Saturday, June 6, 2026







প্রেমাতাল পর্ব-১+২

গল্পের নাম:#প্রেমাতাল
✍️কলমে: #Fatema_Aktar_mim
#সূচনা

আব্বা ডাক… বল আব্বা! কী হলো ডাক, ডাকিস না কেন বালডা! এক্কেরে মায়ের মতন জেদ! তাকিয়ে আছে দেখ__মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে গিলে খাবে আমায়!” দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে আনমলকে কথাটা বলল রুদ্র।

ভার্সিটির লাইব্রেরির ভেতরে চার-পাঁচজন ছেলে মিলে আনমলকে লুকিয়ে খাঁটি বাংলা ভাষায় “আব্বা ডাক” শেখাচ্ছে। রুদ্র আনমলের মায়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, সেই অনেক আগে থেকেই। কিন্তু আনমলের মা তাকে পাত্তা দেয়না। শুভর ধারণা, আনমলের মাকে পটাতে হলে সর্বপ্রথম আনমলকে পটাতে হবে। সেইজন্যই প্ল্যান করে আনমলকে চুরি করে এনেছে।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রুদ্র আর তার বন্ধুরা আনমলকে “আব্বা” ডাক শেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আনমল যেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। ধমক খেয়েও কাঁদে না,ভয় করে না…উল্টো চোখ গরম করে তাকিয়ে থাকে।

তিন বছরের ছোট বাচ্চা আনমল টেবিলের উপর বসে রুদ্রের দিকে ড্যাবড্যাব চোখে তাকিয়ে আছে। টেবিলের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য চিপস, চকলেট। কিন্তু আনমল একটাও ছুঁয়ে দেখছে না। শুধু গোল গোল চোখে তাকিয়ে বলছে, “আম্মু যাব, আম্মু যাব!”

রুদ্রের মেজাজ গরম হয়ে গেল। চোখ রাজ্ঞিয়ে রিফাতের দিকে তাকাল। রিফাত ভয়ে ঢোক গিলল। ধীরে ধীরে আনমলের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল,

— “অলে লে লে বাবা, এই যে দেখছো, এটা তোমাল আব্বু। এখন এতটু আব্বু ডাকো!”

অমনি রিফাতের মুখে এক খাবলা থুতু এসে পড়ল। রিফাত চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে দূরে সরে এলো।গাঁ ঘিনঘিন করে উঠল তার,,__এয়াক থু..!
পাশ থেকে শুভ হো হো করে হেসে উঠলো। রিফাত তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল,রাগে শুভকে মারার জন্য তেরে গেলে,__শুভ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে উঠে,
“শা*উয়োর নাতি একটা বাচ্চাকে তোরা সামলাতে পারিস না! দেখ কিভাবে সামলাতে হয়”

শুভ দাঁত কেলিয়ে আনমলের গাল টেনে বলল,

–“আনমল বাবা, একটা আব্বা ডাক দাও না। চকলেট কিনে দেব!”

আনমল মৃদু হেসে শুভর চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিল। শুভ চোখ ধরে চিৎকার করে উঠল। এদিক-ওদিক ছুটাছুটি শুরু করে দিল।

“চোখ গেল রে! সয়তান ছেমরা! মা যেমন, পোলাও তেমন। দুটোই তাণ্ডব। একটুও ভয় ডর নেই এদের কলিজায়!” শুভ চেচিয়ে রুদ্রকে বলল, “প্রেমে পড়ার আর মানুষ পেলি না তুই? শেষে কি না এক বাচ্চার মায়ের প্রেমে পড়লি। তাও আবার তানহা আপু? আনমলের মা?”জানলে গলা কাটা যাবে নিশ্চিত!”

রুদ্র মাথা চুলকাতে লাগল। “তুই বুঝবি না শুভ। তানহা আপু আমার জন্য একদম পারফেক্ট। আর আনমলকে পটাতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে!”

