Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বৃষ্টি শেষে রোদবৃষ্টি শেষে রোদ পর্ব-১২+১৩

বৃষ্টি শেষে রোদ পর্ব-১২+১৩

#বৃষ্টি_শেষে_রোদ (পর্ব ১২)
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ

রিদ চলে যাওয়ার পর থেকে গত দু’দিন খুব বিষণ্নতায় কেটেছে আরশির। প্রিয় মানুষ গুলো হুট করে দুরে চলে গেলে কিছু সময়ের জন্য নিজেকে সবচাইতে একাকি মানুষটা মনে হয় তখন। ইচ্ছে করে তাকে ফিরিয়ে এনে পুরোটা সময় তার সাথেই পার করে দিতে। অথচ কাছে থাকতে এতটুকু গুরুত্বও বুঝতে পারি না আমরা।

গতকাল পৌছানোর পর রাতে ফোনে কথা হয়েছিল একবার। তবে খুব বেশিক্ষন না। মিনিট দুয়েকের মতো। বলেছিল অনেকটা পথ যার্নি করে ক্লান্ত লাগছে শরির। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিবে। তারপর আর কথা হয়নি। কলের অপেক্ষায় মায়ের ফোনটা হাতে নিয়ে বেলকনিতে দাড়িয়ে বিষণ্ন মনে দাড়িয়ে আছে আরশি। পেছনে মায়ের উপস্থিতি বুঝতেই ভাবনার ধ্যান ভাঙে তার।
মায়ের দিকে ফিরতেই মা ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলে,
“ফোনটা একটু দে তো। তোর বাবাকে কল দিয়ে দেখি আজ এতো দেড়ি করছে কেন।”

মায়ের হাতে ফোনটা দিলে কল দিয়ে ব্যস্ত ভাবে রুমের দিকে চলে গেলো সে। অনেক্ষণ ধরে খাবার নিয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা করছে মা। আসতে দেড়ি করার কত অস্থির সে। সবাই কি সবার প্রিয় মানুষের জন্য আমার মতো অস্থিরতা অনুভব করে? একটা দির্ঘশ্বাস ছাড়ে আরশি। যার জন্য এত অস্থিরতা তার তো কোনো চিন্তাই নেই এই নিয়ে।

ভাবতে ভাবতে মা ফোনটা আবার তার হাতে দিয়ে চলে গেলো। ফোনের দিকে চেয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে অতঃপর ভেতর রুমের দিকে হাটা ধরলো সেও। বিষণ্নতায় ছেয়ে যাওয়া মুখটায় যেন এক চিলতে হাসি ফোঁটাতে তখনই কল এলো রিদের। ঝলমলে চাহুনিতে দু’সেকেন্ড পার হওয়ার আগেই ফোন রিসিভ করে আরশি।

রিদ কল রিসিভ হওয়ার সময় দেখেই বুঝলো ফোন হাতে কলের অপেক্ষা করছিল আরশি। অথচ পরীক্ষার দু’মাসও নেই তার। তাই শুরুতেই প্রশ্ন করে,
“পরীক্ষার দু’দিন নেই ফোন হাতে কি করছিলি?”
“কই কিছু করছিলাম না।”
“তাহলে তোর হাতে ফোন কেন?”

প্রতি উত্তরে কিছু বললো না আরশি। আরশিকে চুপ থাকতে দেখে রিদ এবার নমনীয় গলায় বলে,
“না পড়ে ফোন হাতে বসে থাকলে কি ভালো রেজাল্ট আসবে, হুম?”
“দিনের বেলায় তো আর ফোন করেন নি।”
“নতুন জায়গা, তাই সবকিছু টিকঠাক করতে ব্যস্ত ছিলাম। তো খেয়েছিস?”
“না, বাবার জন্য ওয়েট করছি। ভালো আছেন? সব ঠিকঠাক আছে তো?”
“হুম, আলহামদুলিল্লাহ।”

এর মাঝেই মায়ের ডাক পড়লো। বাবা এসেছে হয়তো। না চাইতেও এতটুকু কথার মাঝে ইতি টানতে হলো। তবে এইটুকু কথাই যেন সারা দিনের অস্থিরতাটা কমিয়ে দিচ্ছে একটু একটু করে।

