#প্রেমাতাল – পর্ব ৫
#Fatema_Aktar_Mim
রুদ্রের চোখ রাগে জ্বলজ্বল করছে।চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছে প্রায়।কথাগুলো বলেই তানহা রুদ্রের দিকে না তাকিয়ে দরজার দিকে যেতে যাবে, ঠিক তখনই রুদ্র ঝড়ের গতিতে তানহাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল।
তানহার নিশ্বাস আটকে গেল।বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দে যেন পুরো লাইব্রেরি কেঁপে উঠছে।রুদ্রের গরম নিঃশ্বাস তানহার গালে পড়তেই সে রাগে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে ফেলল।দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
–“কি করছো রুদ্র?ছাড়ো আমায়?
রুদ্র দেয়ালে এক হাত রেখে তানহার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
–আমার চোখে চোখ রাখেন তানহা..,তারপর বলুন আমায় ভালো বাসেন কি না!আজ আমি আপনার চোখের মধ্যে নিজের উত্তরটা খুঁজে নেবো।মানুষের চোখ কখনো মিথ্যা বলে না।আপনার চোখও মিথ্যা বলবে না।
— কত বার বলবো,আমি তোমায় ভালোবাসি না,,বাসি না ভালো।তাও কেন বারবার আমায় উত্ত্যক্ত করো।আমার ধৈর্য্যের পরিক্ষা নিওনা রুদ্র।যেতে দাও আমায়।।
–এই কথাটা আমার চোখে চোখ রেখে বলেন!
তানহার ফর্সা মুখশ্রীতে মুহুর্তে লাল রক্তবর্ণ ধারণ করলো।রাগে তার সমস্ত শরীরে কম্পন শুরু হলো।ক্ষিপ্ত চোখে রুদ্রের দিকে তাকায়।রাগে তিরতির করে বলে উঠলো,,
–ভালোবাসি না তোমায় আমি!বাসি না ভালো। এবার সামনে থেকে সরে দাড়াও বলছি।
বলেই তানহা রুদ্রকে পাশ কেটে যেতে চাইলে রুদ্র তার বাহু শক্ত করে চেপে ধরে।মুহুর্তেই তানহার চোখ অগ্নিকাণ্ডের ন্যায় জ্বলে উঠল।ধৈর্য্যের সমস্ত বাধ ভেঙে যায়।রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে লাগল তানহা।
–রুদ্র ছাড়ো আমায়!
রুদ্রের হাতের বাঁধন আরও শক্ত হয়ে গেল।রুদ্রের আঙুলের গ্রিপ যত শক্ত হচ্ছে, তানহার শ্বাস ততই ভারী হয়ে উঠছে।রাগ আর ক্রোধে শরীর তিরতির করে জ্বলে উঠছে।
হঠাৎই তানহা যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।
রেগে পাগলের মতো ছটফট করতে লাগল, রুদ্রের হাত থেকে নিজের বাহু টেনে বের করতে গিয়ে কখনো দেয়ালে আঘাত লাগছে,তো কখনো রুদ্রের কাঁধে ধাক্কা দিচ্ছে।চেচিয়ে বলে উঠলো,
–তোমার সাহস হলো কিভাবে আমাকে ছোয়ার!ছাড়ো বলছি।ছেরে দেও,,ছাড়ো আমায়!
[তার কণ্ঠ কেঁপে উঠছে, শব্দগুলো যেন ঝড়ের মতো তীক্ষ্ণ।]
রুদ্র আতঙ্কে তানহার চোখের দিকে তাকাতেই থমকে গেল—
তানহার চোখের পাপড়ি রাগে কাঁপছে, আর সেই চোখ বেয়ে নেমে এলো দুফোঁটা জল—
রুদ্রের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। সে এতক্ষণ কি করতে যাচ্ছিলো তা ভেবে নিজের উপরই তার প্রচন্ড রাগ হলো।তানহার চোখে জল দেখে নিজের হাত তানহা থেকে সরিয়ে নিলো।
এক পা পিছিয়ে এসে অসহায়ের মতো বলে উঠলো—
–সরি..সরি তানহা, আমি..আমি এমনটা চাইনি। আমি শুধু…..