এতক্ষণ চুপচাপ থাকা আনমল এবার মুখ খুলল। টেবিলের উপর থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দুই হাতে কোমর বেঁধে বলল, “আম্মু আতলে তোমাদের তবাইকে মালবে।”

শুভ মুচকি হাসল,আনমলের গাল টেনে বলল,

— “অলেলেলে…আম্মু আসলে কী করবে!মারবে আমায়? তার আগে তুই একটা ‘আব্বা’ ডাক দে, নাহলে__,

শুভ কথাটা শেষ করার আগেই আনমল ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তার গোল গোল চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে।

“আম্মু যাব! আম্মু যাব!”

রুদ্র হতভম্ব হয়ে গেল।দাঁত চিবিয়ে বলল,
“এই শুভর বাচ্চা,, ধমক দিলি কেন? দেখ, কাঁদিয়ে ফেললি বাচ্চাটাকে!”

শুভও অপ্রস্তুত। “আরে, আমি তো কিছু বলিনি। এই বাচ্চা কাঁদছে কেন হঠাৎ?”

রিফাত ভয়ে ঢোক গিলে বলে উঠল,,

–“ভাই তোগো মরণের চুলকানি উঠছে..!এখন যদি হের মা চলে আসে,,সবাই তো গুলি খেয়ে মরবি,,সাথে আমিও!

ঠিক তখনই বিকট শব্দে লাইব্রেরীর দরজা খুলে গেল।

সবাই চমকে তাকাল।

দরজার ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছেন তানহা। চোখে আগুন,,রাগে চোখের সাদা অংশে লাল আভা ধারণ করেছে.. মুখে কঠিন অভিব্যক্তি।চোয়াল শক্ত করে বলল,,

“কি হচ্ছে এখানে,,আনমল এখানে কেন?”কি করছিলে তোমরা,,অ কাঁদছে কেন?

রুদ্রের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। শুভ আর রিফাত পেছনে লুকানোর জায়গা খুঁজতে লাগল।

তানহা ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকলেন। তার চোখে যেন আগুন জ্বলছে। আনমল তৎক্ষণাৎ ছুটে গিয়ে তার পায়ের কাছে বসে কাঁদতে শুরু করল।

“আম্মু… ওলা পঁচা! আমি বালি যাব!”

তানহা আনমলকে কোলে তুলে নিলেন। তারপর রুদ্রের দিকে ক্ষিপ্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
“তোমার সাহস তো কম নয়, রুদ্র। তুমি আনমলকে ভয় দেখিয়েছো?আমার ছেলেকে কাঁদিয়েছো?

রুদ্র মুচকি হেসে ধীরে ধীরে তানহার দিকে এগিয়ে আসে,,তানহা ভয় পায় না,,কঠোর গলায় বলে উঠে,

–“ভুলেও আমার কাছে আসবে না,,একদম মেরে দেব!

রুদ্র একদম তানহার গাঁ ঘেঁষে দাড়িয়ে পড়লো,,এক ইঞ্চিও ফাঁক নেই,,রুদ্রের শ্বাস তার মুখে এসে পড়ছে।তানহা চোখ রাজ্ঞিয়ে তাকিয়ে আছে রুদ্রের দিকে,,,
রুদ্র আনমলের হাত ধরে বলে উঠলো,,

“তানহা আপু,, আমি আনমলের আব্বু হতে চাই!
আমি আপনাকে ভালোবাসি। আর আমি আনমলকেও ভালোবাসি। আমি শুধু আপনাদের জীবনের অংশ হতে চাই।” কিহ,, বানাবেন না আনমলের আব্বু…?

