Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ধোয়ার-নেশা পর্ব (১+২)

ধোয়ার-নেশা পর্ব (১+২)

#ধোয়ার-নেশা
#রোকসানা রাহমান
পর্ব (১+২)

“”পাত্রী দেখতে এসে সিগরেট খাচ্ছেন? তাও পাত্রীর বেড রুমে দাড়িয়ে,আপনার লজ্জা করছেনা???””

অন্ত্রীশার তার তাচ্ছল্যমাখা প্রশ্ন ছুড়ে দিতেই পালক নিজের ঠোটদ্বয়ের সাহায্যে অন্ত্রীশার ঠোট চেপে ধরলো। অন্ত্রীশা ভয়ে ছটফট করতে করতে নিজের হাত দিয়ে পালকের মিস্টি কালারের শার্টটা খামচে ধরে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। পালকের সে দিকে কোনো খেয়ালই নেই। নিজের সিগরেটের শেষ টানে নেওয়া মুখভর্তি ধোয়াগুলো যেন অন্ত্রীশার মুখে ছেড়ে দেওয়ায় তার মুখ্য কাজ হয়ে দাড়িয়েছে!

এই প্রথম অন্ত্রীশার মনে হলো হাতের বড় বড় নখ শুধু সৌন্দর্যই বহন করেনা সাথে সাথে নিজের সেফটি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। নিজের মনের সেই রাক্ষসী আর জংলি চিন্তাভাবনার জন্য সে কখনোই হাতে নখ রাখেনি। অথচ আজ সেই নখের এক একটা আচড় হয় তো তার বাঁচার সঙ্গী হতে পারতো। অন্ত্রীশা নিজেকে ছাড়ানোর আর কোনো উপায় না দেখে পালকের গলার খালি দিকটায় হাতের ছোট ছোট নখ বসিয়ে দিলো। তাতে যেন পালকের ঠোটের শক্তি ক্রমশ কমে এসেছে। অন্ত্রীশা হাতের খামচিকা আরেকটু গভীর করতেই পালক ওকে ছেড়ে দিয়ে ঘুরে দাড়ালো। মুখে একটা চকলেট পুরে দিতেই পেছন থেকে শুনা গেলো,

“” খালামনি এই আংকেলটা তোমাকে পাপ্পি খেলো কেন? তুমি কি কান্না কলছিলে??””

পালক অন্ত্রীশাকে ছেড়ে দিতেই ও কাশতে থাকে। ওর মনে হলো ওর মুখে কেউ হাজার হাজার জ্বলন্ত সিগরেটের ধোয়া ঢেলে দিয়েছে। প্রতিটা কাশির সাথে যেন ধোয়াগুলো কুন্ডুলি পাকে বের হয়ে তাচ্ছিল্যভাবে বলছে,আমাকে ঘৃনা করিস তো দেখ এবার কেমন লাগে? একটা সিগরেটের প্রতিশোধ কেমন হতে পারে ভাবতে পারছিস? আর কখনো আমাকে দেখে নাকমুখ কুচকিয়ে আমার নামে নিন্দা করবি???

অন্ত্রীশার কাশির গতি যেন বেড়েই যাচ্ছে। কাশতে কাশতে একটু ঘুরতেই নিজেরই বড় বোন অনিকশার কোলে অতিআদরের ভাগনি অরিদ্রাকে দেখতে পেলো। অন্ত্রিশা হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে নিজের কাশি থামানোর চেষ্টা করছে আর ভাবছে তবে কি আপু সব দেখেছে???

পালক চকলেট চুষতে চুষতে ছোট্ট বাবুটার কাছে গিয়ে নাক টিপে বললো,

“” কান্না না করলে বুঝি পাপ্পি দেওয়া যায়না,মামনি?””
“” না। কই আমাল আব্বু তো আমাকে দেয়না। কিন্তু আম্মুকে দেয়!””

পালক অরিদ্রার গালে ছোট্ট করে একটা চুমু খেয়ে বললো,

“” নাও তোমাকেও দিয়ে দিলাম,এবার খুশিতো??””