কথা শেষ হওয়ার আগেই
তানহার শক্তপোক্ত হাতের থাপ্পড় এসে পড়লো রুদ্রের গালে।
রুদ্রের মাথা সামান্য ঘুরে গেল আঘাতে।
তানহা ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠলো,
–জোর করে কখনো ভালোবাসা হয়না।আমি না বলছি মানে “না”..তাহলে কেন বারবার আমায় বিরক্ত করছো।আমার গায়ে হাত দিলে কোন সাহসে?তোমায় আমি ছোট ভেবে এতদিন ছাড় দিয়েছি।কিন্তু দিন দিন তুমি আমার মাথায় চরে যাচ্ছো।আমি বারবার তোমাকে আর বোঝাতে পারবো না,।
দ্বিতীয় বার আমার চোখের সামনে যেন তোমায় না দেখি।ভুলেও আমার আর আনমলের সামনে আসবা না।নাহলে আমি ভুলে যাবো তুমি আমার প্রতিবেশী।
কথাগুলো বলেই তানহা গটগট পায়ে সেখান থেকে চলে গেলো। যাওয়ার সময় দরজার পাশে শুভ আর রিফাতকে দেখতে পেলো।তাদের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল।রিফাত আর শুভ ভয়ে ঢোক গিলে রুদ্রের কাছে আসলো।
~রুদ্র তখনও গালে হাত দিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে ছিলো।তানহার পাঁচ আঙ্গুলের দাগ বসে লাল হয়ে গেছে তার গাল।টানটান ব্যথায় রুদ্রের চোয়াল প্রায় বাঁকা হয়ে এসেছে।
পাশ থেকে শুভ বলে উঠলো,,
–হাস্পাতালে নিয়ে যায় চল দোস্ত!দাঁতের মারি মনে হয় নড়ে গেছে তোর,,,সময় মতো চিকিৎসা করালে ঠিক হয়ে যাবে..!
রুদ্র তীক্ষ্ণ চোখে শুভর দিকে তাকালো।এমনিতেই তাদের কথা মতো প্রপোজ করতে গিয়ে তানহা রেগে চলে গেলো।তার উপর শুভর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো কথা শুনে,রুদ্রের গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে।
রিফাত: এই নিয়ে কয়বার যেন থাপ্পড় খেলি তুই?অহ মনে পড়ছে, ৩৬ বার মনে হয়। এইবার একেবারে দাঁতের মাড়ি নাড়িয়ে দিছে।দরজার পাশ অব্দি থাপ্পড়ের আওয়াজ চলে গেছে।এই নাহলে আমাদের তানহা আপু।
রুদ্র অগ্নি চোখে রিফাতের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
–শালার বেটা চুপ কর! থাপ্পড় মেটার না,তানহা রেগে আছে এটা সবচেয়ে বড়ো বিষয়।এই রকম থাপ্পড় আমি একশোটাও ক্ষেতে রাজি আছি।কিন্তু তাকে আমি ছাড়তে চাইনা।
–ধরতেই তো পাড়লি না!ছাড়বি কি?
পাশ থেকে শুভ বলে উঠলো কথাটা।
রুদ্র: পাখিটা ধরেছি অনেক আগেই।শুধু খাচাটা খোলা রাখছিলাম..শালা সেই সুযোগে আমার পাখি অন্য কেউ চুরি করে নিয়ে গেছিলো।তবে পাখি তার আসল গন্তব্যে ফিরবে খুব শীঘ্রই।
রিফাত: আচ্ছা দোস্ত, তুই তানহা আপুর প্রেমে পড়ছিস কবে থেকে?
রুদ্র: ছোট বেলায় তানহা আপু আমায় ছোট বাচ্চা ভেবে গালে একটা চুমু খেয়েছিলো।ঠিক সেদিন থেকে আমার মনে তার জন্য লাড্ডু ফুটছে।
শুভ: শুধু চুমু খাওয়ার জন্য আপুর পিছনে পড়ছিস?।
রুদ্র:অনেক বড়ো কাহিনি পড়ে শুনিস।এখন কিছু ভালো লাগছে না বাল।বাসায় চল।
_____________
সন্ধ্যার দিকে আনমল ড্রয়িং রুমের ফ্লোরে বসে খেলনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেলছে।
চারদিক জুড়ে এলোমেলো রঙিন বিল্ডিং ব্লক, ছোট্ট নীল রঙের গাড়ি, রাবারের হাঁস, গোলাপি টেডি বিয়ার আর মাঝখানে বসে আছে আনমল, ঘাড় কাত করে নিজের রাজত্ব সামলাচ্ছে।
তানহা রান্নাঘরে আনমলের জান্য হালুয়া বানাচ্ছে। আনমল তার হাতের হালুয়া ক্ষেতে খুব বেশি পছন্দ করে,সেইজন্য নিজ হাতে রান্না করছে।বর্ণা আর মায়িশা ছুটি কাটাচ্ছে, ট্যুরে গেছে সাত দিনের জন্য।আনমলকে এখন তাকেই সামলাতে হচ্ছে।যদিও নতুন করে তার জন্য লোক রাখা ব্যাপার না,কিন্তু তেমন বিসস্থ লোক আর পাওয়া যায়না।
তানহা রান্নাঘর থেকে বারবার তাকিয়ে আনমলকে দেখছে, আজ ছেলেটা যেন কোনো আবদার না করে একদম চুপচাপ হয়ে খেলছে।ও usually খেলতে খেলতেই “মাম্মা দেখো!” “মাম্মা এইটা পড়ে গেল” এসব বলে ঘ্যানঘ্যান করে।
কিন্তু আজ যেন এসব কিছুই বলছে না।একদম নিরব হয়ে খেলছে।
তানহা কাছে গিয়ে দেখতেই আনমল দুই হাত দিয়ে ব্লক জুড়ে ‘বাড়ি বানানোর’ চেষ্টা করছে।
কিন্তু ব্লকগুলো বারবার ভেঙে পড়ে যাচ্ছে।
সে রাগে নাক ফুলিয়ে বলল,
–এইতা দাঁলাইতেছে না আম্মু! এই ব্লক খালাপ!
