Saturday, June 6, 2026







মরিচীকা পর্ব-১১+১২

#মরিচীকা
#পর্ব ১১
#মাকামে_মারিয়া

একদিন দুদিন তিন দিন করে এক সপ্তাহ হয়ে গেলো নিহাল চট্টগ্রাম গিয়েছে। নাজেরা ফোনের এপাশ থেকে সারাক্ষণ অপেক্ষা করে থাকে একটা টেক্সট কলের জন্য। সে অবসর হয়ে সাথে সাথেই নাজেরাকে টেক্সট দেয়। রাতে কল করে। দুজনের প্রেম দিব্যি চলছে।

ইদানীং তাযিনের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ছয়দিনের দিন নাজেরা তাযিনকে টেক্সট করে জিজ্ঞেস করলো, কিরে জিলাপি? একটু খোঁজও নিস নাই আমার। মরেছিস? নাকি বেঁচে আছিস?

তাযিন তখন অন্ধকার রুমে মাথায় বালিশ চাপা দিয়ে শুয়ে আছে। ফোনটা ঠিক ডান হাতের নিচে। এই ছয়দিনে নাজেরাকে অনেক মিস করেছে,অভিমানে টেক্সট দেয়নি, ছাঁদে যাবে না বলেও ঠিক করেছিলো কিন্তু না গিয়ে পারেনি লুকিয়ে ছিল গিয়ে যেনো নাজেরা ওরে না দেখে। সে যেনো নাজেরাকে দেখতে পারে।কিন্তু দুঃখজনক এটাই যে নাজেরা নিজেই ছাঁদে আসেনি। তাযিন বুঝে গেলো সে ব্যস্ত। বন্ধুত্ব তখনই নষ্ট হতে শুরু করে যখন কেউ একজন প্রেমে পড়ে যায়। এই কথাটা তাযিন কোথাও শুনেছিলো কিন্তু বিশ্বাস করেনি তবে ভয় পাচ্ছিলো এমনটা যেনো না হয়। আর একারণে নাজেরাকে বেশ সাবধানে দেখেশুনে রাখতো, এতোটাই দেখেশুনে রাখতো যে মেয়ে বন্ধু করতেও দিতো না। অথচ সেই নাজেরা আজ মনের মানুষ পেয়ে গেলো, ছয়দিনে একটা বারের জন্যও তাযিনকে মনে করেনি। তাযিনের রাগ হচ্ছে না মেয়েটার প্রতি কিন্তু খুব করে অভিমান হচ্ছে। এতোটাই অভিমান হচ্ছে যে ফোনটা হাতে নিয়ে বার বার চ্যাট বক্স থেকে টেক্সট দিতে গিয়েও ফিরে আসছে।

ছয়দিনের দিন সন্ধ্যায় নাজেরার টেক্সট পেয়ে তাযিনের অভিমান যেনো আরও বাড়লো। কিন্তু ইগনোর করতে পারলো না। কেমন যেনো কান্না পাচ্ছে। ইদানীং এতো কান্না পাচ্ছে। ঘোলাটে চোখে রিপ্লাই করলো, তোর খোঁজ নেওয়ার মানুষ হয়েছে তাই খোঁজ নিচ্ছি না।

সাথে সাথে সিন হলো আর রিপ্লাইও আসলো, খোঁজ নেওয়ার মানুষ হলেই বুঝি তোর খোঁজ নেওয়া বারণ?

আমার কাছের মানুষ অন্য কারো ঘনিষ্ঠ হলে
আমি আমার ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে দেই। এতোটুকু লিখেই তাযিন কেটে ফেললো, ভেতরে কেউ যেনো বলছে অসম্ভব নাজেরার সাথে ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে দেওয়া সম্ভবই না। এটা তো অভিমানী মনের কথা। ওসব শুনিস না তো।

সব কিছু বাদ রেখে তাযিন লিখলো,কেমন আছিস?

নাজেরা বললো, এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?

তাযিনের ইচ্ছে করলো লিখতে, আমি ভালো নেই নাজেরা। তোকে অন্য কারো সঙ্গে দেখে আমি কি করে ভালো থাকতে পারি? আমি মরে যাচ্ছি, আমায় বাঁচাবি না?