পালক মুখে ছোট্ট হাসি নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

নিজের মা আর ছোট বোনকে নিয়েই কিছুক্ষন আগেই পাত্রী দেখতে এসেছিলো পালক। হালকা কথার মাঝখানেই হুট করে বলে উঠে,সে পাত্রীর সাথে আলাদাভাবে কথা বলতে চায়। পালকের এমন কথায় মিসেস তানিয় বেগম বেশ ঘাবড়ে যায়। মুখে মেঘের ছায়া নিয়ে ভাবতে থাকে তাহলে কি এবারের সম্বন্ধটাও ভেসতে যাবে??? আমার এতো কষ্ট করে সাজানো প্লেনে এভাবে পানি ঢেলে দিবে,পালক?

পালক নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে হালকা মিস্টি হেসে বললো,

“” আম্মু বিয়ের ডেট ফিক্সট করো,পাত্রী আমার পছন্দ হয়েছে। আর এই সপ্তাহের মধ্যে ওকে আমি আমার ঘরে নিতে চাই।””

অনিকশা মেয়েকে কোল থেকে নামিয়ে বোনের কাছে গিয়ে বললো,

“” পানি খাবি,আমি কি পানি নিয়ে আসসস””

অনিকশার কথা শুনারও সময় পেলোনা অন্ত্রিশা। মুখ ভর্তি করে বমি করে দিলো অনিকশার শরীরে। নিজেরি ছোট বোনকে দেখতে আসবে দেখে হালকা বেগুনি কালারের মধ্যে একটা জামদানী শাড়ী পড়েছিলো সে। তার হাসবেন্ডেরই দেওয়া৷ যদিও তার হাসবেন্ডের কথানুযায়ী বেগুনী কালারে তাকে খুব সুন্দরী লাগে কিন্তু কেন জানি তার ভালো লাগেনা। স্বামীর কথা রাখতেই সে এ শাড়ীটা পড়েছিলো৷ এতো অপছন্দের শাড়ি হলেও কি যতই হোক স্বামীর ভালোবাসার উপহার। অনিকশা বেশ রেগেই বললো,

“” দিলি তো আমার শাড়ীটা খারাপ করে? তোর দুলাভাইকে এখন আমি কি জবাব দিবো? মানুষটা এত শখ করে আমার জন্য এটা কিনে এনেছিলো আর তুই কিনা…””

অন্ত্রীশা আবার একদলা বমি করে দিলো অনিকশার উপরে। পেছন থেকে অরিদ্রা হেসে কুটি কুটি হয়ে বললো,

“” আদল কললেও বুঝি বমি আসে খালামনি। কই আমাল তো আসেনা! আম্মু আজকেও আব্বুল কাছে বকুনি খাবে,কি মজা কি মজা। আজকে আব্বুল পাপ্পি পাবেনা।””

অনিকশার ইচ্ছে হলো নিজের এই পাকনা মেয়েটাকে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিতে। ৩ বছরের বাচ্চা এতো বেশি পাকনা কিভাবে হতে পারে??কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে ভেবে রাগে গজগজ করতে করতে অন্ত্রীশার রুম ত্যাগ করলো অনিকশা।

অন্ত্রীশা এই নিয়ে তিনবার বমি করলো। কুলি করতে করতে তার মুখ খসিয়ে ফেলছে। সাবান পানি দিয়েও কুলি করেছে, তবুও যেন মুখ থেকে সে সিগরেটের গন্ধ ছড়াতে পারছেনা। নিশ্বাস ছাড়লেই মনে হচ্ছে একদলা ধোয়া কুন্ডুলি পেকে তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। অন্ত্রীশা রাগে ক্ষোভে ধীরে ধীরে ১ মিনিট পর পর একটা করে নিশ্বাস নিচ্ছে। তাতে যদি গন্দটা কম কম হয়।

“” তোমার পছন্দ না দেখে তার মধ্যে তুমি বমি লাগাবে? এ কেমন ধরনের আচরন অনিকশা? আমার পছন্দকে তুমি এভাবে হেলা করবে? তুমি জানো আমি কতবার পাক দিয়ে দিয়ে ঘুরে ঘুরে এই শাড়ীটা কিনেছি?””

অনিকশা এতক্ষন চুপচাপ অরিদ সাহেবের কথা শুনলেও আর সহ্য করতে পারলোনা। চোখমুখ লাল করে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লো। বারান্দায় নেড়ে দেওয়া শাড়ীটা নিয়ে এসে অরিদের সামনেই কুচিমুচি করে তাতে থুতু দিয়ে বললো,

“”তোমার পছন্দে আমি থুতু ফেলি। বিরক্তকর। লাইট অফ করবে নাকি আমি অন্য রুমে গিয়ে ঘুমুবো?””