তানহা হেসে বলল
–ব্লক খারাপ না সোনা, তুমি ভুলভাবে লাগাচ্ছো না।আমাকে দেও,আমি শিখিয়ে দিচ্ছি।
আনমল গম্ভীর মুখে ব্লকটার দিকে তাকালো।
তারপর একদম বড়দের মতো মাথা নেড়ে বলল—
–ওহ্ তাইলে আমাল হাতটাই খালাপ?
তানহা হাসি চেপে রাখতে না পেরে বলল,
–না না, তোমার হাত একদম অনেক সুন্দর বাবা।
আনমল নিজের হাত দুটো উঁচু করে গর্বিত ভঙ্গিতে বলল
–হ্যাঁ, আমাল হাত সুপালহিলো হইছে!
বলেই টেডি বিয়ারটাকে ধরে উড়ানোর মতো করে—
–টেডি উলে যাও, উশশশশ..”
তানহা মুখে হাত চেপে হাসতে হাসতে পুনরায় রান্না ঘরের দিকে গেলো।
~আনমল টেডি বিয়ার নিয়ে ইচ্ছে মতো ঘুষি মারতে মারতে একদম ভর্তা বানিয়ে ফেলছে।একটু পর পর উঁচু করে উড়ানোর চেস্টা করছে।
ঠিক তখনই দরজার কলিং বেল বেজে উঠল। তানহা ব্যস্ত থাকায় একজন কাজের লোক গিয়ে দরজাটা খুলে দেয়।
রুদ্র বাড়ির মধ্যে ঢুকে কাউকে দেখতে পেলো না,শুধু কাজের লোকটা আর ফ্লোরে বসে থাকা আনমলকে দেখলো।মুহুর্তেই তার কপাল কুচকে এলো।বাড়ির মানুষ সব গেলো কথাই?
কপাল কুচকে আনমলের পাশে থাকা সোফায় গিয়ে সটান হয়ে বসে পড়লো।
আনমল ডেটি বিয়ার হাতে নিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে।যেন চোখ দিয়েই ভস্ম করে দিবে রুদ্রকে।রুদ্র সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,,
–কি রে পিচ্চি,এভাবে তাকিয়ে কি দেখছিস?তোর মা কথাই?
–তোমাকে বলবো কেন?তুমি আমাল সোফায় বসেছো কেন! উতো অখান থেকে।
রুদ্র সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়,তারপর আনমলের পাশে হাটু ভাজ করে বসে পরে।আনমলের একটা খেলনা রুদ্র হাতে নিলে,আনমল চেচিয়ে উঠে,
–ছোবে না আমাল জিনিস, পঁচা আংকেল!নাক ফাতিয়ে দেবো।
–আয় ফাটা নাক।
–তুমি খুব পঁচা ছেলে।
রুদ্র তার কথায় পাত্তা না দিয়ে, আনমলের হাতে থাকা টেডি বিয়ার টায় যেই না হাত দিতে যাবে।অমনি আনমল রুদ্রকে ডেটি বিয়ার দিয়েই মারতে থাকে।
–পচা ছেলে,চোল,আমাল জিনিস চুলি কলতে এসেছে।আম্মু..চোল..চোল!
রুদ্র বিরক্ত হয়ে ডেটিটা ঘোপ করে চেপে ধরে,ধমক দিয়ে বলে উঠে,,
–চুপ কর বালডা।টেডির সাথে আরশোলা ছিলো।সেটাই ছাড়াচ্ছিলাম।আমি কি তোর ডেটি বিয়ার ভেজে খাবো নাকি?
