Friday, June 5, 2026







বিবাহ বন্ধন পর্ব-২৩+২৪

#বিবাহ_বন্ধন
#পর্ব_২৩(রোম্যান্টিক পর্ব)
#লেখক_দিগন্ত
স্বর্ণা এবং রাজের বিয়ের পর রাজ স্বর্ণাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যায়।স্বর্ণা খুব কাদছিল যাওয়ার সময়। সালমা আক্তারও পাগলেও মতো কাদছিল।হাজার হোক একমাত্র মেয়ে।কতদিন পর মেয়েটাকে ফেরত পেয়েছিলেন।আজ আবার মেয়েটা দূরে চলে যাচ্ছে এটা ভাবতেই তার খুব কষ্ট হচ্ছে।আলামিন ইসলামও দু ফোটা চোখের জল ফেলেন।রাজের হাতে স্বর্ণাকে তুলে দিয়ে বলেন,
-“আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট সহ্য করেছে এতদিন।তুমি ওকে আর কষ্ট পেতে দিওনা।আগলে রেখো আমার মেয়েটাকে।”

রাজ তখন বলে,
-“আপনি কোন চিন্তা করবেন না আমি আপনার মেয়েকে অনেক সুন্দর করে অনেক যত্নে রাখবো।”

আলামিন ইসলাম স্বস্তি পান।একজন পিতার কাছে তার কন্যাকে সুপাত্রের হাতে তুলে দেওয়া যে একটা বড় দায়িত্ব।আর এই দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করলে তখন অদ্ভুত শান্তি লাগে।

বৃষ্টি,সূর্য সবাই স্বর্ণার দিকে এগিয়ে আসে।সূর্য রাজকে বলে,
-“আমার বোনকে যদি কোন কষ্ট দাও তাহলে কিন্তু ভালো হবে না।”

-“কোন কষ্ট দেবো না।এব্যাপারে নিশ্চিতে থাকতে পারেন।”

বৃষ্টি স্বর্ণাকে বলে,
-“এখন কিন্তু তোমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছ।একে অপরের সুখে দুঃখে সবসময় পাশে থাকতে হবে।আর হ্যাঁ জীবনটাকে সুন্দরভাবে উপভোগ করো।তোমার ভবিষ্যত জীবনের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।তোমার অতীতটা যেমনই হোক ভবিষ্যতটা সুন্দর হবে ইনশাআল্লাহ।”

স্বর্ণা এবং রাজ দুজনেই বৃষ্টিকে ধন্যবাদ জানায়।বৃষ্টি তাদের জন্য যা করেছে তার জন্য আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে বৃষ্টির উপর।

সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্বর্ণা এবং রাজ চলে যায়। এখন হয়তো তাদের নতুন জীবনের সূচনা ঘটবে।

তারা চলে যাওয়ার পর সূর্য বৃষ্টির কাছে এসে বলে,
-“অন্যকে জ্ঞান দিতে তো বেশ ভালোই পারেন।তা নিজের বেলায় সেসব মানার কথা কি মনে থাকেনা?”

-“মানে কি বলতে চাচ্ছেন আপনি? আমি আপনার কথার কিছু বুঝতে পারছি না।”

-“দেখো বৃষ্টি তুমি এতোটাও অবুঝ নও যে বুঝতে পারবে না।অনেকদিন আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে।এতদিনে আমাদের সম্পর্ক আর চার পাঁচটা স্বাভাবিক দম্পত্তির মতো কখনো হয়নি।প্রথমে অবশ্য আমার দোষ ছিল কিন্তু তুমি তো জানো কি কারণে আমি তখন তোমার সাথে ওরকম ব্যবহার করেছিলাম।সেসব কথা এখন আর বলতে চাইছি না।আজ থেকে কিন্তু আমাদের নতুন জীবন শুরু হবে।তুমি প্রস্তুত তো আমার সাথে একটা নতুন জীবন শুরু করতে।”