অনিকশার এমন কান্ডে থতমত খেয়ে গেলো অরিদ সাহেব। মেয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,

“” মা,তোর বাপটা কি এতো পচা যে তোর মা এমন কষ্ট দেয়? তুই ও কি আমাকে এভাবে কষ্ট দিবি?””

অরিদ্রা নিজের আব্বুর কপালে চুমু খেয়ে বললো,

“” না,পাপাই। আমি তোমাকে সবসময় এমন আদল কলবো। তুমি আমাল ভালো পাপাই।””

অনিকশা শুয়ে শুয়ে বাপমেয়ের আদরের গল্প শুনতে পারলোনা। শুয়ে থেকে উঠে গিয়ে টুপ করে লাইটটা বন্ধ করে দিলো। পুনরায় বিছানায় আসতেই নিজের ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনটা হাতে নিয়ে বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পালক বলে উঠলো।

“” আপনার বোন বিয়েতে এত সহজে রাজি হবে আমি আশা করিনি। উনাকে আমার পক্ষ থেকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে দিবেন।””

বলেই পালক লাইনটা কেটে দিলো। অনিকশা ফোনটা তখনো কানেই ধরে রইলো। যেন পালকের আরো কিছু বলার কথা কিন্তু সে না বলেই কেটে দিয়েছে।

“” তুই নাকি বিয়েতে রাজী হয়ে গেছিস?””

অন্ত্রীশা মুখে পানি নিয়ে বললো,

“” আপু,আমার আবার বমি বমি পাচ্ছে। তোমার সাথে কাল কথা বলি???””

অনিকশা বিড়বিড় করতে করতে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো। যে ছেলে মেয়ে দেখতে এসেই এমন চুমু খেয়ে বসে তাকে বিয়ে করার জন্য এমন ধেই ধেই করার নাচার কি আছে? যার একটা চুমু খেয়েই তুই বমি করতে করতে কাহিল তার সাথে তুই সারাজীবন সংসার কিভাবে করবি?? তুই যে দিনে দিনে এমন ক্যারেক্টারলেন হয়ে যাবে তাতো কখনো ভাবিনি। শেষমেষ কিনা আমি ক্যারেক্টারলেস মেয়ের বোন হলাম? তাও বড় বোন,ছি!ছি!ছি!!!

রাতের বৃষ্টি পড়ার শব্দটা অন্ত্রীশার ভীষন পছন্দ। জানালার পাশে বসেই সে মন ভরে বৃষ্টির শব্দ শুনছে। ইচ্ছে করছে বৃষ্টির শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে হালকা করে নেচে উঠতে,নিজের চুলগুলোতে বৃষ্টির পবিত্র পানি দিয়ে গোসল করাতে। কিন্তু মায়ের কড়া শাসন আজ যেন সে কোনোভাবেই বৃষ্টিতে না ভিজে। দুদিন পর বিয়ে এখন যদি সর্দিকাশি বানিয়ে ফেলে পড়ে দেখা যাবে,বিয়ের দিন কবুল বলতে গিয়ে বেহুশ!

অন্ত্রীশা বৃষ্টিতে নিজের হাতটা মেলে দিয়ে চোখটা বন্ধ করতেই পালকের মুখটা দেখতে পেলো। ঠোটে হালকা হাসি নিয়ে মনে মনে ভাবতে লাগলো,কেমন মানুষ আপনি? দেখতে এসেই, চুমু খেয়ে নিলেন অথচ আজ চারদিন হতে চললো একটা কল দিলেননা। সবার সাথে ফোনে কথা বলেন অথচ আমার সাথে বলেননা। যদি আমার সাথে কথাই না বলবেন তাহলে আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন কেন?

অন্ত্রীশা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ভেজা হাতটা মুখে ছোয়াতেই মনে হলো এমনও তো হতে পারে উনি চাচ্ছেন আমি উনাকে কল দেই। ভাবতেই অন্ত্রীশা জানালা থেকে সরে এসে নিজের ফোনটা তুলে নিলো। ফোনের লক খুলতেই মনে পড়লো তার কাছে তো তার চুমুবাবুর নাম্বার নেই। তাহলে সে কিভাবে কল দিবে? আব্বুর কাছে চাইবে নাকি আম্মু? কিন্তু ওরা যদি আমাকে নির্লজ্জ মেয়ে মনে করে? এমনিই বলে আমার নাকি লজ্জা কম। আমি কি এখন নাম্বার চেয়ে সেটা প্রমান করে দিবো??? অন্ত্রীশার হাসি হাসি মুখটা নিমিষেই মিলিয়ে গেলো। ইশ! উনার নাম্বারটা যে কেন নাই!