কিন্তু বলতে পারলো না। আমরা সবাই এই একটা জায়গায় এসে থেমে যাই। কাউকে বলতে পারি না আমি ভালো নেই। আমায় একটু ভালো রাখবে? বলতে পারি না তোমার সঙ্গ আমার খুব প্রয়োজন আমায় একটু সঙ্গ দিবে? কিংবা এটাও বলতে পারি না একটু কল দিবে? একটু কথা বললেই মনে হচ্ছে বেঁচে যাবো।

আমরা এসব কিছুই বলতে পারি না। আমরা হৃদয়ে সব কিছু লুকিয়ে শুধু বলতে পারি, হ্যাঁ ভালো আছি। অথচ আমরা কেউই ভালো নেই।

____________

ফয়জুল হাকিম নিহালকে কল করে বললেন, দ্রুত বাড়ি ফিরো।

নিহাল জিজ্ঞেস করলো, হঠাৎ? কাজ শেষ না করে কি ভাবে ফিরবো?

ফয়জুল ধমকে উঠে বললো, কাজ করার জন্য আরও লোক আছে। তোমাকে আসতে বলেছি চলে আসো।

কিন্তু হঠাৎ জরুরি ভিত্তিতে ডাকছেন যে? কিছু হয়েছে নাকি?

ফয়জুল হাকিম গম্ভীর স্বরে বললো, তোমার অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে জাহেরা খারাপ ছেলেদের সাথে মিশছে। শুনলাম কার সাথে যেনো সম্পর্ক করছে।

নিহাল ব্রু কুঁচকে বললো, তাতে আমার কি করার আছে? আমি কি আপনার মেয়ের বডিগার্ড?

হ্যাঁ একশো বার বডিগার্ড। তুমি এসে ওরে চোখে চোখে রাখবে।

নিহাল একটু রুড হয়ে বললো, আপনার মেয়েকে শাসন করার পূর্ণাঙ্গ অধিকার দিলে তবেই আমি রাজি।

ফয়জুল অধিকার আরোপ করলেন। নিহাল খুশী হলো যত দ্রুত সম্ভব বাড়িতে চলে আসলো। এসেই জাহেরাকে সামনে পেলো। সামনে পেয়েই ঠাটিয়ে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো মেয়েটার গালে।

জাহেরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো নিহালের দিকে। নিহালের ঠোঁটের কোণে বিশ্ব জয়ের হাসি। জাহেরার ফর্সা মুখটা লাল টকটকে হয়ে গেলো। নিহাল একটু কাছে এসে ফিসফিস করে বললো,

ন্যাকাবতী! আরও বেশি করে পাড়ার ছেলেদের সাথে ফস্টিনস্টি করে বেড়া। শুনলাম কার সাথে নাকি প্রেমও শুরু করছিস? যাক ভালো! আমার সাথে অভদ্রতা করার সব শোধবোধ নিবো প্রতিবেলা তোকে থাপ্পড় মেরে মেরে। গুড বায়।

নিহাল হনহনিয়ে রুমে চলে গেলো। জাহেরাকে থাপ্পড় মারতে পেরে ভীষণ আনন্দ লাগছে। এই মেয়ে অতিরিক্ত ন্যাকা নিহালকে একটু বেশি জ্বালিয়েছে। অকারণ অভিযোগ করে করে ফয়জুল হাকিমের থেকে কথা শুনাতো, আর উনিও হয়েছেন এমন মেয়ে মুখ খুলে যা-ই বলতো সব বিশ্বাস করে নিয়ে নিহালকে ধমকাতো। নিহাল মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করে উঠলেও চুপই থাকতো প্রায়। আজ মনে হচ্ছে সময় এসে গিয়েছে ন্যাকা মেয়েটার থেকে শোধবোধ তুলার।

জাহেরা ফোনে কথা বলছিলো তখন। পাড়ার বখাটের প্রেমে মাতোয়ারা হয়েছে সে। ছেলেটার নাম কামরান হায়দার। পেশাগত ভাবে সে একজন রাজনৈতিকবিদ। পাড়ায় সারাক্ষণ দলের হয় স্লোগান দিতেই থাকে। ফোনকলে থাকতেই নিহাল থাপ্পড়টা মারে, কামরান ওপাশ থেকে বুঝার চেষ্টা করে কি হচ্ছে! কিন্তু জাহেরা চালাকি করে কলটা মিউট করে ফেলে। নিহাল চলে যেতেই জাহেরা ফোনটা কানে নিয়ে বলে, আমি পরে কথা বলছি কেমন?

কামরান হায়দার উত্তেজিত হয়ে বললো, কি সমস্যা জাইরা? কিচ্ছু হইছে?

