#প্রেমাতাল
#পর্ব-৭
#Fatema_Aktar_mim
আকাশ হঠাৎই ফেটে পড়লো। বৃষ্টির ভারী শব্দে চারপাশ যেন ঢেকে গেল। তানহা দাড়িয়ে আছে মেইন রোডের মাঝখানে রুদ্রের সামনা-সামনি।তীক্ষ্ণ চোখে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে সে।রুদ্র অপরাধের ন্যায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।দুজনেই বৃষ্টির পানিতে ভিজে জুবুথুবু।ভারি বর্ষন রুদ্রের চুল,গাল বেয়ে টুপটুপ করে জল পড়ছে।তানহার সুতি কামিজ ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে।যার কারণে শরীরের একেক অংশ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।রুদ্র সেদিকে তাকিয়ে ভয়ে এক শুকনো ঢোক গিলল,নিজের শরীর থেকে শার্ট খুলে তানহার দিকে এগিয়ে দিলো পড়ার জন্য।তানহা সেটা নিয়ে রাগে রুদ্রের মুখের উপর ছুরে মারলো।রুদ্রও কম কিসে,সে এক প্রকার জোর করেই তানহাকে চেপে ধরে শরীরে শার্ট জরিয়ে দিলো।
–আশেপাশে অনেক খারাপ মানুষ আছে দয়া করে এটা পড়ে থাকেন প্লিজ।আমার উপর যতো রাগ বাড়ি গিয়ে দেখায়েন।আপাতত এখন আনমলকে খুজে বের করি।
তানহা ঝেংটি দিয়ে রুদ্রকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলো।ক্ষিপ্ত চোখে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে ঠাস করে গালে একটা চর বসালো।রুদ্র অবাক হলো না,বরং গালে হাত দিয়ে অসহায়ের মতো তার দিকে তাকিয়ে আছে।
তানহা চর মেরেও শান্ত হলো না। বরং তার রাগ যেন আরও বেড়ে গেল। সে এক ঝটকায় রুদ্রের গেঞ্জির কলার চেপে ধরলো। তার চোখে আগুনের মতো দহন, আর মুখে তীব্র ক্ষোভ।
–আমার ছেলে কথায় রুদ্র?তারাতাড়ি বের করে দেও আনমলকে।অ হয়তো তার আম্মুর কাছে আশার জন্য খুব কান্না করছে।তার কান্না আমার সহ্য হয়না রুদ্র।আমি মরে যাব আমার ছেলের কিছু হলে।বলো আনমলকে কথায় লুকিয়ে রাখছো?
তানহার হাতের শক্তি এতটাই বেশি ছিল যে রুদ্রের গেঞ্জি টানটান হয়ে উঠলো।যেন গেঞ্জিটা এখন ছিরেই যাবে। রুদ্র কোনো প্রতিরোধ করলো না। সে শুধু তানহার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
–আমি সত্যি জানিনা আনমল কথায়।আপনি এত বিচলিত হবেন না প্লিজ,আমি তাকে খুজে বের করবো, কথা দিচ্ছি।
তানহা রুদ্রের গেঞ্জি আরও শক্ত করে চেপে ধরে চেচিয়ে উঠলো,
–মিথ্যা..সত্যি করে বল আনমলকে কথায় লুকিয়ে রেখেছিস।আমি খুব ভালো করেই জানি তুই আনমলকে সহ্য করতে পারিস না,বারবার আমার ছেলেটাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে ধমক দিস।আজকে অন্তত আমার বাচ্চাটাকে ছেরে দে।অ ব্জ্রপাতে খুব ভয় পায়।বৃষ্টির দিন তার মাকে জরিয়ে ধরে না
ঘুমালে তার দম বন্ধ হয়ে আসে।এতক্ষণ নিশ্চয়ই ভয়ে খুব কান্না করছে, নিশ্চয়ই আমার ছেলেটার নিশ্বাস আটকে আসছে। আমি তোর কাছে হাত জোর করছি,দে না আমার ছেলেকে আমার কোলে ফিরিয়ে।
রুদ্র অসহায় কন্ঠে বলল,
–তানহা,প্লিজ কান্না থামান।আমি মানছি,আনমলকে আমি সহ্য করতে পারি না।কিন্তু তার মানে এই না যে,এত রাতে তাকে লুকিয়ে রেখে ভয় দেখাবো।আমার মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে তানহা,আমি কোনো পশু না।প্লিজ বোঝার চেষ্টা করেন।এখন ভেঙে না পরে আনমলকে সবাই মিলে খুজে বের করি।
–চুপ কর! (তানহার কণ্ঠ ফেটে যাচ্ছিল রাগে।)আর নাটক করিস না।আমি স্পষ্ট শুনেছি তুই আনমলকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করিস।ঘৃণায় বশিভূত হয়ে তুই যা খুশি করতে পারিস।আমার ছেলের ক্ষতি করতেও তোর হাত কাঁপবে না।বল কথায় আনমল?
