Friday, June 5, 2026







বর্ষণের সেই রাতে- ২ পর্ব-১৪+১৫

#বর্ষণের সেই রাতে- ২
#লেখিকা: অনিমা কোতয়াল

১৪.

অনিমা এখনও বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। নতুন ভার্সিটিতে এসে এরকম চমক পাবে ভাবতেও পারেনি। এতটাই অবাক হয়েছে যে মুখ দিয়ে কোন কথা বেড় হচ্ছে না। সামনের ব্যাক্তির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর চোখ ছলছল করে উঠল। মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বেড়িয়ে এল,

” তীব্র।”

তীব্রও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অনিমার দিকে। অনিমা তীব্রকে সাথেসাথে চিনে ফেললেও তীব্রর অনিমাকে চিনতে কয়েক সেকেন্ড লাগল। কারণ ও যেই অনিমাকে চিনতো সেই অনিমা আর এই অনিমার মধ্যে পার্থক্য আছে। আগের মত গুলুমুলু টাইপ নেই, অনেকটা শুকিয়ে গেছে। চুল লম্বা হয়েছে। আগের চেয়ে বড় বড় লাগছে। দীর্ঘ চারবছর পর দেখছে একে ওপরকে। তীব্রর মধ্যে একটু স্বাস্থ্য ভালো হওয়া ছাড়া বিশেষ কোন পরিবর্তন না আসলেও অনিমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসছে। তীব্র চোখ মুখও খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা। বলার মত কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছেনা। শুধু তাকিয়ে আছে অনিমার মুখের দিকে। এরমধ্যেই পেছন থেকে মেয়েলী কন্ঠে কেউ একজন বলতে বলতে এল,

” তীব্র, আজ এত লেট করে এলি কেন? স্নেহা কখন থেকে কল..”

এটুকু বলে অনিমাকে দেখতে পেয়েই থমকে গেল মেয়েটা। গলা দিয়ে আওয়াজ বেড়ে হচ্ছে না। ওরও চিনতে পাঁচ-ছয় সেকেন্ড লেগেছে। মেয়েটাকে দেখে অনিমা আরেকদফা ঝটকা খেলো। আবারও একইভাবে মুখ দিয়ে ‘অরু’ শব্দটা বেড়িয়ে এলো। অরুমিতা এক মুহূর্ত দেরী না করে একপ্রকার দৌড়ে এসে অনিমাকে জড়িয়ে ধরল। অনিমাও দুহাতে জড়িয়ে নিল অরুমিতাকে। তীব্রও ধীরপায়ে এগিয়ে এলো। অরুমিতা অনিমাকে ছেড়ে বলল,

” কেমন আছিস তুই? এভাবে গুম হয়ে যায় কেউ? এতোটা স্বার্থপর কীকরে হলি?”

তীব্র অনিমার কাধে হাত রেখে বলল,

” তুই ঠিক আছিস তো?”

অনিমা কী বলবে ও তো নিজের শক থেকেই বেড়োতেই পারছেনা। তীব্র আরেকবার ডাকতেই অনিমার হুস এল। ও স্হির চাহনীতে কিছুক্ষণ দুজনের দিকে তাকিয়ে থেকে কেঁদে দিল। তীব্র আর অরুমিতা ওকে ধরে ক্যান্টিনে নিয়ে গিয়ে বসাল। অনিমা নিরবে কেঁদেই যাচ্ছে। অরুমিতা বলল,

” কান্না বন্ধ কর।”

অনিমা জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে চোখ মুছে ভাঙা গলায় বলল,

” জানিস কত মিস করছিলাম তোদেরকে?”

তীব্র গম্ভীর কন্ঠে বলল,

” সেইজন্যেই এভাবে গুম হয়ে গেছিলি?”

” আমি কীকরে থাকতাম। আব্বু মারা যাওয়ার পর আমিতো গ্রামে আমাদের দেশের বাড়ি চলে গেছিলাম।”

অরুমিতা বলল,

” আঙ্কেলের এক্সিডেনট আর মারা যাওয়ার কথা জানি আমরা। তাই বলে একটু যোগাযোগ করবি না? জানিস কতবার তোর সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলাম?”

অনিমা কিছক্ষণ চুপ থেকে বলল,

” আমি চাইলেও যোগাযোগ করতে পারতাম না। আমার কাছে কোন উপায় ছিলোনা।”

তীব্র ভ্রু কুচকে বলল,

” কিন্তু তুই এই ভার্সিটিতে? তোর হাজবেন্ড কোথায়?”

অনিমা অবাক হয়ে গেল। কী বলছে কী তীব্র? হাজবেন্ড কোথা থেকে আসবে। ও অবাক হয়ে বলল,

” হাজবেন্ড?”