ওপস! সেটআপ কামরান। আমার নাম জাহেরা, নট জাইরা। নামটাও ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারো না।

আইচ্চা একটা হইলেই হয়! জাইরা আজাইরা ওইসব একই।

হোয়াট কি বললে? আজাইরা? জাহেরা রেগে বোম হয়ে গেলো। এমনি নিহালের করা অপমান। আবার এখানে একটা আপদ জুটেছে।

কামরান বললো, আইচ্ছা রাইগা যাইয়ো না জাইরা। তুমি বরং পরেই কল দিয়ো।

জাহেরা ফট করে কলটা কেটে দিয়ে হনহনিয়ে ফয়জুল হাকিমের কাছে গেলো। ফয়জুল হাকিম বই পড়ছেন। মাঝে মাঝে বই পড়ার স্বভাব আছে তার। জাহেরা চিৎকার করে ডাকলো, আব্বু! আব্বু আছেন আপনি?

ফয়জুল হাকিম বইটা বন্ধ করে রাখলেন। কিছু একটা হয়েছে বুঝতে পেরে বললেন, চেঁচাচ্ছো যে? কি হয়েছে?

জাহেরা কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, আপনার ভাইয়ের ছেলে, ওই,ওই বজ্জাত ছোটলোক নিহাল আমায় মেরেছে। কতবড় সাহস ওই ছোটলোকটার।

ফয়জুল হাকিম খুবই অবাক হলেন। অবাক হওয়ার কারণ তার মেয়ে এমন অভদ্র আর খুব নিচু ভাষায় কথা বলছে। আরও অবাক হলেন এটা ভেবে যে নিহাল তার মেয়েকে মেরেছে। নিহাল মারবে এমনটা তো ভাবেনি সে। জাহেরাকে ধমক দিয়ে বললো, আমি আশ্চর্য হচ্ছি জাহেরা। এই শিক্ষা দিচ্ছি আমি তোমাকে? তুমি কাকে ছোটলোক বলছো? সে আমার আপন ভাইয়ের ছেলে। সম্মান দিতে শিখো।

কিন্তু আব্বু..

অনেক হয়েছে। রুমে যা-ও তুমি।

জাহেরাকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না। রুকাইয়া এসে বললো, মেয়েকে বকা দিলেন যে? এমন দৃশ্য তো এযাবৎ আর দেখিনি।

ফয়জুল হাকিম অত্যন্ত কড়া স্বরে বললো, আরও অনেক কিছুই দেখা বাকি! তোমার মেয়ের জন্য আরও কিছু দেখতে হবে। যা-ও নিহালকে ডেকে নিয়ে আসো।

রুকইয়া আরেকটু অবাক হয়ে বললো, নিহাল আসছে কখন?

এতো কথা না বলে ওরে গিয়ে জিজ্ঞেস করো কখন আসছে। মহিলা মানুষের এই এক সমস্যা। হরেক রকমের প্রশ্ন করতেই থাকে।

হু! এখন সব দোষ আমার হয়ে গেলো। বাপ মেয়ে কাহিনি করবে শেষে আমাকে কথা শুনতে হবে। কথাগুলো বিরবির করে রুকাইয়া উঠে গেলো।

নিহাল আপনি এতো দ্রুত চলে আসলেন যে? নাজেরার কন্ঠে আনন্দ।

জ্বি চলে আসলাম। খুশী হয়েছেন?

উমম খুশী হয়েছি কিন্তু আপনি তো আমার জন্য আসেন নাই নিশ্চয়ই।

নিহাল হাহা করে হেঁসে উঠলো। ওপাশে নাজেরা হাসির স্বরে মাতোয়ারা। কি সুন্দর শব্দ করে হাসে লোকটা। ভীষণ মিষ্টি তার হাসি।

এমন সময় রুকইয়া রুমে এসে নক করলো। নিহাল তোমার কাকা ডাকছে।

নিহাল বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে ছিল। রুকাইয়ার ডাকে বিছানা থেকে উঠে বসলো। নাজেরাকে বললো, ছোট আম্মু এসেছে। কাকা ডাকছে পরে কল দিচ্ছি।

নাজেরা আচ্ছা বলতে বলতেই কলটা কেটে গেলো। নিহাল চলে গেলো ফয়জুল হাকিমের কাছে।

ফয়জুল হাকিম জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? তুমি নাকি জাহেরাকে মেরেছো?

হ্যাঁ। মাত্র একটা থাপ্পড়।

ফয়জুল হাকিম ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো নিহালের দিকে। একটা থাপ্পড় দিয়েছো সেটা আবার গর্ব করে বলাও হচ্ছে?

