Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রতিদানপ্রতিদান পর্ব-০৩ এবং শেষ পর্ব

প্রতিদান পর্ব-০৩ এবং শেষ পর্ব

#প্রতিদান (শেষ)
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

আম্মার মৃ ত্যুর তিনদিন কেটে গেলো। আত্মীয়-স্বজন সব চলে গিয়েছে। মামা, মামী রয়েছে। আজ তারাও চলে যাবে। আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি সেদিনই। এখন শোক করার সময় নয়। আমার মাথার উপর ভাই, বোনের দায়িত্ব রয়েছে। বড় ভাই হিসাবে দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালণ করতে হবে। তাদের আগলে নিতে হবে।

মামা, মামী চলে যাবার সময় ঐ মহিলা অর্থাৎ আব্বার দ্বিতীয় বউ কড়া গলায় বলে,“চলে যাচ্ছেন? আপনাদের ভাগ্নে ভাগ্নিকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। ক’টা দিন থাকুক আপনাদের বাড়ি। ভালো লাগবে।”
খুব কৌশলে মহিলা আমাদের ঘর ছাড়া করতে চাচ্ছে। এটা বুঝতে বাকি নাই। আমি তাই টিনা এবং মুন্নাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে শক্ত গলায় বললাম,“আমরা কোথাও যাবো না।
আমরা এখানেই থাকবো। এটা আমাদের বাড়ি। আমাদের ঘর। আমার আম্মার সংসার।”

“তর্ক করো না মারুফ।
মাহমুদা তোমাদের ভালোর জন্য বলেছে।”

“আমাদের ভালো আপনাদের ভাবতে হবে না।
আমরা বুঝে নিবো। আপনি আমার এই স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান। এতদিন যেখানে ছিলেন সেখানে থাকেন।”
আমার কথায় মহিলা প্রতিবাদ করে উঠে। তার সন্তানের ভিটে লাগবে। সে সেটা রেখে যাবে না। এটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়। আমাদের হক নাই। মহিলার কথা, আমাদের হক রয়েছে তো আমাদের আব্বা আমাদের কোন বাগানে ঘর তুলে দিবে। আমরা রাজি হই না।

আম্মার মৃ ত্যুর তিনদিনে বাসায় প্রচুর ঝগড়া হয়। স্বাভাবিকভাবে আব্বা আমাদের পক্ষ নেয় না। অতঃপর আমি মামার মাধ্যমে স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান ডেকে নিয়ে আসি। সেদিন সন্ধ্যায় সালিশ বসে। দুই পক্ষের কথা শুনে তারা সিদ্ধান্ত নেয়,“ওরা তোমার সন্তান। এতবছর এই ঘরে তোমার বড় বউ ওদের নিয়ে ছিলো। এখন ওদের থেকে ঘরটা কেড়ে নেওয়া উচিত হবে না। তাছাড়া ওরা তো তোমার উত্তরাধিকার। আর ওনিও তোমার ছোট বউ। তার এবং তার সন্তানেরও হক রয়েছে। সেজন্য বলবো তুমি তাদের নতুন জায়গায় ঘর বানিয়ে দাও, নয়তো ঢাকা ছিলে সেখানেই নিয়ে যাও। সবদিক বিবেচনা করে যা বুঝলাম, এরা একত্রে থাকতে পারবে না।”

এই কথা শুনে মহিলা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে। সে সারাজীবন ভাড়া বাসায় থাকবে। তাছাড়া আব্বা জানায় তার টাকা নাই। আমরা চাইলে একসাথে থাকতে পারি। নয়তো আমাদের ব্যবস্থা আমাদের করে নিতে। সে কোন দায়িত্ব নিতে পারবে না। মেম্বার, চেয়ারম্যান এত বুঝিয়েও পারলো না। তারা হার মেনে নিয়ে আমাদের একই সঙ্গে মানিয়ে গুছিয়ে থাকতে বলে।

