#প্রেমাতাল
#পর্ব–১৪/১৫ [🚫রোমান্টিক এলার্ট]
#Fatema_Aktar_mim
নিউ মার্কেটের এক বিশাল দোকানের সামনে দারিয়ে জুই দোপাট্টা নিয়ে দামাদামি করছে।পাশে চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র।জুই সামান্য একটা ওড়না নিয়ে এমন ভাবে দোকানীর সাথে ঝগড়া করছে,যা দেখে রুদ্রের মন চাচ্ছে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে চলে যেতে।কিন্তু চাইলে তো আর সব পাওয়া সম্ভব না।তানহা আনমলকে নিয়ে ওয়াশরুমে গেছে। যাওয়ার সময় কড়া গলায় বলে গেছে,”জুই এসব দোকানপাট কিছু চেনে না,তাকে একটু দেখে রাইখো,আবার ভিরের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে।
রুদ্র বাধ্য হয়ে এখন জুইয়ের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। তার দু’হাত ভর্তি শপিং ব্যাগ।সামান্য কল আশায় ফোনটাও ধরতে পারছে না।যার কারণে রুদ্র বেজায় বিরক্ত,তার উপর জুইয়ের চেচামেচি, সব মিলে পাগল হওয়ার মতো অবস্থা তার।
–এইযে ভাই, শোনেন! আমাকে কি আপনার বলদ মনে হয়? এই সামান্য একটা ওড়না পাঁচ হাজার কিভাবে হয়? এটা তো দেশি কাপড়!
দোকানী কেমন যেন বিরক্ত মুখে বলল,
–আপা, অনেক্ক্ষণ ধইরা কিন্তু বলতাছি এটা নতুন কালেকশন।সম্পুর্ন হাতের কাজ, তাই দাম একটু বেশি।নিলে নেন না নিলে আপনাকে তো নেওয়ার জন্য জোর করতাছি না।এক দাম কমানো সম্ভব না।
জুই নাক ছিটকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল,
–দিনে দুপুরে কি কাস্টমারের সাথে কি ডাকাতি করতে আসছেন?এই আড়াইশো টাকার ওড়না পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করে আমারে কি লুট করতে চাইছেন।
শোনেন ভাই, এক দাম বলতাছি,তিনশো টাকা দেব,আপনি কি ওড়না দিবেন? না দিলে অন্য দোকান থেকে কিনবো।
–পাগল নাকি আপনি আপা।কতো বার বলতাছি দেওয়া যাবে না।তাও আমার মাথা খাচ্ছেন কেন?
জুই তেলেবেগুনে রেগে গিয়ে তেরে আসলো লোকটার দিকে, আঙ্গুল উঁচু করে বলল,
–তুই পাগল, তোর চৌদ্দ গুষ্টি পাগল।বুইড়া খাটাস,টাক বেল মাথা,কালু মাস্তান,ভোটকা লোক কোথাকার। তোকে তো আমি আজকে মেরেই ফেলবো…..
রুদ্র আর পারল না। সে এক পা এগিয়ে এসে জুইকে ধমক দিলো।তারপর দোকানীকে গম্ভীর স্বরে বলল,
–ভাই, ঠিক আছে। ওড়নাটা আপনি প্যাক করে দেন।
দোকানী মুখ ভার করে ওড়নাটা প্যাক করে দিল।আর জুই সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
–এটা আপনি কি করলেন?চারশো তেই দিয়ে দিতো ওড়নাটা।আপনি শুধু বেশি বেশি বুঝেন।আপনাকে নিয়ে আর জীবনেও মার্কেটে আসবো না।
রুদ্র দাঁতে দাঁত চেপে একই ফিসফিসে জবাব দিল,
–চুপ একদম চুপ,আর কত ছাড় চাই তোর? দোকান না, যেন যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলছিস।
জুই একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল, তারপর মুখ বাঁকিয়ে চুপ করে দাঁড়াল। দোকানী ওড়নাটা প্যাক করে দিয়ে বলল,
–আপনাদের আর কিছু লাগবে স্যার, ম্যাম?