আমি মিথ্যা বলি না কাকা।

হ্যাঁ তুমি তো খুব সত্যবাদী।

নিহাল গম্ভীর হয়ে বললো, চলে যাবো তাহলে আমি? আপনিই তো আমাকে ডেকে এনেছেন। শাসন করা বারণ নাকি? বারণ হলে আমি আপনার ওই বেয়াদব মেয়েকে সঠিক পথে আনবো কি ভাবে?? আমি না মেরে কাউকে শাসন করতে পারি না সেটা আপনি জানেন নিশ্চয়ই। আর আপনার ওই বেয়াদব মেয়েকে তো..

হয়েছে হয়েছে আমার মেয়েকে বেয়াদব বলতে হবে না। যা-ও তুমি এখন। আর কম কম মেরো। ফয়জুল হাকিম নিহালকে থামিয়ে দিয়ে মেনে নিলেন।

নিহাল দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হাসি হেঁসে চলে আসলো। যাওয়ার সময় রুকাইয়াকে বলে গেলো জাহেরাকে আমি ডাকছি ছোট আম্মু আমার রুমে পাঠিয়ে দেন।

রুকাইয়া জাহেরাকে ডাকতে গিয়ে অবাক হয়ে গেলেন। সাথে এটা ভেবে আরও অবাক হলেন যে আজকে সে শুধু অবাকই হচ্ছে। জাহেরা খাটের এককোনায় বসে আছে। রুকাইয়া মেয়ের নিচু মাথাটা একটু উঁচু করতেই দেখলেন ডান পাশের গাল টায় দুটো আঙুলের চাপ স্পষ্ট।

তোমাকে কে মেরেছে জাহেরা?

জাহেরার কান্নার গতি বেড়ে গেলো। হেঁচকি তুলে কাঁদছে মেয়েটা। একে তো নিহাল মেরেছে তারউপর বাবার থেকেও বকা খেয়ে এসেছে। বড্ড ইগোতে লেগেছে কিনা।

কি হয়েছে? কে মেরেছে?

জাহেরা হেঁচকি তুলতে তুলতে বললো, নিহাল ভাই।

রুকাইয়া আর অবাক হতে পারছে না। আজকেই তাকে এতো অবাক হতে হচ্ছে? নিহাল মেরেছে? এটা বিশ্বাসযোগ্য?

নিহাল? নিহাল কেনো তোমাকে মারবে?

তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন না আম্মু। জাহেরার কন্ঠে তেজ।

থাক আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছি না। নিহাল যেহেতু মেরেছে তার মানে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। যাইহোক নিহাল তোমাকে ডেকেছে দেখো গিয়ে কেন ডাকে!

জাহেরা মায়ের কথায় চোখ তুলে তাকালো। চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। মা এ ভাবে নিহালের সার্পোটে যেতে পারলো? হাত থেকে ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে বললো, যাবো না আমি ওই বেয়াদব লোকটার কাছে।

না গেলে বেয়াদব লোকটা আবার এসে মারলেও মারতে পারে বলা তো যায় না। দেখো তোমার যেটা ভালো মনে হয়। কথাটা বলেই শাড়ির আঁচল গুটিয়ে রুকাইয়া চলে গেলো।

জাহেরা কি করবে বুঝতে পারছে না। ডেকেছে মানে যেতেই হবে। পরে যদি আবার মারে? ইশ আমি কি ওই জানোয়ার টাকে ভয় পাচ্ছি? কথাটা ভেবেই চাদর খামচে বসে পড়লো জাহেরা। কিন্তু কি যেনো একটা তাড়া দিয়েই যাচ্ছে তাকে যাওয়ার জন্য।

নিহাল গোসল সেড়ে কেবল ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে। শরীর বেয়ে পানি পড়ছে। গায়ে কিছু নেই। কোমরে একটা সাদা টাওয়েল জড়ানো। জাহেরা রুমে এসে দাঁড়াতেই নিহাল ধমক দিয়ে বললো, এখন বের হয়ে যাও। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকো। ডাকলে আসবে।

জাহেরা অপমানে জ্বলে উঠলো। যেই মুখ তুলে কিছু বলতে যাবে ওমনি নিহাল বললো, স্টপ! একদম মুখ বন্ধ রাখ। মুখ খুললেই জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।

জাহেরা হনহনিয়ে বের হয়ে গেলো। এই ছেলে এতো গুন্ডা এটা তো আগে জানা ছিল না।

নাজেরা কল দিলো, নিহালের মনে হলো মেয়েটা একটু বেশিই টেক্সট কল করে। নিহাল কল রিসিভ করেই বললো, কি ব্যাপার শ্যামলি? আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি।

নাজেরা ভয় পেয়ে বললো, কিছু করেছি? কোনো ভুল হয়ে গেলো?