___

আমরা তার সঙ্গে একসাথে ছিলাম সাতদিন। এই সাতদিনে এমন কোন মানসিক কষ্ট নাই যা সে দেয়নি। শুধু তাই না খাবারেরও কষ্ট করছি। অতঃপর সেদিন আবার তর্ক বেধে যায়। আমার ছোট ভাইয়ের জন্য আমি ডিম নিয়ে আসছে। ও খাওয়ার বায়না ধরেছে। সেটা রান্না করে মহিলা পলাশকে খাইয়ে দেয়। এটা নিয়েই তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে মহিলা আমার আম্মাকে নিয়ে যা নয় তাই বলে। এবার আমার সহ্যের সীমা পার হয়ে যায়। কোনকিছু না ভেবে তার গায়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেই। কড়া গলায় বলি,“আমার আম্মাকে নিয়ে কোন বাজে কথা নয়। আর একটা বাজে কথা বললে এখানে খুনাখুনি হয়ে যাবে।”

মহিলা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে মেম্বার চেয়ারম্যান ডাকে। আব্বার আজ ঢাকা যাবার কথা। তবে যেতে পারে না। আবারও সালিশ বসে। দুই পক্ষের কথা শোনা হয়। মহিলা বানিয়ে নানা কথা বলে। তার কথা খুবই কুরুচিপূর্ণ ছিলো। এরপর আমিই বাধ্য হয়ে বলেছি,“আমার আব্বাকে আমাদের জায়গা জমি বুঝিয়ে দিতে বলুন। আমরা অন্যত্র ঘর উঠিয়ে থাকবো। এই মহিলা আমার আম্মার হাস মুরগী থেকে শুরু করে জামা কাপড় সব দখল করেছে। আজ বানিয়ে এই কথা বলছে। কাল বদনাম দিয়ে দিবে। মহিলার যা স্বভাব হয়তো বলে বেড়াবে আমি তার সঙ্গে জোরজবরদস্তি করছি। আমরা একসাথে থাকবো না। এখন বাকি রয়েছে সম্মান। সেটা শেষ করে থাকবো না তাদের সঙ্গে।”

এলাকার মানুষ আমাদের দুঃখ বুঝলো। তারাও একই কথা বললো। আমরা সব দাবি ছেড়ে দিয়েছি ঐ ঘরের। আর ঐ ঘরের জিনিসপত্রের। তবুও এলাকার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে জানালো, আমাদের আব্বা আমাদের দরজার দিকে যে পুকুরটা আছে সেটা ভরে ঘর তুলে দিবে। সেই সঙ্গে আমাদের মাসে মাসে খরচ দিবে। আব্বা রাজি হয়ে যায়। এটায় মহিলা খুব রেগে যায় সম্ভাবত। কারণ সেদিন রাজি হলেও পরে ঘর বানিয়ে দিতে কোন পদক্ষেপ নেয় না। এভাবে আরও চারদিন কাটে। আমরা আবার চেয়ারম্যান ধরি। এরই মাঝে আব্বা ঢাকা চলে গিয়েছে। তাকে ফোন দিলে ধরে না। অতঃপর চেয়ারম্যান এলাকার মানুষকে জড়ো করে আমাদের জন্য সাহায্য নেয়। আমাদের ছোটখাটো একটা ঘর তুলে দেয়। সেই সঙ্গে আব্বা এরপর যেদিন আসবে সেদিন জমি জমা বুঝিয়ে দিবে সবাই মিলে আশ্বাস দেয়।

আমাদের তিন ভাই বোনের নতুন সংসার শুরু হয়। আমি টিউশনির পাশাপাশি একটি কোম্পানিতে চাকরি নেই। বেতন মাত্র আট হাজার। তবে কাজ খুব কঠিন। কঠিন হলেও এই কাজ দিয়ে আমাদের চলে যাবে। আমরা আমাদের নতুন যাত্রা শুরু করলাম। টিনা এবং মুন্নাকে বাড়ির ভেতরে যেতে বারণ করে দেই। মহিলাকে আমার এক বিন্দু বিশ্বাস হয় না। যেকোন কিছু করতে পারে। তাই সাবধান থাকতে হবে। এভাবে মাস খানেক কেটে যায়। হাতে বেতন পাই। বেতন দিয়ে সবার প্রথমে আম্মার জন্য ছোট করে মিলাদের আয়োজন করি।