অন্ত্রীশা মন খারাপ করতে করতে জানালাটা বন্ধ করে দিলো এই মুহুর্তে তার বৃষ্টির শব্দ শুনতে খুবই বিরক্ত লাগছে,খুব বেশিই বিরক্ত!

“” আমি কি একটু তোর রুমে ঘুমোতে পারি?””

অন্ত্রীশা পেছনে ঘুরতেই নিজের বোনকে দেখে বললো,

“” আবার ঝগড়া করেছো বুঝি? অমন সহজসরল দুলাভাইটাকে এতো কষ্ট দাও কেন আপু? উনি তোমাকে অনেক ভালোবাসে।””
“” থাক,তোর রুমে আসাটাই ভুল হয়েছে।””

অনিকশা চলে যেতে নিলেই অন্ত্রীশা দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে নিয়ে বললো,

“” তোমার এতো বেশি রাগ কেন আপু? আগে তো এমন ছিলেনা। তুমি গিয়ে শোও। আমি আম্মুর রুম থেকে কাথা নিয়ে আসছি। মনে হচ্ছে আজ একটু শীত বেশি পড়বে।””

অনিকশাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে অন্ত্রীশা নিজের মায়ের রুমের দিকে এগুলো। নিজের রুমের দরজাটা পার হতেই কেউ একজন তার মুখ চেপে ধরেছে। অন্ত্রীশাকে দেয়ালের দিকে সরিয়ে নিয়ে এসে বললো,

“” কোনো সাউন্ড হবেনা। আমি যা করতে চাই চুপচাপ তা করতে দাও””

চলবে

#ধোয়ার-নেশা

#রোকসানা-রাহমান

পর্ব (২)

অনিকশাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে অন্ত্রীশা নিজের মায়ের রুমের দিকে এগুলো। নিজের রুমের দরজাটা পার হতেই কেউ একজন তার মুখ চেপে ধরেছে। অন্ত্রীশাকে দেয়ালের দিকে সরিয়ে নিয়ে এসে বললো,

“” কোনো সাউন্ড হবেনা। আমি যা করতে চাই চুপচাপ তা করতে দাও””

অন্ত্রীশার রুমের দরজা খুলা থাকায় রুমে জ্বলে থাকা লাইটের আলো বাহিরে কিছুটা এসে পড়েছে। তার মাধ্যমেই মুখ চেপে ধরা লোকটার চেহারা দেখতে পেলো অন্ত্রীশা। কিছুটা ঝাপসা হলেও তার চুমুবাবুর মুখটা সে বেশ বুঝতে পারছে। চোখের চাহনি তার মধ্যে নেই এপাশ ওপাশ ঘুরপাক খাচ্ছে। কণ্ঠে অনুনয় ছিলো নাকি ধমকানি ছিলো তা নিয়ে বেশ কনফিউজড। কেন এসেছেন উনি? তাও এতো রাতে,এই বৃষ্টিতে ভিজে! মাথার মাঝারি সাইজের চুলগুলোও ভিজে কিছুটা ল্যাপ্টে রয়েছে কপালে। মনে হচ্ছে কপালে কিছুটা চিন্তার ভাজ নাহয় অস্থিরতার ভাজ রয়েছে। কিন্তু ল্যাপ্টে যাওয়া চুলগুলোর জন্য ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা!

অন্ত্রীশা খানিকটা ভয় পেয়েই হাতগুলো ঘুটিয়ে নিয়েছিলো নিজের জামার আড়ালে। হালকা আকাশী কালারের জামা পড়েছিলো সে। কিন্তু পালকের মুখটা দেখেই অন্ত্রীশার ভয় কেটে গেলো। কেন কেটে গিয়েছে সে জানেনা। কিন্তু এটা বুঝতে পারছে এই মানুষটাকে দেখে ভয় পাওয়ার কোনো মানেই হয়না!

পালক অন্ত্রীশার মুখ থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে নিলো। চোখে চোখ পড়তেই চোখটাও সরিয়ে নিয়ে অন্ত্রীশার বা হাতটা টেনে ধরে বললো,

“” তোমার চোখে মুখে ভয়ের ছাপ আশা করেছিলাম!””