অরুমিতা অনিমার এরকম প্রতিক্রিয়ায় অবাক হয়ে বলল,

” হ্যাঁ! আমরা তো গেছিলাম তোদের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে তোর মামা মামী তো বলল তোর নাকি বিয়ে হয়ে গেছে? মিনিস্টার রঞ্জিত চৌধুরীর ছেলে রিক চৌধুরীর সাথে?”

অনিমা কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকার পর একটু হাসল। নাক টেনে নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,

” মিথ্যা কথা বলেছে। আমার কোন বিয়ে হয়নি। তবে এটা ঠিক যে গোটা একটা বছর আমি মিনিস্টার রঞ্জিত চৌধুরীর বাড়িতে তার হবু বউমার পরিচয়েই ছিলাম।”

তীব্র, অরুমিতা দুজনেই চরম অবাক হল। অরুমিতা অস্হির কন্ঠে বলল,

” কিন্তু ওনারা মিথ্যা কথা কেন বলল? আর তুই বা ঐ বাড়িতে কেন ছিলি? তাও বিয়ের আগেই?”

তীব্র বলল,

” দেখ আমরা জানি তুই কেমন মেয়ে। তুই অন্তত নিজের ইচ্ছাতে ওরকম বাড়িতে বিয়ে করে যেতে চাইবিনা। বিয়ের আগেই ঐ বাড়িতে পরে থাকাতো অনেক দূরের কথা। কী হয়েছে সেটা বল। মাঝখানে নিশ্চয়ই অনেক কিছুই ঘটে গেছে। ক্লিয়ারলি বল।”

অনিমা কিছু বলল না। হঠাৎ করেই আবার মাথা হালকা ব্যাথা করে উঠল। আগের মত ও হুটহাট সব ভুলে যায়না ঠিকই কিন্তু আগের কথা ভাবলেই এখন মাথা ব্যাথা করে ওঠে। এখনও তাই করছে। তীব্র ব্যাপারটা বুঝতে পারল। তাই কথা ঘুরিয়ে নিল। এরপর অনেকটা সময় বিভিন্ন রকমের কথাবার্তা বলল। চারবছর পর বেস্টফ্রেন্ডদের সাথে দেখা হলে যা হয় আরকি। আস্তে আস্তে অনিমাও নরমাল হল। সেভাবেই ওদের সাথে মিশে গেল যেভাবে চারবছর আগে মিশতো। কথায় কথায় তীব্র বলল,

” এখন কোথায় আছিস? ঐ বাড়িতেই?”

অনিমা না বোধক মাথা নাড়ল। অরুমিতা বলল,

” তাহলে কোথায় আছিস?”

অনিমা আশেপাশে তাকিয়ে মুখ ছোট করে বলল,

” আগে বল অভার রিঅ‍্যাক্ট করবি না?”

তীব্র আর অরুমিতা দুজনেই সম্মতি জানালো। অনিমা এরপর ওর ঐ মেয়ে পাচার এর ঘটনা থেকে শুরু করে আদ্রিয়ানের সাথে দেখা হওয়া বাকি সব খুলে বলল। সবটা শুনে অরুমিতা আর তীব্র দুজনেই হতভম্ব হয়ে গেল। যেনো আকাশ থেকে পরেছে দুজন। অরুমিতা চরমভাবে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলল,

” রকস্টার এ.ডি.। মানে আদ্রিয়ান আবরার জুহায়েরের বাড়িতে কথা বলছিস তুই?”

অনিমা মাথা নাড়ল। তীব্র একইরকম অবাক হয়ে বলল,

” আই কান্ট বিলিভ! যেই এ.ডি এর সাথে একটা সেলফি তুলতেও আমাদের হুমরি খেয়ে পরতে হয়। আমাদেরই বেস্ট ফ্রেন্ড তার সাথে একই বাড়িতে থাকছে, খাচ্ছে, ইভেন তার দায়িত্বে এই ভার্সিটিতে স্টাডিও শুরু করেছে? ভাবা যায়?”

অনিমা মাথা নিচু করে বসে আছে। তীব্র আর অরুমিতা অনেকটা সময় পর শক থেকে বেড়িয়ে এল। অরুমিতা এবার একটু গলা ঝেড়ে বলল,

” না মানে ব্যাপারটা কী শুধু দায়িত্ব, শ্রদ্ধা এ বাড়িতে থাকা ইত্যাদি ইত্যাদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে নাকি সামথিং সামথিং?”