বৃষ্টি কি বললে ভেবে পারছিল না।শেষে মাথা নাড়িয়ে রুমে চলে যায়।সূর্য মুচকি হেসে বলে,
-“আজকে আমাদের জীবনের এক নতুন মোড় রচিত হবে।ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে যাব দুজনে।”
_________
বৃষ্টি রুমে একা বসেছিল।অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল সূর্যর জন্য।সূর্য তখন যে তাকে বলল আজ তারা নতুনভাবে সবকিছু শুরু করবে বৃষ্টির মনে সেই থেকে অদ্ভুত রোমাঞ্চকর শিহরণ হচ্ছে।বিয়ের পর এতদিন সূর্যর সাথে থাকতে থাকতে তার সূর্যর প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছে।

সূর্য হঠাৎ রুমে চলে আসে।বৃষ্টি লজ্জায় গুটিয়ে যায়।সূর্য বৃষ্টিকে বলল,
-“লজ্জা পাচ্ছো কেন বৃষ্টি? আমি তো এখনও কিছু করিইনি।”

-“মানে?”

-“কিছু না।”
কথাটা বলে সূর্য ওয়াশরুমে চলে যায়।বৃষ্টি গুটি গুটি পায়ে বিছানা থেকে উঠে সোফায় গিয়ে বসে।সূর্য বাইরে এসে বলে,
-“চলো একটি ছাঁদ থেকে ঘুরে আসি।”

বৃষ্টি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে।তারপর চুপচাপ সূর্যর সাথে ছাঁদে চলে যায়।সূর্য একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে চাঁদের দিকে।বৃষ্টির খুব বিরক্ত লাগছিল সূর্যকে এভাবে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে।সূর্য সেটা বুঝতে পেরে বলে,
-“চাঁদকে নিজের সতীন মনে করে হিংসা করোনা।আমি শুধু চাঁদকেই ভালোবাসি।তুমি আমার স্ত্রী আর চাঁদ আমার প্রেমিকা।”

বৃষ্টি খুব রেগে যায়।সূর্যকে বলে,
-“তাহলে আপনার চাঁদকে নিয়েই থাকুন।আমি যাচ্ছি এখান থেকে।”

সূর্য বৃষ্টিকে আটকিয়ে বলে,
-“শেষপর্যন্ত চাঁদের মতো একটা উপগ্রহকে হিংসা করবে যার আদতে কোন প্রাণ নেই!”

বৃষ্টি বলে,
-“আপনি চাঁদকে ভালোবাসতে পারলে আমি কেন পারবোনা চাঁদকে হিংসা করতে?”

সূর্য মুচকি হেসে বলে,
-“আপনি না বলে তুমি বললে আমি আকাশের চাঁদকে ভুলে গিয়ে নিজের চাঁদের মতো বউকে ভালোবাসব।”

-“কি বলছ? তুমি করে বলতে হবে। আচ্ছা বললাম ‘তুমি’।”

-“আমার ভালোবাসা পাওয়ার এত ইচ্ছে।”

-“ওতোটাও না।”

কথাটা বলে বৃষ্টি চলে যেতে ধরে তখন সূর্য বৃষ্টির হাত ধরে একটা টান দেয়।বৃষ্টি সূর্যর একেবারে কাছে চলে আসে।সূর্য ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে বৃষ্টির দিকে।বৃষ্টি পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু সূর্য তাকে শক্ত করে ধরে রাখে।একটু একটু করে এগিয়ে গিয়ে সূর্য নিজের ওষ্ঠদ্বয় আলতো করে ছুয়ে দেয় বৃষ্টির নরম গালে।যার ফলে বৃষ্টির সারা গায়ে রোমাঞ্চকর শিহরণ বয়ে যায়।সূর্য আজ বৃষ্টিকে তার সর্বস্ব দিয়ে ভালোবাসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তাই ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে বৃষ্টির কাছে।বৃষ্টিকে কোলে করে নিয়ে চলে যায় নিজেদের রুমে।

রুমে গিয়ে তারা দুজনে একে অপরের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।সারাতা রাত তন্দ্রাহীন কা*টিয়ে দেয় দুজনে।বৃষ্টি সূর্যর বুকে মুখ লুকানোর চেষ্টা করে।সূর্য বলে,
-“তোমাকে এত লজ্জা পেতে দেখে অনেক অবাক হচ্ছি।”

বৃষ্টি আমতা আমতা করে বলে,
-“আগে কোনদিন কারো এত কাছে আসিনি তাই লজ্জা হচ্ছে।”

-“তারমানে তুমি বলতে চাচ্ছ আমি এর আগে অনেকের কাছে গিয়েছি।”

-“হ্যাঁ।তোমাকে দেখে তো প্লেবয় মনে হয়।”

-“কি বললে আমি প্লেবয়?”