হ্যাঁ অবশ্যই। বিরাট বড় ভুল করছো।

নাজেরা ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো কি ভুল?

এই যে বার বার টেক্সট কল করছো। খুব ভালোবাসা দেখাচ্ছো। আগে আগে টেক্সট দিয়ে ফেলতেছো। আমি একবারও আগে দেওয়ার সুযোগই পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে আমি না তুমিই আমাকে বেশি ভালোবাসো।

নাজেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললো, যাক! এই কথা তাহলে। ভয় পাইয়ে দিচ্ছিলেন নিহাল। আপনি অনেক পঁচা লোক। এনিওয়ে আপনার থেকে বেশি ভালো আমিই আপনাকে বাসি।

নিহাল মানতে নারাজ, সে বললো, জ্বি না অবশ্যই আমি বেশি ভালোবাসি।

উঁহু আমি।

দুজন ভালোবাসা বাসি নিয়ে লেগে পড়লো। ওইদিকে জাহেরা দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে এদের ভালোবাসার কথা শুনছে আরও বেশি করে জ্বলছে। শ্যামলিটা কে সেটা ভেবেই ওর রাগ তিরতির করে বাড়ছে। নিহাল নিশ্চয়ই ওরে জ্বালানোর জন্য আরও বেশি করে ও একটু উঁচু স্বরে কথাগুলো বলছে।

চলবে……….

#মরিচীকা
#পর্ব ১২
#মাকামে_মারিয়া

তুমি প্রেম করছো নিহাল ভাই?

নিহাল আঁতকে উঠল, ফোনটা কানে রেখেই কটমট করে তাকালো জাহেরার দিকে। ফোনের ওপাশে নাজেরা স্পষ্ট ওর মামাতো বোনের কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে চুপসে রইলো।

নিহাল ফোনটা কাটলো না, বিছানা থেকে নেমে জাহেরা সামনে এসে দাড়িয়ে বললো, কি সমস্যা তোর? আমি আমার রুমে কি করছি সেটা তুই আড়ি পেতে শুনতেছিস?

আমি আড়ি পেতে শুনতে যাবো কেন? আশ্চর্য! তুমিই তো আমাকে দরজার বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলে! নিহাল এক মূহুর্তের জন্য ভুলেই গিয়েছিল জাহেরা বাহিরে দাঁড়িয়ে।

নিহাল বললো, হ্যাঁ প্রেম করছি। তোর সমস্যা?

জাহেরা হাই তুলে বললো, নাহ! একদমই সমস্যা নেই ব্রো। কিন্তু! আমি প্রেম করছি কিনা সেটাতেও যেনো তোমার সমস্যা না থাকে। অন্যদের বিষয়ে নাক মুখ দিবে না বুঝলে ছ্যাচড়া ছেলে!

জাহেরার গালে ঠাস করে আরেকটা থাপ্পড় পড়ে গেলো। মেয়েটা এবার আরও বেশি অবাক হলো। সে ভাবিনি যে এতোবার মারবে। জাহেরা গালে হাত দিয়ে কড়া স্বরে বললো, নিহাল ভাই! তুমি আমাকে মারলে??

নিহাল বললো, হুঁশ নেই তোর? আরেকটা মেরে হুঁশ ফেরাতে হবে নাকি?

তুমি কিন্তু বেশি বেশি করছো!

এমন বেশি বেশি তুমিও করেছিলে জাহেরা ভানু।

খবরদার আমাকে একদম ভানু বলবে না!

ওকে ফাইন ন্যাকাবতী। ঠিক আছে?

আমি আব্বুর কাছে বিচার দিবো ওয়েট করো তুমি।

তোর বাপ’কে ভয় পাই আমি?

জাহেরা কিছু না বলে চলে যাচ্ছিল এই ছেলের সঙ্গে আর কথা বলে পেরে উঠছে না। নিহাল থামিয়ে দিয়ে বললো, এই দাঁড়া। কোথায় যাচ্ছিস? অনুমতি নিয়েছিস?

হোয়াট তোমার থেকে অনুমতি নিয়ে আমাকে পা চালাতে হবে?

হ্যাঁ হ্যাঁ একদমই। এই তো কত সুন্দর বুঝে গেলি!

আমি তোমার চাকার না বুঝলে! তোমার কথায় ওঠবস করতে পারবো না। আমাদের বাড়িতে থাকছো, পড়ছো! আবার আমার সাথে উঁচু স্বরে কথা বলো! লজ্জা করে না তোমার!