আনমল ধমক খেয়ে ভয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।কান্নার শব্দে তানহা রান্নাঘর থেকে ছুটে আসলো।দ্রুত আনমলকে কোলে তুলে নেয়,,বিচলিত হয়ে বলে উঠলো,
–অ লে লে, কি হয়েছে আমার বাবা টার, কথায় ব্যথা পেয়েছো!বলো আমায়।আম্মু সব ঠিক করে দিবে।
আনমল ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে ততলিয়ে বলে উঠে,,
–পঁচা ছেলে,,পঁচা ছেলেটা আমাল সব জিনিস চুলি কলে নিয়ে নিয়েছে………
আনমলের কান্নায় এতক্ষণ তানহা খেয়ালই করে নাই,ফ্লোরে ভেজা বিড়ালের ন্যায় থতবত খেয়ে রুদ্র বসে আছে।হাতে তার টেডি বিয়ার এখনো রয়েছে।
অবাক হয়ে আনমলের দিকে তাকিয়ে আছে সে,,অদ্ভুত এই ছেলেটা বারবার তাকে এভাবেই ফাসিয়ে দেয়।কিছু না করেও অপরাধী বানিয়ে ফেলে।তানহার রাগী দৃষ্টি দেখে রুদ্র ভয়ে ঢোক গিলল,,উঠে দাড়িয়ে টেডি বিয়ারটা আনমলের হাতে ধরিয়ে দিলো।আনমল সেটা নিয়ে রাগে রুদ্রের মুখে ছুরে মারলো,,
রুদ্র চোখ গরম করে তাকালেও,তানহার দৃষ্টি দেখে ভয়ে কাচুমাচু করছে,
–কি চাই এখানে?
–ইয়ে তানহা…মানে তানহা আপু।
–কি সমস্যা চুপচাপ বলে এখান থেকে বিদায় হও।
–আসলে তানহা আপু এইম সরি।আসলে তখন আপনার সাথে অইরকম ব্যবহার করা আমার ঠিক হয়নি।প্লিজ মাফ করে দেন,ভবিষ্যতে আরও এমন করবো।
–কিহ?
–থুকু,মানে করবো না।সরি সরি।
তানহা তীক্ষ্ণ চোখে রুদ্রকে দেখে বলল,
–আচ্ছা ঠিক আছে মাফ করে দিলাম,,এমন যেন আর না হয়।আর আনমলকে এসব বাজে ভাষা শেখাবে না।কথা বললে ভদ্র ভাবে বলবা,,নাহলে বলার দরকার নেই।
রুদ্র মাথা নেড়ে চলে যেতে লাগলো।
তানহা একটা নিশ্বাস ছাড়লো। এই মুহুর্তে রুদ্রকে মাফ না করলে,নিশ্চয়ই অনেক কথা বাড়তো।যেটা তানহা মোটেও চায়না,,তাই বেশি কথা না বলার জন্যই সরি এক্সসেপ্ট করলো।নাহলে রুদ্র তো যেতোই না,উলটো হাত পা ধরে মাফ চেয়ে কান ফালাফালা করে দিতো।
দরজার কাছে গিয়েও রুদ্র আবার ফিরে আসে।তানহা বিরক্ত হয়ে কপাল কুচকে বললো,,
–আবার কি?
— আসলে তানহা আপু,মার্জিয়া আপু এসেছে কাল আমাদের বাড়িতে ছোটখাটো পা-টি হবে।তাই আপনাকে আসতে হবে।মার্জিয়া আপু বলে দিয়েছে………..
#চলবে…….