রুদ্রের মেজাজ বিগড়ে গেলো।অনেকক্ষণ থেকে সেই এক কথা বারবার শুনে যাচ্ছে সে।কাণে একদম পোকা ধরে গেলো,তবুও তানহার থামার নাম নেই।বিরক্ত হয়ে তানহার হাত ধরে নিজেকে ছারানোর চেস্টা করলো সে।কিন্তু তানহা আরও শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।ইচ্ছে করলে রুদ্র এক টিপি দিয়ে হাত ছাড়াতে পারে,কিন্তু সেটা করছে না।কারণ তার প্রেয়সী ব্যথা পাবে।সে সজ্ঞানে কিভাবে তার প্রিয় মানুষকে আঘাত করবে?
–পাগলামি বন্ধ করেন তানহা।আমায় যেতে দেন,আনমলকে খুজতে হবে।ফিরে এসে আপনি যত পারেন,ততো থাপ্পড় মাইরেন আমার গালে।
তানহার চোখ দিয়ে এবার অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। কিন্তু সে নিজের রাগকে আরেক মুহূর্তও দমিয়ে রাখতে পারলো না। রুদ্রের কলারটা আরও শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
–আর যদি আমার ছেলের কিছু হয়, আমি তোকে খুন করবো, রুদ্র! আমার আনমল ছাড়া দুনিয়ায় আমার কেউ নেই।আনমল আমার দুনিয়া, তুই আমার দুনিয়া নিয়ে মজা নিস না রুদ্র।আমার নিশ্বাস আটকে আসছে,বুকের ভেতর কেমন খালি খালি লাগছে।আমি আর পারছিনা নিজেকে সামলাতে।না জানি কোন অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেকে বন্ধ করে রেখেছিস।ভয়ে আম্মু আম্মু বলে কতোই না চিৎকার করছে।আমার বুক ফেটে যাচ্ছে রুদ্র।তুই কেন এমন করিস আনমলের সাথে?
তানহা কান্নায় ভেঙে পড়লো।তার হাত আলগা হয়ে এসেছে।রুদ্র এবার তানহার হাত ধীরে ধীরে নিজের কলার থেকে সরিয়ে নিল। তার গলা শুকিয়ে উঠেছিল, কিন্তু সে কোনো কথা বললো না। বৃষ্টির ভারী শব্দ তাদের কথোপকথনের সাক্ষী হয়ে রইল।
তানহা কান্না করতে করতে রুদ্রের বুকে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকে। রুদ্রের যেন কোনো হেলদোল নেই,একদম বৃষ্টির পানির সাথে জমে রোবটের দাঁড়িয়ে আছে।তানহার হাত থামে না মারতে মারতে চিৎকার করে উঠে,
–এতটুকু একটা বাচ্চা তোর কি এমন ক্ষতি করেছে?কিসের এত রাগ তোর আনমলের উপর?আমার ছেলেকে তুই ঘৃণা করিস আমি কিছু বলি না,ঘৃণা হতেই পারে মানুষের প্রতি, তাই বলে তুই আমার বাচ্চাকে কিডনাপ করে ভয় দেখাবি?আনমল তো তোর আশেপাশেও যায়না।তাহলে কেন তাকে আটকে রাখছিস?
রুদ্র কিছু বলছে না,হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে রাগ কন্ট্রোল করার চেস্টা করছে।কিন্তু তানহা থামার নামই নিচ্ছে না।পাগলের মতো মেরেই যাচ্ছে রুদ্রকে।রুদ্র চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিয়ে তানহার বাহু শক্ত করে চেপে ধরলো।তবুও তানহার হাত থামে না।রাগ আর জিদে বৃষ্টির পানিতে ভিজে থরথর করে কাঁপছে মেয়েটা।রুদ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাশে দারিয়ে থাকা শুভকে ইশারা করে বলে উঠে,,
–শুভ গাড়ি থেকে ক্লোরোফর্মটা নিয়ে আয়।গো ফাস্ট।একটা প্রশ্নও করবি না,চুপচাপ যা বলছি তাই কর।
শুভ আর রিফাত আশেপাশে আনমলকে খুজে গাড়ির পাশে এসে মাত্রই দাঁড়িয়েছে।হুট করে এমন একটা কথা শুনে দুজনই চমকে উঠল।ভয়ে রিফাতের হাত পা কাঁপছে।শুভ গাড়ির দিকে এগোলে রিফাত তাকে বাধা দিয়ে রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে,
–ক-কেন?ক্লোরোফর্ম দিয়ে কি করবি তুই?তোর মাথা ঠিক আছে রুদ্র?