সব সুন্দর চলছিলো। ঐ মহিলা আমাদের সঙ্গে ঝগড়া বাধাতে চায়। কিন্তু পারে না। আমরা সবকিছু এড়িয়ে যাই। সেজন্য বেশিকিছু করতে পারে না। ইতিমধ্যে আব্বা আসে। এলাকার লোকজন দিয়ে চাপ দিয়ে আমরা আমাদের সম্পত্তি বুঝে নেই। যদিও মহিলা তার ছেলের নামে বেশি সম্পদ নিতে চাইছিলো। কিন্তু পারেনি। সবার চাপে আব্বা সমস্ত জমিজমা সবাইকে বুঝিয়ে দেয়। দিতে বাধ্য হয়। অতঃপর আমরা আব্বার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করি। টিনা এবং মুন্নাকে কড়া গলায় জানিয়ে দেই,“ঐ লোকটা আমাদের কেউ না। তোরা ঐ লোকটার কাছে যাবি না।”

টিনা এবং মুন্না মাথা নাড়ায়। তবে আব্বা এসে মুন্নাকে ডাকলে মুন্না সে কথা ভুলে যায়। সে কাছে যায়। টিনা অবশ্য দূরেই থাকে। তবে আব্বা ওদের কাছে ওত টানে না। মাঝেসাজে দুই একদিন। এভাবে বছর দুই কেটে যায়। আব্বা প্রতি মাসে বাসায় আসে। অথচ আগে আসতো না। ঈদেও বাড়ি এসেছে। এটা দেখে টিনা এবং মুন্না খুব কষ্ট পায়। আব্বা ঈদে ছুটি পায়, সবসময় পেতো কিন্তু আমাদের সাথে কাটায়নি। এবার বাড়ি এসেও কাটায় না। ওহ হ্যাঁ, কাটানো তো দূর আমাদের ঈদে কোনকিছু দেয়নি। মাসিক খরচ দেওয়ার কথা সেটা তো আরও দেয়নি। যদিও আমরা এসবের আসায় বসে নেই।

এভাবে আরও বছর তিন কাটে। আমার বেতন বেড়েছে। প্রমোশন হয়ে কষ্টের কাজটা কমেছে। এখন একটু ভালো অবস্থানে আছি। ভাই, বোন নিয়ে বেশ রয়েছে। অন্যদিকে আব্বা এবং মহিলাও ভালো রয়েছে। তবে আমি অপেক্ষা করছি সেদিনের যেদিন আমার আব্বা তার প্রতিদান পাবে। আমার আম্মার সারাজীবনের কান্নার বিনিময় যোগ্য শা স্তি পাবে। এই আশায় রয়েছি। আমার আশা একটা সময় পূরণও হয়। টিনা পড়ালেখায় তেমন ভালো নয়। তার দ্বারা পড়ালেখাটা আর হবে না। এসএসসিতে ফেল করে। তাই ওর পড়ালেখার সমাপ্তি ঘটিয়ে আমি সবার পরামর্শে ওর বিয়ের ব্যবস্থা করি। টিনা অসম্ভব সুন্দরী ছিলো। একদম আমার আম্মার মতো। আমার আম্মাও খুব সুন্দরী ছিলো। আফসোস তাও তার স্বামীকে বেঁধে রাখতে পারলো না। সে যাক, আমার বোনের জন্য ভালো ঘর থেকে প্রস্তাব আসে। তবে আমি ভেবেচিন্তে অনেক দেখাশোনা করে একজন বেসরকারি ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে এমন ছেলের কাছে বিয়ে দেই। বিয়েতে আমি আব্বাকে ডাকিনি। তবে টিনা ডাকলো। আমার কাছে অনুরোধ করলো, যাতে আব্বা থাকে। আমি আর বাঁধা দেয়নি। তবে আব্বা আসেনি। তার রাগ, তার মেয়ের বিয়ে সে অন্যসব আত্মীয়র মতো দাওয়াত পায়। কথাটা শুনে আমিও জবাব দেই,“জন্ম দিলে তো সবাই বাপ হয় না। বাপ হ’তে যোগ্যতা লাগে। যোগ্য হলে সব আগেই জানতো।”
আমার কথা শুনে আব্বা ফোন কেটে দেয়। সেদিন টিনার বিয়েটা ভালোয় ভালোয় মিটে যায়। যাবার সময় টিনা আমাদের জড়িয়ে খুব কাঁদে। বড় ভাই হিসাবে আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলি,“বুড়ি অনেক দেখেশুনে তোর বিয়ে দিয়েছি। তবুও মানুষ বদলাতে পারে। মানুষই তো বদলায়। তোর যদি কখনো মনে হয় তুই ঠকে যাচ্ছিস, এই সম্পর্ক তোর কাছে বোঝা তবে ভাইয়াকে বলবি। আমি গিয়ে তোকে নিয়ে আসবো বুড়ি। মনে রাখিস, এই ভাইয়ের কাছে তুই কখনো বোঝা না।”