রুদ্র: ধন্যবাদ আর কিছু লাগবে না।
ঠিক তখনই পেছন থেকে তানহার কণ্ঠ,
–এই তো তোমরা! কেনাকাটা কি শেষ জুই?এত সময় লাগাচ্ছ কেন?
জুই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
–এই লোকটা দাম শুনলেই রেগে যায় আপু, তাই আর কিছু কিনবো না।
তানহা হেসে বলল,
–ঠিক আছে অন্য দোকান থেকে কিনবো চলো।
রুদ্র চোখ উল্টে বলল,
–আবার?
_______________
দেখতে দেখতে রুদ্রের বিয়ের দিন ঘনিয়ে এসেছে।আজ গায়ে হলুদ আর আগামীকাল বিয়ে।পুরো বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।আত্মিয়স্বজন দিয়ে তাদের বাড়ি একদম ভরে গেছে।তালুকদার বাড়ির একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা মানুষের যেন আনন্দের শেষ নেই।প্রতিবেশীরা এসে নাঁচ গান করে হই হুল্লোড়ে মেতে উঠেছে।আর রুদ্র?যার বিয়ে তার কোনো খোজ নেই।এই জন মানব সম্পুর্ন কোলাহল থেকে সে এখন অনেকটা দুরে।সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে, অথচ রুদ্রের কোনো খোজ নেই।রিফাত শুভ কেউ জানে না রুদ্র কথায়।রুদ্র তো রাগে তাদের সাথেও কথা বলছে না।তারা কিভাবে জানবে?এখন বাড়ির সবাই রুদ্রকে খুজতে ব্যস্ত।ফোনটা পর্যন্ত বন্ধ করে রেখেছে।
~তানহা সুন্দর দেখে হলুদ রঙ্গের একটা শাড়ি পড়েছে।আর গায়ে হলুদের গহনা জরিয়েছ,চুলগুলো খোলা রেখেছে।দেখতে তাকে খুব সুন্দর লাগছে,একদম পরির মতো।তানহা আনমলকেও হলুদ রঙের একটা পাঞ্জাবি পরিয়ে দিয়েছে,সাথে হাতে ব্রান্ডের একটা ঘড়ি পরিয়ে দিয়েছে।ব্যাস এতেই যেন মা ছেলেকে দারুন কিউট লাগছে।
সবার নজর যেন তাদের দিকেই।বিশেষ করে পুতুলের মতো আনমলকে কোলে নিয়ে সবাই টানাটানি শুরু করে দিয়েছে।তানহা রায়হান তালুকদারের কোলে আনমলকে দিয়ে শুভ আর রিফাতের সাথে গেছে রুদ্রকে খুজতে।তানহার জানা আছে এই মুহুর্তে রুদ্র ঠিক কোথায় থাকতে পারে।তারা গাড়ি নিয়ে চলে গেছে একটা পোড়া বাড়িতে।
~রুদ্রের যখন মন খারাপ হয় বা সে যখন প্রচন্ড রেগে থাকে।তখন সে এই ভাঙ্গা ইটের বাড়িতে এসে বসে থাকে।এই পোড়া বাড়ির পিছনে একটা বিশাল নদী আছে।নদীর আশেপাশে গাছপালা দিয়ে ছেয়ে গেছে।যেন দিনে দুপুরেও এটাকে ভুতুড়ে বাড়ি মনে হয়।আর এই ভর সন্ধ্যায় রুদ্র নদীর ঘাটে সিড়ির উপর আনমনে বসে আছে।আর একটা একটা করে পাথর ছুরে মারছে পানিতে।যেন পাথরের সাথে তার সমস্ত রাগ ক্রোধ মিশে যাচ্ছে।