মুহুর্তে ঠাসস করে থাপ্পড় এসে পড়লো রুদ্রের গালে…

চলবে।

#প্রেমাতাল
#পর্ব–২
#Fatema_Aktar_mim

ভার্সিটির বিশাল মাঠটা বিকেলের নরম রোদে ঝলমল করছে।
ঘাসগুলো হালকা বাতাসে দুলছে, দূরে ক্রিকেট খেলা চলছে, কোথাও দু–একটা দোয়েল উড়ে যাচ্ছে।
আকাশে ধূসর মেঘ আর সোনালি আলো মিশে এমন এক দৃশ্য তৈরি করেছে—যেন পুরো প্রকৃতি শান্ত, শুধু একজন ছাড়া।

মাঠের এক কোণে রুদ্র চুপচাপ বসে আছে।
সে দুই হাত দিয়ে ধরে রেখেছে নিজের গরম হয়ে থাকা গালটা,, যেটা তানহা আপুর থাপ্পড়ে এখনো টনটন করছে।
তার চোখ-মুখে না আছে কোনো ভয়,আর না আছে লজ্জা।শুধু মুখে লেগে আছে অদ্ভুত একটা হাসি__আহা!
যেন তানহা তাকে থাপ্পড় নয়, ফুল ছুঁড়ে মেরেছে!

রুদ্রের পাশেই শুভ আর রিফাত গোল হয়ে বসে আছে।তাদের দু’জনের মুখেই রাগ আর বিরক্তির ছাপের মিশ্র এক্সপ্রেশন।

শুভ রুদ্রের হাসি দেখে বিরক্ত হয়ে,গলা চড়িয়ে বলল,

–“তোর মতো বেহায়া আর নির্লজ্জ আমি আমার লাইফে দুটো দেখিনি। লাইক সিরিয়াসলি, থাপ্পড় খেয়ে মানুষের মুখ দিয়ে হাসি বের হয় কিভাবে ?”এটা কিভাবে সম্ভব? আমি প্রথম দেখলাম ভাই।

রিফাত ভয়ে ঢোক গিলল,

–“ভাই, থাপ্পড়টা এত জোড়ে দিয়েছে..যে আমি পাশ থেকে শক খাইছি।”আর তোর হাসি আসছে কিভাবে? ”

রুদ্র গাল চেপে ধরে মাঠের মাঝখানে সঁটান হয়ে সুয়ে পড়লো,আকাশের দিকে তাকিয়ে শুভকে উদ্দেশ্য করে মৃদুস্বরে বলল,

–“তানহা আপুর থাপ্পড়েরও একটা আলাদা ফিল আছে।যেটা তোদের মতো গাধারা বুঝবে না।জীবনে তো কখনো প্রেমে পরোস নাই,তাহলে বুঝবি কেমনে।

শুভ আর রিফাত খাঁখাঁ করে উঠল।রিফাত খোচা মেরে বলল,,,_তুই গুলি খেলেও বলবি, গুলিতেও ফিল আছে।

শুভ মাথায় হাত বারবার ঠুকে বলল,

–“তুই কি সত্যি তানহা আপুকে লাভ করিস?আর আনমল তাকে?তাকে তো তুই দেখতেও পারিস না। তাহলে সারাজীবন তাকে সামলাবি কিভাবে। দেখ আনমল তানহার জীবন, তাকে ছাড়া তানহা তোকে জীবনেও বিয়ে করবে না।তাই এখনো সময় আছে আপুর পিছু নেওয়া ছেরে দে।

রুদ্র উঠে বসে দু’হাত পেছনে ঠেকিয়ে রাখল। দূরে ক্রিকেট খেলার শব্দ ভেসে আসছে, কিন্তু তার মাথায় এখন ঠিক যেন তানহার থাপ্পড়ের ইকো বাজছে।

সে মুচকি হেসে বলল,

–“আমি শুধু তানহাকে ভালোবাসি। আনমলের জন্য আমার মনে কোনো ভালোবাসা নেই.. আর না আছে কোনো মায়া।আমি জীবনে কখনো আনমলকে মেনে নিতে পারবো না। কেন জানিনা, তাকে দেখলেই আমার মাথা গরম হয়ে যায়।নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না আমি।
শুধুমাত্র তানহাকে পাওয়ার জন্য আনমলে সাথে ভালোবাসার নাটক করতে হবে। শুধু একবার তানহাকে বউ হিসেবে পাই,তখন আনমলের একটা ব্যবস্থা ঠিক করে নেব…i just hate Anmol….!