অন্ত্রীশা পালকের কথার পিঠে কি বলবে বুঝতে পারলোনা। তার যে কেন ভয় পাচ্ছেনা সেটা তো সে নিজেই বুঝতে পারছেনা।

পালক নিজের পকেট থেকে একটা মেহেদির কোন বের করে অন্ত্রীশার হাতে দিতে শুরু করেছে। অন্ত্রীশা তখনো পালকের দিকেই চেয়ে ছিলো। এতো ঝাপসা আলোতে চেহারাটা ভালো করে বুঝা যাচ্ছেনা বলে খুব রাগ হচ্ছে। তার যে এই মুখটার সবকিছুকে মন ভরে দেখে নিতে ইচ্ছে করছে। হাতে হঠাৎ ঠান্ডা কিছুর উপস্থিতি পেয়ে অন্ত্রীশা নিজের হাতের দিকে তাকালো। তাকিয়ে খিলখিলিয়ে হেসে দিলো।

পালক একটা ব্রু উচু করে বললো,

“” হাসছো কেন? মেহেদী দেওয়াটা কেমন হচ্ছে সেটা বড় কথা নয় কে দিয়ে দিচ্ছে সেটা বড় কথা,বুঝেছো? আর এমন বাচ্ছাদের মতো শব্দ করে হাসছো কেন? তুমি জানোনা শব্দ করে হাসতে নেই?””

পালকের কথাই অন্ত্রীশা হাসিটাকে আটকানোর চেষ্টা করছে৷ তার কি দোষ? এভাবে ল্যাপ্টে মেহেদী দিয়ে দিলেতো হাসি পাবেই। যেটা সে পারেনা সেটা তাকে কেন করতে হবে? এমন তো নয় যে আমি বায়না ধরেছি! বাচ্চামী করছেন আপনি অথচ বলছেন আমাকে!

অন্ত্রীশার ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটাতেই হয়তো পালক হুট করে ওর জামাতে হাত দিয়েছে। কমড়ের সাইড দিয়ে কাটার দাড় ধরেই জামার সামনের পার্টটা উচু করতেই অন্ত্রীশা ঝট করে পালকের হাত চেপে ধরে বললো,

“” কি করছেন?””

পালক নিজের হাত থেকে অন্ত্রীশার হাতটা সরাতে সরাতে বললো,

“” আমি এক কথা দুবার বলতে পছন্দ করিনা অন্ত্রীশা। আমি যা করতে চাই তা করতে দাও!””

পালকের এবারের কথাতেও অনুনয় ছিলো নাকি ধকমের সুর ছিলো তা বুঝতে পারেনি অন্ত্রীশা। তবে এটা বুঝতে পেরেছে তার হাতদুটো অবশ হয়ে আছে আর সেই হাত কিছুতেই পালককে বাধা দিতে পারবেনা,কিছুতেই না৷ কিন্তু কেন??

পালক জামাটা কুচকিয়ে উচু করে ধরতেই অন্ত্রীশা চোখ বন্ধ করে ফেললো। মনের ভেতর এক অজানা অপরাধ ফিল হচ্ছে এখনো তো তাদের বিয়ে হয়নি! এসবে সম্মতি দেওয়া কি ঠিক হচ্ছে?? অন্ত্রীশার ভাবনাগুলো দ্রুত বয়ে যাচ্ছে তবে এই অপরাধের ফিলিংসটাকেও তার কেন এতো বেশি ভালো লাগছে???

অন্ত্রীশা পেটের সাইডের দিকে আবার ঠান্ডা কিছুর ছোয়া পেয়ে চোখ মেলে ফেললো। হালকা মুচকি হেসে মনে মনে বললো,ছি! আমি এসব কি ভাবছিলাম?

“” মেহেদি শুকানোর আগে জামাটা ছাড়বেনা। এভাবেই ধরে রেখো প্লিজ!””

পালক নিচের দিকে তাকিয়ে নিজের অনুনয়ের কথাটা শেষ করেই হেটে চলে গেলো। অন্ত্রীশা জামাই হাত রেখে ভাবনায় ডুব দিলো। এই বৃষ্টিতে এতো কষ্ট করে এসেছেন আমাকে মেহেদী পড়াতে?? জাস্ট মেহেদী পড়াতে? আমার সাথে দুটো কথাও তো বলেননি। একটাবার আমার মুখটার দিকেও তাকালেননা। আমার কেন মনে হচ্ছে হুট করে রাস্তায় দেখা হয়ে গেলে আপনি আমাকে চিনবেনও না। আর সেই অচেনা মেয়ের সাথেই আপনি এমন অদ্ভুত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কেন?