নিহাল থেমে গেলো! কথাগুলো হৃদয়ে আঘাত করলো। হাতটা আরও একবার জাহেরা গালে উঠাতে নিয়েও থেমে গেলো। বিছানায় বসে জাহেরা দিকে তাকিয়ে বললো, কাজ করে থাকি খাই জাহেরা। তোমার বাবা আমাকে বসিয়ে খাওয়ায় না, আর ভুলে যেও না এই সব কিছু তোমার বাবার একার নয়, আমার বাবারও। নেক্সট এ আমাকে এসব কথা বলার আগে তোমার বাবা ফয়জুল হাকিমের কাছ থেকে ইতিহাস জেনে আসবা। না হয় কান টেনে ছিঁড়ে ফেলবো। এখন তুমি আসতে পারো।

জাহেরা চুপসে গেলো, কিছু বলতে গিয়েও বললো না। রুম থেকে বের হওয়ার সময় নিহাল আবার ডাকলো, জাহেরা থামতেই বললো, ফোনটা রেখে যা-ও।

জাহেরা আবারও উত্তেজিত হয়ে কিছু বলার আগেই নিহাল ধমকে উঠে বললো, ফোনটা রেখে যেতে বলেছি।

ধমকের শব্দে মেয়েটা কেঁপে উঠল। ফোনটা বিছানায় কিছুটা তেজের সাথেই ছুঁড়ে মেরে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।

নাজেরা কল সেই কখনই কেটে দিয়েছে। নুরজাহান ডাকছে তখন থেকে। নিশ্চয়ই ডেকে নিয়ে আবার বকাবকি করবে। হয়েছে একটা ভাবি। উনিশ-বিশ হলেই বকাবকি করতে থাকে। আশ্চর্য মানুষ!

জামিনা চট্টগ্রাম থেকে ফিরেছে পরশু। নাসির উদ্দীনের সাথে মাঝে মাঝে থেকে আসেন কয়েকটা দিন। নাসির উদ্দীন স্ত্রীকে যথেষ্ট ভালোবাসেন, তবে নাজেরা প্রতি স্ত্রীর এতো ক্ষোভ মেনে নিতে পারেন না। ভালো মানুষ বিধায় স্ত্রীকে সুন্দর করে বুঝান, জামিনা মেয়েটার সাথে খারাপ আচরণ করো না। সে তোমারও তো মেয়ে তাই না?

জামিনা তখন আরও রেগে যায়, উত্তেজিত হয়ে বলে, ওই মেয়ে আপনের কাছে বিচার দিছে তাই না? আমি ওর লগে খারাপ আচরণ করি? খাইতে দেই না? পিনতে দেইনা?

আহা জামিনা! তোমার মাথা এতো গরম থাকে কেনো বলো তো? আমি কি এসব একবারও বলছি? তুমি যে মাঝে মাঝে বকাঝকা করো অকারণে এসব আর করিও না। বাচ্চা মেয়ে তো। আর কত লক্ষী আমার মেয়েটা।

কিসের বাচ্চা মেয়ে? বড় বেটিরে তো সতেরো বছর বয়সেই বিয়া দিয়ে দিছেন। এটারেও সতেরো পার হইয়া গেছে। ইউনিভার্সিটিতে পড়লে মাইয়া পোলা বাচ্চা থাকে নাকি? এরেও বিয়া দিয়ে দেন।

নাসির উদ্দীন তখনও শান্ত কন্ঠে বলেন, পড়ছে পড়ুক না। বিয়ে তো দিবোই।মেয়ে মানুষ তো আর বাপের ঘরে সারা বছর থাকে না।

জামিনা ক্ষ্যান্ত হয়, নাসির উদ্দীনের জন্য আয়েশ করে সাজিয়েগুছিয়ে পান বানিয়ে আনে। পাশে বসে বুঝায়, তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেন নাজেরা’রে।

নাসির উদ্দীন পান মুখে দেয়, চিবুতে চিবুতে বলে, তোমার এতো তাড়া কিসের বলতে পারো? মেয়েটা কি তোমাকে জ্বালাতন করে?

ওমনি জামিনা নাকে কান্না শুরু করে, বিলাপের স্বরে বলতে থাকে, আজ নিজের মাইয়া না বলেই আমি যা বলি তাতেই দোষ। নিজের মাইয়া হইলে, বিয়া দিতে চাইলে কি কেউ দোষ খোঁজতে পারতো!