আজ চারদিন ধরে সে তার বাপ,মা,বোন,তানহাকে বুঝতে বুঝাতে ক্লান্ত। কেউ তার কথার বিন্দু মাত্রও গুরুত্ব দিচ্ছে না।যেন সে সবার হাতের পুতুল।যাকে সবাই মিলে নাচাচ্ছে।বিয়েতে অনিচ্ছা থাকা সত্তেও মেয়ে মানুষের মতো তাকেও জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।সে তো বারবার বলছে সে তানহাকে ভালোবাসে,তবুও কেনো তারা মেনে নিচ্ছে না?নিজের থেকে বয়সে বড়ো কোনো মেয়েকে ভালোবেসে সে কি অন্যায় করে ফেলছে?নাকি কোনো পাপ করে ফেলছে?কত মানুষ তো বয়সে বড়ো মেয়ে বিয়ে করছে,কই তাদের তো কিছু হচ্ছে না,তাহলে রুদ্রের বেলায় কেন এতো বাধা?তানহা কেন এতো জেদি মেয়ে।সে কেন বুঝে না রুদ্রের তাকে ছাড়া কাউকে প্রয়োজন নেই।আসছে অন্য মেয়ের ঘারে তাকে ঝুলিয়ে দিতে।আর রুদ্র বাদরের মতো ঝুলে যাবে,এতো সহজ?মরে যাবে তবুও তানহা ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে না সে।
~রুদ্রের ভাবনার মাঝে সেখানে তানহা এসে দাঁড়ায়।সঙে তার নেমকহারাম বন্ধুরাও আছে।রুদ্র তাদের দেখে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে শুধালো,
–তোরা কি ঠিক করে রেখেছিস আমায় শান্তিতে থাকতে দিবি না?যেখানে যাই সেখানেই চলে আসিস আমার শান্তি ছিনিয়ে নিতে।ভালোই ভালো এখান থেকে যা সব।নাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।এই রুদ্র আজ নিজের মধ্যে নেই।তাই রাগ মাথায় উঠার আগে এখান থেকে বিদায় হও সব।
রুদ্রের লাল চোখ দেখে রিফাত আর শুভ ভয়ে পিছিয়ে গেলো।তানহা ঠায় যায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, গম্ভীর গলায় বলল,
–রুদ্র ছেলে মানুষি করো না।তুমি যতেষ্ট ম্যাচিউর, তোমার বয়স যতেষ্ট হয়েছে,এভাবে বাচ্চাদের মতো আচরণ তোমার সভা পায়না।চুপচাপ বাড়িতে চলো।আজ তোমার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান,অ বাড়ি থেকে লোক এসে পড়বে যেকোনো সময়।তারা তোমায় না দেখলে ঝামেলা করবে।আংকেলের সন্মান যাবে।তাই প্লিজ জেদ করো না।
রুদ্র এবার চোখ তুলে তানহার দিকে তাকালো।মুহুর্তেই তার চোখ আটকে গেল।শাড়িতে তানহাকে দেখে তার বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠলো সেই প্রথম দিনের মতো, যেদিন তানহার বিয়ের দিন দেখেছিলো।আর আজকে তার বিয়ের দিন এভাবে সেজেছে তানহা।রুদ্র কপাল কুচকে উঠে দারালো।ল্যাম্পপোস্টের আবছা আবছা আলোয় তাদের মুখের উপর ঝলক দিচ্ছে।রুদ্র কটমট করে বলল,
— নিজেক কি ভাবেন আপনি তানহা?
–কেন?