-“আচ্ছা বাদ দাও এখন এসব কথা।এখন আমি ঝগড়া করার মুডে নেই।একটা কথা বলব?”

-“হুম বলো।”

-“আমি না মানে আমেরিকা যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট ভিসা করিয়ে রেখেছিলাম।ভেবেছিলাম কিছুদিন পর ডিভোর্স হলে বিদেশে ট্যুর করতে যাব।”

ডিভোর্সের কথা শুনে সূর্যর মাথা গর হয়ে যায়।বৃষ্টি সেটা বুঝতে পেরে বলে,
-“এখন তো আর সেই ইচ্ছে নেই তাই ভাবছি আমরা বরং আমেরিকায় হানিমুনে চলে যাই।”

-“এটা কি করে সম্ভব? আমার তো আর আমেরিকার পাসপোর্ট বা ভিসা কোনটাই নেই।আমি কি করে যাব।তাছাড়া আমার অফিস আছে।”

-“না থাকলে বানিয়ে নাও।আমি কোন কথা শুনতে চাইনা।আর অফিস থেকে দরকার হলে ছুটি নিয়ে নিও।”

-“এভাবে কিছু হয়না বৃষ্টি।তুমি বুঝতে চাইছ না কেন?”

-“আমার কিছু বোঝার দরকার নেই।হয় তুমি আমার সাথে আমেরিকা যাবে আর নাহয় আমি একাই চলে যাবো ট্যুর করতে।এখন তুমি ভেবে দেখো কি করবে।”

-“আমাকে কিছু সময় দাও।আমি দেখছি কি করা যায়।”

বৃষ্টির মনটা খারাপ হয়ে যায়।সে কতকিছু ভেবে রেখেছিল যে আমেরিকায় যাবে।নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে সূর্যর হাত ধরে।শিকাগোর সমুদ্র দেখতে যাবে।তা না এখন বসে বসে আঙুল চুসতে হবে।বৃষ্টির মুডটাই একদম নষ্ট হয়ে যায়।
________
একদিন পেরিয়ে যায়।বৃষ্টির মনটা বড্ড খারাপ।সূর্য এখনো আমেরিকা যাওয়ার ব্যাপারে কিছু জানায় নি।বৃষ্টির খুব অভিমান হয় সূর্যর উপর।

হঠাৎ করে সূর্য রুমে চলে আসে এবং বলে,
-“একেই বলে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।জানো বৃষ্টি কি হয়েছে?”

বৃষ্টি কোনরকম আগ্রহ না দেখিয়ে ফ্যাকাস মুখে জানতে চায়,
-“কি হয়েছে?”

-“আমার অফিস থেকে একটা ডিল ফাইনাল করার জন্য আমাকে আমেরিকায় পাঠানোর ডিসিশন নেওয়া হয়েছে।তুমি রেডি হয়ে থেকো দুদিন পরেই আমরা আমেরিকা যাচ্ছি হানিমুনে।”

সূর্যর কথা শুনে বৃষ্টির মলীন মুখে হাসি ফুটে ওঠে।সে সূর্যকে হাগ করে তারপর তার হালে কি’স করে বলে,
-“থ্যাংক ইউ সো মাচ।”

বৃষ্টিকে এভাবে খুশি হতে দেখে সূর্যও অনেক খুশি হয়।
(চলবে)

#বিবাহ_বন্ধন
#পর্ব_২৪
#লেখক_দিগন্ত
বৃষ্টি আর সূর্য অবশেষে হানিমুনের জন্য অবশেষে আমেরিকায় পা রাখে। বৃষ্টি আসার আগে যতোটা এক্সাইটেড ছিল আমেরিকায় আসার পর তার সব এক্সাইমেন্ট মাটি হয়ে যায়। কারণ বৃষ্টি চেয়েছিল প্রথমে নিউইয়র্কে নিজের খালার বাসায় যাবে তারপর সেখান থেকে শিকাগোতে ঘুরতে যাবে। এদিকে সূর্য অফিসের কাজে তাকে নিয়ে এসেছে আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে।