নাসির উদ্দীন স্ত্রীকে শান্ত হতে বলেন। আশ্বস্ত করে বলেন, চিন্তা করো না। মেয়ে যেহেতু আমার, মাথা ব্যথাও আমার। মেয়ে বড় হচ্ছে বাপের মাথায় তো চিন্তা আছেই। আমি মনে মনে ছেলের খোঁজ করতেছি। ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে দিয়ে দিবো।

জামিনা খুশী হয়। কিসের যেনো একটা তাড়া ওনার মধ্যে। মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে। অথচ এই সেই মেয়ে যাকে দিয়ে সব রকমের চাহিদা হাতিয়ে নিচ্ছে।

____________

জেনিফা সময় সুযোগ পেলেই তাযিনের সাথে কথা বলতে চায়, পাশে ঘেঁষে বসতে চায়। তাযিন ধমকের স্বরে বলে, আমার সাথে একদম ঘেঁষাঘেঁষি করবে না জেনিফা।

জেনিফা ব্রু কুঁচকে বলে, আমি ঘেঁষাঘেঁষি করলেই গায়ে ফোসকা পড়ে। নাজেরা ঘেঁষাঘেঁষি করলে খুব ভালো লাগে তাই না?

হ্যাঁ খুব ভালো লাগে। তুমি এখন চোখের সামনে থেকে সরো। আগামী তিন ঘন্টা আর আমার চোখের সামনে আসবে না হিংসুটে মেয়ে মানুষ কোথাকার!

মুন্না এসে তাযিনের গলা জড়িয়ে বসে জিজ্ঞেস করে, কি ব্যাপার দোস্ত? মেজাজ মোজাজ এতো কড়া ক্যান? আন্টি কেলানি দিছে?

বাজে বকিস না! আমার মা আমায় বকে না।

হু তোর মা তো তোকে এখনো কোলে করে রাখে।

তুইও আগামী দিন ঘন্টা আমার সামনে আসবি না মুন্না। যা সামনে থেকে সর।

মুন্না ব্রু কুঁচকে বললো, কি ব্যাপার? সবাইকে তিন ঘন্টার রেস্ট্রিকশন ধরিয়ে দিচ্ছিস ক্যান?

কারন আমি তিন ঘন্টা ভার্সিটিতে আছি। এরপর বাসায় চলে যাবো তখন তোদের মুখ এমনিও দেখতে হবে না।

মুন্না খেঁকখেঁক করে হেঁসে উঠলো। যেনো তাযিন অনেক হাসির কিছু বলেছে। অথচ ছেলেটার মন অত্যাধিক পরিমাণে খারাপ। নাজেরা আজকেও ক্লাসে আসেনি। কি সমস্যা মেয়েটার!! খুব রাগ হচ্ছে। ইচ্ছে করছে বাড়িতে গিয়ে কতক্ষণ কেলিয়ে আসে।

মন খারাপ নিয়ে ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা। সোফিয়া জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার বাবা? আজ ফিরতে দেরি হলো যে?

তাযিন কিছু বললো না। দরজা ঠেলে রুমে ঢুকলো। সোফিয়া দরজা আটকে ছেলের পিছন পিছন এসে আবারও জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে তাযিন?

কথাটা শেষ করতে পারলো না। তাযিন এসে মা’কে জড়িয়ে ধরলেন। সোফিয়া ভয় পেয়ে গেলো। ছেলেটার কি যে হয়েছে! ইদানীং ভীষন মন মরা লাগে। অন্ধকার রুমে বসে থাকে,ছাঁদে যায় না গেলেও রাতে যায়। যেনো সে দিনের আলোকে বড্ড ভয় পায়। অন্ধকারকে আপন করে নিয়েছে।

সোফিয়া ছেলেকে আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না৷ নিজেও দুহাত মেলে দিয়ে জড়িয়ে রাখলেন। তাযিন মা’কে জড়িয়ে ধরে ফোপাঁতে লাগালো। কিছু বলতে পারছে না একদম। কি বা বলবে? সে কিছু বলার মতো পায় না আসলে। বলার মতো যে কিছু নেই। কেবল মনে হয় ওর ভালো লাগছে না, শান্তি মিলছে না কোথাও। পৃথিবীতে কেমন দম বন্ধ হয়ে আসছে। চারদিকে কেবল অশান্তি আর অশান্তি, কেনো এতো শান্তি সে জানে না৷

সোফিয়া চিন্তায় পড়লেন, তার চঞ্চল ছেলেটা এ ভাবে ভেঙে পড়ছে কোন সেই দুঃখের কারনে? মা হিসেবে তিনি যথেষ্ট সচেতন। আজকালকার পোলাপানদের ডিপ্রেশন সম্পর্কে তার ধারণা আছে। ছেলে বড় হয়েছে, প্রেম ঘটিত জটিলতায় ভুগতে পারে এটা অস্বাভাবিক কিছু তো নয়। ছেলের সাথে বরাবরের মতোই উনি খোলা বই, ছেলেও মায়ের কাছে খোলা বই। যে যখন চায় পড়তে পারে। তাযিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, কাউকে ভালোবাসিস বাবা?