— বিহেভ এমন করছেন,যেন আমার বাড়ির গার্জিয়ান আপনি।এমন অধিকার খাটাচ্ছেন,যেন আপনাকে কেউ কিরা দিয়েছে আমার ভালো করার জন্য!যতেষ্ট ভালো করেছেন আপনি।এখন,এনাপ ইজ এনাপ।দয়া করে থামুন।অতিষ্ঠ হয়ে গেছি আমি।আর সহ্য হচ্ছে না।অধৈর্য্য হওয়ার আগে এখান থেকে বিদায় হোন।নাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে। তা আপনার ধারণাও বাইরে।তাই গো লিভ।
তানহার শরীর শিউরে উঠলো।গা কেমন ভার হলো।সে সামান্য পিছিয়ে গিয়ে শুধালো,
–র-রুদ্র এসব কি বলছো তুমি।আংকেল আন্টি চিন্তা করছে,শুধু তাদের জন্য ফিরে চলো প্লিজ।
–কতোবার বলবো আমি যাবো না।তাও বুঝিস না কেন বাল।আমি জুইকে বিয়ে করবো না।আমি তোকে বিয়ে করতে চাই।আমি আনমলকে খুব ভালোবাসি।এই কয়েকমাস আনমলের সাথে সময় কাটিয়ে আমি আসক্ত হয়ে পরেছি।আনমলের কথা,হাসি,তার সাথে দুষ্টুমি করতে আমার বেশ ভালো লাগে।দিনের মধ্যে তাকে চোখের দেখা না দেখলে আমার শান্তি লাগে না।আনমলের ছোট হাত ধরে খেলতে আমার ভিষণ ভালো লাগে।তার সাথে পায়ে পা মিলে চলতে আমার ভালো লাগে।যখন সে আমার জন্য অপেক্ষা করে আমি গেলে খুশি হয়,তখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হয় আমায়।তাই প্লিজ তোর পা ধরি আমি,আনমল থেকে আলাদা করিস না আমায়।ছেলেটা আমায় পাপা ডাকে,সে তার পাপাকে ছাড়া থাকতে পারবে না।খুব কষ্ট পাবে।তুই তো ছেলের জন্য সব করতে পারিস।তাহলে আমাকে তার বাপ বানিয়ে নে প্লিজ।
–রুদ্র?চুপ করো।আর একটাও বাজে কথা বলবা না।আনমল আমার ছেলে, আমি তাকে সামলে নেব।তাছাড়া আমরা একই পাড়ার লোক,পাশাপাশি বাড়ি,আনমলের সাথে তোমার প্রতিদিন দেখা হবে।তাই বিয়েতে রাজি হও তুমি।
–আপনার কি মনে হয়? বিয়ের পর আনমলকে আমায় আর পাপা ডাক ডাকতে দিবেন?জানি দিবেন না।ইউ আর সো সেলফিশ।
তানহা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে আর কোনো কথা বলছে না।সে তো ইচ্ছে করে আনমল থেকে তাকে আলাদা করতে চাইছে।কারণ এই সমাজের মানুষ আনমলকে নিয়ে মজা করবে,যে পর পুরুষকে সে বাবা ডাকে,বেহায়া মায়ের বেহায়া ছেলে।তানহা বেচে থাকতে এসব হতে দিবে না।তাই সে রুদ্রকে বিয়ে দিয়ে ব্যস্ত রাখতে চায়,তাদের থেকে দুরে করতে চায়।রুদ্র কর্কশ গলায় বলল,
–এখন চুপ কেন?স্বার্থপর মহিলা।
তানহা দাঁত চেপে বলল,
–বাড়ি চলো রুদ্র!
–ধ্যাৎ আবার সেই এক কথা।কথা বুঝিস না তুই।আমি বাড়ি যাব না।বিয়ে করব না আমি।এটা আমার ইচ্ছে,জোর করে লাভ নাই।
–বিয়ে করতে কি সমস্যা তোমার?
