Friday, June 5, 2026







প্রেমোত্তাপ পর্ব-০২

#প্রেমোত্তাপ

পর্বঃ ২

গম্ভীর রাত। চাঁদের রূপালি ছোঁয়া বাতায়নের কোল ঘেঁষে লুটোপুটি খাচ্ছে মেঝেতে। রুমটা আঁধারে নিমজ্জিত। একবারে আঁধারও বলা যায় না, কিছুটা আলো জানালার ঝাপসা কাঁচ বেয়ে লুকিয়ে এসে রুমটার ক্ষানিকটা আঁধার হালকা করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। জানালার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে পুরুষ অবয়ব। কণ্ঠ ছেড়ে তার গান ভেসে এলো,
“কেউ রাখে মন, কেউ ভাঙে মন
মিলে না হিসাব,
আরে কেউ ভাঙে মন, কেউ রাখে মন
মিলে না হিসাব,
কারো মনেরই অভাব,
কারো মন ভাঙার স্বভাব।”

পুরুষ অবয়বটা’র কিঞ্চিৎ দূরে হাঁটু মুড়ে বসে আছে একটা নারী দেহ। পিঠ গলিয়ে যাওয়া তার শাড়ির আঁচল গড়াগড়ি খাচ্ছে মেঝেতে। মিনিটে মিনিটে কেঁপে কেঁপে উঠছে সেই কোমল দেহখানা। তার কিছুটা দূরেই চিত্রা বিরস, অসহায় মুখে বসে আছে। বড়ো বোনের কান্নাটা যে তার ভীষণ কষ্টের কারণ সে কথা তো সবারই জানা।

বাহার ভাই গান থামালেন,গগন বক্ষে থাকা হাসিখুশি চাঁদের দিকে তাকিয়ে কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠেই নারী চাঁদকে প্রশ্ন করলেন,
“চাঁদ, কাঁদলেই কী প্রেমিক ফিরে? যদি ফিরে আসে তবে তোমাকে আমি কাঁদতে বারণ করবো না আর যদি না ফিরে তবে অবশ্যই বোকামি বন্ধ করতে বলবো।”

বাহার ভাইয়ের ছোটো বাক্যটাই মেয়েটার কান্নার দাপট কমিয়ে দিলো। এতক্ষণ কান্নার মিহি স্বর পাওয়া গেলেও এখন সবটাই নিশ্চুপ। একেবারেই যে সে কান্না বন্ধ করে নি, তা না দেখেও বোঝা যায়। মন ভাঙার আর্তনাদ কী কথার মলম কমাতে পারে? তবে আগের চেয়ে কমে গিয়েছে কান্নার স্রোত।

বাহার ভাই কণ্ঠ আগের ন্যায় রেখেই বললেন,
“তোমার ঘরে শব্দ হওয়াতে চিত্রা ভয় পেয়ে গিয়েছিল কিন্তু আমি পাই নি। যে মেয়েটা জীবনের আঠাশ টা বছর পাড় করেছে সে জানে জীবন কতটা মূল্যবান। আমার মতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের জীবনটা এক অংশ হলেও বেশি কঠিন এ দেশে। যে দেশ মেয়েদের বোঝা মনে করে, সে দেশে একটা মেয়ের আঠাশ বছরের জীবনটা নির্দ্বিধায় বহু সংগ্রামের পর প্রাপ্তি। আর একটা সংগ্রামী মেয়ে কখনোই এত সুন্দর জীবন দু আনার প্রেমিকের জন্য নষ্ট করবে না, তা আমার জানা ছিলো৷”

চিত্রা তাকালো বাহার ভাইয়ের দিকে। লোকটার শার্টের বোতাম খোলা, চুলগুলো উসকোখুসকো, চোখের নিজের কালচে দাগ আর পোড়া ঠোঁট। কেমন অগোছালো ভঙ্গি তার! অথচ সেই অগোছালো মানুষটা কত সুন্দর করেই না কথা বলে!

চাঁদনী আপার কান্নাও ততক্ষণে থেমে গিয়েছে, কণ্ঠ স্বরেরও ভীষণ বাজে অবস্থা। তবুও ভীষণ করুণ স্বরে মেয়েটা বললো,
“বাহার ভাই, ভালোই তো বেসেছিলাম, ভুল তো করি নি। তবে শাস্তি কিসের পেলাম?”