ফোন রেখে ক্লান্তি ভঙ্গিতে এক পাশে বসে রিদ। এর মাঝে রুমের দরজার সামনে দাড়ায় একটা অপরিচিত ছেলে। ভদ্র ভাবে বলে,
“ম্যা আই কামিং ব্রো?”
রিদ হালকা মাথা নেড়ে ছোট করে বলে,
“ইয়েস।”
ছেলেটা একটা হাসি দিয়ে প্রবেশ করে রুমে। রিদের পাশে এসে দাড়াতেই রিদ একপাশে সরে জায়গা করে দিয়ে বলে,
“প্লিজ সিড ডাউন।”
ছেলেটা বসে বলে,
“থ্যাংকস ব্রো। হাউ আর ইউ?”
“আ’ম ফাইন। ইউ?”
“আ’ম অলওয়েজ ফাইন ব্রো। হোয়াট্স ইউর নেম?”
“সানভি আহমেদ রিদ।”
“আ’ম সাজ্জাদ। হয়্যার আর ইউ ফ্রম?”
“আ’ম ফ্রম বাংলাদেশ।”

ছেলেটা এবার ক্ষনিকটা চমকে তাকায় রিদের দিকে। ক্ষনিকটা ভ্রু-কুচকে বলে,
“আপনি বাঙালি?”
রিদও ক্ষনিকটা অবাক হয়ে বলে,
“এখানে উঠার সময় শুনেছিলাম এখানে, আরো একজন বাঙালি ছেলে আছে। সে তাহলে আপনি?”
“হ্যাঁ। পাশের রুমেই থাকি দুজন। অন্যজন ইন্ডিয়ান। আর আমার বাড়ি চট্টগ্রামে। যাই হোক, খুব ভালো লাগলো নিজ দেশের একজন বন্ধু পেয়ে।”

ক্ষনিকটা হাসলো রিদ। সাজ্জাদ চার পাশে চোখ বুলাতেই রিদের পাশে ফ্রেমের মাঝে একটা মেয়ের ছবি দেখতে পায়। কৌতুহল নিয়ে বলে,
“ভালোবাসার মানুষ নিশ্চই?”
রিদ ক্ষনিকটা মুচকি হেসে হালকা মাথা নেড়ে বলে,
“হুম।”
সাজ্জাদ ছবিটার দিকে চেয়ে বলে,
“হি’জ ভ্যারি লাকি গার্ল।”
“কিভাবে?”

সাজ্জাদ রিদের দিকে চেয়ে স্বাভাবিক ভাবে বলে,
“কারণ সে আপনার শখের নারী। আর একজন মেয়ে যখন তার ভালোবাসার মানুষটার কাছে খুব শখের ও মুল্যবান হতে পারে তাহলে সে অবশ্যই ভাগ্যবতী। যা সবাই হতে পারে না।”
রিদ ক্ষনিকটা কৌতুহল নিয়ে বলে,
“আপনার দেখি ভালোই অভিজ্ঞতা আছে।”
সাজ্জাদ একটু মৃদু হেসে বলে,
“কারণ আমারও একটা শখের নারী ছিল। যাকে একেবারে মনের গভির থেকে ভালোবাসতাম।”
রিদ ভ্রু কুঁচকে বলে,
“ছিল? মানে এখন আর নেই?”
সাজ্জাদ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,
“না। চলে গেছে অন্য কারো কাছে।”
“কেন?”
” লং ডিস্টেন্স। দেশে থাকা কালিন সব ঠিকঠাকই ছিল। এখানে আসার পর দুরুত্বে শুন্যতায় হয়তো অন্য কাউকে ভালো লেগেছিল তার। অনেক লং স্টোরি। সে লুকালেও আমি জানার পর প্রথমে তাকে বুঝিয়েছিলাম। তারপর সে মুক্তি চেয়েছে, আমিও মুক্ত করে দিলাম। পরিশেষে সে ভালো থাকুক এটাই চাই।”

এটুকু বলেই সাজ্জাদ কিছুটা হেয়ে রিদের কাধে হাত রেখে বলে,
“যাই হোক। বাদ দাও ওসব কথা। নতুন এসেছো সবকিছুর সাথে নিজেকে মানিয়ে নাও। পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো। এখন আসি, পরে কথা হবে। আর কোনো প্রয়োজন হলে বলবে, পাশের রুমেই আছি।”