অন্ত্রীশা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘুরতেই দরজায় অনিকশাকে দেখতে পেলো। এতো গভীর নয়নে সে কি দেখছে?? এবারও কি আপু সব দেখে ফেলেছে???

অন্ত্রীশা কিছুটা লজ্জা নিয়ে আবার নিজের রুমে ঢুকে যাচ্ছে। অনিকশার নজর অন্ত্রীশার পেটে। লাইটের আলোতে মেহেদীর কালচে রঙে পালক লেখাটা যেন জ্বলজ্বল করে যাচ্ছে!

“” এভাবে পেট বের করেই শুয়ে থাকবি? সামনে যে তোর বড় বোন দাড়িয়ে আছে তাতে কি তোর একটুও লজ্জাবোধ লাগছেনা? যা ধুয়ে আয়।””
“” উনিতো ধুতে বলেনি আপু!””
“” ধুতে বলেনি বলে ধুবিনা? এভাবে পেট বের করে হেটে বেড়াবি? সবাইকে দেখাবি তোর বর তোর পেটে বসে আছে?””

অন্ত্রীশা কিছুটা মন খারাপ নিয়েই ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেলো।

মেহেদী ধুয়ে পরিষ্কার করে আসতে আসতে অনিকশা ঘুমিয়ে পড়েছে। অনিকশার এই একটা অভ্যাস অন্ত্রীশাকে বেশ ভাবায়। একটা মানুষ বিছানায় শুতে শুতে কি করে ঘুমিয়ে পড়ে? সে তো পারেনা। কম করে হলেও তার ১ ঘন্টা চোখ বন্ধ করে ভুলভাল,আবিজাবি জিনিস ভাবতে ভাবতে এপাশওপাশ করতে হয় তারপর যদি ঘুমপুরুষ এসে হাজির হয়। তবে এখন তার হাবিজাবি জিনিসগুলো চুৃুমুবাবুকে ঘিরেই ঘুরপাক খায়।

অন্ত্রীশা আপুর পাশে শুতেই দরজায় নক করার শব্দ পেলো। এতো রাতে আবার কে এলো? অন্ত্রীশা কে বলে চিৎকার করতে গিয়েও থেমে গেলো। যদি পালক এসে থাকে? তাহলে তো আপুর সামনে আবার নির্লজ্জ হতে হবে।

অন্ত্রীশা নিশব্দে দরজার কাছে গিয়ে সিটকিনিতে হাত দেয়।

“” দুলাভাই,আপনি?””
“” অনি কি ঘুমিয়ে পড়েছে?””
“” হুম! ডেকে দিবো?””

অরিদ সাহেব উকি দিয়ে অনিকশাকে দেখতে দেখতে বললো,

“” না,থাক। ওর কাঁচা ঘুম ভেংগে গেলো খুব রাগ করবে।””
“” আপুকে এতো ভালোবাসেন তাহলে ঝগড়া করেন কেন?””

অন্ত্রীশার কথার উত্তর হিসেবে হালকা হেসে উঠলো অরিদ।

“” আসি,তুমি দরজাটা আটকে ঘুমিয়ে পড়ো।””

অরিদ চলে যাওয়ার জন্য ঘুরতেই অন্ত্রীশা বলে উঠলো,

“” আপুকে ছাড়া ঘুম আসবে তো?””
“” চেষ্টা করলে আসতেও পারে।””
“” আমার কাছে একটা প্রস্তাব আছে,আপনি চাইলে গ্রহন করতে পারেন।””

অরিদ বেশ বিস্ময় নিয়ে পেছনে ঘুরে দাড়ালো। এক কদম এগিয়ে এসে বললো,

“” আজকে আমার শালির মুখে কথার খই ফুটছে দেখি। কোনো বিশেষ কারন আছে নাকি?””