“ভুল মানুষকে ভালোবাসার শাস্তি পেলে। তুমি বুদ্ধিমতী, আশা করি ব্যাথা ভুলে উঠে দাঁড়াবে। আর এই যে কাঁদছো, সেটা আঁধার ঘরেই রাখবে। যে মানুষটা তোমাকে ছেড়ে গেছে সে জেনেই গেছে যে তুমি তাকে ছাড়া প্রচুর ভেঙে পড়বে। তবুও তো সে গিয়েছে তাই না? সে তোমার চোখের জলের মূল্য দিলে কী যেতো? তাহলে কেন কাঁদবে তার সামনে? তাকে কেন বুজতে দিবে তুমি দুর্বল? আকাশের চাঁদ হাজারো তারার ভীড়ে থাকে কিন্তু বলার সময় আমরা বলি সে একা কিন্তু কখনো বলেছি সে দুর্বল? তাহলে মানুষ চাঁদ কেন দুর্বল হবে? কোনো একদিন চাঁদের নির্মমতার গল্প শুনবো। আজ নাহয় চাঁদ শোকে ডুবে থাকুক। কান্না করা ভালো, কষ্ট কমে যায়, কাঁদো। তবে সেটা যেন ঘরের বাহিরে না পৌঁছায় কেমন? গ্লাসটা ভেঙেছিলে কেন? কষ্ট কমানোর জন্য তাই তো? তবে কমাও। সব ভাঙো কিন্তু মনটাকে ভাঙতে দিও না৷ আমি যাই তাহলে।”

চাঁদনী উঠে দাঁড়ালো, দিন দুনিয়ার কথা না ভেবে ছুটে গিয়ে আকস্মিক ভাবে জড়িয়ে ধরলো বাহারকে। চিত্রাও কিছুটা চমকে গেলো। চাঁদ আপা যে নিজের মাঝে নেই সেটা সে জানে তবুও তার কষ্ট হচ্ছে। বাহার ভাই যে তার, কষ্ট হওয়াটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু চিত্রাকে অবাক করে দিয়েই রাগী বাহার স্নেহের হাত রাখলো চাঁদনী আপার মাথার পেছনে, আদুরে কণ্ঠে বললো,
“কেঁদো না চাঁদ, আমরা আছি তো। চিন্তা কিসের তোমার? মনে রেখো তোমার সাথে আর কেউ থাক বা না থাক তোমার এই বাহার ভাই আছে।”

চিত্রা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো বাহার ভাইয়ের দিকে। লোকটাকে যত দেখে ততই মুগ্ধ হয় সে। এই মুগ্ধতার শেষ কোথায়!

_

বেশ বেলা করে ঘুম ভাঙলো চিত্রার। বেলাটা যে দিনের অর্ধ বেলা হয়ে গেছে সে খবর কী তার আছে? চোখে মুখে রোদ আদুরে চুম্বন দিতেই তার হুশ হলো, ঘড়ির কাটার দিকে তাকাতেই চক্ষু ছানাবড়া। বিস্ময়ে কিছুটা চিৎকার দিয়েই বললো,
“বেলা তিনটে বেজে গেলো অথচ কেউ আমায় ডাক দিলো না! এটা কী আমার বাড়িই নাকি অন্য কোথাও চলে এসেছি!”

রুমের চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখলো। না, এটা তো তারই ঘর, তারই বাড়ি, তবে কেউ তাকে ডাকলো না কেন! এই বাড়িতে এত বেলা অব্দি ঘুমানো তো অসম্ভব। চিত্রা নিজের কোমড় সমান চুলের গোছাটা মুড়িয়ে হেয়ার স্টিক দিয়ে বেঁধে নিলো। হালকা বাদামী আর কালোর মিশেল চুল গুলো রোদের আলোয় চিলিক দিয়ে উঠছে। চিত্রা বিরাট এক হামি দিলো৷ কাল রাতে চাঁদ আপার চিন্তায় তার ঘুমই হয় নি। তার উপর পাশের বাড়িতে উচ্চস্বরের বক্স তাকে বিরক্ত করে তুলেছিল। বাড়ির মানুষ ফেরার পর প্রায় শেষ রাতের দিকে সে ঘুমিয়েছিল তাই হয়তো টেরই পায় নি।

চিত্রা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী রুমের উত্তর দিকের জানালাটা দিয়ে উঁকি দিলো। ঘুম মাখানো কণ্ঠে খানিক চেঁচিয়ে বললো,
“ও টুনির মা, কই রে তুই!”