বলেই মুখে মৃদু হাসি ধরে রেখে চলে গেলো সাজ্জাদ। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল রিদ। একটা ভয় হুট করেই যেন মনের ভেতর নাড়া দিয়ে উঠল। আরশির বয়স টা আবেগের। এই লম্বা দুরুত্বে যদি আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে যদি সেও এমন কিছু করে বসে? যদিও তার প্রতি তীব্র বিশ্বাস আছে তার। তবুও প্রিয় মানুষটাকে হারানোর ভয় মাঝে মাঝে সবারই বুকটা কেঁপে উঠে হুট করে।

“”””””””””””””””””””””””””””””

দেখতে দেখতে কেটে গেলো অনেক দিন। আরশির রেজাল্ট বের হয়েছে আজ। গত দু’য়েকদিন ধরে টেনশনে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিলেও এখন এক আকাশ সমান প্রশান্তি এসে ভিড় জমিয়েছে মনে। খুশির খবর টা পেয়েই যেন আর দেড়ি করতে চাইছে না সে। ফোন হাতে নিয়েই কল দিল রিদের কাছে। রিদ ফোন রিসিভ করেই বলে,
“অভিনন্দন আমার পিচ্চি পরী।”

আরশি কিছুটা ভ্রু কুচকে বলে,
“আমি কি এখনো আমার রেজাল্ট বলেছি, পাশ নাকি ফেল?”
রিদ ফোন হাতে একটা হাই তুলে বলে,
“ফেল করলে তো আমার কাছে কল দেওয়া দুরে থাক, আগামী এক সাপ্তাও খুঁজে পেতামনা তোকে।”
“আপনি বলছিলেন না, আমি 4 পয়েন্টও পাবো না। এখন তো আমি,,,,,”
“জিপিএ ৫ পেয়েছিস তাই তো?”
“মুখের কথা কেড়ে নেন কেন? আর আপনি জানালেন কিভাবে? আমি এখনো কাউকে জানাইনি।”
“ম্যাজিক।”
“কচুর ম্যাজিক। তো বলুন, এখন খুশি হয়েছেন? সারাক্ষণ তো পড়া পড়া করতেন।”
“আমাকে খুশি করতে রেজাল্ট ভালো করেছিস?”
“না আপনার উপর জেদ করে পড়তাম।”
“তাহলে ঠিক আছে। আমি বাতাসে মিলিয়ে দিব আমার পিচ্চির খুশির দিনের বার্তা। যেন সবাই জানতে পারে আমার উপর জেদ করেও আমার পিচ্চি পরীর মুখে আজ ফুটন্ত গোলাপের ন্যায় বিজয়ী হাসি ফুটেছে।”

“”””””””””””””””””””””””””””””””
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই যেন চমকে উঠে আরশি। গত চার মাস এই বেলকনিতে কোনো চিরেকুট পায়নি সে। রিদ ভাই যাওয়ার পর থেকেই। তাই ভেবেই নিয়েছিল এটা রিদেরই কাজ ছিল। নিরামিষ মানব, প্রকাশ্যে কিছু বলতো না। অনুভূতির সব কথাই চিরেকুটের মাধ্যমে জানান দিত।

কিন্তু আজ মিথ্যা প্রমানিত হলো সেটা। কারণ আজও বেলকনিতে একগুচ্ছ ফুলের সাথে একটা চিরেকুট পড়েছিল। যেখানে লেখা ছিল ছোট একটা বার্তা,,,,

‘সুহাসিনী,
জানি গতকাল থেকেই এক টুকরো চাঁদের ন্যায় দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর হাসি টুকু মিশে ছিল তোমার কোমল ঠোঁটের মধ্যিখানে। তাই আজ সুহাসিনী বলেই সম্বোধন করলাম। সাথে এই খুশির দিনের জন্য অভিনন্দন সুহাসিনী। আর হ্যা, এই হাসি তোমার কোমল ঠোঁটে মিশে থাকুক জনম জনম। আমি না হয় সেই হাসিতেই নিজেকে উৎসর্গ করে দেব।’

ঠায় দাড়িয়ে রইল আরশি। প্রিয় মানুষটার চিঠি ভেবে সব গুলোই নিজের কাছে যত্ন করে রেখেছিল সে। মাথায় শুধু একটা চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে, এই চিঠি কার? কে ই বা এই অগন্তুক?