টিনার বিদায়বেলা শেষেই খবর এলে আমার আব্বা এক্সিডেন্ট করেছে। মহিলা তো কান্নাকাটি করছে। আব্বাকে ঢাকা হাসপাতালে নেওয়া হয়। মহিলা যাবার জন্য বের হয়। কয়েকজন আমাকে যাবার কথা বলে। কিন্তু আমি যাই না। আমার ভাই এখানে রয়েছে। তাকে ফেলে যাওয়া তো সম্ভব নয়। তাও ওমন মানুষের জন্য। কখনো না। গেলাম না। সপ্তাহ খানেক পর আব্বাকে নিয়ে মহিলা এলো। আব্বার দুই পা জঘন্যভাবে জখম হয়েছে। তাই কেটে ফেলা হয়েছে। দুই পা হীন অচল আব্বা ফিরে এলো। এখান থেকেই আব্বা আমার আম্মার এক আকাশ সমান ভালোবাসার বিনিময়ে যে কষ্ট তাকে দিয়েছে তার ফল পেতে শুরু করে। বছর ঘুরতে না ঘুরতে ঐ মহিলার সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয়। প্রতিদিন তাদের ঝগড়া হয়। মহিলা অতিষ্ঠ এমন অচল পালতে গিয়ে। সে রাজি নয়। সে যে নোংরা গালি দেয় আব্বাকে। পাশের ঘরের চাচীদের মাধ্যমে শুনেছি আব্বা এখন আমাদের এবং আম্মাকে নিয়ে আফসোস করে। খুব কাঁদেন। আমি বা ভাই এসবে গুরুত্ব দেইনি। সে এত অসুস্থ তাও আমরা যায়নি। বুকে এক প্রকার পাথর জমা করেছি। ইতিমধ্যে জানতে পারি মহিলা একসাথে অনেক সম্পর্কে জড়িয়েছে। এভাবে কতদিন! এই অচল দিয়ে চলে। আব্বা সব জেনেও কিছু বলতে পারে না। আরও বছর তিন কেটে যায়। আব্বার জীবন ভালো কাটছে না। মহিলা তাকে ঠিকভাবে খাবারও দেয় না। তার সন্তানটাও তার মতো হয়েছে। দেখতে পারে না আব্বাকে। আমরা সবই শুনে কিন্তু কখনো তার কাছে যাই না। মুন্না অবশ্য একবার লুকিয়ে গিয়েছিলো। আমি জানি কিন্তু চুপ রয়েছি। আমাকে এসব ভাবলে চলবে না। মুন্না পড়ালেখায় খুব ভালো। আমাকে তার ভবিষ্যতের জন্য পরিশ্রম করতে হবে। এরই মাঝে খবর আসে ঐ মহিলা তার ছেলে নিয়ে চলে গিয়েছে। আব্বার জন্য আরও ধাক্কা বাকি ছিলো। মহিলা শুধু চলে যায়নি বরং তাদের নামে যে জমি ছিলো সব বিক্রি করে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই আব্বাকে ঘরটাও ছাড়তে হবে। আব্বা সব শুনে ভেঙে পড়ে খুব। বিছানা দিয়ে উঠতে পারে। কিছু খেতে পারে না। পাশের ঘরের চাচীর বরাবরই একটু মায়া বেশি। তাই তিনি মাঝে মাঝে খাবার দিতো।তার কথা না বললে নয়। সে আমাদেরও অনেক সাহায্য করেছে। তার স্বামীকে লুকিয়ে কত খাবার খাইয়েছে। এই মহিলা না থাকলে আব্বা না খেয়েই ম রতো। তবে এভাবে কতদিন? এই যন্ত্রণা সহ্য করা যায়। তাই তো আব্বা একটা সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক বড় সিদ্ধান্ত। সেটা হলো নিজেকে শেষ করে দেওয়া। অতঃপর সে নিজেকে শেষ করে দেয়। বিছানার পাশেই ব্লেট ছিলো, সেটা দিয়ে নিজের গলা নিজেই কাটে।