রুদ্রের যেন ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে গেল।অগ্নি চোখে তানহার দিকে তাকিয়ে থাকল।তারপর ঝড়ের গতিতে তানহার বাহু চেপে ধরলো। তানহা চমকে উঠল।আশেপাশে রিফাত আর শুভকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রুদ্র ইশারায় তাদের চলে যেত বলল।তারপর তানহার বাহু ঝাকিয়ে কটমট গলায় বলল,
–বাংলা কথা বুঝিস না তুই?কতোবার এক কথা বলছি,আমি তোকে বিয়ে করতে চাই।জুইকে আমি ভালোবাসি না,তোকে ভালোবাসি।মনে একজনকে রেখে তোর মতো আমি কাউকে কবুল বলতে পারবো না।তোর মতো স্বার্থপর না আমি।তাও এক কথা বারবার বলে মেজাজ খারাপ করাস না।চুপচাপ চলে যা এখান থেকে।
–রুদ্র ছাড়ো আমায়?লাগছে।প্লিজ ছাড়ো আমায়।
রুদ্র আরও শক্ত করে চেপে ধরলো তারপর মুখ গম্ভীর করে বলল,
–আমায় ভালোবাসি তানহা?হ্যাঁ কিংবা না বল।
–কি পাগলামি করছো ছাড়ো আমায়।অসভ্যতামী করো না।প্লিজ ছাড়ো।
–আগে বল ভালোবাসি আমায়?
–ছেড়ে দেও আগে বলছি…
রুদ্র চেচিয়ে উঠে বলল,
–আগে বল ভালোবাসি কি না।হ্যাঁ বা না বল?
তানহা দাঁত চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে বলল,
–না ভালোবাসি না আমি তোমায়।এবার ছাড়…..
বাকি কথা বলতে না দিয়ে রুদ্র তানহার ঠোঁটের মাঝে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো।আকস্মিক স্পর্শে তানহা বিদ্যুৎ শোকের ন্যায় কেঁপে উঠলো।নিজেকে ছাড়ানোর জন্য রুদ্রের কলার চেপে ধরে ধাক্কাচ্ছে।কিন্তু রুদ্রের কোনো হেলদোল নেই,সে এক হাতে তানহার কোমড় চেপে ধরে রেখেছে, আরেক হাতে তানহার হাত চেপে ধরেছে।যেন তানহা সামান্য নড়াচড়াও করতে পারছে না।রুদ্রের ছোঁয়া গভীর হতেই তানহা চাতক পাখির মতো ছটফট করছে।শ্বাস প্রায় আটকে এসেছে।তার হাত আদ্রের হাতের মুঠো থেকে ছাড়াতে চাইছে কিন্তু পারছে না।ছটফট করতে করতে তানহা ক্লান্ত হয়ে পড়লো,চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরলো নোনা জল।পাথরের মুর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে রইলো।রুদ্র তানহার কান্না দেখে ছেরে দিলো।তারপর এক হাত দিয়ে নিজের ঠোঁটের কণা মুছে মৃদু চোখে তানহার দিকে তাকালো।
তানহা ক্ষিপ্ত চোখে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে রইলো।তারপর মারার জন্য হাত তুলতেই রুদ্র খপ করে হাত ধরে ফেলল। নিজের শক্তপোক্ত হাতের এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয় তানহার গালে।মুহুর্তেই যেন ঝোপের আড়াল থেকে রিফাত আর শুভ বেরিয়ে এলো।শুভ রুদ্রের কলার চেপে ধরে শাসিয়ে বলল,
–কি করছিস রুদ্র?পাগল হয়ে গেছিস তুই?জানোয়ারের মতো আচরণ করছিস কেন?ছিহ!তুই শেষমেষ তানহা আপুর গায়ে হাত তুললি।এতটা অন্ধ হয়ে গেছিস তুই।
–কলার ছাড়?
–নাহ?