অনিমা হেসে অরুমিতার পিঠে থাপ্পড় মেরে বলল,

” শয়তান। এখনও সেই আগের মতই আছিস।”

তীব্র বলল,

” আরে ভুল কী বলল? দেখ এমনি এমনি তো আর উনি তোর জন্যে এতকিছু করছেন না। আচ্ছা তোর কী মনে হয়? একটা অপরিচিত মেয়ের জন্যে শুধুই দায়িত্বের খাতিরে কেউ এতকিছু করে?”

অনিমা মুচকি হেসে বলল,

” তোরা ওনাকে চিনিসনা তাই এসব কথা বলছিস। উনি মন থেকে একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ। ওসব সো কলড সেলিব্রিটিদের মত একদম না। একদিন কথা বললেই বুঝতে পারবি।”

তীব্র অরুমিতা একেওপরের দিকে তাকিয়ে একটা লম্বা শ্বাস ফেলল। মেয়েটা একটুও বদলায় নি এখনও ঠিক আগের মতই আছে। এইসব বিষয় সহজে বুঝতে পারেনা। আর অনিমা মনে মনে প্রচন্ড খুশি আজ। আজ ও ওর পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছে ওর বেস্ট ফ্রেন্ডদের খুঁজে পেয়েছে। আর সবটাই পেরেছে আদ্রিয়ানের জন্যে। লোকটাকে চাইলেও ও কোনদিন ভুলতে পারবেনা। ওর জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট ঐ মানুষটা।

___________

রাত আটটার পর আদ্রিয়ান বাড়িতে ফিরল। একটু তাড়াতেই আছে ও। আজ অনিমা প্রথম দিন ছিল নতুন ভার্সিটিতে। কাজের জন্যে মেয়েটাকে আনতে যেতেও পারেনি। কেমন গেছে দিনটা কে জানে? বেল চাপতেই সার্ভেন্ট এসে দরজা খুলে দিল। আদ্রিয়ান ভেতরে ঢুকে ড্রয়িং রুম পাস করতে যাবে তখনই অনিমা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল আদ্রিয়ানকে। আদ্রিয়ান কয়েক সেকেন্ডের জন্যে স্তব্ধ হয়ে গেল। অনিমা নিজেও বুঝছেনা এক্সাইটমেন্টে ও কী করছে। অনিমা আদ্রিয়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,

” থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ সো মাচ।”

আদ্রিয়ান ইতস্তত করে ওখানে থাকা দুজন সার্ভেন্টের দিকে তাকাল। ওনারা ঠোঁট চেপে হেসে চলে গেল। আদ্রিয়ান এখনও বুঝতে পারছেনা কী হয়েছে। আদ্রিয়ান কিছু বলার আগেই অনিমা আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে রেখেই বলল,

” আজকে আমি অনেক খুশি। আপনি জানেন আজ আমার কাদের সাথে দেখা হয়েছে?”

সাথেসাথেই আদ্রিয়ান মুখ অন্ধকার হয়ে এল। কোন পরিচিতদের সাথে দেখা হয়েছে? তারমানে কী? অনিমা চলে যাবে এ বাড়ি ছেড়ে? আদ্রিয়ান কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,

” কার সাথে?”

অনিমা আদ্রিয়ানকে না ছেড়েই উচ্ছসিত কন্ঠে বলল,

” আমার স্কুল লাইফের ফ্রেন্ডস। ইনফ্যাক্ট আমার অলটাইম বেস্ট ফ্রেন্ডস। অরুমিতা আর তীব্রর সাথে দেখা হয়েছে। জানেন ওরা আমার সাথেই আমার ডিপার্টমেন্টে আছে।”

আদ্রিয়ান একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে এতক্ষণ বাড়তে থাকা হৃদস্পন্দন আর টেনশনকে কমিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিল। জোরে জোরে দুটো শ্বাস নিয়ে অনিমার পিঠে হাত রেখে বলল,

” বুঝতে পেরেছি। এবার ছাড়ো।”

অনিমার সাথে সাথেই হুস এলো যে ও কী করছে। দ্রুত ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে সরে দাঁড়াল। লজ্জায় আদ্রিয়ানের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারছেনা। নিজের ওপরই নিজের রাগ হচ্ছে এই মুহূর্তে ওর। এতো ওভার এক্সাইটেড হয়ে কী উল্টোপাল্টা কাজ করছিল।আদ্রিয়ান অনিমাকে লজ্জা পেতে দেখে ঠোঁট চেপে হাসল। তারপর বলল,

” কফি নিয়ে রুমে এসো। ওখানে কথা বলছি।”