অন্ত্রীশা কিছুটা লজ্জা নিয়ে বললো,

“” না,তেমন কিছুনা।””
“” আচ্ছা লজ্জা পেতে হবেনা। মজা করছিলাম। তা বললেনা তো তোমার প্রস্তাবটা কি?””
“” আপনি চাইলে আমি অরিদ্রার সাথে ঘুমুতে পারি। আর আপনি..””
“” তুমি কি তোমার আপুকে দিয়ে আমাকে মার খাওয়াতে চাচ্ছো?””

অন্ত্রীশা নিজের রুম ছেড়ে বাইরে এসে দাড়িয়ে বললো,

“” ভালোবাসার মানুষের মারের মধ্যেও ভালোবাসা থাকে। আপনি এতো দিনেও বুঝেননি দুলাভাই?””
“” তুমিতো দেখছি চারদিনের মধ্যেই ভালোবাসার উপর পিএইচডি করে ফেলেছো অন্ত্রীশা। পালক কি তার পালকের যাদু করে গেলো আমার শালীর উপর?””

অন্ত্রীশা আবার লজ্জামাখা মুখে বললো,

“” অরিদ্রা একা আছে,আমি গেলাম!””
“” কিন্তু তোমার বোন যদি আমাকে বের করে দেয়?””

অন্ত্রীশা মুচকি হেসে বললো,

“” আপুকে এতো ভয় পান? আচ্ছা আপনি ভেতরে যান আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।””
“” মানে?””

অরিদকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বললো,

“” মাঝে মাঝে ভালোবাসায় কিছুটা জোর প্রয়োগ করতে হয়,দুলাভাই। অধিকাংশ মেয়েগুলোই চায় তার ভালোবাসার মানুষটি তাকে জোর করে ভালোবাসুক,সে আশায় ইচ্ছে করেই মুখ ফুটে ভালোবাসা চায়না!””

অরিদ বিস্ময়ভরা চোখে অন্ত্রীশার দিকে চেয়ে রয়েছে। এই দুটো বোনকে সে কিছুতেই বুঝেনা। একজন তো রাগের ক্ষেত নিয়ে বসেছে যখন তখন যা তা সবজি লাগাতে থাকে তো আরেকজন অতিরিক্ত স্বল্পভাষী। প্রয়োজন ছাড়া নিজের কথার ঝুড়ি থেকে কথা বের করেনা!

অন্ত্রীশা পুনরায় একটা মিস্টি হাসি উপহার দিলো অরিদকে। আর সাথে সাথে দরজাটা বাহির থেকে সিটকিনি লাগিয়ে দিলো যাতে তার বোন চাইলেও দুলাভাইকে বের করতে না পারে!

অরিদ মনে মনে হাজার হাজার কোটি কোটি ধন্যবাদ দিলো অন্ত্রীশাকে! অনিকশা যতই তার থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করুক কিন্তু সে যে একটা রাতও অনিকশাকে ছাড়া কাটানোর কথা চিন্তা করতে পারেনা। অরিদ অনিকশার পাশে নিশব্দে শুয়ে পড়লো। কপালে হালকা চুমু একে দিয়ে ভাবনায় ডুব দিলো।

অনার্স ১ম বর্ষের নবীনবরনেই প্রথম দেখেছিলো অনিকশাকে। যদিও তখন অরিদ লাস্ট ইয়ারের। কিন্তু একি ডিপার্টমেন্ট হওয়ায় ফ্রেন্ডের জোরাজুরিতে তাকেও যেতে হয়েছিলো। তবে সে ভার্সিটির বাইরে দাড়িয়েই ফ্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করছিলো আর ঠিক তখনি রিক্সা থেকে অফহোয়াইট কালারের খুবই হালকা কাজের জামা পড়া একটা মেয়েকে নামতে দেখে। চুলগুলো বেনি করে পেছনেই ছেড়ে রেখেছে,পুরোমুখটাতে মেকাপের কোনো ছিটেফুটাও নেই। নবীনবরনে সাদামাটাভাবে আসাতে অরিদ বেশ অবাকই হয়েছিলো। আর সেই অবাকই তাকে বার বার সেই মেয়েটির দিকে তাকাতে অস্থির করে তুলছিলো। তারপর থেকে টানা তিন বছর সে এই মেয়েটিকে দেখার জন্য রোজ ভার্সিটির এই গেইটের সামনে দাড়িয়ে থেকেছে। কিন্তু মুখ ফুটে কখনো বলতে পারেনি সে ভালোবাসার কথা। এই তিন বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছিলো অনিকশার। কিন্তু পরিবর্তন আসেনি অরিদের ভালোবাসার। একদিন হুট করেই অনিকশা অরিদের সামনে এসে দাড়িয়ে বললো,

“” বিয়ে করবেন আমায়? এক্ষুনি করতে হবে!””