চিত্রাদের জানালার মুখোমুখি এক তলা বিশিষ্ট বাড়ি থেকে একটা শ্যামলা বর্ণা মেয়ে উঁকি দিয়ে ফিচলে হাসলো। ঠাট্টা করে বললো,
“তা ভোর হলো নাকি চিতাবাঘের?”

“ভোর হয়েছে ভেবেই উঠেছিলাম। ওমা, উঠে দেখি এটা যে ভোর না, এটা ভরদুপুর।”

মেয়েটা চিত্রার কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠলো। মেয়েটা চিত্রার প্রাণপ্রিয় বান্ধবী বনফুল। নামটা অদ্ভুত কিন্তু বাহার ভাই খুব আদর করে নাকি এই নামটা রেখেছেন। বনফুল বাহার ভাইয়ের ছোটো বোন আর চিত্রার ভীষণ কাছের লোক। দুই বান্ধবীর আড্ডা জমে উঠার আগেই চিলেকোঠার ঘর থেকে বাহারের রাশভারী কণ্ঠের ধমক ভেসে এলো,
“এই, তোরা চিৎকার করে পাড়া মাথায় তুলেছিস ক্যান? তোদের জন্য কী শান্তিতে থাকতে পারবো না? বনফুল, যা ঘরে, গিয়ে তাড়াতাড়ি গোসল কর। বেলা তিনটা বাজে আর তুই গোসল ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছিস। আর চিত্রা, তুমি তো সব কিছুর উর্ধ্বে। একটা এইচএসসি ক্যান্ডিডেট কীভাবে তিনটে বাজে ঘুম থেকে উঠে আমি ভেবেই অবাক হচ্ছি। যাও গিয়ে ফ্রেশ হও। কানের মাথা খেও না।”

বনফুল আর চিত্রা দুজনেই মুখ ভেংচি কাটলো। লোকটা সবসময়ই বেশি বেশি করে। চিত্রা ধুপধাপ পায়ে রুম থেকে বেরুলে। মা, মা চিৎকার করেই ডায়নিং টেবিলের সামনে হাজির হলো। এ কী অবস্থা! রান্নাঘরে আজ বাড়ির মহিলা মহল নেই কেন? এ কী অবাক কান্ড! আজ তো শুক্রবার, মায়ের কলেজ নেই, তুহিন ভাইয়ের ভর্সিটি নেই, ছোটোমার তো রান্নাঘরেই থাকার কথা, বড়ো মায়ের তো ডেকে বাড়ি মাথায় তোলার কথা অথচ কেউ নেই! বাবা, ভাইয়া, চেরি, বড়আব্বু কেউ নেই! কী অদ্ভুত!

চিত্রার ভাবনার মাঝে পেছন থেকে মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো। বেশ গম্ভীর মেয়েলি কণ্ঠটা বলে উঠলো,
“চিতাবাঘ, মাত্র উঠেছিস!”

চিত্রা পেছনে তাকালো। স্বাভাবিক চাঁদ আপাকে দেখে কিছুটা অবাক হয়েই মাথা দুলালো। চাঁদনী স্মিত হাসলো। কোমল কণ্ঠে বললো,
“ওরা সবাই বিয়ে খেতে গেছে। আমি, অহি, চেরি আর তুই বাসায় তাই রান্না করে নি। আমরা কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে আজ পেট পুরে খাবো। কী বলিস? যা দ্রুত গোসল করে আয়। আর বনফুলকে বল রেডি হতে। ওটারেও নিয়ে যাবো। যা৷”

চিত্রা ভেতর ভেতর তুমুল বিস্মিত হলেও প্রকাশ করলো না। দ্রুত ছুটে গেলো নিজের ঘরে। হাঁক ছেড়ে ডাকলো বনফুলকে। চাঁদনী দীর্ঘশ্বাস ফেললো। জীবনে বাঁচতে হলে কোনো নির্দিষ্ট্য একটা মানুষ যে জীবনে থাকতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। ঐ নির্দিষ্ট্য একজন ছাড়াও পৃথিবী অনেক বড়ো, আর বাঁচাও যায়। কেবল ভালো থাকা আর হয় না। বেঁচে যে থাকতে পারে সেটাই অনেক। ভালো থাকাটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না।