বলে জ্যাকেট খুলতে খুলতে ওপরে চলে গেল। অনিমা মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে হেসে দিয়ে নিজের মাথাতে একটা চাটা মারল। আজ ওর মনটা বেশ ফুরফুরে। ও ভার্সিটি গেছে তাও স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে, নিজের মত করে। কারো তৈরী করে দেওয়া নিয়ম বা গন্ডিতে থেকে না। তারওপর অরুমিতা আর তীব্রকে ফিলে পাওয়া সব মিলিয়ে অনেকটা হালকা লাগছে নিজেকে। সবটাই আদ্রিয়ানের জন্যে। এসব ভাবতে ভাবতেই ও রান্নাঘরে চলে গেল। কফি বানিয়ে নিয়ে আদ্রিয়ানের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখল আদ্রিয়ান ফ্রেস হয়ে বেড়িয়ে গেছে। চুল মুছছে। পরনে একটা গেঞ্জি আর থ্রি কোয়ার্টার। অনিমা গলা ঝেড়ে বলল,

” আসব?”

” হ্যাঁ এসো, এসো।”

অনিমা কফিটা নিয়ে আদ্রিয়ানের দিকে এগিয়ে দিল। আদ্রিয়ান কফিটা হাতে নিয়ে বলল,

” থ্যাংকস।”

অনিমা চলে যেতে নিলেই আদ্রিয়ান ডেকে বলল,

” আরে কোথায় যাচ্ছ? বসো।”

অনিমা জানে এখন ও না বসলে ওকে টেনে বসাবে। তাই চুপচাপ বেডের একপাশে বসে পরল। আদ্রিয়ানও ওর পাশে বসে বলল,

” কোন বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে বললে?”

অনিমা সব সংকোচ কাটিয়ে আবার খুশি হয়ে উঠল। খুশি মনে আদ্রিয়ানকে সব বলল। এমনকি তীব্র, অরুমিতা ওর কেমন বন্ধু, কীকরে বন্ধুত্ব হলো, ওদের স্কুল লাইফের অনেক অনেক সুন্দর মুহুর্তগুলোর কথা বলছে। বলছে তো বলেই চলেছে থামছেই না। আদ্রিয়ান একদৃষ্টিতে দেখছে ওর মায়াবিনীকে আর কফির মগে চুমুক দিচ্ছে। আজ একটাদিন মুক্ত পাখির মত উড়তে পেরে কতটা খুশি ও। কয়েকদিনেই অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়ে ফেলেছে মেয়েটা তাকে। যত সময় যাচ্ছে সেই মায়াজালে ততই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাচ্ছে। কেন জানিনা এই মেয়েটার হাসিখুশি মুখটা ওকে অদ্ভুত শান্তি দেয়। এমন মনে হয় ওর জীবনের একটাই লক্ষ্য, জগতের সমস্ত সুখ এই মেয়েটার পায়ের কাছে এনে ফেলা। ওকে সম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী ঘোষণা করা।

___________

আজ সকালেই রিক বাংলাদেশে ল্যান্ড করেছে। গাড়ি করে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে এখন। মনটা অস্হির হয়ে উঠছে নিজের নীলপরীকে দেখার জন্যে। কতদিন দেখেনি ওকে। আজকে বাড়ি ফিরেই তাকে দেখতে পাবে বিষয়টা ভেবেই মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠছে। কিন্তু মেয়েটার প্রতি যথেষ্ট রাগও জমে আছে ওর। এতগুলো দিন ওর সাথে কথা বলেনি, এতো সাহস হয় কীকরে? এর জন্যে কড়া রকমের একটা শাস্তি তো ওর পাওনাই আছে। বাড়ির সামনে গাড়ি থামতেই ও গাড়ি থেকে নেমে সোজা ভেতরে ঢুকল ও। ড্রয়িং রুমে রঞ্জিত চৌধুরী, কবির শেখ দুজনেই বসে আছেন। রিকের জন্যেই অপেক্ষা করছে। রিক ফিরে এসে যে একটা কুরুক্ষেত্র বাঁধাবে সেটা জানে তারা। আর সেই কুরুক্ষেত্রের ভয়াবহতা সামলাতে গুহ রচনা করে ফেলেছেন কবির শেখ। রিক ভেতরে এসে ওনাদের দেখে হাসল। হাসি মুখেই বলল,

” হাই ড্যাড, কেমন আছো?”

রঞ্জিত চৌধুরী নিউজপেপার থেকে চোখ সরিয়ে মেকি হাসি দিয়ে বললেন,

” আছি। তোমার কী খবর সেটা বল? সব ঠিকঠাক আছে তো?”