To be continue……………..

#বৃষ্টি_শেষে_রোদ (পর্ব ১৩)
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ

আজ কলেজের প্রথম দিন আরশির। স্কুল ছেড়ে কলেজে পা রাখা মানেই নিজের মাঝে একটা স্বাধীন চেতনার ভাব জাগ্রত হওয়া। পাখিদের মতো ডানা মেলে উড়তে চাওয়া। মনে হয়, এই তো অনেক বড়ো হয়ে গেলাম হুট করে। আরশির ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম নয়।

তবে এমন স্বাধীন চেতনার ভাব নিয়ে প্রথম দিনই কলেজের সামনে পৌঁছে ভুল বসত একটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হলো আরশির। তাও সামান্য একটা টিস্যু নিয়ে। যেটা সাইড করে ছুড়ে ফেলতে গিয়ে একটা ছেলের গায়ে গিয়ে পড়েছিল। আর এটা খুব বড়ো ধরনের কোনো অপরাধ নয়।

তবুও এই ছোট একটা বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়েছিল ছেলেটা। আরশি ছোট করে স্যরি বললেও ছেলেটা হাত দিয়ে শার্টের ময়লা ঝাড়ার ব্যস্ততায় বিরক্তিকর ভাবে কিছু কথা শোনালো তাকে।
ভিতু ভঙ্গিতে আরশি চুপ থাকলেও এবার কিছুটা বিরক্তি হলে পাশ থেকে প্রীতি বলে,
“ভাইয়া,,, ভুলেই হয়েছে এমনটা। আর সে স্যরিও বলেছে আপনাকে। তবুও কেন এতো প্যাঁচাল করছেন? সামান্য একটা টিস্যু তে কি এমন ক্ষতি হয়ে গেলো আপনার?”

ছেলেটা মূহুর্তেই শাসানোর ভঙ্গিতে প্রীতির দিকে এক আঙুল তুলে বলে,
“এই মেয়ে, একদম চুপ থাকো? চামচামি করতে আসবে না। চেনো তুমি আমাকে?”
অপমানে ক্ষনিকটা ক্ষিপ্ত হতে চাইলো প্রীতি। আরশি পাশ থেকে তার এক হাত চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে বলে,
“থাক প্রীতি চল এখান থেকে। কিছু বললে ঝামেলা তৈরি করতে পারে।”
প্রীতি কিছুটা অভয় দিয়ে বলে,
“আরে আমরা মেয়ে। ঝামেলা হলে ঐ ছেলে বিপদে পড়বে, আমরা না।”
আরশি হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
“প্রীতি প্লিজ।”

ছেলেটা তাকিয়ে আছে দুজনের ফিসফিস করার দিকে। অতঃপর দুজন চলে যাওয়ার উদ্দেশ্য গেটের দিকে এগুতেই ছেলেটা এক হাতে পথ আটকিয়ে আরশির দিকে চেয়ে বলে,
“দাড়াও মেয়ে। নবীন স্টুডেন্ট নিশ্চই। রাগ করো না। ফান করেছিলাম এতক্ষণ। নাম কি তোমার?”

আরশি চুপ থাকলেও প্রীতি কিছুটা ক্ষিপ্ত গলায় বলে,
“পথ ছাড়ুন আমাদের।”
ছেলেটা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে শান্ত গলায় বলে,
“আর যদি না ছাড়ি? তাহলে আপনার বান্ধবী কি খুব রাগ করবে?”

