকুক।নিজে থেকে ফোন দিলে আমার সেল্ফ রেস্পেক্টে লাগে যা অন্যদের কাছে ইগো নামে পরিচিত। পঞ্চমবার কল দেওয়ার পর ও কল রিসিভ করে।কন্ঠে তীব্র অভিমান নিয়ে ও সালামের জবাব দেয়।

” ফোন দিয়েছিস কেন?”

” ইচ্ছা হলো তাই।”

আমার কথা শুনে পাশ থেকে আম্মু বলে,,,

” এই মেয়ের ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলার স্বভাব গেলো না।”

ফালাক বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকে।তারপর শান্ত গলায় বলে,,,,

” ভালো।”

কথাটা বলেই সে ফোন রাখতে যাচ্ছিলো।ফোনের এ পাশ থেকে আমি বলি,,,

” আরে আরে আরেহ,ফোন রাখছিস কেন?”

” ইচ্ছা হলো তাই।”

” আমার ডায়লগ আমায়ই শোনাস?”

” এই মেয়ে আবার ঝামেলা পাকাবে। ”

কথাটা বলেই আম্মু আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নেয়।

” হ্যালো ফালাক!আমি দোয়েলের আম্মু বলছি।ওর কথায় কিছু মনে করো না।”

” আসসালামু আলাইকুম আন্টি।আর আমি ওর কথায় কখনো কিছু মনে করিনি।পাগলে কি না বলে ছাগলে কি না খায়।”

আম্মু হেসে দেয়,তারপর হাসতে হাসতে বলে,,

” ওয়ালাইকুম আস সালাম।দোয়েলের আব্বুর সাথে কথা বলো।সে কিছু বলতে চায় তোমাকে।”

কথাটা বলে আম্মু আব্বুর হাতে ফোন দেয়।আব্বু সালামের উত্তর দিয়ে মুল আলোচনায় আসে।

” দেখো ফালাক,কাল রাতে তো একটা বিরাট বড় এক্সিডেন্ট হয়ে গেলো!তোমায় চিনি জানি বলেই দোয়েলকে তোমার হাতে তুলে দিয়েছি।”

” জ্বী আংকেল বুঝতে পেরেছি।”

” এছাড়াও,তোমার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে।যদি কষ্ট করে আজ আসতে!আর দুপুরে আমাদের সাথে খেতে!”

” আংকেল আমি চেষ্টা করবো আপনার অনুরোধ রাখার।এখন রাখছি।টিউশনে আছি তো!আল্লাহ হাফেজ। ”

” আল্লাহ হাফেজ। ”

বাবা ফোন কেটে আমার হাতে দেয়।আমি আর কোনো কথা না বলেই সোজা আমার ঘরে চলে যাই।হঠাৎ টেবিলের পাশে থাকা ব্যাগটা চোখে পরে আমার।ফালাক কালকে এই ব্যাগ দিতেই রাত দুপুরে এসেছিলো আর…..।লাজুক হাসি আমি।কৌতুহল জাগে ব্যাগটার প্রতি।গিয়েই খুলেই ফেলি।ব্যাগটার ভেতরে থাকা জিনিসগুলোর প্রতি আমার এক আকাশ পরিমাণ আবেগ রয়েছে।হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে ফালাকের জন্য গিফটগুলো কিনতাম।অজান্তেই হেসে ফেলি।কি পাগলামি গুলোই না করতাম।হাতে বানানো রঙিন কাগজের একটা কার্ড দেখতে পাই।আমিই বানিয়েছিলাম।কার্ডটা খুলে লেখাগুলো পড়তে লাগি।লেখা গুলো পড়ে মনে হচ্ছে লজ্জায় মাটি দু ভাগ করে তার ভেতর ঢুকে যাই।লজ্জায় দু হাত দিয়ে মুখ আড়াল করি আমি।

চলবে,,,ইনশাআল্লাহ

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