” হ্যাঁ।”

কবির শেখ উঠে এসে রিককে জড়িয়ে ধরলেন। একটু কুশল বিনিময় করলেন। রিক এদিক ওদিক তাকিয়ে অনিমাকে খুঁজছে। ও এতদিন পরে এসছে একটু দেখতেও এলোনা। সত্যিই মেয়েটা রুড, ভীষনই রুড। মিসেস লিমা রিকের গলার আওয়াজ পেয়ে একপ্রকার ছুটে এলেন। এতদিন পর ছেলেকে দেখতে পেয়ে ভীষণ খুশি উনি। রিকের দিকে এগোতে গিয়েও উনি থেকে গেলেন। রিক তো এখনই অনিকে খুঁজবে। যখন জানবে অনি নেই তখন কী হবে? এসব ভাবতে ভাবতেই রিক ‘মা’ বলে ডেকে উঠল। মিসেস লিমা এসে রিককে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলেন। রিক জড়িয়ে ধরে বলল,

” এভাবে কাঁদছো কেন? মরে গেছি আমি?”

” একটা থাপ্পড় মারবো, বেয়াদব ছেলে।”

রিক হেসে মিসেস লিমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে

“অনি কোথায়? আর স্নিগ্ধু? দুজনেই রুমে রাইট? আমি দেখা করে আসছি। ”

বলে ওপরে চলে গেল। মিসেস লিমা কিছু বলতে নিয়েও বলতে পারল না। কবির শেখ আর রঞ্জিত চৌধুরী একে ওপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে চুপচাপ বসে রইলেন। রিক ভেতরে গিয়ে অনিমার রুমে গিয়ে দেখল দরজাটা ভেরানো। ও নক না করেই ভেতরে গিয়ে দেখে স্নিগ্ধা খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে। রিককে দেখে কোন প্রতিক্রিয়া করল না, একইভাবে বসে রইল। রিক চারপাশে চোখ বুলিয়ে বলল,

” অনি কোথায়?”

স্নিগ্ধা কিছু বলল না। রিক ওকে এভাবে চুপ থাকতে দেখে বিরক্তি নিয়ে বলল,

” কী হয়েছে কী? এভাবে চুপ করে আছিস কেন? ছাদে আছে?”

বলে ছাদের দিকে যেতে নিলেই স্নিগ্ধা বলল,

” খুঁজে লাভ নেই। বাড়িতে নেই ও।”

রিক ভ্রু কুচকে ফেলল। স্নিগ্ধার দিকে ঘুরে বলল,

” বাড়িতে নেই মানে? ভার্সিটি গেছে? কিন্তু আমিতো ওকে বলেছিলাম যে
আমি এসে ওকে এডমিট করিয়ে দেব? এর আগে যাতে না যায়। একটা কথা যদি শুনতো আমার। বাবা একদম ঠিক বলে আল্লাদ দিয়ে মাথায় তুলেছি ওকে আমি। ওকে বেড়োতে দিলো কে?”

স্নিগ্ধা কিছু বলছেনা চুপ করে আছে। রিক রাগে গজগজ করে নিচে চলে এলো। বাইরে যেতে নিলো তখনই রঞ্জিত চৌধুরী বলে উঠলেন,

” কোথায় যাচ্ছ?”

রিক থেমে গিয়ে শক্ত কন্ঠে বলল,

” ভার্সিটি। অনির কাছে। ও বেড়োলো কীকরে সেটা বল। গার্ডরা কী করছিল?”

কবির শেখ আয়েশ করে বসা অবস্থাতেই বলল,

” তুমি কী আমাদের বলে গেছিলে ওকে আটকে রাখতে? বা বেড়োতে না দিতে?”

” ওকে তো বারণ করেছিলাম।”

” আর তোমার মনে হল ও সেসব শুনবে?”

রিক উত্তর দিলো না। বেড়িয়ে যেতে নিলেই রঞ্জিত চৌধুরী বলে উঠলেন,

” ভার্সিটিতে নেই ও।”

রিক এবার চরম অবাক হল। বাড়িতে নেই, ভার্সিতে নেই তাহলে আছেটা কোথায়? রিক চরম অবাক অবস্থাতেই বলল,

” মজা করছ তোমরা আমার সাথে? উবে গেল মেয়েটা?”

মিসেস লিমা কোণায় দাঁড়িয়ে আছেন। স্নিগ্ধাও নিচে নেমে এসছে এর মধ্যেই। কবির শেখ এবার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,

” তিনদিন আগে সে ভার্সিটির নাম করে বেড়িয়ে ছিলো ঠিকই। কিন্তু আর ফিরে আসেনি।”

রিক চমকে উঠল। হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,

” মানে?”

রঞ্জিত চৌধুরী ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললেন,

” মানেটা এখনও বুঝছোনা? পালিয়ে গেছে ও।”

” ওর তো কোন বিপদও হতে পারে। তোমরা..”