–কু*ত্তার বাচ্চা, ডোন্ট স্যা এ ওয়ার্ড।যেটা বলছি অটা কর।আমার মাথা গরম করিস না।
রুদ্রের ধমক শুনে রিফাত আর কিছু বলল না।চুপচাপ ক্লোরোফর্ম নিয়ে রুদ্রের সামনে এসে দারালো।
–দাড়িয়ে না থেকে রুমালে ঢাল ওটা।
তানহা যেন নিজের হুসে নেই।চারদিকে বজ্রপাতের শব্দ,রুদ্রদের কথপোকথন কোনোটা তার মস্তিষ্কে ঢুকছে না।রুদ্রকে মেরেও যেন তার হাত ক্লান্ত হচ্ছে না।শুধু বিরবির করে বলে যাচ্ছে,,–আনমলকে এনে দে,আমার আনমল,তোকে আমি মেরে ফেলবো।
রুদ্র রেগে গিয়ে শুভর হাত থেকে ক্লোরোফর্ম ভেজানো রুমাল কেরে নিলো।তানহা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রুদ্র সেটি তার মুখের কাছে ধরলো।কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তানহার শরীর নিস্তেজ হয়ে লুটিয়ে পড়লো রুদ্রের বুকে।
______________
বাতাস সেরেছে। বৃষ্টি থেমেছে।বাতাসের আড়ালে কালো মেঘ কেটে গেছে।কিন্তু বাতাসের গতি এত বেশি যেন ঝড় বইছে ধরনীতে।সব থেকে ঝড় তো রুদ্রের বুকের ভেতরটা তছনছ করে দিচ্ছে।রাস্তার পাশে একটা ব্রেঞ্জিতে তিন বন্ধু বসে আসে।রুদ্রের শরীরে ভেজা শার্ট শুকিয়ে গেছে,চুলগুলো উস্কখুস্ক হয়ে কপালে পড়ে আছে। বিষন্ন মন নিয়ে ল্যাম্পপোস্টের আলোর দিকে তাকিয়ে একটার পর একটা সিগারেট ফুকে যাচ্ছে সে। পাশ থেকে শুভ রিফাত কটমট চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
শুভ: সত্যি করে একটা কথা বল তো রুদ্র?
রুদ্র:কিহ?
শুভ:আনমলকে তুই সত্যি লুকিয়ে রেখেছিস?
রুদ্র:তোর কি মনে হয়?
শুভ: আমি জানিনা?তবে এটা নিশ্চিত তুই এই কাজ করতে পারিস না।এত গুলো বছর ধরে তোকে চিনি আমি,আর যাই হোক এই জঘন্য খেল তুই খেলবি না।
রুদ্র হাসে।অদ্ভুত হাসি।সেই হাসির মধ্যে নেই কোনো অনুভূতি। যেন একটা চাপা নিশ্বাস বেরিয়ে গেলো।রুদ্রের অদ্ভুত হাসি দেখে রিফাত বলে উঠে,
–আমি শিওর তুই আনমলকে লুকিয়ে রাখছিস?
রুদ্র তীক্ষ্ণ চোখে তার দিকে তাকায়।রিফাত দমে যায়না গম্ভীর স্বরে বলে উঠে,
–কারণ তুই আনমলকে ঘৃণা করিস!আনমল তোর পথের কাটা।তুই আনমলকে সরিয়ে তানহাকে নিজের করে পেতে চাস।এইজন্য আনমলের উপর এত রাগ তোর,।ছিহ! আজ তোকে আমার ঘৃণা হচ্ছে।একটা মায়ের কাছ থেকে তার বাচ্চাকে আলাদে করেও তোর শান্তি হয়নি।এখন তার মাকেও অজ্ঞান করে গাড়িতে ফেলে রাখছিস।তুই আসলেই অমানুষ। জানোয়ার একটা।
রুদ্র হাতে থাকা জলন্ত সিগারেট মুষ্টিবদ্ধ করে মুরিয়ে ফেলে দিলো।হাতে ফসকা পরলো,সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই।সটান হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।ক্ষিপ্ত চোখে রিফাতের দিকে তাকায়।
রিফাত দাঁড়িয়ে পরে রুদ্রের মুখোমুখি।দুজনের চোখেই আগুন জ্বলছে। রুদ্র রেগে রিফাতের শার্টের কলার চেপে ধরে।রিফাতও রুদ্রের শার্ট ধরে।পাশ থেকে তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করে শুভ।কিন্তু কেউ কাউকে ছাড়ছে না।রিফাত দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
–জানোয়ার একটা। তোকে বন্ধু পরিচয় দিতেও ঘেন্না হচ্ছে আমার।তোর সাথে থেকে এসব পাপ কাজ আমরা করতে পারবো না।এসব পাপের ভাগিদার আমরা হতে রাজি না।আজ থেকে তোর আর আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ।
রুদ্র চোখ বড়ো বড়ো করে রিফাতের কলার ছেরে গলা চেপে ধরলো। ক্রোধে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চেপে ধরে রইলো সে।রিফাতের দম প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে।কোনো ভাবে নিজেকে ছাড়াতে পারছেনা।পাশ থেকে শুভ রুদ্রের হাত ধরে টানছে কিন্তু ছাড়াতে পারছে না।রিফাতের অবস্থা খারাপ পর্যায় গেলে রুদ্র চোয়াল শক্ত করে ধাক্কা মেরে তাকে ফেলে দেয়।রিফাত রাস্তায় জমে থাকা পানির ওপর পরে গিয়ে কাশতে থাকে।