“বান্ধবী রাগ করলে তোর কপালে দুঃখ আছে আকাশ।”
পাশ থেকে একটা পুরুষনালী কণ্ঠ শুনে তার দিকে তাকায় তারা। দেখে ফারুক তাদের সামনে এসে দাড়িয়ে ছেলেটার দিকে চেয়ে বলে,
“যার তার সাথে ফান করাটা উচিত নয় তোর। আর যদি সেটা আমার বোন হয়।”
আকাশ নামক ছেলেটা এবার কিছুটা হেসে বলে,
“এটা তোর বোন ফারুক? আপন না নিশ্চই?”
“আপান বা পর এটা জেনে তোর কোনো কাজ নেই।”
ফারুক স্বাভাবিক ভাবে কথাটা বলে অতঃপর আরশির দিকে চেয়ে বলে,
“আসো আমার সাথে।”

আকাশ নামক ছেলেটা আর কিছু বললো না, সরে দাড়ালো পথ থেকে। এই প্যাঁচাল থেকে মুক্তি পেয়ে দুজন চুপচাপ চলে গেলো ফারুকের পেছন পেছন। কলেজের গেট পেড়িয়ে ভেতরে হাটতে হাটতে ফারুক বলে,
“আমিও এখানেই পড়ি। তাই ভয়ের কিছু নেই। আর তুমি করে বললাম দেখে মাইন্ড করবেন না। নাহলে সে বিশ্বাস করত না।”
আরশি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ বলে,
“সমস্যা নেই ভাইয়া। আর ধন্যবাদ।”
“ক্লাস কোথায় জানো তো? নাহলে আমার সাথে চলো, দেখিয়ে দিচ্ছি।”
“থাক ভাইয়া, আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আমরা খুঁজে নিব।”
“শুনো, নতুন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পেরেশান না হয়ে, কারো হেল্প নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।”

পাশ থেকে প্রীতি বলে,
“ও আসলে একটু বেশি বুঝে। ভাইয়া চলুন তো। অজথা খোঁজাখুঁজি করতে ভালো লাগছে না।”
হাটতে হাটতে আরশির দিকে চেয়ে ফারুক বলে,
“রুমকি ভর্তি হয়নি এখানে?”
আরশি হলকা মাথা নেড়ে বলে,
“না, ওর নাম আসেনি এখানে। অন্য কলেজে ভর্তি হয়েছে।”
ফারুক কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ থেকে কিছু একটা বুঝে নিয়ে নিজের মাঝে বিড়বিড় করে বলে,
“দারুণ।”
,,,

কলেজ ছুটির পর রাস্তার পাশে গাড়ির জন্য দাড়ালো আরশি। সাথে প্রীতিও দাড়িয়ে আছে। এর মাঝে ফারুক তাদের পাশে এসে দাড়িয়ে বলে,
“তোমার সাথে কিছু কথা আছে আরশি।”
ফারুকের দিকে ক্ষনিকটা ভ্রু কুঁচকে তাকালো আরশি। ফারুক পূনরায় বলে,
“যাস্ট এক মিনিট।”
আরশি সম্মতি দিয়ে বলে,
“বলুন ভাইয়া কি কথা?”

ফারুক কিছু না বলে একবার ইশারায় প্রীতির দিকে তাকালো। আরশি বুঝতে পেরে প্রীতিকে দাড়াতে বলে কিছুটা সাইডে গিয়ে বলে,
“ভাইয়া জরুরি কিছু?”
ফারুক ক্ষনিকটা অপরাধী গলায় বলে,
“আমার মনে হয় তুমি মন থেকে আমাকে এখনো ক্ষমা করোনি। বিশ্বাস করো, আমি সত্যিই বিয়ের দিন আর বেয়াঈন দেখে মজা করতে গিয়ে এমনটা হয়ে গেছে। ইচ্ছেকৃত ছিল না। তোমাকে আমি আমার বোনের মতোই ভাবি।”
আরশি কি বলবে ভেবে না পেয়ে চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। ফারুক পূনরায় বলে,
“একটুও কি ক্ষমা করা যায় না? ভাই হিসেবেও না?”
আরশি কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে অতঃপর কিছুটা স্বাভাবিক গলায় বলে,
“ওসব অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে ভাইয়া। আপনি ক্ষমা চেয়েছিলেন, তাই আমি মনে রাখিনি এতকিছু। তবে এমন ফাজলামো না করাটাই ভালো।”
ফারুক আচমকাই নিজের কান ধরে বলে,
“এই কান ধরলাম বইন। আর জীবনেও না। একবার ফান করে শিক্ষা হয়ে গেছে আমার। শুধু মন থেকে ক্ষমা করেছো কিনা একবার বলো। ক্ষমা না করলে এখানেই পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বসবো। আমার আবার লোকলজ্জা একটু কম।”