রিক কথাটা শেষ করার আগেই কবির শেখ বললেন,

” ওর জামা কাপড় মিসিং। এখনও এসব বলবে?”

রিক কিছুক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে থেকে কম্পিত কন্ঠে বলল,

” ওর এতো সাহস হবেনা মামা।”

কবির শেখ হেসে বললেন,

” সেটাই তো! ওর একার এত সাহস হবেনা। খোঁজ নিয়ে দেখ নিশ্চয়ই কারো সাথে পালিয়ে গেছে। আগেই বলেছিলাম এতোটা স্বাধীনতা দিওনা ওকে। কিন্তু আমার সব কথাতো পছন্দ হয়না তোমার। এবার নাও।”

রিক স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে আছে নিজের মামার দিকে। কবির শেখ রিকের কাছে এসে দাঁড়িয়ে বললেন,

” বনে উড়ে বেড়ানো পাখি কখনও পোষ মানেনা। তাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখতে হয়। মনে হবে সে পোষ মেনে গেছে আর সেটা ভেবে যখনই খাঁচা খুলে দেবে, সুযোগ বুঝে সে উড়ে চলে যাবে। ঠিক সেই ভুলটাই তুমি করেছ।”

#চলবে…

#বর্ষণের সেই রাতে- ২
#লেখিকা: অনিমা কোতয়াল

১৫.

শুক্রবারের দিন। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি পরছে। পুরো পরিবেশটাই সিগ্ধ। বর্ষণ জিনিসটাই এরকম। যখনই আসে নিজের সাথে সিগ্ধতা নিয়েই আসে। অনিমা আজ নিজেই রান্না করছে। আদ্রিয়ান বারণ করেছে কিন্তু অনিমা শোনেনি। ওর ভালোই লাগে মাঝেমধ্যে একটু রান্নাবান্না করতে। অনেক রান্না তাই সার্ভেন্টরাও ওকে হেল্প করছে। আজ দুপুরে ওদের বাড়িতে আদিব, আশিসকে ডেকেছে। আদ্রিয়ান এই বাড়িতে একা থাকে। তাই যেকোন ছুটির দিনেই আদিব আর আশিসকে ডেকে নেয়। অভ্র সকাল বেলাতেই এসে পরেছে। সোফায় বসে আদ্রিয়ানের সাথে কাজের অকাজের মিলিয়েই কথা বলছে। ওদের কথার মধ্যে হঠাৎ কলিং বেল বাজল। আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে দরজার দিকে তাকাল। আদিব, আশিসের তো আরও দেরীতে আসার কথা। এতো তাড়াতাড়ি কেন? অভ্র উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

“আমি দেখছি স্যার”

অভ্রকে যেতে দেখে সার্ভেন্টের মধ্যে কেউ আর গেলোনা। অভ্র দরজাটা খুলে সামনে তাকাতেই কিছুক্ষণের জন্যে থমকে গেল। গোলাপি কুর্তি, কালো জিন্স, গলায় স্কার্ফ জড়ানো একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফর্সা গায়ের রং, মাঝারী আকারের চোখ, বাদামি রঙের লেন্স। একদম আদ্রিয়ানের মত। একদম বাচ্চা বাচ্চা দেখতে। ভ্রু কুচকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা বলল,

” দরজার সামনে এভাবে হা তাকিয়ে আছেন কেন? ঢুকতে দিন!”

মেয়েটার কথায় হুস এল অভ্রর। অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলল,

” জি?”

” কী? ভেতরে যেতে দিন?”

” আপনি কে?”

” আমি কে সেটা আপনাকে কেন বলব? সরুন।”

বলে অভ্রকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ভেতরে চলে গেল মেয়েটি। অভ্র দ্রুত এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে ফেলে বলল,

” এক্সকিউস মি ম্যাম। আগেতো বলবেন আপনি কে? এভাবে কীকরে ভেতরে যাচ্ছেন?”

মেয়েটা ঝাড়া মেরে হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলল,

” এই? আপনি কে হ্যাঁ? আপনাকে কেন বলব? হুহ।”

বলে হনহনে পায়ে ভেতরে চলে গেল। অভ্রও হতভম্ব হয়ে দু সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে ভেতরে দৌড় দিল। মেয়েটা আদ্রিয়ান দেখে ‘ভাইয়া’ বলে ডাকতেই আদ্রিয়ান অবাক হয়ে তাকাল। অবাক হওয়া অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে গেল ও। মেয়েটাকে ভাইয়া ডাকতে শুনে বেশ বড় একটা ঝটকা খেল অভ্র। এটা ওর বসের বোন? আর ও কীসব বলছিল। মেয়েটা দৌড়ে এসে আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বলল,

” কেমন আছিস?”