সূর্য বৃষ্টিকে রেগে থাকতে দেখে বলে,
-“এতো রাগ করার কিছু নেই।তুমি আমেরিকায় আসতে চেয়েছিলে সেখানেই নিয়ে এসেছি।তোমার তো খুশি হওয়ার কথা ছিল।”

বৃষ্টি রাগ দেখিয়ে বলে,
-“ওয়াশিংটনে আমি দেখবো টা কি? ভেবেছিলাম নিউইয়র্কে গিয়ে তুষারপাত দেখব,শিকাগোর সমুদ্র দেখব। তা না এখন কি হোয়াইট হাউজ দেখতে হবে আমায়?”

-“তুমি একটু বেশি রিয়্যাক্ট করছ বৃষ্টি। সুযোগ পেলে অবশ্যই তোমাকে অন্য শহরে নিয়ে যাব।”

বৃষ্টি মুখ গোমড়া করে থাকে।তারা দুজন একটি হোস্টেলে ওঠে।সূর্য এরপর তার কাজে বেরিয়ে যায়।বৃষ্টি একা হোস্টেলে থেকেই বোর হয়ে যায়।সূর্যর উপুর রাগ করে শেষপর্যন্ত বৃষ্টি সিদ্ধান্ত নেয় কাউকে কিছু না বলে নিউইয়র্কে চলে যাবে।বৃষ্টি একটা দুষ্টু হাসি দেয়।
_________
স্বর্ণা আর রাজ একটি কফিশপে মুখোমুখি বসেছিল।রাজ সকাল থেকে স্বর্ণার সাথে কোন কথা বলছে না।স্বর্ণা ভেবে পাচ্ছেনা কি কারণে রাজ এমন করছে।দীর্ঘ মৌনতা ভেঙে রাজ বলে,
-“শোন স্বর্ণা আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে এবার আমরাও ঘুরতে যাবো।”

-“কোথায়?”

-“হানিমুনে।”

-“এত জলদি?”

-“হুম চলো না আমরা সিলেট থেকে ঘুরে আসি।”

স্বর্ণা কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না।রাজের আবদার ফেলতেও পারছিল না।বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে এভাবে ঘুরতে যাওয়া ঠিক হবে কিনা সেটাও ভাবছিল স্বর্ণা।রাজ সেটা বুঝতে পেরে বলে,
-“তিন দিন পর চিত্রার বিয়ে।আমরা আজ গিয়ে কাল চলে আসবো।কোন সমস্যা হবে না।”

স্বর্ণা রাজের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।রাজ খুশিতে স্বর্ণাকে জড়িয়ে ধরে।স্বর্ণা লজ্জা পেয়ে বলে,
-“কি করছো বলো তো।চারিদিকে কত মানুষ সবাই এদিকে দেখছে।”

-“দেখতে দাও।আমি আমার বিবাহিত স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেছি।এটাতে তো কেউ বাধা দিতে পারে না।”

স্বর্ণা,রাজ বেরিয়ে পরে সিলেটের উদ্দ্যেশ্যে।তাদের এখন ইচ্ছা সিলেটে সুন্দরভাবে হানিমুন ইনজয় করা।
______
সূর্য অফিস থেকে ফিরে এসে বৃষ্টিকে না দেখে পাগলপ্রায় হয়ে যায়।চারিদিকে বৃষ্টির খোঁজ করে কিন্তু বৃষ্টির কোন চিহ্ন নেই।হঠাৎ সূর্যর ফোনে বৃষ্টির ম্যাসেজ আসে।
-“ওহে সূর্য,
আমি এখন স্নো ফল(তুষারপাত) ইনজয় করছি নিউইয়র্কে।তুমি ওয়াশিংটনে বসে বসে অফিসের কাজ করো।এদিকে আমি তুষারপাত ইনজয় করি।”