#প্রেমাতাল
#পর্ব-৬
#Fatema_Aktar_mim
পরদিন সন্ধ্যা। রোদের শেষ আলতো আলো মিলিয়ে গিয়ে চারপাশে যেন নরম কুয়াশার চাদর নেমে এসেছে। তানহা ছোট্ট আনমলকে নিয়ে রুদ্রদের বাড়ির সামনে পৌঁছাল। বাড়িটার ছাদ থেকে ভেসে আসছিল হাসি–ঠাট্টার শব্দ। বোঝা যাচ্ছিল, সবাই আগেই এসে জড়ো হয়েছে।
উপরে উঠে তানহা দেখল—রিফাত, শুভ, মার্জিয়া আর মার্জিয়ার কয়েকজন কাছের বান্ধবী ইতিমধ্যেই গোল হয়ে বসে গল্প করছে। রুদ্রের বড় বোন মার্জিয়া তানহার খুব ভালো বন্ধু।
তারা একইসাথে কলেজ–ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছে! বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে মাঝে মধ্যে এখানে আসলে পারার সব বন্ধু-বান্ধব মিলে আড্ডা দেয়।
ভার্সিটিতে অই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তানহার আর ইচ্ছে ছিলো না রুদ্রের বাড়িতে আসার।কিন্তু না আসলে মার্জিয়া মন খারাপ করবে।সেইজন্য বাধ্য হয়ে এসেছে।
~রুদ্র একটা বালিশের উপর এক হাত রেখে ভর দিয়ে ফোনে গেইম খেলছিলো।তার এসব আড্ডা একদম ভালো লাগছে না।কারণ একটাই তার প্রেয়সী এখনো আসে নাই।আদোও আসবে কি না সেটা তার জানা নেই।তাই সে মন মরা হয়ে বসে গেইম খেলে সময় পার করছে।এইদিকে শুভ, রিফাত,নাদিয়, মার্জিয়ার সাথে বসে লুডো খেলায় ব্যস্ত।
হঠাৎ রুদ্র ছাদের দরজার পাশে তানহাকে দেখে থমকে গেল।
তানহার পড়নে সাদামাটা সুতি কামিজ—চুলগুলো বাঁধা,মাথায় ওড়না দেওয়া,মৃদু বাতাসে ছোট ছোট চুল গুলো উড়ে এসে মুখের উপর পড়ছে।আর তার আঙ্গুল ধরে দাড়িয়ে আছে আনমল।
আনমলের পরনে নীল রঙের টি-শার্ট, কালো প্যান্ট, আর মাথায় ছোট্ট টুপি দেওয়া।একদম ছোট্ট প্রিন্সেস এর মতো লাগছে।
মার্জিয়া আনমলকে দেখে খেলা থেকে উঠে তাদের কাছে দৌড়ে আসলো।তানহার সাথে কোনো রুপ কথা না বলেই আনমলকে কোলে তুলে নিলো,দু গালে চুমু খেয়ে বলে উঠে,
–ওলেলেলে..আমার আনমল সোনা কতো বড়ো হয়ে গেছে।সেই কতো দিন পর দেখছি আমার বাবুটাকে।কি সুন্দর দেখতে হয়েছে,একদম রাজপুত্রের মতো।
আনমল দু’হাত দিয়ে গাল মুছে, গম্ভীর মুখ করলো, ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
–আমি লাজপুত্র না পিপি। আমি আনমল।নামিয়ে দেও আমায়?খেলবো।
মার্জিয়া হেসে উঠল,আনমলের গাল টেনে দিয়ে বলল
–ওরে সয়তান কোলে থাকলে তোমার কি হয় শুনি?
–সুলসুলি লাগে পিপি।নামিয়ে দাও।
আনমলের কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো।সাথে তানহা মুখ চেপে হেসে বলে উঠে,
–ছেলেটা এমনই রে,কারো কোলে থাকতে চায় না,সারাক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করে।
–তাইতো দেখছি।এই বয়সেই সুরসুরি লাগে তোর ছেলের।
মার্জিয়া আনমলকে নিয়ে বসে পড়লো। সাথে তানহাও রুদ্রের ঠিক সামনাসামনি বসে পরে।রুদ্র তো এক নজরে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। পাশ থেকে শুভ কুনুই দিয়ে গুতা দিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠে,
–শালার বেটা,আজ অন্তত ভালো হয়ে থাক,নাহলে থাপ্পড় একটাও মাটিতে পরবে না।
রুদ্র শুভর কথা শুনে গেমটা অফ করে ফোনটা সাইডে রেখে দিলো।কিন্তু তার নির্লজ্জ চোখ ফিরল না তানহার দিক থেকে।
তানহা কিছুটা ইতস্তত বোধ করে চোখটা নামিয়ে নিয়ে গুটিসুটি হয়ে বসলো।
আনমলকে কোলে নিয়ে মার্জিয়া সকলের উদ্দেশ্য বলে উঠে,
–ওকে গাইস,লুডো খেলা এখন অফ! ট্রুথ অর ডেয়ার ছাড়া আড্ডা জমে না।চলো সবাই প্রস্তুতি নেও!
রিফাত কাঁপা গলায় বলল,
–ইয়ে আপু..ডেয়ার একটু হালকা দিও।আগেরবার তো গাছে উঠে আটকে গেছিলাম।
শুভ সাথে সাথে বলল,
–কোনো হালকা হবে না,ডেয়ার মানে ডেয়ার!ভয় পেলে তোর খেলার দরকার নাই ভিতু।
মার্জিয়া মুচকি হেসে বোতল ঘোরালো।সবাই গোল গোল চোখে বোতলের দিকে তাকিয়ে আছে। বোতল ঘুরতে ঘুরতে থামলো..রুদ্রের দিকে!পাশ থেকে শুভ চেচিয়ে উঠে,
–বাহ!শুরুতেই হিরো?
মার্জিয়া বলল,
–শুভ বেশি কথা বলিস না,চুপ কর।আর রুদ্র বল ট্রুথ না ডেয়ার?কোনটা নিবি?