আদ্রিয়ানও হেসে দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল,

” আ’ম গুড। তুই কেমন আছিস?”

” খুব ভালো।”

অাদ্রিয়ানের আশেপাশে একবার তাকিয়ে বলল,

” হঠাৎ এখানে চলে এলি? বাবা মা এসছে?”

মেয়েটা আদ্রিয়ানকে ছেড়ে বলল,

” উহু লম্বা ভ্যাকেশন আছে তাই আমি একাই এসছি। এই ঐ উজবুক টা কে রে? জানিস কী ঠ্যাটা? আমাকে ভেতরে ঢুকতেই দিচ্ছিল না।’

অভ্র বোকার মত তাকিয়ে আছে। আদ্রিয়ান জাবিনের মাথায় চাটা মেরে লল,

” তোর অনেক বড় ও। সম্মান দিয়ে কথা বলবি।”

মেয়েটা মাথা ঘষতে ঘষতে অভ্রর দিকে তাকিয়ে একটা মুখ ভেংচি দিল। অভ্র গলা ঝাড়ল। অনিমা মূখ মুছতে মুছতে রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে আসতে আসতে বলল,

” শুনছেন? রান্না হয়ে গেছে, ভাইয়ারা..”

এটুকু বলে দেখে একটা মেয়ে এসছে। মেয়েটাকে তো আগে কখনও দেখেনি। কে হয় আদ্রিয়ানের? এসব ভাবতে ভাবতে অনিমা এগিয়ে ড্রয়িংরুমে এল। মেয়েটার চোখ অনিমার ওপর পরতেই কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে জোরে চেঁচিয়ে বলল,

” ভাইয়া? আম্মু ঠিক সন্দেহ করেছিল। তুই বিয়ে করে ফেলেছিল? আর আমাকে তো অন্তত বলবি? ধ্যাত!”

বলে ন্যাকাকান্না জুড়ে দিয়ে সোফায় বসে পরল। অনিমা সম্পূর্ণ বোকার মত তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। আদ্রিয়ান ধমক দিয়ে,

” চুপ কর ড্রামা কুইন। ও আমার বউ না। আর আমি বিয়েও করিনি।”

মেয়েটা মিথ্যে চোখ মোছার ভান করে বলল,

” মিথ্যে বলছিস তুই। আমি এখুনি আম্মুকে ফোন করে বলে দেব।”

বলে ফোনটা বেড় করতে নিলেই আদ্রিয়ান হাত ধরে নিলো। ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলল,

” চুপচাপ বস মেরি মা। সব বলব। একটু ধৈর্য ধর। আপাতত বাবা-মার সামনে হাটে হাড়ি ভাঙিস না।”

মেয়েটা মুখ ফুলিয়ে তাকিয়ে রইল আদ্রিয়ানের দিকে। আদ্রিয়ান অনিমার দিকে তাকিয়ে বলল,

” অনি ও আমার বোন জাবিন। আর জাবিন, ও অনিমা। আমার এখানেই থাকে। ও কিন্তু তোর দুই ক্লাস সিনিওর।”

জাবিন এতক্ষণ দুষ্টুমি করলেও এবার গিয়ে অনিমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

” কেমন আছো আপু?”

অনিমা মুচকি হেসে বলল,

” হ্যাঁ ভালো আছি। তুমি ভালো আছো?”

জাবিন মাথা নেড়ে আদ্রিয়ানের কাছে গিয়ে বলল,

” ভাইয়া এবার ঠিক করে বলতো। এই রাজকুমারীকে কোন রাজ্য থেকে চুরি করে আনলি?”

আদ্রিয়ান জাবিনের নাক টেনে দিয়ে বলল,

” আমি চুরি করে আনিনা। জিতে নিয়ে আসি।”

” ওহ! তারমানে স্বয়ম্বরে বিজিতা কন্যা?”

আদ্রিয়ান আড়চোখে অনিমার দিকে তাকিয়ে বলল,

” সেটা কীকরে বলি বল। স্বয়ম্বরা তো এখনও বরমালা পরালোই না। ”

জাবিন দুষ্টু চোখে একবার অনিমার দিকে তাকাল। অনিমার এবার বেশ লজ্জা লাগছে। বিশেষ করে আদ্রিয়ানের শেষ কথাটা শোনার পর। তাই দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেল। অভ্রতো এখনও জাবিনকেই দেখছে। কত ছটফটে মেয়েটা। আদ্রিয়ান জাবিনকে সবটাই বলল অনিমা সম্পর্কে আর আপাতত ওর বাড়িতেও জানাতে বারণ করল। এরমধ্যে আদিব আর আশিসও চলে এল। সকলে মিলে আড্ডা আর হাসি মজাতেই দিনটা পার হল। অনিমারও ভালোই লাগছে আজ। এতোদিন একা একটা মেয়ে থাকত বাড়িতে। জাবিন চলে আসায় ওরও একটা সঙ্গী হল।