_

ধানমন্ডির বিলাসবহুল এক রেস্টুরেন্টের আলিশান সোফায় বসে আছে অহি, চিত্রা, চেরি, চাঁদনী, বনফুল। বেশ জমিয়ে তারা আড্ডা দিচ্ছে সবাই, কেবল অহি বইয়ে মুখ ডুবিয়ে বসে আছে। মেয়েটা এত পড়ুয়া। এত পড়াশোনা মানুষ কীভাবে করে তা মাথায় আসে না চিত্রার। আর অহি এত পড়ে বলেই চিত্রা তাকে তেমন পছন্দ করে না। বাড়ির সবাই কেবল তাকে অহির মতন হতে বলে। অচঞ্চল, ভদ্র, ঠান্ডা, পড়ুকে মেয়ে। কিন্তু সবাই যদি একরকম হয় তবে পৃথিবী আর সুন্দর থাকবে? সব তো অহিময় হয়ে যাবে। অথচ চিত্রার এই কথা বুঝতে চায় না কেউ।

অহির ভীষণ ধ্যান তার হাতের বইটার মাঝে। ‘মাইন্ড রিডার’ নামের একটি বই। যেহেতু সে সাইকোলজির স্টুডেন্ট তাই সে এসব বই নিয়ে বেশিই গবেষণা করে। ওর ধ্যান, জ্ঞান যেন বই আর বই। হুট করেই অহির বা’হাতের তালুতে ছোটো ছোটো শীতল হাতের ছোঁয়া পেলো। মুহূর্তেই চমকে গেলো অহি। বিস্মিত দৃষ্টি হাতের দিকে ঘুরতেই দেখে এক জোড়া ছোটো আদুরে চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। অহি চমকালো। অবাক কণ্ঠে বললো,
“এই বাবু, তুমি কে?”

বাচ্চা টা আধো আধো কণ্ঠে মিষ্টি করে উত্তর দিলো, “আইকরিমটা (আইসক্রিম) দিবে আমায়? তুমি তো তাবে (খাবে) না।”

অহি নিজের সামনে থাকা ভ্যানিলা ফ্লেভারের আইসক্রিমটার দিকে তাকালো। বাচ্চাটার আদুরে মুখের দিকে তাকিয়ে সে আর না করতে পারলো না বরং মিষ্টি হেসে বললো,
“তুমি খাবে?”
“দেও।”

কথাটা বলেই বাচ্চাটা দুই হাত মেলে দিলো। ততক্ষণে চিত্রা, চাঁদনী, ছয় বছরের চেরি ও বনফুলও উৎসাহী চোখে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে রইলো। কী মিষ্টি ও আদুরে চোখ মুখ! অহি আইসক্রিমের বাটি টা এগিয়ে দিলো বাচ্চাটার দিকে। বাচ্চাটা সাবধানী হাতে সেটা ধরতেই কোথা থেকে এক পুরুষ ছুটে এলো। কিছুটা ধমক দিয়েই বললো,
“হুমু, তুমি পচা কাজ করছো কেনো? আন্টির আইসক্রিম আন্টিকে ফিরিয়ে দেও।”

সবাই ছেলেটার দিকে তাকালো। প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষই বলা যায়। সাদা ধবধবে গায়ের রঙ, নাক মুখ সুন্দর। দেখতে এক কথায় অসাধারণ বলা যায় নির্দ্বিধায়। ছেলেটা এগিয়ে এসে বাচ্চাটার হাত থেকে আইসক্রিমের বাটিটা নেওয়ার চেষ্টা করতেই কেঁদে দিলো বাচ্চা টা। ঠোঁট ফুলিয়ে অস্ফুটস্বরে বললো,
“পাপা, তুমি পতা (পচা)। তুমি আইতকিরিম দেও নি।”

হুমুর কথায় ছেলেটা চোখ ছোটো ছোটো করে আরেকটা ধমক দেওয়ার আগেই উঠে দাঁড়ালো অহি। বেশ বিরক্ত কণ্ঠে বললো,
“অদ্ভুত তো! বাচ্চাটা কী আদুরে, ওকে ধমক দিতে বুকে বাঁধে না আপনার? কী পাষাণ!”