তাযিনের বুকের ভেতর যেনো কেউ ইট মারলো। তীব্র ব্যথা অনুভব করছে। মায়ের প্রশ্নের কোনো উত্তর তার জানা নেই। যেই ভালোবাসা এতোটা দিন ধরে সে বুকে লালন করছে সেই ভালোবাসাকে অন্যের হতে দেখে এসেছে। এরপরও কি ভাবে সে ভালোবাসার কথা মুখে আনতে পারে!

কলেজ থেকে ফেরার পথেই নিহালের সাথে নাজেরাকে দেখে আসলো। প্রথম দেখেই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। নাজেরা রিক্সা থামিয়ে নামলো তার সামনে, সাথে নিহালও থামলো। নিহালের সাথে আগেও দেখে হয়েছে তাযিনের তাই দুজনের মধ্যে হ্যাই হ্যালোর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাযিন সামনের দুটো মানুষকে ঘোলাটে দেখছে। শত চেষ্টা করেও চোখের পানি আটকাতে পারছিলো না। একটু স্বাভাবিক হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করলো, ক্লাসে যাসনি তো?

পরশু গিয়েছিলাম। তুই তো আসলি না। আর আজকে বাসায় অনেক কাজ ছিল রে।

তাযিনের মনে হলো হ্যাঁ পরশু সে যায়নি। শরীরটা ভালো ছিল না। নাজেরা যাবে এটাও জানতো না। জানলে শরীর খারাপ নিয়েই চলে যেতো। এই মেয়ের দেখা পেলেও শরীর অনেকটা হালকা লাগে।

নোট গুলো পাঠিয়ে দিস প্লিজ।

তাযিন বললো, হ্যাঁ বাসায় গিয়েই পাঠিয়ে দিচ্ছি। ইচ্ছে করলো জিজ্ঞেস করতে, তোরা কোথাও যাচ্ছিস? কিন্তু জিজ্ঞেস করলো না কারণ বুঝাই যাচ্ছে তারা বের হয়েছে হয়তো কোথায় যাচ্ছে।

নাজেরা একবার রিক্সার দিকে তাকিয়ে বললো, ইয়ে মানে, রিক্সা করে যাচ্ছি। তুইও যাবি চল? একটু উপরনিচ করে বসে পড়বো না হয়?

তাযিন হেঁসে বললো, ছি ছি! কি যে বলিস না! আমি কাবাবে হাড্ডি হতে যাবো কেন!

নাজেরা হাসোজ্জল ভাবে বললো, বাজে কথা বলিস না। বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নে। সারাদিন ক্লাসে ছিলি।

নিহালের সাথে বিদায় দেওয়ার সময় আরও একবার হ্যান্ডশেক করলো তাযিন। মুখে বললো, সাবধানে যাবেন ভাইয়া।

সোফিয়া ছেলেকে বসালো। পানি দিলো খেতে। মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ছেলে কিছু বলবে ভেবে। সে আবার জিজ্ঞেস করলো, বল কি হয়েছে? মায়ের কাছে বলবি না?

কি বলবো আম্মু?

কাউকে ভালোবাসিস?

নিহাল চুপ করে থেকে বললো, আমি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারিনি, কিন্তু তাকে যতটা ভালোবাসি নিজেকেও ততটা ভালোবাসি না।

প্রকাশ করতে না পারা ভালোবাসাটা কি আদোও ভালোবাসা আম্মু?

হ্যাঁ অবশ্যই ভালোবাসা।

এটা তবে কেমন ভালোবাসা আম্মু?

এটা একতরফা ভালোবাসা বাবা।
আমি তোমার মা হই না? এই যে আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিলাম। হে খোদা আমার ছেলের হৃদয়ে যে আছে আপনি তাকে আমার ছেলে করে দিয়েন।

তাযিন মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে শুয়ে পড়লো। মা আজ পর্যন্ত যত দোয়া করেছে সব কবুল হয়েছে। নাজেরা কবুল হয়ে গেলে এমন একটা মা এবং ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার খুশীতে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান পুরুষ হিসেবে মেনে নিবে নিজেকে।

চলবে………

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