রুদ্র তানহার দিকে তাকিয়ে চুলের ভাজ ঠিক করতে করতে বলল,
–ডেয়ার!”
সবাই “ওওওহ” বলে উঠলো।তানহা ভ্রু তুলে তাকালো,কপাল কুচকে বিরবির করে বলল,__পাগল নাকি..এমন করে কেন?
মার্জিয়া সবার আড়ালে রুদ্রকে চোখ মেরে বলল,
–ঠিক আছে রুদ্র..তোর ডেয়ার হলো__যার দিকে তাকিয়ে তুই সবচেয়ে বেশি নার্ভাস ফিল করিস….মানে ভয় পাস আর কি?সেই মানুষটার দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রাখতে হবে ১০ সেকেন্ড।
কথাটা শোনা মাত্রই তানহার বুকের ভিতর ধক করে উঠলো।চোখ বড়ো বড়ো করে রুদ্রের দিকে তাকালো।
~রুদ্ধশ্বাস নীরবতা নেমে এলো ছাদের ওপর। সবাই হা হয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে,কিন্তু রুদ্রের দৃষ্টি আটকে আছে ঠিক একজনের উপর।
তানহার বুক ধড়ফড় করছে। মনে হলো চারপাশে কেউ নেই, কেবল তার বুকের ভেতর টিপটিপ শব্দ ছাড়া। তানহা মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে নিজের ওড়নার আঁচলে হাত পেচাতে থাকে।যতটা সম্ভব অন্যমনস্ক হয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেস্টা করে,কিন্তু সেটা আর সম্ভব হলো না..রুদ্র বেহায়ার মতো তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
মার্জিয়া হাত তালি দিয়ে বলল,
–চল রুদ্র! সময় নষ্ট করিস না। শুরু কর… আমি টাইম ধরছি।আমিও দেখি কাকে দেখে তুই সবচেয়ে বেশি নার্ভাস ফিল করিস।
শুভ রুদ্রের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল,
— দোস্ত.. তোর পায়ে ধরি আনমলের মায়ের দিকে তাকাস না।দরকার হলে তুই আমার দিকে তাকা,নাহলে নাদিয়ার দিকে তাকা।কিন্তু ভুলেও তানহা আপুর দিকে নজর দিস না।কাল ভার্সিটিতে যা করছিস তুই,তারপরও আপু তোকে ক্ষমা করে দিয়েছে।আজ কিছু করলে তোকে আর কেউ বাঁচাবে না শালা।
রুদ্র শুভকে পাত্তা দিলো না।বরং বিরক্ত হয়ে এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করল, যেন নিজেকে স্থির করছে। তারপর ধীরে ধীরে মাথা তুলল..
এবং ঠিক সোজা তাকালো তানহার চোখে।
তানহা নিঃশ্বাস আটকে বসে রইল।
রুদ্রের দৃষ্টি গম্ভীর..কিন্তু তাতে একরাশ উষ্ণতা, একধরনের অভিযোগ, আবার অদ্ভুত মায়া মেশানো।এই মাদকতা মেশানো চোখে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে নিশ্চয়ই সে প্রেমে পরে যাবে।
তাই মুহুর্তেই তানহা নিজেকে সামলে নিলো,দাঁতে দাঁত পিষে গম্ভীর গলায় বলল,
–আমার দিকে কেন তাকাচ্ছো ইডিয়ট? অন্যদিকে তাকাও বলছি!
মার্জিয়া ঠোঁট চেপে হেসে বলল,
–আরে বাবা,রুদ্রের দেখি তোকে নিয়ে ফিল হয়,মানে ভয় পায় তোকে।
তানহা দাঁত পিষে রুদ্রকে চোখ রাঙায়।কিন্তু রুদ্র সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না।মেকি একটা হাসি দিয়ে বলে উঠে,
–আপু গুণা শুরু কর।নাহলে সারাজীবন এভাবে তাকিয়ে থাকবো।
মার্জিয়া মুখে হাত দিয়ে হাসি থামিয়ে বলে উঠে,
–ওয়ান…
–টু…
–থ্রি…
চার সেকেন্ডেই তানহার মনে হলো হৃদপিণ্ড বোধহয় বাইরে এসে পড়বে।
রুদ্রের দৃষ্টি ততক্ষণে আরো গভীর হতে থাকে। যেন অনেকদিনের জমে থাকা না-বলা কথা চোখ দিয়ে বলে দিচ্ছে সে।
পাঁচ… ছয়… সাত…
তানহার আঙুলগুলো কেঁপে উঠল। সে চোখ নামাতে চাইল..কিন্তু পারল না।
রুদ্র হাসল না, কিছু বলল না—কেবল অদ্ভুত মায়ায় তাকিয়ে রইল।
আট… নয়…
দশ!