–আরে যা যা।তোদের মতো বন্ধুর আমারও দরকার নাই। চোখের সামনে থেকে সর সব।তোদের যেন আমার সামনে আর না দেখি।যা ভাগ এখান থেকে।
রিফাত:হ্যাঁ হ্যাঁ যাচ্ছি আমরা।তোকেও যেন আমাদের আশেপাশে না দেখি।তোর মতো জানোয়ারকে ঘৃণা করা যায়।তানহাকে তুই জীবনেও পাবিনা।
রুদ্র রক্ত লাল চোখে তাদের দিকে তাকায়।শুভ রিফাতকে ধরে রেখেছে।রুদ্র পাশ থেকে একটা শুকনো ডাল হাতে নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মারার জন্য তেরে আসে রিফাতের দিকে।
–তবে রে…!কু*ত্তার বাচ্চারা সামনে থেকে সর তোরা।শু*য়োরের বাচ্চা গেলি এখান থেকে।
রিফাত শুভকে নিয়ে দৌড়ে যেতে বলে উঠে,
–মাদারির বাচ্চা।জানোয়ারের বাচ্চা।একা একা মর শালা।জীবনে কোনদিন বউ পাবি না।ইতর কোথাকার।
~শুভ আর রিফাত চলে গেল। রুদ্র হাতের লাঠিটা শব্দ করে ছুরে মারলো রাস্তার পাশে।তারপর সে মাথায় হাত দিয়ে ব্রেঞ্জে বসে পড়লো।রাগে ফুসতে ফুসতে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠলো,
–শুনছো গো আকাশ আমার ভালোবাসার মানুষগুলো আমায় ঘৃণা করে।সবাই আমায় ভুল বুঝলো।কেউ আমায় বিশ্বাস করল না।এই আমি মানুষটা কি এতই খারাপ?আমায় কি ভালোবাসা যায়না?আমায় কি বিশ্বাস করা যায়না?সবাই শুধু আমার উপরের হাসিখুশি আমাকেই দেখলো।কেউ আমার ভেতরের আমিটাকে দেখলো না।কেউ আমার বুকে জমে থাকা ক্ষত দেখলো না।ছিহ!আমি মানুষটা কতো বেহায়া,কতো নির্লজ্জ,কতোটা খারাপ,দিনের পর দিন অপমানিত হওয়ার পরেও হাসিমুখে নিজের ভালোবাসার মানুষের সামনে গিয়ে দারায়।পরিনামে কি পায়?বেহায়ার খেতাব।কি চমৎকার সেই উপাধি!আমার কি খারাপ লাগেনা?আসলেই কি খারাপ লাগেনা?আমি কি রোবট নাকি?আমারও মন আছে,হ্রদয় আছে,সেখানে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।পৃথিবীর সবচেয়ে স্বার্থপর মানুষ তানহা।মানুষ এতটা স্বার্থপর কিভাবে হয় আল্লাহ।অ তো সব জানতো আমি তাকে পাগলের মতো ভালোবাসি। তারপরেও কেন অন্য যায়গায় বিয়ে করলো?অন্য কারো বউ হলো,অন্য কারো সন্তানের মা হলো।আমার হাতে কি ধরিয়ে দিলো,বয়সের অজুহাত।স্বার্থপর মহিলা তুই,খুব স্বার্থপর, নিজের স্বার্থই দেখলি সারাজীবন,আমার বুকের ভেতরটা জখম করে।
না চাইতেও রুদ্রের চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।অদ্রু কপালে দুহাত রেখে জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছে।বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে তার…….
#চলবে………
#প্রেমাতাল
#পর্ব-৮
#Fatema_Aktar_mim
না চাইতেও রুদ্রের চোখ বেয়ে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।রুদ্রু কপালে দুহাত রেখে জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছে।বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে তার,যেন প্রতিটা শ্বাসের সাথে কষ্ট আরও গভীরে ঢুকছে।ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে। কিন্তু ছেলেরা তো কাঁদতে জানে না।মন ভরে কেঁদে নিজেকে হালকা করতে পারে না তারা।বুকের ভেতর চাপা কষ্ট নিয়ে গুমরে মরে।রুদ্রের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।চার বছরে রুদ্রের বাহ্যিক রুপটা সকলের জানা,কিন্তু রুদ্র যে ভেতরে ভেতরে মরে যাচ্ছে অইটার খোজ তো কেউ রাখলো না।নেমক হারাম বন্ধুগুলোও তাকে ছেরে চলে গেল।
~রাত গভীর হতে থাকে, বাতাসের গতি আরও বেশি হতে থাকে,বাতাসের শাঁ শাঁ শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠছে,যেন গাছপালার ডাল সব ভেঙে পরবে।রুদ্র এখনো পাথরের ন্যায় মাথা নিচু করে ব্রেঞ্জে বসে আছে।দুনিয়ার খেয়াল তার নাই,বিষন্ন মনে কিছু একটা ভেবে যাচ্ছে।হঠাৎ তার কাধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করলো।রুদ্র চমকালো না,বরং ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলল,
–তোরা এখনো যাস নি?মরতে চাস আমার হাতে?