অনিকশার এমন কথা হজম করতে বেশ কষ্ট হয়েছিলো অরিদের। মুখ দিয়ে কোনো কথা আসেনি। মনে হয়েছিলো এই মেয়ে তার কন্ঠ দিয়ে অরিদের কন্ঠকে খেয়ে ফেলেছে। অরিদ শুধু মাথা দুলিয়ে উপর নিচু করে হ্যা বলেছিলো!

সেদিন,ঠিক তখনি অরিদ আর অনিকশার বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো। তারপর দু পরিবার সামলিয়ে নিয়ে বেশ ভালোই চলছিলো অরিদ আর অনিকশার নতুন সংসারের। অনিকশা শুধু একটা কথাই বলতো,

“” আমাকে বেশি বেশি ভালোবাসোনা কেন? আমার যে বেশি বেশি ভালোবাসার খুব প্রয়োজন। আরেকটু বেশি ভালোবাসবে প্লিজ?””

অনিকশার এমন হুটহাট কথাই অরিদকে বেশ ভাবাতো। সে অনেকবার জানতে চেয়েছিলো হুট করে বিয়ে করার কারন কিন্তু সে সবসময় ব্যর্থ হয়েছে। দুমাস কাটতেই অনিকশা চেন্জ হতে থাকে। ছোটখাটো জিনিস নিয়ে রেগে যেতে থাকলো,সামান্য জিনিস নিয়ে তুমুল জগড়া বাধিয়ে ফেলতে থাকে। এর মধ্যেই জানতে পারে অনিকশার পেটে নতুন অতিথির আগমনের বার্তা। অরিদ ভেবেছিলো হয়তো এবার অনিকশা আবার আগের মতো অরিদের কাছে ভালোবাসা পাওয়ার আবদার করবে কিন্তু না অনিকশা দিন দিন তার থেকে দুরত্বই তৈরী করে যাচ্ছে।

অরিদের চোখ চিকচিক করছে। অনিকশাকে পেছন থেকে জড়িয়ে নিয়ে ফিসফিস করে বললো,

“” ভালোবাসি অনি,খুব বেশি ভালোবাসি!””

এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো অনিকশার চোখ থেকে। সেতো ঘুমুইনি তাহলে জাগবে কোন কারনে? আজ যে তার চোখে ঘুমরা নেমে আসেনি। অরিদের ফিস ফিস কথাটা অনিকশার বুকে গিয়ে লাগলো। ভালোবাসার কথা শুনেও কি কারো চোখে পানি আসে? তাহলে তার কেন আসলো? অনিকশার ইচ্ছে হলো সেও অরিদকে জড়িয়ে নিয়ে বলতে,আরেকটু ভালোবাসোনা আমাকে,আমার যে তোমার বেশি ভালোবাসার প্রয়োজন!

অন্ত্রীশার ঘুম ভাংলো আপুর ডাকে। ঘুমঘুম চোখেই তাকিয়ে রইলো অনিকশার দিকে!

“” তোর কল এসেছে,নে ধর!””
“” আমার কল তোমার ফোনে?””

অন্ত্রীশার হাতে ফোনটা গুজে দিয়ে মেয়ের দিকে এগুলো অনিকশা।

অন্ত্রীশা ফোনের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো স্ক্রিনে পালক নাম উঠে আছে। এতো সকালে উনি কল দিয়েছেন কেন? আমার সাথে কথা বলবেন বলে? কিন্তু এতো সকালে কি কথা বলবেন? অন্ত্রীশা চোখটা ভালো করে মুছে নিয়ে,কন্ঠটা স্বাভাবিক করে বললো,

“” হ্যালো?””
“” তোমার সাথে ইম্পর্ট্যান্ট কথা আছে। রুমে কেউ থাকলে তাকে বের করে দরজা আটকিয়ে আমাকে জানাও!””

এমন কি ইম্পর্ট্যান্ট কথা যার জন্য দরজা আটকিয়ে নিতে হবে? অন্ত্রীশা কিছুটা বিরক্ত নিয়ে আপুকে টেনে বাইরে বের করে দরজা আটকিয়ে নিলো।

“” আটকিয়েছি বলুন!””

চলবে

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