ছেলেটা অবাক চোখে অহির দিকে তাকালো। কপাল কুঁচকে বললো,
“আমার মেয়ে, ধমক দিবো, আদর করবো, সেটা আমার ব্যাপার। আপনি কে এসব বলার?”

“ধমক দিবেন কেন? এত সুন্দর বাচ্চাকে কারো ধমক দিতে মন চায়! কি আজব!”

“আরে, আপনি ঝগড়া করছেন কেন মেডাম?”

“কি কি, আমি ঝগড়া করছি? পাজি লোক। একটা বাচ্চার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় জানে না আবার আমাকে বলে আমি নাকি ঝগড়া করছি।”

অহি রীতিমতো রেগে গিয়েছে। তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে চিত্রা রাও। ছেলেটা আর কিছু বললো না। মেন্যু কার্ড থেকে আইসক্রিমের দামটা দেখে এক হাজার টাকার দু’টি নোট অহির হাতে ধরিয়ে দিয়ে বাচ্চা টাকে কোলে তুলে নিলো। মুচকি হেসে বললো,
“নেন ভদ্র নারী, আইসক্রিমের দাম।”

আকষ্মিক ঘটনায় অহি হা হয়ে গেছে। ছেলেটা তাকে অপমান করলো! টাকার গরম দেখালো? রাগে তার চোখে মুখ লাল হয়ে গেলো। শরীর কাঁপা শুরু করলো। দাঁত কিড়মিড় করে বললো,
“তোমরা কিছু বলবে না? আপা, চিত্রা কিছু বললে না তোমরা ছেলেটাকে? এত বে য়া দ ব ছেলে।”

চিত্রা হা করে থাকা মুখটা বন্ধ করলো। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
“দাঁড়াও বলছি।”

কথাটা বলেই ছেলেটার পেছনে ছুটলো চিত্রা। হাঁপিয়ে যাওয়া কণ্ঠে ডেকে উঠলো,
“এই যে হুমুর বাপ, দাঁড়ান তো ভাইয়া।”

বাচ্চাটাকে কোলে নিয়েই দাঁড়ালো ভদ্রলোক। চিত্রা রেস্টুরেন্টের কিচেনের সামনে গিয়ে মিনিট দুইয়ের মাঝেই ফিরে এলো হাতে আরেকটা আইসক্রিমের বাটি নিয়ে। রেস্টুরেন্টের সবাই মোটামুটি তাদের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো হচ্ছেটা কী। লোকটা নিজেও অবাক সাথে অহি, চাঁদনী ওরাও।

চিত্রা আইসক্রিমের বাটিটা এনে লোকটার হাতে ধরিয়ে দিলো। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বললো,
“ভাইয়া এটাও হুমুর জন্য। ও না খেতে পারলে আপনি খাবেন।”

ছেলেটা হা হয়ে বোঝার চেষ্টা করছে আসলে হচ্ছেটা কী। চিত্রা ডান হাত মেলে ধরলো ছেলেটার দিকে, গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“এবার তিন হাজার টাকা দেন।”

ছেলেটা সহ উপস্থিত সকলে অবাক, বিস্মিত হয়ে গেলো। বিস্ময়ের মাত্রা আকাশ ছোঁয়ার সাথে সাথে ছেলেটা কিছুটা উচ্চস্বরেই বললো,
“কী?”

“এবার তিন হাজার টাকা দেন আমাকে আগে।”

“কিন্তু কেন?”

“অহি আপার আইসক্রিমের দাম ছিলো দুইশত টাকা কিন্তু আপনি তাকে দিলেন দুই হাজার টাকা। আমি যেটা দিলাম সেটার দাম তিনশত টাকা এবার অহি আপার টাকা অনুযায়ী আমাকে দিবেন তিন হাজার টাকা। দেন ভাইয়া এবার।”

চিত্রার কথায় তাজ্জব বনে গেলো সবাই। মুহূর্তেই হাসির রোল পড়ে গেলো সেখানে। লোকটাও হেসে দিলো ফিক করে। প্রশংসা করে বললো,
“বিনোদন আর কিঞ্চিৎ অপমানও হয়ে গেলো। গুড।”

#চলবে
#মম_সাহা

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