রিফাত হতভম্ব হয়ে ততলিয়ে বলল,

–“ক-কি ব্যবস্থা করবি তুই? এই ছোট মাছুম বাচ্চার উপর তোর কিসের এত রাগ? তাকে মন থেকে মেনে নিতে না পারলে,তানহা আপুকে তুই ভুলে যা ভাই।অদের সুন্দর জীবন নিয়ে তুই ছিনিমিনি খেলিস না।এমনিতে তানহা আপু জীবনে অনেক লড়াই করছে।অন্তত তাকে একটু শান্তিতে থাকতে দে..!

পাশ থেকে শুভ চেচিয়ে বলে উঠলো,

–“তোর মতো অমানুষ আমি আমার লাইফে দুটো দেখিনি! সামান্য একটা ফুটফুটে বাচ্চার উপর তোর এত রাগ?তুই কি মানুষ?

~মাঠের বাতাসটা আচমকাই ভারী লাগতে শুরু করল। দূরের ক্রিকেট বলের টক্ টক্ শব্দ হঠাৎ যেন কানে ঢুকতেই চাইছে না। শুভ আর রিফাত এখনো রুদ্রকে বকছে—কিন্তু রুদ্রের এতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।সে আপন মনে তানহার থাপ্পড়ের স্মৃতি মনে করে মুচকি হাসছে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই,রিফাত সামনে তাকিয়ে হেচকি তুলতে শুরু করলো। এতে শুভ বিরক্ত হয়ে কপাল কুচকে বললো,, __তোর আবার কি হলো? রিফাত ভয়ে হেচকি তুলতে তুলতে চোখ দিয়ে ইশারা করে সামনে দেখিয়ে দিলো। সামনে দেখতেই শুভও হেচকি তুলতে আরম্ভ করলো। দুইজনের হেচকিতে বিরক্ত হলো রুদ্র, ধ্যান থেকে ফিরে আসলো সে, কপাল কুচকে সে নিজেও রিফাতের চোখ ইশারা করে সামনে তাকাতেই চমকে উঠল,,

তানহা দাঁড়িয়ে আছে তাদের ঠিক কয়েক হাত দূরে।এতক্ষণ হয়তো রুদ্রের সব কথা সে শুনে নিয়েছে।তার
চোখ দু’টো অদ্ভুত লাল..রাগে,আর তীক্ষ্ণতায়।বুকের বা পাশে কোথাও একটা না চাইতেও চিনচিন ব্যথা অনুভব করলো সে।নিরবে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল,

হাওয়া একটু আগে পর্যন্ত সাধারণ লাগছিল, এখন মনে হচ্ছে প্রতিটা বাতাসের কণা তানহার রাগে দাউ দাউ করছে।

তানহা দাঁত চেপে রুদ্রদের দিকে তাকাল। তার দৃষ্টি সরাসরি রুদ্রকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে যেন।

শুভ তো প্রায় কাঁপা গলায় বলল,

–“ইয়ে রে ভাই,কেস খেয়ে গেলি।আপু তো মনে হয় সব শুনে নিয়েছে।এখন কি হবে?

তানহা কোনো কথা বললো না।শুধু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুদ্রকে দেখে তাদের সামনে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার চলে গেল।

তার ওড়নার কোণা বাতাসে উড়ে একবার রুদ্রের মুখ ছুঁয়ে গেল!
আর অদ্ভুতভাবে রুদ্র আবারো সেই হাসিটাই হেসে ফেলল। যাকে বলে বেহায়া হাসি।যখন তখন তার মুখে চলে আসে,এই বাকা হাসি যেন তার কন্ট্রোলে নেই।

শুভ মাথা ধরে বলল,
–“শেষ! তুই অফিশিয়ালি শেষ, রুদ্র।”

রিফাত হতাশ গলায় বলল,
–“এবার তোরে বাঁচাইতে আল্লাহও নামত না, ভাই। এবার অন্তত তোর এই বিশ্রী হাসিটা থামা।আমার যাস্ট অসহ্য লাগে,,!