ম্যাসেজটা দেখে সূর্যর মাথা পুরো গরম হয়ে যায়।সূর্য কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না তখনই অফিস থেকে তাকে মেইল করা হয় যে,
-“যেই কোম্পানির সাথে তোমাকে ডিল করতে পাঠানো হয়েছে তার সিইও বর্তমানে নিউইয়র্কে আছে।নিউইয়র্কে গিয়ে তার সাথে দেখা করে ডিল ফাইনাল করতে হবে।”

মেইলটা দেখে সূর্যর মুখে হাসি ফুটে ওঠে।সূর্য বাঁকা হেসে বলে,
-“আমিও আসছি বৃষ্টি নিউইয়র্কে।”

সূর্য মর্জিনা বেগমের থেকে বৃষ্টির খালার ঠিকানাটা নিয়ে নেয়।

এদিকে বৃষ্টি তার খালার বাড়িতেই ছিল।বাইরে থেকে তুষারপাত দেখে বৃষ্টির খুব ইচ্ছা করছিল বাইরে গিয়ে তুষারপাত দেখা কিন্তু তার খালা কিছুতেই বৃষ্টিকে বাইরে যেতে দেয়না।

পরের দিন সকালে উঠে বৃষ্টি দেখে তুষারপাত কমে গেছে।তখন বৃষ্টি তার খালার কাছে বায়না ধরে বাইরে যাওয়ার।বৃষ্টির খালাতো ভাই স্যামুয়েল তার মাকে রাজি করিয়ে বৃষ্টিকে বাইরে নিয়ে আসে।

বৃষ্টির সাথে স্যামুয়েলের বেশ ভাব।স্যামুয়েল ছোটবেলা থেকে আমেরিকায় মানুষ হলেও সে বেশ ভালো বাংলা বলতে পারে।

বৃষ্টি স্যামুয়েলের সাথে বরফ ছোড়াছুড়ি করতে থাকে।তুষারপাতের সময় এটা খুবই মজার একটি খেলা।বৃষ্টি এইরকমই একটা বরফের গোলা তৈরি করে স্যামুয়েলের দিকে ছু*ড়ে দেয় কিন্তু স্যামুয়েল মাথা নামিয়ে নিএ বরফের গোলাটি তার পিছনে দাড়িয়ে থাকা একজনের গায়ে গিয়ে লাগে।

বৃষ্টি অবাক হয়ে বলে,
-“সূর্য তুমি! ওয়াশিংটন থেকে নিউইয়র্ক কখন এলে?”

সূর্য নিজের জামাকাপড় থেকে বরফ ঝাড়তে ঝাড়তে বলে,
-“অফিস থেকেই পাঠানো হয়েছে।কাল রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছি।বরফ পড়ে রাস্তার যা অবস্থা তাই আসতে একটু দেরি হলো।”

-“ও স্যাম মিট মাই হাজবেন্ড সূর্য।আর সূর্য ও আমার খালাতো ভাই স্যামুয়েল ওরফে স্যাম।”

স্যামুয়েল সূর্যকে দেখে বলে,
-“সূর্য মানে সান।”

সূর্য স্যামুয়েলের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে,
-“হ্যালো মাই নেম ইজ সূর্য।”

-“আসসালামু আলাইকুম।মাই নেম ইজ স্যামুয়েল মোর্শেদী।”

সূর্য অবাক হয় স্যামের কথা শুনে।স্যাম সূর্যকে অবাক হতে দেখে বলে,
-“আমার বাবা-মা দুজনেই বাংলাদেশী।আমার বাবা একটু আধুনিকমনস্ক তাছাড়া এখানকার পরিবেশে থেকে তিনি আমার নাম এখানকার মতোই রেখেছেন।তবে আমার আরো একটা ভালো নাম আছে আমার মায়ের দেওয়া সেটা হলো আরিয়ান।”

বৃষ্টি সূর্যকে বলে,
-“তুমি যখন এসেই গেছ তখন চলো আমরা একটু বরফ নিয়ে খেলি।”

-“তুমি কি ছোট বাচ্চা যে বরফ নিয়ে খেলবে? চলো ভেতরে এভাবে এখানে থাকলে শরীর খারাপ করবে।”