হাসি মুখে কথাটা বলে কিছুটা ঝুঁকতে চাইলেই আরশি দু’পা পিছিয়ে বলে,
“এই না না, কি করছেন এসব। পায়ে ধরতে হবে না।”
“তাহলে মন থেকে বলো, ক্ষমা করেছো?”
আরশি এবার একটা শ্বাস ছেড়ে বলে,
“ওকে করলাম। এবার সরুন, বাসায় যাবো।”
“এগিয়ে দিয়ে আসবো?”
“লাগবে না ভাইয়া, ধন্যবাদ।”

“””””””””””””””””””””””””””””‘

শেষ বিকেলে নতুন ফোন হাতে ছাদের এক পাশে বসে আছে আরশি। এসএসসি তে পাশ করার পর কিনে দিয়েছে বাবা। নতুন ফেসবুক আইডিও খুলেছে কয়দিন হলো। ইন্টারে উঠার পর থেকেই সবই যেন নতুন মনে হচ্ছে। যেন বসন্ত এসেছে জীবনে।

এর মাঝেই রিদের কল আসলে ঠিকঠাক হয়ে বসলো। অতঃপর কানে এয়ারফোন গুজে ফোন রিসিভ করে সে। রিদের দিকে চেয়ে মিষ্টি হেসে বলে,
“হাই, কেমন আছেন?”
“আলহাম্দুলিল্লাহ্ ভালো, তুই?
” আলহামদুলিল্লাহ্।”
“কপালে কি হয়েছে? লালছে দেখাচ্ছে কেন?”

আরশি জিবে ছোট করে কামড় কেটে ওড়নাটা টেনে মাথায় দিল। রিদ মৃদু হেসে বলে,
“এখন আর লুকাতে হবে না। কিভাবে হলো এমন?”
“রামিমের সাথে খেলার সময় বাড়ি মেরেছিল। তাই এখন লাল হয়ে আছে হয়তো।”
রিদ স্বাভাবিক ভাবে বলে,
“ভালো তো, দুই বাচ্চা একাত্রে খেলার সময় মা’রা’মা’রি বেধে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না।”
আরশির হাসি পেলেও কিছুরা রাগী ভাব নিয়ে বলে,
“আপনার মাথা।”
“আরিশা কবে এসেছে?”
“গতকাল?”
“কেমন আছে তারা?”
“হুম ভালো।”
“তো আজ কলেজের প্রথম দিন কেমন কাটলো?”
“হুম, ভালো।

কয়েক সেকেন্ড নিরব রইল রিদ। অতঃপর শান্ত গলায় বলে,
” ছেলেটা কে ছিল?”
আরশি কিছুটা অবাক হয়ে বলে,
“কোন ছেলে!”
“আকাশ না কি নাম। যার সাথে সকালে ঝগড়া করেছিলি।”
“আমি চিনি না। সে নিজেই শুধু কথা প্যাঁচাচ্ছিল। আচ্ছা, এটা আপনি জানলেন কিভাবে?”
কিছুটা হাসলো রিদ। উত্তর না দিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলে,
“নতুন নতুন কলেজে উঠেছিস ছেলেদের থেকে দুরে থাকবি।”
“ওকে স্যার।”

রিদ পূনরায় স্বাভাবিক গলায় বলে,
“আর এমন কিছু করবি না, যা আমার একদমই অপছন্দ। আশা করি আমার বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখবি। আমি চাইনা আমার রাগ তোকে কষ্ট দিক। কারণ অজান্তেই তোকে কোনো ভাবে কষ্ট দিয়ে ফেললে পরে আমার নিজেকেই তার দ্বিগুণ কষ্ট ভোগ করতে হয়।”

আর কিছু না বলেই বিদায় নিয়ে ফোন কেটে দিল রিদ। কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেন খুব অবাক হলো আরশি। এমন ভাবে বিদায় নিল কেন? আর শেষে বিশ্বাস, কষ্ট কিসব বলে গেলো? তাছাড়া আজ এমন প্রশ্নবোধক ধারালো ধারালো কথা বললো কেন? কি হলো হটাৎ? তার কি কোনো কারণে মন খারাপ? নাকি এটা কোনো লুকোনো অভিমান? না বললে বুঝবো কিভাবে? আজব লোক।

To be continue……………..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