_____________

বাড়ির হল রুমে মায়িশা আর বর্ণা আনমলকে নিয়ে খেলা করছিলো। আনমলের হাসির শব্দে পুরো বাড়ি যেন নিস্তব্ধতা ভেঙে খুশিতে ভরে উঠছিলো।
কিন্তু তানহার মুখে কোনো হাসি নেই।তার বুকের ভিতর ঠিক কি জমে আছে,সেটা বোঝার অনুভূতি কারো নেই।
একজন ডিভোর্সী মেয়ে বাবা-মা ছাড়া সন্তান নিয়ে কিভাবে বাঁচতে পারে,তা তানহাকে দেখলে কেউ বুঝা যায়।সমাজের মানুষের সাথে লড়াই করতে করতে কবে যে তার ভেতরটা অনুভুতি শূন্য পাথরে পরিনত হয়েছে, তা সে খেয়াল করেও দেখে না।

তানহা বরাবরই আত্মসন্মানী,সে নিজেকে সকল পরিস্থিতিতে সামলে নিতে পারে। তাইতো ডিভোর্স এর পর একা নিজ দাদা-দাদির সাথে থাকে এই বিশাল রাজকীয় বাড়িতে।

তানহার বাড়িটা বেশ পুরাতন আমলের__যার শাক্ষি বহন করে..উচু ছাদ,চওড়া সিরি,বড়ো বড়ো থাই গ্রেডের জানালা।
এই বাড়ির প্রতিটি কোণ যেন বলে, এখানে শূন্যতা আছে,অথচ তানহার দাদা,দাদি আর আনমল আছে বলে সেই শূন্যতার শব্দ চাপা পরে থাকে।

~তানহা চুপ করে দাঁড়িয়ে বিষন্ন মন নিয়ে আনমলকে দেখছিলো।আনমলকে সে যতো দেখে,ঠিক ততই অবাক হয়,,
বাচ্চাটা এখনো ছোট.. অথচ তার চালচলন, কথা বলার ভঙ্গি সব তার মতো।এমনকি আনমলের চোখ দুটোও তার মতো তীক্ষ্ণ আর ধারালো। সেইজন্য অন্য বাচ্চারা আনমলের সাথে খলতে ভয় পায়।
আর আনমল সে নিজেও কারো সাথে খেলে না,,একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে।

আনমলের মুখের সেই সূর্য্যের আলোর ন্যায় চকচকে হাসিটা দেখে, তানহার ঠোঁটেও হাসির রেখা ফুটে উঠলো।

এই ছোট মানুষটাই তার জীবন, তার লড়াই এবং বেঁচে থাকার একমাত্র হাতিয়ার।

বর্ণা বলল,

–“আপা আনমল বাবা তো আজকে অনেক খুশি।তাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে গেলে আরও খুশি হবে।

তানহা মৃদু হেসে বলল,,

–“ওকে খুশি করাই তো আমার কাজ।আমি চাই সে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ হয়ে বড়ো হবে।তার কোনো অভাবই আমি অপুর্ন রাখবো না।তার বাবাও আমি তার মাও আমি।

কথাগুলো বলে হঠাৎ তানহার রুদ্রের কথা স্মরণে এলো।বারবার কানে বাজছে,,

–“আমি আনমলকে মেনে নিতে পারবো না,,আমি আনমলকে ঘৃণা করি।”

তানহা হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মনে মনে বলে উঠে,,

–“হাউ ডেয়ার ইউ রুদ্র!আনমলকে ঘৃণা করার তুই কে,তাকে মেনে নেওয়ার তুই কে,,আমার ছেলে সম্পর্কে এসব কথা বলার তুই কে?তুই কেন বারবার আমার আর আনমলের মাঝখানে আসিস।তোর কারণে আমার আনমল কষ্ট পেলে,,আই সুয়্যার তোকে আমি খুন করবো….

#চলবে……

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