শুভ আর রিফাত রুদ্রের কাঁধে হাত দিয়ে তার পাশে বসে পড়লো।আর মাঝখানে রুদ্র।রুদ্র তাদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।খুব জেদি ছেলেটা।রাগ উঠলেই আবল তাবল বলে ফেলে।রিফাত ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি নিয়ে বলল,
–বোকা ছেলে,তোকে ফেলে আমরা চলে যাবো?ভাবলি কিভাবে?আনমলকে তো খুজতে হবে!আমাদের ছাড়া তুই তাই একা এত কাজ করতে পারিস?
রুদ্র রিফাতের দিকে চোখ তুলে তাকায়।তীক্ষ্ণ আর কঠোর সেই চোখের ভাষা।জেদে কাঁধ থেকে ঝারা মেরে রিফাতের হাত সরিয়ে দেয় রুদ্র।রিফাতও কম কিসে,সে রুদ্রকে ঝাপটে জরিয়ে ধরে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়।পাশ থেকে শুভও তাদের শক্ত করে জরিয়ে ধরে। বেশ কিছুক্ষণ তাদের মাঝে নিরবতা চলল।রুদ্রের রাগ কমে এসেছে।কারণ সে জানতো তার বন্ধুগুলো কখনো তাকে ছেরে যাবে না।কিন্তু এত তারাতাড়ি ফিরে আসবে এটা তার হজম হচ্ছে না।রুদ্র রিফাতের পিঠে হাত রেখে বলে উঠে,
–তার মানে তোরা এতক্ষণ এখানেই ছিলি?
শুভ মাথা নাড়ায়।
— হুম মামা” এখানেই ছিলাম।কথাই যাব তাছারা?
–তাহলে তোরা আমার সাথে নাটক করলি কেন?
রিফাত: নাটক না করলে সত্যিটা জানতে পারতাম না।তাই নাটক করতে হলো।
রুদ্র: কোন সত্য?
শুভ: এইযে তুই আনমলের জন্মের আগ থেকে তার মাকে ভালো বাসিস।এটা জানতে পারতাম না!
রিফাত: এখন শুধু এটা জানার বাকি,তুই আনমলকে কেন ঘৃণা করিস?বা সহ্য করতে পারিস না কি কারণে আজ তোকে বলতেই হবে।
রুদ্র অগ্নি চোখে তাদের দিকে তাকায়।শুভও চোখ গরম করে বলে উঠে,
–দেখ ভাই কোনো ঝামেলা আর করতে চাইনা,তাই চুপচাপ সব বলে দে।
মুহুর্তেই রুদ্রের চোখের ভাষা বদলে শীতল হতে শুরু করলো।ব্রেঞ্জে গা এলিয়ে দিয়ে বলে উঠে,
–আগে আনমলকে খুজা জরুরি।তারপর সব বলবো।সময় খুব কম রে,আনমলের কোনো খোজ এখনও পাওয়া গেল না?তানহার জ্ঞান ফেরার আগেই আনমলকে তার মায়ের সামনে এনে হাজির করবো।
শুভ বলল,
— সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেছি।কে নিয়ে গেছে এটাও জেনে গেছি।
রুদ্র সোজা হয়ে বসে বলল,
–কে নিয়ে গেছে?
শুভ: আহনাফ শেখ।এবার বল তোর আনমলের প্রতি এত রাগ কেন?
আহনাফ শেখ নাম শুনে রুদ্র চোখ বন্ধ করে একটা ক্রোধের শ্বাস নিলো।তারপর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টেনে পায়ের উপর পা তুলে বলে উঠে।
~তোরা কি জানিস,তানহাও আমাকে ভালোবাসে! প্রচন্ড ভালোবাসে রে।আমার জন্য অই স্বার্থপর মহিলাও কেঁদেছে।কোনো দিন নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করলো না।কোন পাথর দিয়ে তৈরি সে?
রিফাত :মানুষ কিভাবে পাথরের তৈরি হয়? পাগল!
রুদ্র তাচ্ছিল্য স্বরে বলে উঠে,
–হয় রে হয়,তানহাকে চিনিস না তোরা।শালির মেয়ে আমার জীবনটা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে আনন্দ পায়।তাহলে সে ত পাথরের তৈরিই হবে তাই না।
★★ফ্ল্যাশব্যাক
.
.
তানহার প্রতি আমার মনে ভালোবাসা একদিনে জন্ম নেয়নি।তার প্রতি আমার ভালোবাসা দিনে দিনে তৈরি হয়েছে।বর্ষনের ধারার মতো একটু একটু করে সদ্য জন্ম নেয়া সে আমার তাজা অনুভূতি।আমার এই অনুভূতিকে সে বাল্যকালের টিনএজ আবেগ বলে এড়িয়ে গেল।সবকিছু আবেগের অজুহাতে ধুলোয় মিশিয়ে দিলো। একটুও সহানুভূতি দেখালো না আমায়।
ছোটবেলা থেকে যতবার আমি তানহার সামনে গেছি, ঠিক ততবারই নিজের অজান্তে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠেছে। জানি না কেন, তার সামনে গেলেই অদ্ভুত এক অস্বস্তি কাজ করত।
আর তানহা? তার কি কিছু হতো না? অবশ্যই হতো। আমার সামনে এলেই সেও মুচকি হাসত। কী মায়াবী ছিল সেই হাসি—আমার সমস্ত সত্তা ভালো লাগায় ভরে যেত।
আমি সারাক্ষণ কোনো না কোনো অজুহাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হতাম। কখনো অংক বুঝি না, কখনো মার্জিয়া ডাকছে, কখনো আম-জাম-পেয়ারা গাছ থেকে পেড়ে দলবল নিয়ে তাদের বাড়ি যেতাম। তারপর সবাই মিলে সেগুলো মাখিয়ে খেতাম। কত মধুর ছিল সেই দিনগুলো!
এসএসসি পরীক্ষার সময় তানহা আপু নিয়ম করে আমাকে পড়াত। আমিও তাকে দেখার অজুহাতে বারবার যেতাম। অংক বুঝেও বলতাম বুঝি নাই, জানলেও বলতাম পারি না—শুধু আরও কিছুক্ষণ তার সামনে থাকার জন্য।
একদিন স্কুল ছুটির পর পাড়ার মোড়ে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলাম। হঠাৎ তানহা আপু কোথা থেকে যেন সামনে এসে দাঁড়াল। রাগে দাঁত কটমট করে সে আমাকে হাত ধরে টেনে আনল, তারপর গালে কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারল।
সেটাই ছিল তানহার হাতে খাওয়া আমার প্রথম থাপ্পড়। আর সেই এক থাপ্পড়েই আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম।
যেহেতু আমাদের পাশাপাশি লাগোয়া ছাঁদ।আমি প্রতিদিন সন্ধ্যা রাতে ছাদের কার্নিশে বসে গিটার হাতে গান গাইতাম।আর তানহা সেখানে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ নয়নে আমার গান শুনতো।হালকা বাতাসে উড়ে এলোমেলো হয়ে যেত তার চুল।যা আমার মনে অজানা ঝড়ে কেঁপে উঠতো।
তানহা ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি টেনে বলল,
–তোমার পড়া নাই ছেলে?এই ভর সন্ধ্যায় গান গাইছো যে?মনে কি রঙ লাগছে?সামনে তো পরিক্ষা তোমার।যাও পড়তে বসো।
আমি তখন এক সেকেন্ডও দেরি করতাম না।মুচকি হেসে চুলে হাত বুলাতে বুলাতে সেখান থেকে চলে আসতাম।তানহার সামনে খুব ভদ্র হয়ে চলতাম কি না।সে যা বলতো বাধ্য ছেলের মতো তাই শুনতাম।সে ধমক দিলেই আমার গলা আটকে যেত।হয়তো তার মাঝে হারিয়ে যাওয়ায় কথা বলতে পারতাম না।
~আমার এসএসসি পরীক্ষাও শেষ হলো,রেজাল্টও বের হলো।জিপিএ ফাইভ পেলাম।তারপর নতুন একটা কলেজে ভর্তি হলাম ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে।তানহা তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে।কিছুদিন নতুন কলেজ, নতুন বন্ধু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।এর মধ্যে একদিন শুনলাম তানহাকে নাকি পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে।
খবরটা কানে যেতেই আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। মনে হলো কেউ বুকের মাঝখানে হাত ঢুকিয়ে সবকিছু এলোমেলো করে দিলো। বিশ্বাস হচ্ছিল না। তানহা আপু.. আমার তানহা..অন্য কারো হয়ে যাবে?
সেদিন বিকেলে পড়ার নাম করে তাদের বাড়িতে চলে গেলাম।দরজার সামনে যেতেই ভেতর থেকে হাসির শব্দ আসছিল। বড়রা বিয়ের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছে,হাসি ঠাট্টা করছে, যা আমার কাছে অসহ্য লাগছিলো।
রাগে চোয়াল শক্ত করে কাউকে পাত্তা না দিয়ে গটগট পায়ে তানহার রুমের দিকে চলে গেলাম।রুমে গিয়ে তাকে কথাও খুজে পেলাম না।বারান্দায় গিয়ে দেখি,বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
সাদা থ্রি-পিসে, খোলা চুল। আগের থেকেও যেন আরও সুন্দর লাগছিল তাকে। চোখাচোখি হতেই সে থমকে গেল। আমি তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম কপাল কুচকে।
সে এগিয়ে এসে খুব শান্ত গলায় বলল,
— রুদ্র, তুমি এখানে কেন?
আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি। গলা দিয়ে শব্দই বের হচ্ছিল না। শুধু বলেছিলাম,
–সত্যি নাকি?
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নিচু করে বলেছিল,
–হ্যাঁ।
ওই এক শব্দ শুনে আমি হেসে ফেলেছিলাম। খুব অদ্ভুত একটা হাসি।
–অভিনন্দন, আপু।”
বলেই সেখান থেকে গটগট পায়ে চলে এসেছিলাম। ড্রয়িং রুমে অনেকেই আমায় ডেকে ছিলো।কিন্তু আমি পিছনে ফিরেও তাকাইনি।
~দিন যত ঘনিয়ে আসছে।তানহার বিয়ের তারিখও ততো এগিয়ে আসছে।তাদের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছে।আর আমি তিলে তিলে ভেতর থেকে শেষ হয়ে যাচ্ছি।খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে,ছাদের কিনারায় বসে সিগারেট জ্বালিয়ে বিষন্ন মনে বসে থাকতাম।
মানুষ বলে, প্রকাশ না করা ভালোবাসায় নাকি ব্যথা হয় না।তাহলে আমার ভেতর এত পুরছে কেন?কেন আমার সবকিছু অশান্তি লাগছে?কেন আমি তাকে অন্য কারো বউ হিসেবে মেনে নিতে পারছি না?
এতগুলো প্রশ্নের উত্তর আমার জানা ছিলো না।শুধু মাথার মধ্যে একটাই জেদ, জীবন থাকতে তানহা অন্য কারো হতে পারে না।আমি তাকে কারো হতে দেব না।
অবশেষে লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে আব্বার কাছে গিয়ে বললাম,
–আব্বাজান আমি বিয়ে করতে চাই।
আব্বা আমার কথা শুনে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছিলো প্রায়।পাশ থেকে আমার সয়তান বোন মার্জিয়া হো হো করে হেসে উঠে, আমার মাথায় গাট্টা মেরে বলে উঠে,
“অলেলে আমার ভাই,বিয়ে করবি?দেখি তোর দাড়ি উঠছে নি?
আমি রাগে ঝাড়া দিয়ে তার হাত সরিয়ে দেয়।ক্ষিপ্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে,
–আমি কিন্তু সিরিয়াস আপু।আমি বিয়ে করবো এটাই ফাইনাল কথা।এবং তিন দিনের মধ্যেই করবো।
–তাই?
— হ্যা।
–কাকে বিয়ে করবি? রানুমন্ডলকে নাকি?
–ছ্যাহ!কি বাল বলিস এগলে।আমি এই পাড়ার সবচেয়ে সুন্দরি মেয়েকে বিয়ে করবো।
মার্জিয়া আমার কথা শুনে হাসি থামিয়ে কপাল কুচকে বলল,
–কার কথা বলছিস তুই পাগল?
আমি তীক্ষ্ণ গলায় বলে উঠলাম,
–আমি তানহা আপুকে বিয়ে করতে চাই আব্বা।আমি তাকে খুব ভালোবাসি।তাকে আমি অন্য কারো বউ হতে দেখতে পারবো না।
কথাটা বলা মাত্রই আমার গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো আমার বাপ।যে মানুষ জীবনে কখনো আমায় মারে নাই অই মানুষ আমায় থাপ্পড় দিলো।মার্জিয়া যেন কারেন্টের শক খেয়ে সোফায় বসে পড়লো বাকশক্তি হারিয়ে।রান্না ঘর থাকে আম্মা এসে আমায় কিছু তিক্তা বাণী শুনিয়ে দিলো।” তোর কি বিয়ের বয়স হয়েছে জানোয়ার?তানহা তোর বোনের বয়সী। তোরে ভাইয়ের চোখে দেখে সে।আর তুই এই প্রতিদান দিচ্ছিস।অসভ্য ছেলে।ফাজলামো করা বাদ দে।
–আমি কোনো ফাজলামো করছিনা আম্মা।আমার তানহাকেই লাগবে ব্যাস।
আব্বা আমার দিকে আরও তেরে আসলো।মা আর বোন মিলে তাকে আটকে রেখেছে।রাগে তিরতির করে বলে উঠলো,
–তোর বয়সে আমি, হাফ প্যান্ট,সেন্টু গেঞ্জি পড়ে ঘুরতাম।ফড়িং এর লেজে সুতা বেধে আকাশে উড়াইতাম।গুরুজনদের সামনে মাথা নিচু করে থাকতাম।এমনকি প্রাপ্ত বয়সে বিয়ের কথাও মুখ ফুটে বলার সাহস পায়নি।সেই আমার বাপ চাচারা বলতো বিয়ের সময় হলে এমনি বিয়ে দিবে।আর শালা তুই আমার ব্যাটা হয়ে এই বয়সে বিয়ের কথা বলিস?মনডা চাইতাছে পা*ছায় লাত্থি মেরে তোর বিয়ে আমি পেছন দিয়ে বের করি।
–হ্যাঁ দাদুর কাছে গল্প শুনেছি ক্লাসে নাইনে থাকতে নাকি ললিতার মায়ের সাথে তোমার লুটুস পুটুস ছিলো। দাদুর আলমারি থেকে টাকা চুরি করে নাকি ললিতার মাকে চুড়ি,ফিতা কিনে দিতে।আবার দুজন একসাথে ডেটে যাইতে,মানে ঘুরতে যাইতা আর কি!
আর আমি তো কলেজে উঠছি।তাও বিয়ের বয়স আমার হইছে আব্বাজান।আর তুমি তো আমার থেকেও এগিয়ে ছিলে।
আব্বাজান কেঁশে উঠলেন।থতমত খেয়ে আমার মায়ের দিকে তাকালো।মা আমার রেগে ফায়ার হয়ে আছে।যেন হাতের খুন্তি গরম থাকলে,অইটায় আব্বার পিঠে ঠেসে ধরতো।এইদিকে আমি ক্যাচাল বাধিয়ে গটগট পায়ে নিজের রুমে চলে গেলাম।পাশ থেকে মার্জিয়া আর মা আব্বাকে ঘিরে ধরেছে।
আম্মা খুন্তি হাতে পাকিয়ে বলল,
–এসব কি সত্যি?
আব্বা একটা ঢোক গিলে মনে মনে বলল,
–হতচ্ছড়া।হারামি ব্যাটাছেলে।বাপের সংসারে আগুন লাগিয়ে দিয়ে গেল। না হয় একটা থাপ্পড়ই মারছি,তারজন্য তুই ছেলে হয়ে বাপকে এভাবে ফাসিয়ে দিবি রে?!
~সেদিন রাতে সাহস করে আবার তার সামনে গেলাম।ছাদের দোলনায় সে বসে ছিলো।আমি এক লাফে তাদের ছাদে গিয়ে তার সামনে দাড়ালাম।সে বসা থেকে উঠে দারালো।আরচোখে আমার দিকে তাকালো। ভ্রু দিয়ে ইশারা করে বলল,
–কি চাই?
এবার আর আমি আর দমে যায়নি।সমস্ত দ্বিধা, ভয়কে পিছনে ফেলে তানহার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম।
–আমায় ভালোবাসেন তানহা?
তানহা গম্ভীর গলায় বলল,
–এসব কি বলছো রুদ্র?মাথা ঠিক আছে তোমার?
–আমি আপনাকে ভালোবাসি।বিয়ে করবেন আমায়?
তানহা তীক্ষ্ণ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
–বাসায় বিচার দেব নাকি?
–সবাই জানে তা বলার দরকার নাই।আমি বলে দিয়েছি।আপনি শুধু হ্যাঁ বলেন প্লিজ।আব্বু আপনার কাছে আমাদের কথা জানতে চাইলে হ্যাঁ বলবেন প্লিজ।আমি আপনাকে অসম্ভব ভালোবাসি।অন্য কারো বউ হিসেবে দেখতে পারবো না।
মুহুর্তেই তানহা রেগে গেলো।ধমকের স্বরে বলে উঠলো,
–তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো রুদ্র, তোমার থেকে গুণে তিন বছরের বড়ো আমি।আর তিন দিন পর আমার বিয়ে।আর তুমি এসব আবল তাবল বলছো।মাথা ঠিক আছে?
–হ্যাঁ সজ্ঞানে বলছি,আই লাভ ইউ।
তানহা হেসে বলল,
–এটা ভালোবাসা না,এটা আবেগ, বয়স কেটে গেলে এমনি চলে যাবে।বাসায় যাও।
আমি চিৎকার করে বলেছিলাম,
–না! এটা আবেগ না!আমি সত্যি……
তানহা আর একটা কথাও শুনলো না আমার।চোখে তখন বিরক্তি আর রাগের ভাব স্পষ্ট। সে এক পিছিয়ে গেল।তারপর আরচোখে আমাকে আরও একবার দেখে সেখান থেকে চলে গেল……….
#চলবে…….
[ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন]