–ধ্যাৎ, ছাড় বাল।
ক্ষিপ্ত গলায় কথাটা বলে রুদ্র শুভর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।তারপর হিংস্র গলায় বলল,
–এটা আমার আর তানহার বিষয়। তোরা নাক গলাতে আসিস না।চুপচাপ চলে যা।
তারপর রুদ্র তানহার সামনাসামনি দাড়ালো। তানহার চোখে হালকা পানি জমে আছে, চোখ দুটো রাগে ভিষণ লাল হয়ে গেছে। থাপ্পড় খেয়ে গালটাও টমেটোর মতো ফুলে উঠেছে।ক্ষিপ্ত চোখে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে। রুদ্র তানহার সামনে দারিয়ে কাটকাট গলায় বলল,
–প্রায় ছয় বছর ধরে আমায় জ্বালিয়েছিস।মুখ বুজে সব সহ্য করে নিয়েছি।মনের কথা প্রকাশ করায় বারবার থাপ্পড় মেরেছিস,কিছু বলেছি আমি?আরে তোর দেওয়া থাপ্পড়টাও আমি মধুর সুরে সাদরে গ্রহণ করেছি।এই থাপ্পড়েও আমি তৃপ্তি খুজে পেয়েছি।বারবার তোকে বোঝাতে গিয়ে অপমানিত হয়েছি,তখন কিছু বলেছি আমি?না তোর পিছু নেওয়া ছেরে দিয়েছি?আমাকে কাঁদিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলি,তখন আমি কিছু বলেছি?আমার বুকের ভিতর সেদিন ফেটে যাচ্ছিলো,ইচ্ছে করলে তোর বিয়ে ভেঙে সব তচনচ করে ফেলতাম,কিন্তু কিছু বলেছি আমি?তোর দেওয়া কসম রাখতে গিয়ে নিজের বুকে পাথর বাধলাম।তবুও কিছু বলিনি।তাহলে আজ কেন আমার বিয়ে অন্য কোনো মেয়ের সাথে ঠিক করলি?আমার যে আর সহ্য হচ্ছে না।এই বুকের ভিতর ঝড় বইছে।তা নিভানোর জন্য কেউ নেই আমার।
বিগত কয়েক বছরেও তোর মনে আমার জন্য একটুও সহানুভূতি হলো না।সামান্য একটু যায়গাও নেই আমার জন্য তোর বুকে।
তানহা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।চারদিকে বাতাস থমথমে অবস্থা। রিফাত শুভ নিশ্চুপ।রুদ্রের চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।সে চোখ মুছে থেমে হেসে আবার বলল,
–আমাকে তোর জোকার মনে হচ্ছে?হাহ!হতেও পারে।কারণ আমার সব অনুভূতি তোর কাছে তো খেলনা মনে হয়।তুই নিজেও ত বলেছিস অনুভূতি প্রকাশ করতে নেই,মানুষ নাটক মনে করে মজা নেয়!.
এখন তোর খুব হাসি পাচ্ছে তাই না।জোকস শোনাচ্ছি তোকে আমি।তোর কাছে হাসির পাত্র আমি।জোকার হতে হতে আমি ক্লান্ত।আর অনুভূতি প্রকাশ করবো না যা।আর কখনো বলবো না আমাকে ভালোবাস বা আমি তোকে ভালোবাসি।যাহ,তোর কথায় রাখলাম,জুইকে বিয়ে করবো আমি।তুই সুখে থাকিস। আমার জন্য তোরা মা ছেলে অশান্তির মধ্যে আছিস।আমি তোদের পথের কাটা।আমাকে পথ থেকে সরিয়ে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন কর।ভালো থাকিস।
তানহা পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে।রুদ্র চলে যেতে যেতে আবার বলল,
–পারলে আজকের ব্যবহারের জন্য আমায় ক্ষমা করে দিস।নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি নি।তাই উল্টাপাল্টা কাজ করে ফেলছি।তুই চিন্তা করিস না, এই রুদ্র আর কোনো দিন তোর সামনে আসবে না।ভালোবাসি আর বলবে না।আমার বুকে লেখা থাকবে কোনো এক নিষ্ঠুর মেয়েকে আমি ভালো বেসেছিলাম যার চোখে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ।তার মনে আমার জন্য কোনো অস্তিত্ব নেই,আছে শুধু বিরক্তকতা।তাকে শুধু সারাজীবন আমি বিরক্ত করেই গেলাম।আর করবো না বিরক্ত।রুদ্র অনুভূতি আর প্রকাশ করবে কোনো দিন…………
#চলবে…….