বৃষ্টি মন খারাপ করে ভেতরে যায়।সূর্য মনে মনে হেসে বলে,
-“এটা আমাকে না বলে চলে আসার শাস্তি।কিন্তু তুমি কোন চিন্তা করো না বৃষ্টি।আমরা ঠিকই মজা করব।”
_______
কয়েক ঘন্টা পর সূর্য বৃষ্টিকে বলে,
-“চলো বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি।স্যামুয়েল বলছিল আমাদের নিউইয়র্ক ঘুরিয়ে দেখাবে।”

বৃষ্টি সূর্যর কথাশুনে খুশিতে রেডি হতে শুরু করে।শীতের পোশাক গায়ে জড়িয়ে তারা সবাই বেড়িয়ে পরে নিউইয়র্কের রাস্তায়।

চারিদিকে উঁচু উঁচু বিল্ডিংগুলো সব গগণচুম্বী।টাইম স্কয়ারের কাছে এসে থেমে যায় বৃষ্টি।টাইম স্কয়ার দেখে সে আজ খুব খুশি।

মোবাইল বের করে ছবি তুলে নেয়।তারপর সূর্যকে বলে,
-“কাল কিন্তু আমরা শিকাগো যাবো।”

-“না বৃষ্টি কাল আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

-“এতো তাড়াতাড়ি?”

-“অফিসে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপস্থিত হতে হবে।তুমি কোন চিন্তা করো না।এরপর আমেরিকায় আসলে শিকাগোতে অবশ্যই যাবো।”

বৃষ্টি মলিন হাসে।সূর্য বুঝতে পারে বৃষ্টি দুঃখ পেয়েছে।তবে সূর্য জানে বৃষ্টিকে কিভাবে খুশি করতে হবে।

স্যামের সাথে মিলে বৃষ্টিকে খুশি করার পরিকল্পনাও করে নিয়েছে।
_______
সূর্য আর স্যামুয়েল মিলে বৃষ্টিকে খুশি করার জন্য বেলকনিতে ক্যান্ডেল নাইট ডিনারের আয়োজন করেছে।

এদিকে বৃষ্টি হিসেব করছে পরেরবার আমেরিকায় আসলে কি করবে।হলিউড টাউনে তো অবশ্যই যাবে।ছোটবেলা থেকে মার্বেল কমিকসের ফ্যান বৃষ্টি।স্পাইডার ম্যান তার ফেভারেট ক্যারেক্টর।

সূর্য স্যামকে দিয়ে বৃষ্টিকে ডেকে পাঠায়।বৃষ্টি রুমে গিয়ে দেখে বেলকনিতে স্পাইডার ম্যান দাঁড়িয়ে আছে।না ঠিক স্পাইডার ম্যান নয় সূর্যই স্পাইডার ম্যানের মতো ড্রেজ পড়েছে।

সূর্য বৃষ্টিকে বলে,
-“এসো তোমার প্রিয় স্পাইডারম্যানের সাথে ক্যান্ডেল নাইট ডিনার এনজয় করো।”

বৃষ্টি খুশিতে গদগদ হয়ে সূর্যর পাশে বসে।বেলকনি থেকে তুষারপাত ইনজয় করতে করতে একসাথে খাচ্ছে তারা।

খাওয়া শেষ করে বৃষ্টির কপালে নিজের ওষ্ঠদ্বয় আলতো করে স্পর্শ করে সূর্য বলে,
-“এভাবেই তোমার সব ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করব বৃষ্টি।তোমার মুখে এই হাসি সবসময় দেখতে চাই।”
__________
সিলেটে সকাল থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বর্ণা ও রাজ।

রাজ স্বর্ণাকে নিয়ে জাফলং এ এসেছে।খুব সুন্দর একটি যায়গা।সারাদিন ঘোরাঘুরির পর রাতে হোটেলে ফিরে রাজ স্বর্ণাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার প্ল্যান করে।গোটা রুম গোলাপফুল আর লাভ শেফের বেলুন দিয়ে সাজানো।

রাজ আবার স্বর্ণাকে প্রপোজ করে।স্বর্ণা এবারও আগেরবারের মতো হ্যাঁ বলে।তখন রাজ স্বর্ণাকে নিজের কাছে টেনে নেয়।

আজকের রাত আবারো সাক্ষী হয় ভালোবাসার।
(চলবে)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