আমার আম্মার সারাজীবনের কান্নার প্রতিদানস্বরূপ আব্বা তার এই জগত তো কষ্টেই গেলো। সঙ্গে পরকালও গেলো। এটা হওয়ারই ছিলো। আব্বার মৃ ত্যুর খবর শুনে মুন্না যায়। টিনাও ছুটে আসে। তবে আমি যাই না। আমি যেতে গিয়েও পারি না। বারবার চোখের সামনে আম্মার মুখটা মনে পড়ে যায়। অনেকে আমাকে ডাকতে এসেছিলো। কিন্তু আমি যাইনি। টিনা এবং মুন্না আমাকে বুঝতে পারে। তারা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। তবে যাবার জন্য জোর করে না।

পরিশেষে,
দীর্ঘ ষোলো বছর কেটে যায়। মুন্না ডাক্তার হয়। এমবিবিএস পাশ করার আগ অবধি আমি আমার ভাইকে কোন কাজ করতে দেইনি। কোন ইনকামের পথ দেখতে বলিনি। সে টিউশনি করতে চাইছিলো। আমি বাধা দেই। এটা করলে সময় নষ্ট হবে। আমার ভাই পড়ালেখায় পিছিয়ে যাবে। তাই ভাইকে এসব করতে দেয়নি। বিনিময়ও পেয়েছি। ভাই সে বছর প্রথম হয়। আমার ভাই বড় হয়ে আমার অবদান ভুলেনি। সে প্রথম হয়ে তার জীবনে এতটা পথ আসার জন্য আমার অবদানটাই তুলে ধরে। আমরা এখন বেশ আছি। আমাদের সবার সুন্দর সংসার হয়। ভাই, বোনে বেশ মিল। আমার ভাই, বোন আমাকে অনেক বেশি সম্মান করে। তারা তার ভাইকে প্রতিদান দিতে ভুলেনি। তাই তো সবার উপরে আমাকে রেখেছে। এত বছরে ঐ মহিলার কোন খোঁজ পাইনি। জানিও না কোথায় আছে। জানার চেষ্টাও করিনি। থাকুক না যেভাবে মন চায়। আমাদের আব্বা না চাইলে তো সে আসতে পারতো না আম্মার জীবনে। তাই সমস্ত দোষ আব্বারই। সে তার শা স্তি পেয়েছে তাতেই খুশি। আমি খুশি। আমার আম্মা সারাজীবনে যত কষ্ট পেয়েছে সেই কষ্টের কথা ভাবলে আব্বার জন্য দুঃখ নয় আনন্দিত হই।

(সমাপ্ত)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