মার্জিয়া হাত তালি দিয়ে উঠল,
–টাইম আপ! উফফ, কি ইন্টেন্স ছিলো রে! রুদ্র, তুই ভয় পেলি নাকি?
রুদ্র ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি টেনে কপাল চুলকে বলল,
–হুম… ভয় পেয়েছিলাম আপু। তবে এটা অন্যরকম ভয়।
তানহা তড়িঘড়ি করে চোখ নামিয়ে ফেলল। মনে হলো গরম কিছুতে হাত দিয়ে ফেলে পুড়ে গেছে।তার ফাকা মস্তিষ্কে কিছু ঢুকছে না..হঠাৎ মার্জিয়া এমন একটা ডেয়ার কেন দিলো..তাও তাকে নিয়ে?বিষয়টা জটলা পাকিয়ে দেয় তার মস্তিষ্কে।
রিফাত চাঁচল্য ভরে বলল,
–এবার তানহা আপুর পালা! বোতল ঘোরাও, ঘোরাও!
তানহা মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে বলল,
–এইসব বাচ্চামি খেলা খেলতে ইচ্ছে করছে না। আমি নিচে গেলাম পানি ক্ষেতে।মার্জিয়া আনমলকে একটু দেখে রাখিস,আমি যাব আর আসবো।
কথাগুলো বলেই তানহা গটগট পায়ে নিচের দিকে চলে গেলো।
তানহা যাওয়া মাত্রই ছাদে সবাই হাত তালি দিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।শুভ তো পাড়লে মাটিতে গড়াগড়ি দিবে।আনমল শুধু গম্ভীর চোখে তাদের দেখে যাচ্ছে।রুদ্র হাসি থামিয়ে মার্জিয়ার হাত ধরে বলে উঠে,
–পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বোন তুই আমার।তোর মতো বোন যেন বাংলার ঘরে ঘরে হয়। যে বোন সমাজের সমালোচনার কথা বিবেচনা না করে,নিজের ভাইয়ের কথা শোনে।সে বোনকে আমি অসম্ভব ভালোবাসি।
–আই লাভ ইউ আপু”এন্ড থ্যাংক ইউ…
মার্জিয়া কপাল কুচকে বলে উঠে,
–হয়েছে পাম দেওয়া লাগবে না আর, এবার থাম তোর এত ভালো ভালো কথা হজম হচ্ছে না আমার।
___________
মেঘ করেছে, বাতাস সেরেছে,মাঝে মধ্যে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।তানহা এখনো রুদ্রদের বাড়িতেই আছে।চলেই যাচ্ছিলো, হুট করে রুদ্রের মা রেণু বেগম তাকে বাধা দিয়ে..খাওয়া দাওয়া শেষ করে তারপর যেতে বলল।মার্জিয়ার চাপে তানহা আর কথা বাড়ালো না,সে চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে বসে আনমলকে খাবার খাইয়ে দিচ্ছে।খাওয়ানো শেষ হলে আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দেয়।এবং ছেলেকে কোলে নিয়ে সে নিজেও ক্ষেতে থাকে।হঠাৎ রুদ্র এসে আগ বাড়িয়ে আনমলকে কোলে তুলে নেয়।
–এ্যাহ আম্মু…পঁচা আংকেল…?
তানহা তীক্ষ্ণ চোখে রুদ্রের দিকে তাকায়,পাশে রেণু বেগম থাকায় কিছু বলতেও পারছে না।শুধু শান্ত স্বরে বলল,
–কি করছো রুদ্র?আনমলকে দেও আমার কাছে,নাহলে কান্না করবে, অ কারো কোলে থাকে না।
রুদ্র আনমলকে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
–আপনি খাবার খান তানহা আপু।আমি ওকে সামলে রাখবো,চিন্তা করবেন না।
রেণু বেগম: বাচ্চা কোলে নিয়ে কি খাবার খাওয়া যায়?..রুদ্র নিয়ে থাকুক,তুমি বরং খেয়ে নেও মা।
তানহা আর কিছু বলল না,সৌজন্য মুলক হাসি দিয়ে চুপচাপ খাবার ক্ষেতে থাকল।
আনমল: আমায় নামিয়ে দাও পঁচা ছেলে..আমি হেটে যাচ্ছি..?
রুদ্র: কেন কোলে থাকলে তোর কি কাতুকুতু লাগে?
আনমল: সুলসুলি লাগে..!