_____________

রিক ফ্লোরে বসে ড্রিংক করছে আর রাগে ফুসছে। সময় যত যাচ্ছে ওর রাগ তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনিমা পালিয়ে গেছে তাও অন্যকারো সাথে এটা শোনার পর ঘরের দরজা বন্ধ করেছে এখনও খোলেনি। অনেক ডাকাডাকি করেও কেউ খোলাতে পারেনি। ঘর পুরো লন্ডভন্ড হয়ে আছে। মোটামুটি সব জিনিস ভাঙা শেষ। যদিও দেয়ালে টানানো অনিমার ছবিটা এখনও অক্ষত আছে। কিন্তু অনিমার ওপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে ওর। এতটাই রাগ যেটা এর আগে কোনদিনও হয়নি ও। এতটা সাহস কীকরে হয় যে কারো হাত ধরে পালিয়ে যায়? আজ নেশাটাও চরছে না। কিচ্ছু ভালো লাগছেনা। অনিমার ছবিটা দেখলেই ওর শরীরের রগ ফুলে উঠছে।

সিগ্ধা রিকের ডুপলিকেট চাবি নিয়ে এসছে। আজ ভেতরে যেতেই হবে। কারণ এতক্ষণ না খেয়ে থাকলে রিক অসুস্থ হয়ে পরবে। রিক যতই রেগে থাকুক না কেন, যেকোন পরিস্থিতিতে রিকের সামনে দুজন মানুষই নিরাপদ। একজন অনিমা, আরেকজন হল স্নিগ্ধা। অনিমাকে দেখলে রিক এমনিই শান্ত হয়ে যায়, আবার ওর সর্বোচ্চ রাগের কারণ কোন না কোনভাবে অনিমাই হয়। আর স্নিগ্ধার রিককে শান্ত করার ক্ষমতা আছে। স্নিগ্ধা দরজাটা খুলল। রিক দরজা খোলার আওয়াজ পেয়েও কিছু বলল না কারণ ওভাবেই বসে রইল। স্নিগ্ধা গিয়ে রিকের পাশে বসে ট্রে টা রেখে বলল,

” কাল থেকে কিছুই খাওনি। খেয়ে নাও।”

” ইচ্ছে নেই।”

রিকের শক্ত কন্ঠে কথাটা শুনে কিছুক্ষণ চুপ রইল স্নিগ্ধা। এরপর বলল,

” তুমি না খেয়ে থাকলে অনি চলে আসবে?”

রিক বিরক্তি নিয়ে বলল,

” ভালো লাগছে না। যা এখান থেকে।”

” তুমি চাওনা ও ফিরে আসুক।”

রিক চোখ লাল করে স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে কঠোর গলায় বলল,

” আসতে ও বাদ্ধ। আমিও দেখি ও অন্যকোথাও কীকরে থাকে।”

স্নিগ্ধা একটু হেসে বলল,

” সেটা ঘরে বসে নিশ্চয়ই হবেনা। আর না খেলে দুদিন পর এমনিই দাঁড়াতে পারবেনা। একজন ডক্টরকে যদি এসব বোঝাতে হয় তাহলে?”

রিক কিছু একটা ভেবে ট্রে টা নিয়ে খেতে শুরু করে দিল। স্নিগ্ধা করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রিকের দিকে। ইচ্ছে থাকলেও ও বলতে পারছেনা অনিমার সাথে ঠিক কী হয়েছে। ওরাতো মেয়েটার ওপর সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলল। কিন্তু তুমিও কী অনিমাকে চেনোনা রিক দা? মেয়েট কী করতে পারে সেটা বোঝনা? মেনে নিলে সবটা? এখন ওর সাথে কী হচ্ছে, কোথায় আছে সেটাও তো জানিনা। আদোও বেঁচে আছে কী না সেটাও বলা মুসকিল। আনমনেই স্নিগ্ধা বলে উঠল,

” ওকে পেলে আর এ বাড়িতে রেখোনা রিকদা। দূরে কোথাও নিয়ে যেও।”

রিক অবাক হয়ে বলল,

” কেন এই বাড়িতে কী হয়?”

স্নিগ্ধার হুস এল যে ও কী করছে। তাই নিজেকে সামলে চোখ মুছে উঠে চলে গেল রুম থেকে। রিক ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইল স্নিগ্ধার যাওয়ার দিকে।

#চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