রুদ্র:অলে বাবা,কথায় সুলসুলি লাগে দেখি।আচ্ছা বাবা কাঁদো না বউ এনে দিমুনি।
আনমল রুদ্রের মুখে খামচি দিয়ে বলে উঠে,
–নাহ..!চুপ বেয়াদব, পঁচা কথা বলে।
রুদ্র আনমলের হাত ধরে ধমক দিয়ে বলে উঠে,
–খামচি দিস কেন?আমি কি তোকে মারছি?
ধমক শুনে আনমলের চোখ ছলছল করে উঠে।রুদ্র ঘাবড়ে গিয়ে নিজেকে সামলিয়ে শান্তস্বরে বলল,
–ইয়ে আনমল?
— হুম।
–শুনলাম তোর মা সন্ধ্যায় হালুয়া বানিয়েছে। আমাকে একটু দিস তো বাপ।
–নাহহ…!
আনমল তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে চিৎকার করে রুদ্রের চোখ মুখে খামচি দিতে থাকে।
~ রুদ্র আনমলের সাথে ঝগড়া করতে করতে গার্ডেনে চলে আসে।যেখানে তার সমস্ত বন্ধুরা চেয়ার পেতে বসে গল্প করছে।মুলত সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে এখানে কিছুক্ষণ বসে থেকে তারপর বাসায় চলে যাবে।রুদ্র আনমলকে নিয়ে গেলে শুভ একটা চেয়ার এগিয়ে দেয়।সেখানটায় আনমলকে বসিয়ে দেয়।কারণ আনমল কোলে থাকতে চাইছে না,বারবার রুদ্রকে খামচি দিচ্ছে,সেইজন্য এখানে বসিয়ে দিলো।
শুভদের মুখে হাসি দেখে আনমল মুখ গোমড়া করে অন্যপাশে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
শুভ আনমলের পাশে বসে বলে উঠে,
–কি রে ভাই..এতটু পিচ্চি আমায় এটিটিউড দেখাচ্ছে!”রুদ্র তোর ছেলেকে সামলা ভাই..গুরুজন দের সন্মান করতে সেখা।
পাশ থেকে রিফাত হেয়ালি করে বলে উঠে,
–তো তোরে কি চুম্মা দিবে?তোর যা চেহারা কাউয়াও তোর দিকে তাকাবে না।
রুদ্র ধমক দিয়ে বলে উঠে,
–চুপ কর সবাই..ভুলেও আনমলকে কেউ ধমক দিবি না?
শুভ: অলেলে..ছেলের প্রতি বাবার কি দরদ।
রুদ্র:এমন কোনো বিষয় না।সে কান্না করলে তানহা রেগে যাবে,আমি চাইনা সে আমায় আর ভুল বুঝুক।
~মাঝে মাঝেই বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে,দুরে কোথাও হালকা গুমগুম শব্দ।তানহা খাওয়া দাওয়া শেষ করে কোনো রুপ দেরি না করে সোজা গার্ডেনের দিকে চলে আসে।সে যাওয়ার সাথে সাথেই শুভ উঠে দাঁড়ায়।
তানহা শান্ত গলায় বলল,
–আনমল কথায়?
শুভ পাশের দিকে ইশারা করে বলে উঠে,
–এই তো এখানেই….! কি রে আনমল কথায় গেলো?একটু আগে তো এখানেই বসে ছিলো!
তানহা কপাল কুচকে তাকায়,
–এখন নেই কেন?
শুভ বিস্মিত হয়ে চারদিকে তাকালো।চেয়ারটা খালি।একটু আগেই তো আনমল এখানে বসেই খেলছিলো।তার হাতে ছোট ছোট অনেকগুলো বল ছিলো যেগুলো রুদ্র এনে দিয়েছিলো,।সব বল মাটিতে পড়ে আছে। তাহলে আনমল কথায় গেলো?শুভ একটা শুকনো ঢোক গিলে তানহার দিকে তাকায়,,
–বিশ্বাস করেন আপু,এখানেই ছিলো আনমল।মনে হয় সামনের লনে গেছে..আমি দেখে আসছি।
তানহার বুক ধকধক করে উঠে,
–রুদ্র কথায়?তার সাথেই তো আনমল ছিলো।কথায় নিয়ে গেছে আনমলকে?
রিফাত বলে উঠে,
–আপু রুদ্র তো ওয়াশরুমে গেছে,,যাওয়ার সময় আনমলকে আমাদের কাছে দিয়ে গেছিলো..!
তানহার বুক কেঁপে উঠলো মুহুর্তেই।সে এতক্ষণ ভেবেছিলো আনমল রুদ্রের কাছে।কিন্তু এরা বলছে রুদ্রের কাছেও নেই।তাহলে বাচ্চাটা কথায় গেলো…………
#চলবে…
[ভুলত্রুটি গুলো ক্ষমার চোখে দেখবেন প্লিজ]
